Category: শিক্ষাঙ্গন

  • জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথমবর্ষের ফল প্রকাশ

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথমবর্ষের ফল প্রকাশ

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২০২০ সালের অনার্স প্রথমবর্ষ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) এ ফল প্রকাশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. আতাউর রহমান।

    তিনি বলেন, এ পরীক্ষায় ৩১টি অনার্স বিষয়ে ৮৭৯ টি কলেজের মোট ৪ লাখ ৭৪ হাজার ২৪৯ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রকাশিত ফলাফল আজ সন্ধ্যা ৭টা থেকে যে কোনো মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে nuh1Registration No লিখে ১৬২২২ নম্বরে সেন্ড করে এসএমএসের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

    এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.nu.ac.bd ও www.nubd.info থেকেও ফলাফল জানা যাবে।

  • আগামী বছর থেকে প্রাথমিকে সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

    আগামী বছর থেকে প্রাথমিকে সমাপনী পরীক্ষা হচ্ছে না

    আগামী বছর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি ও ইবতেদায়ী) পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

    তিনি বলেন, নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে সব ধরনের পরীক্ষা তুলে দেওয়া হবে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পরবর্তী ক্লাসে তোলা হবে।

    বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন কথা জানান।

  • প্রাথমিকে নিয়োগ: দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলা-উপজেলায় পরীক্ষা

    প্রাথমিকে নিয়োগ: দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলা-উপজেলায় পরীক্ষা

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা তিন ধাপে জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২২ এপ্রিল। আর দ্বিতীয় ধাপে ২০ মে ও তৃতীয় ধাপে ৩ জুন পরীক্ষা হবে।

    বুধবার (২০ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলা ও উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এর তথ্য জানান।

    দ্বিতীয় ধাপে যেসব জেলায় পরীক্ষা:

    আগামী ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহী, খুলনা, ফরিদপুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, বরিশাল, সিলেট, রংপুর জেলার সব উপজেলায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    এছাড়া নওঁগা জেলার সদর, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, রানীনগর, পোরশা, সাপাহার উপজেলা, নাটের জেলার বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাশপুর, লালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, সদর ও তাড়াশ উপজেলা, কুষ্টিয়া জেলার খোকসা, সদর ও মিরপুর, ঝিনাইদাহ জেলার হরিনাকূণ্ড, সদর, কালিগঞ্জ, যশোর জেলার অভয়নগর, চৌগাছা, সদর, বাঘেরপাড়া উপজেলা, সাতক্ষীরা জেলার সদর, দেবহাটা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ উপজেলা, বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট, মোংলা, মোড়লগঞ্জ, কচুয়া, শরনখোলা উপজেলা, জামালপুর জেলার সদর মাদারগঞ্জ, মেলান্দাহ ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা, সদর, নান্দাইল, ফুলপুর, তারাকান্দা, ত্রিশাল উপজেলা, নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ী, মদন, মোহনগঞ্জ, সদর, পূর্বধলা উপজেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার সদর কুলিয়াচর, মিঠামইন, নিকলী, পাকুন্দিয়া, তাড়াইল, টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি, মধুপুর, মির্জাপুর, নাগরপুর, সফিপুর, বাসাইল উপজেলা, রাজবাড়ি জেলার কালুখালি, গোয়ালন্দ উপজেলা, কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার, হোমনা, লাকসাম, লালমাই, সদর দক্ষিণ, মনোহরগঞ্জ, মুরাদনগর, নাগলকোট, তিতাস উপজেলা, নোয়াখালি জেলার বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কোম্পানিগঞ্জ, হাতিয়া উপজেলা, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর, নেছারাবাদ, সদর, পটুয়াখালি জেলার কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, সদর, রাঙ্গাবালি, দুমকি উপজেলা, সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ, শাল্লা, সদর, তাহিরপুর উপজেলা, হবিগঞ্জ জেলার সদর, লাখাই, মাধবপুর, নবীগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা, কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, রাজারহাট, রাজিবপুর, রৌমারী, উলিপুর উপজেলা, গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পরীক্ষা হবে।

  • ভর্তিতে নিজেদের চাপ কমাতে মেধাবীদের স্বপ্ন ভাঙছে বুয়েট

    ভর্তিতে নিজেদের চাপ কমাতে মেধাবীদের স্বপ্ন ভাঙছে বুয়েট

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তিতে যোগ্যতা হিসেবে পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে নম্বর বাড়ানো হয়েছে। এ বছর পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে গড় নম্বর ৯৩ চাওয়া হয়েছে। ফলে মোট নম্বর বেশি থাকলেও পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে গড়ে ৯৩ নম্বর না থাকায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় বুয়েটে ভর্তির স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছেন।

    করোনা পরিস্থিতিতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ২০২১ সালের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা বিলম্ব করে আয়োজন করা হয়। সে কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এবং পরীক্ষার সময় ও নম্বর কমিয়ে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। অন্যান্য বিষয়ে এসএসসি-সমমান ও জেএসসি-সমমানের ফলের ওপর নম্বর ম্যাপিং করে ফলাফল দেওয়া হয়।

    সে কারণে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নিতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

    জানা গেছে, বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়নে গড়ে ৯০ নম্বর চাওয়া হতো। তবে এবার গণিতে গড় নম্বর ৮৫ করে পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে ৯৩ চাওয়া হয়েছে। সে কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কারও কারও গড়ে এক বা দুই নম্বর কম থাকায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না।

    রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন এক শিক্ষার্থী। গণিতে ২০০ নম্বরের মধ্যে ১৯৮ ও অন্যান্য বিষয়ে ৯৫ নম্বরের বেশি পেলেও রসায়নে ৯২ পাওয়ায় বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না তিনি। এ কারণে এই শিক্ষার্থীসহ তার পরিবারের সদস্যরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

    এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থী বলেন, জীবনের প্রথম পছন্দ ছিল বুয়েটে ভর্তি হবো। সে কারণে মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করেছি। করোনার কারণে গত দুই বছর আমাদের তেমন ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। প্রতিদিন চারদিকে করোনায় আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংবাদের মধ্যে আতঙ্কে দিন পার করতে হয়েছে। সে কারণে পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে পারিনি।

    তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতির মধ্যে তিন বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছি। পরীক্ষায় ভালো ফল পেলেও বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছি না। ভর্তি পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ায় তার অনেক সহপাঠীর স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন সূচনা।

    ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরেক শিক্ষার্থী দিব্যজ্যোতি রায় দীয়া চার নম্বর কম থাকায় বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় বসতে পারছেন না। তিনি জানান, বুয়েটে তো নম্বরের ওপর ভিত্তি করে ভর্তি করাচ্ছে না। প্রথমে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে। সেখানে পাস করলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    তবে কেন নম্বর বাড়ানো হলো? এমন প্রশ্ন তুলে দীয়া বলেন, নম্বর বাড়িয়ে আমার মতো হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে। দেশে করোনা পরিস্থিতি থাকলে সব ভর্তিতে শর্ত কমিয়ে সুযোগ বাড়ানো হলেও বুয়েটে তার উল্টোটা করা হয়েছে। এতে অনেকের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মেধাবীদের পড়ালেখায় ধরে রাখতে এবারও বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বিষয়ভিত্তিক গড় নম্বর ৯০ করার দাবি জানান তিনি।

    শুধু এই দুই শিক্ষার্থী নন, তাদের মতো এমন অনেকে সর্বোচ্চ ফল পেলেও বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না। দুই বিষয়ে গড় নম্বর বাড়ানোর কারণে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের ভর্তি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু সিদ্দিক বুধবার (২০ এপ্রিল) বলেন, আমরা এ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেহেতু এবার এইচএসসি পরীক্ষায় গণিতে সব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়নি সে কারণে এ বিষয়ে আগের চাইতে নম্বর কমানো হয়েছে। এছাড়া বুয়েটে গত বছরের তুলনায় এবার ৬০টি আসন বাড়িয়ে এক হাজার ২৭৫টি করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষার্থী বেশি হলে আমাদের ওপর চাপ তৈরি হয়, সে কারণে এবার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা বাবদ আদায় করা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। সে কারণে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

    তবে ভর্তি পরীক্ষার চাপ কমাতে বুয়েটের এ সিদ্ধান্তে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে পড়েছেন। এমনকি ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে গতকাল (মঙ্গলবার) আজিমপুরের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    আমার সন্তান তার বন্ধুদের কাছে মুখ দেখাতে পারছে না এমন দাবি করে এক অভিভাবক জানান, অনেক স্বপ্ন ছিল ছেলেটা বুয়েটে ভর্তি হবে। সেজন্য দিনরাত পড়ালেখা করেছে। এখন ভর্তি পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারছে না।

    তিনি আরও বলেন, যোগ্যতা না থাকলে ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেলেই কেউ চান্স পায় না, মেধা দিয়ে টিকতে হয়। অথচ দেশের দুর্যোগকালীন বুয়েটের এমন সিদ্ধান্ত কাঙ্ক্ষিত নয়। তারা দ্রুত এটি পরিবর্তন করে গত বছরের মতো বিষয়ভিত্তিক গড় নম্বর ৯০ করার দাবি জানান। না হলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পড়ালোখায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার জানান, একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ভর্তি পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানে বুয়েট ভিসির কিছু করার নেই। তারা সবকিছু বিশ্লেষণ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান উপাচার্য।

    এদিকে, বুয়েট ভর্তির জন্য এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের প্রতিটিতে অন্তত ৯৩ শতাংশ নম্বর পেতে হবে মর্মে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়েছে হাইকোর্টে। রিটে বুয়েটের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুস আলী আকন্দ এ রিট করেন।

  • রহমত উল্লাহকে ঢাবির প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

    রহমত উল্লাহকে ঢাবির প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহকে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২০ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত।

    সভায় উপস্থিত একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তারা বলেন, অধ্যাপক রহমত উল্লাহকে সব ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাকসুদ কামালকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি।

    তদন্ত কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন- সিন্ডিকেট সদস্য এটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, সিন্ডিকেট এস এম বাহালুল মজনুন, সিন্ডিকেট সদস্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. টিটো মিঞা এবং আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমা জামান।

    এ সিদ্ধান্তের ফলে অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহর সিন্ডিকেট সদস্য ও আইন অনুষদের ডিন পদ হারাচ্ছেন। এমনকি তিনি শিক্ষক সমিতির সভাপতি পদও হারাতে পারেন।

    খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    গত ১৭ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের আলোচনা সভায় মুজিবনগর সরকারের অন্যান্য নেতার পাশাপাশি খুনি মোশতাকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য দেন রহমত উল্লাহ। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

    এরপর এ ঘটনায় ক্ষমা চান তিনি। এসময় বিষয়টি ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলে উল্লেখ করেন রহমত উল্লাহ।

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্রে থাকবে কড়া নিরাপত্তা

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্রে থাকবে কড়া নিরাপত্তা

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। পরীক্ষাকেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    সভাশেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও প্রশ্নফাঁস রোধে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে। এর সঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবে। কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সচিব বলেন, প্রাথমিকে নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে প্রতিটি কেন্দ্রের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তারা নানা বিষয়ে আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। সবাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে সুষ্ঠুভাবে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার হলে কোনো ধরনের ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। পুরোনো প্রার্থী পেলে তাকে তখনই ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে। কেউ কোনো ধরনের অনিয়ম করলে বা করার চেষ্টা করলে আইনের আওতায় আনা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

    এদিকে পর্যাপ্ত পরীক্ষাকেন্দ্র প্রস্তুত করা সম্ভব না হওয়ায় সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা তিন ধাপে আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২২ এপ্রিল, দ্বিতীয় ধাপে ২০ মে এবং তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা নেওয়া হবে আগামী ৩ জুন।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ২২টি জেলার মধ্যে ১৪টির সব উপজেলা এবং ৮টি জেলার কয়েকটি উপজেলা মিলে মোট ৫০৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    তিন ধাপে দেশের ৬১ জেলায় প্রাথমিকের এ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশের পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    দ্বিতীয় ধাপের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২০ মে আয়োজন করা হবে। এ ধাপে কতটি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা ২৭ মে নির্ধারণ করা হলেও সেদিন বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থাকায় তা পরিবর্তন করে ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ধাপের লিখিত পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে সাত দিন আগে প্রার্থীদের অনলাইনে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে সংগ্রহ করতে মোবাইল ফোনে এসএমএস দেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রার্থীর নিজ নিজ জেলায় অনুষ্ঠিত হবে।

    ডিপিই থেকে জানা গেছে, প্রথম ধাপে আগামী ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাগঞ্জ, মাগুরা, শেরপুর, গাজীপুর, নরসসিংদী, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট জেলার সব উপজেলার লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    একইদিন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া, বেলকুচি, চৌহালী, কামারখন্দ, কাজীপুর, যশোর জেলার ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মনিরামপুর, শার্শা, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা, ধোবাউড়া, ফুলবাড়িয়া, গফরগাঁও, গৌরীপুর, হালুয়াঘাট, ঈশ্বরগঞ্জ, নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া, বারহাট্টা, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া, কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর, ভৈরব, হোসেনপুর, ইটনা, করিমগঞ্জ, কটিয়াদি, টাঙ্গাইল জেলার সদর, ভূয়াপুর, দেলদুয়ার, ধনবাড়ি, ঘাটাইল, গোপালপুর, কুমিল্লা জেলার বরুয়া, ব্রাক্ষণপাড়া, বুড়িচং, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, সদর, মেঘনা, দাউদকান্দি এবং নোয়াখালী জেলার কবিরহাট, সদর, সেনবাগ, সোনাইমড়ি, সুবর্ণচর উপজেলার প্রার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

  • এ বছরও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিলের ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

    এ বছরও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিলের ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

    চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে এসএসসি দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা- ২০২৩ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ইঙ্গিত দেন।

    দীপু মনি বলেন, এখন যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তাতে আলাদা করে বোধ হয় জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ থাকছে না। মনে হয় না, এ পরীক্ষা নিতে শিক্ষা বোর্ড প্রস্তুতির জন্য সময় পাবে। তবে অন্য শ্রেণির মতো অষ্টম শ্রেণিতেও শ্রেণির মূল্যায়ন হিসেবে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। যেহেতু চলতি বছরের এসএসসি-সমমান পরীক্ষা জুনে ও এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আগস্টে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য নভেম্বরে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়বে।

    দীপু মনি বলেন, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হবে কি না সেটি আগামী এক-দুই মাস ঘোষণা দেওয়া হবে। আগে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে অমনোযোগী হয়ে উঠবে। সে কারণে আরেকটু সময় নিয়ে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা আমাদের থাকবে। যদি সেটা সম্ভব না হয় তবে তা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে আগামী বছর থেকে এমনিতেই জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা থাকছে না।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি বছরের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যদি কেউ বাধ্য করে শিক্ষার্থীর কাছে বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ধরনের তথ্য থাকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানাতে আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

    এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব ছিদ্দীকুর রহমান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক তপন কুমার সরকার, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান (রুটিন) অধ্যাপক মশিউজ্জামান প্রমুখ।

  • ২০২৩ সালের এসএসসি এপ্রিলে, এইচএসসি জুনে

    ২০২৩ সালের এসএসসি এপ্রিলে, এইচএসসি জুনে

    চলতি বছরের মতো সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসএসসি-সমমান পরীক্ষা আগামী বছরের এপ্রিল মাসে এবং এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা জুনে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩ সালের এ দুই পাবলিক পরীক্ষা সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বর ও সময়ে আয়োজন করা হবে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস কনফারেন্সে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এসব তথ্য জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালে এসএসসি/দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এসব পরীক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৪ মার্চ পর্যন্ত সপ্তাহে দুদিন করে সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ২০ জানুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওমিক্রনের সংক্রমণে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে গত ১৫ মার্চ থেকে তারা সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে সপ্তাহে ৬ দিন করে অংশগ্রহণের সুযােগ পাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এসব পরীক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণি মিলে ১৬২ কর্মদিবস শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযােগ পাবে। (স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের ৩১৬ কর্মদিবস ক্লাস করার কথা)।

    দীপু মনি বলেন, তারা ২০২০ সালের ৮ম শ্রেণির ফাইনাল ও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। নবম শ্রেণিতেও পরীক্ষা দিতে পারেনি। পুরো সময়টা তারা টেলিভিশনের ক্লাসে এবং অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে, অ্যাসাইনমেন্ট করেছে। এসব ক্লাস এবং অ্যাসাইনমেন্টগুলো ২০২২ সালের জন্য পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১৫০ কর্মদিবসের পরিমার্জিত পাঠ্যসূচি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালের এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এই শিক্ষার্থীরা গত ৮ মাস ক্লাস করার সযোগ পায়নি। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্লাস চালু রাখা সম্ভব হলে তারা মোট ২০০ কর্মদিবস শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে (স্বাভাবিক অবস্থায় ৩৩০ দিন ক্লাস নেওয়া হয়)।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এ সমস্ত দিক বিবেচনায় ২০২৩ সালের এসএসসি/দাখিল ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২২ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে। এসএসসি-সমমান পরীক্ষা এপ্রিলে এবং এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে।

    তবে এসএসসি-সমমান পরীক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ও এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে। এ বছরের উভয় পরীক্ষায় সব বিষয়ের পূর্ণ নম্বরে এবং পূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

    এসময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব ছিদ্দীকুর রহমান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক তপন কুমার সরকার, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান (রুটিন) অধ্যাপক মশিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৩ সালের এসএসসি এপ্রিলে, এইচএসসি জুনে

    এদিকে আগামী ১৯ জুন ২০২২ সালের এসএসসি ও সমমান এবং ২২ আগস্ট এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড।

    গত ১ মার্চ বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে সই করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) তপন কুমার সরকার।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৩ এপ্রিল থেকে রেজিস্ট্রেশনধারী এসএসসি শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে পরীক্ষার ফরম পূরণ করবে। প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হতে পারে ১৯ মে থেকে।

    অপরদিকে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণের সম্ভাব্য তারিখ ৮ জুন। এদের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হতে পারে ১৪ জুলাই থেকে।

  • বুঝে পড়ার বিকল্প নেই: মেডিকেলে প্রথম হওয়া মীম

    বুঝে পড়ার বিকল্প নেই: মেডিকেলে প্রথম হওয়া মীম

    বুঝে পড়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯২ দশমিক ৫ পেয়ে প্রথমস্থান অধিকারী সুমাইয়া মোসলেম মীম।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, ‘যা পড়তে হবে বুঝে পড়তে হবে। মুখস্ত করে কোনো লাভ হয় না। দেখা যায় আজকে পড়ছি, আগামীকাল তা ভুলে যাচ্ছি। কিন্তু তা হলে তো হবে না। তাই যা পড়তে হবে তা বুঝেই পড়তে হবে।’

    ভালো চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হতে চান বলে জানান মীম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দেশে একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে, ডাক্তাররা কসাই। সেই ধারণা থেকে সবাইকে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।’

    মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী রোডে কোচিং সেন্টারে বসে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন সুমাইয়া মীম।

    এসময় তার পাশে ছিলেন বাবা মো. মোসলেম উদ্দিন সরদার। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। মেয়ের ভালো ফলাফলে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন তিনি। মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী মীম। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে সে ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রথমস্থান অধিকার করে।’

    মেয়ের এই সাফল্যের পেছনে তার মায়ের (খাদিজা খাতুন) অবদান সবচেয়ে বেশি বলে জানান মোসলেম উদ্দিন। রাতের পর রাত জেগে মেয়ের লেখাপড়ার দিকে খেয়াল রাখত সে।

    ২০১৯ সালে যশোর শিক্ষাবোর্ডের ডুমুরিয়া গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন মেডিকেলে প্রথমস্থান অধিকারী সুমাইয়া মীম। ২০২১ সালে সরকারি এম এম সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। দুই পরীক্ষায়ই জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। খুলনার মৌলভীপাড়ায় বাউন্ডারি রোডের ১৪/টিবি এলাকায় পরিবারের সঙ্গেই বসবাস করেন মীম।

    এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এক লাখ ৩৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৪০ (১০০ নম্বরের মধ্যে) কিংবা তার চেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৩৯ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।

    দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন কোটাসহ আসন রয়েছে চার হাজার ৩৫০টি। এবার সরকারি মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন এক হাজার ৮৮৫ জন ছাত্র। সরকারি মেডিকেলে চান্সপ্রাপ্ত ছাত্রীর সংখ্যা দুই হাজার ৩৪৫ জন।

  • প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি অধিদপ্তরের

    প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি অধিদপ্তরের

    আগামী ২২ এপ্রিল থেকে সরাদেশে একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য নেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

    ডিপিই থেকে জানা গেছে, সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা জেলা পর্যায়েই নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের ৬১ জেলায় এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। আগামী ২২ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কয়টি ধাপে এ পরীক্ষা হবে, এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চলতি সপ্তাহে পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি হতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্র নির্বাচনের কাজ করা হচ্ছে।

    ডিপিই সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। দেশের ৬১ জেলায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পার্বত্য তিন জেলায় নীতিমালা অনুযায়ী জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে হবে এ পরীক্ষা আয়োজন। এছাড়া যেসব এলাকায় প্রার্থীর সংখ্যা বেশি সেখানে দুই ধাপে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।

    এ নিয়ে সম্প্রতি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিপিই মহাপরিচালক আলমগীর মুহাম্মদ মনসুরুল আলম ভার্চুয়াল সভা করে এসব সিদ্ধান্তর কথা জানিয়েছেন।

    তবে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রাখা হয়েছে স্বয়ং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে, কবে থেকে, কয়টি ধাপে, কতটি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে সে বিষয়ে কিছুই জানেন না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম।

    সোমবার (৪ এপ্রিল) নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত একটি কমিটি রয়েছে মহাপরিচালকের সমন্বয়ে, তারা সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে আমাদের কিছু নেই।

    আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শিক্ষক নিয়োগের লিখত পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধিদপ্তর- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। অধিদপ্তর থেকে জানালে আমরা জানতে পারবো, নতুবা জানার কোনো সুযোগ নেই।

    রোজার মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে নিয়োগ পরীক্ষা ঝুলে থাকায় তা দ্রুত শেষ করতে অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে এ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষে যোগ্য প্রার্থীদের যোগদান করানো হবে বলেও জানান তিনি।

    তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিপিই’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু করা হবে। পরীক্ষা শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ করা হবে। পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্র নির্বাচনের কাজ করা হচ্ছে। আগামী দুই/তিন দিনের মধ্যে অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা জারি করা হবে।

    প্রাক-প্রাথমিক ও সহকারী শিক্ষক পদে ৩২ হাজার ৫৭৭টি পদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে অবসরজনিত কারণে এর বাইরে আরও ১০ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হয়।

    এতে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ঘাটতি দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয় আগের বিজ্ঞপ্তির শূন্যপদ ও বিজ্ঞপ্তির পরের শূন্যপদ মিলিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    প্রাথমিকের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর অনলাইনে আবেদন শুরু হয়। এতে ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন।

    এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা বিভাগে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬১৯টি। এছাড়া রাজশাহীতে ২ লাখ ১০ হাজার ৪৩০টি, চট্টগ্রামে ১ লাখ ৯৯ হাজার ২৩৬টি, রংপুর বিভাগে ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৬৬টি, খুলনায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮০৩টি, ময়মনসিংহে ১ লাখ ১২ হাজার ২৫৬টি, বরিশালে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৪৪টি এবং সিলেট বিভাগে ৬২ হাজার ৬০৭টি আবেদন জমা পড়েছে।