Category: শিক্ষাঙ্গন

  • ক্লাস নিলেন তথ্যমন্ত্রী

    ক্লাস নিলেন তথ্যমন্ত্রী

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টা থেকে ক্লাস শুরু করে এক ঘণ্টা ক্লাস নেন তিনি।

    ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সে গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়ক ৫০২ নম্বর কোর্সের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে আজ শেষ ক্লাস নিয়েছেন তিনি।

    গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে একটি ক্লাস নেয়ার পর শিক্ষার্থীরা হাছান মাহমুদকে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে পেতে ইচ্ছা পোষণ করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি এবং অনুরোধে হাছান মাহমুদ গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

    JU-VERSITY-(2)

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ ক্লাস নিতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেও আমি পরিবেশ বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছি। রাজনীতিবিদদের ক্লাস নেয়া নতুন নয়, বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদরা ক্লাস নেন।

    পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়া অব্যাহত রাখবেন কিনা জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব কিছু মিলিয়ে সম্ভব হলে শিক্ষকতা অব্যাহত রাখব।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, তথ্যমন্ত্রীকে আমাদের বিভাগের শিক্ষক হিসেবে পেয়ে আমরা খুশি এবং আনন্দিত। আমরা চাই পরবর্তীতে যেন তিনি আমাদের বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। শিক্ষার্থীরাও তার ক্লাস করতে আগ্রহী।

    দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন খ্যাতিমান পরিবেশবিদ হিসেবে পরিচিত হাছান মাহমুদ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আওয়ামী লীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সরকারের পরিবেশমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হন। পরে দলের অন্যতম মুখপাত্র এবং জাতীয় সংসদের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় সফলতার সঙ্গে কাজ করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হন এবং তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান হাছান মাহমুদ।

  • প্রাথমিকের শিক্ষকদের সন্তানরা কিন্ডারগার্টেনে পড়তে পারবে না: প্রতিমন্ত্রী

    প্রাথমিকের শিক্ষকদের সন্তানরা কিন্ডারগার্টেনে পড়তে পারবে না: প্রতিমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক:

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সন্তানরা কিন্ডারগার্টেনে পড়তে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন। এতে প্রাথমিকে শিক্ষার মান বাড়াতে শিক্ষকরা উদ্যোগী হবেন বলে দাবি তার।

    গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    মো. জাকির হোসেন বলেন, মানসম্মত শিক্ষার জন্য সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করা হবে। প্রতিটি স্কুলের পাঠদানের সূচি একরকম হবে বলেও জানান তিনি।

    সব স্কুলে স্কাউট গঠনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া, অবসরে যাবার দুই মাসের মধ্যে শিক্ষকরা যেন পেনশনের টাকা পান সরকার সেই ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

  • বরিশাল বিভাগে আড়াই লাখ পরীক্ষার্থী, প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু ১৫ মার্চ

    বরিশাল বিভাগে আড়াই লাখ পরীক্ষার্থী, প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু ১৫ মার্চ

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা আগামী ১৫ মার্চ থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। তবে এসএসসি পরীক্ষার কারণে তা পিছিয়ে মার্চে নেয়া হয়েছে। এবার পরীক্ষা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮’ পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ মার্চ থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা মার্চে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ পাবলিক পরীক্ষার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্র সংকট থাকায় লিখিত পরীক্ষ ৪টি অথবা ৫টি ধাপে আয়োজন করা হবে।’ নিয়োগ-সংক্রান্ত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সভা সূত্রে জানা গেছে, এবার নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে নেয়া হবে। নির্ধারিত জেলায় পরীক্ষা আয়োজনের আগের রাতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রশ্নপত্রের সকল সেট পাঠানো হবে। পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে তা কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে।

    সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে ১২ হাজার পদে ২৪ লাখের বেশি আবেদনকারী হওয়ায় এবার প্রথমবারের মতো লিখিত পরীক্ষা কয়েকটি ধাপে আয়োজন করা হবে। তবে এবার একসঙ্গে সকল জেলার ফল প্রকাশ করা হবে না। যে জেলার পরীক্ষা আগে শেষ হবে সেখানে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে আগেই মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এভাবে যে জেলার পরীক্ষা আগে শেষ হবে পর্যায়ক্রমে আগেই মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

    কর্মকর্তারা জানান, পাশাপাশি বসা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যাতে একই সেট না পায় সেই জন্য এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রার্থীদের প্রশ্ন সেট নির্ধারণ করা হবে। পরীক্ষার্থীর রোল নম্বরের ওপর প্রশ্ন সেট নির্ধারণ করা হবে। এবার পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শক নিয়োগের ক্ষমতা কেন্দ্র সুপারের কাছে থাকছে না। এক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে অন্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেয়া হবে। সেন্ট্রাল থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকদের শুধু দায়িত্ব বুঝে দেবেন কেন্দ্র সুপার।

    মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনজুর কাদির বলেন, ‘স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নিয়োগ পরীক্ষায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরীক্ষার দিন প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। যদি কেউ কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে লিপ্ত হয় তাহলে পরীক্ষা কেন্দ্রে তাকে বহিষ্কার করে সেই প্রার্থীর খাতা বাতিল করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা পদ্ধতি ডিজিটালাইজড করতে আমরা বুয়েটের সহায়তায় একটি আধুনিক সফটওয়্যার তৈরি করেছি। সেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর সিট বিন্যাস, পরিদর্শক নির্বাচনসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য বারের চাইতে ২০১৮ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী আবেদন করেছেন। গত বছরের ১ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়। এ সময়ের মধ্যে ২৪ লাখের বেশি আবেদন জমা হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৫টি, রাজশাহী বিভাগে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৯২৫টি, খুলনা বিভাগে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩০টি, বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৭টি, সিলেট বিভাগে ১ লাখ ২০ হাজার ৬২৩টি, রংপুর বিভাগে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৬৮টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ লাখ ৮২ হাজার ৪৩৭টি আবেদন জমা হয়েছে।

    ডিপিই কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ নিয়োগে প্রায় ১২ লাখ প্রার্থী আবেদন করেছিল। এই হিসাবে এবার আবেদনকৃত প্রার্থীর সংখ্যা এবার দ্বিগুণ। গত নিয়োগে সারাদেশে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৬২। এবার দ্বিগুণ প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয় ২০ সেটের বেশি প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। পরীক্ষার সময়সূচি, ওএমআর ফরম ডিজাইন ও মূল্যায়ন, ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রম কোন পদ্ধতিতে করা হবে তা বুয়েট কর্তৃক নির্ধারণ করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবারও আগের মতোই লিখিত ও মৌখিক দুই স্তরেই পরীক্ষা নেয়া হবে। আগের নিয়ম অনুযায়ী এমসিকিউ পদ্ধতির লিখিত পরীক্ষা ৮০ নম্বর ও ভাইভায় ২০ নম্বর থাকবে।

    প্রার্থীরা dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। এ ছাড়া ওএমআর শিট পূরণের নির্দেশাবলী এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য ওয়েবসাইট (www.dpe.gov.bd) এ পাওয়া যাবে।

  • মন্ত্রীদের হুঁশিয়ারি আমলেই নিচ্ছে না স্কুলগুলো

    মন্ত্রীদের হুঁশিয়ারি আমলেই নিচ্ছে না স্কুলগুলো

    ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল) কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও রাজধানীর স্কুলগুলো তা আমলেই নিচ্ছে না। স্কুলগুলোতে ইচ্ছেমতো ফি আদায়, সেশন চার্জসহ বিভিন্ন অজুহাতে বিশৃঙ্খলা চলছেই। সরকারের ভর্তি নীতিমালায় বাংলা মাধ্যমের স্কুলে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনের জন্য ১০ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করে দিলেও এর চেয়ে দ্বিগুণ ও তিনগুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এই বিশৃঙ্খলা শুরু হওয়ায় উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরা।

    এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে নতুন পোশাক, খাতা-কলম, পেন্সিল, কোচিং ও উন্নয়ন ফি, মডেল টেস্ট, নিবন্ধন ফি, সহায়ক বই দেয়ার নামেও মোটা অংকের ফি আদায় করা হচ্ছে। নার্সারি শাখা, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব স্তরেই ভর্তিতে নৈরাজ্য চলছে। আবার শিক্ষা ব্যবসায়ীরা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই বাহারি নামে স্কুল চালু করে ইচ্ছেমত ফি আদায় করা হচ্ছে বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শুক্রবার চাঁদপুরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়মবহির্ভূত কাজ এবং অন্যায়। ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি, পরীক্ষাসহ সবক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি নেয়া হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীও (নওফেল) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকার বেসরকারি স্কুলগুলো সব মিলিয়ে বাংলা মাধ্যমে ৮ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নিতে পারবে। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে কোন প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না এবং পুনর্ভর্তির ফি নেয়া যাবে না। কিন্তু অধিকাংশ স্কুলেই পুনর্ভর্তিতে ইচ্ছেমত ফি আদায় করা হচ্ছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খিলগাঁওয়ে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সংবাদকে জানান, নবম শ্রেণীতে পুনর্ভর্তিতে তার ছেলেকে কেবল সেশন চার্জই দিতে হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার টাকা।

    একই এলাকার মাইস্টিক স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক শাখায় ভর্তিতে ৩০ হাজার টাকা নিচ্ছে। সবুজবাগ থানার বাসাবোর লিটল এঞ্জেল টিচিং হোম স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি ফি নেয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা, আর মাসে বেতন নেয়া হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা। দীপ শিক্ষা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি ফি নেয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা।

    সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ভর্তি ফি নিচ্ছে ৫০ হাজার, লাইট ফেয়ার স্কুলে ভর্তি ফি ৩২ হাজার টাকা ও মাসিক বেতন এক হাজার ৬০০ টাকা, গ্রিন উডস স্কুলে ১০ হাজার টাকা, ফিরোজা বাশার আইডিয়াল স্কুলে নেয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা।

    মোহাম্মদপুরে জেনেসিস প্রি-স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি ফি নেয়া হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা; পাশাপাশি মাসিক প্রায় দুই হাজার টাকা হারে ২/৩ মাসের আগাম বেতনও গুণতে হচ্ছে অভিভাবকদের।

    জেনেসিস স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাহজাহান মোল্লা বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ কেবল ভর্তি ফি’ই নিয়েছে ১৫ হাজার টাকা। এছাড়াও ভর্তির সময় শিক্ষকরা স্কুল সংলগ্ন একটি লাইব্রেরি থেকে খাতা, কলম, পেন্সিল ও বই কেনার তাগাদা দিয়েছেন; এ খাতে আরও খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা।

    উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের বিভিন্ন শাখায় ভর্তি ফি নেয়া হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। সম্প্রতি এই স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক ও কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর হারুন উর রশিদ। তারা স্কুল কর্তৃপক্ষকে সহনশীল মাত্রায় ভর্তি ফি আদায়ের পরামর্শ দিয়েছেন বলে স্কুলের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

    উত্তরার অপর একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছেমতো ফি আদায়ের সুযোগ পেয়েছে। তারা সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখালেও নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি দুর্বল মনোভাব দেখাচ্ছেন। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেপরোয়া হচ্ছে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে বিশৃঙ্খলার মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি স্কুলে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। অতিরিক্ত ফি শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের ফেরত দিতেও স্কুলগুলোকে বাধ্য করেছে দুদক। কিন্তু বেশিরভাগ স্কুলে অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় তারা অতিরিক্ত ফি আদায় করেই যাচ্ছেন। অথচ শিক্ষা প্রশাসন এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

    এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর জিয়াউল হক বলেন, আমাদের দুই সদস্যের একটি টিম স্কুলগুলোর অতিরিক্ত ফি আদায়ের ঘটনা তদন্ত শুরু করবে।প্রথমে ৪/৫ স্কুলের অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন। এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • মন্ত্রণালয়ের ৫ সমস্যা সমাধানের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

    মন্ত্রণালয়ের ৫ সমস্যা সমাধানের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

    পাঠ্যপুস্তকের কারিকুলাম পরিবর্তন, প্রশ্নফাঁস রোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, শিক্ষা প্রশাসন কার্যকর ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি।

    সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ বিভাগের আট উইং প্রধানদের সঙ্গে সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

    এ সময় মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের উপমন্ত্রী মহিবুর হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান,নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার প্রথমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উইং প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।বৈঠকে উইং প্রধানরা গত ১০ বছরের সব অর্জন ও সফলতা তুলে ধরেন।পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রজেক্টরের মাধ্যমে।এর সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যাগুলোও উল্লেখ করা হয়।

    তারা জানান,বর্তমানে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।এ বিষয়ে নতুন নতুন পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, ফরমপূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। দ্রুত এটি বন্ধ করতে নতুন পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। শিক্ষা খাত পরিচালনায় শিক্ষা প্রশাসন আরও কার্যকর করা, কোটিং বাণিজ্যের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের জন্য কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।পাশাপাশি দীর্ঘদিন আটকে থাকা শিক্ষা আইন পাসের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন হলে বিদ্যমান অনেক সমস্যা দূরীকরণ করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন উইং প্রধানরা।

    জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন ফাঁসসহ বর্তমান সঙ্কটগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দ্রুত এসব সমস্যা লাঘর করে শিক্ষা প্রশাসনকে আরও কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

    সচিব বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের জন্য পাঠ্যপুস্তকের কারিকুলাম পরিবর্তনের আলোচনা হয়েছে। তাই নতুন কারিকুলাম তৈরির জন্য বলা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাতের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এটিকে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে কীভাবে আনা সম্ভব হয় সে বিষয়েও আমরা আলোচনা করেছি।

    জানতে চাইলে সভায় উপস্থিত কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়ে সফলতা অর্জন করেছে। সেসব বিষয়ে উইং প্রধানরা সভায় নিজ নিজ অবস্থান ও কার্যক্রম তুলে ধরেন।প্রশাসনে কে কী দায়িত্ব পালন করছেন সে সর্ম্পকে ধারণা দেয়া হয়েছে।

    শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন,উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আমরা বিশ্বাস করি, তাই বিগত দিনে শিক্ষাখাতে সব উন্নয়নে যে ধারা ছিল তা বজায় রাখা হবে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের দায়িত্ববোধ সর্ম্পকে অবগত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে। সভায় সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয় শাখা, কলেজ শাখার দুই শাখা, বিশ্ববিদ্যালয়,উন্নয়ন, প্রশাসন,পরিকল্পনা উইং প্রধান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন সহকারী শিক্ষক, ধামাচাপায় ব্যস্ত প্রধান শিক্ষক

    শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন সহকারী শিক্ষক, ধামাচাপায় ব্যস্ত প্রধান শিক্ষক

    নীলফমারীর সৈয়দপুরে শ্রেণিকক্ষে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাবাড়ী শিশুমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ স্কুলছাত্রীর মায়ের।

    নির্যাতিত ছাত্রীর মা বলেন, আমার মেয়ে বাড়ির শিশুমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। বুধবার সকালে সে অন্যান্য দিনের মতো স্কুলে যায়। দুপুরের দিকে আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসে আমাকে জানায়, জাহিদুল মাস্টার তার সাথে খারাপ কাজ করেছে। অনেক বোঝাবুঝির পড়ে মেয়ে আমাকে ঘটনা খুলে বলে।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার ৫ জন শিক্ষকের স্থলে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য দুজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় দুপর দেড়টার দিকে স্কুল ছুটি দেয় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম। এ সময় মাঠে খেলতে থাকা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীটিকে ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণ করে।

    ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, তিনি বৃহস্পতিবার বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি মিমাংসা করার কথা বলেন। এলাকার মেম্বার নুর নবীকে জানালে শনিবার সকালে সেও মীমাংসার কথা বলে টালবাহানা শুরু করে। এরপর প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান মিমাংসা করার জন্য বার বার চাপ দিতে থাকলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ দিতে চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

    এলাকাবাসী জানায়, জাহিদুল ইসলাম এর আগেও এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে গেছে। কিছু দিন আগে সংরক্ষিত আসনের ওয়ার্ড মেম্বারকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে।

    প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, বুধবার আমি ছুটিতে ছিলাম। তবে ঘটনাটি বৃহস্পতিবার মেয়েটির মা আমাকে জানিয়েছে। মিমাংসার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

    কামারপুকুর ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন জানান, ঘটনার ৪ দিন পর শনিবার দুপুর ১টার দিকে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

    উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান মন্ডল জানান, ঘটনাটি কিছুক্ষণ আগে প্রধান শিক্ষকের কাছে শুনেছি। ছাত্রীটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া জানান, অভিযোগ পেলে ছাত্রীটিকে সকল প্রকার আইনি সহায়তা দেয়া হবে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    এদিকে রোববার তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেননি এবং তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  • এতিম দুই ভাইয়ের সারাজীবনের দায়িত্ব কাঁধে নিলেন এমপি

    এতিম দুই ভাইয়ের সারাজীবনের দায়িত্ব কাঁধে নিলেন এমপি

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এতিম ভাইকে উচ্চশিক্ষিত করা পর্যন্ত সকল ব্যায় বহন ও সারাজীবনের দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল।

    শনিবার দুপুরে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাঞ্চনপুরের আল আরাফাহ্ দাখিল মাদ্রাসায় এক অনুষ্ঠানে ওই শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেন তিনি।

    এতিম দুই ভাই হলো- একই এলাকার অক্সফোর্ড কিন্ডার গার্টিনের প্লে শ্রেণির ছাত্র মো. নিহাদ ও মো. আহাদ হোসেন। তারা সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করা স্থানীয় শিবপুর গ্রামের সিএনজি চালক ইউছুফের ছেলে।

    এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে মাদ্রাসাটির বহুতল ভবন নির্মাণের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন এমপি। এখানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ৭৫ লাখ টাকা ব্যায়ে ৪র্থ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানা যায়।

    অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বেলাল হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মামুনুর রশীদ, উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার, পৌর মেয়র ইসমাইল হোসেন খোকন, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান, শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রমুখ। সভায় মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বাল্য বিবাহকে না বলতে শিক্ষার্থীদের শপথ করানো হয়।

  • বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পাঠচক্র, বরিশাল পাঠক এবং স্বেচ্ছাসেবক সদস্য সংগ্রহ করছে

    বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পাঠচক্র, বরিশাল পাঠক এবং স্বেচ্ছাসেবক সদস্য সংগ্রহ করছে

    হুজাইফা রহমান:

    “আলোকিত মানুষ চাই” স্লোগানকে সামনে রেখে আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পাঠচক্র বরিশাল নির্ধারিত কর্মসূচির আওতায়, নতুন পাঠক সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবক সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে।

    শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ্যাভাসে আগ্রহী করে তুলে বই পড়া এবং অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণে শিক্ষার্থীদের উদবুদ্ধ করে তোলার অংশ হিসেবে এই সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচী পরিচালিত হবে নগরীর সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গুলোতে।

    বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পাঠচক্র, বরিশালের সহ- সমন্বয়কারী এবং সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচী কমিটির আহবায়ক জনাব ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে আজ (৫ জানুয়ারী) বরিশালের স্বনামধন্য অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় এবং সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে পাঠচক্রের পাঠক এবং স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচী বাস্তবায়িত হয়। খুব দ্রতই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী সদস্য সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যম সদস্য সংগ্রহ করা হবে।

    পাঠচক্রের সমন্বয়কারী জনাব বাহাউদ্দিন গোলাপ এ সম্পর্কে জানান, আলোকিত মানুষ গড়ার যে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পাঠচক্র বরিশাল কাজ করে যাচ্ছে,সেই আলোর মিছিলে নতুনদের যুক্ত করে এ আন্দোলনকে আরো বেগমান করা এবং শিক্ষার্থীদেরকে নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে এনে,তাদের জ্ঞানের রাজ্যকে আরো বিস্তৃত এবং সুসংগঠিত করাই এই কর্মসূচীর উদ্দেশ্য।

    উল্লেখ্য,যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পাঠচক্র,বরিশাল নগরীর প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানান ধরণের বই ও বিষয় নিয়ে নিয়মিত পাঠচক্র পরিচালনা এবং নানাবিধ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে,এ অঞ্চলে শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে।

  • সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মরণে মিলাদ ও প্রার্থনা সভা

    সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মরণে মিলাদ ও প্রার্থনা সভা

    জননেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অকালপ্রয়াণ স্মরণে মিলাদ অনুষ্ঠান ও প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

    শুক্রবার আসরের নামাযের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল এবং জগন্নাথ হল মন্দির প্রাঙ্গণে, সন্ধ্যা ৬ টায় প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ৯টা ৪০মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মারা যান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  • টাকার বিনিময়ে নতুন বই পাওয়ার অভিযোগ

    টাকার বিনিময়ে নতুন বই পাওয়ার অভিযোগ

    নাটোরের সিংড়ায় টাকার বিনিময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বই দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মহিষমারী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী অফিসার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে জরুরি ভিত্তিতে ডেকেছেন।

    অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে সারাদেশের ন্যায় এই স্কুলেও বিনামূল্যে বই বিতরণ করার কথা ছিল।  কিন্তু ঘটনা বাস্তবে উল্টো। স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৫০ জন শিক্ষার্থীদের বই নিতে প্রত্যেককে গুনতে হয়েছে ২৫০-৩০০ টাকা। এমনকি টাকা দিতে না পারায় ২৫-৩০ জনকে বই দেয়া হয়নি।

    স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী বিথির বাবা ভ্যানচালক বাবলু জানান, আমি একজন ভ্যানচালক, দিন এনে দিন খাই। টাকা দিতে পারিনি বলে আমার মেয়েকে বই দেয়নি। পরে টাকা ধার করে বই এনেছি।

    একই শ্রেণির সুমাইয়া খাতুনের বাবা সেকেন্দার জানান, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী বিনামূল্যে বই দেয়, আমরা গরীব বলে কি আমাদের ছেলে-মেয়ে বই পাবে না?

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আ. আলিম জানান, সেশন ফি হিসেবে টাকা নেয়া হয়েছে।  রশিদ দেয়া হয়নি কেন চানতে চাইলে তিনি বলেন, পরে দেয়া হবে।

    স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও চামারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান স্বপন মোল্লা বলেন,ম্যানেজিং কমিটির সভায় এ টাকা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এটা সেশন ফি হিসেবে গণ্য হবে।

    বই না পেয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা ফিরে গেল কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, সেদিন কোনো সেশন ফি নেয়া যাবে না, এ বিষয়ে তাদের ডাকা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।