Category: অন্যান্য

  • ঝালকাঠির সুগন্ধা তীরে হচ্ছে ডিসি পার্ক

    ঝালকাঠির সুগন্ধা তীরে হচ্ছে ডিসি পার্ক

    ঝালকাঠি শহরের মানুষের চিত্তবিনোদনের জন্য তেমন কোন স্থান নেই। তাই বিভিন্ন উৎসবে গাবখান সেতুতে মানুষের ঢল নামে। একটি সেতুই ছিল ঘুরতে পছন্দ করা মানুষের একমাত্র বিনোদনের স্থান। স্থানীয়দের চিত্তবিনোদনের কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ডিসি পার্ক’। শহরের সুগন্ধা নদী তীরের লিচু তলা এলাকায় মনোরম পরিবেশে গড়ে তোলা হচ্ছে পার্কটি। দ্রুত গতিতে পার্কের সৌন্দর্য বর্ধণের কাজ চলছে।

    জানা যায়, ঝালকাঠি শহরের সুগন্ধা নদী তীরের লিচুতলা এলাকায় বিনোদনপ্রেমীদের যাতায়াত ছিল আগে থেকেই। জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক ওই স্থানটি সৌন্দর্য বর্ধন করে ডিসি পার্ক গড়ে তেলার সিদ্ধান্ত নেন। কালেক্টরেট বিদ্যালয়ের পাশে এই পার্কটি গড়ে তোলায় স্থানীয়রাও খুশি। গাছের ছায়ায় সারাক্ষণই শীতল থাকে পার্কের পরিবেশ। ছায়াসুনিবির পার্কে বসে দেখা যাবে সুগন্ধা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পরন্ত বিকেলে পাখির কিচিমমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে ডিসি পার্ক। রাতেও ঘুরতে আসা মানুষের সুবিধার্থে স্থাপন করা হয়েছে নানা ধরণের আলোকসজ্জা। পার্কের মধ্যে রয়েছে পিকনিক স্পট। শিশুদের জন্য বিভিন্ন খেলনা নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে। পার্কে থাকবে কফি কর্নার, একটি ওভার ব্রিজ। সীমানা প্রাচীর দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টুনী দেওয়া হবে।

    ঝালকাঠির শহরের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শামীম আলম বাবু বলেন, শহরের মধ্যে ঘুরতে যাওয়ার কোন পরিবেশ বা স্থান নেই। মানুষ ঈদ বা অন্য কোন বিশেষ সময় গাবখান সেতুতে ঘুরতে যায়। আমরাও অনেকবার গিয়েছি। এখন শহরের মধ্যেই নদীতীরে একটি পার্ক হচ্ছে। এখানে মানুষের ভীর বেশি থাকবে। কারণ পরিবেশটা অত্যন্ত ভাল ও মনোরম।

    ঝালকাঠি সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহসভাপতি হেমায়েত উদ্দিন হিমু বলেন, পার্কটি গড়ে উঠলে মানুষের চিত্তবিনোদনের একটি নির্দিষ্ট স্থান হবে। নদীর তীরে বসে সমুদ্রের বীচে ঘোরার তৃপ্তি পাওয়া যাবে। সন্ধ্যায় সুর্যাস্ত দেখাও যাবে। জেলা প্রশাসকের এ মহতি উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তিনি আমাদের জেলাবাসীর জন্য আর্শিবাদ হয়ে থাকবেন।

    ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদ হোসেন খান বলেন, আমাদের শহরের মধ্যে একটি সুন্দর পার্ক হচ্ছে, এটা আনন্দের খবর। সুগন্ধা নদীর যৌন্দর্যও দেখা যাবে পার্কে বসে। একই সঙ্গে নদী দেখা হলো, আবার মনোরম পরিবেশে সময় কাটানোও গেলো। তবে পার্কের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। তাহলে শিশু, কিশোর ও বয়স্করাও সেখানে গিয়ে বসতে পারবে।

    ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি শিশু সংগঠক কাজী খলিলুর রহমান বলেন, পার্কটির সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শেষ হলে এটি জেলার একটি আকর্ষণীয় স্থান হবে। এখানে মানুষ চিত্তবিনোদনের জন্য ছুটে আসবে। জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক একজন ভাল মানুষ বিধায়, সব ভাল কাজগুলো হচ্ছে। ডিসি পার্ক এবং কালেক্টরেট স্কুলটি তিনি করে জেলাবাসীকে ধন্য করেছেন।

    এ ব্যাপারে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, ঝালকাঠিতে কালেক্টরেট স্কুল ছিল না। আমরা সুগন্ধা নদী তীরে একটি স্কুল করেছি। তার পেছনে ছায়াসুনিবির পরিবেশে আমরা ডিসি পার্ক করেছি। পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে। কাজ সম্পন্ন হলে ডিসি পার্কটি একটি আকর্ষণিয় স্থান হবে। এখানে মানুষ নিরাপদে ঘুরতে আসতে পারবেন।

  • একটি সাংসারিক জীবনের গল্প

    একটি সাংসারিক জীবনের গল্প

    স্টাফ রিপোর্টার// শাওন অরন্য:

    বিয়ে হয়তো হয় পরিবারের পছন্দে অথবা নিজের পছন্দ করা ছেলের সাথে, কিন্তু বিয়ের পর ধীরে ধীরেই ভালবাসা কোন এক অজানা কারনে ফিকে হতে শুরু করে। দোষ পরিবারের নয়, কখনোবা নিজের পছন্দেরও নয়, দোষ বিপরীত মন মানসিকতার। অনেকের অভিযোগ- মানুষটা আর আগের মত ভালবাসেনা… কিন্তু ভাবার বিষয় হল ভালবাসা নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সেই আগের মতই সচেতন থাকে কিনা! স্বামীর কাছে শুধুমাত্র একটি চকলেট আশা করলে, সেই একটি চকলেট থেকে অর্ধেকটুকু স্বামীর জন্য রেখে দেওয়ার মানসিকতাও যে থাকতে হবে। স্বামী-স্ত্রী দুজন যদি দুজনের সহযোগী না হয় তবে স্ত্রীর জন্য যেমন সংসার জাহান্নাম ঠেকে, স্বামীর জন্য তাই। সংসারে ছোট ছোট অপ্রাপ্তিই একদিন দুজনের মধ্যে কংক্রিটের দেয়াল তৈরী করে। সাধ্যের বাইরের শখ গুলো না হয় অপূর্ণই থাকল কিন্তু ছোট ছোট চাওয়া গুলো পূরণ করলে সম্পর্ক মজবুত হয়। ব্যাপার খানা এরকম- কক্সবাজার দেখাতে না পারলেও বুড়িগঙ্গা তো দেখানোই যায়। চাওয়া এবং পাওয়ার মধ্যে মিল হয়ত নাও থাকতে পারে তাই বলে দুজনের প্রতি দুজনের অকৃতজ্ঞ হওয়া শোভনীয় নয় মোটেও। স্ত্রী যখন ভাবে দুজন একান্তে বসে একটু গল্প করার কথার কথা, স্বামী তখন অফিসের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, স্বামী যখন স্ত্রীর কথা ভাবে, স্ত্রী তখন সাংসারিক কাজে ব্যস্ত, এমনো হয় কয়েক যুগ সংসার করার পরও কেউ কারও মনই বুঝতে পারে না। দেখেছি অতি বাস্তববাদী মেয়েটা বিয়ের পর অসম্ভব আবেগপ্রবণ হয়ে যায়, আর আবেগপ্রবণ ছেলেটি হয়ে যায় অসম্ভব বাস্তববাদী। কিন্তু সংসার এত বাস্তবতা, আবেগের হিসাব নিকাশ করে চলে না। সংসার সুখের করতে হলে ভালবাসা প্রয়োজন, প্রেম প্রয়োজন, রোমান্স প্রয়োজন, আদর-যত্ন প্রয়োজন, শ্রদ্ধা প্রয়োজন, স্যাক্রিফাইস প্রয়োজন।

  • ১২ লাখ টাকার কিডনি স্থাপন বিএসএমএমইউতে মাত্র এক লাখ ৬০ হাজারে হচ্ছে

    ১২ লাখ টাকার কিডনি স্থাপন বিএসএমএমইউতে মাত্র এক লাখ ৬০ হাজারে হচ্ছে

    বাংলাদেশে এখন সর্বাধুনিক কিডনি চিকিৎসা মিলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে : বিএসএমএমইউ-তে । সেখানে অতি অল্প খরচে সম্পূর্ণ চিকিৎসা মিলছে কিডনি রোগ ও কিডনি প্রতিস্থাপনের।

    বাংলাদেশের মিডিয়ার একদেশদর্শিতার কারণে ভাল খবর ভুক্তভোগীরা পাচ্ছে না। এর কারণ করপোরেট কালচার।
    অতি খরচের বিজ্ঞাপণ মিডিয়ায় সুলভ হলেও নাম মাত্র খরচে সরকারি বা বিএসএমএমইউএ হাসপাতালের ব্যাপক রোগী সেবার খবর আসছে না। এর কারণ বিএসএমএমইউ-র বিজ্ঞাপণ দিয়ে জানানোর সুযোগ নেই।
    কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে বিএসএমএমইউ রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কার্তিক চন্দ্র ঘোষ মিডিয়াকে জানান, বাংলাদেশে ১৯৮২ সাল থেকে সর্ব প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হয়। সরকারি এই হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে। এখন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার এই চিকিৎসা করা যায়। এখানে কিডনি আইসিইউ আছে।
    তিনি বলেন, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হচ্ছে যিনি কিডনি দেবে ও যিনি গ্রহণ করবেন তাদের জন্য একটি প্যাকেজ। এই পাকেজে রয়েছে দুই সপ্তাহের মেডিসিন ও সকল পরীক্ষা নিরীক্ষার খরচ।এছাড়া দুই সপ্তাহের পরেও যদি তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তবে তাকে থাকতে হবে কিডনি আইসিউইতে এ ক্ষেত্রে কোনো খরচ লাগবে না।
    সূত্র জানায়, বিশাল
    ভারতবর্ষে বেসরকারি পর্যায়ে এ ধরনের চিকিৎসায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে । একই ভাবে সরকারি বা অল ইন্ডিয়া ইনিস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে ( এআইআইএমএস) খরচ বিএসএমএমইউর মতই অনেক কম। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া তার পূর্বসূরী অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের ধারাবাহিকতায় কিডনি সহ নানা রোগের চিকিৎসা অল্প খরচে নিশ্চিত করছেন।

    ডা. কার্তিক চন্দ্র ঘোষ বলেন, বিএসএমএমইউ কম খরচে কিডনি প্রতিস্থাপনের কারণ হচ্ছে বিএসএমএমইউ সরকার সহযোগিতা করে।এটি একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের মানুষের সেবা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের কোনো লাভেরর কথা চিন্তা করি না। আমাদের কাছে অর্থ নয় সেবাই প্রথম।

    আমাদের শরীরের তলপেটের বিপরীত দিকে ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যরে মুষ্টি আকৃতির দুটি কিডনি থাকে। কিডনি, হার্ট, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, লিভার প্রভৃতি অঙ্গের কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কিডনির সব চেয়ে ক্ষুদ্র অংশ হল নেফ্রোন।

    প্রতিটি কিডনিতে প্রায় ১০ লাখ নেফ্রোন থাকে যার প্রতিটিই রক্ত পরিশোধনের ক্ষুদ্র ছাঁকুনি হিসেবে কাজ করে। শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বের করে দেয়া, রক্ত পরিশোধন, পানি ও খনিজ লবণের ভারসাম্য রক্ষা, হরমোন উৎপাদন, এসিড এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কিডনির প্রধান কাজ।

    আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, কিডনির সর্বোচ্চ শতকরা ৯০ ভাগ সঠিকভাবে কাজ না করলেও একজন মানুষ তেমন বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে; তবে এ সংখ্যা সবার ক্ষেত্রে একই রকম নাও হতে পারে।

  • অবশেষে মীরগঞ্জ খেয়াঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা

    অবশেষে মীরগঞ্জ খেয়াঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা

    বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ খেয়াঘাটের ইজারা কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১১ জুন) বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মানিকহার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    জানা যায়, জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন মীরগঞ্জ খেয়াঘাট ২০১৯ সালের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার নিমিত্তে বরিশাল জেলা পরিষদে ইজারা দরপত্র আহ্বান করা হয়। বিজ্ঞ বাবুগঞ্জ সহকারী জজ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে মীরগঞ্জ খেয়াঘাটের ইজারা কার্যক্রম আপাতত স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে জেলা পরিষদ।

    এর আগে, সোমবার (১০ জুন) বরিশাল জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রাণাধীন মীরগঞ্জ খেয়াঘাট সর্বোচ্চ দর দাতাকে বুঝিয়ে দিতে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন বাবুগঞ্জ সহকারী জজ আদালত। সর্বোচ্চ দর দাতা আলমগীর হোসেনের দায়েরকৃত মামলার সোমবার শুনানি শেষে আদালতের বিচারক তাররাহুম আহম্মেদ আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে এ নোটিশ দেন।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের মীরগঞ্জ খেয়াঘাটের ষষ্ঠ বার পর্যন্ত দরপত্র আহ্বান করা সত্ত্বেও সম্ভাব্য মূল্য দরপত্র পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সপ্তম বার ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দর দাতা ৬৬ লাখ টাকায় টেন্ডার পাওয়ার জন্য আবেদন করেন।
    অথচ জেলা পরিষদের নথিতে শেষ বার ইজারার কথা থাকলেও এবং নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দর দাতাকে ঘাট বুঝিয়ে না দেওয়ায় গত ২৮ মে বিজ্ঞ বাবুগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করলে বিচারক সোমবার শুনানি শেষে সর্বোচ্চ ইজারাদারকে খেয়াঘাট কেন দেওয়া হচ্ছে না মর্মে সাত কার্য দিবসের মধ্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

  • সন্তানের হাতে স্মার্টফোন, মদ ও গাজার মতোই বিপজ্জনক!

    সন্তানের হাতে স্মার্টফোন, মদ ও গাজার মতোই বিপজ্জনক!

    অনলাইন ডেস্ক:

    সন্তানকে স্মার্টফোন দেয়ার অর্থ হলো তাদের হাতে এক বোতল মদ কিংবা এক গ্রাম কোকেইন তুলে দেয়া। কারণ স্মার্টফোনে আসক্তি মাদকাসক্তির মতোই বিপজ্জনক। লন্ডনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা বিষয়ক একটি সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এমন মতামত দিয়েছেন।

    এতে আরও বলা হয়, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামে বন্ধুদের বার্তা পাঠানোতে সময় ব্যয় মাদক ও অ্যালকোহলে আসক্তির মতোই বিপজ্জনক হতে পারে। তাই মাদকাসক্তি দূর করতে যেমন পদক্ষেপ নেয়া হয় স্মার্টফোন আসক্তি থেকেও শিশুদের বের করে নিয়ে আসতে একই রকম চেষ্টা করা উচিত।

    প্রযুক্তি আসক্তি ও কিশোর উন্নয়নের বিষয়ে বক্তৃতা করতে গিয়ে লন্ডনের হারলে স্ট্রিট রিহ্যাব ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ ম্যান্ডি সালিগ্যারি বলেন, স্মার্টফোনের পর্দায় শিশু-কিশোরদের সময় কাটানোর সে আসক্তি তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হয় না। আমি সবসময় মানুষকে বলি আপনি যখন সন্তানকে ট্যাবলেট বা ফোন কিনে দিচ্ছেন আপনি আসলে তাদে এক বোদল মদ কিংবা এক গ্রাম কোকেইন কিনে দিচ্ছেন।

    বন্ধ দরজার পেছনে আপনি তাদের সবকিছু করার সুযোগ দিয়ে একলা ছেড়ে দিচ্ছেন। মাদক ও অ্যালকোহলের মতো এসব বিষয়ও একই মস্তিষ্কেই বিরূপ প্রভাব ফেলে। তারপরও কেন আমরা এ বিষয়গুলোতে কম গুরুত্ব দেই

  • নিজেকে কখন মুসলিম দাবি করতে পারব

    নিজেকে কখন মুসলিম দাবি করতে পারব

    ইসলাম অর্থ সমর্পণ, আর ঈমান অর্থ বিশ্বাস। তাই আল্লাহ তাআলার সামনে পরিপূর্ণ সমর্পণকারীকে মুসলিম এবং আল্লাহ ও তাঁর বিধানকে পূর্ণরূপে বিশ্বাসকারীকে বলা হয় মুমিন। ইসলাম ও ঈমান একটি অন্যটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অর্থাৎ একটি ছাড়া অন্যটির অস্তিত্ব সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার ওপর সবচেয়ে বড় বিধান হলো ঈমান। ঈমান হলো ইসলামকে একমাত্র সত্য ধর্ম মেনে তা গ্রহণ করে নেওয়া। ইসলাম আকাইদ ও আহকাম, তথা বিশ্বাস ও বিধানাবলির সমষ্টি। ইসলামের বর্ণিত সঠিক আকাইদ, ইসলামের প্রদত্ত শরিয়ত মেনে নেওয়ার নাম ঈমান। এগুলোর অস্বীকার করা কুফর। ঈমান ও ইসলামের মৌলিক ও প্রাথমিক বিষয়গুলো নিয়ে লিখেছেন বিশিষ্ট ফতোয়া গবেষক ও মুহাদ্দিস মুফতি মাহমুদ হাসান

     

    আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি আস্থার ভিত্তিতে সব মেনে নেওয়া

    ঈমান হলো, ওই সত্য সঠিক আকিদাকে স্বীকার করা ও সত্য বলে বিশ্বাস করা, যা ওহির দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে ওহি কোরআন ও সুন্নাহরূপে সংরক্ষিত আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে ইনশাআল্লাহ। ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, কোনো বিষয়কে শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি আস্থার ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে মেনে নেওয়া ও বিশ্বাস করা। স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার পর ঈমান আনার কিছুই নেই। চোখে দেখা বিষয়কে তো বেঈমানরাও স্বীকার করে।

    ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও দৃশ্যমান বস্তুগুলো বা সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা বোঝা যায় এমন বিষয়গুলো ঈমানের বিষয়বস্তু নয়। এসব তো মানুষ এমনিতেই মেনে নেয়। এতে ঈমান আনা না আনার প্রশ্নই অবান্তর। মুমিনকে তো এ জন্য মুমিন বলা হয় যে সে না দেখা বিষয় শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সংবাদের ওপর ভিত্তি করেই মেনে নিয়েছে ও বিশ্বাস করেছে।

    আল্লাহ তাআলা কোরআন মজিদের শুরুতেই মুমিনের এই বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন, ‘আলিফ লাম মীম—এটি সেই কিতাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি  হিদায়াত, এমন ভীতি অবলম্বনকারীদের জন্য, যারা অদৃশ্য জিনিসগুলো বিশ্বাস রাখে এবং সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা কিছু দিয়েছি তা থেকে (আল্লাহর সন্তোষজনক কাজে) ব্যয় করে। আর যারা ঈমান রাখে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতেও এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতেও এবং তারা পরকালে পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১-৫)

     

    ইসলাম হলো বিশ্বাসের সঙ্গে সমর্পণ

    ইসলাম গ্রহণের অনিবার্য শর্ত—বান্দা নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করবে। তাঁর প্রতিটি আদেশ শিরোধার্য মনে করবে,     মনে-প্রাণে কবুল করবে, অন্তরে কোনো দ্বিধা থাকবে না। মুমিনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সমর্পণ, আর ইবলিস ও তার অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য বিপরীত যুক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে নিজেকে নির্বোধ করেছে সে ব্যতীত ইবরাহিমের ধর্মাদর্শ হতে আর কে বিমুখ হবে। পৃথিবীতে তাকে আমি মনোনীত করেছি; আর আখিরাতেও সে অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম। তার প্রতিপালক যখন তাকে বলেছিলেন, আত্মসমর্পণ করো, সে বলেছিল, জগৎসমূহের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৩০-১৩১)

     

    ঈমান অবিচল বিশ্বাসের নাম

    ঈমান অটল ও দৃঢ় বিশ্বাসের নাম। সংশয় ও দোদুল্যমানতার মিশ্রণ এখানে হতে পারে না। দৃঢ় বিশ্বাস না হলে তা ঈমান নয়। অনুমান আর কল্পনা-কুসংস্কারের কোনো অবকাশ তাতে নেই।

    কোরআনে কারিমের ইরশাদ—‘তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনে, অতঃপর সন্দেহ পোষণ করে না।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৫)

    সংশয় ও দোদুল্যমানতা কাফির ও মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য, মুমিনের নয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান আনে, তারা নিজ সম্পদ ও জীবন দ্বারা জিহাদে অব্যাহতি পাওয়ার প্রার্থনা তোমার নিকট করে না। আল্লাহ মুত্তাকিদের সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত। তোমার নিকট অব্যাহতি প্রার্থনা শুধু ওরাই করে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান আনে না এবং যাদের চিত্ত সংশয়যুক্ত। ওরা তো আপন সংশয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৪৪-৪৫)

    পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করা ছাড়া মুসলিম হওয়া যায় না

    ঈমান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য ইসলামের সব অকাট্য বিধান ও বিশ্বাসকে সত্য মনে করা এবং মন থেকে কবুল করা অপরিহার্য। এর কোনো একটিকে অস্বীকার করা বা কোনো একটির ওপর আপত্তি তোলাও ঈমান বরবাদ হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

    আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করো? সুতরাং তোমাদের যারা এ রকম করে, তাদের একমাত্র পরিণাম পার্থিব জীবনে হীনতা এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠিন শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে, তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আল্লাহ বেখবর নন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৮৫)

    হ্যাঁ, শরিয়তের বিধি-বিধানকে সঠিক ও অবশ্যপালনীয় বলে স্বীকার করার পর পালনে ত্রুটি হলে তা গুনাহ, কুফর নয়। কারণ এই ব্যক্তি নিজেকে অপরাধী মনে করে। পক্ষান্তরে বিধানের ওপর বিরুদ্ধ প্রশ্ন বা আপত্তি করা সরাসরি আনুগত্যত্যাগ, যা সাধারণ অপরাধ নয়, বিদ্রোহ। এটা মানুষকে চিরজাহান্নামি সাব্যস্ত করে।

     

    আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার মর্মকথা

    ঈমানের সর্বপ্রথম রুকন হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকারোক্তি ও ঘোষণা; অর্থাৎ আল্লাহর ওপর ঈমান। আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব স্বীকার করা, একমাত্র তাঁকেই রব ও সত্য মাবুদ বলে মানা—এটিই হলো দ্বিনের মূল ভিত্তি। এর দাবি হচ্ছে, আল্লাহর সত্তা ও গুণসংশ্লিষ্ট আকিদা সঠিক হতে হবে—তিনিই এক ও অসীম, সুমহান, তাঁর মতো ও সমকক্ষ কেউই নেই। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন; সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। ইবাদতের উপযুক্ত তিনিই। তাঁর কোনো স্ত্রী, সন্তানাদি ও মাতা-পিতা নেই। তিনিই সবার খালিক ও মালিক। তিনিই প্রতিপালক, রিজিকদাতা, মৃত্যু ও জীবনদাতা এবং পুনরুত্থানকারী। সুস্থতা-অসুস্থতা, ধনাঢ্যতা-দারিদ্র্য, লাভ-ক্ষতি শুধুই তাঁরই ক্ষমতাধীন। পথপ্রদর্শন, উপকার-অপকার, নিরাপত্তা ও রক্ষা একমাত্র তাঁরই হাতে। সম্মান ও লাঞ্ছনা তিনিই দেন। তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর সত্তা অনাদি ও অনন্ত, সর্বজ্ঞানের অধিকারী, প্রজ্ঞাময়, পরাক্রমশালী, ন্যায়পরায়ণ, গৌরবময়, সর্বোচ্চ মর্যাদাবান ও প্রশংসিত, অসীম ইচ্ছাশক্তির অধিকারী, সৃষ্টি ও সৃজন তাঁর গুণ। আলিমুল গাইব, হাজির-নাজির, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, সর্ববিষয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী, সংকট মোচনকারী, অসীম দয়া ও কল্যাণময় এবং বিপদাপদে সাহায্যকারী। তিনি অধিক ধৈর্যশীল, সহিঞ্চু ও পরম ক্ষমাশীল। গোটা জগতের এক, অদ্বিতীয় স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রকও তিনিই।

    আল্লাহর কোনো অংশীদার কিংবা পরামর্শক নেই। রুবুবিয়্যত ও উলুহিয়্যতের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করা যাবে না। তাঁর বিশেষ হক ও একান্ত বৈশিষ্ট্যসমূহে কাউকে শরিক করা যাবে না। সাধারণ কার্যকারণ ও উপায়-উপকরণের ঊর্ধ্বের বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে না। তাঁর কাজে কারো দখল দেওয়ার অবকাশ নেই। বিধি-বিধান নির্ধারণ তাঁরই অধিকার। এতে কাউকে শরিক করবে না—না কোনো মতবাদকে, না কোনো নেতা বা দলকে, না রাষ্ট্র বা সম্প্র্রদায়কে। তিনি মালিকুল মুলক—রাজাধিরাজ। আহকামুল হাকিমিন—মহাবিচারক। তাঁর হুকুমের বিপরীতে অন্য কারো হুকুম কখনো মানা যাবে না; চাই সে শাসনকর্তা, মা-বাবা কিংবা গোত্রপতি অথবা নিজের প্রবৃত্তি হোক।

     

    শিরকমিশ্রিত ঈমান আল্লাহর কাছে ঈমানই নয়

    একমাত্র আল্লাহ তাআলাকেই পালনকর্তা ও সত্য মাবুদ বলে মানা, রুবুবিয়্যত ও উলুহিয়্যতের বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। সর্ববিষয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী এবং বিপদাপদে তাঁকেই একমাত্র ত্রাণকারী বিশ্বাস করবে। গোটা জগতের এক, অদ্বিতীয় স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রকও তিনিই। বিধি-বিধান নির্ধারণ তাঁরই অধিকার। তাঁর একান্ত বৈশিষ্ট্যসমূহে কাউকে শরিক করবে না—না কোনো মতবাদকে, না কোনো নেতা বা দলকে, না রাষ্ট্র বা সম্প্রদায়কে। মোটকথা, তাওহিদকে পূর্ণরূপে ধারণ করা ও শিরক থেকে পরিপূর্ণ বেঁচে থাকা ঈমানের সবচেয়ে বড় অংশ। আল্লাহর কাছে মুশরিকের ঈমান ঈমানই নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং সালাত কায়েম করতে ও জাকাত দিতে। এটাই সঠিক দ্বিন। কিতাবিদের মধ্যে যারা কুফরি করে, তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম।’ (সুরা : বায়্যিনাহ, আয়াত : ৫-৬)

     

    ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনার মর্মকথা

    ফেরেশতারা আল্লাহ তাআলার সম্মানিত সৃষ্টি। নূরের তৈরি। পুরুষও নন, নারীও নন। কাম, ক্রোধ, ক্ষুধা, রিপু ইত্যাদি থেকে মুক্ত। তাঁদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানাদি নেই। তাঁরা আল্লাহ প্রদত্ত সীমায় বিপুল শক্তির অধিকারী। বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারেন। কখনো আল্লাহর হুকুমের অমান্য করেন না, বরং সর্বদা আল্লাহ প্রদত্ত কাজে নিমগ্ন। ফেরেশতাকুলের সর্দার হলেন জিবরাঈল (আ.)। (দেখুন—সুরা : নহল, আয়াত : ৪৯-৫০; সুরা : তাকবির, আয়াত : ১৯-২১)

     

    আসমানি কিতাবের ওপর ঈমান আনার মর্মকথা

    আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে মানুষের হিদায়াতের জন্য নবী-রাসুলদের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পক্ষ থেকে ছোট-বড় কিতাবও নাজিল করেছেন। সেগুলো আল্লাহ প্রদত্ত সত্য কিতাব, মানবরচিত নয়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ চারখানা :

    ১. তাওরাত—হজরত মুসা (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল।

    ২. জাবুর—হজরত দাউদ (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল।

    ৩. ইনিজল—হজরত ঈসা (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল।

    ৪. আল-কুরআনুল কারিম, যা সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হয়েছে।

    আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত সব কিতাবের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হচ্ছে ‘আল-কুরআনুল কারিম’। আল-কোরআন নাজিল হওয়ার পর আগের নবী-রাসুলদের সব কিতাব ও শরিয়ত রহিত হয়ে গেছে। কিয়ামত পর্যন্ত একমাত্র কোরআনের বিধানই বলবৎ থাকবে। (দেখুন—সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৭৯; সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৬)

    আল-কোরআন ছাড়া পূর্বেকার সব কিতাবই কমবেশি শাব্দিক ও অর্থগত বিকৃত হয়েছে। একমাত্র কোরআনই কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত ও নির্ভুল থাকবে, তাতে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না। আল্লাহ তাআলা নিজেই কোরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। (দেখুন—সুরা : হিজর, আয়াত : ৯) কোরআনের ন্যায় কোনো কিতাব কোনো মাখলুক বানাতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা যেরূপ অনাদি, তাঁর কালামও অনাদি। তবে আমাদের পঠিত ও লিখিত আয়াতগুলোর শব্দ ও লেখাগুলো সৃষ্ট।

     

    ঈমান শুধু সত্য গ্রহণ নয়, অসত্য বর্জনও

    কোনো আকিদা মেনে নেওয়ার পাশাপাশি তার বিপরীত বিষয়কেও সঠিক মনে করা স্ববিরোধিতা, কোনো সুস্থ বুদ্ধি তা গ্রহণ করতে পারে না। ঈমান তখনই সাব্যস্ত হবে, যখন বিপরীত সব কিছু বাতিল ও মিথ্যা মনে করবে এবং তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। সব ধরনের শিরক, কুফর ও অনৈসলামিক রীতিনীতি থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা ঈমানের অংশ। ইবরাহিম (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, ‘হে আমার সম্প্র্রদায়! তোমরা যাকে আল্লাহর শরিক করো তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফেরাচ্ছি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।’ (সুরা : আনআম, আয়াত :    ৭৮-৭৯) মোটকথা, ধর্মহীনতা যেমন কুফর, তেমনি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বিন অন্বেষণ করাও কুফর। সত্য আকিদাগুলো গ্রহণ করা আর কুফরি কর্ম ও বিশ্বাস থেকে সম্পর্কহীনতা অবলম্বন করা—এ দুয়ের সমষ্টির দ্বারা ঈমান অস্তিত্ব লাভ করে। ঈমান ও ঈমান বিনষ্টকারী বিষয় একত্র হতে পারে না।

     

    মৌলিক যেসব বিষয়ে ঈমান রাখা অপরিহার্য

    মৌলিকভাবে ছয়টি বিষয়ে ঈমান রাখতে হয়। যথা—

    ১. আল্লাহর প্রতি ঈমান।

    ২. ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান।

    ৩. আল্লাহর নাজিলকৃত সব কিতাবের প্রতি ঈমান।

    ৪. আল্লাহর প্রেরিত সব নবী-রাসুলের প্রতি ঈমান।

    ৫. আখিরাতের প্রতি ঈমান।

    ৬. তাকদিরের প্রতি ঈমান।

    মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘রাসুল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাজিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসুলগণের ওপর, আমরা তাঁর রাসুলগণের কারো মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৮৫) একটি হাদিস শরিফে জিবরাঈল (আ.)-এর প্রশ্নের উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ঈমান হলো আল্লাহ, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসুলগণ, আখিরাত ও ভালো-মন্দ তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০; মুসলিম, হাদিস : ১)

     

    পরকালে বিশ্বাসের মর্মকথা

    কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার দ্বারা জগৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর আল্লাহ তাআলা সব প্রাণীকে পুনরুত্থিত করবেন। সব মানুষ ও জিন পুনরুত্থানের পর নিজ নিজ কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে। মুসলিমরা কিয়ামতের পর পুনরুত্থানে বিশ্বাসী, তবে দুনিয়ায় পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাসী নয়। আখিরাত বিষয়ক নিম্নের বিশ্বাসগুলোও অপরিহার্য :

    ♦ কবরে সওয়াল-জবাব অনিবার্য সত্য। (তিরমিজি, হাদিস : ১০৭১)

    ♦ মুমিনদের কবরে শান্তি পাওয়া এবং কাফির ও গুনাহগারদের আজাব হওয়া সত্য। তা জীবিত মানুষদের বোধগম্য নয়, কেননা তা আলমে বারজাখে হয়ে থাকে। (মুসলিম, হাদিস : ৯০৫)

    ♦ শারীরিক ও আত্মিক উভয়ভাবে পুনরুত্থান এবং হাশরের ময়দানে বিচার ও হিসাব-নিকাশ সত্য।

    (সুরা : জুমার, আয়াত : ৬৮; সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৭৮-৭৯)

    ♦ ভালো-মন্দ আমলের ওজন করা অনিবার্য সত্য। (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৪৭)

    ♦ নেককারদের আমলনামা ডান হাতে এবং বদকারদের আমলনামা বাঁ হাতে দেওয়া হবে। (সুরা : হাক্কা, আয়াত : ১৯-২৯; সুরা : কাহ্ফ, আয়াত : ৪৯)

    ♦ আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ সুপারিশ এবং পরবর্তী সময়ে আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতা, নবীগণ ও সৎ মুমিনদের সুপারিশ অনিবার্য সত্য।

    (বুখারি, হাদিস : ৪৪৭৬; মুসলিম, হাদিস : ৩২২)

    ♦ আমাদের নবী (সা.) কাউসার নামক নহর থেকে নেককার উম্মতকে পানি পান করাবেন। (সুরা : কাউসার, আয়াত : ১; বুখারি, হাদিস : ৬৫৭৯; মুসলিম, হাদিস : ২২৯৫)

    ♦ জাহান্নামের ওপর দিয়ে চুলের চেয়েও চিকন ও তরবারির চেয়েও ধারালো পুল পার হওয়া অনিবার্য সত্য। নেককাররা তাদের আমল অনুপাতে দ্রুতগতিতে পার হবে। আর গুনাহগাররা হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবে, অথবা তাদের টেনে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে। (বুখারি, হাদিস : ৮০৬; মুসলিম, হাদিস : ২৯৯)

    ♦ নেককাররা আল্লাহর রহমতে জান্নাতে যাবে এবং বদকাররা আল্লাহর ন্যায়বিচারে জাহান্নামে যাবে।

    ♦ গুনাহগার ঈমানদারদের কাফির বলা হবে না এবং তারা চিরজাহান্নামিও হবে না। (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৮)

    ♦ মুমিনরা চিরজান্নাতি এবং কাফিররা চিরজাহান্নামি হবে।

    (সুরা : বায়্যিনাহ, আয়াত : ৬-৮)

    ♦ পরকালে মুমিনরা আল্লাহ তাআলাকে স্বচক্ষে দেখবে।

    (সুরা : ক্বিয়ামাহ, আয়াত : ২২-২৩; বুখারি, হাদিস : ৫৫৪)

     

    সব নবী-রাসুলের ওপর ঈমান আনার মর্মকথা

    মহান আল্লাহ যুগে যুগে মানুষ ও জিনের হিদায়াতের জন্য তাঁর মনোনীত নবী-রাসুলদের প্রেরণ করেছিলেন। তাঁরা আল্লাহর বাণীকে তাঁদের কথা ও কাজ দ্বারা বান্দাদের প্রতি পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাঁদের সংখ্যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত না হলেও একটি বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে তাঁদের সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজার। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২২৮৮) তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম হলেন আদম (আ.) এবং সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন মুহাম্মদ (সা.)। নবীদের ব্যাপারে নিম্নোক্ত বিশ্বাসগুলো রাখতে হবে :

    ♦ নবুয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব আল্লাহ প্রদত্ত দয়া ও অনুগ্রহ। কেউ পরিশ্রম করে নবী-রাসুল হতে পারবে না। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১০৫)

    ♦ নবী-রাসুলগণ সর্বযুগের সব মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (সুরা : হাজ্জ, আয়াত : ৭৫)

    ♦ তাঁরা মাটির তৈরি সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ। তাঁরা আল্লাহও নন, আল্লাহর পুত্রও নন। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩০)

    ♦ নবী-রাসুলদের প্রতি ঈমান আনা ব্যতীত আল্লাহর প্রতি ঈমান গ্রহণযোগ্য নয়। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৫০)

    ♦ নবী-রাসুলরা সবাই ছোট-বড় গুনাহ থেকে নিষ্পাপ। সবাই ন্যায়ের পথে ছিলেন। (শরহুল ফিকহিল আকবার, পৃষ্ঠা ১৬)

    ♦ তাঁরা আল্লাহর বাণী উম্মতদের কাছে যথাযথ পৌঁছিয়েছিলেন, তাতে কোনো ত্রুটি করেননি। (সুরা : আহযাব, আয়াত : ৩৯)

    ♦ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সর্বসম্মতিক্রমে নবীরা ইন্তেকালের পর শহীদদের চেয়েও বেশি জীবন ও অনুভূতিসম্পন্ন। যদিও তা দুনিয়ার জীবনের ন্যায় জীবন নয়। (দেখুন—সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৩৭৫; মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস : ৩৪২৫, হাদিসটির সনদ সহিহ)

    তাকদিরে বিশ্বাসের মর্মকথা

    ভালো-মন্দ তাকদিরের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা। সব সৃষ্টির ব্যাপারে লাওহে মাহফুজে আগে থেকেই শুরু-শেষ, ভালো-মন্দ বিস্তারিত কুদরতি কলম দ্বারা লিপিবদ্ধ ও নির্ধারিত আছে। মানব-দানবের ভালো-মন্দ তাকদির আল্লাহ তাআলা আলিমুল গাইব হিসেবে আগে থেকেই লিখে রাখলেও মানুষ কোনো কাজে বাধ্য ও অক্ষম নয়, বরং আল্লাহ তাআলা সবাইকে নিজ নিজ ইচ্ছাশক্তি দান করেছেন, যা কাজে লাগিয়ে সে  ভালো-মন্দ কাজ করে থাকে। এ জন্যই ভালো কাজে পুরস্কার এবং মন্দ কাজে শাস্তির বিধান রয়েছে। তাকদির নিয়ে বেশি গবেষণা ও বাড়াবাড়ি নিষেধ। কেননা তা আল্লাহ তাআলার কুদরতের একটি রহস্য। (সুরা : আনআম, আয়াত : ৫৯; মুসলিম, হাদিস : ১; বুখারি, হাদিস : ৪৯৪৫; তিরমিজি, হাদিস : ২১৩৩)

  • ইসরাইল থেকে আরো ‘বালাকোট বোমা’ কিনছে ভারত

    ইসরাইল থেকে আরো ‘বালাকোট বোমা’ কিনছে ভারত

    ইসরাইলের কাছ থেকে আরো ১০০টি ‘বালাকোট বোমা’ কিনছে ভারত। এ নিয়ে ইসরাইলের সাথে ৩০০ কোটি রুপির চুক্তি করেছে ভারতের বিমানবাহিনী। বৃহস্পতিবার দুই দেশের পক্ষ থেকে এ চুক্তি সই করা হয়।

    চুক্তি অনুসারে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই বোমা ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে তুলে দেবে ইসরাইল। ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলার সময় এ বোমা ব্যবহার করেছিল ভারত। দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোট ১০০টি স্পাইস ২০০০ বোমার চুক্তি করা হয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্স ডিফেন্স সিস্টেম বোমা তৈরির কাজটি পেয়েছে। দ্বিতীয়বার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রথম চুক্তি। ভারতের বিমানবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, জরুরি অবস্থায় বোমাগুলো কেনা হচ্ছে। যেকোনোভাবেই এই বছরের মধ্যে এই কেনাবেচা সেরে ফেলতে চায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    স্পাইস বোমা সাধারণত ৬০ কিলোমিটার মধ্যে আঘাত হানতে পারে। হিসাব করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিস্ফোরণ ঘটানোর ক্ষেত্রে এ বোমার জুড়ি নেই। এর পাশাপাশি ইলেকট্রো অপটিক্যাল ইমেজ ধরা পড়ে ক্যামেরায়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় সিআরপিএফ গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনের বেশি জওয়ানের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ এ নাশকতা চালানোর জন্য জইশ-ই-মুহম্মদ নামের একটি সংগঠনকে দায়ী করে ভারত। এর জবাব দেয়ার নামে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল) ভারতের বিমানবাহিনীর হামলায় ৩০০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করে ভারত।

    ভারতীয় বিমানবাহিনী দাবি করে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাত সাড়ে তিনটা নাগাদ আজাদ কাশ্মিরে ঢুকে পড়ে বিমানসেনার মিরাজ ২০০০ ফাইটার বিমান। তাদের ১২টি মিরেজ ২০০০ জেট বিমান এ হামলায় অংশ নেয় এবং ১ হাজার কেজি বোমা (স্পাইস ২০০০ বোমা) বর্ষণ করে অনেক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

    বালাকোট খাইবার-পাখতুনওয়ার একটি শহর, যা নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার ভেতরে। সেখানেই জইশ-ই-মুহম্মদের প্রধান শিবির রয়েছে। ফলে সেখানে গিয়েই এই হামলা চালানো হয়। এই হামলার পরই স্পাইস ২০০০ বোমাকে বালাকোট বোমা বলা হচ্ছে। বালাকোটের এই বিমান হামলায় ব্যবহার হয়েছিল স্পাইস ২০০০ বোমা।

    উল্লেখ্য, ভারত ওই হামলায় অনেক ক্ষতিসাধনের দাবি করলেও পাকিস্তান জানায়, ভারতের বোমাগুলো ফেলা হয়েছে জনবসতিহীন জঙ্গলে। ফলে মাত্র একজন বেসামরিক লোক আহত হওয়া ছাড়া তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর স্যাটেলাইট ইমেজে এবং সরেজমিন অনুসন্ধানে হামলাস্থলটি অক্ষত বলে ধরা পড়ে। এজন্য এ হামলার যথার্থতা ও প্রকৃত ক্ষতিসাধন নিয়ে ভারতের মোদি প্রশাসনকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

  • আজ সোমবার বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ইফতার ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

    আজ সোমবার বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ইফতার ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

    স্টাফ রিপোর্টার//তানজিম হোসাইন রাকিব:

    আজ সোমবার নগরীর শহিদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত  স্টেডিয়ামে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ইফতার ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

    ছবি: তানজিম হোসাইন রাকিব

    উক্ত দোয়া মোনাজাতে উপস্থিত ছিলেন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক  আবদুল্লাহ, পানি ও সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল অব: জাহিদ ফারুক শামিম, সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ বরিশাল মহানগর অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, ৩০ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ সহ আরও অনেকে।

    ছবি: তানজিম হোসাইন রাকিব

  • তাহাজ্জুদ নামাজ: বান্দাদের প্রতি আল্লাহ্ পাকের অসাধারণ একটি উপহার

    তাহাজ্জুদ নামাজ: বান্দাদের প্রতি আল্লাহ্ পাকের অসাধারণ একটি উপহার

    তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নাত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হরহামেশা এ নামাজ নিয়মিতিভাবে পড়তেন এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কে তা নিয়মিত আদায় করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। পবিত্র কুরআনে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য বিশেষভাবে তাকিদ করা হয়েছে । যেহেতু উম্মতকে নবীর অনুসরণ করার হুকুম করা হয়েছে সে জন্যে তাহাজ্জুদের এ তাকীদ পরোক্ষভাবে গোটা উম্মতের জন্য করা হয়েছে।

    এবং রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের নামায পড়তে থাক। এ তোমার জন্যে আল্লাহর অতিরিক্ত ফযল ও করম। শীঘ্রই আল্লাহ তোমাকে উভয় জগতে বাঞ্ছিত মর্যাদায় ভূষিত করবেন” (বনি ইসরাইল :৭৯) যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামায আদায় করে কুরআনে তাদেরকে মুহসেন ও মুত্তাকী নামে অভিহিত করে তাদেরকে আল্লাহর রহমত এবং আখেরাতে চিরন্তন সুখ সম্পদের অধিকারী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

    “নিশ্চয়ই মুত্তাকী লোক বাগ-বাগিচায় এবং ঝর্ণার আনন্দ উপভোগ করতে থাকবে এবং যে যে নিয়ামত তাদের প্রভূ পরোয়ারদিগার তাদেরকে দিতে থাকবেন সেগুলো তারা গ্রহণ করবে। (কারণ) নিসন্দেহে তারা এর পূর্বে (দুনিয়ার জীবনে) মুহসেনীন (বড় নেক্কার) ছিল। তারা রাতের খুব অল্প অংশেই ঘুমাতো এবং শেষ রাতে ইস্তেগফার করতো।(কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে মাগফেরাত চাইতো)”। (সূরা যারিয়াত:১৫-১৮) >প্রকৃতপক্ষে তাহাজ্জুদ নামায মন ও চরিত্রকে নির্মল ও পবিত্র করার এবং সত্য পথে অবিচল থাকার জন্যে অপরিহার্য ও কার্যকর পন্থা।
    “বস্তুতঃ রাতে ঘুম থেকে উঠা মনকে দমিত করার জন্যে খুব বেশি কার্যকর এবং সে সময়ের কুরআন পাঠ বা যিকির একেবারে যথার্থ”। (সূরা মুয্যাম্মিল-৬)

    এসব বান্দাদেরকে আল্লাহ সুবহানাওয়া তায়ালা তাঁর প্রিয় বান্দা বলেছেন এবং নেকী ও ঈমানদারীর সাক্ষ্য দিয়েছেন।(সুবহানাল্লাহ) >

    আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা যারা তাদের প্রতিপালকের দরবারে সিজদা করে এবং দাঁড়িয়ে থেকেই রাত কাটিয়ে দেয়। (সূরা ফুরকান:৬৩-৬৪)

    মুমিনদের এ বিশেষ গুণ তাদেরকে কুফরের প্রবল আক্রমণের মুকাবিলায় অটল রাখতো এবং বিজয় মালায় ভূষিত করতো। বদরের ময়দানে হকের আওয়াজ বুলন্দকারী নিরস্ত্র মুজাহিদগণের অতুলনীয় বিজয়ের বুনিয়াদী কারণগুলোর মধ্যে এটিও ছিলো একটি যে, তাঁরা রাতের শেষ সময়ে আল্লাহর সামনে চোখের পানি ফেলে কাঁদতেন এবং গুনাহ থেকে মাফ চাইতেন।

    এসব লোক অগ্নি পরীক্ষায় অটল অচল, সত্যের অনুরাগী, পরম অনুগত, আল্লাহর পথে মাল উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ভুলত্রুটির জন্যে ক্ষমাপ্রার্থী< । (সূরা আলে ইমরান -১৭) স্বয়ং নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাহাজ্জুদের ফযীলত সম্পর্কে অনেক কিছু বলেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মদীনায় তাশরীফ আনেন তখন প্রথম যে কথাগুলো তাঁর মুখ থেকে শুনি তা হলো : হে লোক সকল ! ইসলামের প্রচার ও প্রসার করো, মানুষকে আহার দান করো,আত্মীয়তা অটুট রাখ, আর যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকবে তখন তোমরা রাতে নামায পড়তে থাকবে। তাহলে তোমরা নিরাপদে বেহেশতে যাবে (হাকেম,ইবন মাজাহ,তিরমিযী) হযরত সালমান ফারসী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- তাহাজ্জুদ নামাযের ব্যবস্থাপনা কর, এ হচ্ছে নেক লোকের স্বভাব, এ তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট করে দেবে, গুনাহগুলোকে মিটিয়ে দিবে, গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখবে এবং শরীর থেকে রোগ দূর করবে । অন্য আরেক সময় তিনি বলেন, ফরয নামাযের পর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নামায হল রাতে পড়া তাহাজ্জুদ নামায (সহীস মুসলিম, আহমদ)। তিনি আরো বলেন, রাতের শেষ সময়ে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার দিকে নাযিল হন এবং বলেন, ডাকার জন্যে কেউ আছে কি যার ডাক আমি শুনব, চাওয়ার জন্যে কেউ আছে কি যাকে আমি দেব, গুনাহ মাফ চাওয়ার কেউ আছে কি যার গুনাহ আমি মাফ করব? (সহীহ বুখারী)। তাহাজ্জুদ নামাযের ওয়াক্ত তাহাজ্জুদের অর্থ হল ঘুম থেকে উঠা। কুরআনে রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের যে তাকীদ করা হয়েছে তার মর্ম এই যে, রাতের কিছু অংশ ঘুমিয়ে থাকার পর উঠে নামায পড়া। তাহাজ্জুদের মসনূন সময় এই যে,এশার নামায পর লোকে ঘুমাবে। তারপর অর্ধেক রাতের পর উঠে নামায পড়বে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো মধ্য রাতে,কখনো তার কিছু আগে অথবা পরে ঘুম থেকে উঠতেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে সূরা আলে-ইমরানের শেষ রুকুর কয়েক আয়াত পড়তেন। তারপর মেসওয়াক ও অযু করে নামায পড়তেন। ঘুম থেকে উঠার পর তিনি নিম্নের আয়াতগুলো পড়তেন। বস্তুত আসমান যমীনের সৃষ্টি ও রাত দিনের আবর্তনের মধ্যে বহু নিদর্শন রয়েছে ঐসব জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্যে যারা দাঁড়ানো, বসে থাকা এবং শুয়ে থাকা অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টি নৈপূণ্যের উপর চিন্তা গবেষণা করে। অতঃপর তারা আপনা আপনি বলতে থাকে, হে আমাদের রব । এসব কিছু তুমি অযথা পয়দা করনি। বেহুদা কাজ থেকে তুমি পাক, পবিত্র ও মহান। অতএব, হে আমাদের রব, আমাদেরকে দোযখের আগুন থেকে বাঁচাও। তুমি যাকে দোযখে নিক্ষেপ কর তাকে প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত লাঞ্ছনার মধ্যেই ফেল। তারপর এসব যালেমদের আর কোন সাহায্যকারী থাকবে না। হে প্রভু ! আমরা একজন আহবানকারীকে শুনলাম, যে ঈমানের দিকে আহবান করে নিজেদের রবকে মেনে নিতে বলে। আমরা তার দাওয়াত কবুল করলাম। হে আমাদের প্রভূ! আমাদের গুনাহ মাফ করে দাও। আমাদের মধ্যে যেসব মন্দ কাজ আছে তা তুমি দূর করে দাও এবং আমাদের শেষ পরিণতি নেক লোকদের সাথে কর। হে আল্লাহ ! তুমি যেসব ওয়াদা তোমার রাসূলদের মাধ্যমে করেছো, তা পূরণ করো এবং কিয়ামতের দিনে লাঞ্ছনায় ফেলো না। নিশ্চয়ই তুমি ওয়াদার বরখেলাপ করো না । (সূরা আল ইমরান তাহাজ্জুদের রাকায়াতসমূহ >অন্ততপক্ষে দুই এবং ঊর্ধতম সংখ্যা আট। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অভ্যাস ছিল দুই দুই করে আট রাকায়াত পড়া। সে জন্যে আট রাকায়াত পড়াই ভালো, তবে তা জরুরী নয়। অবস্থা ও সুযোগের প্রেক্ষিতে যতটা পড়া সম্ভব ততটা পড়লেই চলবে।

  • বরিশালে ৩য় শ্রেণীর ছাত্র হত্যা: আসামিকে ১৫ বছর কারাদন্ড দিয়েছে আদালত

    বরিশালে ৩য় শ্রেণীর ছাত্র হত্যা: আসামিকে ১৫ বছর কারাদন্ড দিয়েছে আদালত

    বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ আফালকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্র রাজিব মোল্লা হত্যা এবং হত্যার পর লাশ গোপন করার মামলায় রাজিব হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে দন্ড বিধির পৃথক দুটি ধারায় ১৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসামীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৭ মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

    বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আজ মঙ্গলবার বিকেলে আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত রাজিব হাওলাদার ওই উপজেলার আফালকাঠির জসিম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে এবং নিহত রাজিব মোল্লাও একই এলাকার নজরুল মোল্লার ছেলে।