Category: রাজণীতি

  • আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও এগিয়ে থাকছে আওয়ামী লীগ

    আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও এগিয়ে থাকছে আওয়ামী লীগ

    বিএমআই রিসার্চ (বিজনেস মনিটর ইন্টারন্যাশনাল) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করে থাকে। সাম্প্রতিককালে সংস্থাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে গবেষণা করে। গবেষণায় প্রাধান্য পায় দেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচন। গত কয়েক দশক ধরে দেশের নির্বাচনে প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে দেখা যাচ্ছে মূল নির্বাচনী প্রচারণায়।

    তাদের গবেষণায় জানা যায়, এবার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকবে। জনগণ উন্নয়নকেই এগিয়ে রাখবে। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের জন্য কাজ করেছে। দেশের জন্য কাজ করেছে। জনগণ চায় দেশের উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। আওয়ামী লীগ জনগণের আশা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ভর্তুকি, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের পরিমাণ আগের বছরের তুলতায় যথাক্রমে ২৭.৯, ২৪.৮ ও ৮.৯ শতাংশ বাড়িয়েছে। এটা ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখবে বলে গবেষণা সংস্থাটি মনে করছে।

    বিএমআই সংস্থা মনে করছেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারাবাসে যাওয়ার পর দলের অবস্থা অনেকটা ভঙ্গুর পর্যায়ে আছে। ফলে বিএনপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ অনুভব করবে। জনগণ তাদেরকে দেশের কাণ্ডারি হিসেবে মেনে না নেয়ার একটি সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। মে ও জুন মাসে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে জয়ের মধ্যেও বিএনপির সমর্থন কমার আভাস দেখছে বিএমআই রিসার্চ।

    স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক সূচকে বাংলাদেশের স্কোর এবার একশতর ভেতরে ৫৮.১। নির্বাচন প্রাসঙ্গিক সহিংসতার আশংকা করছে সংস্থাটি। এমনকি, ২০১৪ সালের মতো বিএনপির নির্বাচন বর্জনেরও সম্ভাবনা দেখছে বিএমআই। এখন শুধু অপেক্ষা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের।

  • হত্যার ষড়যন্ত্র উদঘাটনে কমিশন গঠনের ভাবনা

    হত্যার ষড়যন্ত্র উদঘাটনে কমিশন গঠনের ভাবনা

    স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারের হত্যার পেছনে যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা হত্যার রহস্য রয়েছে তা উদঘাটনে ‘কমিশন’ গঠনের কথা ভাবছে সরকার। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু দাবি উঠেছে, যেহেতু সবাই চাচ্ছে, সেহেতু আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি।’

    এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ১২ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। এর মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন। ছয়জন বিদেশে অবস্থান করছেন। বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের দেয়া দণ্ড কার্যকর করতে সরকার কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনাকে নিছক কোনো হত্যাকাণ্ড হিসেবে ভাবলে তার পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। যে মামলাটির মাধ্যমে ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছিল তাও যথেষ্ট ছিল বলে মনে করেন না অনেকেই। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাও এমনটাই মত দিয়েছিলেন ২০১৭ সালের ১৫ আগস্টের এক শোকসভায়।

    এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মিজানুর রহমান শেলী বলেন, এটি শুধু মহান একজন ব্যক্তিকে হত্যা নয়, এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চালচ্চিত্র। এর পেছনে অনেক রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষ রয়েছে। যদি একটি কমিশন গঠন করা হয়, তাহলে সেটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হবে এবং জাতির কাছে বিষয়টি ইতিহাস উপযোগী হবে বলে মনে হয়।

    আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে পারলেও এই হত্যার পেছনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। এই ষড়যন্ত্রের অনুসন্ধানে একটি কমিশন গঠন করা সময়ের দাবি বলেই তাদের মত।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জানে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মানেই হলো বাংলাদেশকে হত্যা করা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে পাকিস্তানি ভাবধারা প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং জিয়াউর রহমান এই হত্যার সঙ্গে জড়িত, এটা সর্বজনবিদিত। প্রতিষ্ঠিত সত্য বিষয়ের জন্য গণকমিশনের প্রয়োজন নেই।

    দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছি। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের যে রহস্য, হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে ষড়যন্ত্র তা এখনো বের হয়নি। হত্যার যে রহস্য, ষড়যন্ত্র উদঘাটনের জন্য একটি কমিশন গঠন করা দরকার। এ দাবিটি আমরা বরাবরই করে এসেছি।

    আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, একটা জুডিশিয়াল কমিশন গঠিত হতে পারে। প্রকৃত ঘটনার পূর্বাপর উদঘাটনে এই কমিশন কাজ করতে পারে। এ ঘটনায় দূর থেকে জড়িতদেরও ফৌজদারি আইনে বিচারের মুখোমুখি করার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে সম্পূরক চার্জশিট দিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের নতুন করে বিচার করতেও আইনে কোনো বাধা নেই। অর্থাৎ অনেকে দূর থেকে এ ঘটনায় ইন্ধন জোগাতে পারে, অনেকে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে ঘটনা ঘটতে দিতে পারে, এরকম সকলকে বিচারের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।

  • নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ৩২ নম্বর

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ৩২ নম্বর

    প্রস্তুত ধানমন্ডির ৩২নম্বর সড়ক চত্বর এবং বঙ্গবন্ধু জাদুঘর। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে পুরো এলাকা। মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) থেকেই এ সড়কে সাধারণের চলাচল নিষিদ্ধ। বুধবার ( ১৫ আগস্ট) সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন শেখ হাসিনা।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টায় গিয়ে দেখা গেছে, ৩২ নম্বরের পুরো সড়কের ওপরে ত্রিপল ও শামিয়ানা দিয়ে সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া রাস্তার উভয় পাশে অর্থাৎ পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বাঁশ দিয়ে গেট তৈরি করা হয়েছে। যে গেট দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং মন্ত্রীরা প্রবেশ করবেন। এ ছাড়া সড়কে দেয়া হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। শুধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী যখন প্রবেশ করবেন তখন এ বেড়া খুলে দেয়া হবে।

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেয়ার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সৈনিকরা। তারা কয়েকবার রিহার্সেল করেন। বাজান বিউগলের সুর। এ ছাড়া ডগস্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকা তল্লাশি করা হয়। গোয়েন্দা বাহিনী, সাদা পোশাকের পুলিশ ও বিভিন্ন এজেন্সির সদস্যরা মঙ্গলবার থেকেই ৩২ নম্বর ও এর আশপাশ এলাকা নজরদারিতে রেখেছেন।

    মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ৩২ নম্বরের পুরো এলাকা পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন পুলিশের অন্য কর্মকর্তারাও।

    পরিদর্শন শেষে তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, জাতীয় শোক দিবসকে (১৫ আগস্ট) ঘিরে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। এরপরও জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি খাটো করে না দেখে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

    এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালিত হবে। এদিন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। ভোরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কের পূর্বপাশ থেকে রাসেল স্কয়ার ও কলাবাগান হয়ে ধানমন্ডি ২নং রোড ক্রসিং পর্যন্ত (মিরপুর রোড) সড়ক বন্ধ থাকবে। এ সময় কোনো যান চলাচল করতে দেয়া হবে না।

    বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, এদিন গাবতলীর দিক থেকে মিরপুর রোড হয়ে আগত যানবাহনকে মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে বামে মোড় নিয়ে ফার্মগেটের দিকে, নিউমার্কেটমুখী যানবাহনকে ধানমন্ডি-২৭ নম্বর পূর্বপাশ থেকে ২৭ নম্বর রোড পশ্চিম পাশ হয়ে সাতমসজিদ রোড- ধানমন্ডি-২ নম্বর রোড, সিটি কলেজ হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে ডাইভারশন দেয়া হতে পারে।

    এ ছাড়া শাহবাগ বা নিউমার্কেট থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে আসা গাবতলী ও বিমানবন্দরগামী গণপরিবহনগুলো ধানমন্ডি-২ নম্বর রোড হয়ে জিগাতলা-সাতমসজিদ রোড ও ধানমন্ডি-২৭ নম্বর রোড পশ্চিম মাথা হয়ে ২৭ নম্বর রোড পূর্ব মাথা হয়ে যাবে। পান্থপথ ক্রসিং থেকে রাসেল স্কয়ারের দিকে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানায় ডিএমপি।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে ভেন্যু ত্যাগ করার পর সাধারণ জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসবে। এ সময় সাধারণ জনসাধারণের গাড়ি রাসেল স্কয়ার থেকে ধানমন্ডি ৬নং রোডের উভয় পাশে একলাইনে এবং রাসেল স্কয়ার থেকে পান্থপথ ক্রসিং পর্যন্ত উত্তর লেনে এক লাইনে পার্কিং করা যাবে।

  • যার প্রেরণায় আত্মজীবনী লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু

    যার প্রেরণায় আত্মজীবনী লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু

    সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রেরণায় নিজের জীবনী খাতায় লিখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অবশ্য তাকে তার বন্ধুবান্ধব সহকর্মীরাও জীবনী লেখার কথা বলেছিলেন।

    বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের সম্পর্কে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন- বন্ধুবান্ধবরা বলে, ‘‘তোমার জীবনী লেখ।’’ সহকর্মীরা বলে, ‘‘রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাবলি লিখে রাখ, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।’’

    বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সম্পর্কে তিনি লিখেছেন- আমার সহধর্মিণী একদিন জেল গেটে এসে বলল- ‘‘বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবনের কাহিনি।’’

    তখন বঙ্গবন্ধু তার সহধর্মিণীকে উদ্দেশ্য করে যা বলেছিলেন তার বর্ণনাও তিনি দিয়েছেন। বইয়ে লিখেছেন- বললাম ‘লিখতে যে পারি না; আর এমন কী করেছি যে লেখা যায়! আমার জীবনের ঘটনাগুলো জেনে জনসাধারণের কি কোনো কাজে লাগবে? কিছুই তো করতে পারলাম না। শুধু এইটুকু বলতে পারি, নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি।

    বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীর ডাক নাম ছিল রেণু। এ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে লিখেন ‘ আমার স্ত্রীর ডাক নাম রেণু- আমাকে কয়েকটা খাতাও জেল গেটে জমা দিয়ে গিয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা দিয়েছেন। রেণু আরও একদিন জেলগেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল। তাই আজ লিখতে শুরু করলাম।

    খাতায় লেখা এই জীবনকাহিনি যেভাবে গন্থে রূপ পায়

    শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা ২০০৪ সালে আকস্মিকভাবে তার কন্যা শেখ হাসিনার হাতে আসে। খাতাগুলো অতি পুরানো, পাতাগুলো জীর্ণপ্রায় এবং লেখা প্রায়শ অস্পষ্ট। মূল্যবান সেই খাতাগুলো পাঠ করে জানা গেল, এটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, যা তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। জেল-জুলুম, নিগ্রহ-নিপীড়ন যাকে সদা তাড়া করে ফিরেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসর্গীকৃত-প্রাণ, সদাব্যস্ত বঙ্গবন্ধু যে আত্মজীবনী লেখায় হাত দিয়েছিলেন এবং কিছুটা লিখেছেনও, এই বইটি তার স্বাক্ষর বহন করছে।

    বইটিতে আত্মজীবনী লেখার প্রেক্ষাপট, বঙ্গবন্ধুর বংশপরিচয়, জন্ম, শৈশব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্ভিক্ষ, বিহার ও কলকাতার দাঙ্গা, দেশভাগ, কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতি, দেশ বিভাগের পরবর্তী সময় থেকে ১৯৫৪ সাল অবধি পূর্ব বাংলার রাজনীতি, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকারের অপশাসন, ভাষা আন্দোলন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন, আদমজীর দাঙ্গা, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ এবং এসব বিষয়ে লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে। আছে লেখকের কারাজীবন, বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি ও সর্বোপরি সর্বংসহা সহধর্মিণীর কথা, যিনি তার রাজনৈতিক জীবনে সহায়ক শক্তি হিসেবে সব দুঃসময়ে অবিচল পাশে ছিলেন। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুরি চীন, ভারত ও পশ্চিম পাকিস্তান ভ্রমণের বর্ণনাও বইটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।

    ২০১২ সালে বইটি প্রকাশ করে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। এই বইটি ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি ও তুর্কি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

  • পলাতক খুনিরা কে কোথায়

    পলাতক খুনিরা কে কোথায়

    বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১২ খুনির মধ্যে ছয়জন পলাতক। এই ছয় খুনির মধ্যে দুজন কোন দেশে অবস্থান করছেন তার সঠিক তথ্য কেউ জানে না। এরা হলেন খন্দকার আবদুর রশিদ ও আবদুল মাজেদ।

    এই দুজন এখন কোথায়, কী অবস্থায় আছেন তা শনাক্ত করতে না পারায় গত ১ আগস্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদীয় কমিটি। এ জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়ী করা হয়। ওইদিন সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

    বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেয়া হয়। পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী চিহ্নিত হত্যাকারীদের ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত যেন স্বাভাবিকভাবে বসবাসের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দেশে কারান্তরীণ রাখা হয়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে অনুরোধ জানানোর সুপারিশ করা হয়।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে হত্যার শিকার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ওই সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

    পলাতক খুনিরা কে কোথায়

    সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ২০১০ সালে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়। বাকিদের একজন জিম্বাবুয়েতে মারা যান এবং ছয়জন পলাতক।

    পলাতক ছয়জন হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন।

    এদের মধ্যে চারজনের সম্ভাব্য অবস্থান হলো- কানাডায় নূর চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রাশেদ চৌধুরী। মোসলেম উদ্দিন জার্মানিতে ও শরিফুল হক ডালিম স্পেনে।

    চারজনের অবস্থানই ‘সম্ভাব্য’ বলে জানিয়েছে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড এলার্ড জারি করা আছে।

    স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এনসিবির সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক।

    খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘পলাতক ছয়জনের মধ্যে একজন জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন। দুজন বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছেন। শুধু দুজনের বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে। তাদের একজন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরেকজন কানাডায়। তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।’

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পালিয়ে থাকা দুই খুনিকে ফিরিয়ে আনা এখন কঠিন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

    বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য যদি আমরা প্রকাশ করি তবে তারা জেনে গেল। তাদের অবস্থান তারা পরিবর্তন করবে। সেক্ষেত্রে আমরা যে তথ্যের ভিত্তিকে এগোচ্ছি, সেই তথ্য আর সঠিক থাকবে না। আমার মনে হয়, পরিষ্কারভাবে আমরা তাদের পিন ডাউন করতে পারব, তখনই আপনারা এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করলে ভালো হয়। সেজন্য আমি ওই প্রশ্নে যাব না।’

    উল্লেখ্য, এ হত্যাকাণ্ডের বিচারে পদে পদে বাধা আসে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপরই দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।

    ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তত্কালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেন। এরপর ১২ আসামির মধ্যে প্রথমে চারজন ও পরে এক আসামি আপিল করেন। কিন্তু এরপর ছয় বছর আপিল শুনানি না হওয়ায় আটকে যায় বিচার-প্রক্রিয়া।

    দীর্ঘ ছয় বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আপিল বিভাগে একজন বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি আবার গতি পায়। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আপিলের অনুমতির প্রায় দুই বছর পর ২০০৯ সালের অক্টোবরে শুনানি শুরু হয়। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া পাঁচ আসামির আপিল খারিজ করেন। ফলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে হাইকোর্টের দেয়া ১২ খুনির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়ে ১৩ বছর ধরে চলা এ মামলার বিচার-প্রক্রিয়া শেষ হলে দায়মুক্ত হয় বাংলাদেশ। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি কার্যকর হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আজিজ পাশা।

  • বেদনাবিধুর বিভীষিকাময় দিন আজ

    বেদনাবিধুর বিভীষিকাময় দিন আজ

    আজ সেই কলঙ্কময় দিন। শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। ইতিহাসের বেদনাবিধুর ও বিভীষিকাময় একদিন। ১৯৭৫ সালের এই দিন প্রত্যুষে ঘটেছিল ইতিহাসের সেই কলঙ্কজনক ঘটনা। সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সৈনিকের হাতে সপরিবারে প্রাণ দিয়েছিলেন বাঙালির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

    ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। এছাড়া এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে আরিফ, ভাগ্নি বেবি, ভাগ্নে যুবনেতা, সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, ভাগ্নের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৭ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। ওই সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

    রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে আজ পালিত হবে জাতির জনকের ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

    সেদিন যা ঘটেছিল

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালায় ঘাতক দল। সেই নারকীয় হামলার পর দেখা গেছে, ভবনটির প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাচ, মেঝে ও ছাদে রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। গুলির আঘাতে দেয়ালও ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। চারপাশে রক্তের সাগরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। প্রথমতলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে আছেন চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত স্বাধীনতার মহানায়ক, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মরদেহ। তার তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। পাশেই পড়েছিল তার ভাঙা চশমা ও অতিপ্রিয় তামাকের পাইপটি।

    অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজি জামাল, নিচতলার সিঁড়ি সংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবির ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের মরদেহ। লুঙ্গিতে জড়ানো শিশু রাসেলের রক্তভেজা মরদেহ দেখে খুনিদের প্রতি চরম ঘৃণা-ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পান না মানবতাবাদী বিশ্বের কোনো মানুষ। এভাবেই নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

    কর্মসূচি

    আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসহ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা। এছাড়া আলোচনা সভা। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন এবং সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এছাড়া ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত হবে। পরে ঢাকার বনানী কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনকের পরিবারের শাহাদতবরণকারী সদস্য ও অন্য শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করবেন।

    সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ ছাড়া সেখানে ফাতেহা পাঠ, সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান এবং মোনাজাত হবে। পাশাপাশি সমাধিস্থলে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, অধিদফতর ও সংস্থা স্ব স্ব কর্মসূচি পালন করবে।

    জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারাদেশে মসজিদগুলোতে বাদ জোহর বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রোথ সেন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার লাগানো। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিশু একাডেমি এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক বক্তৃতার আয়োজন করবে।

    জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তারা কর্মসূচি পালন করবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিস্থলে এবং ঢাকায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। দেশের সব সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি পালন করবে।

    তথ্য মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থা এবং দফতরের মাধ্যমে জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নিরীক্ষা, সচিত্র বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কোয়ার্টারলির বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ, স্মরণিকা ও বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ, আলোচনা সভা। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ দুটির পাঠ আগস্টব্যাপী প্রচারের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

    আওয়ামী লীগের দুদিনব্যাপী কর্মসূচি

    আওয়ামী লীগের দুদিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সবস্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৬টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষে জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

    প্রথম দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবংং সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা ও উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া ও মহল্লায় দুপুরে অসচ্ছল, এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। বাদ আসর বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

    শোক দিবসের পরের দিন বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দলটি।

  • ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করতে চায় বিএনপি

    ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করতে চায় বিএনপি

    দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলীয় কার্যালয়ের সামনে অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি।

    মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একথা জানান।

    তিনি বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চাইব। এজন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি কমিশনারকে চিঠি দেয়া হবে। আশা করছি, সমাবেশের অনুমতি পাব।’

    এদিকে, আগামীকাল বুধবার খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার মুক্তি ও রোগমুক্তি কামনায় সারাদেশে পূর্বঘোষিত মিলাদ মাহফিল কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান রিজভী। তিনি বলেন, ঢাকায় এই কর্মসূচি সকাল ১১টায় নয়াপল্টন কার্যালয়ে হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • মা হয়ে ছাত্রদের ক্ষমা করুন, প্রধানমন্ত্রীকে এরশাদ

    মা হয়ে ছাত্রদের ক্ষমা করুন, প্রধানমন্ত্রীকে এরশাদ

    নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিতে রাস্তায় নেমে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদের ‘নিঃশর্ত’ মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

    মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধানের প্রতি এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূত।

    এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মাতৃজ্ঞানে’ গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিয়ে ‘মহানুভবতা’ দেখাবেন বলে আশা করছেন এরশাদ। একইসঙ্গে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে যারা ‘ভিন্ন খাতে’ নিতে চেয়েছে- তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ করেছেন তিনি।

    এরশাদ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের কাছে মায়ের সমান। তিনিও যথার্থ উপলব্ধি করে বলেছেন, ‘আমাদের সন্তানরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে’। তিনি মাতৃজ্ঞানে কোনো কালবিলম্ব না করে ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন। তার এই মহানুভবতাকে সম্মান দেখিয়ে হলেও গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদের মুক্তি দেওয়া উচিত।”

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের গত ৫ আগস্ট থেকে রাস্তা ছেড়ে দিলেও পরদিন থেকে রাস্তায় নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ৬ আগস্ট বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং রামপুরায় তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এরপর আটক করা হয় ২২ জন শিক্ষার্থীকে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে তারা এখন কারাগারে।

    এই শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে বিভিন্ন সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি।

    আন্দোলন থেমে আসার পর এক বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার এখতিয়ারের নয় বলে জানিয়ে দেন।

    এরশাদ আরও বলেন, ‘এদেশের সর্বস্তরের মানুষ এবং দলমত নির্বিশেষে যে ছাত্রদের অভিনন্দন জানিয়েছে- এখন তাদের মধ্যে আর কাউকে গ্রেপ্তার করে রাখা ঠিক হবে না।’

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ‘সফল এবং যৌক্তিক’হিসেবে বর্ণনা করে জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আন্দোলনের মধ্যে কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যেতেই পারে। তার মধ্যে কোনো কোনো আন্দোলনকারী ছাত্র অবুঝের মতো হয়ত নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছে। কিন্তু যখন তাদের ঘরে এবং ক্লাসে ফিরে যাবার জন্য বলা হয়েছে- তখন তারা ফিরেও গেছে।’

    ‘এখানে কেউ (শিক্ষার্থী) যদি কোনো ভুল করে থাকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন তাদের মাতৃজ্ঞানে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন।’

  • বরিশালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরোধিতার মুখে আ’লীগের ৬ এমপি

    বরিশালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরোধিতার মুখে আ’লীগের ৬ এমপি

    তৃণমূল নেতা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরোধিতার মুখে দক্ষিণের আওয়ামী লীগের ৬ এমপি। আগামী নির্বাচনে এসব এমপি যাতে মনোনয়ন না পান সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে তৃণমূল থেকে রেজুলেশন নেয়া থেকে শুরু করে কেন্দ্রে চিঠি দেয়া হচ্ছে। কোথাও এমপিদের বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত হচ্ছে। তৃণমূলের এ অবস্থায় বিচলিত নন এমপিরা, তারা পাত্তাও দিচ্ছেন না। কেউ কেউ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে সবাই পক্ষে থাকবে এমন নয়। যাদের অন্যায় আবদার মানা হয়নি তারাই বিরোধিতা করছেন।’

    বেশি বেকায়দায় বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের এমপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ। স্থানীয় কমিটির নেতারা প্রায় সবাই পঙ্কজের বিরুদ্ধে একাট্টা। দলের দুই কর্মীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলাও হয়েছে। মেহেন্দীগঞ্জে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের জমি দখলের অভিযোগে হয়েছে আরও একটি মামলা।

    কাজীরহাট থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জব্বার খান বলেন, ‘এলাকায় অবস্থান কতটা দুর্বল হলে একজন এমপির বিরুদ্ধে এতগুলো মামলা হতে পারে, ভাবুন। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা শুধু উপেক্ষিতই নয়, চরমভাবে অবহেলিত।’

    হিজলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ টিপু বলেন, ‘এলাকার তিনটি সাংগঠনিক থানার পক্ষ থেকে আলাদা রেজুলেশন করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে। আগামী নির্বাচনে পঙ্কজ মনোনয়ন পেলে নৌকার বিজয় অসম্ভব হবে।’

    জানতে চাইলে পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, ‘ত্যাগী নেতাকর্মী মাপার পরিমাপক যন্ত্রটা কি বলবেন? প্রধানমন্ত্রী জানেন, আমার কারণে দলের ক্ষতি হয়েছে নাকি উপকার হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তার।’

    পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি মাহবুব তালুকদারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বিচারাধীন। তৃণমূলের অভিযোগ, স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে আত্মীয়করণ এমনকি নিজের স্ত্রীকেও প্রার্থী করার চেষ্টা করেন মাহবুব। নানা কারণে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নির্বাচন সামনে রেখে তার বিরুদ্ধে সবাই একাট্টা।

    কলাপাড়ার পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বিপুল চন্দ্র হাওলাদার বলেন, ‘মাহবুব তালুকদারকে ফের মনোনয়ন দিলে ফল ভালো হবে না। ক্ষমতার অপব্যবহার, নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্বের কারণে তার জনসমর্থন শূন্যের কোঠায়।’

    কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব তালুকদার বলেন, ‘তাকে যাতে আর মনোনয়ন না দেয়া হয় সেজন্য নেত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি।’ জানতে চাইলে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘মনোনয়ন নিশ্চিত হলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। মাঠের নেতাকর্মী এবং ভোটাররা নৌকার প্রশ্নে দ্বিমত করে না। সেটাই আসল ব্যাপার।’

    ৩০ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ পটুয়াখালী-২ আসন অর্থাৎ বাউফলের এমপি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, তার এমপি পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে এক আওয়ামী লীগ নেতা মামলা পর্যন্ত দিয়েছেন।

    বাউফলের উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর রহমান বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের ২-৪ জন ছাড়া আর কেউই এখন তার পক্ষে নেই।’

    উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, প্রবীণ নেতা নিজাম উদ্দিন খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময় থেকে আওয়ামী লীগ করছি। জাতির জনক ব্যক্তিগতভাবেও আমায় চিনতেন। পরিস্থিতি যা চলছে তাতে ভালো আছে বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা। ফিরোজকে বাদ দিয়ে ক্লিন ইমেজের কাউকে মনোনয়ন না দিলে নৌকা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।’

    আ স ম ফিরোজের সঙ্গে চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘এসব পাগলের প্রলাপ। ফিরোজই এখানে দলের একমাত্র যোগ্য প্রার্থী। তিনি মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে জিতবে নৌকা।’

    ১৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের তলব এবং হোটেল রেইনট্রির কলঙ্কিত অধ্যায় নিয়ে বিপাকে ঝালকাঠি-১ আসনের এমপি বিএইচ হারুন। অভিযোগ রয়েছে, তার বাবা ‘বুলবুলে পাকিস্তান’ ছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি। হারুন ১৯৯১ সালে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি নির্বাচনী কর্মকাণ্ড করেন জেপির (মঞ্জু) প্রার্থীর পক্ষে।

    রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন মাতব্বর বলেন, ‘আমাদের ওপর তাকে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।’

    কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরুণ সিকদার বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় সবটিতে বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন হারুন।’

    অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএইচ হারুন বলেন, ‘তরুণ-রিয়াজ এরা কারা? এরা তো দলের কেউ নয়। এলাকার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আমার পক্ষে আছেন। তাছাড়া নেত্রী ভালো জানেন, সিদ্ধান্ত তার।’

    অসংখ্য অভিযোগ বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে। তার বাবা খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

    পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন এবং সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘তাকে আবার মনোনয়ন দেয়া হলে এখানে আওয়ামী লীগের বিজয় দূরের কথা দল জামানত হারাবে।’

    বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ বলেন, ‘তার বাবা রাজাকার ছিল। মুক্তিকামী বহু মানুষের রক্ত লেগে আছে এই পরিবারের হাতে।’

    অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এমপি রিমন বলেন, ‘আমার স্ত্রী এবং কন্যা অসুস্থ। আমি তাদের নিয়ে ব্যস্ত আছি। এ মুহূর্তে কিছুই বলতে পারব না।’

    আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা সাঈদীকে হারিয়ে তাক লাগানো ইমেজ খুব বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি পিরোজপুর সদর আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএমএ আউয়াল। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সন্ত্রাসের বিস্তর অভিযোগ। এমনকি তার ভাইয়েরা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।

    জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাকিম হাওলাদার বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে, তার মতো একটা নষ্ট মানুষকে মনোনয়ন দেবে না কেন্দ্র। দিলে জামানত হারাবে আওয়ামী লীগ।’

    জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পৌর মেয়র এবং এমপি আউয়ালের আপন ভাই হাবিবুর রহমান মালেক বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই আউয়ালকে যেন মনোনয়ন দেয়া না হয়।’

    আলাপকালে এমপি আউয়াল বলেন, ‘২০১৪ সালে এখানে ৩০ জনেরও বেশি নেতা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। নেত্রী আমার ওপর ভরসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ভালো করে জানেন আমার সম্পর্কে। কে কী বলল তাতে কিছু আসে যায় না। আশা করি আমিই মনোনয়ন পাব।’

  • চমকে দিয়েছেন সাদিক আবদুল্লাহ

    চমকে দিয়েছেন সাদিক আবদুল্লাহ

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ রিক্সায় ঘুরে নগরীর প্রতিটি মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। বিগত মেয়ররা যেখানে এসি গাড়িতে ঘুরতো, জনগনের সাথে দেখা করতো না। সেখানে বর্তমান মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ রিক্সায় ঘুরে জনগনের  দ্বারে গিয়ে তাদের সমস্যার খোজ খবর নেন তিনি।

    যদিও এখনও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব গ্রহন করেননি তিনি। তার পরেও রিক্সায় ঘুরে ঘুরে নগরবাসীর দ্বারে দ্বারে ছুটে গিয়ে নগরবাসীর সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধান করার চেষ্টা করেন। তার এমন সুন্দর কার্যক্রমে নগরবাসীর মনে ভালবাসার সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য।

    নগরীর একাধিক বাসিন্দা জানান , এমন একজন নগর পিতাই চেয়েছিলাম আমরা। সাদিক আবদুল্লাহ যেমন ভাবে নগরবাসীর সেবা করার জন্য চেষ্টা করছেন তাতে আমরা খুশি। তাদের দাবি সাদিক আবদুল্লাহ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পাওয়ার পরেও যেন আমাদের এমন ভাবে খোজ খবর নেন।

    নগরীর উন্নয়নেও সাদিকের বিকল্প নেই বলে নগরীর একাধিক বাসীন্দা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাদিক আবদুল্লাহর ফুফু তিনি চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বরিশালের উন্নয়নের জন্য অনেক কিছু আনতে পারেন। এবং তিনি বরিশালে জন্য অনেক কিছু করবেনও। তার বর্তমানের কার্যক্রমে এমনটাই মনে হয়।