Category: অন্যান্য

  • হিংসা-বিদ্বেষ ও মলিনতামুক্ত অন্তর লাভে যে দোয়া পড়বেন

    হিংসা-বিদ্বেষ ও মলিনতামুক্ত অন্তর লাভে যে দোয়া পড়বেন

    অন্যকে ক্ষমা করা অনেক বড় গুণ। হোক আপন কিংবা পর; যে কারো প্রতি কোনো কাজে মনে কষ্ট আসলে দেরি না করে একে অপরকে ক্ষমা করা উচিত। আর হিংসা-বিদ্বেষ কিংবা মনের মলিনতা থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহর কাছে নিয়মিত আশ্রয় চাওয়া জরুরি। আল্লাহ তাআলা যে দোয়াটি কুরআনে তুলে ধরেছেন।

    ছোট-খাট কোনো বিষয়ে মনে কষ্ট পেলে তা দীর্ঘ সময় অন্তরে ধরে না রেখে কিংবা বিলম্ব না করে ভুলে যাওয়া। যে কোনো বিদ্বেষ কিংবা হিংসা অন্তরে ধারণ করা একেবারেই অনুচিত।

    এ কারণেই হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রিয় খাদেম হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে একান্ত আবেগ ও দরদি ভাষায় উপদেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-

    হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে লক্ষ্য করে বলেন-

    – হে ছেলে! যদি তোমার পক্ষে সকাল-সন্ধ্যা এভাবে কাটানো সম্ভব হয় যে, তোমার অন্তরে কারও প্রতি কোনো মলিনতা নেই, তবে সেভাবে কাটাবে। তারপর বলেন-
    – হে ছেলে! এটা আমার সুন্নাত। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে জিন্দা করল (বাচিয়ে রাখল) সে আমাকে ভালোবাসলো। আর যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসলো সে আমার সঙ্গেই জান্নাতে থাকবে।’ (তিরমিজি)

    হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী যে কোনো বিষয়ে দিনের যে কোনো সময় ঝগড়া বা মনোমালিন্য হলে দিনের অন্য প্রান্তে এসে কোনো মুমিনের অন্তরে যেন তা বিরাজমান না থাকে।

    হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এ হাদিসে একান্ত মমতায় সে উপদেশই দেয়া হয়েছে। তাই মানুষের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ কিংবা মলিনতা দূর করার এ মহা গুণ অর্জনের আশায় আল্লাহর কাছে কুরআনে ঘোষিত এ দোয়ার মাধ্যমে আবেদন করা যেতে পারে। আর তাহলো-

    رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَ لِاِخْوَانِنَا الَّذِیْنَ سَبَقُوْنَا بِالْاِیْمَانِ وَ لَا تَجْعَلْ فِیْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا رَبَّنَاۤ اِنَّكَ رَءُوْفٌ رَّحِیْمٌ

    উচ্চারণ : ‘রাব্বানাগফিরলানা ওয়া লি-ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিল-ইমানি ওয়া লা তাঝআল ফি কুলুবিনা গিল্লাল লিল্লাজিনা আমানু রাব্বানা ইন্নাকা রা-উফুর রাহিম।’

    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা কর আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকেও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোনও হিংসা-বিদ্বেষ রেখ না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু।’ (সুরা হাশর : আয়াত ১০)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের নসিহত অনুযায়ী কুরআনি দোয়ার মাধ্যমে হিংসা-বিদ্বেষ ও মলিনতা থেকে দূরে থাকার তাওফিক দান করুন। পরস্পরের সঙ্গে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ গুরুত্বপূণৃ সুন্নাতকে জিন্দা করার মাধ্যমে তার সঙ্গে জান্নাতে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ‘বুলবুল’ বলে গেল ‘সুন্দরবন বাঁচাও, এটাই শেষ ঝড় নয়’!

    ‘বুলবুল’ বলে গেল ‘সুন্দরবন বাঁচাও, এটাই শেষ ঝড় নয়’!

    প্রতিবারের মতো এবারও প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের সামনে বুক পেতে দিয়ে বাংলাদেশকে বাঁচাল সুন্দরবন। সুন্দরবনে আছড়ে পড়েই দুর্বল হয়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় প্রায় দেড়শ কিলোমিটার গতিবেগে ধেয়ে আসা ‘বুলবুল’। সকলেই জানে এবং মানে, এই সুন্দরবন না থাকলে ঘূর্ণিঝড়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল বিলীন হয়ে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গত কয়েক বছরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে এমন আশংকাই করছেন বিশেষজ্ঞরা। বুলবুল চলে গেছে, কিন্তু এটাই শেষ ঘূর্ণিঝড় নয়।

    কিন্তু মানুষ বড় অদ্ভুত এবং কৃতঘ্ন। ঝড় থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই ভুলে যাবে সুন্দরবনের অবদানের কথা। আবারও গাছ কাটা হবে, বন উজার করা হবে, বন্যপ্রাণী হত্যা চলবে; বনের পাশে গড়ে তোলা হবে কল-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র। তারপর আবারও ঘূর্ণিঝড় আসবে, সর্বশক্তি দিয়ে আবারও বুক চিতিয়ে লড়বে সুন্দরবন। কিন্তু যখন ক্ষয় হতে হতে এই বনের আর রুখে দাঁড়ানোর শক্তি থাকবে না, তখন কী হবে বাংলাদেশের? কী হবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের?

    এর আগে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা একইভাবে সুন্দরবনে বাধা পেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সুন্দরবনের মতো এত বড় বন ধ্বংস করা সম্ভব না- এমন ধারণায় যারা বিশ্বাস করেন তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। যেভাবে বনের চারপাশে সভ্যতা নির্মাণের মহাযজ্ঞ চলছে, তাতে আর ৫০ বছরও লাগবে না সুন্দরবন ধ্বংস হতে। ঢাকা শহরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত উঁচু উঁচু দালানে বসে যারা সুন্দরবনের মৃত্যুসনদে সাক্ষর করেন, তাদের হয়তো কিছু হবে না। কিন্তু প্রকৃতির ভয়ংকর প্রতিশোধের শিকার হবে দেশের দক্ষিণাঞ্চল।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকে মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি

    বাংলাদেশ ব্যাংকে মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি

    বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মোঃ আমজাদ হোসেন খানকে মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়ে বহাল করা হয়েছে।

    আমজাদ হোসেন খান ১৯৯৩ সালে সহকারী পরিচালক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেন। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খুলনা ও বরিশাল অফিসে বিভিন্ন বিভাগে গূরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আমজাদ হোসেন খান ২০১০ সাল থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ব্যাংকিং সেবা বঞ্চিত প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। পেশাগত জীবনে দাপ্তরিক প্রয়োজনে তিনি জাপান, স্পেন, থাইল্যান্ড ও নেপাল এ প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছেন। তিনি একজন রোটারিয়ান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও খুলনা মেট্রোপলিটন শ্যুটিং ক্লাবের আজীবন সদস্য। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সন্ধানী ডোনার ক্লাব, খুলনার উপদেষ্টা।

  • বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে  শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিসিসি মেয়র সাদিক

    বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিসিসি মেয়র সাদিক

    ভারতের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ৭ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বাংলাদেশ দলের প্রতিটি খেলোয়াড়, কোচসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি মেয়র আশা করেন আগামী ম্যাচ গুলোতেও জয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

  • দক্ষ পুলিশ বাহিনী না থাকলে শান্তিতে বাস সম্ভব নয়: বিএমপি কমিশনার

    দক্ষ পুলিশ বাহিনী না থাকলে শান্তিতে বাস সম্ভব নয়: বিএমপি কমিশনার

    ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএনপি) কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন, দেশে দক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে বলেই জনসাধারণ শান্তিতে বসবাস করছে।

    তিনি বলেন, যদি দক্ষ পুলিশ বাহিনী না থাকত তাহলে কারও শান্তিতে বাস করা সম্ভব হতো না। তাই সমাজকে উন্নত ও সুষ্ঠু রাখার জন্যই সবাইকে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার উন্নত পরিবেশ রাখা প্রধান শর্ত।

    আগামী ২৬ অক্টোবর বরিশাল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে সোমবার দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপি কমিশনার এ সব কথা বলেন।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম, উপ-পুলিশ কমিশনার আবু সালেহ রায়হান, মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা, জাহাঙ্গীর মল্লিক, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রুনা লায়লা প্রমুখ।

    চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবু নাসের।

    অনুষ্ঠানে উন্নত আইনশৃঙ্খলা ও মানবসম্পদ বিষয় নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ছেলেদের মধ্যে অংশগ্রহণ করে বরিশাল জিলা স্কুল ও উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। মেয়েদের ভিতর অংশগ্রহণ করে বরিশাল সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি শহীদ আ. রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    এর আগে সকালে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যেমন খুশি তেমন ও ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে পুলিশিং কার্যক্রমের ওপর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

  • বরিশালে ঘুষ খেয়ে জেলে ছেড়ে দেয়ায় ২ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

    বরিশালে ঘুষ খেয়ে জেলে ছেড়ে দেয়ায় ২ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

    বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরায় আটক জেলেদের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে । এ পরিপ্রেক্ষিতে তাদের থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    তারা হলেন- মেহেন্দিগঞ্জ থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার ও কনস্টেবল সুমন সিকদার।

    শনিবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তাদের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবিদুর রহমান।

    স্থানীয় ও থানা সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে মেহেন্দিগঞ্জ চরএককরিয়া ইউনিয়নের লালখাড়াবাদ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১০ জন জেলেকে আটক করেন এএসআই দেলোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা।

    আটকের পর জেলেদের কাছে টাকা দাবি করেন এএসআই দেলোয়ার ও কনস্টেবল সুমন সিকদার। পরে স্থানীয় দুই ব্যবসায়ী টাকা দিয়ে ওই জেলেদের ছাড়িয়ে আনেন।

    এ ঘটনায় জেলেরা ক্ষুব্ধ হয়ে পোলতাতলী বাজারে বিক্ষোভ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

  • বরিশালে ৭৩০ কেজি ইলিশসহ আটক-৩০

    বরিশালে ৭৩০ কেজি ইলিশসহ আটক-৩০

    নিউজ ডেস্ক ::

    বরিশালের বিভিন্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে ইলিশ মাছ শিকারের অপরাধে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৫ শত মিটার কারেন্ট জাল জব্দ এবং ৭৩০ কেজি ইলিশ মাছ উদ্ধার করা হয়।

    শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিনে ও রাতে বরিশাল সদর, হিজলা, মেহিন্দগঞ্জ, মুলাদী, উজিরপুর, বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ ও গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন নদীতে এসব অভিযান চালানো হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে রাতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট রাসেল ইকবাল প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জব্দ জালগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, পাশাপাশি ইলিশ মাছগুলো বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

    এছাড়া আটক ৩০ জনের মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

  • যৌবনের উম্মাদনায় মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবে যেভাবে

    যৌবনের উম্মাদনায় মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবে যেভাবে

    ইসলাম ডেস্ক:

    তরুণ যুবকদের মাঝে বয়ঃসন্ধিক্ষণে এক ধরনের কামনা বাসনা বা হতাশা কাজ করে। যারা যৌবনের সব কামনা-বাসনা ও হতাশা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে সক্ষম তারাই সফলকাম। টগবগে যুবকের সে সময়ের কোনো ইবাদতই আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না।

    তাই প্রতিটি যুবকের জন্যই নির্মল চরিত্রের অধিকারী হতে প্রয়োজন কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান। যৌবনের কামনা-বাসনার অপরাধগুলো মানুষের শারীরিক রোগের ন্যায়। সঠিক দিক-নির্দেশনায় এসব অপরাধমূলক রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

    মানুষ যেমন অসুস্থ হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে তেমনি কোনো যুবক যদি চারিত্রিক সমস্যায় পতিত হয়, তার জন্যও রয়েছে চিকিৎসাস্বরূপ বিশ্বনবির সেরা উপদেশ। যে উপদেশ গ্রহণে যে কোনো যুবকই হয়ে উঠবে উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী।

    সে কারণেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাপ কাজে নিমজ্জিত সব ব্যক্তিকেই রোগী হিসেবে চিহ্নিত করতেন। যার যে উপদেশ প্রয়োজন তাই তিনি প্রদান করতেন। হাদিসে এ রকম অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। যেমনটি ব্যভিচারের ক্ষেত্রেও রয়েছে।

    শুধু তা-ই নয়, যদি কারো কোনো অসুবিধা বা সমস্যা নিজের (বিশ্বনবির) মধ্যে থাকতো তবে তিনি আগে সে কাজের সমাধান নিজের মধ্যে বাস্তবায়ন করতেন, তারপর অন্যকে তা থেকে বিরত থাকতে উপদেশ দিতেন।

    যুবকদের অবৈধ চারিত্রিক কামনা-বাসনা থেকে দূরে রাখতে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক কুরাইশ যুবককে নসিহত পেশ করেছেন। এ উপদেশটি বর্তমান সময়ের জন্যও খুবই উপযোগী। হাদিসে সে ঘটনার বর্ণনাটি এভাবে এসেছে-

    একবার এক কুরাইশ যুবক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ব্যভিচারের অনুমতি প্রার্থনা করে। উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম যুবকের কথায় রেগে গিয়ে তাকে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। কিন্তু বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    তিনি শান্ত চিত্তে যুবককে আরও কাছে টেনে নিলেন। তারপর (যুবককে প্রশ্ন রেখে) বললেন-
    ‘তুমি কি তোমার মায়ের জন্যে এটা (ব্যভিচার) মেনে নেবে?
    যুবক উত্তর দিলেন, ‘না’,।
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘(অন্য) লোকেরাও এটা তাদের জন্যে অনুমোদন করবে না।’

    অতঃপর তিনি যুবককে আলাদা আলাদা করে বারবার তার কন্যা, বোন ও চাচির জন্য (ব্যভিচার) অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। আর প্রতিবারই যুবক ‘না’বোধক উত্তর দিতে থাকে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিবারই বলতে থাকেন যে, (অন্য) ব্যক্তিরাও তাদের জন্য এটা (ব্যভিচার) অনুমোদন করবে না।’

    তারপর তিনি যুবকের হাত ধরে বললেন, ‘আল্লাহ্ তার (যুবকের) পাপ ক্ষমা করুন। তার অন্তর পবিত্র করুন এবং তাকে সহিষ্ণু করুন (ব্যভিচারের কামনার বিরুদ্ধে)।’ (মুসনাদে আহমদ, তাবরানি)

    বর্তমান সময়ে ধর্ষণের অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং বিপদগামী যুবকদের সচেতন করে তুলতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে হাদিসের এ আবেদন তুলে ধরা জরুরি। যার ফলে সমাজ ধর্ষণ জিনা-ব্যভিচার মুক্ত হবে।

    যুবক-তরুণদের কোনো সমস্যায় হতাশ হওয়া যাবে না। যে কোনো সমস্যা ইসলামের আলোকে শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তাইতো বান্দাকে এ ঘোষণা জানিয়ে দিতে বিশ্বনবিকে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন-

    (হে রাসূল! আপনি) বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সব গোনাহ ক্ষমা করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা যুমার : আয়াত ৫৩)

    সুতরাং যুবক যত বড় অপরাধীই হোক না কেন কিংবা যত অপরাধেই জড়িত হোক না কেন, ইসলামের উদাত্ত আহ্বান হলো- সর্বাবস্থায় কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশ ও উপদেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। আর তাতে জীবন হবে সফল ও স্বার্থক।

    সে কারণেই বান্দাকে অন্যায় থেকে ফিরে থাকার সতর্কতামূলক নির্দেশও বিশ্বনবিকে জানিয়ে দিতে বলেছেন-
    ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার দিকে ফিরে আস এবং তোমাদের কাছে আজাব আসার আগেই তাঁর নির্দেশ মেনে চল। তারপর (শাস্তি আসার পর) তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।’ (সুরা যুমার : আয়াত ৫৪)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব যুবককে কুরআনের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি হাদিসের উপদেশ গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। নির্মল ও নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • বরিশাল নৌ-পুলিশের অভিযানে যুবকের কারাদন্ড

    বরিশাল নৌ-পুলিশের অভিযানে যুবকের কারাদন্ড

    রাতুল হোসেন রায়হান:

    বরিশাল কীর্তনখোলা নদীতে জাল ফেলার অপরাধে যুবককে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে নদীতে অভিযান চালিয়ে আবৈধভাবে জাল ফেলা যুবক মাসুদ হাওলাদারকে আটক করে ডিসি ঘাট এলাকায় এনে সাজা প্রদান করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোশাররফ হােসেন।

    বরিশাল সদন নৌ-থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মাসুদ হাওলাদার ও তার আরও এক সহযোগী মিলে নদীতে জাল ফেলে। খবর পেয়ে অভিযান চালালে একজন পালিয়ে যায়। আটক মাসুদ হাওলাদারকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোর্পদ করা হলে এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন। মাসুদ হাওলাদারের পিতার নাম বাবুল হাওলাদার। তার বাড়ি চরকাউয়া এলাকায়।

    ওসি জানিয়েছেন, এসময়ে ৫০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত কারেন্ট ও সুতার জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

  • ভদ্রতা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

    ভদ্রতা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

    ইসলাম ডেস্ক:

    আদব বা শিষ্টাচার হলো এমন এক পরিভাষা, মানুষ যাকে ভদ্রতা হিসেবে জানে। আদব বা ভদ্রতাকে ইসলাম অনেক গুরুত্ব ও মর্যাদা দিয়েছে। হাদিসের পরিভাষায় ও ইসলামিক স্কলারদের বক্তব্যে তা সুস্পষ্ট।

    ইসলামের সারবস্তু হলো আদব বা শিষ্টাচার। কেননা প্রকৃত মুসলিম তো সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর সঙ্গে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনম্র ও ভদ্র আচরণ করে চলে।

    আদর্শ সমাজ গঠনে এ আদব-কায়দা বা ভদ্রতার প্রয়োজন অত্যধিক। মানুষের সঙ্গে মানুষের ভদ্রতা, শিষ্টাচার, ভালো ব্যবহার, ভাব বিনিময়, সালাম আদান-প্রদান, আনন্দ-বেদনা প্রকাশসহ উত্তম চরিত্র সম্পর্কে রয়েছে অনেক উপদেশ। তাহলো-

    > রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই উত্তম চরিত্র, ভালো ব্যবহার ও পরিমিত ব্যয় বা মধ্যপন্থা অবলম্বন করা নবুয়তের ২৫ ভাগের ১ ভাগ সমতুল্য।’ (আবু দাউদ)

    > হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘তুমি আদব অন্বেষণ কর। কারণ, আদব হলো বুদ্ধির পরিপূরক, ব্যক্তিত্বের দলিল, নিঃসঙ্গতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, প্রবাস জীবনের সঙ্গী এবং অভাবের সময়ে সম্পদ।’

    > হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘তোমরা আগে সুসভ্য হও, তারপর জ্ঞান অর্জন কর।’

    > দার্শনিক ও ইসলামিক স্কলারদের মতে, ‘আকল (বুদ্ধি) ছাড়া আদব হয় না, আবার আদব ছাড়া আকলও হয় না।’ অর্থাৎ একটি অপরটি পরিপূরক।

    তাইতো এক ব্যক্তি তার সন্তানকে উপদেশ দিয়ে বলেছেন-

    ‘তুমি তোমার আমলকে মনে করবে লবণ আর তোমার আদবকে মনে করবে ময়দা।’ অর্থাৎ যেভাবে লবণ ও ময়দার স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রিত মিশ্রণে সঠিক ও উত্তম খাবার তৈরি হয়।

    সুতরাং প্রত্যেকের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আদব রক্ষা করে চলা। ভদ্রতা বজায় রেখে বিনম্র জীবন যাপন করা। আর তাতেই প্রতিষ্ঠা পাবে সুন্দর আদর্শ সমাজ।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আদব রক্ষা করে চলার তাওফিক দান করুন। ভদ্রতা ও নম্রতার আলোকে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।