Category: রাজণীতি

  • ইভিএম চান সাদিক, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চান সরোয়ার

    ইভিএম চান সাদিক, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চান সরোয়ার

    প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে ৯ম দিনে জমজমাট প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের মেয়র প্রার্থীরা। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিরোধী প্রার্থীরা সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হওয়াসহ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি জানান।

    বুধবার সকাল বেলা সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সাথে গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহাত রাখতে আগামী ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে সবার কাছে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

    গণসংযোগকালে সাদিক আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ বরিশালের উন্নয়ন তড়ান্বিত করার জন্য অধীর আগ্রহে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে সাদিক আরও বলেন, তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হওয়ায় বিরোধী প্রার্থীরা তার দিকে আঙ্গুলী তুলছেন। এ কারণে তিনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তার নিজের ওয়ার্ডের দুটি কেন্দ্র সহ আশপাশের কেন্দ্রগুলোতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। বিরোধী প্রার্থীরা কথায় কথায় অভিযোগ করলেও তার কোন ভিত্তি নেই। কারণ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মাত্র দুটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় বিরোধী প্রার্থীরা মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

    নির্বাচনের সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানান সাদিক। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিন্টু ও সাধারন সম্পাদক এ কে এম জাহাঙ্গীর সহ অন্যান্যরা তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।

    সাদিক ছাড়াও সকালে নগরীর চকবাজার এলাকায় নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিয় কমিটির তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত কুমার নন্দী এবং দলের কেন্দ্রিয় নেতা অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক অ্যাডভোকেজ বলরাম পোদ্দার।

    এদিকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সদর রোড, প্যারারা রোড এবং চাঁদমারী এলাকায় গণসংযোগ করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। এ সময় সরোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ইভিএম পদ্ধিতে হলেই যে সুষ্ঠু ভোট হবে সেটা ঠিক নয়। খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি ছিলো, বরিশাল সিটি নির্বাচনে সেইসব ত্রুটি দূর করতে হবে। একই সাথে ভোট কেন্দ্র দখল, জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মেকানিজম বন্ধ করতে হবে।

    নির্বাচনের দিন যাতে বহিরাগতরা নগরীতে না আসতে পারে সেজন্য পুরো নগরীকে নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে ফেলার জন্য সংশ্লিস্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানান সরোয়ার। নির্বাচন কমিশন যে সুষ্ঠু নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে সেটা বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হওয়াসহ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে কাছে দাবি জানান সরোয়ার। এ সময় বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন এবং সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    অপরদিকে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী সরোয়ারের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রুদ্ধদার মতবিনিময় করেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মির্জা আাব্বাস এবং অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান। এ সময় বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি বিলকিস জাহান শিরিন, দুই সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান এবং মাহবুবুল হক নান্নু সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    সাদিক এবং সরোয়ার ছাড়াও জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ওবাইদুর রহমান মাহবুব, কমিউনিস্ট পার্টির অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ, বাসদের ডা. মনিষা চক্রবর্তী এবং জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) মেয়র প্রার্থী বশির আহম্মেদ ঝুনু নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

  • বরিশাল যুবদলের শতাধিক নেতাকর্মী মহানগর আওয়ামীলীগে যোগদান

    বরিশাল যুবদলের শতাধিক নেতাকর্মী মহানগর আওয়ামীলীগে যোগদান

    বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান মামুন মোল্লা ও যুবদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান শোয়েব এর নেতৃত্বে শতাধিক নেতা কর্মী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন।

    নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মঙ্গলবার বিকালে ওয়ার্ডে নৌকা মার্কার সমর্থনে উঠান বৈঠক শেষে বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর হাতে ফুলেল তোড়া উপহার দিয়ে যুবদলের নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগে যোগদান করেন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রম, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু, এ্যাডভোকেট আফজালুল করীম প্রমুখ।

  • নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নিজ ওয়ার্ডে ইভিএম চালুর দাবী মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ’র

    নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নিজ ওয়ার্ডে ইভিএম চালুর দাবী মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ’র

    আসন্ন ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে ইভিএম চালুর দাবী জানিয়ে আবেদন করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনিত মেয়র প্রার্থী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তার নিজ ওয়ার্ড ১৯ নং এর দুটি কেন্দ্র জগদিস স্বরস্বতী গার্লস স্কুল ও সরকারী বরিশাল কলেজে ইভিএম চালুর দাবী জানান তিনি। বরিশাল নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার বরাবরে সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে আদ্য বিকেল সাড়ে ৪ টায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলালের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন পত্র জমা দেয়া হয়। আবেদনের ব্যাপারে সাদিক আবদুল্লাহ জানান আসন্ন বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবেনা বলে মিথ্যাচার করে আসছেন।

    বিগত দিনে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী পদমর্যাদা, বরিশাল সিটি মেয়র ও হুইপ থাকা কালীন সময়ে সরোয়ারসহ বিএনপি সমর্থিত মেয়রদের কোন উল্লেখ যোগ্য উন্নয়ন বরিশালবাসীর চোখে না পরায় বর্তমানে তারা অনেকটা জন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। এ কারনেই জনবিচ্ছিন্ন এ নেতা নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবেনা বলে জনগনকে ভুল ও মিথ্যাচার করে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন । কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিশ্বাস করেন। প্রধানমন্ত্রী জনগনের রায়কেই সর্বোচ্চ বলে বিবেচনা করেন। বরিশালের মানুষের ভালবাসায় তাদের পাশে থেকে নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়াই আমার প্রধান কাজ। এ কারনেই বরিশাল সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি আমার বাসার কাছের নিজ ওয়ার্ডের দুটি ভোট কেন্দ্র ইভিএম এর আওতায় আনার দাবী জানিয়েছি। আমি জনগনের ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হয়ে বরিশালের মানুষের পাশে থেকে বরিশালকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

  • বরিশালে নির্বাচিত তিন মেয়রের বাজেট : এগিয়ে হিরন,পিছিয়ে সরোয়ার

    বরিশালে নির্বাচিত তিন মেয়রের বাজেট : এগিয়ে হিরন,পিছিয়ে সরোয়ার

    ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে সর্বমোট ১৫টি বাজেট ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে পৃথকভাবে চারটি করে আটটি বাজেট ঘোষণা করেন বিএনপি সমর্থিত নির্বাচিত দুই মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার ও আহসান হাবিব কামাল। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র শওকত হোসেন হিরন মাত্র চারটি বাজেট ঘোষণা করেন। বাকি তিনটির মধ্যে দুইটি বাজেট ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র বিএনপি নেতা আওলাদ হোসেন দিলু ও একটি আলতাফ মাহমুদ সিকদার।
    এসব বাজেট পর্যলোচনা করে দেখা গেছে, বরিশাল সিটির নগর পিতা হিসেবে বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার তার মেয়াদে সবমিলিয়ে বাজেটের শতকরা ২৪.২৬% বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। অপরদিকে দ্বিতীয় মেয়র শওকত হোসেন হিরন তার মেয়াদে বাজেটের শতকরা ৪৩.০১%। তৃতীয় মেয়র আহসান হাবিব কামাল তার বাজেটের শতকরা ৩৭.৭১% বাস্তবায়ন করেছেন।
    সূত্রমতে, ভোটে নির্বাচিত এ সিটির প্রথম মেয়র বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ার তার প্রথম (২০০৩-২০০৪) বাজেট পেশ করেন ২০০৩ সালের ৭ জুলাই। বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওই বাজেটে ২শ’ ৩৩ কোটি ৩ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেটসহ ২০০২-০৩ অর্থবছরের সংশোধনী বাজেট আকারে মজিবর রহমান সরোয়ার প্রায় ২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। প্রথম বাজেটে তিনি (সরোয়ার) বলেন, নগরবাসীকে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বিশাল আকারের প্রস্তাবিত বাজেটের বছর শেষে বাস্তবায়ন করা হয় ২৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যার শতকরা হার ছিলো ১২.৫৮%। ২০০৪ সালের ১২ জুলাই দ্বিতীয় বারের মতো বাজেট নিয়ে হাজির হন বিএনপির মেয়র সরোয়ার। ওইবছর ২শ’ ২১ কোটি ৭৪ লাখ ১ হাজার ৫৭২ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। তিনবারের সংসদ ও একবার হুইপসহ বহুবার বিদেশ ভ্রমণকরা অভিজ্ঞ সরোয়ার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দুই বছরের মধ্যে অনেকটা অস্বস্থিতে পরেন। প্রথম বাজেট বক্তব্যের শুরুতে অনেক সাহস ও আশার বাণী শুনালেও দ্বিতীয় বাজেটের শুরুতে সরোয়ার বলেন, সিটি কর্পোরেশনে প্রয়োজনের তুলনায় আয় অপ্রতুল, কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় দ্বারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও অফিস ব্যায় মিটানোর পর সু-বিশাল এলাকার উন্নয়ন কাজ করা খুবই কষ্টের।
    এছাড়া প্রথম বাজেটে দেয়া নানা প্রতিশ্রুতি বেমালুন ভুলে গিয়ে ফের নগরবাসীকে আশার বাণী শোনান সরোয়ার। বছর শেষে ঘোষিত বাজেটের বাস্তবায়িত হয় প্রায় ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মাত্র। বাস্তবায়নের হার শতকরা ১৬.৯৪%।
    তৃতীয় বারের মতো সিটি কর্পোরেশনে ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার ৭২২ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন মজিবর রহমান সরোয়ার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা করা হয় ২০০৫ সালের ২০ জুলাই। প্রথম ও দ্বিতীয় বাজেটের অনেকগুলো প্রতিশ্রুতির মধ্যে তৃতীয় মেয়াদে শুধুমাত্র বরিশাল অডিটিরিয়াম ভবন সংস্কার করা হয়। বাজেট বক্তৃতায় সরোয়ারের প্রথম ও দ্বিতীয় বাজেটের প্রতিশ্রুতিগুলো পুনরায় উল্লেখ করে বাস্তবায়নে পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়। এসব পরিকল্পনার পাশাপাশি লিখিত বক্তব্যের প্রায় ছয় পাতা জুড়ে নগরীর উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ ও আশ্বাসের কথা ফের উল্লেখ করেন সরোয়ার। এসব প্রকল্পের নামের শুরুতে লেখা হয়েছিলো-‘হাতে নেয়া হয়েছে, গৃহীত হয়েছে, খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হবে, কাজ চলছে, অচিরেই শুরু হবে, প্রকল্প নেয়া হয়েছে, সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে’। বছর শেষে তার বাজেট বাস্তবায়িত হয় ৪৮ কোটি ১০ লাখ টাকা মাত্র। বাস্তবায়নের হার ছিল ১১৪.৬০%। ২০০৬ সালের ৩১ জুলাই মেয়র হিসেবে চতুর্থ বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সরোয়ার। ২০০৬-০৭ অর্থবছরের ৩৩৩ কোটি ৪৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৭৫ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হলেও তার শেষ বাজেট বক্তব্যে বিগতদিনে নানা প্রতিশ্রুতি থেকে নিজেকে দায় মুক্তির চেষ্ঠা করেন মজিবর রহমান সরোয়ার। বছর শেষে বাস্তবায়িত হয় মাত্র ১৬৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার শতকরা ৪৮.৯০%।
    মজিবর রহমান সরোয়ারের সবকটি বাজেটে নগরীর সড়ক-ড্রেন ব্যাবস্থাপনার উন্নয়নের কথা থাকলেও ২০০৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাজেট বক্তৃতাকালে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আওলাদ হোসেন দিলু’র মুখে উঠে আসে ওইসব সড়ক ও ড্রেনের বেহাল অবস্থার কথা। এরপর দিল দ্বিতীয়বারের মতো ২০০৮ সালের ১০ জুলাই বাজেট ঘোষণা করেন।
    পরে নির্বাচিত হয়ে আসেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র শওকত হেসেন হিরন। ২০০৯ সালের ১০ জুলাই আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র শওকত হোসেন হিরন ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৭২ কোটি ৭৭ লাখ ৭৫ হাজার ৯৭৯ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। বছর শেষে বাস্তবায়িত হয় প্রায় ১০১ কোটি ২১ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার ৩৭.১০%। দ্বিতীয়বারের মত ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ২০১০-১১ অর্থবছরের জন্য ১৯৭ কোটি ৭২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৮৪ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন শওকত হোসেন হিরন। প্রথম বাজেটে প্রতিশ্রুতির মধ্যে হিরন ১৯টি প্রকল্পের অগ্রগতির সার্বিক বিষয় তুলে ধরে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। বছর শেষে বাস্তবায়িত হয় ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার ৫৩.৩৯%।
    তৃতীয়বারের মত ২০১১ সালের ১৪ জুলাই বাজেট নিয়ে হাজির হন শওকত হোসেন হিরন। ২০১১-১২ অর্থবছরেন জন্য ২৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯২ হাজার ৪১৮ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট বক্তব্যে উঠে আসে আধুনিক সুবিধাসম্বলিত অডিটরিয়াম, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, পাইপলাইন নির্মান, হরিজনদের উন্নত বাসস্থান নির্মান, বিভিন্ন মার্কেট, বিবির পুকুরপাড় দখল মুক্ত করে সৌন্দর্য বর্ধন করে সেখানে ওয়াইফাই জোন নির্মান, নগরীরর বিভিন্নস্থানে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মান, শিশু পার্ক, সড়কে সৌন্দর্যবৃদ্ধিসহ নগরীতে বেশকিছু উল্লেযোগ্য উন্নয়ন কার্যক্রমের বড় ধরনের অগ্রগতির কথা। বছর শেষে বাস্তবায়িত হয় প্রায় ১১১ কোটি ৪৪ লাখ। বাস্তবায়নের শতকরা হার হিসেবে যা ছিল ৪৩.৮৮%। এখন পর্যন্ত এটাই বিসিসির তিন মেয়রের মধ্যে সেরা বাজেট বাস্তবায়ন।
    ২০১২ সালের ৩০ জুন চতুর্থ ও শেষ বাজেট ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হিরন। ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ৩২২ কোটি ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ৯৯২ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট বক্তব্যে তিনি নগরীর বিভিন্নস্থানে আশানুরূপ উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া নগরীর রাস্তা-ঘাট উন্নতি, ড্রেনেজ ব্যাবস্থা, ফুটপাত নির্মান, মার্কেট নির্মান, খাল উদ্ধারে কার্যক্রমসহ একটি আধুনিক নগরী বাস্তবায়নে নানা ধরনের উন্নয়ন কর্মকান্ড শেষ ও চলামানের কথা উল্লেখ করে আরও বিশদ পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলেন। বছর শেষে বাজেট বাস্তবায়িত হয় প্রায় ২২১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার শতকরা হিসেবে ছিল ৩৭.৬৬%। পশাপাশি তার বহুমুখী নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে একটি বাসযোগ্য আধুনিক মডেল শহর রূপান্তরে দ্বাড় প্রান্তে পৌছেন আওয়ামী লীগের মেয়র শওকত হোসেন হিরন।
    পরে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন। কারণ এ বছর বিএনপির মেয়র আহসান হাবিব কামাল নির্বাচিত হলেও শপথ নিতে দেরি হয়েছিলো। তবে ওই বাজেট বাস্তবায়ন করেন বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামাল। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৩৮১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন হয় ১৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার ৩৭.৩৩%।
    সূত্রমতে, বরিশাল সিটির নগর পিতা হিসেবে বিএনপি সমর্থিত তৃতীয় পরিষদের নির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামাল ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটে ১৮২ কোটি টাকার সর্বোচ্চ উন্নয়ন প্রকল্প কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন করেন। এরপরেও তার মেয়াদে বকেয়া-বেতনের দাবীতে দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশন অচল থাকাসহ নগরীর বেহাল সড়ক, জলাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত আলোসহ বেশিরভাগ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন নগরবাসী।
    ২০১৪ সালের ২২ জুলাই প্রথমবারের মত বাজেট নিয়ে আসেন বিএনপির মেয়র আহসান হাবিব কামাল। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ওই বাজেটে ৪০৭ কোটি ৮৮ লাখ ৯৪ হাজার ৯৭৫ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট বক্তব্যে নিজের কিছু উন্নয়ন কাজ করার কথা উল্লেখ করে আরও কিছু উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দেন কামাল। বছর শেষে ঘোষিত বাজেটের বাস্তবায়িত হয় ১৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার শতকরা হিসেবে ছিল ৩৬.১৫%।
    ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই ৪২৩ কোটি ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫৬ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র কামাল। বছর শেষে বাজেটের বাস্তবায়িত অর্থ ব্যয় হয় ১৮২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার শতকরা হিসেবে ৪৩.১৮%।
    তৃতীয়বারের মত ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট বাজেটে বিএনপি দলীয় মেয়র আহসান হাবিব কামাল ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৪৪৪ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৫ টাকা। বাজেট বক্তব্যে উন্নয়নে গ্রীণ সিটি পার্ক নির্মনের কথা উল্লেখ করেন। তবে তা বছর ঘুরতেই অচল হয়ে পরে। বছর শেষে বাস্তবায়িত হয় ১৫১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার শতকরা হিসেবে ৩৪.১৭%।
    ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট চতুর্থবারের মত বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র কামাল। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ ওই বাজেটে ৪০৬ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার ২৮ টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত বিএনপি দলীয় মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের মত তিনিও বেমালুন ভুলে যান প্রথমসহ পর পর কয়েকটি বাজেটে দেয়া নানা প্রতিশ্রুতির কথা। তবে পরবর্তী বাজেট ঘোষণা না দেয়ার কারণে চলতি অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়িত ও শতকরা হিসেব পাওয়া যায়নি।
    সাদিক আব্দুল্লাহর গণসংযোগ ॥ আষাঢ়ের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর কাঠফাঁটা রৌদ্র মাথায় উপেক্ষা করে বিরামহীনভাবে নগরীর বর্ধিত এলাকায় পানি পেরিয়ে ভোটারদের সাথে গণসংযোগ করেছেন বরিশালে প্রথমবারের মতো সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা তরুণ নেতা আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি তার প্রচারনায় বিগতদিনের নির্বাচনের প্রার্থীদের ছাড়িয়ে নিজেকে এগিয়ে রেখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বরিশালের মানুষ উন্নয়নের বিশ্বাসী। অতীতে সিটি কর্পোরেশনের আওয়ামী লীগের মেয়র শওকত হোসেন হিরনের ন্যায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নগরবাসী ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।
    বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে কেন্দ্রীয় নেতা ॥ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সমর্থনে মঙ্গলবার লেবার পার্টির আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন কমিশন বরিশালে যা বলে গেছেন আমরা তাদেরকে বিশ্বাস করে বলছি, আমরাও চাই নির্বাচনে তাদের কথার বাস্তবায়ন হোক। বরিশালে সুষ্ট ভোট হলে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বিজয়ী হবেন। লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বরিশাল হচ্ছে বিএনপির ঘাঁটি। এখানে কোন ধরনের ডিজিটাল কারচুপির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষনিক তার প্রতিবাদ করা হবে। সভা শেষে নজরুল ইসলাম খান জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে মজিবর রহমান সরোয়ারের সমর্থনে নগরীতে গণসংযোগ করেন।
    বরিশালে কোন কেন্দ্র বন্ধ করতে চাইনা ॥ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, প্রার্থীদের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের আশ্বস্ত করবেন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। ১৬ জুলাই বিকেলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে মেয়র, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের নাছিমুজ্জামান মেহেদী মিলানায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীদেরও নির্বাচনী বিধিমালা মেনে চলতে হবে। যেকোন সমস্যা দেখা দিলে নির্বাচন কমিশন কিংবা প্রশাসনকে জানান। আর যে সকল অভিযোগ আপনারা ইতোমধ্যে লিখিতভাবে আমাদের জানিয়েছেন তার প্রত্যেকটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং হবে। নির্বাচন কমিশনার বলেন, ব্যালট বাক্সের কাছে কোন অনুপ্রবেশকারীর যাওয়ার সুযোগ নেই। ব্যালট পেপার ছিনতাই, জোর করে ব্যালটে সিল দেয়া এধরনের কোন কর্মকান্ড বরিশালে হতে দেয়া হবেনা। আমরা চাইনা বরিশালে কোন কেন্দ্র বন্ধ করতে। বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন খান, সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী সাতজন মেয়র প্রার্থীসহ ৩৫জন সংরক্ষিত ও ৯৪জন সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী।
    ২৭ জুলাই নগরী ছাড়তে হবে বহিরাগতদের ॥ আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ২৭ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার আগে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ভোটার ব্যতিত অন্যকোনো এলাকার বাসিন্দা কর্পোরেশনের সীমানার ভেতরে অবস্থান করতে পারবেন না। বহিরাগতদের ভোট এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা ইতোমধ্যে প্রচার করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
    রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বগিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হলেও যারা কর্মজীবী তাদের এলাকায় অবস্থান করতে কোনো অসুবিধা হবেনা। তবে বাইরে চলাফেরার জন্য প্রয়োজন হলে তাদের কাজের প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। একই সাথে জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও এ নির্দেশনা শিথিলযোগ্য হবে। ইসির নির্দেশনা ৩১ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ বহিরাগতরা ১ আগস্ট থেকে আবার নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবেন। এছাড়া ভোটেরদিন ৩০ জুলাই (সোমবার) সাধারণ ছুটি থাকবে। ভোটগ্রহণ নির্বিঘেœ এবং শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে মোটরযান বন্ধের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রচারের জন্যও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মটরসাইকেল চলাচল ২৮ জুলাই মধ্যরাত থেকে ৩১ জুলাই সকাল ছয়টা পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। অন্যান্য মটরযান বন্ধ থাকবে ২৯ জুলাই মধ্যরাত থেকে ৩০ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত। সূত্রমতে, ইসি কর্তৃক নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ ছাড়াও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। আর ভোটগ্রহণ শুরুর আধাঘণ্টা পূর্বে অবশ্যই প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্টকে খালি ব্যালট বাক্স দেখিয়ে সিল করার পর ভোটগ্রহণ শুরু করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন : ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

    বরিশাল সিটি নির্বাচন : ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

    দেশের বারোটি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একমাত্র রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন। যদিও প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রংপুর সিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী অন্য দুই দলের প্রার্থী চেয়ে অনেকে এগিয়ে।

    রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বাদে, দেশে অন্য কয়টি সিটি নির্বাচনের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মাঝেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। এটা অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এবার বোধহয় পরিচিত এমন দৃশের অবতারণা অন্ততপক্ষে বরিশাল সিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বলা যাচ্ছে না। কারণ, ইতোমধ্যেই বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মূল লড়াইয়ে চলে এসেছেন। ফলে বরিশালের নগর পিতা হওয়ার লড়াইয়ে আছেন তিন প্রার্থী।

    আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডের ১২৩টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য মেয়র ও কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে বেঁছে নেবেন।

    সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বাদে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ (নৌকা), বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস (লাঙ্গল), বাসদের মনীষা চক্রবর্তী (মই) ও সিপিবির একে আজাদ (কাস্তে)।

    নির্বাচনে ছয় মেয়র প্রার্থী থাকলেও মূল আলোচনায় তিন জন। আওয়ামী লীগের তরুণ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব।

    আওয়ামী লীগের তরুণ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে। ২০১৪ সালের এপ্রিলে আকস্মিক মারা যান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র শওকত হোসেন (হিরন)। এরপরই সাদিক বরিশালের রাজনীতিতে জায়গা করে নেন। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

    মজিবর রহমান সরোয়ার। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র। এ ছাড়া সাবেক হুইপ ও সংসদ সদস্য। বর্তমানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর সভাপতি।

    ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বরিশালে বিএনপির প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল আওয়ামী লীগের প্রার্থী মরহুম শওকত হোসেন হিরণকে হারিয়েছিলেন ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে। এর আগে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মরহুম শওকত হোসেন হিরণ মেয়র নির্বাচিত হন তখন দল সমর্থিত এবং বিদ্রোহী মিলিয়ে বিএনপির প্রার্থী ছিল ৩ জন। তারপরও জয়ী হতে বেগ পেতে হয় হিরণকে। মাত্র ৪-৫শ’ ভোটের ব্যবধানে জেতেন তিনি। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনে এখানে সবসময় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জেতে বিএনপি। সঙ্গত কারণেই বরিশালতে বিএনপির ঘাঁটি বলা হয়।

    উপরোক্ত সমীকরণে বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে বলে মনে করা হলেও এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বরিশালে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রার্থী দিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিএনপির জন্য এটা চরম ঝুঁকি হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। তবে কিছুটা টেনশনে আওয়ামী লীগ শিবিরও। সব মিলিয়ে ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে তা নিয়ে ভাবনায় বরিশালের জনগণ।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব প্রচার-প্রচারণায়ও বেশ এগিয়ে। বিগত ২-৩ বছরে দেশে যত নির্বাচন হয়েছে তার প্রায় সব ক’টিতেই অংশ নিয়েছে দলটি। তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যাও ঈর্ষণীয়।

     

    এখন পর্যন্ত দেশে যত সিটি নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে রংপুর এবং নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে ধরা হয় মোটামুটি কলুষমুক্ত। এই দুটি সিটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা ভোট পেয়েছে যথাক্রমে ২৪ হাজার ৬ এবং ১৩ হাজার ৯১৪ ভোট।

    এছাড়া ঢাকা উত্তরে ১৮ হাজার ৫০, দক্ষিণে ১৪ হাজার ৭৮৪, খুলনায় ১৪ হাজার ৩৬৩ এবং গাজীপুরে ২৬ হাজার ৩৮১ ভোট পায় দলটির প্রার্থীরা। এমনকি ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে প্রায় ২৯ হাজার ভোট পায় এই দলের প্রার্থী সৈয়দ মুফতি ফয়জুল করিম।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বরিশালে তাদের ৪০-৪৫ হাজার ভোট ব্যাংকের কথা বলছেন। তাদের দাবী মতে হাতপাখার প্রার্থী ওই পরিমাণ ভোট পেলে নির্বাচনে নতুন রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ মূল দুই দলের বাইরে চলে যাবে নগর পিতার চেয়ার। তাদের যুক্তি মোট ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার। তন্মধ্যে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭৫১ ভোট, আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হোসেন হিরণ পান ৬৬ হাজার ৭৪১ ভোট। এমতাবস্থায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ৪০-৪৫ হাজার ভোট পেলে সব হিসাব উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান ২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি বরিশালের সবচেয়ে বড় কওমি মাদরাসা জামিয়া মাহমুদিয়ার মহাপরিচালক। সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গিয়ে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। হেফাজত আমিরের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে।

    তাছাড়া বরিশাল পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নিজ এলাকা। চরমোনাইর পীর মুফতি রেজাউল করিম, মুফতি ফয়জুল করিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন তাদের প্রার্থীদের পক্ষে। আর এভাবে নানা প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মূল প্রতিযোগী হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছেন।

    ফলে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দু’দলের দ্বৈরথের বদলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রূপ নিয়েছে ত্রিমুখী লড়াইয়ে।

  • মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহর উঠান বৈঠক

    মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহর উঠান বৈঠক

    ১১নং ওয়ার্ড এ বিসিসি মেয়র নির্বাচনে নৌকা,মার্কার সমর্থনে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত সভায়,,,,,জন সাধারন এর উদ্দেশ্যে” বক্তৃতা প্রদান করেন বিসিসি নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ  “নৌকা মার্কার”মেয়রপ্রার্থী বরিশালের সকল জনগনের ভালোবাসায় উজ্জীবিত মহানগর আওয়ামীলীগ এর যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক”যুবরত্ন”সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ এর তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক  আফজাল হোসেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃগোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ এ,কে এম জাহাঙ্গীর, উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মাহাবুব উদ্দিন আহম্মদ,(বীর বিক্রম),  মহানগর আওয়ামীলীগ এর যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর  গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ বরিশাল মহানগর সভাপতি মুহা: পলাশ চৌধুরি সহ ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সকল নৌকার কর্মীরা।

  • বিএনপির গলার কাঁটা জামায়াত

    বিএনপির গলার কাঁটা জামায়াত

    ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী এখন বিএনপির গলার কাঁটা। দেশের ভিতরে ও বাইরে এ দলটিকে নিয়ে ব্যাপক চাপে রয়েছে বিএনপি। তাদের দ্বন্দ্ব নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার আগে গত ২৭ জুন ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে জামায়াতের প্রতিনিধিও ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জোটগতভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে সবাই সমর্থন দেবে। জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাহারের অনুরোধও জানানো হয় বৈঠকে।

    জানা যায়, ওই বৈঠকে কিছু না বললেও পরবর্তীতে বেঁকে বসে জামায়াত। দলীয় প্রার্থী সিলেট জেলা আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি দলটি। এ নিয়ে সিলেট সিটি ভোটে অস্বস্তিতে পড়েছে বিএনপি। এ ছাড়া বিএনপির আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিমও মাঠে। এই দুই প্রার্থীর জাঁতাকলে রয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র আরিফুল হক। তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ে তেমন কোনো বেগ পেতে হবে না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    এ প্রসঙ্গে জোটের শরিক দল ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, জাতীয় স্বার্থে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করা উচিত ছিল। এটা তারা ভুল করেছে। যেখানে বিএনপিই বিশাল ভোটব্যাংক নিয়ে এই সরকারের আমলে প্রার্থী দিয়ে টিকে থাকতে পারছে না, সেখানে জামায়াতের তো প্রশ্নই আসে না। সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০-দলীয় জোটের বৈঠকের এক পর্যায়ে জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল হালিম জানান, সিলেটে  মেয়র প্রার্থী দেওয়ার দাবি বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়েছি।  দেখি তারা কী করেন। এ সময় তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জোটের অন্য শরিক দলগুলো। এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিন সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীই জোটের প্রার্থী। এর বাইরে প্রার্থী করা হলে জোটের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে। যার কারণে ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ সময় তিনি জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের প্রতি জোটের স্বার্থে নিজেদের প্রার্থী না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। কিছুক্ষণ পরই দলের জরুরি বৈঠকের কথা বলে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল হালিম। এরপর তারা দলীয় প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেন। এদিকে সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন,  শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন। তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো সুযোগ নেই। এতে  জোটেরও ক্ষতি হবে না। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও ৫টি আসন দুই জোটের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তখনো সমস্যা হয়নি। এটি পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়। আর মূলত  জোট হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের জন্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নয়। জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনেও পাশে নেই জামায়াত। জোটের অন্য শরিকদের সব কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেলেও জামায়াতের প্রতিনিধিরা ছিলেন দায়সারা গোছের। শুধু তাই নয়, এই সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জোট বা বিএনপির যে কোনো কর্মসূচিতেই জামায়াতকে গা-ছাড়া ভাব দেখা গেছে। বিএনপি নেতারা অবশ্য বলছেন, বিগত চার বছর ধরে জামায়াত সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের  আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অনায়াসে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। এটাকে ভালো চোখে দেখছে না জোটের অন্য শরিক দলগুলো। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক থাকুক—এটা ভারতসহ পশ্চিমা  দেশগুলোও চায় না। কারণ, ভারতের ধারণা; এটা পাকিস্তানপন্থি দল। সম্প্রতি ভারত সফরকালে বিএনপি  নেতাদের সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ে কর্তাব্যক্তিদের সফরেও জামায়াতের প্রসঙ্গটি উঠে আসে। দিল্লি থেকে জানানো হয়, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন চাইলে জামায়াতকে ছাড়তে হবে। তবে বিএনপি দিল্লিকে জানিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কৌশলগত, আদর্শিক নয়। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের প্রতিক্রিয়াশীল অংশের মতামতে জামায়াতকে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠন করে বিএনপি। ওই সময়েই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া  নেতারা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ওই নির্বাচনে জয়লাভ করে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও  সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদকে মন্ত্রী বানানো হয়। এ নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিএনপিতে এখন বলাবলি হচ্ছে, দেশে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জামায়াত-ই বড় বাধা। তারা যুদ্ধাপরাধীদের দল। তাই তাদের সঙ্গে থেকে কেউ ঐক্য করতে চাইছে না।

  • প্রচারণায় বাঁধা দেয়া হচ্ছে সরোয়ারের অভিযোগ : ভিত্তিহীণ বললেন সাদিক

    প্রচারণায় বাঁধা দেয়া হচ্ছে সরোয়ারের অভিযোগ : ভিত্তিহীণ বললেন সাদিক

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীণ দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে বাঁধা এবং হুমকি দিচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানো বিএনপি নেতাকর্মীদের। বুধবার বরিশাল নগরীর সদর রোডে গনসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
    এসময় তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে টুকিটাকি সমস্যা হবে। এনিয়ে আমরা মাথা ঘামাচ্ছি না। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকা রয়েছে। বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার সদর রোডে গনসংযোগ শেষে পোর্ট রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন।
    এদিকে নগরীর বর্ধিতাংশ রসূলপুরে গনসংযোগকালে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে এখন পর্যন্ত কিছু হয়নি। তাছাড়া নির্বাচনে কিছু সমস্যা হবেই। সেই সমস্যাগুলো অতিক্রম করে আমরা নির্বাচনে জয়ী হব।
    নগরীর মল্লিক রোডে গনসংযোগ কালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ জানান, বিএনপি প্রার্থী যে অভিযোগ করেছেন সেটা ভিত্তিহীণ। এরকম কোনো ঘটনা ঘটলে সেটা সবার আগে সাংবাদিকরাই আগে জানবে। সেরকম যদি কোনো খবর পেয়ে থাকেন তাহলে সেটার প্রমান দিতে অনুরোধ করা হয়। তিনি জানান, নগরীতে বেকারত্ব নিরসনের জন্য আমি কাজ করব। এটাই আমার প্রধান উদ্দেশ্যে। তাছাড়া তরুণদের জন্য ডিজিটালভাবে নানা ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    বরিশাল সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে যাওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মাওলানা ওয়ায়দুর রহমান মাহবুব নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার (১০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে ইশতেহারের ১৭টি বিষয় তুলে ধরেন।

    এছাড়া সিটি নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে প্রার্থী মাওলানা ওয়ায়দুর রহমান মাহবুব বলেন তাদের দলের শীর্ষ নেতারা খুলনা ও গাজীপুরে সাম্প্রতিকালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন দেখে হতাশ হয়েছেন। ফলে বরিশাল সিটিতেও গভীর শঙ্কা কাজ করছে। কিন্তু ভোটের দিন কোন অনিয়ম হলে বিষয়টির জোর প্রতিবাদ জানানো হবে।

    বরিশাল সিটি ইসলামী আন্দোলনের অনেক ভোট রয়েছে দাবি করে আরও বলেন- শান্তিপূর্ণ ভোট হলে এই সিটিতে তাদের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম ও ৫ নম্বর চরমোনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুফতি সৈয়দ মো. আবুল খায়ের প্রমুখ।

    এই প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহারগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো

    ১. নগরীতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
    ২. মৌলিক অধিকারবঞ্চিত সকল নাগরিকের মাঝে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
    ৩. নগরীকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর ও মনোরম রাখার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
    ৪. নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষে সব ধরনের কলকারখানা স্থাপনের জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করা।
    ৫. জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে সকল সড়ক ও লেন পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
    ৬. নগরীর সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও তা দ্রুত সমাধানের লক্ষে নগরপরিকল্পনাবিদ, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবি ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে সিটি প্লানিং টিম গঠন করা ও তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া এবং বাজেট প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদগণের মতামত গ্রহণ করা।
    ৭. সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নবীণ-প্রবীণদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠন করা।
    ৮. সিটি কর্পোরেশনের সকল কার্যক্রম আধুনিকায়নের লক্ষে যথাযথ প্রযুক্তি ব্যবহার করা। (যাতে নগরবাসী প্রয়োজনীয় সংবাদ, পেপার্স সময়মত পেয়ে নগর ভবনের সাথে সংশ্লিষ্ট লেনদেন আদান-প্রদান করতে পারে)।
    ৯. দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষে এ কাজের উৎস খুঁজে বের করা, গডফাদারদের চিহ্নিত করা, অতপর ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, কাউন্সিলর ও প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথ টিম গঠন করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভুতি ও বিবেকবোধ জাগ্রত করা ও অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমনের চেষ্টা করা।
    ১০. বিদ্যুতের সুব্যবস্থার লক্ষে দৃষ্টিনন্দন সাশ্রয়ী সড়কবাতি স্থাপন করা ও নগরীর অন্ধকার দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
    ১১. সংখ্যালঘু ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নে প্রশাসনের সহযোগিতায় সকল প্রকার নাগরিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। সকল ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ প্রদান করা। অসহায় এবং আশ্রয়হীন পথশিশু ও মহিলাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা। বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।

    ১২. ভোলা থেকে বরিশাল নগরীতে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে নগরবাসীকে গ্যাস ব্যবহারের সুবিধা প্রদানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
    ১৩. ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য মনিটরিং সেল শক্তিশালী করা, প্রয়োজনে নতুন টিম গঠন ও এর আধুনিকায়ন করা।
    ১৪. নিরাপদ সড়ক গঠন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার, ফুটপাতবিহীন রাস্তার ফুটপাত তৈরি করা, বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোড়াখুড়ি বন্ধ করা ও যানজট নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    ১৫. পয়:নিষ্কাষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নিয়মিত ড্রেন পরিস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও ২৪ ঘন্টা সুপেয় পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    ১৬. নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নাগরিকদের জন্য অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স স্থাপন করা এবং তাদের বিভিন্নমুখী অভিযোগ ও পরামর্শের ভিত্তিতে নগরীকে সার্বিকভাবে সুন্দরকরে গড়ে তোলা।

    এছাড়া আরও একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের প্রার্থী নির্বাচিত হলে বরিশাল শহরে ইমামদের থাকার জন্য একটি ভবন তৈরি করা হবে।

  • অভিজ্ঞ প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করার সুযোগ সৌভাগ্যের ব্যাপার : সাদিক

    অভিজ্ঞ প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করার সুযোগ সৌভাগ্যের ব্যাপার : সাদিক

    আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ভোটগ্রহন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।শনিবার (০৭ ‍জুলাই) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।এসময় তিনি বিএনপির প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অভিজ্ঞ প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করার সুযোগ আমার জন্য একটি সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি (সরওয়ার) বরিশালে ৪ বার এমপি ছিলেন, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন, তার মতো একজন প্রার্থীর বিপেক্ষে আমি প্রতিদ্বন্দিতা করছি এটা সৌভাগ্যের ব্যাপার।

    তিন বলেন, সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার। তাকে আমি কাকু বলে সম্মোধন করি।তার সাথে আমাকে অনেক জায়গায় হয়তো দেখেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ্বাসের লাশের খাটের এক অংশ আমি ধরেছি অন্য অংশ তিনি ধরেছেন। সাদিক বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধেচারন করতে চাইনা, এটাও একটা পরিবর্তন বলে আমি মনে করি।অনেকেই আমার বিরুদ্ধে বলতে পারে কিন্তু আমি কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বলতে চাইনা। আমাদের রাজনৈতিক মুখপাত্ররা আছেন তারা হয়তো বলতে পারেন।

    তিনি বলেন, বিগত বছরগুলো ধরে আমি বরিশালে রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি।হয়তো কারো ভালো লেগেছে, কারো লাগেনি। মনোনয়ন পাওয়ার পরে বিগত দিনের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী বরিশালে কোন শো-ডাউন কিন্তু আমি করিনি।কারণ শো-ডাউনের কোন প্রয়োজন নেই, বিগত দিনে আমি যা করেছি তাতে বরিশালের মানুষ আমাকে চেনে, ভালোবাসে।এখানে তাদের দেখানোর কিছু নাই। আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য আপনারা শুনেছেন। আমরা কি কারনে রাজনীতি করি তা তিনি বলেছেন। আমরা মানুষের সেবার জন্য রাজনীতি করি। আমিও বারবার বলেছি আমাদের রাজনীতি মানুষের সেবার জন্য, আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই।

    বরিশালের মানুষের জন্য কি করবো তা নিয়ে আমি কোন ইশতিহার দিবো না এটা আগেই বলেছি। বরিশালের মানুষের চিন্তা-চেতনা তাদের চাওয়া-পাওয়াই আমার ইশতিহার।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিনাঞ্চলের উন্নয়ন করেছেন, করছেন। বিএনপির ঘাটি বা আওয়ামীলীগের ঘাটি বলে কোন শব্দ বা ঘটনা আছে বলে আমি মনে করিনা।যে কাজ করবে, জনগনের পাশে থাকবে মানুষ তাকে ভোট দিবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন না, তাহলে তারা আপনাকে ভোট দিবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি।বরিশালে গত ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে যে জনসভা হয়েছে, আমি শুনিনি বিগত কোন সময়ে ওইমাঠে দল ক্ষমতায় থাকায় এতো মানুষের উপস্থিতিতে আর কোন জনসভা হয়েছে। তাই এটা প্রমান হয়েছে জননেত্রী শেখহাসিনা দক্ষিনাঞ্চলের উন্নয়ন করেছেন, যা মানুষের কাজে আসছে।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সাদিক বলেন, আমি বলবো না আপনারা আমার পক্ষে লেখেন, আমি খারাপ কাজ করলে তা অবশ্যই লিখবেন। বরিশালের মানুষের স্বার্থে বরিশালের মানুষের পক্ষে যেটা ভালো হবে সেটা লিখবেন এই অনুরোধ থাকবে আপনাদের কাছে। আমার বাবা, দাদা যেভাবে মানুষের সেবা করে গেছেন, সেভাবে আমিও মানুষের সেবা করে যেতে চাই। বিগত দিনে আপনারা দেখেছেন আমি যা বলি তা করার চেষ্টা করি, ভবিষ্যতেও তাই হবে। সৌজন্য সাক্ষাত কালে আরো উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একে এম জাহাঙ্গীর  হোসেন, বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাস, সাধারন সম্পাদক বাপ্পী মজুমদার, সাবেক সভাপতি আনিচুর রহমান স্বপন, সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষসহ প্রমুখ।