Category: অন্যান্য

  • ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে ব্রত রায়ের ছড়া

    ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে ব্রত রায়ের ছড়া

    হুজাইফা রহমান:

    ওরা কারা? সবাই চেনে!

    ব্রত রায় আগস্ট মাসের একুশ তারিখ দুইহাজারের চার। তখন বিকেল। একটু করে কমছে রোদের ধার। শেখ হাসিনার জনসভা। মানুষে থইথই কার্যালয়ের সামনে ফাঁকা জায়গা ছিল কই? হঠাৎ বিকট শব্দে ওরা যায় ফাটিয়ে বোমা ওরা কারা? সবাই চেনে! চিনিস না তুই? ওমা! পকিস্তানের প্রেতাত্মারা! পঁচাত্তরের পাপীর – বংশ ওরা! বিষাক্ত সাপ ঢাকনা খুলে ঝাঁপির – যায় বেরিয়ে বারেবারে! দুধকলা দেয় কারা? বইছে আজও নষ্টপচা রক্তবীজের ধারা! প্রাণ হারালেন কর্মী, নেতা, জখম শতশত বহন করে চলেন আজো নিজের দেহের ক্ষত! কার্যকরী হয় ঘাতকের সবার যেন সাজা হোক না তারা প্রভাবশালী, হোক না সাবেক রাজা!

    সেদিন ওরা সফল হলে আঁধার হত দেশ সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদের দারুণ পরিবেশ – সৃষ্টি হত! একাত্তরের সকল চেতনারই – মৃত্যু হত!

    এদেশ হত দত্যি-দানোর বাড়ি!

  • দিল্লীতে শিল্পকর্মে দি অ্যাসিভার বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাজশাহীর সোমা

    দিল্লীতে শিল্পকর্মে দি অ্যাসিভার বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাজশাহীর সোমা

    ভারতের দিল্লীর কালারার ফাউন্ডসন আয়োজিত শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে এবার দি অ্যাসিভার বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাজশাহীর চিত্রশিল্পী নারগিস পারভীন সোমা। পুরস্কারপ্রাপ্ত তার চিত্রকর্মটির শিরোনাম ছিলো ‘ওম্যান লাইফ’।

    কালারার ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার জয়া আরোরা গত বুধবার রাতে দিল্লীর র‌্যাডলেন্স মোটেলে এশিয়া গ¬মার ফ্যাশান শো অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন নারগিস পারভীন সোমার হাতে। সোমা ষড়ং আট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজশাহী আর্ট কলেজের প্রভাষক।

    সোম জানান, ১৯ অক্টোবর থেকে গোয়ার গ্যালারি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে শুরু হওয়া চিত্র প্রদর্শনী শেষ হয় ২২ অক্টোবর। এই প্রদর্শনীতে নার্গিস সোমা ছাড়াও নেপাল, জাপান, নেদারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের ৮৪ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। এই ৮৪ জনের ৮৪টি শিল্পকর্মের ভেতরে ১৮ জনকে বেস্ট পেইন্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে রাজশাহী আর্ট কলেজের প্রভাষক নারগিস পারভীন সোমা একজন।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রদর্শনীতে বেস্ট নিরিখা পুরস্কার দিয়ে মূলত যাত্রা শুরু তার। দেশের বাইরে প্রথম জাপানে তারপর ইন্ডিয়ার বিভিন্নস্থানে যেমন কেরেলা, দিল্লী, আহমেদাবাদ, শিমলা, নেপাল, মুম্বাইয়ে নারীর জীবন সংগ্রামের ছবির উপর পুরস্কার পেয়েছেন সোমা। এ পর্যন্ত নারীর জীবন সংগ্রাম বিষয়ক ২৬টি ছবি এঁকেছেন তিনি। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক একাধিক পুরস্কারও।

  • বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানুষটিকে চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর

    বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানুষটিকে চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানুষটি আজ জাতীয় সংসদে গিয়েছিলেন। তার উচ্চতা ৮ ফুট ৫ ইঞ্চি। কক্সবাজারের রামু উপজেলার এই অধিবাসীর নাম জিন্নাত আলী। সংসদের নিজ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। এসময় তার চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    জিন্নাত আলীর এলাকার এমপি সায়মুম সরোয়ার কমল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার এই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে জিন্নাত আলীকে নিয়ে সংসদের ক্যান্টিনে গেলে সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এমপি-মন্ত্রীদের সহকারী ও একান্ত সহকারীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এসব ছবি তোলা ও সেলফি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি লেগে যায়। সাধারণ লোকদের সাথে ছবি তোলার সময় তিনি টাকা দাবি করলেও মন্ত্রী-এমপিদের সাথে বিনাবাক্য ব্যয়ে ছবি তোলেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ্য। চিকিৎসা নিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    গিনেস রেকর্ড অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ ব্যক্তি হলেন মিশরের সুলতান কাসেম। তার উচ্চতা ৮ ফুট ৩ ইঞ্চি। আর ২২ বছর বয়সী জিন্নাত আলীর উচ্চতা ৮ ফুট ৫ ইঞ্চি। ১২ বছর বয়সের পর থেকেই অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকেন তিনি। ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকেও সরে আসতে হয় তাকে। লম্বা দেহটা নিয়ে খুব একটা স্বস্তিও বোধ করেন না তিনি।

  • ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক সোহেল এর পিতার ইন্তেকাল

    ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক সোহেল এর পিতার ইন্তেকাল

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বরিশাল মহানগর ৬ নং ওয়ার্ড শাখার সাধারন সম্পাদক প্রিন্স মাহমুদ সোহেল এর পিতা মো. ইসমাইল সিকদার (৫৭) বুধবার ৪.৩০ মিনিটের সময় বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ( ইন্না…….. রাজিউন)
    তার জানাযার নামাজ আজ সকাল ১১ টার সময় এ করিম আইডিয়াল কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

    গতকাল রাতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে ছুটে যান , বরিশাল সিটিকর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এসময় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল সহ আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ।

  • আইয়ুব বাচ্চুর জন্য কাঁদছেন জেমস

    আইয়ুব বাচ্চুর জন্য কাঁদছেন জেমস

    দুই তারকার সম্পর্ক নিয়ে অনেক গল্প ছড়িয়েছে শোবিজে। কেউ কেউ বলতেন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তারা। কেউ কেউ বলতেন, তাদের ভেতরকার সম্পর্ক ভালো নয়। এমনি অনেক কথার ভিড়ে দুই তারকা কখনোই নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে মন্দ কিছু বলেননি।

    সবসময়ই একে অপরের গানকে বাহবা দিয়েছেন, সম্মান করেছেন একে অপরের জনপ্রিয়তাকে। বলছি সদ্য প্রয়াত এলআরবি ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চু ও নগর বাউল খ্যাত তারকা জেমস।

    গুজব-গল্প সবকিছুই ম্লান হয়ে যায় মৃত্যুর কাছে। মৃত্যু সবকিছু ভুলিয়ে সবাইকে মিলিয়ে দেয় হৃদয়ের খুব কাছাকাছি। সেই প্রমাণ আবারও দিলেন উপমহাদেশের নন্দিত রকস্টার জেমস। তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, বাচ্চুর মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান জেমস। প্রিয় বন্ধুর মতোই জানতেন তিনি বাচ্চুকে। তার চলে যাওয়া বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে জেমসকে। তিনি কাঁদছেন বাচ্চুর স্মৃতি বুকে নিয়ে।

    শোনা যাচ্ছিলো আইয়ুব বাচ্চুকে শেষবারের মতো দেখতে স্কয়ার হাসপাতালে আসবেন জেমস। সেইজন্য সাংবাদিকরাসহ অপেক্ষা করছেন অনেকেই। কিন্তু নিশ্চিত হওয়া গেল তিনি ওদিকে যাবেন না। বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত উন্নয়ন মেলার এক কনসার্টে অংশ নিতে আজ সকাল বেলাতেই বরগুনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন জেমস। পথেই তিনি বাচ্চুর মৃত্যুর খবরটি পান।

    না আসলেও জেমস বন্ধু আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করবেন তার কনসার্টে। আজকের কনসার্টে আইয়ুব বাচ্চুর সম্মানে গান গাইবেন জেমস। তিনি বলেন, ‘বাংলা রক সংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৮০ সালের শুরু থেকেই তার সাথে আমার ঘনিষ্ঠতা। সুখে-দুঃখে, মান-অভিমানে পথ চলেছি আমরা। প্রায় চল্লিশ বছর একসঙ্গে ছিলাম। আজ সকালবেলা যখন শুনলাম উনি নেই এই কথাটি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাষায় বলে প্রকাশ করার মতো নয়। আপনের চেয়ে আপন বলে যদি কিছু থাকে বাচ্চু ভাই আমার সেটাই ছিলো।

    জেমস আরও বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চুর এই প্রস্থান বাংলা রক মিউজিকের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমি আইয়ুব বাচ্চুর বিদেহি আত্মার প্রার্থনা করি। আপনারাও সবাই দোয়া করবেন বাচ্চু ভাইয়ের জন্য।

    প্রসঙ্গত, ব্যান্ডের সোনালী দিনে অনেক ডুয়েট অ্যালবামে একসঙ্গে গান করেছেন আইয়ুব বাচ্চু ও জেমস। অনেক কনসার্টেও দুজনকে একসঙ্গে গাইতে দেখা গেছে বহুবার।

  • আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে স্মৃতিচারণে যা বললেন সহকর্মীরা

    আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে স্মৃতিচারণে যা বললেন সহকর্মীরা

    বাংলা সঙ্গীতজগতের অন্যতম ধ্রুবতারা আইয়ুব বাচ্চু লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার এই চলে যাওয়া যেন কেউই মেনে নিতে পারছেন না। বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের সকলের কাছেই যেন এটি আকস্মিক একটি ধাক্কা। ফলে এই মৃত্যু পুরো সংগীতাঙ্গনে নিয়ে এসেছে শোকের ছায়া।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতকে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম অগ্রপথিক আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীর পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালে ছুটে আসেন সংগীত, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের তারকারা। এই কিংবদন্তি শিল্পীকে শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালের সামনে ভিড় জমান তার শত-সহস্র ভক্তও।

    এসময় আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তার সংগীতাঙ্গনের সহকর্মীরা।

    গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু রয়েছেন জনপ্রিয়তার মধ্যগগনে। তাকে হারিয়ে ব্যান্ডের গানে হাহাকার সৃষ্টি হলো। সংস্কৃতি অঙ্গনে কালো ছায়া নেমে এলো। তরুণ প্রজন্ম তার থেকে শিক্ষা নেবে সেটাই আশা করছি।

    সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক। তিনি সবসময় স্টেজ শো শেষে সবাইকে নিয়ে জাতীয় সংগীত গাইতেন। এটা একজন শিল্পীর জন্য অনেক বড় গুণ।

    আইয়ুব বাচ্চু ক্ষণজন্মা ছিলেন উল্লেখ করে পপ তরকা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘গানের জগতের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। তার চলে যাওয়ার ক্ষতি আর কখনোই পূরণ হবে না।’

    ব্যান্ডদল ‘সোলস’র পার্থ বড়ুয়া বলেন, ‘কখনোই ভাবিনি বাচ্চু ভাই চলে যাবেন। তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন। আমাকে তৈরি করেছেন। গিটার শিখিয়েছেন। গান করতে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন। ওনার মতো গিটারিস্ট বাংলাদেশ আর আছে কি-না আমার জানা নেই। সংগীতাঙ্গন অনেক বড় এক সম্পদ হারালো।

    প্রমিথিউস ব্যান্ডের কর্ণধার খালিদ করিম বিপ্লব বলেন, ‘মেনে নিতে পারছি না বাচ্চু ভাই নেই, মানুষ চলে যাবে কিন্তু এভাবে অসময়ে কেন রাজা চলে গেলেন, রাজার মতো করে।

    ‘আর্ক’ ব্যান্ডদলের হাসান বলেন, ‘এ ক্ষতি পূরণ হবার মতো নয়। তিনি ছিলেন সংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র।

    চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেন, ‘যখন সংগীতের নতুন একটি ধারা তৈরি হচ্ছিলো ঠিক তখন বাচ্চু ভাই চলে গেলেন। সংগীতে বড় একটা শূন্যতা তৈরি হলো।

    সঙ্গীতশিল্পী তাহসান লিখেছেন,
    বিধাতা যখন তোমার হাতে
    কোটি হৃদয়ে আন্দোলন
    ফিরিয়ে নিলো সেই বিধাতা
    আজ বুক চিরে শুধু আস্ফালন
    বাচ্চু ভাই এর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

  • ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

    ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

    ক্ষুধা দূর করার ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ আরও এগিয়েছে। গত তিন বছর ধরেই ক্ষুধা দূরীকরণে বাংলাদেশ ধারাবাহিক উন্নতি করেছে। চলতি বছরের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ ১১৭টি দেশের মধ্যে ৮৬ তম। গতবারের চেয়ে বাংলাদেশ দুই ধাপ এগিয়েছে। তবে দেশে ক্ষুধা পরিস্থিতি এখনো গুরুতর, ৩৬ লাখ মানুষ মারাত্মক ক্ষুধাঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

    ২০১৮ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে এই চিত্র উঠে এসেছে। খাদ্যনিরাপত্তা–বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও জার্মানভিত্তিক সংস্থা হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড যৌথভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে ক্ষুধার সংজ্ঞা নির্ধারণে চারটি সূচককে আমলে নেওয়া হয়েছে। অপুষ্টি, খর্বাকৃতি শিশুর সংখ্যা, কৃশকায় বা শীর্ণকায় শিশু ও শিশুমৃত্যুর হার।

    চলতি মাসে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে ক্ষুধা সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা তিন দেশ হলো বেলারুশ, বসনিয়া হারজেগোভিনা ও চিলি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে মধ্য আফ্রিকা, চাদ রিপাবলিক ও ইয়েমেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষুধা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ২০১৬ সালে ভারতের অবস্থান ছিল ৯৭ তম। চলতি বছরে তা ১০৩ নম্বরে নেমে এসেছে। পাকিস্তানের অবস্থানেরও কোনো উন্নতি হয়নি। তিন বছর ধরে দেশটি ১০৬ নম্বর অবস্থানেই আছে। আর গত দুই বছরে বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি থেকে বেড়ে ১২ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে আজ ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনো’।

    বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রথম পাঁচ বছরে অগ্রগতির ধারা বেশি ছিল। কিন্তু পরের পাঁচ বছরে সেই গতি কিছুটা স্তিমিত হয়ে এসেছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পর বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে।

    যেমন মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এরা বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করেছে। এ ছাড়া ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বন্যার কারণে ব্যাপক ফসলহানি হয়। এতে চালের দামও বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের সমস্যাও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের কোনো খাদ্য সমস্যা নেই। কেউ ক্ষুধার্ত নেই। অপুষ্টিজনিত কিছু সমস্যা আছে, আমরা এখন তা দূর করতে প্রাথমিকভাবে দেশের ২০টি উপজেলায় পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল দেওয়া শুরু করেছি। ধীরে ধীরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেব। আশা করি, আমরা দেশ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অপুষ্টি দ্রুত দূর করে ফেলব।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বরিশাল ও কক্সবাজার অঞ্চলে ৩৪ লাখ মানুষ মারাত্মক ক্ষুধা নিয়ে বসবাস করে। তারা জলবায় পরিবর্তনের কারণেও হুমকিতে আছে। এই দুই এলাকার মানুষ নিয়মিতভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় কর্মসংস্থানের পরিমাণও কম।

    বর্তমানে ক্ষুধার্ত মানুষের হার আশানুরূপভাবে না কমার কারণ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী পরিচালক হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দারিদ্র্য কমছে। কিন্তু সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো অনেক বেশি বড় অবকাঠামোনির্ভর। এতে প্রবৃদ্ধি অনুযায়ী ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমছে না। উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর মধ্যে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্যবিমোচনের সুযোগ রাখতে হবে।

  • এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের কাজ

    এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের কাজ

    মেট্রো রেলপথ চলাচলের পিলারের ওপর এক এক করে বসানো হচ্ছে স্প্যান। ৩৭৭টি পিলারের ওপর এ রকম ৩৭৬টি স্প্যান বসে বিস্তৃত হবে ২০ কিলোমিটারের মেট্রোরেল। তবে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে পাঁচ সেট ট্রেন নিয়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের উড়ালপথ এবং স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা। ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে মেট্রোরেল। পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। রোববার উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে ছবিগুলো ক্যামেরাবন্দী করা।
  • বাংলাদেশে বউ বেচাকেনার হাট

    বাংলাদেশে বউ বেচাকেনার হাট

    বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ‘বউ বাজার’ নামে জমজমাট বাজার বসে। এই বাজারে বউ বেচাকেনা হয় না, বরং বউরা এই বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন। তবে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় এখনও এক জঘন্য বিয়ের প্রথা চালু আছে। যাকে অনায়াসেই বউ বেচাকেনার হাট বলে উল্লেখ করা যায়। কেননা এখানে অর্থশালীরা চাইলেই দরিদ্র মেয়েদের টাকা দিয়ে ক্রয় করতে পারেন। এই পুরনো প্রথার নাম ‘মানি ম্যারিজ’ বা টাকার বিনিময়ে বিয়ে।

    জানা গেছে, টাকার বিনিময়ে মাত্র পাঁচ বছরের নারীকেও একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের হাতে তুলে দেওয়ার নজির রয়েছে। যদিও ২৫ বছর আগে এ ধরনের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে নাইজেরিয়া সরকার। তারপরেও সেখানকার সমাজে এই প্রথায় বিয়ে হচ্ছে।

    নাইজেরিয়ার কমিউনিটি লিডার ওনামাতোপে সানডে ইনচেলে এ ধরনের ঘটনার শিকার মেয়েদের উদ্ধার কাজের সঙ্গে জড়িত আছেন। তিনি জানান, গত শতাব্দীর ৯০ এর দশকেই এ ধরনের বিবাহ প্রথা বাতিল করা হয়েছে। এখন প্রকাশ্যে এসে তো কোনো ব্যক্তি বলে না, আমি টাকার বিনিময়ে আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই।

    তিনি আরও বলেন, আর্থিক অনটনে থাকা পরিবারগুলোই অর্থের বিনিময়ে তাদের মেয়েদের স্বেচ্ছায় এ ধরনের বিয়ে দিয়ে থাকেন। কোনো বাবা অসুস্থ হলে কিংবা পুলিশি মামলায় জড়িয়ে পড়লে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

    এ ধরনের বিয়ে আসলে এক ধরনের দাসপ্রথা। আর এর মাধ্যমে চরমভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নাইজেরিয়ার মেয়েশিশু ও কিশোরীরা। এ ধরনের বিয়ের শিকার মেয়েদের বলা হয় ‘মানি ওয়াইফ’ বা টাকায় কেনা বউ।