Category: রাজণীতি

  • সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী ঝুনু

    সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী ঝুনু

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) মেয়র প্রার্থী বশির আহম্মেদ ঝুনু। আজ বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।

    বশির আহম্মেদ ঝুনু বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বরিশালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে তিনি নিজেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীক প্রত্যাশী ছিলেন জাপা নেতা বশির আহম্মেদ ঝুনু। কিন্তু ইকবাল হোসেন তাপসকে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী ঘোষণা করায় বশির আহম্মেদ ঝুনু বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হন। এ কারণে ঝুনুকে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সদর উপজেলা শাখার সভাপতি পদ থেকে বহিস্কার করে কেন্দ্রিয় কমিটি।

    শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের নির্দেশে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী ঝুনু।

  • বরিশালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে জাতীয় পার্টির সমর্থন

    বরিশালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে জাতীয় পার্টির সমর্থন

    বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটি। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের এই সিদ্ধান্তের কথা  নিশ্চিত করেছেন মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার। তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

    কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টি বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন দিয়েছেন বলে বুধবার দিনভর নগরীর বাতাসে খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তারপরও আজ দিনভর বৃষ্টি উপক্ষো করে নগরীতে ব্যাপক গণসংযোগ করেন ইকবাল হোসেন তাপস এবং মিসেস তাপস।

    যদিও আজ বিকেলে গণসংযোগ কালে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে তাপস বলেন, জাতীয় পার্টি বরিশালে অন্য কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি। জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তায় ঈর্শান্বিত হয়ে একটি মানুষ, একটি মহল মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তারা চক্রান্ত করছে। বরিশালের মানুষ এই চক্রান্ত প্রতিহত করবে। তিনি নির্বাচনের মাঠে আছেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার কথা জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার  বলেন, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহুম্মদ এরশাদ বরিশালের উন্নয়ন এবং আধুনিক বরিশাল নগরী গড়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রাথী সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন দিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই উন্নয়নের অন্যতম কারিগর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মন্ত্রী মর্যদার আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। তারা (হাসানাত) এই অঞ্চলের সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাদের পরিবারের অতীত এবং বর্তমান রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। তার বাবাও মন্ত্রী ছিলেন। তিনিও মন্ত্রী মর্যদার। তার ছেলেও (সাদিক) পরিবারের ধারা পেয়েছে। বরিশালের উন্নয়নে বর্তমান সরকার এবং এই (হাসানাত) পরিবারের বিকল্প নেই। তাই বরিশালের উন্নয়নের জন্যই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বরিশাল সিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচিত হলে জাতীয় পার্টির এই অবদানও মনে রাখতে বলে প্রত্যাশা করেন জাপা মহাসচিব।

    পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি একেএম মরতুজা আবেদীন সহ নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে শুরু করেছেন বলেও জানান এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার।

    বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি একেএম মরতুজা আবেদীন পার্টির মহাসচিবের এই নির্দেশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহ’র পক্ষে কাজ শুরু করার কথা নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস আজ রাতে  বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি সমর্থনের সিদ্ধান্ত দিলেই হবে না। সমর্থন দিতে হবে বরিশালের নেতাকর্মীদের। বরিশালে জাতীয় পার্টি বলতে তাদের (তাপস) বোঝায়। তারা এখনও নির্বাচনের মাঠে আছেন এবং শেষ পর্যন্ত থাকবেন বলে জানান।

    ইকবাল হোসেন তাপসের নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণার প্রেক্ষিতে জাপার মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, তাকে (তাপস) ১২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলে প্রত্যাশা তার। তারপরও যদি কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন জাপা মহাসচিব।

    পার্টির মহাসচিবের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারীর প্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, তিনি নির্বাচনের মাঠে আছেন এবং শেষ পর্যন্ত থাকবেন। তারা যে ব্যবস্থা নেয়ার, সেটা নিতে পারেন।

  • সাদিক আবদুল্লাহকে এখনো সমর্থন দেয়নি জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী তাপস

    সাদিক আবদুল্লাহকে এখনো সমর্থন দেয়নি জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী তাপস

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাদিক আবদুল্লাহকে সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় পার্টি। তবে এই খবরকে উড়িয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস। তিনি বলেন, সারাদিন ব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি। দলীয় কোন সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত আমাদেরকে অবহিত করা হয়নি।

    এ ধরনের খবর ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন। জানা গেছে, বুধবার সকালে এক বিবৃতিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বলেন, বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন স্বার্থে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে।

    একটি আধুনিক বরিশাল সিটি কর্পোরেশন বিনির্মাণ এবং দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের এই সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই। এর আগে বুধবার সকালে দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতির মাধ্যমে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী সাদিক আব্দুল্লাহকে সমর্থন দেয় জাতীয় পার্টি। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সকালে এ সমর্থন ঘোষণা করেন বলে সাংবাদিকদের জানান তার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী।

    এদিকে আজ বরিশাল নগরীর রিফুজি কলোনী, বাংলা বাজার, নিউ সার্কুলার রোডসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, আওয়ামীলীগকে সমর্থনের বিষয়টি সত্য নয়। কেননা আমরা এখনও দল থেকে কোন সিদ্ধান্ত পাইনি।

  • জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিন : সিভিল সার্ভিস সদস্যদের রাষ্ট্রপতি

    জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিন : সিভিল সার্ভিস সদস্যদের রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের জনস্বার্থকে সবসময় প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।

    সোমবার (২৩ জুলাই) জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে রোববার এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ জন্যই সিভিল সার্ভিসের প্রত্যেক সদস্যকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবসময় জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। জনপ্রশাসনকে হতে হবে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সেবা সহজ, সুলভ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।’

    রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বর্তমান সিভিল সার্ভিসে যুগের চাহিদা অনুযায়ী অনেক গুণগত পরিবর্তন এসেছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে, প্রণয়ন করা হয়েছে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল।

    তিনি আশা করেন, নাগরিকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক ও সর্বোত্তমভাবে দ্রুত সেবা প্রদানে সিভিল সার্ভেন্টদের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

    আবদুল হামিদ বলেন, জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে ‘জনপ্রশাসন পদক-২০১৮’ প্রদান একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমি এ বছর জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

  • কোটা আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগকে সতর্ক করা হয়েছে: ওবায়দুল কাদের

    কোটা আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগকে সতর্ক করা হয়েছে: ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ির অনেক অভিযোগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমন কোনো অভিযোগ যেন আর না আসে, এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

    সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। এ সময় সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ওবায়দুল কাদের।

    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে মঞ্চ থেকে নামার সময় ছাত্রলীগ নেতারা এগিয়ে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ির অনেক অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এমন কোনো অভিযোগ যেন আর না শুনি।’ ছাত্রলীগ নেতাদের এ বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

    জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অক্টোবরের যেকোনো সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নিয়েই ছোট আকারে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। এই মন্ত্রিসভায় অন্য কাউকে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি এত দিন বলেছে, (কারাবন্দী) খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। এখন এক কাঠি বাড়িয়ে বলছে, তারা নির্বাচন প্রতিহত করবে। এতে আমরা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং নাশকতার আশঙ্কা করছি। তবে আমরা জনগণকে নিয়ে এটা প্রতিহত করব।’ তিনি আরও বলেন, কারও কোনো শর্ত মেনে আগামী নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। এ নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো সংলাপেরও প্রয়োজন নেই। দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে সংলাপ করতে হবে।

    গতকাল শনিবার বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ড. এমাজউদ্দীন আহমদ এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ চারটি শর্ত পূরণ হলে আগামী নির্বাচন হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

    বিএনপিকে কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করছে। ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক দলগুলো সভা-সমাবেশ করবে। এ ব্যাপারে কেউ অনুমতি চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

    সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনের জন্য শর্ত দিয়েছে, কোনো শর্ত দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। সাংবিধানিকভাবে নিয়মকানুন মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনেও বিএনপি আসবে কি, আসবে না, সেটা দেখার বিষয় না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে বিএনপি আসবে। সেটা তো তাদেরই প্রয়োজনে আসতে হবে। নির্বাচন তো সরকারের অনুদান নয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বিএনপির অধিকার। বিএনপি নির্বাচনে না এলে কি গণতন্ত্র থেমে থাকবে? অবশ্যই না।

    সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে এই প্রথম এত বড় একটি অনুষ্ঠানে একজনই বক্তা ছিলেন, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি শুধু মানপত্রটা পাঠ করেছি। এই শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে আওয়ামী লীগ সংগঠিত, সুশৃঙ্খল, স্মার্ট এবং মডার্ন।’

    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শনিবারই করা হয়েছে। মিছিলের পাশে পরিবহন চলতে পারে কি না, সেদিকে নজর ছিল। তবে তারপরও দুই–একটি ঘটনা ঘটে থাকলে সে জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

  • বিসিসি নির্বাচন : সাত নং ওয়ার্ডের উন্নয়নের হাল ধরতে চান রফিকুল ইসলাম খোকন।

    বিসিসি নির্বাচন : সাত নং ওয়ার্ডের উন্নয়নের হাল ধরতে চান রফিকুল ইসলাম খোকন।

    শেখ সুমন :

    আসছে ৩০শে জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ( বি সি সি ) নির্বাচন। আর মাত্র নয় দিন বাকি। নয় দিন পরই দেখা যাবে কাকে নগর পিতা এবং কাদের কাউন্সিলর হিসাবে বেঁছে নিয়েছেন ত্রিশটি ওয়ার্ডের জনগন। কিন্তু জনগন যাকেই বেঁছে নিক না কেন , জনগনের কাছে নিজেদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং নিজেদের স্বপ্ন নিয়ে জনগনের দুয়ারে দুয়ারে পৌছে যাচ্ছেন প্রার্থীগন।

    নগরীর মধ্যভাগে অবস্থিত সাত নং ওয়ার্ড।এই ওয়ার্ডটি শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়া সত্বেও এই ওয়ার্ড টি বিভিন্ন ভাবে অবহেলিত। এই ওয়ার্ডটিকে ঢেলে সাজিয়ে জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন করার স্বপ্ন নিয়ে এবার কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বরিশাল ল কলেজের সাবেক ভিপি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন। যিনি বরিশালের সকলের কাছে মামা খোকন হিসেবে পরিচিত। এবারই প্রথম তিনি কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। ঠেলাগাড়ি প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ওয়ার্ডের প্রতিটি মানুষের কাছে নিজের প্রতিক নিয়ে দেখা করেছেন তিনি। ওয়ার্ডে এখন এক আলোচিত নাম এ্ডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন।

    রফিকুল ইসলাম খোকন আওয়ামী লীগ বরিশাল মহানগরীর এক অন্য তম নেতা। এছাড়াও তিনি মানুষের কাছে দানশীল ব্যাক্তি হিসাবে পরিচিত। রফিকুল ইসলাম খোকন একজন সংস্কৃতি কর্মী, ক্রিয়া প্রেমী। তিনি যুব সমাজের সাথে মিশে কাজ করতে খুব পছন্দ করেন। বিভিন্ন মসজিদ , মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন রফিকুল ইসলাম খোকন। কারো মেয়ের বিয়ে না হলে , কারো চিকিৎসার প্রয়োজন হলে , শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সহায়তার জন্য এগিয়ে যান রফিকুল ইসলাম খোকন। শুধু তাই নয় , কোথাও কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলে সেখানেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি।

    রফিকুল ইসলাম খোকন ওয়ার্ডবাসীকে তার সেবা দানের পরিকল্পনার বীবরনে বলেন : আমি এই কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হতাম না। কিন্তু এলকার দুর্দশাগ্রস্থ জন-সাধারনের ইচ্ছায় ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বরিশাল মহানগরের নেতৃবৃন্দরা আমাকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে বলেছেন তাই আমি দলের ও ওয়ার্ডবাসির ইচ্ছে পুরনের নির্দেশনা পালন করছি। দলও চাচ্ছে যে আমি যেন নির্বাচনে জয়ী হয়ে এই ওয়ার্ডকে বরিশালের অন্যতম মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলি। ইনশাআল্লাহ্ আমি নির্বাচনে জয়ী হলে ওয়ার্ডের প্রতিটি মানুষের দরজায় আমি ডিজিটাল সেবা পৌছে দেব। ওয়ার্ডের ভোটার লিস্টগুলো অতি স্বল্প সময়ে যাতে খুজে বের করা যায় সেজন্য ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে ভোটার লিস্টগুলোর একটি ডিজিটাল সাপোর্টের মাধ্যমে দ্রুত সেবা প্রদানের ব্যাবস্থা করবো। এই এলাকার ড্রেনেজ ব্যাবস্থা বিগত বহুদিন থেকে খুবই দুর্বল তাই সে সমস্যা দ্রুত সমাধান করার চেস্টা করবো। আমার ইচ্ছে অনুযায়ী আমাদের ড্রেনেজ সিস্টেম হবে উন্নত এবং আধুনিক। এলাকাবাসীকে নিয়ে প্রতি সপ্তাহে তাদের সমস্যাগুলো সনাক্ত করতে ও দ্রুত সমাধানের জন্য একটি সাপ্তাহিক আলোচনা সভার আয়োজন করবো। যেখানে জনগন বলবে তাদের কি দরকার। আমি যখন যে অবস্থাতেই থাকিনা কেন তাদের সাথে সর্বহ্মন কানেক্ট ও নিজেকে নিয়োজিত রাখার জন্য আমার অফিসে প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্স কলের ব্যাবস্থা রাখবো। একটি অভিযোগ বক্স ও আমার একটি ওয়েব সাইট পেইজে তাদের অভিযোগ ও সমস্যা জানানোর জন্য ব্যাবস্থা রাখবো, যাতে আমি নিজেই তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত জানতে পারি ও নিরসনের ব্যাবস্থা নিতে পারি। এগুলো আমি ব্যাক্তিগত ভাবে হলেও জনগনের স্বার্থে করার ইচ্ছে রাখি। সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় যতোটুকু করা সম্ভব তাতো করবোই। এই ওয়ার্ডটিকে আমি মাদক মুক্ত করবো কারন কিশোর ও নবীন রা মাদকাশক্ত হলে উন্নয়ন ও পরিবেশ দুটোই রোগাক্রান্ত হবে বলে আমি মনে করি, তাই আমার ওয়ার্ড টি আমি মাদক মুক্ত করে ছাড়বো। ওয়ার্ডের কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, প্রতিষ্ঠানের সামনে বা বাইরে রাস্তা ঘাটে ইভটিজিং হবে না। মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য আমি এলাকাবাসীকে নিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল গঠন করবো।

    আমার সুপ্ত ইচ্ছা গুলোর বাস্তব রুপদানে সহায়তা করতে আপনারা (৭নং ওয়ার্ডবাসি) আমাকে কাউন্সিলর পদে ঠেলাগাড়ী মার্কায় ভোট প্রদান করে নির্বাচিত করুন। ইনশাআল্লাহ্ জনগনের কাছে যে ভালোবাসা পাচ্ছি তাতে আমি জয়ী হবো। পাশে ছিলাম,পাশে আছি এবং পাশে থাকবো যতোদিন বেঁচে থাকবো এটাই আমার অঙ্গিকার।

  • ভোট কারচুপি করা হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে-নোমান

    ভোট কারচুপি করা হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে-নোমান

    শেখ সুমন :

    বরিশাল সিটি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষের মনোনিত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের সমর্থনে নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে প্রচার-প্রচারনায় অংশ নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি উচ্চ প্রর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    আজ শনিবার (২১ই) জুলাই সকাল ১১টায় নগরীর কাশীপুর বাজারের ধানে শীষের প্রচার কালে ইলেক্টনিক্স ও গনমাধ্যমেকে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ-আল-নোমান বলেন, বরিশাল সিটি নির্বাচনে কোন প্রকার ভোট কারচুপি করা হলে এখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।
    তিনি বলেন নির্বাচন কমিশন আমাদের সমান সুযোগ দিচ্ছে না।সরকারী দলের প্রার্থীর সমর্থকরা মিছিল সহ অতিরিক্ত সময় নষ্ঠ করে মিটিং করছে সেখানে কোন ধরনের বাধা নেই আমাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই আমাদের সভা বন্ধ করে দিচ্ছে।
    ভাইস চেয়ারম্যান নোমান আরো বলেন খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে যে অনিয়ম হয়েছে নির্বাচন কমিশন তা স্বীকার করে নিয়েছে।আমরা চাই একটি সুষ্ঠ,সুন্দর নির্বাচন।
    নোমান আরো বলেন বরিশালে নির্বাচন কমিশন যেভাবে কথা বলেছে পুলিশ প্রশাসন সহ সরকারী কর্মকর্তারা সঠিকভাবে দায়ীত্ব পালন না তারা আমাদের কাজে বাধা প্রদান করার কাজে ব্যস্থতা দেখাচ্ছে।
    আমরা বলতে চাই নির্বাচন কমিশন মাহাবুব তালুকদার প্রার্থীদের উপস্থিতিতে যে কথা বলেছে তা যদি সঠিক ভাবে তার ওয়াদা পালন করে তাহলে ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান,কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য মেজবা উদ্দিন ফরহাদ,মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম লাবু,সাধারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন দিপেন,নুরুল আলম রাজু,আসাদুজ্জামান মুক্তা সহ হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের বিএনপি ও দলীয় অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ধানের শীষ মার্কার সমর্থনে লিফলেট বিতরন ও গনসংযোগ করেন।
    এর পূর্বে আবদুল্লাহ আল নোমান ও সেলিমা রহমান কাশীপুর বাজারে আসার পূর্বে এয়ারপোর্ট থানার এস আই অরবিন্দ চার/পাঁচজন করে গনসংযোগ করার নির্দেশ দেন।
    পরে তারা কাশীপুর বাজার,সহ ফিসারীরোড, সহ ২৮ নংওয়ার্ড থেকে শুরু করে উক্ত এলাকার বাসাবাড়ি পথচারীদের কাছে ধানের শীষ মার্কায় ভোট প্রত্যাশা করেন।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন : প্রার্থী ও সমর্থক পরস্পর বিরোধী বক্তব্য

    বরিশাল সিটি নির্বাচন : প্রার্থী ও সমর্থক পরস্পর বিরোধী বক্তব্য

    শেখ সুমন :

    আগামী ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনের প্রচারণার চালানেরা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বলেছেন জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বরিশালে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    অন্যদিকে হাত পাখার সমর্থক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসাধুদের কবলে বলে মন্তব্য করেছেন।

    সাদিক আবদুল্লাহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে বলেছেন, ‘নৌকা প্রতীক নিয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নৌকার বিজয় হবে ইনশাল্লাহ। এখন পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণার মাঠে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে।’ এসময় তার সঙ্গে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জাহাঙ্গীরসহ নেতা-কর্মীরা ।

    সাদিক আবদুল্লাহ বলেন,‘বিরোধীরা মুখে মুখে অভিযোগ অনেক করলেও তারা লিখিত অভিযোগ দেন না। তারা লিখিত অভিযোগ দিলে নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসন বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখতে পারতো। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হওয়ায় বিরোধী প্রার্থীদের ইঙ্গিত শুধু আমার ওপরেই আসে। এজন্য আমার নিজের ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের জন্য আবেদন করেছি। ‘

    অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর এক পথসভায় বলেন,‘দুর্নীতিগ্রস্ত বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অসাধুদের কবলে। স্থানীয় উন্নয়নে ব্যাপক বরাদ্দ থাকলেও তা বাস্তবায়ন শূন্যের কোঠায়। প্রত্যেক নির্বাচনে অনেক টাকার বাজেট হয়, কিন্তু সরকারের সে টাকা দিয়ে সরকার দলীয় প্রার্থীদের প্রোটেকশন দেওয়া হয়, যা খুলনা-গাজীপুরের নির্বাচনে লক্ষণীয়।

    তিনি আরও বলেন,‘সরকার জনগণের নয়, দলীয় নেতাকর্মীদের কল্যাণে কাজ করে। ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হলে জনগণের টাকা কোনও নেতাকর্মীর পকেটে যাবে না, জনকল্যাণের জন্যই ব্যয় হবে, ইনশাআল্লাহ। সভায় হাতপাখা মার্কার মেয়র প্রার্থী ওবাইদুর রহমান মাহবুব ও রাজনীতিবিদ ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজীসহ অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন : অস্বস্তিতে সাদিক-সরোয়ার

    বরিশাল সিটি নির্বাচন : অস্বস্তিতে সাদিক-সরোয়ার

    শেখ সুমন :

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারেন তিন প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপির জন্য অস্বস্তি হতে পারেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান। তিনি হাতপাখা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। আর আওয়ামী লীগকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন ও বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী। ইকবালের প্রতীক লাঙ্গল এবং মনীষার প্রতীক মই।

    অবশ্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা তা মনে করেন না।

    বিএনপির শক্ত অবস্থান হিসেবে পরিচিত বরিশালে ইসলামী আন্দোলনও কম শক্তিশালী নয়। ২০০৮ সালে বরিশাল সদরে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ ফায়জুল করীম প্রায় ২৮ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করীমের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইয়ে। এ জন্য বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে ভোটের মাঠে দলটির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

    ইসলামী আন্দোলনের নেতারা মনে করেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন তৃতীয় হয়েছে। বরিশালেও তাঁরা ভালো ভোট পাবেন বলে আশা করছেন।

    স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বলছে, ইসলামী আন্দোলন যে ভোট টানবে, তা মূলত যেত বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে। এ কারণে বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারেন।

    ইসলামী আন্দোলনের বরিশাল নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হামিদী এমন ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমরা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে কাজ করছি। আমাদের ৪০ হাজারের বেশি নিজস্ব ভোট আছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় দলেই আমাদের পীর সাহেবের মুরিদ আছেন। নগরের আলেম-ওলামা, ইমাম-মুয়াজ্জিন সবাই এক হয়ে কাজ করছেন। সুষ্ঠু ভোট হলে আমাদের প্রার্থী জয়ী হবেন।’

    মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল হক অবশ্য এমনটা মনে করেন না। তাঁর মতে, দেশের রাজনীতিতে এখন চরম ক্রান্তিকাল চলছে। এ জন্য ইসলামি ও জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ এখন গণতন্ত্র, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের চিন্তার জায়গা থেকে বিএনপির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তাই এই নির্বাচনে বিএনপির ভোট ভাগাভাগির কোনো সুযোগ নেই। এ নিয়ে তাঁদের কোনো অস্বস্তিও নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে বিএনপির জয় নিশ্চিত।

    অস্বস্তি তৈরি করতে পারেন ইকবাল ও মনীষাও

    সরকারের অংশ হওয়ায় জাপার নেতা-কর্মীরা হয়রানির মধ্যে নেই। এটিকে সুবিধা হিসেবে নিচ্ছেন জাপার প্রার্থী ইকবাল। তরুণ এই প্রার্থী সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরে আধুনিক বরিশাল গড়ার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে ভোট চাচ্ছেন। জাপার নেতারা মনে করছেন, তাঁদের প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রার্থীরই ভোট টানবেন। কারণ, জোট হিসেবে ভোট করলে এই ভোট আওয়ামী লীগের প্রার্থীই পেতেন। ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিবিয়াত সাদিক আবদুল্লাহর জন্য লাঙ্গল অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠার সুযোগ আছে।

    বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাংগঠনিক অবস্থা বরিশালে তেমন ভালো নয়। তবে এই দলের মনোনীত প্রার্থী চিকিৎসক মনীষা চক্রবর্তী সম্প্রতি বরিশালের বস্তি, শ্রমজীবী তথা প্রান্তিক দরিদ্র মানুষের মধ্যে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। দরিদ্র মানুষকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় তিনি গরিবের ডাক্তার হিসেবেও খ্যাতি পেয়েছেন। দরিদ্র মানুষ মাটির ব্যাংকে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে মনীষার নির্বাচনী ব্যয়ে অংশ নিয়েছেন। ভোটের রাজনীতিতে এর প্রতিফলন ঘটলে তিনি বেশ ভালো ভোট টানতে সক্ষম হবেন বলে বাসদের নেতারা মনে করছেন।

    দরিদ্র ও প্রান্তিক আয়ের মানুষের ভোটের বড় অংশই আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে এত দিন পরিচিত ছিল। ফলে মনীষাও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর অস্বস্তির কারণ হতে পারেন।

    তবে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা বলছেন, জাপা প্রার্থী যে ভোট পাবেন, তা আওয়ামী লীগের নয়, বরং বিএনপির। আর মনীষা চক্রবর্তী ব্যক্তি হিসেবে সাম্প্রতিক কিছু বিষয়ে আলোচনায় এলেও সেটা ভোটের মাঠে তেমন প্রভাব ফেলবে না।

    বাসদের জেলা আহ্বায়ক ইমরান হাবিব এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মূলত আমরা একটি পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ধারার মধ্যে থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এখানে কার কী ক্ষতি হবে, সেটা বিবেচ্য নয়। কারণ, বাসদ একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন। আমরা বলতে পারি, সাধারণ মানুষের মধ্যে আমরা যে রকম আন্তরিক সাড়া পাচ্ছি, তাতে সুষ্ঠু ভোট হলে আমরা জয়ী হতে পারি। কারণ, এখানে প্রায় ৩১ হাজার তরুণ-মধ্যবিত্ত ভোটার। মনীষা চক্রবর্তী এই ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পেরেছেন।’

    তবে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী বলেন, নগরের ভোটারদের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে উন্নয়ন ইস্যু। আর এটা এখন পরিষ্কার যে উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। এই ধারণা ভোটারদের মধ্যে পোক্ত হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ভোটে কারও ভাগ বসানোর সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বরিশাল নগরে ভোটের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির প্রভাব সীমিত। পাশাপাশি বাসদের প্রার্থী নানা কারণে কিছুটা পরিচিতি পেয়ে আলোচনায় আছেন। সেটা ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের জন্য কোনো প্রভাব ফেলার মতো কিছু নয়।

  • কোটা নিয়ে কোনো রাজনীতি করছে না বিএনপি : ফখরুল

    কোটা নিয়ে কোনো রাজনীতি করছে না বিএনপি : ফখরুল

    কোটা সংস্কার ও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি কোনো রাজনীতি করছে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিষ্কার করে বলতে চাই, কোটা সংস্কার এবং খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো রাজনীতি করছি না। যেটা সত্য, আমরা সেটা জনগণের কাছে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তুলে ধরছি।’

    মির্জা ফখরুল বলেন, বেকার যুবকদের ন্যায়সংগত আন্দোলন, কোটা সংস্কারের আন্দোলন। কিন্তু রেগে মেগে সংসদে প্রধানমন্ত্রী বললেন, কোনো কোটাই থাকবে না। এখন আপনিই বলছেন, হাইকোর্টের রায়ের বাইরে যাওয়া যাবে না।

    খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি নোংরা রাজনীতি করছে-ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপির মহাসচিব।

    বিএনপি নেতা বলেন, সরকারের অভীষ্ট লক্ষ্য হলো আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া। এর মাধ্যমে তারা আবারও একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করতে চায় ভিন্ন মোড়কে।

    সরকারের চরিত্র, লক্ষ্য সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে-এমনটা দাবি করে ফখরুল বলেন, দুর্নীতি কোন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সোনা রাখার পর সেটা বদলে ধাতু জাতীয় জিনিস রাখা হয়েছে। অলংকারগুলো বদলে সেখানে নকল জিনিস রাখা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হ্যাকিং করে টাকা লুট করা হলো। যার প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করতে পারেনি।

    মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এসময় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, বিএনপির প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।