Category: রাজণীতি

  • কামরানের বাসায় স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বিএনপি প্রার্থী আরিফ

    কামরানের বাসায় স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বিএনপি প্রার্থী আরিফ

    সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের ফলাফলে এগিয়ে থাকা বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী কুশল বিনিময় করতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের বাসায় গেছেন।

    মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মাছিমপুরের  কামরানের বাসায় যান। এসময় আরিফের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী শ্যামা হক ও তার মেয়ে সায়ইকা তাবাসসুম চৌধুরী।

    কামরানের বাসায় গিয়ে আরিফ তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করে তার সহযোগিতা চান। এসময় বদর উদ্দিন কামরান তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আরিফুল হক নিজেই।

    আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও কামরান আমার বড় ভাই। তার সঙ্গে দেখা করতে বাসায় গিয়েছিলাম। সব ভেদাভেদ ভুলে একটি পরিকল্পিত সিলেট গড়তে একসঙ্গে কাজ করতে চাই আমরা।

    বদরউদ্দিন কামরান বলেন, আরিফুল আমার বাসায় এসেছিলেন। তার সঙ্গে কথা হয়েছে, কুশল বিনিময় হয়েছে।

    সোমবার সিলেটে সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের আরিফুল হক চৌধুরী ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের থেকে এগিয়ে রয়েছেন। তবে দু’টি কেন্দ্রে স্থগিত জটিলতায় তাকে এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি।

    সোমবার ভোট শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ১৩২ কেন্দ্রের যে ফলাফল ঘোষণা করেন, তাতে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট।

  • রাজশাহী-বরিশালে নতুন নির্বাচন দিতে হবে: ফখরুল

    রাজশাহী-বরিশালে নতুন নির্বাচন দিতে হবে: ফখরুল

    রাজশাহী ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে সেখানে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। তিন মহানগরে ‘ভোট ডাকাতি’র প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
    মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা রাজশাহী ও বরিশালের ভোটের ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ, এটা কোনো নির্বাচনই হয়নি। ভোট চুরি নয়, ডাকাতি হয়েছে। রাজশাহী ও বরিশালের সিটি নির্বাচনে সীমাহীন কারচুপি হয়েছে।
    সেখানে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। সিলেট সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমাদের দলের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক লক্ষাধিক ভোটে জয়লাভ করতেন।একইভাবে বরিশাল এবং রাজশাহীতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে আমাদের দলের প্রার্থীরা লক্ষাধিক ভোটে জয়লাভ করতেন।
    ফখরুল বলেন, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট এই ৩টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনের নাটক শেষ হয়েছে। এই নির্বাচনে আমাদের কথাই সত্য প্রমাণিত হলো-শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে না। প্রমাণিত হলো এই অযোগ্য নির্বাচন কমিশিনের পরিচালনায় কোন নির্বাচনেই জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব নয়। গাজীপুর ও খুলনার মতো এই তিনটি সিটি কর্পোরেশনে ভোট চুরি বা কারচুপি নয়, ভোট ডাকাতির মহোৎসব অনুষ্ঠিত হলো। বিরোধী দলগুলোর প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নয়, প্রতিপক্ষ এই সরকারের প্রশাসন এবং অযোগ্য নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশন পুলিশের মতোই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। শুধু নির্বাচনের দিনে নয়, সিডিউল ঘোষণার দিন থেকেই পুলিশের বিশেষ স্কোয়াড মাঠে নেমেছে। মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, হয়রানী, হুমকি ও ভয় দেখিয়ে বিরোধী দলের কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে দুরে রাখা, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব আইন ভঙ্গ, শত শত অভিযোগে কোনও কর্ণপাত না করে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাকে আবারও ধ্বংস করল।
    মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকেই আমরা বলে এসেছি- এই কমিশন আওয়ামী লীগের প্রতি পক্ষপাত দুষ্ট এবং অযোগ্য। তারা আচরণ বিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশের নির্যাতন বন্ধ করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মানতে পুলিশকে বাধ্য করতে পারেনি। বরিশালে কয়েকদিন আগে থেকেই বাইরে থেকে হাজার হাজার আওয়ামী কর্মী জড়ো করা হয়েছিল- কেন্দ্রগুলো থেকে বিএনপি‘র এজেন্টদেরকে বের করে দিয়েছে।
    মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণরুপে ধ্বংস করছে। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করছে। লক্ষ্য একটি-একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ভিন্নরুপে প্রতিষ্ঠা করে চিরদিন ক্ষমতায় থাকা। আওয়ামী লীগ এখন একটি গণবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনে তারা জয়ী হতে পারবে না বলেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভোট ডাকাতি করে তারা জাতীয় সংসদের নির্বাাচন করতে চায়। ২০১৪ সালের মতোই একতরফা নির্বাচন করার নীল নক্শা করছে। জনগণ তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দিবে না। দেশে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই বেগম খালেদা জিয়াসহ বিরোধী দলীয় সকল বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন  করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণস্বাধীন করতে হবে। বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। সরকারকে আহবান জানাবো কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে উপরোক্ত দাবিগুলো মেনে নিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এই তামাশা ও ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছি এবং অবিলম্বে এই ফলাফল বাতিল করে নতুন নির্বাচন প্রদানের আহবান জানাচ্ছি। তিন সিটি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অনাচার, ভোট জালিয়াতি ও ভোট সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিএনপি’র উদ্যোগে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে।
    ‘সিলেটে কারচুপির পরও কীভাবে বিএনপির প্রার্থী জিতলেন’-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, কারচুপি না হলে সিলেটে ‘লক্ষাধিক ভোটে বিএনপি জয়লাভ করত’। আমাদের প্রার্থীরা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। রাজশাহীতে বুলবুল ভোট পর্যন্ত দিতে পারে নাই, ভোট না তিনি এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ভোট কেন্দ্রে বসে প্রতিবাদ করেছেন।
    সিলেটে কারচুপির পরও কীভাবে বিএনপির প্রার্থী জিতল-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, কারচুপি না হলে সিলেটে ‘লক্ষাধিক ভোটে বিএনপি জয়লাভ করত’।ফখরুল বলেন, সোমবার সারাদিন তিন সিটিতে ভোট কিভাবে করেছে ক্ষমতাসীনরা তা আপনারা দেখেছেন। আমাদের প্রার্থীরা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। রাজশাহীতে বুলবুল ভোট পর্যন্ত দিতে পারে নাই, ভোট না তিনি এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ভোট কেন্দ্রে বসে প্রতিবাদ করেছে। এ বারের তিন সিটির নির্বাচন খুলনা-গাজীপুর মডেলের ভিন্ন রূপ, তবে এটি ভয়ংকর রূপ। মির্জা ফখরূল জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার না করার দাবি জানান।
    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
  • বরিশালে আ.লীগের ১৫ বিএনপির পাঁচসহ ২২ কাউন্সিলর নির্বাচিত

    বরিশালে আ.লীগের ১৫ বিএনপির পাঁচসহ ২২ কাউন্সিলর নির্বাচিত

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে সাধারণ ৩০ ওয়ার্ডের মধ্যে ২২ জন কাউন্সিলরকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

    এর মধ্যে তিনজনের প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তারা আগেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। অপর ১৯ জন সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।

    অনিয়মের অভিযোগে ১টি কেন্দ্রের ভোট বাতিল এবং ১৫টি কেন্দ্রের ফল স্থগিত করায় সংশ্লিষ্ট ৮ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের ফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

    একই কারণে সংরক্ষিত ৫টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের ফলও আটকে গেছে। তবে ১০টি সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের মধ্যে পাঁচজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ কাউন্সিলদের মধ্যে ১৫ জন আওয়ামী লীগ দলীয়, পাঁচজন বিএনপির, একজন জাতীয় পার্টি ও একজন স্বতন্ত্রভাবে জয়ী হন। পাঁচজন সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের মধ্যে তিনজন আওয়ামী লীগের ও দুইজন বিএনপির।

    রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ফল স্থগিত থাকা ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা এবং স্থগিত কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠনো হবে। ইসি থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্তের পর নির্ভর করবে সাধারণ ৮ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ৫ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের ফল।

    সাধারণ ওয়ার্ডে বিজয়ী কাউন্সিলররা হলেন- ১ নম্বর ওয়ার্ডে আমীর হোসেন বিশ্বাস (আওয়ামী লীগ), ২ নম্বর ওয়ার্ডে মুরতজা আবেদীন (জাপা), ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. হাবিবুর রহমান ফারুক (বিএনপি), ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৌহিদুর রহমান বাদশা (আওয়ামী লীগ), ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কেফায়েত হোসেন রণি (স্বতন্ত্র), ৬ নম্বর ওয়ার্ডে খান মো. জামাল হোসেন (বিএনপি), ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রফিকুল ইসলাম খোকন (বিএনপি), ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সেলিম হাওলাদার (বিএনপি), ৯ নম্বর ওয়ার্ডে হারুন অর রসিদ (বিএনপি), ১১ নম্বর ওয়ার্ডে মজিবর রহমান (আওয়ামী লীগ), ১২ নম্বর ওয়ার্ডে জাকির হোসেন ভুলু (আওয়ামী লীগ), ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে মেহেদি পারভেজ আবীর (আওয়ামী লীগ), ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে লিয়াকত হোসেন খান (আওয়ামী লীগ), ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে মোশারফ আলী খান বাদশা (আওয়ামী লীগ) ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে মীর জাহিদুল কবির (বিএনপি), ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে গাজী নাইমুল হোসেন লিটু (আওয়ামী লীগ), ২১ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ সাইয়েদ আহম্মেদ মান্ন (আওয়ামী লীগ), ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে আনিছুর রহমান শরীফ (আওয়ামী লীগ), ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে মো. হুমায়ুন কবীর (আওয়ামী লীগ), ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন(আওয়ামী লীগ), ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ফরিদ আহম্মেদ (আওয়ামী লীগ) ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আজাদ হোসেন মোল্ল কালাম (আওয়ামী লীগ)।

    ১৫টি কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত রাখার কারণে যেসব ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের ফল ঘোষণা হয়নি সে ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে- ১০, ১৪, ১৭, ২০, ২২, ২৩, ২৫ ও ২৭।

    সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে বিজয়ীরা হলেন- ১ নম্বর ওয়ার্ডে (সাধারণ ১, ২ ও ৩) মিনু রহমান, ২ নম্বর ওয়ার্ডে (সাধারণ (৪, ৫ ও ৬) জাহানারা বেগম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে (সাধারণ ৭, ৮ ও ৯) কোহিনুর বেগম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে (সাধারণ ১০, ১১ ও ১২) আয়েশা তৌহিদা লুনা (বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়) এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডে (সাধারণ ২৮, ২৯ ও ৩০) রাশিদা পারভীন।

    এছাড়া ১৫ কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত থাকার কারণে সংরক্ষিত ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফলাফল ঘোষণা করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা।

  • প্রহসনের নির্বাচন বাতিল এবং মেয়র প্রার্থী ডা: মনীষার উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

    প্রহসনের নির্বাচন বাতিল এবং মেয়র প্রার্থী ডা: মনীষার উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

    ব্যাপক ভোট ডাকাতি এবং কারচুপির বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০১৮ বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন এবং গতকাল ভোট কারচুপি হাতেনাতে ধরে ফেলার পর মেয়র প্রার্থী ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তীর উপর হামলাকারী আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আজ সকাল ১১টায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর অশিনীকুমার হলের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদের সদস্য সচিব ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী, জেলা সদস্য এবং সদ্য নির্বাচনের সংরক্ষিত-৩ আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী জোহরা রেখা, জেলা সদস্য এইচ এম ইমন, শ্রমিক ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বাবুল তালুকদার, ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সন্তু মিত্র। সমাবেশের সভাপত্বি করেন বাসদ বরিশাল জেলা আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন, পরিচালনা করেন বদরুদ্দোজা সৈকত।
    ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তী বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তীতে শুধু বরিশালেই না বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্টমানের নির্বাচনের উদাহরণ তৈরি হয়েছে গতকালকের এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে। প্রত্যেকটা কেন্দ্রেই চলেছে ভোট ডাকাতির মহোৎসোব। আগে থেকেই ব্যালটে সিল মেরে সরবরাহ করা, জোর করে নৌকা প্রতীকে সিল দেয়ানো, অন্য প্রতীকে সিল দিলে ব্যালট ছিড়ে ফেলা এমনকি মারধোরের ঘটনাও ঘটেছে। আমাদের শতাধিক পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে, মারধোরের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি আমার নিজের স্কুলে সিল মারা ব্যালট হাতেনাতে ধরে ফেলায় আমার উপরে নৌকার পোলিং এজেন্টসহ নৌকার ব্যাচ পড়া ৭/৮ জন আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে শারীরিকভাবে আহত করেছে। একজন মেয়র প্রার্থীকে এভাবে কেন্দ্রের মধ্যে লাঞ্চিত করার ঘটনাটিও বিরল। আমরা লিখিতভাবে রিটার্নিং অফিসারকে অভিযোগ দায়ের করার পরও কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই এই প্রহসনের নির্বাচন অবিলম্বে বাতিল করে পুন:রায় নির্বাচন দেয়া উচিত।
    সভাপতির বক্তব্যে ইমরান হাবিব রুমন বলেন, এভাবে ভোট কারচুপির মাধ্যমে যারা মেয়র হবেন তারা হবেন লুটপাট আর দুর্নীতিবাজদের মেয়র আর জনগণের ভালবাসা পেয়ে জোরপূর্বক পরাজিত করলেও ডা: মনীষা চক্রবর্ত্তীই আগামী দিনের অসহায়-খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সত্যিকারের মেয়র।
    সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • তারা বিদেশি মদ খেয়ে গ্লাসে টুং টাং শব্দ করে : শামীম ওসমান

    তারা বিদেশি মদ খেয়ে গ্লাসে টুং টাং শব্দ করে : শামীম ওসমান

    নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, দেশে এখন নতুন খেলা হচ্ছে। খেলাটি হলো, অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আমাদের দিকে তাক করে আছেন। কিছু বুদ্ধিজীবী এখন বিএনপিকে বুদ্ধি দেয়। তারা বিদেশি মদ খেয়ে গ্লাসে টুং টাং শব্দ করে। তারা বিদেশের টাকা খেয়ে বেঁচে আছে। তারাই গতবার বিএনপিকে বলেছিল নির্বাচনে না যেতে। এবারও তারা সেই পরিকল্পনা করছে অন্যভাবে। খালেদা জিয়ার ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিদেশিদের খুশি করে ক্ষমতায় আসতে নীল নকশা তৈরি করছে।

    মঙ্গলবার বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে বন্দরের খানবাড়ি এলাকায় এক সমাবেশে শামীম ওসমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের পর থেকে খেলা শুরু হবে। আবার সব এক হবে। বাম ডান চোর বদমায়েশ সব। তাদের টার্গেট একজন। তিনি হলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন খেলা হবে, প্রথমে প্রথম রাউন্ড, পরে কোয়াটার ফাইনাল এরপর সেমি ফাইনাল। কিন্তু আমরা তখন খেলা দেখবো না। আমরাও তখন মোকাবেলা করবো। ইনশাল্লাহ নারায়ণগঞ্জেই সবচেয়ে বেশি খেলা হবে। আমরা যেদিন ক্ষমতা ছাড়বো সেদিন লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ হবে। সেদিন আমরা আওয়াজ তুলবো আমরা শেখ হাসিনার কর্মীরা খেলবো। আর ছাড় দেব না।

    শামীম ওসমান বলেন, আওয়ামী লীগেও কিছু নেতা আছে। যারা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকা দাবি করে। নারায়ণগঞ্জের ৫টি কেন দেশের ৩০০ আসনেই নৌকা চাই। নৌকার মালিক হলেন শেখ হাসিনা। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই চূড়ান্ত। কোমরে নাই মুরোদ। শুধু এখানে বলে নৌকা দিতে হবে। মুরোদ থাকলে নেত্রীর সামনে গিয়ে নৌকা চান। এসব বলে এখন বিভক্তি কইরেন না। আর আমরা দুর্বল না। আমরা শেখ হাসিনার কর্মী। আমি আমার বড় ভাই সেলিম ওসমানের শক্তি বৃদ্ধি করতে এখানে আসিনি। নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমাদের অনেক সম্মান দিয়েছে। আমাদের তিন পুরুষ এমপি হয়েছে। আমাদের চাওয়ার কিছু নেই। আমরা সাধারণ মানুষের খেদমত করতে চাই। আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তি।

    তিনি বলেন, যারা জামায়াতের পত্রিকা পড়ে রাজনীতি করেন তারা ভুল পথে হাঁটছেন। অনেকের মধ্যে আমাদেরও কেউ কেউ আছে। এটা বলতে চাই আগামীতে আবারও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। নারায়ণগঞ্জে ২/১টা জামায়াতের পত্রিকা রয়েছে। রাজকারদের পত্রিকায় সংবাদ এসেছে বন্দরে আওয়ামী লীগ শেষ হয়ে গেছে। আমি ওই সকল পত্রিকার সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারদের জানাতে চাই আজকের জনসভা আওয়ামী লীগের জনসভা নয়। এই সভা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন সেচ্ছাসেবক লীগের একটি সভা। প্রচণ্ডে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী এই সভায় এসে প্রমাণ করেছে বন্দরের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি।

    মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চন্দন শীল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম প্রমুখ।

  • বরিশালে হেভিওয়েট প্রার্থী সরোয়ারের জামানত হারানোর নেপথ্যে কী?

    বরিশালে হেভিওয়েট প্রার্থী সরোয়ারের জামানত হারানোর নেপথ্যে কী?

    মজিবর রহমান সরোয়ার বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক। তিনি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রথম নির্বাচিত মেয়র, পরে সদর আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও হুইপ। বিসিসি নির্বাচনের আগে সরোয়ার দাবি করেন, বিসিসির বদলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই তার আগ্রহ বেশি। তবে দলের নির্দেশে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র জমা দেন তিনি। দলের ম্যান্ডেট নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এই বিএনপি নেতা। তবে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১৩ হাজার ১৩৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন তিনি। নিজের এই ফল বিপর্যয় সম্পর্কে  মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘নির্বাচন তো শুরুই করতে দেয়নি, ভোট তো পরের কথা।’

    এত কম ভোট পাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কোনও প্রচারণা চালতে দেয়নি। নেতাকর্মীদের আটক করেছে। আগের রাতে নৌকায় সিল মেরে রেখেছে। পরের দিন সকালেও আওয়ামী লীগের কর্মীরা নৌকায় সিল দিয়েছে। শতাধিক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রের মধ্যেই ঢুকতে দেয়নি। একারণে সকাল ১০টার দিকে আমি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করি। নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোট বন্ধের আবেদন জানাই। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন।’

    তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে যেভাবে প্রহসনের মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, সেভাবেই বরিশালের নির্বাচনে তারা গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকটি মেরেছে। আর এই প্রহসনের নির্বাচনের জন্য একদিন তাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও বরিশালের এই নির্বাচনের প্রভার পড়বে।’

    পরবর্তিতে কী পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগামীতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে ভোট কারচুপির বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবো।’

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে ছয়জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। আর মেয়র পদে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩০০ জন ভোটার। নির্বাচনে ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭টি কেন্দ্রের বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ১ লাখ ৭ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩৫ ভোট। নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে যেসব প্রার্থী মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পাবেন না তাদেরই জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসেবে আট ভাগের এক ভাগের সমান ভোটের সংখ্যা হয় ১৬ হাজার ৬৬২ দশমিক ৫ ভোট। এই হিসাবে জামানত হারাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থীসহ নির্বাচনের ছয় মেয়র প্রার্থী।

    নির্বাচনের আগের রাতে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বলেছিলেন, যে কোনও পরিস্থিতিতে ভোটের দিন মাঠে থাকবে বিএনপি। ভোটারদের ওপর তার আস্থা আছে। ভোট কারচুপি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে বিএনপি লড়াই করবে। কিন্তু নির্বাচনের দিন দুপুরের আগেই তিনি সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেন। বিএনপির নেতারা নির্বাচনের এই ফলের জন্য একক কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের কারচুপিকে দায়ী করছেন।

  • রাজশাহীতে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা

    রাজশাহীতে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা

    রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ৩০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম। এবার  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৬০ জন প্রার্থী।

    এর মধ্যে বিজয়ীরা হলেন রজব আলী (১ নং ওয়ার্ড), নজরুল ইসলাম (২), কামাল হোসেন (৩), রুহুল আমিন টুনু (৪), কামরুজ্জামান কামরু (৫), নুরুজ্জামান টুকু(৬), মতিউর রহমান মতি (৭), এসএম মাহাবুবুল হক পাভেল (৮), রেজাউন নবী দুদু (৯), আব্বাস আলী সরদার (১০), রবিউল ইসলাম তজু (১১), সরিফুল ইসলাম বাবু (১২), আব্দুল মোমিন (১৩), আনোয়ার হোসেন আনার (১৪), আব্দুস সোবহান লিটন (১৫), বেলাল আহম্মেদ (১৬), শাহাদৎ আলী শাহু (১৭), শহিদুল ইসলাম পচা (১৮), তৌহিদুল ইসলাম সুমন (১৯), রবিউল ইসলাম সরকার (২০), নিযামুল আজীম নিযাম (২১), আব্দুল হামিদ সরকার টেকন (২২), মাহাতাব হোসেন চৌধুরী (২৩), আরমান আলী (২৪), তরিকুল আলম পল্টু (২৫),  আক্তারুজ্জামান কোয়েল (২৬), আনোয়ারুল আমিন আজব (২৭), আশরাফুল হাসান বাচ্চু (২৮),  মাসুদ রানা শাহিন (২৯) ও  শহিদুল ইসলাম পিন্টু (৩০)।

  • জয়ের দ্বারপ্রান্তে আরিফুল হক চৌধুরী

    জয়ের দ্বারপ্রান্তে আরিফুল হক চৌধুরী

    সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর জয় প্রায় ‘নিশ্চিত’।

    সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টি কেন্দ্রে তিনি ৯০ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। ফলে ১৩২টি কেন্দ্রে প্রায় সড়ে চার হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন আরিফ।

    সোমবার রাত ১১টার ৪০ মিনিটের দিকে সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান। এসময় তিনি বলেন, নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে আরিফ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। নৌকা প্রতীকে কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। আরিফ ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে আছেন।

    আলীমুজ্জামান আরো জানান, সিসিকের মোট ১৩৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টিতে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে বাকি দুই কেন্দ্র স্থগিত করা হয়। স্থগিতকৃত ওই দুই ভোটকেন্দ্রে ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৮৭।

    এক্ষেত্রে স্থগিতকৃত ওই দুই কেন্দ্রে নির্বাচন হলে কামরান যদি সকল ভোট পান, তবে তিনি আরিফের চেয়ে ১৬১ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হবেন। আর স্থগিতকৃত ওই দুই কেন্দ্র থেকে আরিফ যদি আরও ১৬২টি ভোট পান, তবে তার বিজয় পুরোপুরি নিশ্চিত হবে।

    এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।
    নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান জানান, সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ১০ হাজার ৯৫৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন খান ২ হাজার ১৯৫ ভোট, সিপিবি-বাসদের প্রার্থী আবু জাফর ৯০০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের ২৯২ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান সেলিম ৫৮২ ভোট পেয়েছেন।

    সিসিকের প্রথম দুই মেয়াদের মেয়র কামরান। গত নির্বাচনে কামরানকে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আরিফ। কামরানের ভোট ছিল ৭২ হাজার ২৩০, আরিফ পেয়েছিলেন এক লাখ ৭ হাজার ৩৩০ ভোট।

  • নিজ কেন্দ্রে হারলেন কামরান

    নিজ কেন্দ্রে হারলেন কামরান

    সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রেও হেরেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। ১৩০ ভোটে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হেরেছেন তিনি।

    সিলেট সিটির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ছিলেন কামরান। দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে সোমবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।

    ফলাফল অনুযায়ী, সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে আরিফুল হক চৌধুরী ভোট পেয়েছেন ৭৭৬টি, নৌকা প্রতীকে কামরান  ৬৪৬ ভোট পেয়েছেন। নাগরিক ফোরামের প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পেয়েছেন ২৬ ভোট।

    এদিকে সর্বশেষ ফলাফলে মেয়র পদে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর জয় প্রায় ‘নিশ্চিত’।

    সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টি কেন্দ্রে তিনি ৯০ হাজার ৪৬৯ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। ফলে ১৩২টি কেন্দ্রে প্রায় সড়ে চার হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন আরিফ।

    উল্লেখ্য, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯টি সংরক্ষিত নারী ও ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন নারী ভোটার।

  • বরিশালে বিপুল ভোটে এগিয়ে আওয়ামী লীগের সাদিক

    বরিশালে বিপুল ভোটে এগিয়ে আওয়ামী লীগের সাদিক

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে ‍এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ৯৩টি কেন্দ্রে সাদিক পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৫ ভোট।

    সোমবার বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এ ফল দেখা যায়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদিক এগিয়ে রয়েছেন ৫৭ হাজারের বেশি ভোটে।

    রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে চতুর্থবারের এ নির্বাচনে ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরমধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১১টি কেন্দ্রে ৭৮টি কক্ষে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।

    মোট ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ২০ হজার ৭৩০ জন নারী ও ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন পুরুষ। শেষদিকে এসে ৭ মেয়রপ্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী বশীর আহমেদ ঝুনু আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় মাঠপর্যায়ে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯১ জন ও সংরক্ষিত আসনে ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।