Category: শিক্ষাঙ্গন

  • ১০ টাকায় চা-সিঙ্গারা-সমুচা-চপ ঢাবির গর্ব: উপাচার্য

    ১০ টাকায় চা-সিঙ্গারা-সমুচা-চপ ঢাবির গর্ব: উপাচার্য

    দশ টাকায় এক কাপ চা, একটা সিঙ্গারা, একটা চপ এবং একটি সমুচা পাওয়া যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানতে পারলে গিনেস বুকে রেকর্ড হবে। এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

    রবিবার টিএসসিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

    ঢাবি উপাচার্য বলেন, তুমি পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও পাবে না দশ টাকায় এক কাপ চা, একটা সিঙ্গারা, একটা চপ এবং একটি সমুচা। বাংলাদেশে এটা পাওয়া যায়। এটি যদি কোনো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জানতে পারে, তাহলে এটা গিনেস বুকে রেকর্ড হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘দশ টাকায় গরম পানিও তো পাওয়া যাবে না রাস্তায়। অথচ দশ টাকায় এক চা, একটা সিঙ্গারা, একটা সমুচা এবং একটা চপ এগুলো পাওয়া যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি)। এটি আমাদের গর্ব, এটি আমাদের ঐতিহ্য।’

    বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে ঢাবির অবদানের কথাও স্মরণ করেন উপাচার্য। বিষয়টি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ব করার মতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    আখতারুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নয়। এটি এমন এক বিশ্ববিদ্যালয় যেটি একটি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে তোমরা গর্ব করতে পারো।

  • বয়স ১০ হলেই জাতীয় পরিচয়পত্র দেবে ইসি

    বয়স ১০ হলেই জাতীয় পরিচয়পত্র দেবে ইসি

    অনলাইন ডেস্ক:

    জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী যাতে সবাই স্কুলে ভর্তি হতে পারে সে জন্য ১০ বছর বয়স হলেই শিশুকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এ বছর মাঝামাঝি সময় থেকে এটি চালু হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এসব শিশুকে অস্থায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হবে। 

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক সময় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নাম ও বয়সের সঙ্গে এনআইডিতে দেয়া নাম ও বয়সের মিল থাকে না। বিষয়টি মাথায় রেখে শিশুদের এনআইডি দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সের শিশুদের জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে প্রতিটি স্কুলে যাবে ইসি। শিক্ষকদের মাধ্যমে ফরম পূরণ করা হবে। আর যেসব শিশুরা পড়াশুনা করে না তাদেরকে নির্দিষ্ট দিনে উপজেলা/থানা নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে নিবন্ধন করা হবে।

    এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম-সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেসন্স) মো. আবদুল বাতেন বলেন, চলতি বছর ১০ বছর থেকে ১৮ বছরের কম বয়সীদের নিবন্ধন করে তাদেরকে অস্থায়ী লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি।

    তিনি বলেন,পরবর্তীতে বয়স ১৮ বছর হলে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং অস্থায়ী কার্ডের পরিবর্তে তাদেরকে স্মার্টকার্ড দেয়া হবে। এ কাজের জন্য ইসির প্রস্তুতি আছে।

  • ফেসবুক মাদকের মতো এক ধরনের নেশা : ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ফেসবুক মাদকের মতো এক ধরনের নেশা : ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুন্সীগঞ্জে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পাঠাভ্যাস চর্চা কেন্দ্র আয়োজিত দুইদিন ব্যাপী বিজ্ঞান উৎসব শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ বিজ্ঞান উৎসবের উদ্বোধন করেন জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

    এরপর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বই পড়া একটা অসাধারণ ব্যাপার। যে বই পড়ে সে অন্যদের থেকে আলাদা। তবে, দুঃখজনকভাবে বিশ্বব্যাপী বই পড়া কমে গেছে। আমার ফেসবুক একাউন্ট নেই। তবে যা শুনি, ফেসবুকে যত বেশি লাইক তত বেশি আনন্দ। পৃথিবীতে তথ্যের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তথ্য আছে গুগল, ফেসবুক, আমাজন- এদের কাছে। তুমি তোমার পরিশ্রম ও সময় ব্যয় করে ফেসবুককে লাভবান করছ। তোমার পছন্দ, অপছন্দ সব জানে গুগল। এখান থেকে বের না হলে তোমরা আর স্মার্ট থাকবে না। পৃথিবীতে এখন একটা সময় যাচ্ছে যখন আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে।

    জাফর ইকবাল আরও বলেন, তুমি তোমার জীবন নিয়ে কি করবে তা তোমাকে ভাবতে হবে। আগামী ১০ বছর পর এসব (ফেসবুক) থাকবে না বলে আমার মনে হয়। ফেসবুক মাদকের মতো এক ধরনের নেশা। ফেসবুক ব্যবহার কর, কিন্তু আসক্ত হয়ো না।

    তিনি বলেন, তোমরা যদি জিপিএ-৫ এর জন্য নয়, জানার জন্য লেখাপড়া কর তবে বাংলাদেশটা বদলে যাবে। বাংলাদেশের দায়িত্ব তোমাদের হাতে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা। ফজিলাতুন্নেছা তানিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মেজর গাজী মোহাম্মদ তাওহিদুজ্জামান, শিক্ষক ও বিজ্ঞান লেখক সফিক ইসলাম ও দৈনিক সভ্যতার আলোর সম্পাদক মীর নাসির উদ্দিন উজ্জ্বল।

  • দুই যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-৮, প্রশ্নপত্র দেয়ার কথা বলে টাকা নিত তারা

    দুই যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-৮, প্রশ্নপত্র দেয়ার কথা বলে টাকা নিত তারা

    অনলাইন ডেস্ক:

    জেএসসি, পিইসি, এসএসসিসহ অন্যান্য পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও বিতরণের প্রলোভনে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-৮। তাদের কাছ থেকে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও ব্যবহৃত সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

    আটকরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর থানার ঢাকপার এলাকার ওহাব শেখের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২০) এবং একই এলাকার গোঞ্জর শেখের ছেলে লিমন (১৯) । এদের মধ্যে তারিকুল ইসলাম সরকারি মোকসেদপুর কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং রিমন গোবিন্দপুর ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে র‌্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সজীবুল ইসলাম সজীব বলেন, ‘PSC JSC SSC HSC ALL EXAM HELP LINE’ নামে ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে জেএসসি, পিইসি, এসএসসি ও এইচএসসির ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রির স্ট্যাটাস দিত তারা। তাদের দেয়া স্ট্যাটাস দেখে অনেক সুযোগ সন্ধানী শিক্ষার্থীরা প্রলোভনে পড়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে সুযোগ সন্ধানী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণা করে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত তারা। এছাড়াও তারা মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপে ও গোপন গ্রুপে কথোপকথন চালিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করত এবং ফাঁদে ফেলতো। এমন সংবাদের ভিত্তিতে তারিকুল ও লিমনকে সকালে তাদের বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া তাদের মোবাইল ফোন, ব্যবহৃত সিম কার্ড ও ফেসবুক আইডির তথ্য বিশ্লেষণ করে ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রির ব্যাপারে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

    মেজর সজীবুল ইসলাম সজীব বলেন, এই চক্রের সঙ্গে বড় একটি গ্রুপ কাজ করছে। আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ শুরু করেছি। আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে ।

  • এবার দুদকের অভিযানে বরখাস্ত হলো প্রধান শিক্ষিকা

    এবার দুদকের অভিযানে বরখাস্ত হলো প্রধান শিক্ষিকা

    অনলাইন ডেস্ক:

    ছাত্র ভর্তিতে টাকা আদায়ের প্রমাণ পেয়ে বরখাস্ত করা হল মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নূরজাহান হামিদাকে। এদিকে মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নূরজাহান হামিদার বিরুদ্ধে ভাউচার এবং কোনো প্রমাণ ছাড়া ৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এই টাকা গরীব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি বাণিজ্য করে আদায় করেছেন বলে জানিয়েছেন দুদক।

    এ বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তির জন্য বেআইনিভাবে অর্থ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগে মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরজাহান হামিদাকে বরখাস্ত করা হয়। এদিকে সোমবার ২৮ জানুয়ারি দুদকের হটলাইনে (১০৬) ভুক্তভোগী অভিভাবকরা অভিযোগ জানালে- দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।

    এদিকে দুদকের সহকারী পরিচালক নার্গিস সুলতানা ও উপসহকারী পরিচালক মোঃ সবুজ হাসানের সমন্বিত টিম অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে।

    এ সময় দুদকের অভিযানে দেখা যায়, অভিভাবকদের নিকট হতে মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরজাহান হামিদা বাধ্যতামূলকভাবে বিনা রশিদে ১০০০- ১৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন। এমনকি হতদরিদ্র ব্যক্তিদের সন্তানদেরও বিনামূল্যে ভর্তি করানো হয়নি, বরং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।

    তাছাড়া ২০১৯ সালে ভর্তি বাবদ ঐ প্রধান শিক্ষক এ যাবত এভাবে ৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। এসব টাকার কোনো আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা হয়নি। এদিকে অভিযান প্রসঙ্গে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুদক শিক্ষা সেক্টরে দুর্নীতির শেকড় উৎপাটনে কঠোর অভিযান চালাবে।

    তবে এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরও প্রতিরোধমূলক মানসিকতা থাকতে হবে। শিগগির বেআইনিভাবে আদায়কৃত অর্থ অভিভাবকদের কাছে ফেরত প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  • অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

    অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

    শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ বাধ্যতামূলকভাবে বেআইনি অর্থ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক নুরজাহান হামিদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    আজ সোমবার স্কুলটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক(জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দুদক হটলাইনে (১০৬) ভুক্তভোগী অভিভাবকদের অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংস্থার সহকারী পরিচালক নার্গিস সুলতানা ও উপসহকারী পরিচালক মো. সবুজ হাসানের সমন্বিত দল এ অভিযান চালায়।

    দুদকের অভিযানে দেখা যায়, অভিভাবকদের কাছ থেকে মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরজাহান হামিদা বাধ্যতামূলকভাবে বিনা রসিদে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। এমনকি হতদরিদ্র ব্যক্তিদের সন্তানদেরও বিনা মূল্যে ভর্তি করানো হয়নি, বরং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।

    দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ভর্তি বাবদ ওই প্রধান শিক্ষক এ যাবৎ ৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। এসব টাকার কোনো আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা হয়নি। প্রধান শিক্ষক দুদকের কর্মকর্তাদের কাছে অবৈধ অর্থ আদায়ের ঘটনা স্বীকার করেন।

    এ ঘটনা উদ্‌ঘাটন হওয়ার পরপরই দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপরই প্রধান শিক্ষক নুরজাহান হামিদাকে বরখাস্তের আদেশ জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩(ঘ) অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি থেকে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

    এ অভিযান প্রসঙ্গে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ও সংস্থার মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা খাতে দুর্নীতির শেকড় উৎপাটনে কঠোর অভিযান চালাবে দুদক। তবে এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরও প্রতিরোধমূলক মানসিকতা থাকতে হবে। দুদক হটলাইনে (১০৬) জনগণের অভিযোগকে স্বাগত জানাবে এবং প্রতিকার প্রদান করবে।

  • বেতন বাড়ছে সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকের

    বেতন বাড়ছে সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকের

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির হলেও তারা বেতন পান ১১তম গ্রেডে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সব চাকরিজীবী দশম গ্রেডে বেতন পান। এমনকি ৩৪তম বিসিএস থেকে যখন দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় তখন সবাই দশম গ্রেড পেলেও শুধু সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পেয়েছেন ১১তম গ্রেড।

    এবার প্রাথমিক স্তরের প্রধান শিক্ষকদের এই গ্রেড বৈষম্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এ নিয়ে একাধিক সভাও হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন পাবেন। একইসঙ্গে বৈষম্য কমবে সহকারী শিক্ষকদেরও। দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষক কর্মরত রয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী গ্রেড বৈষম্য কমানো হলেও এসব শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি পাবে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেডসহ বৈষম্য নিরসনের কথা বলা হয়েছে। তাই মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

    আওয়ামী লীগের ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধিসহ সরকারের নানা কল্যাণমুখী ও যুগোপযোগী উদ্যোগ সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের বেতন গ্রেডসহ শিক্ষা খাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে বৈষম্য এখনও রয়ে গেছে, আগামী মেয়াদে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

    মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সহকারী শিক্ষকদের সাথে প্রধান শিক্ষকদের বৈষম্যই শুধুই কমছে না। মাধ্যমিক স্তরের সহকারী শিক্ষকদের সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যে গ্রেড বৈষম্য রয়েছে তাও কমবে।

    বর্তমানে প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক বেতন পান ১২ তম গ্রেডে (১১৩০০ টাকা বেতন স্কেল) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১তম গ্রেডে (১২৫০০ টাকা বেতন স্কেল)। আর প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষক ১৫ তম গ্রেডে (৯৭০০ টাকা বেতন স্কেল) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ১৪তম গ্রেডে (১০২০০ টাকা বেতন স্কেল) বেতন পান।

    প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ। সহকারী শিক্ষকরা এই পার্থক্য কমানোর দাবিতে আন্দোলনও করেছেন। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বলেন, সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডও উন্নীত হবে।

    বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘আমাদের দাবি প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড। প্রধান শিক্ষকরা ১১ তম গ্রেড হলে আমাদের দাবি ১২ তম। আর প্রধান শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে পৌঁছলে আমাদের ১১তম গ্রেড দিতে হবে।

  • বরিশালে স্কুল ছাত্রকে কুপিয়ে জখম, আটক-২

    বরিশালে স্কুল ছাত্রকে কুপিয়ে জখম, আটক-২

    স্টাফ রিপোর্টার/শামীম ইসলাম:

    বরিশাল সদর উপজেলার পতাং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় গোলযোগ সৃষ্টি করতে ভলান্টিয়ার স্কুল ছাত্র মামুন গাজীকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক দুই জনকে ধারালো অস্ত্র সহ আটক করেছে মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশ।

    শনিবার (২৬ জানুয়ারী) দুপুরে এই ঘটনায় গুরুতর আহত স্কুল ছাত্র মামুন হোসেন (১৫) পতাং এলাকার আবুল কালাম গাজীর ছেলে ও পতাং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র।

    এছাড়া আটককৃতরা হলো- উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের দীনার এলাকার মাসুদ রানার ছেলে মাহামুদুল হাসান হাসিব (১৮) ও একই এলাকার সোহেল খানের ছেলে সিয়াম শাহরিয়ার হাসান শান্ত। এরা দু’জনই উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানাগেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ জানিয়েছে, পতাং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি এবং উদ্বোধক ছিলেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    ওই অনুষ্ঠানে মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে হাসিব ও শান্ত। এসময় গেটে ভলান্টিয়ারের দায়িত্বে থাকা ১০ম শ্রেণির ছাত্র মামুন তাদের বাঁধা দেয়। এতে মামুনের প্রতি ক্ষিপ্ত হয় তারা।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ও মেয়র অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের সাথে সাথে হাসিব ও শান্ত সহ তাদের সহযোগিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ভলান্টিয়ার মামুনকে কুপিয়ে রাক্তাক্ত জখম করে।

    বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত দু’জনকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের সাথে থাকা একটি স্কুল ব্যাগ থেকে একটি রামদা উদ্ধার করা হয়। আরো যারা এর সাথে জড়িত রয়েছে তাদেরকেও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আহতের পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান ওসি।

  • ৩৯ হাজার ৩১৭ জন শিক্ষককে নিয়োগের সুপারিশ করেছে

    ৩৯ হাজার ৩১৭ জন শিক্ষককে নিয়োগের সুপারিশ করেছে

    ১৫ হাজার ১৫৭টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩৯ হাজার ৩১৭ জন শিক্ষককে নিয়োগের সুপারিশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। বৃহস্পতিবার রাতে এনটিআরসিএর বিজ্ঞপ্তিতে ্এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ হাজার ১৫৭টি প্রতিষ্ঠান ৩৯ হাজার ৩১৭টি পদের বিপরীতে যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন নিবন্ধনধারী আবেদনকারীদের মধ্য থেকে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মহিলা কোটা পূরণ সাপেক্ষে সম্মিলিত জাতীয় মেধা তালিকা অনুসরণ করে সর্বোচ্চ মেধাধারীকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও প্রার্থীকে এসএমএসের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। সুপারিশকৃত প্রার্থীদের তালিকা দেখার জন্য http://ntrca.gov.bd অথবা http://ngi.teletalk.com.bd এ ক্লিক করতে হবে।

    ১৩২টি প্রতিষ্ঠানের ভুল চাহিদাজনিত কারণে ২১৮টি পদে নিয়োগের সুপারিশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এনটিআরসিএ।

    ফলাফলের বিষয়ে কোনো জিজ্ঞাসা, প্রশ্ন বা মতামত থাকলে ৪১০৩০০৪৩, ৪১০৩০০৪৭, ৪১০৩০১২৯, ০১৮১৪৩৪৬৪৩৪, ০১৭৮৬৪৭৯৩৫২, ০১৫৫৮০৫৬১৪২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছে এনটিআরসিএ।

  • খাতা চ্যালেঞ্জ করে জিপিএ-৫ পেল ফেল করা ৬ শিক্ষার্থী

    খাতা চ্যালেঞ্জ করে জিপিএ-৫ পেল ফেল করা ৬ শিক্ষার্থী

    যশোর শিক্ষাবোর্ডে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণে ১৫৯ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে অকৃতকার্য ৬ পরীক্ষার্থী পেয়েছে জিপিএ-৫।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর তবিবর রহমান জানিয়েছেন, এ বছর ১০ হাজার ৭৮৬ জন পরীক্ষার্থী প্রকাশিত ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল। বৃহস্পতিবার সেই পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, মোট ১৫৯ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তিত হয়েছে। এরমধ্যে অকৃতকার্য ৬ পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে, সি-গ্রেড থেকে ১৪ জন, বি-গ্রেড থেকে ৫ জন, এ-মাইনাস থেকে ২১ জন ও এ-গ্রেড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে আরো ৩৭ জন পরীক্ষার্থী। এছাড়া বিভিন্ন গ্রেড থেকে এ গ্রেডে উন্নীত হয়েছে ২৫ জন পরীক্ষার্থী। একইসঙ্গে ৬১ জন পরীক্ষার্থীর বিভিন্ন গ্রেডে ফল পরিবর্তন হয়েছে।