Category: অন্যান্য

  • হোটেল থেকে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারির লাশ উদ্ধার

    হোটেল থেকে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারির লাশ উদ্ধার

    কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল থেকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম রহিম উল্লাহর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে শহরের সাগাঁরওয়ে নামক একটি হোটেলের ৩১৬ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহতের স্বজন ও হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সদরের ভারুয়াখালীর গ্রামের বাড়ি থেকে সোমবার শহরে আসেন রহিম উল্লাহ। কাজ শেষে রাতে তার শ্বশুরের মালিকাধীন ওই হোটেলে অবস্থান করেন। সকালে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে একপর্যায়ে তার কক্ষের তালা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    ধারণা করা হচ্ছে, রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।

  • ‘এক কন্যার গল্প’

    ‘এক কন্যার গল্প’

    শেখ ‍সুমন:

    ‘হাসিনা : এ ডটার’স টেল’। এই হাসিনা শুধুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নন। তিনি কখনো বঙ্গবন্ধুর কন্যা, কখনো বা কারো বোন, কখনো একজন নেতা, কখনো বা পুরো দেশ তথা ১৬ কোটি মানুষের ‘আপা’। আর এসব পরিচয় ছাড়িয়ে প্রতিফলিত হয় একজন সফল ও সংগ্রামী মানুষের ব্যক্তিসত্তা। ৭০ মিনিটের অসামান্য এই ডকুড্রামা তথা তথ্যচিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পরপরই সাড়া ফেলে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে ফিল্মটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার তিনটি ও চট্টগ্রামের একটি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে। ৭০ মিনিটের তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে শেখ হাসিনার সাধারণ জীবনের অসাধারণ কিছু মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এসেছেন তথ্যচিত্রে।

    সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) পাঁচ বছরে নির্মাণ করেছে ‘হাসিনা : এ ডটারস টেল’ ডকুফিল্ম। সিআরআইয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্সে সকাল ১১.৩০টা, দুপুর ১টা, বিকেল ৪.৫০টা, সন্ধ্যা ৬.৩০টা আর রাত ৮.১০টায় ফিল্মটি দেখানো হয়। আজ শনিবারও একই সময় সিনেমাটি দেখানো হবে। যমুনা ব্লকবাস্টারে রবিবার ক্লাব রয়ালে বিকেল ৩টায় কূটনীতিকদের জন্য একটি শো হবে। এখানে রাত ৮.০৫টায় দ্বিতীয় শো হবে সাধারণ দর্শকদের জন্য। এ ছাড়া অন্যান্য দিন বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা ৭.১৫টায় ক্লাব রয়ালে দেখানো হবে এই শো। ঢাকার মধুমিতা সিনেমা হলে শুক্রবার মোট চারটি শো দেখানো হয়। অন্যান্য দিন এখানে সকাল ১১টা, বিকেল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬.৪৫টায় তিনটি শো দেখানো হবে। চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে থিয়েটার প্লাটিনামে প্রতিদিন সকাল ১১টা আর থিয়েটার টাইটানিয়ামে মুভিটি প্রতিদিন রাত ৯টায় দেখা যাবে।

    অসামান্য এই তথ্যচিত্রে শেখ হাসিনা কখনো মেয়ে, কখনো মা, কখনো বোন, আবার কখনো আমজনতার নেত্রী। ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামী দিনগুলোতে ঢাকায় এসে পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি দেখেছেন সংগ্রামে আর জেলে। নতুন দেশ গঠনের পর আশপাশের মানুষদের ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শহীদ হন বঙ্গবন্ধু। দৈবক্রমে বেঁচে যাওয়া তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা মুখোমুখি হন এক কঠিন বাস্তবতার। পিতা-মাতা কেউ বেঁচে নেই, তবু দুই কন্যা এগিয়ে যাচ্ছেন; ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে পিতার দেখানো পথে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করছেন।

    সব কিছু হারিয়ে এক সফল সংগ্রামের নায়ক, মানবিক ও স্বরূপে উঠে আসা শেখ হাসিনা তরুণ প্রজন্মকে প্রেরণা জোগাবেন এমন মন্তব্য দর্শকদের। দর্শকরা বলছে, একজন রাষ্ট্র পরিচালক পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তি জীবনের নানা অজানা তথ্যে পরিপূর্ণতা পেয়েছে ফিল্মের শেখ হাসিনা চরিত্রটি।

    পরিচালক পিপলু খান ৭০ মিনিট দীর্ঘ এই ফিল্মটি নির্মাণ করতে সময় নিয়েছেন পাঁচ বছর। সংগীতায়োজন করেন দেবজ্যোতি মিস্ত্র, সিমোটোগ্রাফিতে ছিলেন সাদিক আহমেদ ও সম্পাদনা করেন নবনিতা সেন। সিনেমাটির প্রযোজক সিআরআই ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও নসরুল হামিদ বিপু।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফিল্মটির প্রিমিয়ারে স্টার সিনেপ্লেক্সে সমবেত হয়েছিলেন রাজনীতি, অর্থনীতি, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। পৌনে ৭টায় শীর্ষ দেশের গণ্যমান্য ও বিশিষ্টজনদের প্রথমে দেখানো হয় ফিল্মটি। এরপর রাত ৯টায় চলচ্চিত্র অঙ্গনের শিল্পী, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। গতকাল শুক্রবার বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার ও মতিঝিলের মধুমিতা ও চট্টগ্রামের সিলবার স্ক্রিনেও প্রদর্শিত হয়। প্রতিটি হলেই ছিল দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়।

    ফিল্মটির শুরুতে আন্দোলন সংগ্রামের বাইরে পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সময় কাটানো ও জেলে থাকা পরিস্থিতির চিত্রায়ণ করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন চলার সময় তিন মাল্লার নৌকায় করে ঢাকায় আসে বঙ্গবন্ধুর পরিবার। স্বাধীনতা আনতে গিয়ে নানা সংগ্রামের মধ্যে পড়েন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়। স্বামীর সঙ্গে বেলজিয়ামে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা, সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানাও। বিদেশে থাকার সুবাদেই বেঁচে যান দুই বোন। পিতাকে হত্যার পরই তাঁদের জীবনে নেমে আসে কঠিন বাস্তবতা। বেলজিয়ামেও থাকার সুযোগ হয়নি। জার্মানিতে আশ্রয় হওয়ার কথা চললেও ভারতে আশ্রয় নেন দুই বোন। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। ঘাত-প্রতিঘাতে এগিয়ে চলা সেই শেখ হাসিনা এখন একজন সফল রাষ্ট্রপ্রধান।

    ফিল্মটিতে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর বিরোধীদের ষড়যন্ত্র, বঙ্গবন্ধুর দেশে ফিরে আসা ও পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা, ’৭৫ সালে পরিবারের সবাইকে হত্যা, বেলজিয়ামে দুই বোনের নিঃস্বতা, ভারতে আশ্রয় ও নাম পরিবর্তন করে ঘরে অবস্থান, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, পিতা হত্যার বিচার চাওয়া, ’৯৬ সালের নির্বাচনে সরকার গঠন করে পিতৃ হত্যার বিচারে অডিন্যান্স বাতিল ও মামলা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনার বেঁচে যাওয়ার অসাধারণ সব ঘটনা স্থান পেয়েছে ডকুড্রামায়। চলচ্চিত্রে দেখা যায়, পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের হারালেও দুই বোনের একজন শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করে দেশ ও জনগণের সেবা করছেন, আর সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে থাকছেন ছোট বোন শেখ রেহানা। দুই বোনের বর্ণনায় উঠে এসেছে তাঁদের জীবনের বেদনাবিধুর কাহিনি। ধরা পড়েছে জন্মস্থানের প্রতি শেখ হাসিনার অসামান্য টানও। ফিল্মের এক স্থানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘টুঙ্গিপাড়া আসলে আমার খুবই ভালো লাগে। মনে হয় আমি আমার মায়ের কাছে, মাটির কাছে ফিরে এসেছি। আমার তো মনে হয়, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর জায়গা টুঙ্গিপাড়া।’

    গতকাল সকাল ১১টায় বসুন্ধরা সিটিতে দিনের প্রথম শো অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দর্শকরা হলে ঢোকে। এক ঘণ্টা ১০ মিনিট দীর্ঘ ফিল্ম। এর পরও দেখতে কোনো ক্লান্তি বা বিরক্তি ছিল না। পিনপতন নীরবতার মধ্য দিয়ে দর্শকরা উপভোগ করেছে। বাঙালির ইতিহাসের অনেক বড় বড় ঘটনার দৃশ্যায়ন থাকায় অধীর আগ্রহে দেখেছে দর্শকরা।

    বৃহস্পতিবার ফিল্মটির প্রথম দর্শনের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত বলেন, ‘অসাধারণ একটি মুভি। কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নয়, একজন মানুষের জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৮৪ সাল থেকেই দেখছি। জানার তো শেষ নেই। নতুন অনেক কিছুই জানলাম।’ তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, ‘প্রত্যেকের উচিত এটা দেখা, একজন মা কিভাবে ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

    প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এটি তরুণ প্রজন্মের কাছে সংগ্রামী জীবনের অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে। এটার মাধ্যমে তাঁর সংগ্রামীজীবন, ব্যক্তিজীবনের নানা লড়াই উঠে এসেছে, যা আগামী প্রজন্মকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।’ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ এ চলচ্চিত্রটি। এতে শেখ হাসিনার ব্যক্তিসত্তার সঙ্গে যেমন পরিচিত হয়েছি, তেমনি দেখেছি তাঁর অনুপ্রেরণা হিসেবে শেখ রেহানাকে। এর গল্প অত্যন্ত প্রাঞ্জল, অত্যন্ত সাবলীল।

    ত্বোয়াহা ফারুকী নামে এক দর্শক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডকো-ফিকশনধর্মী এই ফিল্মটিতে অনেকগুলো ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। যেগুলো নিয়ে একেকটা মুভি হওয়ার উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি ইতিহাসের অনেক বড় ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, যেগুলো অনেকেরই অজানা। কাজেই দীর্ঘসময় হলেও কোনো বিরক্তি ছিল না। পিনপতন নীরবতার মধ্য দিয়ে সবাই উপভোগ করেছেন। শেখ হাসিনার জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও ভাঙা-গড়ার উদাহরণ রয়েছে। শেখ হাসিনার জীবনী নিয়ে একটা বড় সিনেমাও হতে পারে।’

  • বিয়ের দিন রণবীরকে দিয়ে এ কী করালেন দীপিকা!

    বিয়ের দিন রণবীরকে দিয়ে এ কী করালেন দীপিকা!

    দীর্ঘদিন প্রেমের পর মঙ্গলবার ইতালিতে রীতি মেনে গাঁটছড়া বেঁধেছেন রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোন। তবে অতিথিদের ওপর কড়া নজরদারি কারণে বিয়ের ছবি দেখতে ভক্তদের অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও দু’দিন। বৃহস্পতিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপিকা-রণবীর নিজেরাই সেই ছবি প্রকাশ করেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাঁদের পরিণয়ের ছবি পোস্ট হতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরই মধ্যে হঠাৎ ভাইরাল হয়ে গেল আরও একটি ছবি। সেটি দীপিকার প্রাক্তন প্রেমিক রণবীর কাপুরের। ছবির উপরে লেখা, সবাই দীপিকা-রণবীরের বিয়ের ছবি শেয়ারে করছে। কিন্তু দীপিকার বিয়েতে রণবীর কাপুর কী করছেন, সেই ছবি কেউ শেয়ার করছে না!

    ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পাঞ্জাবি পরিহিত রণবীর কাপুর বালতি হাতে খাবার পরিবেশন করছেন। ছবি পোস্ট হওয়া মাত্রই দীপিকার প্রাক্তন প্রেমিকের খাবার পরিবেশনের ছবি নিয়ে হাসি-তামাশায় মেতেছেন নেটিজেনরা। ফেসবুকের ওয়ালে ওয়ালে পোস্টারের মতো সেঁটে গেছে রণবীর কাপুরের এই ছবি। হাজার হাজার শেয়ার, হরেক রকমের মন্তব্য। হোয়াটসঅ্যাপেও ঘুরে বেড়াচ্ছে ছবিটি।

    উল্লেখ্য, দীপিকা-রণবীরের বিয়েতে বলিউড থেকে থেকে কেবল আমন্ত্রিত ছিলেন মাত্র তিনজন। তবে শাহরুখ খান ও সঞ্জয়লীলা বানশালি বিয়েতে গেলেও ছিলেন না পরিচালক ফারাহ খান। ফলে দীপিকার বিয়েতে রণবীর কাপুরের খাবার পরিবেশন করা তো দূরের কথা, তিনি যে সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না সেটা নিশ্চিত। তবে অনেকে না বুঝে মন্তব্য করছেন-রণবীরের সাথে দীপিকার এমনটা করা মোটেও উচিত হয়নি।

  • স্বর্ণের চেইন, লেপ-তোশক নিয়ে রিকশাচালকের বাড়িতে পুলিশ সুপার

    স্বর্ণের চেইন, লেপ-তোশক নিয়ে রিকশাচালকের বাড়িতে পুলিশ সুপার

    স্বর্ণের চেইন, লেপ-তোশক নিয়ে সেই রিকশাচালক আবুল কালামের বাড়িতে হাজির হলেন ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

    রিকশাচালক আবুল কালামের মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত থেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কনে জাহেদাকে স্বামীর হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সুপারকে মেয়ের বিয়েতে দেখে কেঁদে ফেলেন রিকশাচালক আবুল কালাম।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, আবুল কালামের বড় মেয়ে বিবি জাহেদার বিয়ের দিন ঠিক হয় বৃহস্পতিবার। বুধবার ছিল গায়ে হলুদ। মেয়ের বিয়ের জন্য মানুষের কাছে হাত পেতে ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন পিতা। বুধবার সকালে বিয়ের বাজার করতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি স্বর্ণের চেইন ও আসবাবপত্র কিনেন। দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার হোনারবাপের দোকানের সামনে পৌঁছালে তিন যুবক কৌশলে স্বর্ণের চেইন, আসবাবপত্রসহ বাকি টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে খালি হাতে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরেন তিনি। বাড়ি গিয়ে বিষয়টি জানালে সবাই কালামকে বকাঝকা করেন। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    খবরটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারের নজরে পড়ে। তাৎক্ষণিক ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বর্ণের চেইন, লেপ-তোশক নিয়ে রিকশাচালক আবুল কালামের বাড়ি হাজির হন পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

    এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, চুরির ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বর্ণের চেইন, লেপ-তোশক নিয়ে রিকশাচালক আবুল কালামের বাড়ি যান পুলিশ সুপার। রিকশাচালকের মেয়ের বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করেন পুলিশ সুপার।

  • ড. কামাল অসুস্থ, দেখা করেননি দলের নেতাদের সাথেও

    ড. কামাল অসুস্থ, দেখা করেননি দলের নেতাদের সাথেও

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী তফসিল এক মাস পেছানোর দাবিতেই অনড় থাকবে বলে জানিয়েছেন জোটের অন্যতম শীর্ষনেতা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তবে গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য নিজ নিজ প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করছে।

    রাজধানীর মতিঝিলস্থ ড. কামাল হোসেনের ল চেম্বারে আজ দুপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তবে বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন না।

    অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি বৈঠকে যোগদিতে পারেননি বলে জানানো হয়। বৈঠক শেষে গণফোরাম ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা অসুস্থ নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিতে বাসায় গেলেও তিনি কারো সাথে সাক্ষাৎ করেননি।  এ বিষয়ে গণফেরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু জানান, স্যারের হাতে ও পায়ে ব্যথা। সামান্য জ্বরও আছে গায়ে। এরসাথে যোগ হয়েছে ডায়রিয়া। এদিকে ড. কামাল হোসেনের ল চেম্বারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফেরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ।

    বৈঠক শেষে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে একমাস নির্বাচনী সিডিউল পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন মাত্র এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমরা (ঐক্যফ্রন্ট) তফসিল এক মাস পেছানোর দাবিতেই অনড় থাকবো। দাবি মানা না হলে নিজেরা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

    এসময় তিনি আরো বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের একদিন পরেই ইংরেজি নববর্ষ। ওই সময় দেশে কোনো কূটনীতিক ও বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন না। সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নির্বাচন বানচাল করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার চাইলে আলোচনা করে পুনঃতফসিল দেওয়া সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনেও যাওয়ার কথা থাকলেও ইসি থেকে সময় না পাওয়ায় তারা যাননি বলেন জানান রব।কমন প্রতীকে নির্বাচন করতে চায় ঐক্যফ্রন্ট এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একটা কমন প্রতীকে নির্বাচন করতে চায়। তবে প্রতীক কোনটা হবে সেটা ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বসে ঠিক হবে। তিনি আরো জানান, নাগরিক ঐক্য নির্বাচনে অংশ নিতে এরমধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছে। মনোনয়নপত্র বিক্রি ও সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

    গণফেরামের ৪০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি এদিকে গণফেরামের প্রেসিডিয়াম সূত্র জানায় সোমবার পর্যন্ত ৪০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। একইসঙ্গে রাজধানীর ইডেন গার্ডেনের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    দলের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা বিষয়টি তদারকি করছেন। মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন ড. কামাল হোসেন।
    অপরদিকে জেএসডি প্রেসিডিয়াম সূত্র জানায়, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডিও সোমবার থেকে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে। আজ রাতে নির্বাচনী তফসিল ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে দলীয় অবস্থান চূড়ান্ত করতে বৈঠক করেছে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা।

  • হিজড়াদের ‘খোলা হাওয়া’ সেলফি উৎসব

    হিজড়াদের ‘খোলা হাওয়া’ সেলফি উৎসব

    ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দানে রাজধানীর ছয়টি স্থানে হিজড়ারা ‘খোলা হাওয়া’ নামে মেহেদি ও সেলফি উৎসবের আয়োজন করেছে। রোববার গবেষণা ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘রি-থিংক’ আয়োজিত এ উৎসবে তারা সবাইকে মেহেদি পরিয়ে দেন।

    রাজধানীর স্বোপার্জিত স্বাধীনতা সড়ক, দুর্ঘটনা স্মৃতি স্থাপনা, ছবির হাট, সমাজকল্যাণ অনুষদ চত্বর ও ইডেন মহিলা কলেজ ফুটপাতে মেহেদি ও সেলফি উৎসবের আয়োজন করা হয়। এছাড়া বুয়েটেও দিনটি উদযাপন করে।

    আয়োজকরা জানান, পরিবার, স্কুল-কলেজ, কর্মক্ষেত্র ও বৃহত্তর সমাজের সবখানেই চরমভাবে অবহেলিত হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ জনগোষ্ঠীকে আলাদা ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    Hijra1

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে তাদের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। আবার এই বছরের জানুয়ারিতে সিদ্ধান্ত হয় জাতীয় ভোটার তালিকায় ‘নারী’ ও ‘পুরুষে’র পাশাপাশি ‘হিজড়া’ একটি আলাদা লিঙ্গ পরিচয় হিসেবে স্থান পাবে।

    এজন্য ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্তের দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে রি-থিংক। মেহেদি ও সেলফি উৎসব ছাড়াও সন্ধ্যায় বিন্দুধারীতে রি-থিংক’র আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হিজড়ারা পারফর্মও করেন। এছাড়া নাচ, গান, আবৃত্তি ও অভিনয় করেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রফিকুল আলম, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী, আবু বক্কর সিদ্দিক, চন্দনা মজুমদার প্রমুখ।

  • চার কোম্পানি পেল টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স

    চার কোম্পানি পেল টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স

    চারটি কোম্পানিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার অবকাঠামো ভাগাভাগি–সংক্রান্ত টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠান চারটির হাতে লাইসেন্স তুলে দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

    যে চারটি প্রতিষ্ঠান টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলো হলো ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিডেট, সামিট পাওয়ার লিমিটেড, কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড এবং এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। বিটিআরসি সূত্র জানায়, মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা, ভূমি ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এ লাইসেন্স দেওয়া হলো।

    এর ফলে মোবাইল টাওয়ার লাইসেন্স রোল আউটের ওপর ভিত্তি করে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো কোনো নতুন টাওয়ার স্থাপন করতে পারবে না। এ ছাড়া এক অপারেটর আরেক অপারেটরের কাছে আর টাওয়ার ভাড়া দিতে পারবে না। তবে লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানির কাছে তাদের টাওয়ার বিক্রি করতে পারবে।

    লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম বছরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে। দ্বিতীয় বছর জেলা শহর, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার সেবা দিতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্সের জন্য লাইসেন্স ফি ২৫ কোটি টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় বছর থেকে বিটিআরসির সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। এ ছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে জমা দিতে হবে ১ শতাংশ হারে। লাইসেন্সের মেয়াদকাল ১৫ বছর।

    লাইসেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, মোবাইল টাওয়ার শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দেশে মোবাইল প্রযুক্তির বিকাশে আরও একটি নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। টাওয়ার শেয়ারিং কার্যকর হলে টাওয়ারের জন্য মোবাইল অপারেটরসমূহকে (কোম্পানি) বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না বরং এর মাধ্যমে মোবাইলের মানসম্পন্ন ও উন্নত সেবা খাতে অপারেটরদের জন্য বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গুণগত মানের মোবাইল সেবা প্রদানে জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

    মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত গত ১০ বছরে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক নেতৃত্বের যোগ্যতায় আজ উপনীত হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪-জি এবং এএপি চালু করা হয়েছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘মোবাইল এখন একটা প্রযুক্তিই নয়, এটি একটি ব্যক্তির পরিচিত হিসেবে চিহ্নিত। প্রযুক্তির নতুন ভার্সন ৫-জি ইতিমধ্যে আমরা পরীক্ষা শেষ করেছি। যার গতি হবে সেকেন্ডে ২০ জিবিপিএস। এর ফলে যন্ত্রের সঙ্গে যন্ত্রের কথা হবে। এ জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’

    ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, টাওয়ার শেয়ারিং ও ৪–জি চালুর কার্যক্রম নিরন্তর প্রচেষ্টার ফসল। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতির ফলে এ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশপ্রেমের মহান ব্রত নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

    মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার চার প্রতিষ্ঠানের মালিকের হাতে লাইসেন্স তুলে দেন। ইডটকোর পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির দেশীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল চৌধুরী, সামিট টাওয়ারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরিফ আল ইসলাম, এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান মোল্লা এবং কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান করিম লাইসেন্স গ্রহণ করেন।

    অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকও বক্তব্য দেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর পিএসের গাড়িও আটকে দিলেন পরিবহন শ্রমিকরা

    প্রধানমন্ত্রীর পিএসের গাড়িও আটকে দিলেন পরিবহন শ্রমিকরা

    ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ে রোববার সকাল থেকে অবস্থান নেন পরিবহন শ্রমিকরা। লাঠি হাতে চালাতে থাকেন পিকেটিং। পিকেটিং চলাকালে তারা কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেননি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পিএস সাজ্জাদুল হাসানের গাড়িও আটকে দেন পরিবহন শ্রমিকরা। প্রায় আধা ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টিআই (প্রশাসন) মোল্লা তাসলিম হোসেন শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে গাড়িটি উদ্ধারে সক্ষম হন।

    জানা গেছে, পিকেটিংয়ের সময় অ্যাম্বুলেন্সও চেক করে রোগীর স্বজনবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেন তারা। সকাল থেকেই পরিবহন শ্রমিকরা এ মহাসড়কে কোনো প্রকার বাস, মিনিবাস, এমনকি মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যানও চলাচল করতে দেয়নি।

    এ মহাসড়ক দিয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস গন্তব্যে যেতে চাইলে পরিবহন শ্রমিকরা সেসকল পরিবহনে কালো রং লাগিয়ে দেন। এমনকি অনেক চালকের শরীরেও পরিবহন শ্রমিকরা কালো রং লাগিয়ে দেন। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন প্রাইভেট পরিবহনগুলোর মালিক ও চালকরা।

    পরিবহন শ্রমিকদের পিকেটিংয়ের সময় এ মহাসড়কে কর্তব্যরত পুলিশকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

  • পরিবহন শ্রমিকদের কাছে জিম্মি গোটা দেশ

    পরিবহন শ্রমিকদের কাছে জিম্মি গোটা দেশ

    সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে পরিবহন শ্রমিকরদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে অফিসগামী যাত্রী ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা।

    আজ রবিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার ‘কর্মবিরতি’র নামে নৈরাজ্য চালাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। আর এই নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছেন অফিসগামী যাত্রী ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা। কারণ সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কোনো গণপরিবহন না চলাচল করায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে হয় রাস্তায় বের হওয়া মানুষদের। কিন্তু এখানেও বাধা দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। ব্যাক্তিগত গাড়ি আটকে চালকদের হেনস্থা করা হচ্ছে।

    পরিবহন শ্রমিকেরা গণপরিবহন চালানো বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন। মোটর সাইকেল থামিয়ে চাবি নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের মুখে ও গাড়িতে কালো রং মাখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চিটাগাং রোড, শিমরাইল মোড় ও শনির আখড়া এলাকায় সংঘবদ্ধ ভাবে এমন কাজ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    বিআরটিসির বিভিন্ন ডিপো থেকে সরকারি বাস বের হলেও পরিবহন শ্রমিকদের বাধায় বাসগুলো চালানো যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

    বিআরটিসির গাজীপুর ডিপোর ম্যানেজার বুলবুল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সকালে আমি কিছু বাস বের করেছিলাম। কিন্তু গাজীপুর চৌরাস্তা এবং বোর্ড বাজারে সেগুলো আটকে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। আমাদের কয়েকজন চালককে পিটিয়েছে। এজন্য এখন বাস চালানো বন্ধ আছে।

    এছাড়াও পাঠাও, উবারসহ বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের রীতিমতো হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

    এর আগে গতকাল শনিবার শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সংসদ সদস্য ওয়াজিউদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক উছমান আলী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘সড়ক পরিবহন আইন -২০১৮’ পাস হয়েছে। এ আইনে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা ও পরিপন্থী উভয় ধারা রয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে গণ্য না করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইন পাস করা হয়েছে। আইনে সড়ক দুর্ঘটনা মামলায় অপরাধী হয়ে ফাঁসির ঝুঁকি রয়েছে। এমনই অনিশ্চিত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পেশায় দায়িত্ব পালন করা শ্রমিকদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কোনো আমাদের সামনে খোলা নেই।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ আইনের সংশোধন ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে রবিবার সকাল ৬টা থেকে দেশজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হবে।

  • অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে ভিডিও দিতে পারবে না পুলিশ

    অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে ভিডিও দিতে পারবে না পুলিশ

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে প্রায়ই ভিডিও আপলোড করতে দেখা যায়। এর কোনোটি ব্যক্তিগত ‘সুনাম’ আবার কোনোটি অন্যের ‘দুর্নাম’ ছড়ানোর জন্য।

    সম্প্রতি রাজধানীর রামপুরায় পুলিশ চেকপোস্টে এক তরুণীকে হয়রানি এবং সেই ভিডিও পোস্ট করায় তীব্র সমালোচনায় পড়ে পুলিশ। তদন্ত শুরু হয় অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

    তবে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে দিয়ে সুনাম অর্জনের চেষ্টা করেছেন। তবে এবারের ঘটনা নাড়া দিয়েছে গোটা বাহিনীকে। এর স্থায়ী সমাধান হিসেবে পুলিশ সদস্যদের ফেসবুক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা হচ্ছে। ফেসবুকে কোনো ভিডিও আপলোড করতে হলে ঊর্ধ্বতন অফিসার অথবা ইউনিট প্রধানের অনুমতি লাগবে।

    শনিবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, ‘একজন পুলিশ কর্মকর্তা তার ইউনিট প্রধানের অফিসিয়াল অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ধারণকৃত ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করতে পারবেন না। সেটি জনকল্যাণমূলক কিংবা অপারেশনাল যে ধরনের ভিডিওই হোক না কেন। যে কাউকে এ ধরনের ভিডিও আপলোড এবং শেয়ার করার আগে প্রোপার চ্যানেলে (নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায়) অনুমতি নিতে হবে।

    সম্প্রতি রাজধানীর রামপুরা চেকপোস্টে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের হাতে এক নারী হয়রানির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় সমাজে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি আপলোড করেন এক পুলিশ সদস্য। এতে একজন নারীকে তল্লাশি না করে অপ্রাসঙ্গিক ও আজেবাজে মন্তব্য করতে শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ রকম অসংবেদনশীল আচরণের জন্য পুলিশের সমালোচনা করে সাধারণ মানুষ।

    এ ঘটনায় রামপুরা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইকবাল হোসেন ও মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) চার কনস্টেবল রকিবুল, জিতু, তৌহিদুল ও মিজানুরকে শনাক্ত করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে টিম লিডার এএসআই ইকবাল হোসেনকে।

    এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘যে এ ভিডিওটি ধারণ করে ফেসবুকে আপলোড করেছেন তিনিও পুলিশেরই সদস্য। তিনি ভেবেছিলেন ওই ভিডিওটা প্রকাশ করলে তার হয়তো সুনাম হবে।

    তবে ‘সুনাম অর্জনের’ জন্য পুলিশের এ ধরনের কাজকর্ম এটাই প্রথম নয়। চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে স্কলাস্টিকা স্কুলের সামনে পুলিশের প্রতি ‘সরকারদলীয় এমপির মেয়ে’ দাবি করা এক নারীর আগ্রাসী আচরণের ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট ঝোটন সিকদার। ভিডিওটি দেখে অনেকেই ওই নারীকে নিয়ে কটূক্তি করেন। তবে ভিডিওটিতে নারীর অসদাচরণের আগের কোনো চিত্র ছিল না। ঘটনার প্রেক্ষাপটটিও উল্লেখ করা হয়নি ভিডিওতে।

    এ ছাড়া চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের সামনে গাড়িতে চড়ে উল্টোপথে ফিরছিলেন একজন সাংবাদিক নেতা ৷ সার্জেন্ট কাওসার হামিদ গাড়িটি আটকে দিলে তার সঙ্গে ওই সাংবাদিক নেতার কথা কাটাকাটি হয়। সেটি এক প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়েছিলেন। ভিডিওটি দেখে অনেকেই সাংবাদিক নেতা ও সাংবাদিকদের তীব্র সমালোচনা করেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুলিশের বিপিএম ও পিপিএম পদক, আইজিপি ব্যাচ ইত্যাদি অর্জনের জন্য সদস্যদের ভালো কাজের উদাহরণ দিতে হয়। অনেকেই নানা ধরনের ‘জনকল্যাণমূলক’ কাজ করে সেগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দিতে চান। এ ভিডিওটি তারই একটি অংশ।

    এ ধরনের ঘটনা সমাজে নাগরিকদের সম্মানহানি ঘটায় উল্লেখ করে সমাজ বিজ্ঞানীরা এ প্রবণতাকে অনৈতিক বলে উল্লেখ করেন।

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘যে সমস্ত বাহিনীগুলো শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ তাদের একটা নৈতিক মানদণ্ড রয়েছে। পুলিশ বাহিনীও এ মানদণ্ডের বাইরে নয়। তাদের পেশাগত অনুশীলন, ওরিয়েন্টেশন, প্রফেশনাল কোড অব ইথিকস মেনে প্রতি সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের এমন আচরণ পেশাদারী মনোভাবের প্রকাশ করে না।’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, ‘সম্প্রতি এক তরুণীর সঙ্গে রাতে তল্লাশির নামে যে ধরনের আচরণ হয়েছে, তাতে পুলিশের পেশাদারিত্বের অভাব ও প্রশিক্ষণহীনতা প্রকাশ পায়। যদিও পুলিশ প্রশাসন পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু এ ধরনের মনোভাবসম্পন্ন পুলিশ আরও অনেক রয়েছে। পুলিশ সদস্য ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তল্লাশি করে কিছু না পাওয়া কিংবা না পাওয়া গেলেও এর ভিডিও প্রকাশ করলে ওই ব্যক্তির ইমেজ এবং সামাজিক অবস্থানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পুলিশকে সব সময় তল্লাশি ও আচার আচরণে সতর্ক হতে হবে। অন্যথায় পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের সংকট বড় হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের আচরণের কারণে পুলিশ প্রশাসন নাগরিকদের কাছে যেতে পারছে না। সাধারণ নাগরিক তাদের আপন করে নিচ্ছেন না। যারা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে তারাই যদি আইন ভাঙে। তবে সমাজে অপরাধ ও অপরাধী বাড়বে।