Category: অন্যান্য

  • কাঁঠালের বিচি দিয়ে সুস্বাদু হালুয়া তৈরির রেসিপি

    কাঁঠালের বিচি দিয়ে সুস্বাদু হালুয়া তৈরির রেসিপি

    হালুয়া তৈরি করা যায় নানাকিছু দিয়ে। তেমনই একটি উপাদান হলো কাঁঠালের বিচি। কাঁঠালের বিচি বিভিন্ন উপায়ে রান্না করে খাওয়া হয়। এটি দিয়ে তৈরি করা যায় মজাদার হালুয়াও। চলুন জেনে নেয়া যাক সহজ রেসিপি-

    উপকরণ :

    কাঁঠালের বিচি ৫০০ গ্রাম
    কনডেন্সড মিল্ক আধা কৌটা
    চিনি আধা কাপ
    গুঁড়া দুধ আধা কাপ
    কিশমিশ ২ টেবিল চামচ
    পেস্তা বাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ
    এলাচ-দারুচিনি ৩/৪টি
    ঘি আধা কাপ
    জাফরান ভেজানো গোলাপজল পরিমাণমতো।

    প্রণালি :

    কাঁঠালের বিচি সিদ্ধ করে বেটে নিন। প্যানে ঘি দিয়ে এলাচ, দারুচিনি ও কিশমিশ দিয়ে বাটা কাঁঠালের বিচি দিন। এবার এতে চিনি ও কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে নাড়তে থাকুন।

    গুঁড়া দুধ ও বাদাম কুচি দিয়ে আবারও নাড়তে থাকুন, যাতে না লেগে যায়। সবশেষে জাফরান ভেজানো গোলাপজল দিয়ে নামিয়ে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।

  • সৈকতে উঠে এলো বিড়াল চোখের রহস্যময় প্রাণী

    সৈকতে উঠে এলো বিড়াল চোখের রহস্যময় প্রাণী

    হঠাৎ একটি অদ্ভুত সামুদ্রিক প্রাণী চোখে পড়ল। প্রাণীটির উদ্ভট চেহারা দেখে অবাক হলেন অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সৈকতে হাঁটা কয়েকজন পর্যটক।

    শুক্রবার, কোজি সি-সাইড এসকেপ রহস্যময় প্রাণীটির ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে। ছবিতে দেখা যায় সৈকতের বালুতে শুয়ে রোদ পোহাচ্ছে উদ্ভট প্রাণীটি। ভিক্টোরিয়া’স জিপসল্যান্ড অঞ্চলে অবস্থিত গোল্ডেন বিচ থেকে অদ্ভুত প্রাণীর ছবিটি তোলা হয়। শার্ক প্রজাতির বিরল ক্যাটশার্কটি তখন ছোট মাছ খাচ্ছিল বলে জানিয়েছে ফক্স নিউজ। অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য থাকলেও প্রাণীটি মানুষের জন্য হুমকি নয়।

    ফেসবুকে অনেকেই ক্যাটশার্কটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। দুর্লভ উদ্ভট প্রাণীটি দেখার সুযোগ পেয়ে অনেকেই নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করার কথা লিখেছেন মন্তব্যে।

    একজন লিখেছেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য-প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ দান।’

    তবে, সমুদ্র সৈকতে প্রাণীটি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। এদের একজন লিখেছেন, ‘আমি নিশ্চিত নই, এটি ভালো নাকি মন্দ। অন্য একজন লিখেছে, গভীর সমুদ্রে এমন কিছু ঘটছে যার ফলে এমন আজব প্রাণী ওপরে উঠে আসছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু কিছু ক্যাটশার্ক আছে যারা অন্ধকারে এমন আলো ধারণের ক্ষমতা রাখে যাতে অন্য ক্যাটশার্কের কাছে বার্তা পাঠানো যায়।

    সায়েন্টিফিক রিপোর্ট-এ প্রকাশিত এক গবেষণার ফল অনুযায়ী, সমুদ্রে দুই প্রজাতির শার্ক দেখা যায়, একটি চেইন ক্যাটশার্ক এবং অপরটি সোয়েল ক্যাটশার্ক। এরা সমুদ্রের নীল আলো শুষে নিতে পারে এবং ওই নীল আলো পুনরায় নির্গত করতে পারে। এর কারণ হচ্ছে প্রাণীটি নিজেই উজ্জ্বল সবুজ রং ধারণ করার ক্ষমতা রাখে।

    পিবিএসের মতে, বিভিন্ন সমুদ্রের উষ্ণ পানিতে ক্যাটশার্ক পাওয়া যায়। অনেক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এটি একটি সাধারণ ব্যাপার। এগুলো সাধারণত আকারে ছোট, মাত্র আড়াই ফুট বা তার চেয়েও কম। প্রাণীটির চোখ দুটি বেশ বড় বড়। অনেকটা বিড়াল জাতীয় প্রাণীর মতো। আর দাঁত রয়েছে ৪০ থেকে ১১০ সারি। তবে অস্ট্রেলীয় সমুদ্র সৈকতে পাওয়া প্রাণীটির মতো নয়।

  • বিআরটিএ’র প্রতিবেদন: দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার

    বিআরটিএ’র প্রতিবেদন: দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার

    বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৪০ লাখ ১৮ হাজার ৭৬৭টি। যার মধ্যে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬৯টি। গতকাল হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।

    সারাদেশে নিবন্ধিত ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নবায়ন না করা চালকের তথ্য জানতে চাওয়া মামলার শুনানি হয় গতকাল। সেখানেই এই তথ্য উপস্থাপন করে বিআরটিএ। এ সময় নিবন্ধিত ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নবায়ন না করা চালকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা প্রতিবেদন আকারে এক মাসের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    বিআরটিএ চেয়ারম্যান ও বিআরটিএর সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালককে দেশের সকল জেলার তথ্য সংগ্রহ করে তা জানানোর নির্দেশ দিয়ে আগামী ২৩ জুলাই পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

    বিআরটিএ চেয়ারম্যান ও পুলিশের পক্ষ থেকে দাখিল করা প্রতিবেদনের ওপর শুনানিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেয়।

    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজী। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব।

    শুনানিতে আদালত বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে প্রায় ৪৮ বৎসর। এমন একটি দেশ হবে যেখানে দুর্নীতি থাকবে না-এই চেতনা নিয়েই দেশ স্বাধীন করা হলো। অথচ দেশ এখনো শৃঙ্খলার মধ্যে আসছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর আমরা যদি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করি তাহলে চলবে কী করে। আমরা শুধুই প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকব তা তো হয় না।’

    সিঙ্গাপুরের প্রসঙ্গ টেনে হাইকোর্ট বলেন, ‘আমাদের কাছাকাছি সময়ে স্বাধীন হয়েছে সিঙ্গাপুর। সেই দেশটির দিকে তাকান। দেখুন সেখানে কী হয়েছে? আর আমাদের দেশে কী হচ্ছে? আমাদের এখানে গাড়ি ধাক্কায় এত মানুষ মারা যাবে কেন?’

    সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন আদালত। বলেন, সকলকেই আইন মেনে চলতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে কোনো দেশ উন্নতি লাভ করতে পারে না। এখন বসে থাকার সময় নেই। দেশের জন্য কাজ করতে হবে।’

  • চোর সাবধান!

    চোর সাবধান!

    দোকানে বা সুপারশপে গিয়ে হাতটানের অভ্যাস অনেকের আছে। চোরের উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে সিসি টিভি, ক্যামেরা, স্ক্যানসহ নানা প্রযুক্তির আশ্রয় নেয় দোকানগুলো। তবে দোকানের নিরাপত্তার বিষয়টিকে একধাপ এগিয়ে নিল মার্কিন সুপারমার্কেট জায়ান্ট ওয়ালমার্ট। তাদের দোকানে চুরি শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত ইমেজ রিকগনিশন ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ওয়ালমার্টের সুপারশপে এমনভাবে ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে ক্রেতা কী কী জিনিস নিচ্ছেন, তা নজরদারি করা যায়। ক্রেতা তাঁর শপিং ব্যাগে কোনো জিনিস রাখলে তা শনাক্ত করে রাখবে ক্যামেরা। এতে ক্যাশিয়ারের স্ক্যান করার প্রয়োজন পড়বে না। ক্রেতা নিজে থেকেই বিল দিতে পারবেন।

    ব্যবসা ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট বিজনেস ইনসাইডারকে ওয়ালমার্ট বলেছে, তাদের এক হাজারের বেশি স্টোরে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্রেতা ও সহযোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা একে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে। তাদের এ প্রকল্পের নাম ‘মিসড স্ক্যান ডিটেকশন’। তাদের এ প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে আইরিশ কোম্পানি এভারসিন।

    এ প্রযুক্তিতে ক্যামেরা কোনো ক্রেতার ভিডিও করে না বরং দোকানের জিনিসপত্র ট্র্যাকিং করে। কোনো জিনিস স্ক্যান করার আগেই বা স্ক্যান ছাড়া ব্যাগে রাখা হলে এবং তার দাম না দিয়ে বেরোতে চাইলে ওই সিস্টেম দোকানের কর্মীকে জানিয়ে দেবে। নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার পর থেকে ওয়ালমার্টের স্টোরগুলোয় চুরির পরিমাণ অনেক কমে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

  • মন্ত্রী শামীমের দুয়ারে নতুন অতিথি, কিন্তু…

    মন্ত্রী শামীমের দুয়ারে নতুন অতিথি, কিন্তু…

    বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির রূপধারার পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় অথবা কোনঠাসা আলোচিত ও সমালোচিত বেশ কয়েকজন ডাক সাইডের নেতা ফের মাঠে নামতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সেক্ষেত্রে মজবুত প্লাটফর্ম হিসেবে সদর আসনের সাংসদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের আনুকূল্য লাভের চেষ্টায় তার সান্নিধ্যে থাকতে চায়। মন্ত্রী বরিশালে অবস্থানকালে প্রায়শ রাতে এই ধারার নেতাদের করীমকুটির এলাকার বাসভবনে অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজে তাদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। মন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের তাদের কেউ কেউ খোশগল্প করলেও আবার ব্যক্তি বিশেষকে পাত্তা দিতে চাচ্ছেন না। তবে তারা মন্ত্রীর সাথে রাজনীতি করার আগ্রহ ব্যক্ত করলেও তিনি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে কৌশলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
    একাধিক সূত্রের দাবি, এক সময় প্রয়াত নেতা শওকত হোসেন হিরনের অনুসারি হিসেবে চিহ্নিত এসকল নেতাদের নিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এখনই রাজনীতিতে পথ চলতে নারাজ। আবার তাদের ফিরিয়ে দিতেও চাচ্ছেন না। কৌশলগত ভূমিকা রেখে তাদের সান্নিধ্য দিয়ে নিজের গন্ডির ভেতরেই রাখছেন কিন্তু কোনো সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সঙ্গী হিসেবে রাখছেন না। বিশেষ করে এক সময় আলোচিত মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আবুয়াল হোসেন অরুণ ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আনিস, এ্যাড. আফজাল হোসেন, যুবলীগের মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নুসহ ছাত্রলীগ নেতা ও জসিম উদ্দিন আলোচিতদের মধ্যে অন্যতম।

    নিয়মিত শুক্র ও শনিবার মন্ত্রী বরিশালে সফরে আসলে অরুন, আনিস ও জসিম এই তিন নেতাকে মন্ত্রী পিছু ছুটতে দেখা যায়। কখনো কখনো গভীর রাত অবধি অপেক্ষমান থাকার পর মন্ত্রীর সাথে তাদের খোলামেলা বৈঠকে অংশ নিতে দেখা গেছে। কেউ কেউ মন্ত্রীর সাথে রাতের সাক্ষাত শেষে দিনের বেলায় থাকছেন দূরত্বে।

    আবার এমন বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন, যারা টেলিফোনে জাহিদ ফারুক শামীমের সাথে যোগাযোগ রেখে বরিশাল রাজনীতি সম্পর্কে কমবেশি ধারণা দেয়াসহ তারা প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফিরে আসতে অভিপ্রায় ব্যক্ত করে চলেছেন। তাদের মধ্যে সাবেক বরিশাল আদালতের সাবেক পিপি নূরুল হক ও বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মঈন তুষারের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই অংশটি চাচ্ছে, আরও বেশ কয়েকজন নেতাকে মন্ত্রীর একাত্ম করে দিতে। মূল উদ্দেশ কোণঠাসা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন একটি মেরুকরণ তৈরিতে মন্ত্রীকে নেতা হিসেবে সামনে রাখা।

    নির্ভরযোগ্য অপর একটি সূত্র জানায়, সিটি কর্পোরেশনের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরও জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারি হিসেবে রাজনীতি করার আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ রাখছেন। গ্রীণসিগন্যাল পেলেই তাদের মাঠে দেখা যেতে পারে। জনপ্রতিনিধিদের এই অংশটির ক্ষোভ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হওয়া সত্ত্বেও কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। অথবা মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ তাদের ভালো চোখে দেখছেন না। ধারণা পাওয়া গেছে, মেয়রের কঠোর ভূমিকার কারণে স্বার্থভঙ্গ তথা ঠিকাদারী কাজসহ বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হওয়ায় তারা নতুন প্লাটফর্মের সন্ধানে মন্ত্রীর মঞ্চে উঠতে চান। কিন্তু এই চেতনায় বিশ্বাসী কোনো কাউন্সিলরকে এখনো মন্ত্রীর সাথে দেখা যায়নি। সকলেই তারা দূরত্বে থেকে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে মন্ত্রীর সম্মতি আদায়ে জোরতর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। বেশিমাত্রায় মন্ত্রীর সান্নিধ্য বা আশির্বাদে রাজনীতিতে আগ্রহ প্রকাশে আবুয়াল হোসেন অরুন তৎপর। ছাত্রলীগ নেতা জসিম, ভিপি মঈন তুষার ও জিএস নাহিদ সেরনিয়াবাতও পিছিয়ে নেই। ছাত্রলীগের প্রথমজন মন্ত্রীর সাথে প্রকাশ্যে যোগাযোগ রাখলেও শেষের দুই ছাত্রনেতা পর্দার অন্তরালে থেকে ফিরে আসার প্রশস্ত রাস্তা খুঁজছেন। সেই চান সার্বিক নিরাপত্তা।

    অপর একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রী বরিশাল সফরে আসলে গত শনিবার রাতে আবুয়াল হোসেন অরুন পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজে মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে নিজেসহ অপরাপর বেশ কয়েকজন নেতাকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার প্রস্বাব রাখেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এসময় মঈন তুষার অনুসারি পাসপোর্ট সোহাগ বেশ কয়েকজন সহোচর নিয়ে রেস্ট হাউজের অতিথিদের রুমে অবস্থান করছিলেন। মন্ত্রী তাদের সাক্ষাত দেননি। আবার অরুনকেও কোনো সম্মতি দেয়া থেকে বিরত ছিলেন। এসময় অরুনসহ তার পিছু থাকা ছাত্রলীগের ওই নেতাকে বিমর্ষ দেখা গেছে। আরেকটি সূত্রের দাবি, মন্ত্রী তাদের এখনো নিরুৎসাহিত করেননি। সম্ভবত তাদের ধীরে চলা এবং অপেক্ষায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। মন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম চাচ্ছেন না এই ধারার নেতাদের নিয়ে রাজনীতিতে অগ্রসর হতে। কারণ আগ্রহী এই নেতারা এক কাতারে সামিল হলে বরিশাল আওয়ামী লীগে দ্বিধা-বিভক্তি দেখা দিতে পারে। তার আকাঙ্খা নতুনদের দিয়ে রাজনীতির আগামীর পথ মসৃন করা এবং নিজেকে বিতর্কের বাইরে রাখা। তবে রাজনীতিতে শেষ বলে যে কথা নেই, তার বাস্তবায়ন ঘটলে জাহিদ ফারুক শামীমের অনুকূলে ফিরে আসা নেতাদের বিরাট মিছিল দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

    ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রীর অনুসারিদের মধ্যে নবাগতদের ঠাঁই দেয়া নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। একাংশ এই সকল নেতাদের নতুন খোলসে ফিরে আসার বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তারা মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে বলছেন, স্বার্থ খোঁজায় বিভোর এই সকল নেতারা অনুগত থাকলেও তাদের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস সুখকর বা ইতিবাচক নয়।

  • ইসলামে মৌলিক শিষ্টাচার

    ইসলামে মৌলিক শিষ্টাচার

    হজরত হাসান বসরি র. বলেছেন, ‘যার মধ্যে শিষ্টাচার নেই, তার মধ্যে কোনো জ্ঞান নেই’। কথাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তা ছাড়া বলা হয়, ‘একটি মানুষ কথা বলতে শিখে দুই বছরে আর কখন কোন কথা বলতে হয় তা শিখতে লাগে সারা জীবন। এ শিষ্টাচার প্রশিক্ষণে ইসলাম সবচেয়ে আধুনিক, অগ্রগামী। সভ্যতার ইতিহাসে ইসলামী শিষ্টাচারের বৈশিষ্ট্য অনন্য। কারণ, এটি আমাদের সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত সর্বশেষ এবং পরিপূর্ণ জীবনবিধান’ (সূরা মায়েদাহ ৫: ৩)। এখানে দুনিয়াবি এবং পরকালীন শান্তির জন্য যে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তার কোনো বিকল্প নেই এবং হবেও না। এই নিবন্ধে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পাঁচটি মৌলিক শিষ্টাচার তুলে ধরা হলো, যার বাস্তবায়নে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে একে অপরের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
    যেকোনো কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা:
    আমরা বৈধ যে কাজই করি না কেন, তার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি) বলাটা ইসলামের অন্যতম শিষ্টাচার। এর মাধ্যমে প্রত্যেক কাজের শুরুতেই আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। সুতরাং সেখানে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করার সম্ভাবনা কমে যায়, আর আল্লাহর নাম নেয়ার কারণে তাকে স্মরণ করার কারণে সে কাজে বরকত বাড়িয়ে দেন। রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যেকোনো কাজ যার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা হয়নি, সেটি (আল্লাহর রহমত থেকে) বিচ্ছিন্ন’ (সুনানু আহমদ, খণ্ড ১৪, হাদিস নং ৩২৯)। বাস্তবিকভাবেও বিশেষ বিশেষ কাজের শুরুতে রাসূলুল্লাহ সা: তাঁর সাহাবিদের নির্দেশ দিয়েছেন ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে। আমরা একটি হাদিসে পাই, হজরত ওমর বিন আবু সালামাহ বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন খাবার সময় পাত্রের (প্লেটের) এদিক সেদিক থেকে গ্রহণ করতাম। তখন রাসূলুল্লাহ সা: আমাকে নির্দেশ দিলেন, ‘হে বৎস! আল্লাহর নাম নিয়ে খাবার শুরু করো, ডান হাত দিয়ে খাও এবং পাত্র থেকে তোমার নিকটবর্তী স্থান থেকে খাবার গ্রহণ করো’ এরপর থেকে খাবারের সময় তাঁর সা:-এর নির্দেশনাই পালন করে চলি’ (সহিহ বুখারি ২৮৮)।
    সম্বোধনের শুরু :
    সালাম দিয়েই আমাদের একে অপরের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হবে। ইসলামের একটি সুন্দরতম শিষ্টাচার হলোÑ যখন মুমিন, মুসলিম একে অপরের সাক্ষাৎ হয়, তখন শুরুতেই একে অপরের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করে। কত ধরনের সম্ভাষণের প্রচলন আছে বর্তমান পৃথিবীতে। কিন্তু ইসলামের এই সুমহান সম্বোধন ও সম্ভাষণ অন্য যেকোনোটির তুলনায় অনন্য। ‘হাই’, ‘হ্যালো’ কিংবা শুভেচ্ছা, স্বাগতম জানানোর চেয়ে একে অপরের শান্তি কামনা করা কি উত্তম নয়? এটির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, তারা একে অপরের জন্য মোটেও ক্ষতিকারক নয়; বরং যেকোনো অনিষ্ট থেকে নিরাপদ। সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এটি কল্যাণী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমাদের বিশ্বাস। এই সালামের ইতিহাস কিন্তু আমাদের আদি পিতা হজরত আদম আ: থেকে শুরু হয়েছিল। তাঁকে জীবন (রূহ) দেয়ার পর উপস্থিত ফেরেশতাদের সম্ভাষণ জানাতে বলা হয়েছিল। তিনি তাদের সম্ভাষণ জানিয়েছিলেন ‘আসসালামু আলাইকুম (আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)’ বলে। প্রতিউত্তরে ফেরেশতারা বলেছিলেন, ‘ওয়া আলাইকুমুস্সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ (আপনার-আপনাদের ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক)’ (সহিহ মুসলিম ৫৪৩)। সেই থেকে এই সম্ভাষণের প্রচলন চলে আসছে মুসলিমদের জন্য।
    খাদ্য এবং পানাহার ডান হাত দিয়ে
    গ্রহণ করা :
    কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া একজন মুসলিমের জন্য বাম হাত দিয়ে খাদ্য ও পানিও গ্রহণ করা বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ সা: এ ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যখন কেউ খাদ্য গ্রহণ করে, সে যেন ডান হাত দিয়ে খায় আর যখন পানীয় পান করে, সে যেন ডান হাত দিয়ে পান করে। কারণ, শয়তান বাম হাত দিয়ে খায় এবং পান করে’ (সহিহ মুসলিম ৫০০৮)।
    এটাও অন্যতম সুন্নাহ যে, খাবার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ (সংক্ষেপে ‘বিসমিল্লাহ’) (সুনানু আবু দাউদ ৩৭৬৭ এবং সুনানু তিরমিজি ১৮৫৮) এবং খাবার শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ আল্লাজি আত আমানা, ওয়া সাকানা, ওয়া জাআলানা মিনাল মুসলিমিন’ সংক্ষেপে আলহামদুলিল্লাহ ও বলা যেতে পারে’ (সুনানু আবু দাউদ ৩৮৫০, সুনানু তিরমিজি ৩৪৫৭)।
    হাঁচি দেয়া এবং তৎপরবর্তী শিষ্টাচার :
    হাঁচি অত্যন্ত প্রাকৃতিক একটি ব্যাপার যা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। অনেক সময় আমরা এটিকে চেপে রাখার চেষ্টা করি কিন্তু তা অনুচিত। কারণ, হাঁচির মাধ্যমে শরীরের দুর্বলতা ও অলসতা চলে যায়। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সা:-এর নির্দেশ হলো, ‘যে ব্যক্তি হাঁচি দেবে সে বলবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর)। যদি এটি কেউ শুনে থাকে তাহলে সে তার প্রতিউত্তরে বলবে ‘ইয়ারহামুকুমুল্লাহ’ (আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন)। এ কথাটি হাঁচিদাতা শুনলে প্রতিউত্তরে বলবেন, ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহ’ (আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন)’ (সহিহ বুখারি ১৪৩)।
    উপকারীর উপকার স্বীকার করা এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা :
    প্রকৃতিগতভাবে মানুষ প্রশংসা পছন্দ করে। যখন কেউ কোনো ভালো ও কল্যাণকর কাজ করে, তখন ওই ব্যক্তিকে তার কাজের জন্য প্রশংসা করলে সে আনন্দিত হবে এবং ভবিষ্যতে আরো ভালো ও কল্যাণকর কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রশংসা করার শিষ্টাচার সম্পর্কে অবিহিত করেছে ইসলাম। কেউ কাউকে যেকোনো ধরনের উপকার করলেই সাথে সাথে তার কৃতজ্ঞতায় বলা উচিত ‘জাযাকা আল্লাহু খায়রান’ (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন)। এ ক্ষেত্রে আমরা পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকরণে ‘থ্যাংক ইউ’ বা ‘ধন্যবাদ’ না বলে রাসূলুল্লাহ সা:-এর শেখানো পরিভাষা ব্যবহার করলে সুন্নত পুনরুজ্জীবিতকরণে সওয়াব পাবো, ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে বলব, ইসলাম শেখানো শিষ্টাচারগুলোর ভাষা যেমন মার্জিত ও সুমধুর তেমনি ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে তার প্রভাব বিস্তৃত। এসব শিষ্টাচারের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিশ্চিত করতে পারলে একে অপরের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন স্থাপিত হবে, তেমনি শান্তিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

  • দেখা মিললো লক্ষ বছরের বিলুপ্ত প্রজাতির পাখির

    দেখা মিললো লক্ষ বছরের বিলুপ্ত প্রজাতির পাখির

    লক্ষ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পাখির প্রজাতির ফের দেখা মিলল। জীবাশ্ম হিসাবে নয়, একেবারে জীবন্ত অবস্থায়! বিভিন্ন নথিপত্র বলছে, এই প্রজাতির পাখি আজ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার বছর আগেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে পৃথিবী থেকে।

    অ্যালডব্রা রেল প্রজাতির এই পাখির চেহারা অনেকটা মুরগি আর বকের মত। সাদা লম্বাটে গলা আর গোলাকার ছোট চেহারার এই পাখিটি হাজার হাজার বছরের প্রাচীন। আর এটি নিয়ে চলছে গবেষণা।

    ভারত মহাসাগরের অ্যালডব্রা অ্যাটল অঞ্চলে এই পাখির জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছিল। তাই এই প্রজাতির নাম রাখা হয় অ্যালডব্রা রেল। ভারত মহাসাগরের অ্যালডব্রা অ্যাটল ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে আবারও দেখা গিয়েছে অ্যালডব্রা অ্যাটল পাখিদের।

    শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলগুলো অ্যালডব্রা অ্যাটল পাখিতে ভরে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাজার হাজার বছর পর প্রাকৃতিক নিয়মেই পৃথিবীর বুকে ফিরে এসেছে এই প্রজাতির পাখি।

    বিবর্তনের এই ধারাকে ইটারেটিভ এভেলিউশন বলে ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। জুলজিক্যাল জার্নাল অব দ্য লিনেন সোসাইটি নামের একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে।

    দীর্ঘ গবেষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টস মাউথ অ্যান্ড ন্যাচরাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম-এর গবেষকদের দাবি, বর্তমানে ভারত মহাসাগরের অ্যালডব্রা অ্যাটল ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে যে পাখিদের আধিক্য লক্ষ্য করেছেন সেগুলো আর প্রায় দেড় লক্ষ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অ্যালডব্রা রেল এক এবং অভিন্ন।

    মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাবে বিবর্তনের মাধ্যমে একই প্রজাতির অবলুপ্তির পরও ফিরে আসার ঘটনা বিরল হলেও প্রথম নয়। পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাসে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।

  • পিরোজপুরে স্কুলছাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাছের ঘেরে ফেলে গেল ধর্ষক, আটক ১

    পিরোজপুরে স্কুলছাত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাছের ঘেরে ফেলে গেল ধর্ষক, আটক ১

    পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে মাছের ঘেরে ফেলে গেছে ধর্ষক। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের পশ্চিম যুগিয়া গ্রামের তারাকান্ত রায়ের মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।

    ধর্ষণে সহায়তার ঘটনায় গৌতম শিকারী (২০) নামে এক যুবককে রোববার দুপুরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত গৌতম শিকারী উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের পশ্চিম যুগিয়া গ্রামের গৌর শিকারীর ছেলে।

    ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, তিনি ও তার স্ত্রী ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তার মেয়ে উপজেলার পশ্চিম যুগিয়া গ্রামে দাদা-দাদির কাছে থেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

    শনিবার রাত ১০টার দিকে একই গ্রামের গৌর শিকারীর ছেলে গৌতম শিকারী ও রবিন শিকারীর ছেলে রমেন শিকারী মেয়ের মুখে গামছা বেঁধে কান্তরায়ের মাছের ঘেরে নিয়ে যায়। সেখানে রমেন শিকারী মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায় তারা। মেয়েকে ঘরে না পেয়ে দাদা-দাদি স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি করে রাত ১২টার দিকে ওই ঘের থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি। ধর্ষকের উপযুক্ত বিচার চাই আমি।

    নাজিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণে সহায়তাকারীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও ধর্ষক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি।”

  • নারীর ক্ষমতায়নে তৃনমূলে কাজ করছে “তথ্য আপা”

    নারীর ক্ষমতায়নে তৃনমূলে কাজ করছে “তথ্য আপা”

    ফয়জুননেসা খানম পিয়া, বানারীপাড়া উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা। নিজের কর্মদক্ষতা ও অমায়িক ব্যবহার দিয়ে পিয়া এখন বানারীপাড়ার নারী সমাজের কাছে এক অতি “প্রিয় মুখ”। তবে ফয়জুননেসা খানম পিয়া নামে নয় এলাকায় তিনি সবার কাছে “তথ্য আপা” হিসেবে সমধিক পরিচিত ও নন্দিত। পিয়াসহ দেশের ৪৯০ টি উপজেলায় কর্মরত তথ্যসেবা কর্মকর্তাদের নিজ নামের পরিবর্তে সবাই “তথ্য আপা” নামে চেনে।

    সরকার কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প ২০২১ ও সপ্তম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ এবং এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রায় নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন দেশের সার্বিক অগ্রগতির অন্যতম শর্ত। নারীর ক্ষমতায়নে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গ্রামের অসহায়,দরিদ্র,সুবিধা বি ত কিংবা কম সুবিধা প্রাপ্ত নারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তাদেরকে তথ্য প্রযুক্তির সেবা প্রদান নিংসন্দেহে নারীর ক্ষমতায়নকে তরান্বিত করবে।

    এ লক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় কর্তৃক “তথ্য আপা” ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন শীর্ষক প্রকল্পটি গৃহীত হয়। স্বাস্থ্য,শিক্ষা,কৃষি,যৌতুক ও নারী নির্যাতন,বাল্য বিবাহ,জেন্ডার সমতা,ইন্টারনেট ভিত্তিক যেকোন সেবা, চাকরীর খবর ও আবেদন সহ যেকোন বিষয়ে সঠিক পরামর্শ পেতে উপজেলা তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ফ্রি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। মাত্র কয়েক বছর আগেও প্রত্যন্ত গ্রামা লে ইন্টারনেট,কম্পিউটার ই-মেইল কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মতো সেবা গুলোর সঙ্গে এলাকার যেসব নারীদের পরিচয় ছিলনা তারাই এখন যোগাযোগের এই ডিজিটাল সেবা গুলো গ্রহন করেছেন।

    এই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কৃতিত্ব ফয়জুননেসা খানম পিয়ার মতো সারা দেশে কর্মরত তথা আপাদের। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নারীদের পরিচয় করিয়ে প্রযুক্তিকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করে তাদের জীবনমান আরও সহজ, সুন্দর,উন্নত ও সমৃদ্ধ করেছে সরকারের এ তথ্য আপা প্রকল্প। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

    জাতীয় মহিলা সংস্থা দেশের গ্রামীন দরিদ্র সুবিধা বি ত ও কম সুবিধাপ্রাপ্ত নারীদের সুবিধা দিতে ২০১১ সালের ৫ই জুলাই ৭টি বিভাগে নির্বাচিত ১৩টি জেলার ১৩টি উপজেলার ১৩টি তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে এই প্রকল্প চালু করে সরকার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় শেষ হয়।

    ২০১৭ সালে দেশজুড়ে শুরু হয় প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় এবং ২০২২ সালে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব কামরুন নাহার জানান, ইনফো লেডি বা তথ্য আপা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের এক কোটি নারীকে ক্ষমতায়িত করা হবে। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে “ডিজিটাল বাংলাদেশ ও নারীর ক্ষমাতায়ন” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলার ক্ষমতায়ন ‘তথা আপা’ সরকারের সফল প্রকল্পের একটি। তথ্য আপা প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মিনা পারভীন জানান তৃণমূলে নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল মুলত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।দেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ তথ্য সেবা কর্মকর্তা ও দু’জন তথ্যসেবা সহকারী কর্মরত রয়েছেন।

    একজন তথ্য সেবা কর্মকর্তা তথা তথ্য আপা তথ্য কেন্দ্রে বসেন।সেখানে বসেই তিনি নারীদের বিভিন্ন তথ্য সহায়তা দেন।বাকী দু’জন তথ্যসেবা সহকারী ল্যাপটপ নিয়ে বাড়ী বাড়ী যান। তবে বানারীপাড়ায় উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা (তথ্য আপা) ফয়জুননেসা খানম নিজেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের এ ব্যপারে উদ্বুদ্ধ করছেন।তথ্য আপা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান সুবিধা হল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

    শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা, জেন্ডার ও আইন এই ছয়টি বিষয়ে সেবা দেয়া হয়।আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে সেবাগ্রহীতাদের নিয়ে প্রতিমাসে দু’টি করে উঠান বৈঠক করা হয়। এ উঠান বৈঠকে ইউএনও,উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তা,আইটি বিশেষজ্ঞ,সমাজসেবী,সাংবাদিক,নারী উদ্যোক্তা,নারী আইনজ্ঞ,সমাজের নেতৃত্বদানকারী নারী,ইমাম ও চিকিৎসক সহ অনেকেই অংশ নেন।

    সচেতনতামূলক এ উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে নারীরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যপারে অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। এছাড়াও কোন সমস্যা কিংবা প্রশ্ন থাকলে তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই তথ্যসেবা দেয়া হয়। তৃণমূলের নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেয়াই মূলত“তথ্য আপা” প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা ফয়জুননেসা খানম পিয়া জানান,ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্র থেকে তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে গ্রামীণ নারীদের উদ্বুদ্ধকরণ, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা, ই-কর্মাস সহায়তা,চাকুরীর আবেদন,স্বাস্থ্য সমস্যা, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ,জমিতে উপযুক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নিশ্চিত করন,বাল্য বিবাহ, ফতোয়া, কিংবা নির্যাতিত হলে কোথায় গেলে পাওয়া যাবে সঠিক সহায়তা সে বিষয়ক তথ্যসমূহ প্রদান করা হয়।

  • পুরুষকেও অংশ নিতে হবে গৃহস্থালির কাজে

    পুরুষকেও অংশ নিতে হবে গৃহস্থালির কাজে

    ডালিয়া রহমান দুই বছর আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভালো চাকরিটি ছেড়ে দিলেন। বললেন, ‘আর সামলাতে পারছিলাম না। কিন্তু চাকরি ছেড়েও লাভ হলো না। সবাই ভাবছে, এখন আমার হাতে অফুরন্ত সময়। কিন্তু সংসার যে একটা ২৪ ঘণ্টার বিরতিহীন চাকরি, সেটাই সমাজ বোঝে না।’

    চাকরি ছেড়ে ডালিয়াকে শুনতে হচ্ছে তিনি কিছু করেন না। ডালিয়ার মতে, এটা এক ধরনের মানসিক নির্যাতন। বললেন, ‘আমার কাজগুলো কেউ ভাগ করে নিক। পরিবারের কাজ, তাই কাজের জন্য আর্থিক মূল্য চাইছি না, তবে স্বীকৃতিটা চাই। কাজের অংশীদারত্ব চাই।’

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর এক একজন গৃহিণী জানালেন, স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই তিনি কিছু করেন না বলে কথা শোনাতেন। তারপর তিনি তাঁর স্বামীকে সারা দিনের কাজের ফিরিস্তি দিলেন। সকালের নাশতা বানানো, কাপড় ধোয়া, সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, বৃদ্ধ শ্বশুরের সেবা করা, সন্তানকে পড়ানোসহ সব কাজই তিনি করছেন। এই কাজগুলোই যদি গৃহকর্মী, গৃহশিক্ষক অথবা নার্সকে দিয়ে করানো হতো, তাহলে কত টাকা দিতে হতো? স্বামী কিছুটা থমকে গিয়েছিলেন। এই গৃহিণীর মতে, ‘ চাওয়া শুধু আমার কাজটাকে অন্যরা সম্মান করুক। ’

    এই গৃহিণীর মুখে কিছুটা হাসির রেখা দেখা দেয়। জানালেন, স্বামী এখন তাঁকে ঘরের কাজে কিছুটা সহায়তা করেন।

    বিভিন্ন গবেষণায় গৃহে নারীর সেবামূলক কাজে ব্যয়িত সময়ের নানান হিসাব এখন প্রকাশ্য। তবে নারীর এই কাজের অর্থনৈতিক বা সামাজিক স্বীকৃতি নেই।

    গবেষক, অর্থনীতিবিদ এবং নারীনেত্রীরা মনে করছেন, জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) বাইরে একটি ‘স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ করে নারীর গৃহস্থালির সেবামূলক কাজের হিসাব করার সময় এসেছে। এতে ঘরে ও বাইরে কাজের চাপ সামলানোর পরও নারীকে যে ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়, তা কমবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সামাজিক সচেতনতা তৈরি করে পুরুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোও জরুরি।

    চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, দেশে নারীরা পুরুষের তুলনায় সাড়ে তিন গুণ বেশি মজুরিবিহীন কাজ করেন। নারী দিনে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা মজুরিবিহীন কাজ করেন আর পুরুষ করেন গড়ে এক ঘণ্টা। বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপও বলছে, ২০১৭ সালের শেষে সারা দেশে ৭২ লাখ নারী-পুরুষ মজুরিবিহীন কাজ করতেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ৫৪ লাখ। আর ১৮ লাখ পুরুষ এমন কাজ করেন।

    নারীর গৃহস্থালির সেবামূলক কাজকে জিডিপির অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে অনেক দিন থেকেই। তবে কোন পদ্ধতিতে জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে মতভেদ আছে। অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বললেন, কিছু কিছু দেশ নারীর গৃহস্থালির কাজকে মূল জিডিপির বাইরে আলাদা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করছে। এ হিসাব রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। এ ছাড়া গৃহস্থালির কাজগুলোকে কীভাবে সহজ করা যায়, তা নিয়েও ভাবা উচিত।

    মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের জেন্ডার উপদেষ্টা বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বললেন, গৃহস্থালির সেবামূলক কাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বীকৃতি দিতে হবে। সংসার সামলেও একজন নারী যাতে নিজের পছন্দ অনুযায়ী চাকরি বা ব্যবসা করতে পারেন, তার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সরকারকে নারীর কাজের জন্য নানান সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।

    বনশ্রী মিত্র নিয়োগী জানালেন, জিডিপির পাশাপাশি ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম অব অ্যাকাউন্ট’ চালু করতে হবে। যে কাজের অর্থনৈতিক বিনিময় মূল্য আছে, তা এই অ্যাকাউন্টে যায়। একজন মানুষ দৈনন্দিন সময়ের কতটুকু সময় কোন কাজে ব্যয় করছেন, তার হিসাব এখানে করা হয়। কৃষিকাজে চাল উৎপাদনের ২৩টি ধাপের ১৭টি কাজ করছেন নারী। তবে নারীর এই কাজও জিডিপিতে হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে। কাজগুলোকে গৃহস্থালির কাজ বলে আখ্যায়িত করার ফলেই এ সমস্যা হচ্ছে।

    গত বছরের নভেম্বরে একশন এইড বাংলাদেশ ও জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের এক যৌথ গবেষণা বলছে, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার যে নারীরা আইনের আশ্রয় নেন, তাঁদের ৬৬ শতাংশই পারিবারিক সহিংসতার শিকার।

    বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম কাজের অভিজ্ঞতায় বললেন, পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। স্ত্রী কর্মজীবী বা গৃহিণী যা-ই হোন, ঘরের কাজে একটু গাফিলতি বা স্বামীকে কোনো কিছুর জন্য একটু অপেক্ষা করতে হলেই স্ত্রীর প্রতি সহিংস আচরণ করেন। নারীর গৃহস্থালির কাজের স্বীকৃতি হয়তো এ ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে। আর এ জন্য নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।