Category: অন্যান্য

  • নিহত তামিমের বাসভবনে যান হাসানাত আব্দুল্লাহ

    নিহত তামিমের বাসভবনে যান হাসানাত আব্দুল্লাহ

    শেখ সুমন :

    ছাত্রলীগ নেতা তামিম হোসেনের সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হবার কথা শুনে তার বাসভবনে ছুটে যান পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক (মন্ত্রী),স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ।

    এসময় তিনি নিহত তামিমের আত্মার মাগফিরতা কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

  • প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটার প্রয়োজন আছে

    প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটার প্রয়োজন আছে

    বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি চাকরিতে কোটার প্রয়োজন রয়েছে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন। বিশিষ্টজনেরা বলেন, প্রতিবন্ধী জনগণকে সমাজের মূল ধারায় সংযুক্ত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

    আজ রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।

    সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা প্রয়োজন আছে। তবে কোটা নির্ধারণ করার আগে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। কোটার সুবিধা নিতে হলে আগে শিক্ষিত হতে হবে। অথচ, দেশের মাত্র ৪ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার সুযোগ পায়। তাদের জন্য শিক্ষার সুযোগ করতে হবে। এর জন্য শুধু নীতিমালা করলে হবে না। বিনিয়োগ, শিক্ষক, অবকাঠামোর প্রয়োজন আছে।

    আকবর আলি খান বলেন, প্রতিবন্ধীদের সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হবে। সামাজিক ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কোটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না। জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের প্রতিষ্ঠায় সরকারকে নিরন্তর উদ্যোগ নিতে হবে।

    প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) পাঁচটি অভীষ্টে প্রতিবন্ধীদের অধিকারের বিষয়ে বলা হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে যা করা হচ্ছে, তা যথেষ্ট না। ফলে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে হবে।

    এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের কম। বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এই তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে।

    বিতর্ক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী। ‘প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে’—এই বিষয়ের ওপরে ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় সরকারি দলে ছিলেন ইডেন মহিলা কলেজ এবং বিরোধী দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সবাই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

  • শিল্পীদের চোখে শেখ হাসিনা

    শিল্পীদের চোখে শেখ হাসিনা

    রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে তরুণ শিল্পীদের আঁকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১টি প্রতিকৃতি নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
    বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে হাসুমণির পাঠশালা ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।
    প্রতিকৃতিগুলোতে ফুটে উঠেছে শেখ হাসিনার নানা অভিব্যক্তি। জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী মিলনায়তনে সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত।

    বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে আদর করে ‘হাসুমণি’ বলে ডাকতেন।বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে আদর করে ‘হাসুমণি’ বলে ডাকতেন।রাজনীতিতে আসার আগের শেখ হাসিনা।রাজনীতিতে আসার আগের শেখ হাসিনা।পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শেখ হাসিনা।পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শেখ হাসিনা।বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনাকে সমার্থক হিসেবে দেখেছেন এক শিল্পী।বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনাকে সমার্থক হিসেবে দেখেছেন এক শিল্পী।শিল্পীর চোখে ধরা পড়েছে শেখ হাসিনার অভিব্যক্তি।শিল্পীর চোখে ধরা পড়েছে শেখ হাসিনার অভিব্যক্তি।প্রকৃতি ও শেখ হাসিনা।প্রকৃতি ও শেখ হাসিনা।অবিচল শেখ হাসিনা, মননে বঙ্গবন্ধু।অবিচল শেখ হাসিনা, মননে বঙ্গবন্ধু।প্রতিকৃতিতে শেখ হাসিনার দৃঢ়তা ফুটে উঠেছে।প্রতিকৃতিতে শেখ হাসিনার দৃঢ়তা ফুটে উঠেছে।শিল্পীর ক্যানভাসে চিরচেনা শেখ হাসিনা।শিল্পীর ক্যানভাসে চিরচেনা শেখ হাসিনা।বঙ্গবন্ধুর ছোট্ট হাসুমণি।বঙ্গবন্ধুর ছোট্ট হাসুমণি।

  • স্প্যানিশ ভাষায় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মোড়ক উন্মোচন

    স্প্যানিশ ভাষায় বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মোড়ক উন্মোচন

    স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীর মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। ঢাকার স্প্যানিশ দূতাবাস বইটি প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বইটি স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশের জন্য স্প্যানিশ দূতাবাস এবং বইটির সম্পাদনা ও অনুবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

    ২০১২ সালের ১৮ জুন জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রথমবারের মতো একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়। বইটি এ পর্যন্ত ১০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, চীনা, জাপানি, ফরাসি, উর্দু, আরবি ও স্প্যানিশ ভাষা। বইটি রুশ ভাষায় অনুবাদের কাজ চলছে।

    বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে বারবার কারা নির্যাতন ভোগকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত কারাগারে থাকার সময় তাঁর আত্মজীবনী লেখেন। এতে তিনি তাঁর বংশবৃত্তান্ত, জন্ম, শৈশব এবং ছাত্রজীবনে সামাজিক এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সে সময়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা বিবৃত করেছেন।

    ঢাকায় স্পেনের রাষ্ট্রদূত আলভারো ডি সালাস গিমেনেজ ডি অ্যাজকারাটে ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

    সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

  • ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে তিতলি, শঙ্কা নেই বাংলাদেশে

    ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে তিতলি, শঙ্কা নেই বাংলাদেশে

    নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ পাওয়া ‘তিতলি’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যার মাঝামাঝি এলাকায় আছড়ে পড়ে ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। ফলে এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আতঙ্ক বা ভয়ের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান।

    তিনি বলেন, ভারতের উডিষ্যা রাজ্যের গোপালপুরে আঘাত হানলেও তা পুরো শক্তি নিয়ে বাংলাদেশে আসার আশঙ্কা নেই। বরং নিম্নচাপ আকারে আসবে। ফলে উপকূলীয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে হতে পারে। একইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশের ওপর দিয়ে বাতাসের গতিবেগ বাড়বে।

    যদিও আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে বলে খুলনা আবহাওয়া অধিদফতর জানান। খুলনা আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করে দুপুরের দিকে খুলনা ও সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলে আঘাত হানতে পারে। পরে সেই শঙ্কা কেটে গিয়ে যায়।

    এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অন্ধ্র-উড়িষ্যা উপকূলে ‘তিতলি’র তাণ্ডবের খবর দেয় স্থানীয় ও কলকাতাভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলায় আঘাত হানার সময় ‘তিতলি’র গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত। অন্ধ্রে প্রলয়কাণ্ড চালিয়ে উত্তরের দিকে এসে উড়িষ্যার গানজাম জেলায় আছড়ে পড়ার সময় এর তীব্রতা কিছুটা কমে যায়। সেসময় এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০২ কিলোমিটার পর্যন্ত।

    এদিকে, তিতলির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবলোয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূলীয় অঞ্চলের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন গুদামে ১০ হাজার ১৩২ টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে।

  • এসপি মীজানের সম্পদের খোঁজে ৩৪ সংস্থায় দুদকের চিঠি

    এসপি মীজানের সম্পদের খোঁজে ৩৪ সংস্থায় দুদকের চিঠি

    পুলিশ সুপার (এসপি) মীজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর অঢেল সম্পদের রহস্য উদঘাটন করে মামলা করার পর আরও সম্পদের খোঁজে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি ৩৪ প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

    সম্প্রতি দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আলাদা আলাদা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কমান্ড্যান্ট মীজানুর রহমান, তাঁর স্ত্রী নীপা মীজান ও পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট তথ‌্য-উপাত্তসহ সংশ্লিষ্ট নথি চাওয়া হয়েছে।

    সূত্র জানায়, অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তির সম্পদের তথ্য জানা ও যাচাই করতে এ ধরনের চিঠি দেওয়া হয়। ব্যাংকে জমা অর্থের তথ্য, দায়-দেনা এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, রেজিস্ট্রি করা জমিসহ নানা তথ্য পাওয়া যায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে।

    যেসব দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ভূমি অফিস, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন, পিপলস লিজিং কোম্পানি, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), বাংলাদেশ ব‌্যাংক, বেসিক ব‌্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব‌্যাংক, সোনালী ব‌্যাংক, ইসলামী ব‌্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব‌্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড ও এসএমই ফাউন্ডেশন। এসব চিঠি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের বরাবর পাঠিয়ে দ্রুত এসব তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

    এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও মডেল থানায় মীজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী নীপা মীজানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, মীজানুর রহমান ১৯৮৯ সালে সার্জেন্ট (এসআই) হিসেবে তৃতীয় শ্রেণির পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। পরে ১৭ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পুলিশে যোগ দিয়ে পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় কর্মরত আছেন।

    এই সময়ে তিনি নিজ নামে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৮ শতাংশ জমিতে ২ তলা বাড়ি ও এক হাজার ২৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ কৃষিজমি, ঢাকার তেজকুনিপাড়ায় ১ হাজার ৭১৮ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের অর্ধেক অংশ, জুরাইনে একটি দোকান, ঢাকায় ১৫ শতাংশ জমি, রাজউকের উত্তরা তৃতীয় ফেজে ৩ কাঠা জমির মালিক হয়েছেন।

    এ ছাড়া দুটি মাইক্রোবাস, আসবাব, ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ইলেকট্রনিকস, মেয়ের নামে শেয়ার, হাতে ও নগদে প্রায় দুই কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।

    এজাহারে আরও বলা হয়, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর/রূপান্তর করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। একজন সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়া ছাড়াই স্ত্রী, মেয়ে ও পিতার নামে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে রেজিস্ট্রিভুক্ত কেরানীগঞ্জে একটি সার কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাংক হিসাব আসামি মীজানুর রহমান পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া নামে-বেনামে মেঘনা ফার্টিলাইজার, মেসার্স খোয়াজ ফার্টিলাইজার কোম্পানি ও ফার্ম নেস্ট অ্যান্ড মিল্ক প্রডাক্টস নামে আরও তিনটি কারখানার মালিক।

    মীজানুর রহমানের স্ত্রী নীপা মীজানের নামেও রয়েছে অঢেল সম্পদ । এজাহারে বলা হয়, ২০০৩ সালে মীজানুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় নীপা মীজানের। একজন সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হয়েও স্বামীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে রেজিস্ট্রিভুক্ত কেরানীগঞ্জে একটি সার কারখানার মালিক হন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার মিরপুর মাজার রোডে ৫ কাঠা জমির ওপর ৩ তলা ভবন, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১০ শতাংশ জমিতে ২ তলা বাড়ি, ঢাকা ও কেরানীগঞ্জে ৬৬ শতাংশ জমি, মিরপুর মাজার রোডে ২ কাঠা জমিতে দোকান,গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৫৩৮ শতাংশ জমি, তেজকুনিপাড়ায় ১৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। এ ছাড়া ব্যবসায়িক মূলধন, হাতে নগদ অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ।

    দুদকের অনুসন্ধান
    ২০১২ সাল থেকে মীজানের বিরুদ্ধে দুদকে অনুসন্ধান হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও তাঁকে দায়মুক্তি দিয়েছিল সংস্থাটি।

    দুদক সূত্র জানায়, ২০১৬ সাল থেকে আবারও অনুসন্ধান শুরু হয় তাঁর বিরুদ্ধে। নিজের বাড়ি নির্মাণের সময় পুলিশের ৬০ জন সদস্যকে রাজমিস্ত্রির সহকারী বা জোগালির কাজ করানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, সাভারের হেমায়েতপুরের আলীপুর ব্রিজ-সংলগ্ন ৮৪ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি তৈরি ও ঢাকার মিরপুরের মাজার রোডের আলমাস টাওয়ারের পাশে আরও একটি বাড়ি নির্মাণে জোগালি ও শ্রমিক হিসেবে সাব-ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশের ৫০ থেকে ৬০ জন সদস্যকে দিয়ে কাজ করান মীজানুর রহমান। সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে খাটানো এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামেন দুদকের উপপরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম। এর মধ্যে মীজানের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

    পরে অনুসন্ধানের ক্ষেত্র আরও বেড়ে যায়। মীজানের বিরুদ্ধে নকল সার কারখানা পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। এটিও যুক্ত হয় অভিযোগ নথিতে। এর মধ্যে নতুন করে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধ মামলা করলেন।

    অদৃশ্য প্রভাবে বারবারই ধরাছোঁয়ার বাইরে মীজান
    ২০১২ সালে মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদক যে অনুসন্ধান করেছে, তখন সংস্থার চারজন কর্মকর্তা আলাদাভাবে অনুসন্ধান করেও তাঁর অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাননি। একাধিকবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা পরিবর্তন করেও মামলা করার মতো কিছু পায়নি দুদক। তাই অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে মীজানকে অব্যাহতি দিয়েছিল সংস্থাটি। তবে এ বিষয়ে দুদকেও কানাঘুষা ছিল। প্রভাব খাটিয়ে দুদক থেকে দায়মুক্তির সনদ নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছিল।

    দুদক সূত্র জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে অনুসন্ধান শুরু হয়। উপপরিচালক গোলাম মোরশেদ অনুসন্ধান শুরু করলেও পরে আরেক উপপরিচালক ফজলুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুজনই মীজানুর রহমানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিলেও কমিশন তা গ্রহণ করেনি। পরে আবার অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপরিচালক হামিদুল হাসানকে। হামিদুল হাসানও অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুপারিশ করেন। এ সুপারিশ অগ্রাহ্য করে উপপরিচালক মো. আবদুস সোবহানকে পুনরায় অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয় কমিশন।

    দুদকে আসা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৪ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ বছরে তিনি কয়েক শ বিঘা স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন। ব্যাংকে তাঁর নগদ অর্থ রয়েছে ১০ কোটি টাকার বেশি। তাঁর স্ত্রীর নামে লাইসেন্স নেওয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বৈধ করেন। এসব রেকর্ডে মীজানের স্ত্রী নীপা মীজানের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান অনুসন্ধান কর্মকর্তা হামিদুল হাসান। কিন্তু কমিশনের ওপর মহল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অদৃশ্য ইশারায় অনুসন্ধান নথিভুক্তির সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।

    সর্বশেষ অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আবদুস সোবহানের অনুসন্ধান চলার সময় নোটিশ ছাড়াই বেশ কয়েকবার এসপি মীজানুর রহমানকে দুদকে আসতে দেখা যায়। এ সময় তিনি সাক্ষাৎ করেন দুদকের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ও অনুসন্ধান কর্মকর্তার সঙ্গে। আর এর ফলে পুনঃ অনুসন্ধান প্রতিবেদনেও তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়েরের পরিবর্তে নথিভুক্তির সুপারিশ আসে।

    এর আগে ২০১১ সালে এসপি মীজানের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ অনুসন্ধান করেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের তৎকালীন অনুসন্ধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম। অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় স্ত্রী নীপা মীজানের নামে ব্যবসা পরিচালনা, ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। তিনি মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করলেও মামলা না করে অভিযোগটি নথিভুক্ত হয়ে যায়।

  • শাহবাগে কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

    শাহবাগে কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত

    মন্ত্রিপরিষদের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডসহ কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা। আজ রোববার রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন তাঁরা।

    একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী কোটা বহাল রাখার দাবিতে একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন প্রতিবন্ধীরা ও প্রতিবন্ধীদের কয়েকটি সংগঠন।

    প্রতিবন্ধীদের একজন বলেন, ‘আমরা এমনিতেই চাকরিতে সুবিধাবঞ্চিত। এর মধ্যে কোটা তুলে দিয়ে আমাদের ওপর অন্যায় করা হয়েছে।’ এটি বাতিল করে অবিলম্বে প্রতিবন্ধী কোটা বহাল রাখার দাবি জানান তিনি।

    ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডসহ কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা। ছবি: মোছাব্বের হোসেনমুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, আমাদের ছয় দফা দাবি। ১. ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল, ২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের কটূক্তি বিচার, ৩. মুক্তিযোদ্ধা পারিবারিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, ৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে হামলার বিচার, ৫. প্রশাসনে রাজাকার ও রাজাকারদের সন্তানদের তালিকা করে বরখাস্ত করা, ৬. মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।

    মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, যত দিন পর্যন্ত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা না হবে, তত দিন পর্যন্ত শাহবাগে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি ও সারা বাংলাদেশে একই কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

    এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে শাহবাগের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে বাসগুলো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে ঘুরে যাচ্ছে।

    ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখা ছাড়াও তাঁদের অন্য দাবিগুলো হলো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সুরক্ষা আইন, রাজাকারের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না দেওয়া ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা।

    প্রতিবন্ধী কোটা বহাল রাখার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন প্রতিবন্ধীরা ও প্রতিবন্ধীদের কয়েকটি সংগঠন। ছবি: মোছাব্বের হোসেনএসব দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।সেখানে আন্দোলনকারীরা বলছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কোটা পর্যালোচনা কমিটির সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা স্বাধীনতাবিরোধীদের কাছে হেরে যাওয়ার শামিল।

    গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের যে সুপারিশ করেছিল সরকারি কমিটি, তাতে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অর্থাৎ ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত চাকরিতে কোনো কোটা থাকবে না। এসব পদে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন হয়।

    বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে নির্বাহী আদেশে সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি চালু করা হয়। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়। বাকি ৫৫ শতাংশ পদে নিয়োগ করা হয় অগ্রাধিকার কোটায়। অগ্রাধিকার কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা (পরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, এখন নাতি-নাতনি) কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, ১০ শতাংশ জেলা কোটা এবং ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিসত্তা কোটা। সর্বশেষ ২০১২ সালে বিদ্যমান অগ্রাধিকার কোটায় কাঙ্ক্ষিত যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেই কোটা থেকে ১ শতাংশ পদ প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের দিয়ে পূরণের নিয়ম চালু হয়। এর বাইরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে পোষ্য, আনসার-ভিডিপিসহ আরও কিছু কোটা রয়েছে।

  • যে কারণে পুরোপুরি সফল হচ্ছে না ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

    যে কারণে পুরোপুরি সফল হচ্ছে না ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

    প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার্থে আগামীকাল শনিবার রাত থেকে উপকূলীয় ৭ হাজার বর্গ কিলেমিটার জলসীমায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত (২২ দিন) মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করার জন্য বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও আশ্বিনের পূর্ণিমা লক্ষ্য রেখে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য অধিদফতর।

    এ সময় সারাদেশে ইলিশ আহরণ বন্ধসহ পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ বা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্ররাচরনার পাশাপাশি মৎস্য অধিদফতর কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

    তবে জেলারা বলছেন, মৎস্য অধিদফতর ও প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবে বিগত কয়েক বছর ধরে মা ইলিশ রক্ষার্থে এ নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। সরকারি সহায়তা না পেয়ে অভাবের কারণে এ সময় অনেক জেলে মাছ শিকারে বাধ্য হচ্ছেন। এরপর রয়েছে দাদন ব্যবসায়ীদের চাপ। অভাব ও দাদন ব্যবসায়ীদের চাপের কারণে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার সময় মা-ইলিশ শিকারে বাধ্য হচ্ছেন। আর শিকার করা মাছ ক্ষমতাসীন দলের লোক ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেকে রাতের আঁধারে কিনে নেন। মাঝে মধ্যে মাছ শিকারের অপরাধে জেলেদের জেল জরিমানা হলেও নেপথ্যে থাকা এসব ব্যক্তিরা আড়ালেই থেকে যায়।

    উপকূলের একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার এ সুযোগে বিগত কয়েক বছর বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে ভারতীয় জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করে নিয়েছে । এ জন্য তারা ব্যবহার করছে শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত নৌকা। মৎস্য অধিদফতর, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ তাদের নাগাল পায় না। এসব কারণে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সফল হচ্ছে না।

    এ বিষয়ে মৎস্য অধিদফতরের বরিশালের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ড. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বরিশাল বিভাগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তারা সব প্রস্ততি সম্পন্ন করেছেন। বিগত বছরগুলোতে যেসব এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ নিধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে সেসব এলাকায় এবার বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। এ সময় তালিকাভুক্ত জেলে প্রত্যেকে ২০ কেজি করে চাল পাবেন।

    ভারতীয় জেলেদের অবাধে মাছ শিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবার নৌবাহিনীকে টহল জোরদার করতে বলা হয়েছে। তাদের নজরদারি থাকলে ভারতীয় জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করতে পারবে না।

    চাঁদপুর ইলিশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুম হচ্ছে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমা। এ সময়ে ডিম ছাড়ার জন্য ৭০-৮০ ভাগ মা ইলিশ গভীর সাগর ছেড়ে মিঠা পানির নদীতে চলে আসে। চলতি বছর ২৪ অক্টোবর আশ্বিনের পূর্নিমা। পূর্ণিমার আগে সাগর ছেড়ে নদীতে প্রবেশের সময় এবং পূর্ণিমার পরে নদী ছেড়ে সাগরে চলে যাওয়ার সময় জেলেদের জালে মা ইলিশ ধরা পড়ে। তাই মা ইলিশের আসা-যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে পূর্ণিমার আগে ১৭ দিন এবং পরে ৪ দিন অর্থাৎ মোট ২২ ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

  • ১৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চলল ৩ ফেরি

    ১৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চলল ৩ ফেরি

    পদ্মা নদীতে নাব্যতা সংকট থাকায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। এই নৌপথে সচল ১৯টি ফেরির মধ্যে চলছে মাত্র ৩টি। চাহিদা অনুসারে ফেরি না চলায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই নৌপথের চলাচলকারীরা।

    এদিকে নৌপথের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে খননকাজ চলমান থাকায় গতকাল সোমবার বিকেল ৪টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় ঘাট কর্তৃপক্ষ। তবে দিনের বেলায় স্বাভাবিক রয়েছে লঞ্চ ও স্পিডবোটের চলাচল।
    বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্র জানায়, নৌপথের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে দেখা দিয়েছে নাব্যতা সংকট।

    এ জন্য ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ঘাটের উভয় পারে আটকা পড়ে কয়েক শ যানবাহন। এখন ১৯টি ফেরির মধ্যে ৩টি ফেরিতে যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও পচনশীল দ্রব্যের যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিকে পার করা হচ্ছে। এদিকে নদীতে নাব্যতা সংকট দূর করতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

    বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চ্যানেলে ড্রেজিং কাজ চলছে। এর কারণে ফেরি না চলার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগের প্রকৌশলীদের কথামতো সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আমরা সব কয়টি ফেরি বন্ধ রাখি। পরে সকাল ৮টা থেকে ৩টি ফেরি চলাচল করছে। আশা করছি নৌপথের এ সমস্যা আমরা দ্রুত কাটিয়ে উঠব।’

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, ঘাটের চারটি সংযোগ সড়কেই রয়েছে যানবাহনের সারি। তবে টার্মিনাল কানায় কানায় ভর্তি রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাকে। ঘাটের পন্টুনগুলোতে দেখা যায়নি কোনো ফেরি। ১ নম্বর ঘাটের পন্টুনে একটি রো রো ফেরি ও ৪ নম্বর ঘাটে একটি কে-টাইপের ফেরি নোঙর করে রাখা। লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল।
    চট্টগ্রামগামী ট্রাকের চালক সোবাহান সরদার বলেন, ‘ঘাটে আজ ১০ দিন ধরে আটকা পড়েছি। ঘাটের লোকেরা বলছে নাব্যতা সংকট থাকায় ফেরি ঠেকে যান চলে। তাই ফেরি ঠিকমতো চলতে পারে না। তাই আমাদের বিকল্প পথ ধরে যেতে বলছে। কিন্তু লাইন ভেঙে আমাদের বিকল্প পথ ধরে যাওয়া সম্ভব না।’

    ঢাকাগামী ট্রাকের চালক মো. কাওলসার বলেন, বাগেরহাট থেকে ৬দিন আগে ঘাটে এসেছি। এখানে থাকতে হচ্ছে, ঘুমাতে হচ্ছে। এখানে হোটেলের খাবারের খুব দাম। বেকার এভাবে কত দিন পড়ে থাকব? আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।’

    ঢাকাগামী যাত্রী সঞ্জয় কুণ্ডু বললেন ‘মাদারীপুর থেকে বাসে করে ঘাটে আসি সকাল ১০টায়। পরে এক ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকার পরে একটি ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাই। কিন্তু ফেরিটি টার্নিং পয়েন্টের চ্যানেলটি ঘুরতে গেলে ডুবোচরে আটকে যায়। এ কারণে শিমুলিয়া ঘাটে আসতে আমাদের দ্বিগুণ সময় ব্যয় হয়েছে।’

    কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট কুশল কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে ঘাটের অবস্থা বেশি খারাপ। ফেরি চলছেই না। যা দু-একটা চলে তা দিয়ে সব যানবাহন পারাপার করা সম্ভব নয়। ফেরি চলাচল ব্যাহত থাকায় টার্মিনাল ও ঘাটের সংযোগ সড়কে আটকা পড়েছে শতাধিক যানবাহন।’

  • ৮৮ বলে সেঞ্চুরি শাহজাদের, তবু বিপদে আফগানিস্তান

    ৮৮ বলে সেঞ্চুরি শাহজাদের, তবু বিপদে আফগানিস্তান

    ৯৩ রানে থাকার সময় মোহাম্মদ খলিলের বলে ক্যাচ নিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, আম্পায়ারও আঙুল উঁচিয়ে দিলেন। বলটি ব্যাটেই লাগেনি, রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেন মোহাম্মদ শাহজাদ। যেমন সাহসী ব্যাটিং করেছেন, তাতে ওমনভাবে সাজঘরে ফেরা তাকে মানাতোও না।

    শেষপর্যন্ত সেঞ্চুরিটা তুলেই নিলেন শাহজাদ। সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝেও একটা প্রান্ত আগলে রেখে লড়েছেন আফগানিস্তানের উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। তবে একপ্রান্ত আগলে লড়াই বলতে যা বোঝায়, ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলা-এমনটা করেননি শাহজাদ। দলের বিপদের মাঝেও খেলেছেন স্ব-ভঙ্গিমায়।

     ৩৭ বলে ফিফটি, এরপর একটু সময় নিলেন। নার্ভাস নাইন্টিজে গিয়ে অনেকটা সময় আটকেও রইলেন। তবু সেঞ্চুরি তুলে নিতে ৮৮ বলের বেশি লাগেনি শাহজাদের। অথচ মাঝের পাঁচ ব্যাটসম্যান মিলে সাকুল্যে করেছেন ২৩ রান, আফগানিস্তানেরও তাই বিপদ কাটেনি।

    এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আফগানিস্তানের সংগ্রহ ২৯ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১৩৩ রান। ৯০ বলে ১০৪ রানে অপরাজিত আছেন শাহজাদ। ইতোমধ্যেই এই ইনিংসে ১০টি চার আর ৬টি ছক্কা মেরেছেন আফগান ব্যাটিং সেনসেশন। সঙ্গে থাকা মোহাম্মদ নবি এখনও রানের খাতা খুলতে পারেননি।