Category: অন্যান্য

  • অভিনেত্রী নওশাবার বিরুদ্ধে চার্জশিট

    অভিনেত্রী নওশাবার বিরুদ্ধে চার্জশিট

    তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ।

    গত ১২ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শওকত আলী সরকার।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘আসামি কাজী নওশাবা ইচ্চাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটনোর জন্য মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং প্রচার করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ (সংশোধনী) এর ৫৭ (২) ধারায় অপরাধ করেছেন।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৪ আগস্ট কাজী নওশাবা নিজের ফেসবুক থেকে অত্যন্ত আবেগী কণ্ঠে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে বলেন- ‘জিগাতলায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে একজনের চোখ উঠিয়ে ফেলেছে এবং চারজনকে মেরে ফেলেছে। আপনারা যে যেখানে আছেন, কিছু একটা করেন।

    এ আহ্বানের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। এতে জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী তার এই প্রোপাগান্ডার উৎস জানতে ফোন করলে এর স্বপক্ষে সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। ওই সময় জিগাতলায় এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি।

    পরে ফেসবুকে গুজব ছাড়ানোর অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে গত বছরের ৪ আগস্ট আটক করে র‌্যাব। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুজব ছাড়ানোর কথা স্বীকার করেন তিনি। এ ঘটনায় র‌্যাবের ডিএডি আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেন।

    মামলায় বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোই নওশাবার উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছিল র‌্যাব।

  • সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ

    সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সম্পদের হিসাব দিতে হবে আমলাদেরও। দুর্নীতির লাগাম টানতে নির্ধারিত ছকে সম্পদ বিবরণী নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের কাছে প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদ বিবরণী দাখিল করা বাধ্যতামূলক। তবে এতদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি।

    জানা গেছে, সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগের শুরুতেই প্রশাসনে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এ বিধান মানতে চাচ্ছে না শীর্ষ আমলাদের একাংশ। তারা বলছেন, কর্মচারীদের এই বিধিমালা সেকেলে এবং বর্তমানে তা প্রতিপালনযোগ্য নয়। কারণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন আয়কর রিটার্ন জমা দেন এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত টিন নাম্বার রয়েছে। আবার কেউ বলছেন, এটা প্রতিপালনযোগ্য। কারণ, বিধানটি রাষ্ট্রপতির আদেশে জারি হয়েছে। এটা বাতিল করার আগ পর্যন্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া আয়কর রিটার্নে কর্মকর্তাদের পুরো সম্পত্তির হিসাব পাওয়া যায় না। অবশ্য এই বিতর্কের মধ্যেই ভূমি মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকে সম্পদের হিসাব দেন, আবার অনেকে দেন না।

    এবার প্রত্যেকের সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন সচিব এ নিয়ে কাজ করছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেন। এজন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের (সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের) সচিবের কাছে তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দিচ্ছেন না। তবে আয়কর রিটার্নে কর্মকর্তাদের পুরো সম্পদের হিসাব পাওয়া যায় না। আবার কোনো কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় পুরো সম্পদের হিসাব জমা না দিলে ব্যবস্থা নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। সব দিক বিবেচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব শিগগির নেওয়া হবে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৭ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় দুর্নীতি বন্ধে সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।

    ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী গত ৮ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার দিনেই ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনস্বার্থে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন। তবে কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নিতে গিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। কারণ ভূমি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ক্যাডারভুক্ত সব কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সহকারী সচিব থেকে শুরু করে সচিব পর্যন্ত সবাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাদের সম্পদের হিসাব নেওয়া-না নেওয়ার বিষয়টি ওই মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। তাই ভূমি মন্ত্রণালয় তাদের সম্পদের হিসাব নিতে পারছে না।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ মার্চ জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে কাজ করার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল কাইউম সরকার সমকালকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও কাজ চলছে। তবে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার বিধান বিধিমালাতেই আছে। এটি নতুন কিছু নয়। এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দেওয়ায় মন্ত্রণালয়ে সম্পদের হিসাব কেউ কেউ জমা দেন না। মন্ত্রণালয় থেকে হিসাব চাওয়া হলে সরকারি কর্মচারীরা এটা দেবেন। যে বিধান রয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে আমাদের কাজ। সেই বিধান বাস্তবায়ন করার জন্যই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, জনপ্রশাসন থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে যেসব কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের সম্পদের হিসাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নেবে। ফলে সেই কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব চেয়ে জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসন এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তাদের কাজ শেষ হলে কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী ভূমি মন্ত্রণালয়ে আনা হবে। এরপর প্রত্যেক কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

    তবে একাধিক সচিব বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন প্রতি বছর সম্পদের আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। ফলে মন্ত্রণালয়ে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। যেসব দপ্তরে বেশি অর্থের লেনদেন হয় সেগুলো নজরদারিতে রাখলেই যথেষ্ট। এ ছাড়া বড় বড় দুর্নীতি ওপরের দিকেই হয়ে থাকে। নিচের দিকে দুর্নীতি হলেও তা উচ্চ পর্যায়ের তুলনায় বেশ নগণ্য। ফলে শীর্ষ পর্যায়ের আমলাদের নজরে রাখলেই দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব।

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে অবশ্যই ভালো হবে। জনপ্রশাসন থেকে এটি বাস্তবায়ন করা হলে আরও ভালো হবে। তিনি বলেন, এটি সরকারের জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের একটি অঙ্গীকার। ফলে এই ঘোষিত নীতিমালা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। এটি অনেক আগেই বাস্তবায়ন করা উচিত ছিল। কারণ, কর্মকর্তারা জনগণের টাকায় বেতন পাচ্ছেন, জনগণের জন্যই কাজ করছেন। ফলে সম্পদের হিসাব দেওয়ার অনীহা কোনো ভালো দৃষ্টান্ত নয়। জনস্বার্থে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া প্রয়োজন।

    সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিতে প্রবেশের সময় তার ও তার পরিবারের সদস্যদের দখলে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ঘোষণা দিতে হয়। এরপর প্রতি পাঁচ বছরে একবার সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধি উল্লেখ করে সরকারের কাছে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। সব গণকর্মচারীর জন্য একই বিধান প্রযোজ্য। তবে ক্যাডার বা প্রথম শ্রেণি ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তারা তাদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে, দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড বা নন-গেজেটেড কর্মকর্তা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিজ নিজ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত সময়ে দাখিল করতে হবে।

    দরকার সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা: সর্বশেষ ২০০৮ সালে সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের হিসাব নেওয়া হয়। ওই হিসাব বস্তাবন্দি হয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। সেগুলো পর্যালোচনা করে বলা হয়নি কার সম্পদ বেড়েছে বা কমেছে।

    এরপর ২০১৫ সালে শুধু ভূমি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়া হলেও তা পর্যালোচনা করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার নির্ধারিত ছকে সব সরকারি কর্মচারীর সম্পদের হিসাব নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সম্পদ বিবরণীর ওই ছকে কী আছে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, স্থাবর ও অস্থাবর দুই ধরনের সম্পদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি ও অকৃষি জমি, ইমারত, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাখা হয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে অলঙ্কার, স্টকস, শেয়ার, বীমা, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, মোটর গাড়ি, কম্পিউটার, টেলিভিশন, এয়ারকুলার, রেফ্রিজারেটর, ওভেনসহ ব্যবহার্য সম্পদের বিবরণ থাকবে।

    এ বিষয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালায় সম্পদের হিসাব নেওয়ার বিধান রয়েছে। পাঁচ বছর পরপর সম্পদের হিসাব দিতে তারা বাধ্য। এ ধরনের বিধান থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বিধানটি বাস্তবায়ন করা উচিত। শুধু সম্পদের হিসাব নিলেই চলবে না, হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

  • মরুভূমির উটপাখি দেশেই চাষ হবে

    মরুভূমির উটপাখি দেশেই চাষ হবে

    দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভেটেরিনারি অনুষদের অডিটোরিয়াম-২-এর পাশে গড়ে তোলা হয়েছে মরুভূমির জাহাজ খ্যাত উটপাখি সহ বিভিন্ন প্রজাতির মুরগির খামার। আজ প্রথম বারের মতো ডিম দিয়েছে একটি উটপাখি।         

    প্রধান গবেষক ও জেনেটিক্স অ্যান্ড অ্যানিমল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুল গাফফার মিয়া বলেন, আজ প্রথম বারের মতো ডিম দিয়েছে একটি উট পাখি। ডিমের ওজন প্রায় ১ কেজি ১২০ গ্রাম হয়েছে। আমরা উটপাখি নিয়ে গবেষণায় আশাবাদী। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় তাদের বৃদ্ধি ঠিকই আছে, যদিও উট মরুভূমির পাখি।

    তিনি আরও বলেন, বানিজ্যিক ভাবে উট পাখির খামার করার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে আমাদের দেশে। একটি উটপাখির বাচ্চার দাম ৩০-৩৫ হাজার টাকা। উট পাখির মাংস বেশ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এদের খাদ্য সহজলভ্য। এরা নেপিয়ারসহ যে কোনো ঘাস, লতা-পাতা পোলট্রি ফিড ও পাথর খেতে পারে। এ কারনে আমি মনে করি গরু পালনের চেয়ে উটপাখি পালন বেশি লাভজনক হবে। কারণ উটপাখি ৫০ থেকে ৭০ বছর উৎপাদনক্ষম থাকে এবং এরা ৮০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। আর এদের গ্রোথ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া গরু-ছাগলের চেয়ে বেশি। ফলে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির খামার আমাদের দেশে লাভজনক হবে। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখির খামার গড়ে উঠলে তা গরুর বিকল্প হয়ে দাঁড়াবে।

    হাবিপ্রবিতে দেওয়া উটপাখির ডিম

    ভেটেরেনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের লেভেল ৪ এর শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান জানান, অনেক দিন ধরে আমরা উট পাখি গুলো লালন পালন করছি । দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর আজ উট পাখির ডিম দেখে খুবই ভাল লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের প্রচেষ্টা পরিশ্রম সফল হয়েছে।

    উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুই মাস বয়সের উটপাখি আনা হয়েছে হাবিপ্রবিতে। বিভিন্ন কারণে কিছু উট পাখি মারা গেলেও এখন ছোট (১৫টি) বড় (৪টি) মিলে প্রায় ১৯টি উটপাখি রয়েছে। উট পাখির পূর্ণবয়স্ক হতে প্রায় আড়াই বছর লাগবে এবং সেই সময় থেকে এরা ডিম দেয়। একেকটি ডিম দেড় কেজি ওজনের হয়। বছরে একেকটি উটপাখি ২০ থেকে ১০০টি ডিম পর্যন্ত পাড়ে। এ পাখি সাধারণত দু-চার বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয়। গ্রোথ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া গরু-ছাগলের চেয়ে বেশি। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখির মাংস প্রায় আড়াই মণ পর্যন্ত হয়।

  • চিকিৎসক নেই, কিন্তু বাতি জ্বলছে ফ্যানও ঘুরছে

    চিকিৎসক নেই, কিন্তু বাতি জ্বলছে ফ্যানও ঘুরছে

    সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাইনুল হাসানের কক্ষের দরজা বন্ধ। একটু ফাঁক দিয়ে দেখা গেল তিনি কক্ষে নেই। তবে কক্ষের বৈদ্যুতিক সবগুলো বাতি জ্বলছে, ফ্যানও ঘুরছে। তার পাশেই আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সাইফুল ইসলামের কক্ষ। তার কক্ষে তালা ঝুলছে। এমন চিত্র নিত্যদিনের। তবে কর্মস্থলে ডাক্তারদের অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনার পরও সোমাবার এমন চিত্র দেখা গেছে।

    সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলার পেছনে বহিঃবিভাগ। সেখানে পর্যাপ্ত আলো নেই। তার মধ্যে দীর্ঘ লাইন রোগীদের। বেশির ভাগ রোগী নারী ও শিশু। কিন্তু নেই কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। বহিঃবিভাগের এসব রোগী সামাল দিচ্ছেন একজন মেডিকেল অফিসার ডা. নাজিমা তাসনিম। জরুরি বিভাগে পাওয়া গেল ডা. সোহবার হোসেনকে। কর্মস্থলে রয়েছেন ডেন্টাল সার্জন ডা. সাজেদুল আলম ও দুইজন উপ-সহকারী চিকিৎসক।

    হারবাল চিকিসৎক ডা. মো. আবদুল গনি নেই। তার কক্ষে তালা ঝুলছে। এছাড়া জুনিয়র গাইনি ডা. শামছুন নাহার, ডা. মো. রিয়াজ উদ্দিন ও সহকারী সার্জন মো. শহীদ উল্যাহকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।

    সোনাইমুড়ী উপজেলায় প্রায় তিন লাখের বেশি লোকের স্বাস্থ্যসেবা বর্তমানে হুমকির মুখে। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক সংকটসহ নানা অনিয়ম গ্রাস করেছে সার্বিক কর্মকাণ্ডকে। ফলে এখানকার স্বাস্থ্য বিভাগ জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে পারছে না।

    এ উপজেলায় ১০টি ও একটি পৌরসভায় বর্তমানে তিন লাখেরও বেশি লোকের বসবাস। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য একটি মাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১০টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র রয়েছে। সব মিলিয়ে ২২ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও আছেন ১১ জন। তাও আবার জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. মোহাম্মদ ইককাল হোসেন ও জুনিয়র (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. মো. আক্তার হোসাইনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে সংযুক্ত এবং জুনিয়র (কার্ডিওলোজি) ডা. মোজাম্মেল হককে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্যাথলোজির চিকিৎসক ডা. মো. আবু ইব্রাহিম তো দীর্ঘ দিন থেকে অনুপস্থিত।

    অনুমোদিত পদের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) পদ খালি পড়ে আছে। তাছাড়া অর্থো, ইএনটি, চর্ম ও যৌন, চক্ষু সহকারী সার্জন, অ্যানেসথেসিয়া পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া ১৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স থাকার কথা থাকলে ও আছে মাত্র ছয়জন এবং মিডওয়াইফ চারজনের স্থলে রয়েছে তিনজন। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। তাছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির কারণে এখানকার জনগণ সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ২০১১ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে।

    সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে রোগীদের রেজিস্ট্রার খাতায় ২৮ জন রোগী থাকলে বাস্তবে দেখা গেল ১৮ জন রোগী আছে সব মিলে। অনেকে বাড়ি চলে গেলেও রোগীদের খাবার সরবরহারে অনিয়ম আর দুর্নীতির জন্য রেজিস্ট্রারে ২৮ জন লেখা রয়েছে। রোগীদের অনেকে অভিযোগ করেছেন- সকালে ডাক্তার একবার আসে আর আসে পরের দিন। আর ওষুধ তো বাজার থেকেই কিনতে হয়।

    সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. কতুব উদ্দিন জানান, উপজেলা ও জেলাতে তিনজন ডাক্তার মিটিংয়ে যাওয়ায় তারা হাসপাতালে নেই।রোগীরা অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাইনুল হাসানের সকল অনিয়মই নিয়ম। কারণ এর আগেও তিনি এ উপজেলায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করতেন না।

    সোনাইমুড়ীতে নিজের প্রাইভেট হাসপাতাল হওয়ার কারণে বেশির ভাগ সময় তিনি ওই হাসপাতালে ব্যয় করেন। এ নিয়ে নানা অভিযোগ থাকার পরও এমন একজন দায়িত্বহীন চিকিৎসক কীভাবে এখনো চাকরি করেন, আবার তাকে উপজেলা হাসপাতালের দায়িত্বও দেয়া হয়। তিনি হাসপাতালে আসেন বেলা ১২টার পর। তাও অনিয়মিত।

    আবার আসলে নিজ কক্ষে বসেই টাকার বিনিময়ে রোগী দেখেন। তিনি যখন অনিয়ম করেন তার অধীনস্তরা তো সুযোগ নিবেই। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের না পাওয়ার বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. বিধানচন্দ্র সেন গুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে অফিসে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

  • বঙ্গোপসাগরে দুই জাহাজডুবি

    বঙ্গোপসাগরে দুই জাহাজডুবি

    অনলাইন ডেস্ক:

    বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার মাঝামাঝি ভাসানচরে দুটি পণ্যবোঝাই জাহাজ ডুবে গেছে। জাহাজ দুটিতে থাকা ২০ নাবিকের মধ্যে ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ। বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে পৃথক এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ দুটি হলো- খাজা বাবা ফরিদপুরী ও এন ইসলাম।

    বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১ হাজার ৭০০ টন গম নিয়ে খাজা বাবা ফরিদপুরী নামে একটি জাহাজ নারায়ণগঞ্জ যাচ্ছিল। ভাসানচর বয়ার এক নটিক্যাল মাইল আগে গিয়ে জাহাজটি ডুবে যায়। ভাটার টানে জাহাজটি ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পরে ভাসানচরের কাছাকাছি আরেকটি জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে এন ইসলাম নামের একটি জাহাজের তলা ফেটে পাশের একটি চরের কাছাকাছি গিয়ে ডুবে গেছে। এরই মধ্যে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। ওই জাহাজের সবাই নিরাপদে আছেন।

  • ঝালকাঠিতে হাঁস-মুরগিকে জোর করে খাওয়ানোয় ব্যবসায়ী কারাগারে!

    ঝালকাঠিতে হাঁস-মুরগিকে জোর করে খাওয়ানোয় ব্যবসায়ী কারাগারে!

    অনলাইন ডেস্ক:

    হাঁস, মুরগি ও কবুতরকে জোর করে ভারি খাবার ও পানি খাইয়ে ওজন বাড়িয়ে বিক্রির অপরাধে আনিচ হাওলাদার নামে এক ব্যবসায়ীকে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    শনিবার সকালে শহরের প্রধান বাজারে হাতেনাতে ধরে ওই বিক্রেতাকে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী। সকালেই তাকে ঝালকাঠি কারাগারে পাঠানো হয়। আনিচ দক্ষিণ পিপলিতা গ্রামের গফুর হাওলাদারের ছেলে।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, ঝালকাঠি শহরের প্রধান বাজারে দীর্ঘদিন ধরে হাঁস, মুরগি ও কবুতর বিক্রি করে আসছিলেন সদর উপজেলার দক্ষিণ পিপলিতা গ্রামের আনিচ হাওলাদার।

    গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে গবাদিপশু কিনে খুব সকালে বাজারে নিয়ে আসেন তিনি। তার দোকানের সামনে বসেই জোর করে গবাদিপশুকে ভারি খাবার ও বেশি করে পানি খাইয়ে ওজন বাড়ান। পরে ওজন বেশি বলে বেশি দামে হাঁস, মুরগি ও কবুতর বিক্রি করতেন।

    ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রতারণা করে আসছিলেন। বিষয়টি সম্প্রতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. হামিদুল হকের নজরে আসে। তার নির্দেশে শনিবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজারে আনিচের দোকানে গিয়ে এসব কর্মকাণ্ড দেখতে পেয়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন।

    ঝালকাঠি থানার উপপরিদর্শক মো. আবু হানিফ বলেন, আদালতের সাজার পরে তাকে ঝালকাঠির কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • ভোলার নৌপথে অসংখ্য ডুবোচর, নৌযান ১০ রুটে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে

    ভোলার নৌপথে অসংখ্য ডুবোচর, নৌযান ১০ রুটে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে

    অনলাইন ডেস্ক:

    ভোলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটে অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠেছে। ফলে লঞ্চ ও ফেরিসহ নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

    নাব্যতা সংকটের কারণে ভোলা-ঢাকা, ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লক্ষ্মীপুরসহ অন্তত ১০ রুটে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে নৌযান। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা।
    কিছু পয়েন্টে ড্রেজিং করা হলেও বেশিরভাগ রুটের বেহাল দশা বলে জানিয়েছে লঞ্চ ও ফেরির শ্রমিক ও চালকরা।

    তারা বলছেন, দ্রুত ড্রেজিং করা না হলেও অধিকাংশ নৌপথ হুমকির মুখে পড়বে।

    জানা গেছে, ভোলার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম নৌপথ। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী লঞ্চে করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই নদীতে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যেতে পারছে না নৌযানগুলো।

    শেষ করে ভোলা-ঢাকা, ভোলা-বরিশাল, ভোলা-লক্ষ্মীপুর, ভোলা-মনপুরা ও লালমোহন কালাইয়া ও চরফ্যাশনের অভ্যন্তরীণ কুকরী-মুকরী এবং ঢালচরসহ অভ্যন্তরীণ রুটে বিড়ম্বনা। এসব পয়েন্টে যাতায়াতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২/৩ ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে।

    ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরির ইনচার্জ মো. ইমরান জানান, চ্যানেলের বেশ কিছু পয়েন্টে ডুবোচর জেগে ওঠায় ফেরি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এ চ্যানেলে ফেরি চলছে অনেকটা জোয়ারের ওপর নির্ভর করে।

    লঞ্চ ও ফেরির মাস্টার ও সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডুবোচরের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই জোয়ার ভাটার ওপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে নৌযানগুলোকে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের নৌপথ। এ অবস্থায় নৌপথের রক্ষণাবেক্ষণ ও ড্রেজিংয়ের দাবি তোলেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে বয়া ও মার্কার বাতি না থাকায় ঘন কুয়াশার সময়ে লঞ্চ চালাতে বিপাকে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

    কৃষ্ণচুড়া ফেরির মাস্টার রিয়াজুল হোসেন বলেন, নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ কারণে গন্তব্যে যেতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। তাই এ নৌপথে ড্রেজিং জরুরি হয়ে পড়েছে।

    লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা জানান, ডুবোচরে অনেক সময় আটকা পড়ে যায় নৌযান। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের অপেক্ষা করতে হয়। রুটগুলোতে নৌযান চলাচল বিঘ্ন হওয়ায় অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে স্পিডবোটে করে যাতায়াত করছেন।

    ভোলা-ঢাকা ও ভোলা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী একাধিক লঞ্চের মালিক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ডুবোচরের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে, সঠিক সময়ে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, লঞ্চ চালাতে গিয়ে আমাদের পরিবহন খরচও অতিরিক্ত হচ্ছে। তাই রুটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ড্রেজিং জরুরি হয়ে পড়েছে।

    এ ব্যাপারে ভোলা নৌ-বন্দরের ট্রাফিক অফিসার (বিআইডব্লিউটিএ) মো. নাসিম আহমেদ বলেন, নৌপথে নাব্যতা রোধ করার জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

    এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথের দ্রুত ড্রেজিং করে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

  • ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল হান্নান আর নেই

    ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল হান্নান আর নেই

    শেরপুরের ভাষাসৈনিক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আব্দুল হান্নান (৮৭) মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি … রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার ভোরে রাজধানী ঢাকার সিটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় শেরপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল হান্নানের মরদেহ শহরের মধ্যশেরি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

    ভাষা সংগ্রামী ও প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ হিসেবে সৈয়দ আব্দুল হান্নান শেরপুরের একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। স্থানীয়ভাবে যিনি ‘হান্নান স্যার’ হিসেবে সমধিক পরিচিত।সৈয়দ আব্দুল হান্নান ১৯৩২ সালে ২৫ ডিসেম্বর শেরপুরে জন্ম গ্রহন করেন। বাবা সৈয়দ আব্দুল হালিম, মা রাবেয়া খাতুন। ১৯৫২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার দাবিতে মিছিল চলাকালে তিনি ও পরে তার বড় ভাই ছাত্রনেতা সৈয়দ আব্দুস সাত্তার গ্রেফতার হন।

    ১৯৫২ সালে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজ থেকে তিনি আইএসসি পাস করে ওই বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৫৬ সালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে মাস্টার্স এবং ১৯৬৪ সালে এলএলবি পাস করেন। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেরপুরের বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করার অপরাধে তাকে তিন বার গ্রেফতার করে প্রায় ৪ মাস জেলে রাখা হয়।

    ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল হান্নানের মৃত্যুতে সংসদ সদস্য আতিউর রহমান আতিক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানুসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

  • ঝালকাঠিতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সরিয়ে ফেলায় পৌরসভার কর্মচারী বরখাস্ত

    ঝালকাঠিতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সরিয়ে ফেলায় পৌরসভার কর্মচারী বরখাস্ত

    ঝালকাঠি পৌরসভার একটি কক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেস্টুন সরিয়ে ফেলার অভিযোগে পৌরসভার ফটোকপি অপারেটর মো. আ. রাজ্জাক খন্দকারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে ১৯৯২-এর পৌর কর্মচারীর চাকরির বিধিমালা ৪০(ছ) এর ধারায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় কাউন্সিলর তরুণ কর্মকারকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনা করা হয়েছে। এতে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ, সচিব শাহিন আকতার, হাফিস আল মাহমুদ, প্রকৌশলী নাজমুল, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আরিফকে সদস্য করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে আ. রাজ্জাক খন্দকার বলেন, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি গোপন করার অভিযোগ মিথ্যা। তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সূত্র ধরেই এ ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাকে সরিয়ে দিতে একটি পক্ষ এমন নাটক সাজিয়েছে।

    পৌর মেয়র মো. লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, তার কক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দুটি পাওয়া যাচ্ছে না এমন অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এর পূর্বে তাকে কোনো শোকজ করা হয়নি।

  • আজ বছরের দীর্ঘতম রাত, ক্ষুদ্রতম দিন কাল

    আজ বছরের দীর্ঘতম রাত, ক্ষুদ্রতম দিন কাল

    বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের সব দেশের মানুষদের জন্য আজ (২১ ডিসেম্বর) বছরের সবচেয়ে দীর্ঘতম রাত। এছাড়া আগামীকাল শনিবার (২২ ডিসেম্বর) হবে বছরের ক্ষুদ্রতম দিন। উত্তর গোলার্ধে আজ দ্রুত সন্ধ্যা নামলেও বছরের সবচেয়ে বেশি সময় লাগবে রাত শেষ হতে।

    মূলত ২১ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থান করে এবং উত্তর মেরু সূর্য থেকে কিছুটা দূরে হেলে থাকার কারণেই রাত বড় হয় আর এর পরের দিনটি ছোট হয়। তবে বাংলাদেশে আজ বছরের দীর্ঘতম রাত হলেও পূর্ণিমার কারণে আকাশে থাকবে চাঁদের উজ্জ্বল আলো।

    এদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের অবস্থা ঠিক বিপরীত। আজ (শুক্রবার) সেখানে বছরের দীর্ঘতম দিন, আর শনিবার হবে সবচেয়ে ছোট রাত।