Category: অন্যান্য

  • বদলে গেল ফেসবুক মেসেঞ্জার

    বদলে গেল ফেসবুক মেসেঞ্জার

    বদলে গেল ফেসবুক মেসেঞ্জার। নতুন লোগো নিয়ে এলো ফেসবুকের এই সহপ্রতিষ্ঠান। যা দেখতে অনেকটাই ইন্সটাগ্রামের মত।

    মেসেঞ্জার ও ইন্সটাগ্রাম একিভূত করার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে ফেসবুক। লোগোর এই নতুন ডিজাইনের সঙ্গেই নতুন চ্যাট থিম, সেলফি স্টিকার্স এবং ভ্যানিশ মোডও যোগ হচ্ছে মেসেঞ্জারে।

    আগের সেই নিল রঙের লোগো আর থাকছে না। সেই জায়গায় লোগোর নতুন রঙে যেমন থাকছে গ্র্যাডিয়েন্ট হিউ, তেমনই আবার তাতে থাকছে নীল এবং গোলাপির সংমিশ্রণ।

    একটি ব্লগপোস্টে মেসেঞ্জারের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্ট্যান চাডনোভস্কি বলছেন, কাছের মানুষের আরও কাছে যাওয়ার জন্য আমাদের নতুন লোগো। যা মেসেজিং জগতের ভবিষ্যতকে প্রতিফলিত করছে। এই নতুন রঙে যেমন ফুটে উঠছে আনন্দ, তেমনই আবার রয়েছে মানুষের সঙ্গে জুড়ে থাকার একটা আভাস।

    এই নতুন লোগোর পাশাপাশিই লাভ এবং টাই-ডাই এর মতো নতুন চ্যাট থিমও থাকছে মেসেঞ্জারে। এছাড়াও কাস্টম রিঅ্যাকশনস, সেলফি স্টিকার্স এবং ভ্যানিশ মোডও মেসেঞ্জারে যোগ করছে ফেসবুক।

    ইন্সটাগ্রামের সঙ্গে মার্জারের কারণেই এভাবে মেসেঞ্জারকে সাজানোর পরিকল্পনা করছে মার্ক জুকারবার্গ।

    ভ্যানিশ মোড এবং কাস্টম রিঅ্যাকশনস মিলিয়ে মার্জের ক্ষেত্রে মোট ১০টি নতুন মেসেজিং ফিচার্স পাচ্ছে ইন্সটাগ্রাম। এছাড়াও পাচ্ছে মেসেঞ্জারের মতোই কিছু ফিচার্স। যেমন – ওয়াচ টুগেদার, চ্যাট কালার্স, ফরোয়ার্ডিং, রিপ্লাইজ এবং অ্যানিমেটেড মেসেজ এফেক্টস।

    প্রাথমিক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যবহারকারী ইন্সটাগ্রামের এই ফিচারগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

  • ঝালকাঠিতে স্বর্ণকিশোরীর ওপর হামলা, স্কাউট সদস‌্য কারাগারে

    ঝালকাঠিতে স্বর্ণকিশোরীর ওপর হামলা, স্কাউট সদস‌্য কারাগারে

    ঝালকাঠির স্বর্ণকিশোরী নাছরিন আক্তার সারার ওপর হামলা ও ইভটিজিং মামলায় যুবায়ের আদনান নামে স্কাউটের এক সদস‌্য কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিচারক এএসএম তারেক শামস জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে যুবায়েরকে কারাগারে পাঠান।

    জুবায়েরের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এম আলম খান কামাল ও মানিক আচার্য্য। যুবায়ের বরগুনা সদর উপজেলার নিশানবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তাঁর বাবা ঝালকাঠি সদর উপজেলার ছিলারিস গ্রামে একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সে ঝালকাঠি শহরের একটি কলেজের স্কাউটস’র টিম লিডার।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গত ২ অক্টোবর স্বর্ণকিশোরী সারার বাসায় ঢুকে তার ওপর হামলা করে জুবায়ের আদনান। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ঝালকাঠি থানায় মামলা দায়ের করে নাছরিন আক্তার সারা।

    এদিকে গত ৯ অক্টোবর আসামি জুবায়েরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝালকাঠি থানার সামনে অনশন করে সারা। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি পেয়ে অনশন ভাঙেন সারা। একইদিন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। ডিবির একাধিক টিম জুবায়েরকে গ্রেপ্তারের জন্য বরিশাল, ঝালকাঠি ও রাজাপুরে অভিযান চালায়। ডিবি পুলিশের অভিযানে বারবার অবস্থান বদল করে দিশেহারা জুবায়ের আদালতে আত্মসমপর্ন করতে বাধ্য হয়।

  • সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার

    সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার

    ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করছে। এতে করে দেশের বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা, জনমনে উদ্বেগ, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, সরকার ধৈর্যের সাথে এসব অপপ্রচারকারী ও তাদের সহযোগীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশের স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনস্বার্থে এসব অপকর্ম সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

    এ অবস্থায় সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশ-বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সকল প্রকার অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • অটোপাস চান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও

    অটোপাস চান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও

    দেশে করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। ফলে বিপাকে পড়েন প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী। দীর্ঘ ছয় মাসেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা অটোপাসের দাবি জানিয়েছেন।

    তাদের মতে, ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় দীর্ঘ সেশন জটের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া যারা চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত, পরীক্ষা না হওয়ায় তারা চাকরিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা অংশ নিতে পারছেন না। এ অবস্থা কবে সবকিছু স্বাভাবিক হবে আর কবে ক্লাস-পরীক্ষা হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই অটোপাসই একমাত্র উপায়।

    এ বিষয়ে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের রসায়ন বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত রিফাত ইভা জানান, ফাইনাল ইয়ারে এসে সেশনজটে পড়তে হবে সেটা কল্পনাতেও ছিল না। গত ছয় মাস ধরে বাসায় বসে আছি। পরীক্ষা না হওয়ায় সার্টিফিকেট পাচ্ছি না। কোথাও চাকরির জন্য আবেদনও করতে পারছি না। তাই দ্রুত অটোপাস দিয়ে আমাদের এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দেয়া হোক।

    সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ইলিয়াস শান্ত জানান, কয়েক মাস আগে আমাদের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে সে পরীক্ষা নেয়া হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা দেয়ার মতো পরিস্থিতি বা প্রস্তুতি কোনোটাই নেই। কলেজের পক্ষ থেকে অনলাইন ক্লাস নেয়া হলেও সেটি পর্যাপ্ত না। এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেয়া হলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না। তাই অটোপাস দিয়ে এই অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ দেয়া হোক।

    জানা গেছে, গত মার্চ মাসেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ায় দুই থেকে পাঁচটি বিষয়ের পরীক্ষা আটকে যায়। তখন থেকেই শিক্ষার্থীরা অপেক্ষায় রয়েছেন কবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে। এর পর প্রায় ১০ মাস কেটে গেলেও তাদের অপেক্ষা শেষ হয়নি। এই অবস্থায় অনেকের মধ্যেই উৎকণ্ঠা আর হতাশা দানা বাঁধছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, চতুর্থ বর্ষ শেষ না হলে সনদ দেয়া হবে না। আর সনদ না মিললে চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণও করা হবে না।

    এদিকে অটোপাসের দাবিতে সম্প্রতি গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে অটোপাস দিতে বিভিন্ন কলেজের বিএ (সম্মান) ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার্থীরা এই দাবি জানান।

    জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পাস কোর্স, দ্বিতীয় বর্ষ ও তৃতীয় বর্ষ, মাস্টার্স ফাইনাল এপ্রিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কারণে এসব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়। ডিগ্রি পাস কোর্সে প্রতিটি বর্ষে ৩৪টি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

    সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাসের কোনও সুযোগ নেই। এটা প্রথম কিংবা দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা বললে তখন সেটা বিবেচনা করা যেত।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। আমরা শুধু করোনার প্রকোপ কমার অপেক্ষা করছি। পরিস্থিতি একটু উন্নতি হলে আমরা একদিনও কালক্ষেপণ করবো না। ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষার্থীদের অর্ধেক পরীক্ষা হয়ে গেছে। অবশিষ্ট পরীক্ষা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই নিয়ে নেয়া হবে।

  • ধর্ষন ও সমাজব্যাবস্থা

    ধর্ষন ও সমাজব্যাবস্থা

    তানজিম হোসাইন রাকিবঃ

    বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ধর্ষন। আইন সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে,দেশে চলতি বছর প্রথম ৯ মাসে ৯৭৫ জন নারী ও শিশু ধর্ষনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষনের পর ৪৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে।এ তথ্য খুবই উদ্বেগজনক।
    সিলেটে এম.সি কলেজে নববধুকে গনধর্ষন এর পরই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগের কায়দায় বর্বরোচিত নির্যাতন, এর রেশ কাটতে না কাটতেই ১৩ বছরের স্কুল ছাত্রীকে গনধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে খোদ রাজধানীতে। পল্লবির ১২ নম্বর সেকশনের বালুর মাঠ কুর্মিটোলা বস্তিতে তৃতীয় শ্রেনীর ওই শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতন করেও ক্ষান্ত হয়নি ধর্ষকরা। বরবরোচিতের কান্ডের পুরো দৃশ্য তারা ধারন করে মোবাইল ক্যামেরায়। ঐ দৃশ্য ইন্টারনেটে ভাইরাল করার কথা বলে ফের ধর্ষন করতে চায় স্থানীয় বখাটেরা। সব ঘটনা লিখতে গেলে পুরো পাতা শেষ হয়ে যাবে।

    বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন করা দেশে দিন দিন ধর্ষনের মত ন্যাক্কার জনক ঘটনা যে হারে বেড়ে চলছে তাতে এ দেশ বেশ কিছু দিনের মধ্যে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পরবে।সঠিক সময়ে রুখে না দাড়ালে এটি মরন ব্যাধির রুপ নিবে। তাই সকলের উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে এ মরনব্যাধি রুখে দাড়ানোর চেষ্টা করা। নয়ত কালকে আপনার বড় একটা ক্ষতি হবে না এ গ্যারান্টি কোনো ভদ্রলোক আপানাকে দিবে না।

    ধর্ষন কী?

    ধর্ষন এক রকম যৌন অত্যাচার। নারী পুরেষের কর্তৃক ধর্ষনের শিকার হতে পারে আবার পুরুষ নিজেও নারী কর্তৃক ধর্ষনের শিকার হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিচার পরিসংখ্যান ব্যুরোর (১৯৯৯) হিসাব অনুসারে সেদেশের ধর্ষিতার মধ্যে ৯১ শতাংশ মহিলা ও ৯ শতাংশ পুরুষ। এবং ৯৯ শতাংশের ক্ষেত্রেই অপরাধী পুরুষ।
    ধর্ষন কেন হয়?
    বিচারহীনতা সংস্কৃতির কারনে ধর্ষন বাড়ছে। তাই ধর্ষনের ব্যাপারে আইনের কঠোর প্রয়োগের ব্যাবস্থা করতে হবে। অপসংস্কৃতি আর ভিনদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন ধর্ষন রোধের অন্তরায় মনে করা হয়।

    ধর্ষন রোধের উপায় কি?

    সবার আগে দেশের আইনের পরিবর্তন আনতে হবে। ধর্ষনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যৌন নির্যাতন বন্ধের আগে মানুষিকতা বদলাতে হবে। ধর্ষন বন্ধ করতে হলে আগে পুরুষের মধ্যে মানবিক গুনাবলী জাগ্রত করতে হবে।ধর্ষন রোধে আমাদের সচেতন হতে হবে। অবাধ মেশামেশির সুযোগ, লোভ লালসা-নেশা উচ্চবিলাস পর্নো-সংস্কৃতির নামে অশ্লীল নাচ-গান, যৌন সুড়সুড়ি মুলক বই –ম্যাগাজিন, অশ্লীল নাটক সিনেমা ইত্যাদি কামোত্তেজনা মানুষকে প্রবলভাবে ব্যাবিচারে প্রচিত করে বর্জন করতে হবে। পর্নো সাইট গুলো বন্ধ করতে হবে যেন মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে তা কেউ দেখতে না পারে। নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে। সময়মত বিয়ের ব্যাবস্থা করতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহন করতে হবে।বাজে সঙ্গ ও নেশা বর্জন করতে হবে।
    পাশাপাশি নারীকেও শালীন হতে হবে। যৌন উত্তেজক পোশাক বর্জন করতে হবে।প্রবল কামোত্তেজনা মানুষকে পশুতুল্য করে ফেলে।

    দেশ ও জাতিকে বাচাতে হলে ধর্ষন বন্ধে যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। সবার একত্রিত চেষ্টাই পারবে ধর্ষন বন্ধ করতে এবং দেশ ও জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে।

    তানজিম হোসাইন রাকিব
    যুগ্ন বার্তা সম্পাদক, বাংলার মুখ ২৪.কম
    বার্তা সম্পাদক, দৈনিক বরিশাল সংবাদ।

  • করোনায় আমার ৫২২ কর্মী মৃত্যুবরণ করেছে : প্রধানমন্ত্রী

    করোনায় আমার ৫২২ কর্মী মৃত্যুবরণ করেছে : প্রধানমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘করোনা মহামারি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণের জন্য আত্মত্যাগ করলেও অন্য কোনো দল মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে শুধু সমালোচনা করছে।’

    শনিবার (৩ অক্টোবর) গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। সভায় দলের নেতাদেরও বিভিন্ন সাংগঠনিক নির্দেশনাও দেন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাংগঠনিক শক্তিটা হচ্ছে সবচেয়ে বড়। আওয়ামী লীগের এই তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি যে আছে, এই মহামারি মোকাবিলার সময় তারা যখন মাঠে নেমেছে, তখনই সেটা প্রমাণিত হয়েছে। আজকে যে কারণে আমার প্রায় ৫২২ জন নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করেছে। এই যে এত বড় স্যাকরিফাইস (ত্যাগ) আর কোনো দল তো বোধহয় করেনি। তারা লিপ সার্ভিস দিয়েছে।’

    সরকারের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে তো এখন ভালো ভালো মিডিয়া আছে। আমি তো প্রাইভেটে টেলিভিশন দিয়েছি, প্রাইভেটে রেডিও দিয়েছি, অনেক পত্রিকা। যে যার মতো আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে বলেই যাচ্ছে। তাদের কিন্তু মাঠে মানুষের পাশে দেখা যায়নি। তারা কেউ আবার বিচার করে আওয়ামী লীগের… কতটুকু করল আর কতটুকু করল না। কিন্তু তারা নিজের আয়না দিয়ে চেহারা দেখে না।’

    ‘এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে শুধু আওয়ামী লীগই আছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন। আওয়ামী লীগ জনগণের স্বার্থে কাজ করে। এই বাংলাদেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতির জন্যই জাতির পিতা স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। সেই স্বাধীনতার সুফলটা যেন প্রত্যেক মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়, আমরা যেন দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারি, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

    এ সঙ্কটকালে সাংগঠনিক কার্যক্রমও চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা।

    ‘আমি মনে করি খুব বেশি যাতায়াত না করলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমগুলো আমাদের একটু অব্যাহত রাখতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের হয়তো সম্মেলন হয়েছে, কিন্তু করোনার কারণে আর আমরা কমিটিও করতে পারিনি বা কারও খোঁজও নিতে পারিনি। আমার মনে হয় এখন ধীরে ধীরে আমরা এগুলো করতে পারব।’

    কেন্দ্রীয় নেতাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলার নির্দেশনা দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

    দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জনগণের সংগঠন হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে আছে। সেটা এবারও এই করোনা মহামারির সময়েও প্রমাণ হয়েছে। জনগণের আস্থা, বিশ্বাসটা হচ্ছে আমাদের একমাত্র সম্বল। সেটাই আমাদের শক্তি।’

    আওয়ামী লীগের কাজের বিপরীতে বিএনপি-জামায়াত জোটের ‘অগ্নিসন্ত্রাসের’ কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘তাদের ওই ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ আমরা দেখেছি। সেগুলো আমরা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। সবাইকে আমরা সহযোগিতা করেছি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত আমরা এখনও তাদের খোঁজ নিচ্ছি। যেখানে যতটুকু পারি, তাদের সাহায্য আমরা করে যাচ্ছি’।

  • বিমর্ষ মিন্নি, কারাগারের নির্জন কনডেম সেলে একাকী

    বিমর্ষ মিন্নি, কারাগারের নির্জন কনডেম সেলে একাকী

    বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলায় মিন্নিসহ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামিকে জেলা কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই কনডেম সেলে রিফাত হত্যার ৬ আসামি ছাড়া অন্য কোনো বন্দিই নেই বলে জানা গেছে। বরগুনা জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

    কারাগারের একটি সূত্র জানায়- এই মুহূর্তে বরগুনার কারাগারে নারী বন্দীদের মধ্যে একমাত্র মিন্নিই নির্জন কনডেম সেলে আছেন। মিন্নি ব্যতীত বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে অন্য কোনো নারী বন্দী নেই। এছাড়া রিফাত হত্যা মামলার অপর ৫জন পুরুষ আসামিকেও কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই পাঁচ পুরুষ বন্দী ব্যতীত বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে আর অন্য কোনো পুরুষ বন্দীও নেই।

    জেলার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মিন্নিকে রাখা হয়েছে নারী ওয়ার্ডের কনডেম সেলে। আর পুরুষ বন্দীরা আছেন পুরুষ ওয়ার্ডের কনডেম সেলে।’ তারা কনডেম সেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কারাবিধি অনুযায়ী ৬ বন্দীকেই কনডেম সেলে থালা, বাটি ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতি আসামিকে কারাগারের পক্ষ থেকে দুই সেট পোশাক দেওয়া হয়েছে। এ পোশাক তারা পরিধান করবেন।

    জেলার জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৪৯ জন নারী ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে কনডেম সেলের বাসিন্দা। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের থাকার এই সেলের সর্বশেষ বাসিন্দা হয়েছেন বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক একজনসহ বাকি চার আসামি খালাস পেয়েছেন।

    গতকাল বুধবার বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি ৬ আসামির সবাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আদালত। এ হত্যার ঘটনায় পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও তার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিচার চলে এ আদালতে।

    ১৫ মাস আগে বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে তিন যুবকের রামদা দিয়ে কোপানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা দেশ। তৎক্ষণাৎ দাবি ওঠে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামি হলেন- রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯) এবং রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)।

    এ ছাড়া হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পাওয়া চার আসামি হচ্ছেন- মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), সাগর (১৯) এবং কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

    এর মধ্যে মুসা এখনও পলাতক। গতকাল রাতে খালাস পাওয়া চার আসামির মধ্যে কারাগারে থাকা তিনজন মুক্তি পেয়েছেন। এ মামলার অন্যতম আসামি সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। রিফাতের স্ত্রী বরগুনার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী মিন্নিকে হামলার মুখে স্বামীকে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল ভিডিওতে। তিনি ছিলেন মামলার এজাহারের এক নম্বর সাক্ষী। কিন্তু তদন্তের পর হঠাৎ পুলিশ মামলার অভিযোগপত্রে মিন্নির নাম যুক্ত করে আসামির তালিকায়।

    রায়ে আদালত বলেছে, মিন্নিও যে তার স্বামীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন, প্রসিকিউশন তা প্রমাণ করতে পেরেছে। রায়ের পর্যবেক্ষণ আদালত বলেছে- ‘রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের নির্মম বর্বরতা ও নির্মমতা মধ্যযুগীয় কায়দাকেও হার মানিয়েছে। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে তাদের অনুসরণ করে অন্য যুবকরাও ধ্বংসের পথে যাবে। এসব আসামি সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।’

    রায় ঘোষণার সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন- পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ভুবন চন্দ্র হাওলাদার এবং মিন্নির পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। এছাড়া আসামিপক্ষের অন্য আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার ভোর থেকেই বরগুনার আদালত এলাকায় নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাড়ানো হয় পুলিশি টহল। বসানো হয় নিরাপত্তা চৌকি।

    সকাল ৮টা ৫২ মিনিটের দিকে বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসেন মামলার সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের সময় বরগুনা জেলা কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে মামলার আট আসামিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নিয়ে আসা হয়। রায় ঘোষণার পর মিন্নিকে কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। দন্ডিত বাকি আসামিদের কারাগারে নেওয়া হয় প্রিজনভ্যানে।

    গত বছর ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং ‘বন্ড বাহিনী’ কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রিফাত শরীফকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকালেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন রিফাত। পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫/৬জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৬ দিন পর ২ জুলাই ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এ মামলার আলোচিত প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড।

    তদন্ত শেষে গত বছর ১ সেপ্টেম্বর বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে বিভক্ত করে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় অভিযোগপত্রে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। পরে চলতি বছর ১ জানুয়ারি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার শুরু হয়। ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার ৭৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করে আদালত। ১৬ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শেষে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।’

  • জাতিসংঘের ৭৫ বছর পূর্তি কাল

    জাতিসংঘের ৭৫ বছর পূর্তি কাল

    করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে ভিন্ন এক আবহে প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তি করবে জাতিসংঘ। আগামীকাল সোমবার ‘বহুত্ববাদ বিকল্প নয়, জরুরি’ প্রতিপাদ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সংস্থাটির সদর দফতরে ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হবে। খবর এএফপির।
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো সমস্যা সমাধানে সব দেশকে এক টেবিলে বসাতেই জাতিসংঘের জন্ম। তবে করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ঐক্যের পরিবর্তে অনৈক্য তৈরি করেছে, যা করোনা মহামারি মোকাবিলায় কষ্টসাধ্য করে তুলেছে।

    প্রতিবছরই সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সংস্থাটির সদর দফতরে মিলিত হয়েছেন বিশ্ব নেতারা। তবে এবার জাতিসংঘের দফতরে চিরচেনা ব্যস্ততা দেখা যাবে না।

    এবার জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের পক্ষে মাত্র একজন করে প্রতিনিধি এবারের সম্মেলনে সশরীরে অংশ নেবেন। সে ক্ষেত্রে তাদের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হবে। মঙ্গলবার অধিবেশনের প্রথম দিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে।

    ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর মোট ৫১টি রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত হয় জাতিসংঘ। এর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবার নিরাপত্তা, আইন, সামাজিক অগ্রগতি এবং মানবাধিকারসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রদানের পরিবেশ সৃষ্টি করা। তবে বৈশ্বিক নানা যুদ্ধ-সংঘাতসহ নানা ইস্যু মোকাবিলায় সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কেরও কম সৃষ্টি করেনি জাতিসংঘ।

  • আইপিএল শুরু হচ্ছে আজ

    আইপিএল শুরু হচ্ছে আজ

    মরুর দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)| বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে এবারের আইপিএলের আয়োজন ভারতে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আইপিএল আরও একবার চলে গেল নিজ দেশের বাইরে। অবশ্য এর আগেও দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজন করা হয়েছিল।

    এপ্রিল-মে মাসে হওয়ার কথা থাকলেও আসরটি পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে চলে আসে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অনেক চেষ্টা করেছিল আসরটি দেশের মাটিতে আয়োজনের। কিন্তু ভারতের করোনা পরিস্থিতি দিনদিন ভয়াবহ হতে থাকায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

    ভারতের দর্শকদের জন্য এবারের আইপিএল ‘টিভি-কেন্দ্রিক’। শুধু তাই নয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেট দর্শকদের দুর্ভাগ্য যে নিজেদের মাঠে এমন একটি আসর হলেও গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার সুযোগ নেই তাদের। দর্শকশূন্য মাঠে হবে এবারের আইপিএল।

    আজ চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে এবারের আইপিএল। আবুধাবীর শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে আজকের ম্যাচটি। এবারের আইপিএলে গ্রুপ পর্বে মোট ৫৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দুবাইতে হবে ২৪টি, আবুধাবিতে ২০টি ও শারজায় হবে ১২টি ম্যাচ। বেশিরভাগ দিনেই একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এক দিনে দুইটি ম্যাচ আছে মাত্র ৮ দিন।

    বরাবরের মত এবারের আইপিএলেও অংশ নিচ্ছে বিশ্বের সেরা সব তারকা ক্রিকেটার। যদিও এবারের আইপিএলে নেই বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটার। সাকিব আল হাসান খেলতে পারছেন না আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কারণে। আর পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ডাক পেলেও তিনি খেলতে পারছেন না বাংলাদেশ দলের শ্রীলংকা সফর থাকায়।

    তারপরও বিশ্ব ক্রিকেটের দর্শকদের চোখ থাকবে সেই মরুর দেশ আরব আমিরাতের তিনটি স্টেডিয়ামের দিকে। কারণ বিশ্ব সেরা তারকাদের মিলন মেলা যে সেখানেই বসছে।

    এদিকে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মোট ২১ ক্রিকেটার এবারের আইপিএলে খেলছেন। এই ক্রিকেটাররা চাচ্ছেন, আমিরাতে পৌঁছানোর পর ৬ দিনের কোয়েরেন্টিনটা যেন কমিয়ে তিন তিন করা হয়। কেননা ইংল্যান্ডে সিরিজ শেষ করে আইপিএলে সুযোগ পাওয়া অস্ট্রেলীয় ও ইংলিশ ক্রিকেটাররা দুবাই পৌঁছেন ১৭ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকে ৬ দিন কোয়ারেন্টিন ধরলে তারা ২৩ সেপ্টেম্বরের আগে মাঠে নামতে পারবেন না। এ নিয়ে ক্রিকেটারদের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও পড়েছে ঝামেলায়। এত দামি ক্রিকেটাররা ৬ দিন বসে থাকবেন!

    এই সমস্যাটা মেটাতেই অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সব ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকেই এক ক্রিকেটার চিঠি লিখেছেন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীকে। চিঠিতে তিনি যুক্তি দিয়েছেন, যেহেতু ইংল্যান্ডে তারা সিরিজ খেলছিলেন, তাই জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যেই ছিলেন তারা। নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলেছে। কোভিড পরীক্ষাও করা হয়েছে নিয়মিত বিরতি দিয়েই। এসব বিবেচনা করেই ৬ দিনের কোয়ারেন্টিনকে ৩ দিনে নামিয়ে নিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

  • যে গান শোনার পর আত্মহত্যা করেন ১০০ বেশি মানুষ!

    যে গান শোনার পর আত্মহত্যা করেন ১০০ বেশি মানুষ!

    পৃথিবীতে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার তো অনেক রয়েছে। এসব সিরিয়াল কিলারদের লোমহর্ষক ঘটনা আমরা খবরে শুনেছি, পত্রিকায় বা বইতে পড়েছি। অনেক সময় এসব ঘটনা নিয়ে সিনেমাও তৈরি হয়েছে। এরকম সিরিয়াল কিলার যদি একটা গানকে বলা হয়, তাহলে বেশ আশ্চর্যই লাগবে। কিন্তু বাস্তবে এমন একটি গান সত্যিই আছে।

    গানটির নাম ‘গ্লুমি সানডে’। ‘হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং’ নামেই এটি বেশি পরিচিত।

    হাঙ্গেরিয়ান পিয়ানিস্ট এবং কম্পোজার রেজো সেরেস গানটির সংগীতায়োজন করেন। কবি লাজলো জাভোর লেখা এই গানটি ১৯৩৩ সালে শীট মিউজিকে (কাগতে লিখিত বা প্রিন্ট সংস্করণ) প্রকাশিত হয়। গানটির শিরোনাম ছিলো- ‘এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। ১৯৩২ সালে প্যারিসে বসবাসরত অবস্থায় সেরেস এই গানটি কম্পোজ করেছিলেন। মৌলিক গানটি মেলোডি হিসেবে পিয়ানো ব্যবহার করে গাওয়া হয়েছিলো।

    গানটিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বের অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে মানুষের প্রতি অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের জন্য প্রার্থনার বাণী প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৪৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত গানটির কোনো কপিরাইট সত্ত্ব ছিলো না। গানটি এতোটাই হতাশাব্যঞ্জক লিরিকের ছিলো যে, রেজো সেরেস গানটির জন্য প্রথমে কোনো প্রকাশক খুঁজে পাননি।

    একজন প্রকাশক তো বলেই দিয়েছিলেন, ‘এমন নয় যে এটিই পৃথিবীর একমাত্র দুঃখের গান। কিন্তু গানটির কথায় এমন কিছু রয়েছে যা ভয়ানকভাবে হতাশাব্যঞ্জক। আমি মনে করি না গানটি শোনার পর কারো ভালো কিছু হবে, ১৯৩৩ সালে কবি লাজলো জাভোর গানটির কথা পুনরায় লেখেন। সেসময় স্ত্রীর সাথে তার বিচ্ছেদ ঘটে। অনেকের মতেই লাজলো জাভোরই গানটির মূল লেখক। তিনি তার লেখায় কোনো রাজনৈতিক অনাচারের ভাষা ব্যবহার করেননি বরং তিনি ভালোবাসার মানুষের মৃত্যু ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে মিলিত হওয়ার কথা লিখেছেন।

    গানটির এই সংস্করণটিই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং হারানো প্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠে। লাজলো জাভোরের লিরিকে হাঙ্গেরীয় ভাষায় গানটি রেকর্ড করেন পাল কামার, ১৯৩৫ সালে। হাঙ্গেরিতে তার গাওয়া গানটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার সাথে সাথেই উল্লেখযোগ্যভাবে আত্মহত্যার হার বেড়ে যায়। জাভোরের সাবেক স্ত্রীও আত্মহত্যা করেন। অনেক লোক বিল্ডিং-এর ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তখন তাদের হাতে গানটির শীট মিউজিক সংস্করণ ধরা ছিলো। হাঙ্গেরীয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত গানটি প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

    হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং-টি সংবাদমাধ্যমে প্রচার পাওয়ার পরপরই বিভিন্ন ভাষায় এটি অনুবাদ করে রেকর্ড করা হয়। ১৯৩৫ সালে পিওতর লেসচেনেকো রুশ ভাষায় গানটি প্রকাশ করেন। ১৯৩৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দামিয়া ফরাসি ভাষায় গানটি রেকর্ড করেন। জাপানি ভাষায় নরিকো আওয়ায়া কর্তৃক সে বছরই গানটি প্রকাশিত হয়। ইংরেজি ভাষায় একটু আলাদা লিরিক নিয়ে বেশ কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণের কথা লেখেন স্যাম এম লুয়াইজ।

    এটি প্রথম ১৯৩৬ সালে ব্যান্ডলিডার হাল ক্যাম্প, ভোকাল বব এলেন রেকর্ড করেন। গানটির লিরিকই ছিলো আত্মহত্যার জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। ইংল্যান্ডের ডেসমন্ড কার্টার গানটির আরেকটি সংস্করণ তৈরি করেন। সেটাতে তিনি পুনরায় রেজো সেরেসের কথাকে তুলে আনেন। ১৯৩৬ সালেই গানটি পল রবসন রেকর্ড করেন।

    ‘স্যাডলি ওয়ান সানডে আই ওয়েটেড এন্ড ওয়েটেড…’ ‘সানডে ইজ গ্লুমি, মাই আওয়ার্স আর স্লামবারলেস…।’ ‘গ্লুমি ইজ সানডে, উইথ শ্যাডো আই স্পেন্ড ইট অল, মাই হার্ট এন্ড আই হ্যাভ ডিসাইডেড টু এন্ড ইট অল’ ইত্যাদি লিরিকের গানটি ঠিক কেন ‘সুইসাইড সং’ নামে কুখ্যাত হয়েছিলো তা এখন আর বলা যায় না নিশ্চিত করে।

    তবে একটি বিষয় হলো বর্তমান সময়ে আমরা যেটিকে বলি ‘হাইপ’- সেকালেও এর নেতিবাচক প্রভাব ছিলেন। ফলে গানটির সুরকার, গীতিকার নিজেদের মানসিক অবস্থা বা নানা কারণে আত্মহত্যা করলে এবং মাত্রাতিরিক্ত হতাশায় ভোগা কিছু মানুষ গানটি শুনে আত্মহত্যা করলে মানুষের মনে এই ধারণা জন্মে যায় যে গানটি আত্মহত্যাকে প্ররোচিত করে তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে গানটির মিউজিক কম্পোজিশন, লিরিক, উপস্থাপন সবকিছুই অন্যান্য দুঃখের গান থেকে আলাদা।

    ‘গ্লুমি সানডে’ প্রকাশিত হওয়ার পর আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক রেডিও নেটওয়ার্ক গানটির প্রচার বন্ধ করে দেয়। বলা হয় যুক্তরাষ্ট্র ও হাঙ্গেরিতে কমপক্ষে ১৯ জন এবং সাড়া পৃথিবীতে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ গানটি শোনার পর আত্মহত্যা করেন।

    ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত বিলি হলিডে’র গাওয়া সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণটি প্রকাশের পর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে গানটি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়। বিবিসি বিলি হলিডে’র গাওয়া গানটির সম্প্রচারও বন্ধ করে দেয়। বিবিসির পাশাপাশি আরো কয়েকটি রেডিও নেটওয়ার্কে গানটির প্রচার বন্ধ করে।

    গ্লুমি সানডে প্রকাশিত হওয়ার পর এর সাথে সম্পৃক্তদের মাঝে সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচে ছিলেন রেজো সেরেস। যদিও সাবেক স্ত্রী আত্মহত্যা করেন। আর ১৯৬৮ সালে, গানটি প্রকাশের প্রায় ৩৫ বছর পর রেজো সেরেস নিজেও বুদাপেস্টের একটি ভবনের জানালা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালে গলায় তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

    পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন শিল্পীরা গানটি গেয়েছেন। যেমন : মেল টর্মি (১৯৫৮), এলা পেলিনেন (১৯৫৯), সারা ভুগান (১৯৬১), লোরেজ আলেক্সান্দ্রিয়া (১৯৬১), কেটি লেস্টার (১৯৬২)সহ আরো অনেকে।