Category: রাজণীতি

  • রাজশাহীর নতুন নগরপিতা লিটন

    রাজশাহীর নতুন নগরপিতা লিটন

    রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন এক লাখ ৬৫ হাজার ৩৩২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩১২ ভোট। বুলবুলের চেয়ে ৮৭ হাজার ২০ ভোট বেশি পেয়েছেন লিটন।

    রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ২১৭ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে মেয়র পদে প্রার্থী পাঁচজন। আর ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৬০ জন। এছাড়া ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ৫২ জন।

    সিটি কর্পোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। মোট ভোটারের মধ্যে এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন নারী ভোটার এবং পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৮টি এবং বুথের সংখ্যা এক হাজার ২০টি।

  • ‘কুল্লু খালাস’ বলে মাঠ ছেড়ে সেলিম কোথায়

    ‘কুল্লু খালাস’ বলে মাঠ ছেড়ে সেলিম কোথায়

    বদরুজ্জামান সেলিম। সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে হয়েছিলেন মেয়র প্রার্থী। দল থেকে বহিষ্কার হয়ে এর খেসারত দেন তিনি। কিন্তু দমে যাননি সেলিম। তাঁর প্রতীকের পোস্টারে-ব্যানারে ছেয়ে গিয়েছিল নগরের অলিগলি। নগর বিএনপির একাংশ নিয়ে চষে বেরিয়েছেন পাড়া-মহল্লা, ভোট চেয়েছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। এতে নগর বিএনপির পাশাপাশি চিন্তিত হয়ে পড়েন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। শেষ পর্যন্ত দলের চাপে পিছু হটেন সেলিম। ১৯ জুলাই বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন; বলেন, ‘কুল্লু খালাস’। সেই দিন থেকেই নির্বাচনী মাঠ থেকে উধাও সেলিম। নেতাকর্মীরা মনে করেছিল, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিএনপির প্রার্থী আরিফুলের পক্ষে গণসংযোগসহ মিটিং-মিছিলে সেলিম অংশ নেবেন। কিন্তু তাঁকে না পেয়ে নেতাকর্মীরা হতাশ। সেলিমের অবস্থান তাঁর পরিবার বা দল কেউই স্পষ্ট করে বলছে না।

    বিএনপির দাবি, প্রশাসনের গ্রেপ্তারের ভয়ে সেলিম আত্মগোপনে রয়েছেন, সুযোগ বুঝে মাঠে নামবেন। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিনি একটু অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন, সুস্থ হলেই তিনি আমাদের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামবেন। কিন্তু কোন হাসপাতালে আছেন—জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। অসুস্থতার কথা দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করলেও নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে গোপনে দেশ ছাড়ার কথাও কেউ কেউ বলছেন।

    মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী বলেন, ‘তাঁকে তো দেখাই যাচ্ছে না। ঢাকায় অথবা অন্য কোথাও আত্মগোপনে আছেন। ভয়ে তিনি মাঠে নামছেন না বলেই মনে হচ্ছে।’ কিসের ভয়—এমন প্রশে²র জবাবে বলেন, ‘সেটা এখন বলে আমি বিপদে পড়ব নাকি?’ বদরুজ্জামান সেলিম মাঠে থাকলে দলের ভালো হতো বলেও তিনি মনে করেন। একই মত ব্যক্ত করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেন।

    সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘বদরুজ্জামান সেলিম একজন পরীক্ষিত নেতা। জনপ্রিয় নেতা। তিনি অসুস্থতার কারণে মাঠে নেই। মাঠে থাকলে তাহলে আমাদের ভোটের মাঠ আরো শক্তিশালী হতো।’ তিনি কী আতঙ্কের কারণে মাঠে নামেননি—এমন প্রশে² কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই নেতা।

  • ভরা জোয়ারে ভয় নৌকাডুবির, পোকা ধানের শীষে

    ভরা জোয়ারে ভয় নৌকাডুবির, পোকা ধানের শীষে

    শ্রাবণে কীর্তনখোলার এখন ভাসানকাল। জোয়ারের পানিতে ডুবুডুবু নগরীর নিচু এলাকা আর খাল-নালা-নর্দমা। ভোটের নগরে কীর্তনখোলার জোয়ার ছাপিয়ে যেন বয়ে যাচ্ছে ‘নৌকা’র জোয়ার। রিকশা-গাড়ি-মোটরসাইকেলে শুধুই নৌকার স্টিকার; শুধুই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ছবি। তবে পোস্টার-লিফলেট, প্রার্থীর গণসংযোগ কিংবা ছোটখাটো পথসভা ছাড়া তেমন উচ্ছ্বাস নেই ‘ধানের শীষে’। ভোটের ঠিক আগে নৌকার এ জোয়ার অতীত স্মৃতিও ফিরিয়ে এনেছে অনেকের; যে স্মৃতিটি কূলে এসে তরি ডোবার। তাই কেউ কেউ এমন জোয়ারকে অতিজোয়ার হিসেবে দেখে আগের মতো ভরাডুবির শঙ্কায় তাগিদ দিয়েছে সতর্কতার। এমনকি সতর্কতামূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। বিএনপিও নির্বাচনের শেষ প্রান্তে এসে ‘ঘরের শত্রু’ নিয়ে চিন্তায় পড়েছে। গতকালই কাউন্সিলর প্রার্থী ও জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আয়েশা তৌহিদা লুনা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগঘেঁষা বিএনপি প্রার্থী আরো আছেন বরিশালে।

    গতকাল শনিবার সকালে রিমঝিম বৃষ্টির মাঝেই নগরীর সদর রোডে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে দিয়ে চলাচল করা প্রায় সব মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, রিকশা, এমনকি দোকানপাটেও দেখা যায় নৌকার স্টিকার বা লিফলেট। ওই দৃশ্য দেখিয়ে এক নেতা বলেন, ‘এটা তো আমাদের নৌকার জোয়ার না, বলতে পারেন অতি জোয়ার! ১৯৯৮ সালে এখানে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও এমন অতি জোয়ারের উল্টো ফল পেয়েছিলাম আমরা। তাই ভোটের দিনে আমাদের এবার অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে। সবাই আসল নৌকা, নাকি ভুয়া নৌকাও জোয়ারে মিলে যাচ্ছে কোনো রাজনৈতিক কৌশলের আড়ালে, সেটা মাথায় রাখতে হবে!’

    ঠিক তখনই নৌকার স্টিকার লাগানো নাম্বার প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে স্টিকার লাগানোর কারণ জানতে চাওয়া হয়। মোবাশ্বের নামের ওই মোটরসাইকেল আরোহী হাসতে হাসতে বলেন, ‘এইটা থাকলে ট্রাফিকে ডিস্টার্ব করে না। আর বাসার কাছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের পোলাপাইনেও জ্বালায় না—তাই লাগাইছি। ভোট কারে দিব না দিব সেইটা কেন্দ্রে গিয়ে বুঝব।’

    পরে নিজের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই আওয়ামী লীগ নেতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ডা. নাসিম বিশ্বাসের মৃত্যুর পর উপনির্বাচন হয়। নৌকার প্রার্থী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদ; আর তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপির ছিলেন মজিবর রহমান সরোয়ার (এবার তিনি বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী)। আওয়ামী লীগ নেতা আরো বলেন, সেবার প্রচারণা এমনকি ভোটের দিনেও নৌকার জোয়ার ছিল। কিন্তু দেখা গেল সরোয়ারের কাছে হেরে যান মহিউদ্দীন। আরেকটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়া শওকত হোসেন হিরন পাঁচ বছর নগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন করেও ২০১৩ সালের ভোটে হেরে যান। ওই ভোটের দিনেও ছিল কেবলই নৌকার জোয়ার।

    তবে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল মনে করছেন, এবারের নৌকার জোয়ার সত্যিকারের জোয়ার। তবে এর পরও তাঁরা সতর্ক থাকবেন বলে জানান তিনি।

    তবে গতকাল বিকেলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহর শেষ নির্বাচনী পথসভায় প্রক্যাশেই হুঁশিয়ার করে দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আফজালুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আগের কোনো কোনো নির্বাচনে দেখা গেছে নৌকার টুপি, গেঞ্জি, ব্যাজ পরে বুথে ঢুকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। ফলে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে, এবার সেই সুযোগ থাকবে না। নৌকার ব্যাচ ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহারে ভিন্ন কৌশল বা পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

    সাদিক আবদুল্লাহর সঙ্গে থেকে সার্বক্ষণিক নির্বাচনী কাজে ভূমিকা রাখা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলরাম পোদ্দার বলেন, ‘আগের জোয়ার আর এবারের জোয়ারের মধ্যে পার্থক্য আছে। এবার জোয়ার স্বতঃস্ফূর্ত। মানুষ সাদিককেই বিজয়ী করবে—এটা আমরা নিশ্চিত।’

    বিএনপিতে ‘গৃহদাহ’ : গতকাল এ রিপোর্ট লেখার মধ্যেই খবর আসে, নগরীর সংরক্ষিত ৪ এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থী (এর আগেও দুই মেয়াদে কাউন্সিলর ছিলেন) ও জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আয়েশা তৌহিদা লুনা বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এমনকি গতকাল বিকেলে তিনি অনুসারী কর্মী-সমর্থক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী  সেরনিয়াত সাদিক আবদুল্লাহর পথসভায় অংশ নিয়েছেন।

    ঘরের শত্রু বিভীষণ আরো আছে। বিএনপির মহানগর কমিটিতে আছেন এমন একজন কাউন্সিলর প্রার্থী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বিএনপি করি ঠিকই আছে। কিন্তু আমি যদি কাউন্সিলর হিসেবে বিজয়ী না হই তবে দলে আমার গুরুত্ব থাকবে না। সে ক্ষেত্রে আমার দলের মেয়র বিজয়ী হলেও আমার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। তখন আমি হয়তো দলের জন্যও কোনো কাজ করতে পারব না। বরং এখন আমি যেকোনো কৌশলে যদি বিজয়ী হয়ে আসতে পারি তবে দলই লাভবান হবে। এ ছাড়া ধানের শীষের জন্য কাজ করতে গেলে এলাকায় থেকে নিজের জন্য কাজ করাও মুশকিল হবে। তখন দুটিই হারাতে হবে।’ এই কাউন্সিলর প্রার্থী আরো বলেন, ‘আগের নির্বাচন আর এবারকার নির্বাচনের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানেও খুলনা ও গাজীপুরের মতোই ভোট হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাতে করে আমাদের ধানের শীষের প্রার্থীর মেয়র হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই কৌশলের আশ্রয় নিয়ে হলেও আমরা যে কয়জন বিএনপির কাউন্সিলর জিতে আসতে পারব সেটা অন্ততপক্ষে দলকে স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী করবে।’

    জেলা বিএনপির কমিটিতে থাকা একজন সিনিয়র নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার অনেক নাটকীয়তার পর কেন্দ্র থেকে মজিবর রহমান সরোয়ারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলে সরোয়ারবিরোধী গ্রুপটি তা ভালোভাবে নেয়নি। এ ছাড়া গত পাঁচ বছর জেলা ও মহানগর বিএনপির অনেক নেতাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সখ্য রেখে চলেছেন; ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। এমনকি বিএনপির বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামালের অনুসারী বেশ কিছু কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও দলের ভেতরে এমন অভিযোগ রয়েছে। কামাল বা তাঁর কোনো অনুসারী এবার এমনকি পরোক্ষভাবেও মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে কাজ করছেন না। বরং উল্টো আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে সখ্য বজায় রাখার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কেন্দ্রে কেন্দ্রে মেয়রের জন্য এজেন্ট দিতেও সহযোগিতা করা হচ্ছে না দলীয় মেয়র প্রার্থীকে—যা এবার ধানের শীষের জন্য বড় এক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল  বলেন, ‘আমরা ভোটের শুরুর দিকেই কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর্জা আব্বাসের উপস্থিতিতে বরিশালে মেয়র প্রার্থী ও বিএনপিদলীয় সব কাউন্সিলর প্রার্থীকে নিয়ে বসেছিলাম। তখন সব কাউন্সিলর প্রার্থীই আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নিজের পাশাপাশি মেয়র প্রার্থীর জন্যও প্রকাশ্যে কাজ করার। পরে অনেকে সেই প্রতিশ্রুতি রাখলেও আমাদের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ হচ্ছে না। অনেকে এখনো মেয়রের জন্য কাজ করছে না। তবে আমরা এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং আশা করছি তারা ভোটের দিনে ধানের শীষের জন্য কাজ করবে।’

    জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, ‘পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হয়রানির কারণে  এজেন্টদের উপস্থিতি নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। কোনো কোনো এলাকায় কাউন্সিলরাও তেমন একটা সহায়তা করছেন না। যারা এই নির্বাচনে মেয়রের জন্য সঠিকভাবে কাজ করবে না তাদের বিরুদ্ধে ভোটের পরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা শাখার মহিলাবিষয়ক সম্পাদক কেন পদত্যাগ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না।’

    বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন  বলেন, ‘আমরা সবাইকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। প্রশাসন বা আওয়ামী লীগের ভয়ে অনেকে হয়তো কৌশলে কাজ করছে। আর যারা কাজ করবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা আছে।’ অবশ্য এই বিএনপি নেত্রীকেও দলের ভেতরে-বাইরে সরোয়ারবিরোধী বলেই সবাই জানে। তবে এবার তাঁকে সরোয়ারের পাশে থেকেই সক্রিয় নির্বাচন করতে দেখা যায়।

    এ প্রসঙ্গে বিলকিস জাহান বলেন, ‘আমি আমার দলের জন্য কাজে নেমেছি। দলই আমার কাছে সবার আগে। তবে একসঙ্গে একই এলাকায় রাজনীতি করতে গিয়ে পদ-পদবি বা প্রার্থিতা নিয়ে মজিবর রহমান সরোয়ারের সঙ্গে আমার কিছুটা দূরত্ব থাকতেই পারে।

  • ফেসবুকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্ট্যাটাস    তিন সিটিতেই আওয়ামী প্রার্থী অনেক এগিয়ে: জরিপ

    ফেসবুকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্ট্যাটাস তিন সিটিতেই আওয়ামী প্রার্থী অনেক এগিয়ে: জরিপ

    বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফল কেমন হবে তা নিয়ে জনমত জরিপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে চলতি জুলাই মাসব্যাপী এ জরিপটি করে রিসার্চ ডেভেলাপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি)।

    জরিপে দেখা গেছে, বরিশালে ৪৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ৫৮ শতাংশ ও সিলেটে ৩৩ শতাংশ মানুষ তিন সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে রয়েছেন। আজ বরিবার দুপুর ১২টায় সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত পোস্টটি দিয়েছেন।

    এতে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে বরিশালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে রয়েছে ৪৪ শতাংশ জনমত। ১৩.১ শতাংশ মানুষ রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ারের পক্ষে। অন্যান্য প্রার্থীরা ০.৮ শতাংশ জনসমর্থন পাচ্ছেন। ২৩ শতাংশ মানুষ বলছেন, ভোটের ব্যাপারে তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। আর ১৫.৯ শতাংশ ভোটার কোনো ধরনের মতামত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বরিশালে মোট ১ হাজার ২৪১ ভোটারের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়েছে।

    রাজশাহীদের খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে মত দিয়েছেন ৫৮ শতাংশ ভোটার। বিএনপির মোসাদ্দেক হোসাইন বুলবুলের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৬.৪ শতাংশ। অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন আছে .৯ শতাংশ মানুষের। এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ১২.৩ শতাংশ। মত প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ৯.৬ শতাংশ। এতে ১২৯৪ ভোটারের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

    সিলেটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের প্রতি ৩৩ শতাংশ ভোটার নিজেদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ২৮.১ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী পক্ষে মত দিয়েছেন। বাকি প্রার্থীদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন ১.৩ শতাংশ ভোটার। এখনো সিদ্ধান্ত নেননি ২৩ শতাংশ ভোটার। ১২.৬ শতাংশ ভোটার নির্বাচন নিয়ে মত প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ১২.৬ শতাংশ। সিলেটে মোট ১১৯৬ জন ভোটারের ওপর জরিপ করা হয়েছে।

    জরিপ সম্পর্কে সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে আরও লিখেছেন, ২০১১ সালের জরিপ অনুযায়ী বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট শহরের লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক ভোটার তালিকা থেকে সমন্বয় করে জরিপের ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটার আইডি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনকৃতদের মধ্য থেকে নমুনা নেয়া হয়েছে। সিটি করপোরশেনের ভোটার এমনটা নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের নির্বাচিত করা হয়। এ জরিপে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা +/- ২.৫ শতাংশ।

    গত ৫ বছর ধরে আরডিসির সঙ্গে আমি জনমত জরিপ পরিচালনা করে আসছি। তাদের জরিপ পরিচালনা পদ্ধতি ও ফল সবচেয়ে নির্ভুল। অবশ্যই মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা পুরোদমে চলবে এবং ফলাফল জরিপের তুলনায় সামান্য এদিক-সেদিক হতে পারে। যাই হোক, আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে চাই যে বরিশাল, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয় লাভ করবে। সিলেটে আমরা সামান্য এগিয়ে আছি।

    বিএনপি তাদের সেই পুরনো সব অভিযোগ এখনো অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু সত্যি কথাটা হলো তারা তাদের জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। উল্টোদিকে গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য বিএনপির এখন আর মোটেও কোনো হুমকি নয়।

    যাই হোক আমি আমার দলের সদস্যদের, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবো আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করতে বিএনপির ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট চুরি চেষ্টা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে। আপনারা সবাই বিএনপি নেতাদের ফোনে রেকর্ড করা কথা শুনেছেন। তাদের প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় বুঝে গেছে তাদের জেতার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তাই তারা আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপিয়ে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে চলেছে।

  • নগর পিতার আসনে বসছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ!

    নগর পিতার আসনে বসছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ!

    “প্রাচ্যের ভেনিস” খ্যাত বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে “স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব, শান্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতীক” নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়ে “নগর পিতার” আসন “অলংঙ্কৃত” করার পথে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রাজনীতির “যোগ্য উত্তরাধিকার” “যুবরত্ন” সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। আগামী ৫ বছরের জন্য তিনিই যে নগরবাসীর অভিভাবকের আসনে বসছেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিশেষ করে গতকাল নগর ভবনের সামনে সাদিক আবদুল্লাহ’র নৌকা প্রতীকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত পথ সভায় মানুষের ঢল নামায় তার বিজয়ী হওয়ার আভাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    ওই পথ সভায় ৩০ টি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীসহ দলমত নির্বিশেষে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ জড়ো হন। লোকে লোকারণ্য পথ সভাটি এক পর্যায়ে রূপ নেয় জনসভায়। এসময় সাদিক আবদুল্লাহ প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন’র স্বপ্নের নগরী বিনির্মাণে নৌকা প্রতীকে ভোট দাবি করেন নগরবাসীর কাছে। সাদিক বলেন, ‘‘বরিশালে বিএনপি অসংখ্যবার নির্বাচিত হয়েও ছিটে-ফোঁটা উন্নয়ন করেনি। কেবল জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছে। শওকত হোসেন হিরন নির্বাচিত হয়ে বরিশাল নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার স্বপ্ন ছিলো এই নগরীকে দেশের সবচেয়ে উন্নত ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। তবে তিনি অকালেই চলে যাওয়ায় সেই উন্নয়ন স্তিমিত হয়ে পড়ে। আমি হিরন’র সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নগরবাসীর সমর্থন চাই।’’ এদিকে সাদিক আবদুল্লাহ’র বিজয়ের “দ্বারপ্রান্তে” থাকার বিষয়টি ভোটারদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

    প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মোড়ের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কার্যালয় ও অফিস পাড়ায় সর্বত্র আড্ডা-আলাপে সাদিক আবদুল্লাহ’র বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকার বিষয়টি সমধিক আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন- এখন শুধু সাদিক’র শপথ নেওয়ার দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রয়েছে নগরবাসী। নগরীর ৩০ টি ওয়ার্ডে ঘুরে দিনমজুর থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি পেশার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে গণরায় যে নৌকার পক্ষে যাচ্ছে তার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। নৌকার পক্ষে ঝড়-বৃষ্টি ও রোদ উপেক্ষা করে বিরামহীনভাবে বৈচিত্র্যময় প্রচার-প্রচারণায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় “তারকা” নেতাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ভোটারদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। তারা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে- নৌকা জিতলে নগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়িত হবে। তাদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র এ উন্নয়ন বার্তা পেয়ে উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর নগরবাসী উন্নয়নের স্বার্থে শেষ পর্যন্ত দলমত নির্বিশেষে সবাই নৌকার পক্ষে ঝুঁকে পড়েছেন।

    একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি বেসরকারি এনজিওর রিপোর্টেও সাদিক’র বিজয়ী হওয়া সম্ভাবনার সরেজমিন তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি ওই এনজিও বরিশাল শহরে ভোটের পূর্ব মুহূর্তে তাৎক্ষণিক জনমত জরিপ করেছে। সেখানে ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে সাদিক আবদুল্লাহ। এনজিওটির জনমত জরিপে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র প্রতীক নৌকার পক্ষে ৫৬% ভোটার মতামত দিয়েছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সারোয়ার সেখানে মাত্র ৩১% ভোটারের সমর্থন পাচ্ছেন। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ৭% ভোটারের সমর্থন পাচ্ছেন। বাকি ৬% ভোটার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এনজিওটির ওই জরিপে।

    এনজিওটির জরিপের ফল নগরবাসীর কাছে প্রকাশ হলে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ফিরে আসে সাদিক আবদুল্লাহ’র পক্ষে প্রচার-প্রচারণায়। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এনজিওটির এমন জরিপে ২৫% পিছিয়ে পড়ায় মজিবর রহমান সারোয়ার’র নেতাকর্মীরা মনস্তাত্বিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বিগত সিটি নির্বাচনে ভোটার ছিল ২ লাখ ১১ হাজার। এবার ২ লাখ ৪২ হাজার। নতুন ভোটার যোগ হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার। নতুন এই তরুণ ভোটারদের আশা আকাঙ্খার প্রতীক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। সাদিক আবদুল্লাহ তারুণ্যের অহংকার। বরিশালে তরুণ প্রজন্মের আদর্শও তিনি। তরুণদের কাছে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি। আর এই তরুণ প্রজন্মের ভোটই এবারের বরিশাল সিটি নির্বাচনের সমস্ত হিসাব নিকাশ পাল্টে দিচ্ছে। যে কারণে অনেকেই বলছেন, সাদিক’র জয়ের পথ রচিত হবে তারুণ্যের হাত ধরে। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করে গত ৫ বছর যে খেসারত নগরবাসী দিয়েছেন, আগামীতে তারা আর সেই খেসারত দিতে চাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।

    অনেকেই মন্তব্য করেছেন, তারা অতীতের ভুল সিদ্ধান্তের আর পুনরাবৃত্তি করতে চান না। গত ৫ বছর বিএনপির মেয়র আহসান হাবিব কামাল উন্নয়ন কর্মকা-ে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে না পারায় শ্রী-বৃদ্ধি হারিয়ে বরিশাল শহর আবার পুরনো খানাখন্দের শহরের রূপে ফিরে গেছে। ফলে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিএনপির এ মেয়রের সীমাহীন ব্যর্থতায় শ্রী-হীন হয়ে পড়া বরিশাল শহরকে হিরন’র বরিশালের রূপে ফিরিয়ে আনতে নগরবাসী হিরন’র মতো একজন যোগ্য নগর অভিভাবক দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে ফিরছিলেন। অপেক্ষায় ছিলেন ভোটের। অবশেষে ৩০ জুলাই কাঙ্খিত সেই সিটি ভোট। মাঠের বিরোধীদল বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হলে কোনো যে উন্নয়ন হয় না এবং ভবিষ্যতেও হবে না- জনমনে এই বাস্তব উপলব্ধি সৃষ্টি ও প্রমাণ করে দিয়েছেন সদ্য সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল। তার ব্যর্থতা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর বিজয়ের পথকে কুসুমাস্তীর্ণ ও বিএনপির প্রার্থীর পথকে কণ্টকাকীর্ণ ও পিচ্ছিল করে দিয়েছে। সরকার দলের প্রার্থী বিজয়ী হলে বরিশালের ব্যাপক উন্নয়ন হবে- ভোটারদের মাঝে এ ধারণা ও উপলব্ধি সৃষ্টি হওয়ায় নির্বাচনী সকল হিসাব-নিকাশ ও সমীকরণ পাল্টে গেছে। ভোটাররা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন- সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ মেয়র নির্বাচিত হলে উন্নয়ন কর্মকা-ে তিনি নিজ যোগ্যতার পাশাপাশি বাড়তি সহায়তা ও সুবিধা পাবেন তার ফুফু প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা ও বাবা প্রভাবশালী মন্ত্রী পদমর্যাদায় পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির কাছ থেকে।

    যেহেতু স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে সিটির সিংহভাগ উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালিত হয়, আর সেই মন্ত্রণালয়ের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন সাদিক আবদুল্লাহ’র গর্বিত পিতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ; স্বাভাবিকভাবেই সেখান থেকে বরিশালের উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে। পিতা ও পুত্র মিলে হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ এনে বরিশালের উন্নয়নের অতীত সকল রেকর্ড ভেঙে দিতে পারবেন বলে সচেতন মহল মনে করছে। এছাড়া বরিশালকে সাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র বিশেষ নজর ও উদ্যোগ রয়েছে। এই উদ্যোগকে আরও বেগবান করতে সাদিক’র মতো নিজ রক্তের বন্ধনের উত্তরসূরী খুঁজে পেতে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নে সাদিক’র ওপরই আস্থা ও ভরসা রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ফুফু, মন্ত্রী বাবা ও সাদিক নিজে মেয়র নির্বাচিত হলে এ তিন রক্তের বন্ধনের যৌথ উদ্যোগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বরিশাল শহর শুধু “প্রাচ্যের ভেনিস” নয়, “আধুনিক সিঙ্গাপুর” শহরে রূপ নেবে এমনটিই ধারণা অভিজ্ঞ সচেতন মহলের। সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত হলে “আলোকিত এক তিলোত্তমা” নগরীতে রূপান্তর করে অতীতের সব উন্নয়ন রেকর্ড ভেঙে দিয়ে চমক সৃষ্টি করতে পারবেন বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। বংশ পরম্পরায় সাদিক’র ধমনীতে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র রক্ত প্রবাহিত।

    স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে পাদ প্রদীপের আলোয় উঠে আসা এক “উদীয়মান সূর্য”। যার আলোয় “আলোকিত” বরিশালের আওয়ামী রাজনীতির অঙ্গন। দীর্ঘদিন ধরে বরিশালবাসীর পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখের সারথী হয়ে অনেক আগেই সাদিক তাদের মনের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তাদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়েছেন। অর্জন করেছেন “যুব রতেœর“ খ্যাতি। তরুণ ভোটাররা তাদের পচ্ছন্দের শীর্ষে রেখেছেন সাদিক আবদুল্লাহ-কে। তার জনপ্রিয়তা

    শুধু বরিশাল সিটি এলাকায়ই নয়, গোটা দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে রয়েছে। তার সব কিছুর মধ্যেই বংশের পূর্বসূরীদের সততা, নিষ্ঠা ও আদর্শ খুঁজে পাওয়া যায়। এদিকে স্বাধীনতার পরে বরিশাল অঞ্চলে দৃশ্যমান যতো বৃহৎ উন্নয়ন কর্মকা- হয়েছে তার শুরুটা করেছিলেন তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের সৎ রাজনীতির পথিকৃৎ ও প্রভাবশালী মন্ত্রী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং ১৯৭৩ সালে বরিশাল পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অদ্যাবধি তা অব্যাহত রেখেছেন তার সুযোগ্য পুত্র মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

    দাদা ও বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে স্বাভাবিকভাবেই বাকী স্বপ্ন পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবেন ঐতিহ্য ও গৌরবের “যোগ্য উত্তরাধিকার” সাদিক আবদুল্লাহ। এদিকে মানুষের ঢল নামা গতকালের ওই পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য-গবেষণা সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

  • বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না: আইনমন্ত্রী

    বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, বিএনপি যদি কোনো দিন ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না।

    তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে বিশ্বাস করে না। তারা বিশ্বাস করে পাকিস্তানকে। তাদের জায়গা পাকিস্তান, তালেবান ও আইএসের দেশে। তাই আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষায় জনগণকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

    শুক্রবার দুপুরে আখাউড়া পৌর শহরের নাছরীন নবী গার্লস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সমাবেশে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়ার সময় নারীদের কোনো অধিকার দেয়া হতো না। তাদের ওপর এসিড ছোড়া হতো। তাদের কোনো পরিচয় ছিল না। এখন বাংলাদেশ নারীদের জন্য একটা স্বর্গ।

    আখাউড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন, জেলা পরিষদ সদস্য ও যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল কাশেম ভূইয়া, কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদুল কায়ছার জীবন প্রমুখ।

    কসবায় আইনমন্ত্রী : কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের মাদলা সোনার বাংলা সিরাজুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। আইনমন্ত্রীর বাবা প্রখ্যাত আইনজীবী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সিরাজুল হকের নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের মাঠে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় আইনমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার বানানো সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদই তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সেই মামলায় সাজা হয়েছে।

    বায়েক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুল হক ভূইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল কাউছার ভূইয়া, এমজি হাক্কানী, রুহুল আমিন ভূইয়া, কসবা পৌরসভার মেয়র এমরান উদ্দিন, কসবা প্রেস ক্লাব সভাপতি সোলেমান খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ সদস্য মোশাররফ হোসেন ইকবাল, কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন।

    বক্তব্য রাখেন বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-মামুন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. শাহজাহান, বায়েক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল কুদ্দুছ, আওয়ামী লীগ নেতা নুরুন্নবী প্রমুখ।

  • টানা ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন চোখে পড়ে : প্রধানমন্ত্রী

    টানা ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন চোখে পড়ে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যক্তি স্বার্থে রাজনীতি করলে দেশকে কিছুই দেয়া যায় না। জনকল্যাণে রাজনীতি করলে দেশকে অনেক কিছু দেয়া যায়। আওয়ামী লীগ তা প্রমাণ করেছে এবং দেখিয়েছে। এছাড়া টানা ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন চোখে পড়ে।

    স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনটির নেতারা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যাজ পরিয়ে দেন।

    প্রথমে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে সাংগঠনিক নেত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতারা। এ সময় সংগঠনের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে অভিনন্দন জানান।

    এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে খালেদা জিয়া জেলে আছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এতিমের অর্থের লোভ সামলাতে পারে না তারা কীভাবে দেশ চালাবে। বাবা-মাসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দেশে ফিরেছি কারণ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভাত-ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়াই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। জনকল্যাণমুখী রাজনীতি ছাড়া ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতি দেশকে কিছু দিতে পারে না, তা ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, জামায়াত ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করলেও কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে কলেজ ছাত্রী কেউ রক্ষা পায়নি। তাই বিএনপি-জামায়ায়ের ওপর দেশের মানুষের আস্থা নেই, তা আজ প্রমাণিত। গ্রামের মানুষও শহরের নাগরিক সুবিধা পাবে।

    এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগকে তৃণমূলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে নৌকার জন্য ভোট চাওয়ার পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সংগঠন গড়ে তুলে জনগণের সেবা করার আহ্বান জানান তিনি।

    পরে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে সেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪৮তম জন্মদিন আজ শুক্রবার (২৭ জুলাই)। মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় ১৯৭১ সালের আজকের দিনে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির প্রথম সন্তান জয়ের জন্ম হয়। দেশ স্বাধীনের পর তার নাম রাখেন নানা শেখ মুজিবুর রহমান।

  • বিসিসি নির্বাচনঃ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকার কোন কারণ নেই -সাদিক আবদুল্লাহ

    বিসিসি নির্বাচনঃ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকার কোন কারণ নেই -সাদিক আবদুল্লাহ

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, বরিশালে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এটা নিয়ে সংশয় বা শংকার কোনো কারণ নেই। বরিশালের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নগরীর ২৯নং ওয়ার্ড এলাকায় গনসংযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    গনসংযোগের ফাঁকে সাংবাদিকদের কাছে তিনি আরো বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত ৯টি অভিযোগ দিয়েছি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে। সেই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো এ্যাকশন নেয়া হয়নি। অভিযোগগুলোর মধ্যে গুরুত্বর অভিযোগটি ছিল আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়া। বিএনপি প্রার্থী বস্তি বা কলোনী বাসীদেরও হুমকি দিয়েছেন।’

    সাদিক বলেন, ‘একটি নির্বাচনে তো অভিযোগ থাকবেই। আর বরিশালে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে নির্বাচন নিয়ে শংকা থাকবে। এতবড় একটি জনগোষ্ঠির বসবাস বরিশালে। এখানে আনন্দমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে নির্বাচন নিয়ে। আর শংকার এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কর্তারা ভালো বলতে পারবেন। আমার বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ থাকতো তাহলে সেটার উত্তর আমি দিতাম। বরিশালে নির্বাচনী পরিবেশ অনেক সুন্দর রয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে শংকার কোনো কারনই নেই। এবারের নির্বাচনে কোনো মারামারি নেই, কাটাকাটি নেই। বিগত নির্বাচনগুলোতে তো খুনের ঘটনাও ঘটেছে।’

    বিএনপি’র নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে তবে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কারো গ্রেফতারের বিষয়টি আমার জানা নেই। অর্থাৎ খোঁজ নিতেও পারছি না। আমি সারাদিন জনগনের দোড়গোরায় যাচ্ছি। আমার চিন্তাভাবনা এখন নগরের উন্নয়ন নিয়ে। আমি নির্বাচিত হলে কি করব সেটাই ভাবছি বা পর্যালোচনা করছি। এখন কে গ্রেফতার হল বা কে ছাড়া পেল সেসব বিষয় আমার জানা নেই। টেলিভিশন বা পত্রিকায় কি নিউজ হচ্ছে সেটা দেখারও সময় পাচ্ছি না আমি। আমি জনগনের জন্য কাজ করার প্রত্যয় গ্রহণ করেছি। আমি সদর রোডে এসে ফটোস্যুট করে আবার বাসায় ঢুকে যাইনা। ভোটারদের প্রতি আমার একটি আহ্বান থাকবে যে ৩০ তারিখ কেন্দ্রে গিয়ে যাকে খুশি তাকে ভোট দেয়ার জন্য।’ গনসংযোগকালে তার সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি মাঠ ছেড়ে যাবে না : সরোয়ার

    বিএনপি মাঠ ছেড়ে যাবে না : সরোয়ার

    যে ধরনের ঘটনাই ঘটুক না কেন, যত গ্রেফতারই হোক না কেন, বিএনপি মাঠ ছেড়ে যাবে না, সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলনের মাঠে থাকবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি সহ ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফিশারী রোডের কারিকর বিড়ি ফ্যাক্টরি এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্যে এই হুশিয়ারি দেন সরোয়ার।

    এদিকে সরোয়ারের পক্ষে দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মীর্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, বরিশালে একটা ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। গত রাত (বুধবার) থেকে আওয়ামী লীগ বরিশালে ত্রাসের রাজত্ব শুরু করেছে। পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দিচ্ছে। অহেতুক গ্রেফতার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মাটি কামড়ে হলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা যে কোন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে বলে ঘোষণা দেন মীর্জা আব্বাস।
    সংবাদ সম্মেলনে মীর্জা আব্বাস ছাড়াও বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ২০ দলের শরীক লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি মেজবাউদ্দিন ফরহাদ, দলের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    অপরদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ গত বুধবার বরিশালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন দিয়েছে বলে খবর ছড়ানোর পরও আজ দিনভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন জাপার মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস।

    দুপুরে নগরীর টিয়াখালী এলাকায় গণসংযোগকালে দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তাপস সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এইচএম এরশাদের কোন নির্দেশ পাননি। দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার ক্ষমতাসীনদের সাথে জাতীয় সংসদের একটি আসন ভাগাভাগির জন্য তার নিজের স্বার্থে এই চক্রান্ত করেছেন বলে অভিযোগ তাপসের। তিনি নির্বাচনের মাঠে আছেন এবং শেষ পর্যন্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

    এদিকে আজ দুপুর ২টার দিকে নগরীর কলাপট্টি এলাকায় গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ। গণসংযোগকালে সাদিক আবদুল্লাহ বিএনপি নেতা মীর্জা আব্বাসের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। বরং সাদিক বিএনপি’র বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর পাল্টা অভিযোগ করেন। তিনি ভয়ভীতির উর্ধ্বে উঠে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব, কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট একে আজাদ এবং বাসদের ডা. মনিষা চক্রবর্তী আজ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন

  • সিটি নির্বাচনে তীক্ষ্ন নজর বিদেশিদের

    সিটি নির্বাচনে তীক্ষ্ন নজর বিদেশিদের

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ তিন সিটির নির্বাচনে তীক্ষ্ন নজর বিদেশিদের। সরেজমিনে এবার রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন তারা। এজন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ১৮ জনের নামে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কার্ড ইস্যুর জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আজ বিকাল ৩টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করবেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। বিগত দু’টি ও আসন্ন তিন সিটি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
    ইসি সূত্রে জানা গেছে, তিন সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য মার্কিন দূতাবাস থেকে আবেদনসহ পাঁচজনের নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। এর মধ্যে রাজশাহীতে তিনজন, বরিশাল ও সিলেট সিটিতে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। দূতাবাসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন থেকে পাঁচজনের পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দেওয়া হয়। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) ৯ জন প্রতিনিধি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে চারজন, সিলেটে তিনজন এবং বরিশালে দুইজন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবেন। ইউএসএইড নামের আরেকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার চারজন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। বিশেষ করে গত ২৬ জুন গাজীপুর ও গত ১৫ মে খুলনা নির্বাচনের চেয়ে বরং রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে বেশি দৃষ্টি রাখছে বিদেশিরা। এই তিনি সিটির মধ্যে রাজশাহীর নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আগ্রহ বেশি। এই সিটিতে বেশি পর্যবেক্ষণ পাঠানো হচ্ছে।
    বিদেশিদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির যুগ্ম সচিব (জনসংযোগ) এস এম আসাদুজ্জামান আরজু  বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো দু’টি সংস্থার মোট ১৮ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে আবেদন করেছে। কমিশনও সংশ্লিষ্টদের আবেদন মঞ্জুর করেছে।
    এদিকে, কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে-যুক্তরাজ্যের তরফে দেশটির ঢাকাস্থ হাইকমিশনের রাজনৈতিক বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ইলেকশন অবজারভার টিম গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠে যাচ্ছেন। বাকিরা ঢাকায় বসে প্রযুক্তি, মিডিয়া এবং নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে ভোটের মাঠের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে যুক্তরাজ্যের একটি টিম ২৪ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত বরিশালে থাকার কথা রয়েছে। এরপর ওই টিমটি সিলেট সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাওয়ার কথা। এ ছাড়া শুরু থেকে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিটি নির্বাচন গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। এ ছাড়াও জাপান, কানাডা, জার্মানির কূটনীতিকরাও নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।