Category: শিক্ষাঙ্গন

  • আমরণ অনশনে ববির দুই শিক্ষক হাসপাতালে

    আমরণ অনশনে ববির দুই শিক্ষক হাসপাতালে

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হকের অপসারণ দাবিতে আমরণ অনশনরত দুই শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে দুই শিক্ষককে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে অসুস্থ ছয় শিক্ষার্থীকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে।

    বুধবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যলেয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অনশন শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাতে অনশনে যোগ দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ চারজন। অনশনরত শিক্ষকরা হলেন- শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া, সহ-সভাপতি সরদার কায়সার আহমেদ, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় সরকার ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

    এদের মধ্যে সহ-সভাপতি সরদার কায়সার আহমেদ ও ইংরেজি বিভাগের সহকারিী অধ্যাপক মিজানুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তনুশ্রী দত্ত, মো. মারুফ, মো. ইব্রাহিমসহ ছয়জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদেরকে চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে।

    barishal

    অনশনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, উপাচার্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম ও বৈষম্য চরম আকার ধারণ করেছিল। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ, অপমান, দুর্ব্যবহার, মানসিক নিপীড়ন ও চরম বৈষম্যের কারণে আজ ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এটা একদিনের ক্ষোভ নয়৷ এটা উপাচার্যের অপশাসন, স্বৈরাচারী মনোভাব, খারাপ আচরণ, ছাত্র-ছাত্রীদের কারণে-অকারণে তাচ্ছিল্য ইত্যাদির ফল। তাকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশন চলবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করার পরও উপাচার্য পদত্যাগ করেননি, হয়নি অপসারণও। আর এ কারণে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।

  • সরকারী নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বরিশালে থামছে না শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য

    সরকারী নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বরিশালে থামছে না শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য

    স্টাফ রিপোর্টার//তানজিম হোসাইন রাকিব:

    শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ তোয়াক্কা করছেন না বরিশালের সরকারি শিক্ষকরা। এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যেই দেদারছে কোচিং করিয়ে চলেছেন। এক একজন শিক্ষকের কাছে ৮-১০টি ব্যাচে শতাধিক ছাত্র কোচিং করছেন। আয় করছেন মাসে লক্ষাধিক টাকা। এসব কোচিংয়ের অপেক্ষামান তালিকা দেখলেই চমকে ওঠার মতো। প্রত্যেক শিক্ষকের কাছে ওয়েটিংয়ে আছেন শতশত ছাত্র। এদেরকে সময় দিতে না পারলেও ওয়েটিং লিষ্ট করে রাখা হয়েছে। সরকারি এবং এমপিওভূক্ত সকল শিক্ষকদের কোচিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    এর বাইরে যেসব কোচিং সেন্টার রয়েছে সেগুলোও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মধ্যে কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু বরিশালে থোড়াই কেয়ার করছেন শিক্ষকরা। দিনরাতে কোচিং করিয়েই চলেছেন। এই কোচিং করানোর মধ্যে শীর্ষে যে কয়জন সরকারী কলেজের শিক্ষক আছেন, তার মধ্যে অন্যতম সরকারি আলেকান্দা কলেজের শিক্ষক সোলাইমান। এসব দেখার পরও নিরব প্রশাসন। মাত্র ১২ দিনে হাতিয়ে নিচ্ছেন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

    অন্যান্য খাতে নিচ্ছেন আরও লক্ষ লক্ষ টাকা। সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়েও তিনি জেনে বুঝে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। কোচিং বাণিজ্যের ব্যাপারে শিক্ষক সোলাইমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি প্রতিদিন ৬টি ব্যাজে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী পড়ান। আর ১২ দিনে আয় করছেন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ গেলো একজনের কথা।

    নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে কোচিং চালিয়ে যাচ্ছেন সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের (সদর গার্লস) শিক্ষক নাজমা ম্যাডাম, সরকারী জিলা স্কুলের ফয়সাল, খলিল স্যার, সিরাজ স্যার, ফাহিদ স্যার। এদেরও রয়েছে দীর্ঘ শিক্ষার্থী তালিকা। মাসে কোচিং করে এদের আয় লাখ টাকার ওপরে। তবে বরিশালে প্রশাসন রয়েছে নিরব ভূমিকায়।

    সোমবার দুপুরে সোলায়মান স্যারের কোচিং সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সমাজসেবা অফিসের পাশে কাউয়ুম স্যারের ভবনের একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে কোচিং চালাচ্ছেন তিনি। একটি ব্যাচে প্রায় ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী। সন্ধ্যায় বাসায় বসেও কয়েকটি ব্যাচ পড়ান। ছবি ধারণের পরপরই শুরু হয় তদবির। প্রলোভনও।

    বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. অজিয়র রহমান জানান, কোচিং বাণিজ্য সম্পূর্ণ নিষেধ। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন মানবজমিনকে বলেছেন, বরিশালে কোচিং বাণিজ্য তদারকি করার দু’টি কমিটি রয়েছে। একটি বিভাগীয়, অপরটি মহানগর। মহানগরের আহবায়ক বিভাগীয় কমিশনার এবং সদস্য সচিব মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা পরিদপ্তরের পরিচালক। তিনি তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলেও জানান।

  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশন

    অনলাইন ডেস্ক:

    উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আজ বুধবার থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম আজ সকাল ১০টার দিকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে এই কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া আমাদের আর উপায় ছিল না। আমাদের কর্মসূচিতে কয়েকজন শিক্ষকও অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। ১০টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও একটু দেরি হচ্ছে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি তা শুরু করতে পারব।’

    উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ২৬ মার্চ থেকে আন্দোলন করছেন। এই আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেছে শিক্ষক সমিতির একাংশ।

    সরকারি ছুটি ও শবে বরাতের জন্য দুদিন কর্মসূচি স্থগিত থাকার পর গতকাল সকাল থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আবারও আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষক সমিতির একাংশও এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গতকাল তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হক গত রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও নিজেদের শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাঁদের একাডেমিক কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে উপাচার্যের লিখিত বিবৃতি এবং আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি এ আবেদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

    রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে উপাচার্য বলেন, ‘১৮ এপ্রিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ব্যানারে হাতেগোনা ও চিহ্নিত কিছু শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী মানববন্ধন করেছেন। যেখানে তাঁরা আমার (উপাচার্য) পদত্যাগ দাবি করেন। ইতিপূর্বে চিহ্নিত কিছু শিক্ষার্থী একই দাবি করে আসছিল। কিন্তু আমার মেয়াদকালের শেষ সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থসিদ্ধির জন্য চিহ্নিত গোষ্ঠী আমার পদত্যাগের দাবিতে প্রায় এক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারগুলোতে তালা লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে অবৈধভাবে ব্যাহত করে আসছে। এই অহেতুক আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা এক কল্পিত সন্ত্রাসের ভয়ে ভীত হয়ে এর প্রতিবাদ করে সাহস নিয়ে এগিয়ে আসছে না। এ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণ অবশ্যম্ভাবী, অন্যথায় দক্ষিণ বাংলার এই বাতিঘরের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

    উপাচার্য বলেন, ‘যারা মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড করার উদ্যোগ নিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্যেই আমি বক্তব্য রেখেছিলাম। সেই বক্তব্যে কেউ আহত হয়ে থাকলে তাদের উদ্দেশ্যে দুঃখ প্রকাশও করেছিলাম। কিন্তু বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি, কোনো এক অদৃশ্য ও অশুভ শক্তির প্ররোচনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় তা এত দূর গড়িয়েছে। দুঃখ প্রকাশের পরও কেন এই আন্দোলন? কেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে?’ তাঁর মতে, এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ৫ শতাংশের বেশি হবে না। এরা কার স্বার্থ হাসিলে বাকি ৯৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস করার জন্য নেমেছে—এ প্রশ্নও রাখেন উপাচার্য।

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘পরবর্তী কর্মদিবসে তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসো। তোমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্লাসে যাও। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে তোমাদের শিক্ষাজীবন জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য তিনি বরিশালের বিদ্যোৎসাহী, শিক্ষানুরাগী, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্টজনসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি লোকমান হোসেন বলেন, ‘উপাচার্য লিখিত আবেদনে বলেছেন, ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর আন্দোলন এটি, বাকিরা নাকি তাঁর পক্ষে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার।

    যদি তা–ই হয়, তাহলে তিনি কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন না?’ তাঁরা বলেন, বিগত ৩ বছর ১০ মাসে তিনি (উপাচার্য) শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছেন। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউ ক্লাসে ফিরে যাবেন না এবং তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

    গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বরিশাল নগরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত চা-চক্র অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার না দেওয়ার প্রতিবাদে ওই দিন সকাল থেকেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ওই অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হন। পরে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এর প্রতিবাদে ২৭ মার্চ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২৯ মার্চ উপাচার্য তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি দেন।

    তবে তা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাজনৈতিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকে হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওই দিনই তা প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির আন্দোলনে অনড় থাকেন।

    উপাচার্য এস এম ইমামুল হকের চার বছরের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৭ মে।

  • দুই ভাইয়ের আবিষ্কার, গ্যাস থেকে আর অগ্নিকাণ্ড ঘটবে না

    দুই ভাইয়ের আবিষ্কার, গ্যাস থেকে আর অগ্নিকাণ্ড ঘটবে না

    প্রতিদিনের মতোই রাতে রান্নার পর খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন শান্তা রহমান। কিন্তু গ্যাসের চুলার লিকেজে দরজা-জানালা বন্ধ থাকার কারণে পুরো ঘর গ্যাসে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। যখন তিনি ভোরে নাস্তা তৈরির জন্য চুলার সুইচ চালু করেন তখন বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়।

    গ্যাস লিকেজ থেকে দেশে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে অহরহ। এতে কেউ আহত কিংবা নিহত হন। সচেতনতা বাড়ালেও কমছে না গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। তবে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সহজ একটি যন্ত্রের আবিষ্কার করেছেন দুই ভাই। সিদরাতুল হাসিন ও সিদরাতুল তুশিনের আবিষ্কৃত যন্ত্রে মিলবে গ্যাস লিকেজ সমাধান। এতে ব্যয় হবে মাত্র ৩০০ টাকা।

    চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে অধ্যয়নরত দুই ভাই তাদের এই উদ্ভাবনী যন্ত্রের নাম দিয়েছেন ‘গ্যাস লিকেজ সিকিউরিটি সিস্টেম’, যা মুহূর্তের মধ্যেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাসে লিকেজের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করে দেবে। ঘরে ছড়িয়ে পড়া গ্যাস বের করে দিতে নিজ থেকেই খুলে যাবে দরজা-জানালা। শুধু তাই নয়, গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লাগলে সেটিও অনায়াসে নিভিয়ে দেয়া যাবে। এতে খরচ হবে মাত্র ৩০০ টাকা।

    মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্টিফিক সোসাইটির উদ্যোগে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ১ম সায়েন্স কার্নিভালে তাদের আবিষ্কৃত এ যন্ত্রের প্রদর্শন করা হয়। দুই ভাইয়ের মতো এমন ৪৫টি প্রজেক্ট এতে প্রদর্শিত হয়। কার্নিভালে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    গ্যাস লিকেজ এড়াতে এমন যুগোপযোগী আবিষ্কারের বিষয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া সিদরাতুল হাসিন জানায়, গ্যাস লিকেজ হলে সেটির উৎস চিহ্নিত করতে গ্রেড বোর্ডের মাধ্যমে একটি সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে। সেন্সরে গ্যাসের অস্তিত্ব মেলার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এলার্ম বেজে উঠবে এবং এরজাস্ট ফ্যান চালু হবে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘরের দরজা-জানালা খুলে যাবে। এতে গ্যাস লিকেজের ফলে ঘরে থাকা গ্যাসের পরিমাণ কমে যাবে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি প্রায় শতভাগ হ্রাস পাবে।

    cu-versity

    শুধু তাই নয়, গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লাগালে তা নেভানোর বন্দোবস্ত রাখা রয়েছে দুই ভাইয়ের আবিষ্কৃত যন্ত্রে। আগুনের সূত্রপাত হলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চালু হবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে বলে জানায় ক্ষুদে বিজ্ঞানী হাসিন।

    এর আগে বেলা ১১টায় কার্নিভালের উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতখোর উদ্দিন চৌধুরী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্টিফিক সোসাইটির সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম এজাজের সভাপতিত্বে এবং সদস্য ইশমাম আরাবী ও সাবরিনা আলমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত এবং কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হানিফ সিদ্দিকী।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে সেমিনার বক্তা হিসেবে ছিলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান এবং একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লায়লা খালেদা আঁখি।

  • নুসরাত হত্যা: মানি লন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে সিআইডি

    নুসরাত হত্যা: মানি লন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে সিআইডি

    ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় মানি লন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি ফারুক হোসেন।

    মঙ্গলবার এই হত্যাকাণ্ডে তদন্তে এসে মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন ও বিভিন্ন জনের সাথে প্রাথমিক আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় মামলা তদন্ত কমিটির তিন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    মানববন্ধন: ফেনীতে নুসরাত হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কালিদহ এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় মানববন্ধন করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। স্কুলের সামনে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্লেকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে সিরাজ উদ দৌলাহ সকল আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে।

    মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এম এ হান্নান, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনসহ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা। বক্তারা ঘটনার নেপথ্যে থাকা সিরাজ উদ দৌলাসহ এই ঘটনায় জড়িত সকলকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেন।

  • শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মচারীরা এখন এক দাবিতে ঐক্যবদ্ধ তা হলো ভিসির পদত্যাগ

    শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মচারীরা এখন এক দাবিতে ঐক্যবদ্ধ তা হলো ভিসির পদত্যাগ

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হকের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এছাড়া দুপুর দেড়টার দিকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে গণস্বাক্ষর নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    অবস্থান কর্মসূচি থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করা হয়। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মচারীরা এখন এক দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। তা হলো ভিসির পদত্যাগ।

    ভিসি স্বৈরাচার এবং নিপীড়নকারী উল্লেখ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ভিসি পদত্যাগ করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। ভিসি পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, উপাচার্য আমাদের আন্দোলন দমিয়ে দিতে এরই মধ্যে নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে এতে আন্দোলনে কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্টো এ ঘটনার পর আন্দোলন বেগবান হয়েছে। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

    barishal-Vice-Chancellor

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা ২৯তম দিনের মতো আন্দোলন করে আসছে। আন্দোলন প্রত্যাহারের একটাই পথ- সেটি হলো উপাচার্যের পদত্যাগ। বিকল্প কোনো পথ নেই।

    গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেন উপাচার্য। তার ওই বক্তব্যের পর ২৮ মার্চ থেকে ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তারা। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্লাস-পরীক্ষা এবং আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে।

    শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে ওইদিনই তার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। উপাচার্য ২৯ মার্চ তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। তারা তার পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মশাল মিছিল, রক্ত দিয়ে দেয়াল লিখন, প্রতীকী অনশন, কালো কাপড়ে মুখে বেঁধে বিক্ষোভ এমনকি মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের চলমান আন্দোলনের মুখে উপাচার্য ইমামুল হক গত বৃহস্পতিবার ১৫ দিনের ছুটির জন্য আবেদন করেছেন।

  • এইচ এস সি পরীক্ষা আর দেয়া হল না মোঃ মাইনউদ্দিনের

    এইচ এস সি পরীক্ষা আর দেয়া হল না মোঃ মাইনউদ্দিনের

    স্টাফ রিপোর্টারঃ শাওন অরন্য:

    গতকাল ২১ এপ্রিল রবিবার বিকাল ৪ টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি -২ সংলগ্ন শাহ আলম কাজীর বাড়ির সামনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোঃ মাইনউদ্দিন (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়।

    মোঃ মাইনউদ্দিন বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে পড়াশুনা করতেন।তিনি এবার এই কলেজ থেকে এইচ এস সি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। শাহজাহান হাওলাদারের পুত্র মাইনউদ্দিন। তার বাড়ি বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, সৌখিন নামে একটি লোকাল বাস ধামুরা থেকে বরিশাল যাওয়ার পথে মাইনউদ্দিনকে ধাক্কা দেয়।ধাক্কার ফলে তিনি মারাত্মক আকারে আহত হয়ে পরেন।

    আহত মাইনউদ্দিনকে স্থানীয় লোকজন সাথে সাথে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়। ভোররাতের দিকে মাইনউদ্দিনের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। চিকিৎসা চলাকালিন সময় তিনি মারা যান।

  • নতুন সংগঠনের ঘোষণা ডাকসু ভিপি নুরের

    নতুন সংগঠনের ঘোষণা ডাকসু ভিপি নুরের

    নতুন ছাত্রসংগঠন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর।

    আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিলেও গত শুক্রবার ঢাবি ক্যাম্পাসে কোটা সংরক্ষণ আন্দোলনের সংগঠন ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদে’র এক বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।

    ডাকসু ভিপি নুর এ সময় ছাত্রসংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা দেন। তিনি তার বক্তৃতায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তাদের ওপর হামলা, অপপ্রচারের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন। নুর বলেন, দেশব্যাপী তাদের প্রতি বিশাল অংশের মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাদের নতুন এই সংগঠন দুর্নীতি, সন্ত্রাস, দখলদারিসহ অব্যবস্থাপনার বিপক্ষে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

    প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নির্যাতনের শিকার নুরুল হক নুর ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন।

  • কলেজে ভর্তি শুরু ১২ মে

    কলেজে ভর্তি শুরু ১২ মে

    দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে (উচ্চ মাধ্যমিক) শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১২ মে। প্রথম পর্যায়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ১০ জুন। ভর্তি শুরু হবে ২৭ জুন, ১ জুলাই থেকে শুরু হবে ক্লাস।

    অন্যান্য বছরের মতো এবারও অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন করতে হবে। এবারও ভর্তিতে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ পছন্দের ১০টি কলেজের নাম দিতে পারবেন।

    রোববার (২১ এপ্রিল) ‘২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা-২০১৯’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

    এবারও এসএসসির ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। অনলাইন ও টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে এসএমএসে ভর্তির আবেদন করা যাবে ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত। অনলাইনে আবেদনের ঠিকানা www.xiclassadmission.gov.bd

    যারা ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন তাদেরও এ সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আটটি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড থেকে ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন।

    আর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে উত্তীর্ণরা একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স হবে ২২ বছর।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনলাইনে ১৫০ টাকা আবেদন ফি জমা দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের জন্য পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আবেদন করা যাবে।

    এসএমএসের মাধ্যমে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রতি কলেজের জন্য ১২০ টাকা ফি দিতে হবে। এক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করা যাবে।

    একজন শিক্ষার্থী যতগুলো কলেজে আবেদন করবে তার মধ্য থেকে শিক্ষার্থীর মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি মাত্র কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে বলে নীতিমালায় জানানো হয়েছে।

    নীতিমালা অনুযায়ী আগামী ২৪ থেকে ২৬ মের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে। পুনঃনিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে তারা ৩ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পছন্দক্রম পরিবর্তন করা যাবে ৫ জুন থেকে।

    ১০ জুন প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে। প্রথম তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ১১ থেকে ১৮ জুন সিলেকশন নিশ্চয়ন (যে কলেজের তালিকায় নাম আসবে ওই কলেজেই যে শিক্ষার্থী ভর্তি হবেন তা এসএমএসে নিশ্চিত করা) করতে হবে।

    ২১ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ে এবং ২৫ জুন তৃতীয় পর্যায়ের ফল প্রকাশ করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা ২২-২৩ জুন সিলেকশন নিশ্চয়ন এবং তৃতীয় পর্যায়ে তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ২৬ জুন সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। ২৭ থেকে ৩০ জুন শিক্ষার্থী ভর্তি শেষে আগামী ১ জুলাই ক্লাস শুরু হবে।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিভাগীয় এবং জেলা সদরের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজের শতভাগ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। মেধার ভিত্তিতে ভর্তির পরে যদি বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কোনো আবেদনকারী থাকে তাহলে মোট আসনের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য, ৩ শতাংশ বিভাগীয় ও জেলা সদরের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য, ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্ত দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্দের সদস্যদের সন্তানদের জন্য, ০.৫০ শতাংশ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এবং ০.৫০ শতাংশ প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

    তবে উপযুক্ত কোটায় যদি প্রার্থী পাওয়া না যায় তবে এ আসন কার্যকর থাকবে না। বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণরা যেকোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণরা মানবিকের পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তি হতে পারবে। ব্যবসায় শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে পারবে।

    জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান জিপিএপ্রাপ্তদের মেধাক্রম সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত অথবা জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত জিপিএ বিবেচনায় আনা হবে।

    এরপরও একই নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে সুরাহা না এলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনতে হবে। আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সমান জিপিএপ্রাপ্তদের ভর্তির ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় অর্জিত গ্রেড পয়েন্ট বিবেচনা করা হবে।

    এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট গ্রেড পয়েন্ট একই হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে অর্জিত পয়েন্ট বিবেচনায় আনতে হবে।

    ভর্তি ফি
    মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশনচার্জসহ সর্বসাকুল্যে এক হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুই হাজার টাকা এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি ফি নেয়া যাবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তিতে পাঁচ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না।

    নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এমপিওবর্হিভূত শিক্ষকদের বেতনভাতা দেয়ার জন্য ভর্তির সময় মাসিক বেতন, সেশনচার্জ ও উন্নয়ন ফি বাবদ বাংলা মাধ্যমে নয় হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না।

    উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান তিন হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। সরকারি কলেজগুলো পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি সংগ্রহ করবে। অনুমোদিত সকল ফি রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ফি যতদূর সম্ভব মওকুফ করতে বলা হয়েছে নীতিমালায়।

    কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনুমোদিত ফির বেশি নেয়া যাবে না উল্লেখ করে নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তি নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটানো হলে বেসরকারি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাঠদানের অনুমতি বাতিলসহ এমপিওভুক্তি বাতিল করা হবে। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতিবিহীন কোনো কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো অবস্থায়ই ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা যাবে না। সব বোর্ড এক্ষেত্রে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দেবে। পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত শাখা এবং কোনো বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা যাবে না।

  • বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রর ভ্রাম্যমাণ বইমেলা

    বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রর ভ্রাম্যমাণ বইমেলা

    স্টাফ রিপোর্টার// শাওন অরন্য:

    বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রর ভ্রাম্যমাণ বইমেলা এখন বরিশাল অঞ্চলে। প্রায় দেড়শত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ১০,০০০ বিখ্যাত বই নিয়ে এবারের বই মেলা শুরু হয়েছে গতকাল ২০ এপ্রিল বাকেরগঞ্জে।

    এই বইমেলা ৩ ভাগে ভাগ করা হয়ছে। বই মেলা হবে বাকেরগঞ্জ, ঝালকাঠি ও বরিশালে। বাকেরগঞ্জে এ মেলা চলবে ২০ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত।

    বাকেরগঞ্জ পৌড়সভা অডিটোরিয়াম প্রতিদিন দুপুর ০২ টা থেকে রাত ০৮ পর্যন্ত চলবে এ মেলা। ঝালকাঠিতে বই মেলা শুরু হবে ২৪ এপ্রিল এবং শেষ হবে ২৭ এপ্রিল।ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়মে প্রতিদিন দুপুর ০২ টা থেকে রাত ০৮ পর্যন্ত চলবে এ মেলা।

    ৩য় ভাগের বই মেলা বরিশালে শুরু হবে ২৮ এপ্রিল এবং শেষ হবে ০২ মে। বরিশাল ব্রজমোহন বিদ্যালয় (বি এম স্কুল) অডিটোরিয়ামে প্রতিদিন দুপুর ০২ টা থেকে রাত ০৮ পর্যন্ত চলবে এ মেলা। জম্পেশ আড্ডা জমাতে এবারের বই মেলায় থাকছে আড্ডা কর্নার।