Blog

  • কাঁদলেন ‘রাজা’ রজার

    রাজা’ রজার। ফের একবার টেনিস দুনিয়া সাক্ষী থাকল ‘যুবক’ রজার ফেদেরারের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের‌। যুবক এই কারণেই যে, ৩৬ বছর বয়সে এসে পাঁচ সেটের দুরন্ত লড়াইয়ের পর এখনও গ্রান্ডস্লাম জেতার ক্ষমতা দেখাতে পেরেছেন সুইস তারকা।

    রবিবার বছরের প্রথম গ্রান্ডস্লাম, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে নেওয়া শুধু নয়, টেনিসগ্রহে প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ২০টি গ্রান্ডস্লাম জেতার রেকর্ডও গড়লেন এই তারকা খেলোয়াড়। তবে জেতার পর আর নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না। আর তখন গোটা স্টেডিয়াম যেন কুর্নিশ জানাচ্ছে ‘রাজা’কে।‌

    কোর্টে যতই লড়াই করুন, পুরস্কার নিতে গিয়ে অবশ্য চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারেননি সুইস তারকা। গোটা গ্যালারি যখন হাততালিতে ফেটে পড়ছে তখন চোখের পানি মুছতে মুছতেই ফেদেরার বলেন, এ যেন স্বপ্ন সত্যি হলো। আরও একটা গ্র্যান্ডস্লাম জয় যে কতটা স্পেশাল, সেটা বলে বোঝাতে পারব না। আর অস্ট্রেলিয়া ওপেন আমার কাছে সব সময় স্পেশাল। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  • ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছেন খালেদা

    ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছেন খালেদা

    আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা আহ্বান করেছেন দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

    বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান রবিবার  এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, গতকাল শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সভার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বর্ধিত সভায় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাড়াও চেয়ারপার্সসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি এতে উপস্থিত থাকবেন। তবে বৈঠকটি কোথায় হবে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

  • মাশরাফিকে জরিমানা

    মাশরাফিকে জরিমানা

    ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে লঙ্কান ওপেনার ধানুশকা গুনাতিলাকাকেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টের ২.১.৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মাশরাফিকে ম্যাচ ফি’র ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।এছাড়া একই সঙ্গে ধানুশকা ও মাশরাফির নামের পাশে ১টি ডি মেরিট পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

    ম্যাচ শেষে ম্যাচ রেফারি ডেভিড বোনের কাছে দুই ক্রিকেটারই নিজেদের দোষ শিকার করে নেওয়ায় আর কোনও শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

    উল্লেখ্য, ফাইনাল ম্যাচের লঙ্কান ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে কুসাল মেন্ডিসকে আউট করেন মাশরাফি। তাকে আউট করে উদযাপনটা বেশ কড়াভাবেই করেন মাশরাফি। আর বাংলাদেশ ইনিংসে তামিম আউট হওয়ার পর ধানুশকা তাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান। ফলে তাকেও শাস্তি দেওয়া হয়।

  • ১০ বছরের ছেলেকে নির্মম নির্যাতন বাবার, ভিডিও ধারণ করলেন মা!

    মিথ্যা কথা নানা কারণে বাচ্চারা বলেই থাকে! ধরা পড়ে গেলে তার জন্য বরাতে জুটে গালমন্দ! কিন্তু বেঙ্গালুরুতে এই ১০ বছরের বাচ্চা ছেলেটির সাথে যা হল, কোনো দিক থেকেই কোনো কিছুর সাথে তার তুলনা চলে না। মায়ের কাছে মিথ্যা কথা বলার অভিযোগে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হলো তাকে।

    ঘটনাটি ঘটেছে মাস দুয়েক আগে। অনেক দিন ধরেই নাকি ছেলেটির স্বভাব খারাপ হতে শুরু করেছিল। বিভিন্ন কারণে ছেলেটি অনবরত মিথ্যা বলতো মাকে। বার বার করে তাকে সচেতন করে দেওয়া সত্ত্বেও না কি তার চৈতন্য হয়নি!

    ফলে, ঘটনাটি যে দিনের, সে দিন আর ভাগ্য তার সহায় হলো না। মায়ের কাছে গড়গড়িয়ে বলে যাওয়া মিথ্যা কথা শুনে ফেলল দারুণ রাগী বাবা! ব্যস, তার পর আর যায় কোথায়! মাকে ঘটনাটির ভিডিও করতে বলে ছেলেকে উত্তম-মধ্যম দিতে শুরু করল বাবা! যাতে পরের বার আর মারতে না হয়, স্রেফ ভিডিওটা দেখালেই কাজ চলে!

    আর এই নির্মমভাবে মারধরের জায়গা থেকেই শুরু হয়েছে ভিডিও। দেখা যাচ্ছে, একটা মোবাইল ফোনের চার্জার দিয়ে ছেলেটির হাতের পাতায়, গায়ে উন্মত্তের মতো প্রহার করে চলেছে বাবা। চিবুক ধরে তাকে তুলে ধরছে শূন্যে, আছাড়ের পর আছাড় মেরেই চলেছে!

    এখানেই শেষ নয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক সময় শুরু হলো মাটিতে ফেলে লাথি মারার পর্ব। সাথে অনর্গল কানে আসবে বাচ্চাটির কান্না আর আর্তনাদ!

    বেঙ্গালুরু পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাচক্রে মাস দুয়েক আগে তোলা এই ভিডিওটি দেখে ফেলেন এলাকার এক দোকানদার। ছেলেকে নির্যাতনের এই ঘটনা শুধু ভিডিও করেই ক্ষান্ত থাকেননি দম্পতি, তা আপলোড করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়াতেও। তারপর তিনি ওই ভিডিওটি নিয়ে দ্বারস্থ হন এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এবং তাদের সহায়তায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই দম্পতির নামে।

    বেঙ্গালুরু পুলিশের পশ্চিম বিভাগের ডেপুটি কমিশনার এম এন অনুচৈত জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশ ছেলেটির বাবাকে গ্রেফতার করে। এছাড়া জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের ৮২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

  • খালেদা জিয়ার সাজা নিশ্চিত- পটুয়াখালীতে নৌমন্ত্রী

    খালেদা জিয়ার সাজা নিশ্চিত- পটুয়াখালীতে নৌমন্ত্রী

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় প্রসঙ্গে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বিএনপির অভিজ্ঞ আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে জেনে গেছেন খালেদা জিয়ার সাজা নিশ্চিত। কেয়ারটেকার সরকারের আমলে করা মামলায় আদালত রায় দেবে। এখানে সরকারের কিছু নেই।

    রোববার পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দরের সার্ভিস জেটি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ওয়ার হাউসের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    নৌমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলার মানুষ বুঝে গেছে দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হবে। এ কারণে বিএনপি বলছে সরকার মামলার রায় আগে থেকে নির্ধারণ করে রেখেছে। তবে বিএনপির এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। এর আগে বন্দর সংশ্লিষ্ঠদের সঙ্গে নিয়ে ২১ কোটি ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৬৯ টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি সার্ভিস জেটি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর এবং ২০ কোটি ৯৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৩২ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ বর্গফুট আয়তনের ওয়ার হাউসের শুভ উদ্বোধন করেন নৌমন্ত্রী।

    এছাড়াও প্রশাসনিক ভবন, শেখ হাসিনা ফোর লেন সড়কসহ পায়রা বন্দরের চলমান বিভিন্ন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন- সভাপতি শাজাহান সম্পাদক নুরুন্নবী

    ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন- সভাপতি শাজাহান সম্পাদক নুরুন্নবী

    ঐতিহ্যবাহী ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের ওবায়েদুর রহমান শাজাহান। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলে নুরুল আলম নুরুন্নবী।

    সভাপতিসহ ৫টি পদে বিএনপি প্যানেল থেকে ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৮টি পদে আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছে। সহ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্যানেলের মো. শাজাহান, তার সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছেন একই প্যানেলের মোহাম্মদ লিয়াকত। কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের মোহাম্মদ মসিউর রহমান মুরাদ, যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলে আলাউদ্দিন টিটু এবং বিএনপি সমর্থিত প্যানেলে মোহাম্মদ কাওছার। ধর্ম ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের মহিউদ্দিন। পাঠাগার সম্পাদক দুটি পদেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের মেজবাহুল আলম এবং মুশফিকুর রহমান বাবু নির্বাচিত হন।

    নির্বাহী সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলে আবুল কাশেম, কার্তিক চন্দ্র সাহা এবং বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের মাহাবুবুল ইসলাম। শনিবার ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ ভবনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন প্রথম যুগ্ম জেলা জজ হাবিবা মণ্ডল ও সহকারি রিটার্নিং অফিসার ছিলেন সহকারি জজ সাদিক আহমেদ। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. এনামুল করিম। ফলাফল ঘোষণাকালে সিনিয়র সহকারি জজ কামাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. শহিদুল্লাহ এবং সহকারি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষ্ণ পদ দে ও মো. ইউসুফ।

  • প্রধানমন্ত্রী বরিশালে আগমন উপলক্ষে যুবলীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

    প্রধানমন্ত্রী বরিশালে আগমন উপলক্ষে যুবলীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরিশাল সফর সফল করার লক্ষ্যে বরিশালে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা করেছে যুবলীগ।  রবিবার বিকেল ৪টায় নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তারা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রীর জনসভা স্থল বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্দ্যান জন সমুদ্রে পরিণত করার আহবান জানান। একই সাথে শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে যুবলীগের সকল নেতাকমীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এসময় অন্নান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগ এর সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ প্রমুখ। বরিশাল মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম সহ প্রতিনিধি সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব উদ্দিন বীরবিক্রম, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুচ এমপি, সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ প্রমূখ। এছাড়াও বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার যুবলীগের নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • ২ কোটিতে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে সাকিব

    সাকিব আল হাসানের জন্য কেকেআরের সমর্থন বেশি ছিল বাংলাদেশে। প্রথম থেকে কলকাতার হয়ে খেলা সাকিবকে ছেড়ে দিয়েছে শাহরুখ খান। তাই এই বাংলাদেশি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে লুফে নিয়েছে টম মুডির সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

    এবারের আইপিএলেরের নিলামে সাকিবকে কিনতে লড়াইয়ে নামে রাজস্থান র‍্যায়েলস ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে। শেষ পর্যন্ত ২ কোটিতে তাকে হায়দরাবাদ কিনতে সক্ষম হয়। তাই এবারের আসরে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে দেখা যাবে হায়দ্রাবাদের জার্সিতে।

  • উত্তম কোনও মেয়ের দিকে তাকালেই বেণু চোখ চেপে ধরত’

    উত্তম কোনও মেয়ের দিকে তাকালেই বেণু চোখ চেপে ধরত’

    সুপ্রিয়াদেবীর সাথে উত্তম কুমারের সম্পর্কের কথা সকলেরই জানা। তাকে ভীষণ ভালোবাসতেন সুপ্রিয়া দেবী, তাকে যত্নও করতেন ভীষণ। রান্না করে খাওয়াতেন তার পছন্দের খাবার। যার মধ্যে ভেটকি মাছে ‘কাঁটা চচ্চরি’র গল্প হয়ত বা অনেকেই জানেন।

    সুপ্রিয়া দেবী উত্তম কুমারের প্রতি ভীষণ পজেটিভও ছিলেন। মহানায়কও সুপ্রিয়াদেবীর কাছে খুঁজে পেয়েছিলেন আশ্রয়। কেমন ছিল ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় এই জুটির সম্পর্ক? তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েই অনেক কথা, অনেক স্মৃতি মেলে ধরেন অভিনেত্রী ললিতা চট্টোপাধ্যায়।

    সে সময়ে ছবির শুটিং সেটের একটি ঘটনাও শেয়ার করেন ললিতা চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, উত্তমের সঙ্গে আমার একটা ছবির শুটিংয়ের আউটডোরে গেছি। বেণুও গেছে (সুপ্রিয়া দেবী)। ওর সব সময় মনে হত উত্তম বোধহয় অন্যকোনও মেয়ের দিতে তাকাচ্ছে। উত্তম তাকাতও (হেসে ফেলে) কারণ সব মেয়েরাই তো উত্তমের জন্য পাগল ছিল। ও উত্তমের চোখটা হাত দিয়ে চেপে ধরত, বলত, না না অন্য কোনোও মেয়ের দিকে তাকাবে না। বলত, রুনুর (ললিতা চট্টোপাধ্যায়) দিকে তাকাবে না। যদিও ও জানত রুনুর থেকে কোনও সমস্যা নেই।

  • গভীর উৎকণ্ঠা বিএনপিতে

    গভীর উৎকণ্ঠা বিএনপিতে

    আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কী হবে— এ নিয়ে বিএনপির ভিতরে-বাইরে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। রায়ে দলের প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হবে, না বেকসুর খালাস পাবেন— তা নিয়ে সারা দেশের নেতা-কর্মীদের জিজ্ঞাসার শেষ নেই। উত্সুক দৃষ্টি সব মহলেরও। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে কিংবা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই দিন ধরেই এ নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে। রায়ে নেতিবাচক কিছু হলে হরতালসহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তবে মানসিকভাবে অনেক শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জেলকে তিনি ভয় পান না বলে ঘনিষ্ঠজনদের এরই মধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে থাকারও চিন্তাভাবনা চলছে। রায় নেতিবাচক হলে পরবর্তী কী করণীয় তা নিয়ে আজ দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বেগম জিয়া। ওই বৈঠকেই কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে। এ ক্ষেত্রে হরতাল, অবস্থানসহ দীর্ঘমেয়াদি কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে বলে দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

    বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছে বিশেষ আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে খালেদা জিয়ার তিন বছর থেকে যাবজ্জীবন ‘সাজা’ হতে পারে বলে আইনজ্ঞরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া বেকসুর খালাস পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। খালেদা জিয়া নিজেও আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তাকে ‘সরাতে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার নীলনকশা’ বাস্তবায়ন করছেন ক্ষমতাসীনরা। আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন কিনা— তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

    এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে সরানোর চক্রান্ত চলছে। কার্যত, সরকার জিয়া পরিবারকে রাজনীতির বাইরে রাখতে চায়। তাই মিথ্যা অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে। রায় কী হবে তা সরকার আগেই ঠিক করে রেখেছে। দেশে যে আইনের শাসন নেই, ন্যায়বিচার সুদূরপরাহত সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে। বিচার হবে— প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তাই। এখন পর্যন্ত তার (এরশাদ) এ বক্তব্য যে আদালত অবমাননার শামিল, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’ বৃহস্পতিবার রায়ের দিনক্ষণ নির্ধারণের পর রাতে গুলশানের বাসায় যান বিএনপিপন্থি সিনিয়র আইনজীবীরা। তারা বেগম জিয়াকে সান্ত্বনার বাণীও শোনান। উচ্চ আদালতে এ মামলার রায় টিকবে না বলেও বেগম জিয়াকে আশ্বস্ত করেন। এ ছাড়া কয়েকজন সিনিয়র নেতাও বেগম জিয়ার সঙ্গে বাসায় দেখা করে তাকে আশ্বস্তের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএনপি-প্রধান সবাইকে অভয় দিয়ে বলেছেন, রায় কী হবে তা নিয়ে তিনি বিচলিত নন। দেশপ্রেমিক প্রকৃত রাজনীতিবিদরা জেল-জুলুমকে কখনই ভয় পান না। তবে রায়ের নেতিবাচক দিক বিবেচনায় নিয়ে বেগম জিয়া মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

    নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, রায়ের দিনক্ষণ নির্ধারণের পর ঢাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা একাধিকবার বৈঠকে বসেন। অঙ্গসংগঠনের নেতারাও পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। দীর্ঘমেয়াদে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে তার প্রস্তুতি নিয়েও কথাবার্তা বলছেন শীর্ষ নেতারা। অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে নানা কৌশলও নিতে শুরু করেছেন। গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিনভর কোনো নেতা-কর্মী দেখা যায়নি। কারও কারও ব্যক্তিগত ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে এই পরিস্থিতিতে অনেক নিষ্ক্রিয় নেতা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও জানা গেছে। জানা যায়, ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের দিনক্ষণ ঘোষণায় হতবাক হয়েছেন বিএনপির আইনজীবীরা। তাদের ধারণা ছিল, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা হবে। তা হতেও বেশ সময় লাগবে। এর মধ্যে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু হঠাৎই এ রায়ের দিনক্ষণ নির্ধারণকে ‘বিশেষ মহলের’ ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন তারা। আইনজীবীরা আরও বলেছেন, ন্যায়বিচার হলে এ রায়ে কিছুই হবে না। তবে যে প্রক্রিয়ায় মামলাটি চলছে, তাতে নেতিবাচকই হওয়ার সম্ভাবনা। এ ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে জামিন পাওয়া সম্ভব।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার  বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। এ মামলার রায়ে বেগম জিয়ার কিছুই হবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এ মামলাটি স্বাভাবিক গতিতে চলছে কিনা? আমি এখনো আশাবাদী, ন্যায়বিচার পাবেন আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। কোনো কারণে সাজা দেওয়া হলে বুঝতে হবে, স্বাভাবিক আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। সে ক্ষেত্রে আমরা উচ্চ আদালতে জামিন চাইব। আশা করি, জামিন পাব। সে ক্ষেত্রে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কোনো সমস্যা হবে না।’ এদিকে রায়ের নেতিবাচক দিক ধরে নিয়েই সারা দেশে নেতা-কর্মীদের কাছে ‘বিশেষ বার্তা’ পাঠানো হয়েছে। দলের হাইকমান্ড থেকে এ বার্তা পাঠানো হয়। তা ছাড়া সিনিয়র নেতাদের জেলা সফরেও এ বিষয়ে নেতা-কর্মীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। রায়ে নেতিবাচক কিছু হলে তত্ক্ষণাৎ বিক্ষোভ মিছিল করার কথা বলা হয়েছে। এরপর কেন্দ্র থেকে ঘোষিত যে কোনো কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এ বার্তা জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম  জানান, ‘তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নিলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসে থাকতে পারে না। এ অন্যায়ের প্রতিবাদ অবশ্যই দেশবাসী করবে। কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচিই সর্বস্তরের মানুষ বাস্তবায়ন করবে।’ একই কথা বলেন বরিশাল বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান। তিনি জানান, ‘রায় নেতিবাচক কিছু হলে হাইকমান্ড যে কর্মসূচি দেবে তা আমরা বাস্তবায়ন করব। গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলে গেলে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী কিংবা কোনো সমর্থক ঘরে বসে থাকতে পারেন না। সরকার যত চেষ্টাই করুক না কেন, খালেদা জিয়া ছাড়া আগামীতে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।’