Blog

  • শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান

    শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান

    হুজাইফা রহমান :
    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের চলতি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমানকে। রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নিয়োগ আদেশ জারি করে।
    বিসিএস সপ্তম ব্যাচের কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান ১৯৮৫ সালে রাজেন্দ্র কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি সরকারি বিএম কলেজ ও শরীয়তপুরের একটি মহিলা কলেজ শিক্ষকতা করেন। পরে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে উপাধ্যক্ষ এবং একই কলেজে পাঁচ বছর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে যোগ দেন তিনি। ১৯৭৮ সালে বাগেরহাট পিসি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও ১৯৮২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।
    রবিবার মাহবুবুর রহমান এই নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তার এ দায়িত্ব কোনো পদোন্নতি নয়। এ চলতি দায়িত্বের কারণে তিনি পদোন্নতিও দাবি করতে পারবেন না।  সংশ্লিষ্ট পদে নিয়মিত পদোন্নতির মাধ্যমে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে এ চলতি দায়িত্বের আদেশটি বাতিল বলে গণ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।
    মহাপরিচালকের পদটি সচিব পদ মর্যাদার প্রথম গ্রেডের কিন্তু বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ১ম গ্রেডের কোনো কর্মকর্তা নেই। এ কারণে নিচের গ্রেডের শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মহাপরিচালকের চলতি দায়িত্বে দেয়া হয়।
  • ওপেনিং কম্বিনেশনে পরিবর্তনের আভাস

    ওপেনিং কম্বিনেশনে পরিবর্তনের আভাস

    শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আসন্ন ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচের জন্য আজই দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত দল থেকে বাদ পড়েছেন নিয়মিত ওপেনার সৌম্য সরকার। পুনরায় দলে ডাক পেয়েছেন আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ঘোষিত দল থেকেই ওপেনিং কম্বিনেশনে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
    ২০১২ সালের শেষ দিকে ক্যারিয়ারে মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই সেঞ্চুরি করেছিলেন এনামুল হক বিজয়। সেটি ছিল তার অভিষেক আন্তর্জাতিক সিরিজ। তারপর তিন সংস্করণের ক্রিকেটই খেলেছেন। চার টেস্ট খেলেন দলে জায়গা হারানোর আগে। তারপর একে একে ছিটকে পড়েন ওয়ানডে আর টি-টুয়েন্টি থেকে। নিজের জন্য খেলেন, দলের জন্য না। দলের প্রয়োজনের তাগিদ তার মাথায় থাকে না। নিজেরটা বোঝেন বেশি। এমন অনেক দোষ দেওয়া হয় তাকে। তাতে ২০১৫ সালের মার্চের পর আর ওয়ানডে খেলা হয়নি বিজয়ের। একই বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের সাথে দেশের মাটিতে টি-টুয়েন্টি ছিল তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সেই বিজয় আবার ফিরলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে। ৩০ ওয়ানডের ২৭ ইনিংসে ব্যাট করেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বিজয়। ৩৫.১৮ গড়ে ৯৫০ রান করে থমকে ছিলেন। তিনটি সেঞ্চুরি তার নামের পাশে। তারপরও বিজয়ের জাতীয় দলে ফিরতে না পারাটা তার ও তার ফ্যানদের জন্য আক্ষেপের হয়ে ছিল। বিদায়ী কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের পছন্দের তালিকায় ছিলেন না বিজয়।
    বিজয়ের সম্পর্কে বলা হয়, দলের প্রয়োজনের সময় সেই প্রয়োজনের পেছনে না ছুটে নিজের কথা ভাবাই হয়েছিল। ২৫ বছরের শেষ জাতীয় ক্রিকেট লীগের কথাই ধরুন। ছয় ম্যাচে ৭৭.৩৭ গড়ে ৬১৯ রান। ফার্স্ট ক্লাসে স্ট্রাইক রেট ৬০.৩৩। বাউন্ডারি ৬৯টি। ছক্কা আটটি। সর্বোচ্চ ইনিংসটি ২১৬ রানের। ওটি গত সেপ্টেম্বরে। এরপর জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডে আবার খেললেন ২০২ রানের এক ইনিংস। এক মৌসুমে দুই ডাবল সেঞ্চুরি। জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হতে যথেষ্ট, এরপর বিপিএল। সেখানে খুব ভালো পারফর্ম করতে না পারলেও দুইটি ফিফটি ঠিকই আছে। তবু হাথুরুসিংহে থাকলে কি হতো বলা যায় না। লঙ্কান কোচের পছন্দ-অপছন্দের তীব্রতা ছিল খুব বেশি। একবার কাউকে অপছন্দ করে ফেললে তাকে আর বিবেচনায় আনতে চাইতেন না।
    সেই কারণে তাকে নিয়ে শঙ্কার মেঘ এবারো ছিল। তবে লাল-সবুজের দলের শনিবারের ম্যাচের আগেই জানা গিয়েছিল সৌম্য সরকারের সুযোগ কমছে। তামিম ইকবালের সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজে ইনিংস ওপেন করার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিজয়। শেষ পর্যন্ত সেটাই হতে পারে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের নির্বাচকরা। সেই দলে সৌম্যর না থাকা এবং বিজয়ের ফেরাতে একটি বিষয় নিশ্চিত। অন্তত প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ইনিংস ওপেন করবে বাঁহাতি-ডানহাতি কম্বিনেশন। বাঁহাতি তামিমের সাথে ডানহাতি বিজয়। এই সুযোগটা কতো মূল্যবান, বিজয়ের তা জানা। সেটি কাজে লাগাতে পারবেন তো ২৫ বছর বয়সী কুষ্টিয়ার ক্রিকেটার? এরফলে ওপেনিং সমস্যা দূর হবে, লাভ হবে দেশেরও। দেশের কথাটা নিশ্চয়ই এবার তার ভাবা উচিত। বাসস।
  • বাংলাদেশের ‘সবুজ প্রবৃদ্ধি’ ও ‘ন্যায্য বাণিজ্যে’র কৌশল

    বাংলাদেশের ‘সবুজ প্রবৃদ্ধি’ ও ‘ন্যায্য বাণিজ্যে’র কৌশল

    নিঃসন্দেহে গতানুগতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য নিরসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রয়েছে অসামান্য অর্জন। কিন্তু বিশ্বজুড়েই গতানুগতিক এই অগ্রগতির বিপরীতে বইছে নয়া ধাঁচের এক অর্থনীতি গড়ার আন্দোলন। সেই অর্থনীতি সবুজ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। এই নয়া অর্থনীতির মূলে রয়েছে আমাদের প্রিয় প্রকৃতি তথা পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা, সমাজ ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার এবং সব মিলিয়ে প্রান্তজনের ভালোভাবে খেয়ে-পরে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান। বছর দুই আগে জাতিসংঘে সারা বিশ্বের নেতারা টেকসই উন্নয়নের জন্যে ১৭টি লক্ষ্য পূরণের অঙ্গীকার করেন। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো পূরণের মেয়াদ শেষের পরবর্তী ১৫ বছরের মধ্যে এই ১৭টি লক্ষ্য পূরণে এক বিশ্ব সমঝোতায় নেতৃবৃন্দ পৌঁছুতে সক্ষম হয়েছিলেন। ঐ লক্ষ্যমালায় অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশ সম্পর্কিত বিষয়গুলোর গভীর আন্তঃসম্পর্কের কথা মনে রেখে ন্যূনতম কিছু টার্গেট পূরণের অঙ্গীকার করেছিলেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। বৈশ্বিক এই উন্নয়ন পরিপ্রেক্ষিত মনে রেখেই তার কয়েকদিন বাদেই বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্যারিসে জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর সকল দেশের সরকারপ্রধানই পরিবেশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে জলবায়ু চুক্তিতে ঐক্যমতে পৌঁছুতে পেরেছিলেন। মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এক নজিরবিহীন সহমর্মিতা প্রদর্শন করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বাংলাদেশ জাতিসংঘের নেওয়া উভয় উদ্যোগের প্রথম সারির সক্রিয় সদস্য দেশ হিসেবে তার অবদান রাখতে পেরেছিল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ দুটো বিশ্বচুক্তির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ঝুঁকিপূর্ণ প্রথম ১০টি দেশের প্রথমদিককার একটি দেশ বাংলাদেশ। তাই খুব স্বাভাবিক কারণেই পরিবেশের পক্ষে নেওয়া জাতিসংঘের উভয় উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা যে বাংলাদেশই হবে সে প্রশ্নে দ্বিমতের অবকাশ নেই।
    তবে গত দু’বছরে পৃথিবী অনেকটাই বদলে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়া ছিল এক ঐতিহাসিক বিশ্ব বিপর্যয়। তিনি নির্বাচিত হয়েই জাতিসংঘের ওপর চড়াও হলেন। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যে সমর্থন ছিল তা প্রত্যাহার করে নিলেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের ওপর নানা চাপ সৃষ্টি করছেন। চাঁদা কমিয়ে দেবার হুমকি দিচ্ছেন। তবে ফ্রান্সে ম্যাকরন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও জলবায়ু চুক্তির পক্ষেই রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট ও নাগরিক সমাজ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ সম্বন্ধে সম্যক অবহিত বলে প্যারিস চুক্তির পক্ষেই রয়েছে। তারা নিজেরাও সাধ্যমতো জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশগ্রহণ করছেন।
    এমন টালমাটাল অস্থির পৃথিবীতে আগামী প্রজন্মের জন্যে বাসযোগ্য এক টেকসই পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি সামনের দিকে। তা সত্ত্বেও একথা বললে বোধ হয় ভুল হবে না যে বাংলাদেশ এখনও সুস্পষ্টভাবে পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশলটি পুরোপুরিভাবে গ্রহণ করে উঠতে পারেনি। সুনির্দিষ্ট সবুজ প্রবৃদ্ধির কৌশল এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট নিয়মনীতি, প্রতিষ্ঠান ও আন্তঃখাত সমন্বয় কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত না করার কারণে পরিবেশ দূষণ বেড়েই চলেছে। আর এই দূষণের বাড়তি মূল্য অর্থনীতি ও সমাজকে গুনতে হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি চাপের কারণে আমাদের অর্থনীতির ভঙ্গুরতা বাড়ছেই। আর্থিক বিচারে আমরা এক যুগ পরেই নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ থেকে উচ্চ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবার স্বপ্ন দেখছি। তার এক দশক পরেই (২০৪১) বাংলাদেশের উন্নত দেশ হবার কথা। এ স্বপ্ন পূরণে আমাদের প্রকৃত প্রবৃদ্ধির হার আট শতাংশের ওপরে নিয়ে যেতে হবে। বাড়ন্ত এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে যে পরিমাণ জ্বালানি ও অবকাঠামো লাগবে তা নিশ্চিত করতে গিয়ে আমরা যেন প্রকৃতি ও পরিবেশের বড় ক্ষতি না করে ফেলি সেদিকে কড়া নজর রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তাছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি চাপ মোকাবিলার জন্যে বিপন্ন মানুষের বাঁচার নয়া কৌশল ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যে নয়া ধাঁচের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। নয়া ধাঁচের নিয়মনীতি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে না তোলা গেলে পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির ধারা অক্ষুণ্ন রাখা বেশ মুশকিলই হবে বলে আশঙ্কা হয়।
    বাংলাদেশসহ হাল আমলে যেসব দেশ আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে সেগুলোর মধ্যে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার নাম করতে হয়। এসব দেশ মূলত উদার বাণিজ্যের পূর্ণ সুযোগ নিয়ে সস্তা মূল্যে রপ্তানিনির্ভর শিল্পায়নে ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছে। এসব দেশে তাই অগোছালো নগরায়নও ঘটেছে। বড় বড় শহর ও বন্দরের আশ-পাশে রপ্তানিমুখী শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। গ্রাম থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়েসী শ্রমিক (মূলত নারী) এসব শিল্পে কাজ খুঁজে পেয়েছেন। এতো দ্রুত সুষ্ঠুভাবে নগরায়ন সম্ভব হয়নি বলে এই প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা, বাসস্থান, যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে বাড়তি মানুষের চাপে এসব দেশের পরিবেশ প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নগর ও আধা-নগরে বাস করাই এখন মুশকিল হয়ে গেছে। আর সে কারণেই এই রপ্তানি পণ্যের বিদেশি ভোক্তারা জোর দাবি তুলছেন পরিবেশসম্মত ন্যায্য বাণিজ্যের পক্ষে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে রানা প্লাজা বিপর্যয়ের পর সারা বিশ্বেই পরিবেশসম্মত কারখানা ও শ্রমিকদের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে বিশাল জনমত গড়ে ওঠে। এই চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ সরকার, রপ্তানিকারক উদ্যোক্তা, গার্মেন্টস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জোট ও শ্রমিকদের ইউনিয়নসমূহ একসঙ্গে কাজ করার এক নয়া সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। এই অভিযাত্রায় বাংলাদেশ ব্যাংক সবুজ অর্থায়নের নানা উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে বিশ্বে এক নয়া নজির স্থাপন করেছে। এ জন্যে পুনঃঅর্থায়ন ছাড়াও নিজস্ব রিজার্ভ থেকে দু’শ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘সবুজ রূপান্তর তহবিল’ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। গার্মেন্টস ও চামড়া শিল্পের কারখানাগুলোকে পরিবেশসম্মত করার লক্ষ্যেই এই রূপান্তর তহবিল সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়াও জাইকার সমর্থন নিয়ে ক্ষুদে ও মাঝারি আকারের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও জ্বালানি খরচ কমানোর জন্যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রত্যেকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্যেও বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রুডেন্সিয়াল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন ইস্যু করেছে। প্রত্যেক ব্যাংককে সবুজ জ্বালানি ও পানির উপযুক্ত ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে সোলার বিদ্যুতের বড় প্যানেল তার ছাদে স্থাপন করেছে এবং বিচক্ষণতার সাথে পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ইড্কলের অর্থায়নে প্রায় ৪৫ লক্ষ পরিবার এখন সোলার প্যানেল থেকে জামালপুরের সরিষাবাড়িতে জ্বালানি সংগ্রহ করে। বড় আকারের সোলার প্যানেল থেকে গ্রিড বিদ্যুত্ সরবরাহের উদ্যোগও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুপ্রেরণায় ব্যক্তিখাতের একটি প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করেছে। বিশ্বমানের সবুজ গার্মেন্টস কারখানা স্থাপনেও বাংলাদেশ ব্যাংক তার পুনঃঅর্থায়নের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ অর্থায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারও তার বাজেট থেকে পরিবেশ সহায়ক তহবিল তৈরি করেছে। বিদেশি সংস্থা থেকেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এই তহবিল সংগ্রহের গতি খুবই শ্লথ। সম্প্রতি ইড্কল ও পিকেএসএফ জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এত সব কিছু সত্ত্বেও এ কথা বলা যায়, সবুজ প্রবৃদ্ধির জন্য আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগগুলো এখনো খাপছাড়াই রয়ে গেছে। এদিক থেকে ভারত ও চীন বেশ দ্রুত সবুজ প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটছে। তাদের কর্মসূচিগুলো মূল ধারার নীতিমালার সঙ্গে সমন্বিত। বিশেষ করে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উত্পাদনে উভয় দেশই নিত্যনতুন উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও নানা ধরনের উদ্ভাবন করে চলেছে। ব্যক্তিখাত, এনজিও, নারী উদ্যোক্তা— সকলেই পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে নিজেদের মতো করে উদ্ভাবনীমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছে। এখন দরকার একটি সমন্বিত কৌশল এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। আর সে কারণেই দরকার ভিশনারি কিছু নীতি ভাবনা ও কর্মকৌশলের। আমাদের প্রবৃদ্ধি যেহেতু মূলত রপ্তানিনির্ভর তাই বাংলাদেশকে সাজাতে হবে সবুজ পণ্য তৈরির দেশ হিসেবে। বস্ত্র ও চামড়াখাতের কারখানাগুলোকে সবুজ কারখানায় রূপান্তরের উদ্যোগের পাশাপাশি এনজিও ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে যে সব অভিনব সবুজ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে সেগুলোর প্রসার ও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সমর্থনের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। গতানুগতিক শিল্পায়নের মাধ্যমে বর্তমানের বিশ্বভোক্তাকে আকর্ষণ করা কঠিনই হবে। যদি সারা বিশ্বে একথাটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে পারি যে, আমরা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে, সমাজে কোনো বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে, প্রাকৃতিক সম্পদকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে বরং পরিবেশসম্মতভাবেই আমাদের রপ্তানি পণ্যগুলো তৈরি করছি এবং বাণিজ্য করছি তাহলে ‘সবুজ বাংলাদেশ’ নামে এক নয়া ব্র্যান্ড তৈরি করা সম্ভব হবে। প্রচলিত বড় বড় কারখানা রূপান্তরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি এনজিও কিংবা ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের সবুজ পণ্য উত্পাদনে যদি আমরা উত্সাহিত করতে পারি তাহলে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হবে। সবুজ অর্থনীতির দেশ হিসেবে নতুন প্রজন্মের বিশ্ব ভোক্তারা বাংলাদেশের পণ্য ভোগ করতে উত্সাহী হয়ে উঠবে।
  • দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইচ্ছুক উত্তর কোরিয়া

    দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইচ্ছুক উত্তর কোরিয়া

    দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এ সপ্তাহের আন্তঃকোরীয় আলোচনায় পারিবারিক পুনর্মিলন কার্যক্রম আবারো শুরু করার ব্যাপারে আলোচনার প্রচেষ্টা চালাবে সিউল। সোমবার সিউলের শীর্ষ কূটনীতিক একথা জানান। খবর এএফপি’র।
    পুনর্মিলন বিষয়ের ওপর উত্তর কোরিয়া বেশি গুরুত্ব দেয়ার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলো। কোরীয় যুদ্ধের কারণে এসব পরিবার পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
    দুই বছরেরও বেশি সময় পর গত সপ্তাহে এই প্রথমবারের মতো দুই কোরিয়া সংলাপে বসতে সম্মত হয়। আর সে ঘোষণা অনুযায়ী  তারা মঙ্গলবার পানমুনজম গ্রামে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। এই গ্রামেই উভয়পক্ষের মধ্যে অস্ত্রবিরতি পালন করা হয়।
    এ আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে উত্তর কোরিয়ার অংশ গ্রহণের বিষয়টির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। তবে উভয় পক্ষ তাদের নিজেদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় তুলে ধরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    কোরীয় যুদ্ধ (১৯৫০-৫৩) অবসানের কারণে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই অস্ত্রবিরতি চললেও টেকনিক্যালি দুই কোরিয়া যুদ্ধের মধ্যেই রয়েছে। বাসস
  • ভারতে অগ্নিকাণ্ডে পানশালার ৫ কর্মী নিহত

    ভারতে অগ্নিকাণ্ডে পানশালার ৫ কর্মী নিহত

    ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী বেঙ্গালুরুর একটি পানশালা ও রেস্তোরাঁয় সোমবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির পুলিশ এ কথা জানায়।
    কর্মকর্তারা বলছেন, যারা প্রাণ হারিয়েছে তারা পানশালার কর্মী। অগ্নিকাণ্ডের সময় তারা সেখানে ঘুমিয়ে ছিলো। খবর বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার।
    এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আজ (স্থানীয় সময়) ভোররাত আড়াইটার দিকে কৈলাশ বার ও রেস্তোরাঁয় আগুন ধরে যায়।’ খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
    বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক ঘন্টা চেষ্টার পর দমকল কর্মীরা আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
  • ইজতেমা উপলক্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিকল্প রাস্তা

    ইজতেমা উপলক্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিকল্প রাস্তা

    গাজীপুরের টঙ্গীতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিকল্প রাস্তা ও পার্কিং নির্ধারণ করা হয়েছে।
    বিশ্ব ইজতেমা ২০১৮ আগামী ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি ও ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে।ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণের জন্য ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মুসুল্লি পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে যাতায়াত করবে বিধায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত, কালীগঞ্জ-টঙ্গী মহাসড়কের মাজুখান ব্রিজ থেকে স্টেশনরোড ওভার ব্রিজ পর্যন্ত এবং কামারপাড়া ব্রিজ থেকে মুন্নু টেক্সটাইল মিলগেট পর্যন্ত সড়কপথ বন্ধ করার প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে ১৩ জানুয়ারি ও ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১০টা থেকে নিম্নবর্নিত প্রবেশপথসমূহে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
    নিলতলী রেলক্রসিং, টঙ্গী, গাজীপুর; কামারপাড়া ব্রিজ, টঙ্গী, গাজীপুর; ভোগড়া বাইপাস, জয়দেবপুর, গাজীপুর; এছাড়া পন্টুন সেতু নির্মাণ ও মুসুল্লিদের চলাচলের সুবিধার্থে কামারপাড়া সেতু থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত তুরাগ নদীতে সকল প্রকার নৌযান চলাচল ও নোঙর করা ৯ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নৌযানসমূহ টঙ্গী সেতুর পূর্ব পার্শ্বে এবং কামারপাড়া সেতুর উত্তর পার্শ্বে নোঙর করতে পারবে।
    ইজতেমা চলাকালীন জয়দেবপুর চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে আগত মুসুল্লিদের বহনকারী যানবাহন পার্কিং এর জন্য টঙ্গীস্থ কাদেরীয়া টেক্সটাইল মিল কম্পাউন্ড, মেঘনা টেক্সটাইল মিলের পার্শ্বের রাস্তার উভয় পাশে, শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠ প্রাঙ্গণ, শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠের উত্তর পার্শ্বে টিআইসি মাঠ, জয়দেবপুর থানাধীন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ, চান্দনা চৌরাস্তা হাইস্কুল মাঠ, জয়দেবপুর চৌরাস্তা ট্রাকস্ট্যান্ড এবং নরসিংদী কালীগঞ্জ হয়ে আগত মুসুল্লিগণের বহনকারী যানবাহন টঙ্গীস্থ কে-টু (নেভী) সিগারেট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন খোলা জায়গায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
    ইজতেমায় আগত মুসুল্লিগণের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য ১১ জানুয়ারি বিকেল ৬ টা থেকে উল্লিখিত মহাসড়ক, সড়কগুলো পরিহার করে বৃহত্তর জেলাসমূহ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন জয়দেবপুর থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে টঙ্গী হয়ে ডিএমপি এলাকায় প্রবেশের পরিবর্তে জয়দেবপুর চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী, চন্দ্রা ত্রিমোড়, বাইপাইল, নবীনগর, আমিনবাজার হয়ে চলাচল করার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
    এছাড়া আগামী ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি এবং ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত বাস্তুহারা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়ক, স্টেশনরোড ওভারব্রিজ থেকে টঙ্গী রেলগেট ও মুন্নু টেক্সটাইল মিল থেকে কামারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে যানজট এড়ানোর জন্য মটরযান ব্যতীত রিকশা, ভ্যান ইত্যাদি চলাচল বন্ধ থাকবে।
    ভিভিআইপি, ভিআইপিসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইজতেমা সমাপ্ত হবে। বাসস
  • গরমে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া, ৭৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সিডনিতে

    গরমে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া, ৭৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সিডনিতে

    গরমে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির জনপ্রিয় পর্যটন ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র সিডনিতে তাপমাত্রা দীর্ঘ ৭৯ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। গতকাল রবিবার সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৪৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ১৯৩৯ সালের পর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। নিউ সাউথ ওয়েলস এর আবহাওয়া বিভাগ সিডনির পেনরিথের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
    রবিবারের আগে ২০১৩ সালে সর্বশেষ সিডনির তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছিল বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিরুত্সাহিত করা হয়েছে। এ সময় বেশি বেশি তরল খাবার নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খবর:বিবিসি।
    গত শনিবার স্থানীয় সময় ১০টায় সিডনি আন্তর্জাতিক টেনিস টুর্নামেন্ট চলাকালে অসহনীয় তাপমাত্রার কারণে খেলোয়াড়রা কোর্টের বাইরে চলে যান। তাপমাত্রার কারণে সিডনি ও এর আশপাশের এলাকায় জরুরি অগ্নি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভূমি ও সমুদ্রের তাপমাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির দুই বৃহত্তম শহর সিডনি ও মেলবোর্নকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মোকাবিলা করতে হতে পারে।
  • রাণীনগরে তীব্র শীতে বৃদ্ধ শ্রমিকের মৃত্যু!

    রাণীনগরে তীব্র শীতে বৃদ্ধ শ্রমিকের মৃত্যু!

    সিফাত
    গত কয়েক দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহ ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গে জেঁকে বসেছে প্রচণ্ড শীত। এতে রবিবার আব্দুল জলিল (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃদ্ধ আব্দুল জলিল রাণীনগর উপজেলার সিম্বা গ্রামের বাসিন্দা।
    এলাকাবাসী জানায়, দুপুরে রাণীনগর উপজেলার সিম্বা এলাকায় একটি গভীর নলকূপের ড্রেনম্যান আব্দুল জলিল পানি সেচ করার সময় প্রচণ্ড শীতে জমিতে পরে যায়। লোকজন দেখতে পেয়ে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    গভীর নলকূপ মালিক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আল ফারুক জেমস জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে তিনি জমিতে পরে গিয়ে মারা যান।
    চলতি শীত মৌসুমের পৌষ মাসের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত হলেও তেমন কোনো শীতের প্রকোপ দেখা যায়নি। তবে গত ৪/৫ দিন আগে থেকে একেবারে জেঁকে বসেছে প্রচন্ড শীত। দুপুর নাগাদ কিছুটা হালকা রোদের দেখা মিললেও শেষ বিকেল থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত উত্তরের হিমেল হাওয়ায় এবং ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
  • কবি ও কথা সাহিত্যিক শফিক আমিন এর ধারাবাহিক উপন্যাস

    কবি ও কথা সাহিত্যিক শফিক আমিন এর ধারাবাহিক উপন্যাস

    “ভাঙ্গন” (পর্ব – ৪)

    খালার কতা মতন হাতের আঙ্গুলে চুল পেচাইয়া আঙ্গুল মোহের মইদ্দে ভইরা দিছি । অমনি অক অক কইরা বইমি করার চেষ্ট করল বেগুমি । তহন হেয় আমার বুকের লগে বউন্না অবস্থায় আছিল । বইমির চেষ্টর সুম ম্যালা কষ্ট অইছে, মনে অইছিল আমারে লইয়া খারাইয়া যাইবো । হেই খিঁচনির চোডে পোলাডা বাইর অইয়া গেছে সত্য তয় শক্ত গোস্তের উপরে পাকনা ফোঁড়া জোরসে চাপ দিলে যেইরহম পট্টত কইরা শব্দ অইয়া ছিট্টা দূরে গিয়া পড়ে ঠিক সেই মতন মাতারির পেডততোন পোলাডা ছিট্টা যাইয়া সামনের দিগে পড়ল ! বেগুমি তহন মা গোরে কইরা একটা চিক্কইর দিয়া কাইত অইয়া পড়ল ।

    যদিও পোলা বাইর হওনের আগেই পেডত মইরা আছিল । এহন দেহি মাতারিও যায় যায় অবস্তা ! রকতের যোয়ার দেইক্কা আমি চিক্কইর দিয়া কইলাম – ওখালা, অহন কি করবেন ? খালায় দেহি অস্তির অইয়া পড়ল । খালি কয় – হায় হায় ! হায় হায় এইডা কি অইল ? আর এই দিগে দেহি বেগুমি শরীলডারে কয়ডা মোচর দিয়া সোজা অইয়া রইল । আস্তে আস্তে রক্ত পরন কইমা গেছে । লড়ন-চরণ নাই দেইখ্যা নাকের কাছে হাত নিয়া দেহি দম লয় না, বুহের কাছে হাত নিয়া দেহি বুকও লড়ে না । খালারে কইলাম মতন খালায়ও দেখলো । হেয় মাতাত হাত দিয়া বইয়া পড়ল ।

    আমি আস্তে কইরা পোলাডারে ত্যানাত প্যাচাইয়া থুইলাম । বেগুমির কাপড় ঠিক কইরা রাখলাম । মজিদ মিয়া বিলের তন ফিরছে যহন তহন সন্দা অয় অয় । গ্রামে মাইক আলা তেমন মসজিদ না থাহনে বুজা যায়না নামাজের ওক্ত অইছে কিনা । রোজার দিনে তো আন্দাজে কোন্দাজে সরগাই খাইছি আর সন্দায় রোজা খুলছি । ম্যাগ-বিষ্টির দিনে তো মহা ঝামেলা আছিল । মাইনসে সময় মতন কিছুই করতে পারে নাই । মজিদ মিয়ারে দেইখা কিছুই মনে অইল না । আসলে হেসুমকা কে কারে জিগায় ! আমিও জিগাই নাই । শ্যাষে হেই আমারে জিগাইল । হেইদিন হেরে আমি কি কইছিলাম আইজগা হ্যা মোনে নাই । তয় মজিদ মিয়া আমার পোলাডা কোলে লইয়া গলাপানি গ্রামের মইদ্দে দিয়া জলনাই গ্রামে চইলা আইছিল ।

    জলনাই গ্রামের মইদ্দে যহন আইছি তহন গেদাডার গলা ওডন বাজাইছে । বেহাল তোন তো পেডোত কিছু পড়ে নাই হের পরেইদা অক আইল কইত্তন হেইডা আমি বুইজা উটতে পারি নাই । রাইত থেইকা যে এতো দৌড়-ঝাপ কইরা এই পোরযন্ত আছি এইয়ার মইদ্দে কিছুই তো নিজের পেডতও পড়ে নাই । এহন দুহর অইছে । আমরা আক্কাস মাদবরের বাড়িত আইয়া খারাই ছিলাম, মাদবর সাব গেদার বাহেরে চিনত, খালি চিনত না হেরে হেয় পেরাই বোলাই আন্ত কাজ কম্ম করানের লইগ্যা । (চলবে…)

  • ১৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচীর উদ্ভোধন করলেন যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ

    ১৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচীর উদ্ভোধন করলেন যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ

    শেখ সুমন :

    বরিশাল মহানগরের ১৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম এর শুভ উদ্ভোধন করেন যুবরত্ন সাদিক আবদুল্লাহ। এসো হে বীর জনতা, আওয়ামীলীগ এর পতাকা,তলে, এই শ্লোগান কে ধারন করে  কর্মসুচীর শুভ উদ্ভোধন করেন যুবরত্ন সাদিক আবদুল্লাহ।

    সভার সভাপতিত্ব করেন ১৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সভাপতি,মনিরুজ্জাৃমান রুবেল। বিশষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক এ.কে.এম জাহাঙ্গীর , কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ এর কার্যকরি সদস্য ও মহানগর আওয়ামীলীগ সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম তোতা, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক  মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগ এর সহ,প্রচার সম্পাদক,মিলন ভুইয়া, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ এর যুগ্ন-আহবায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত, মহানগর শ্রমিকলীগ সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস, মহানগর আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ সভাপতি মুহা:পলাশ চৌধুরী, মহানগর ছাত্রলীগ সাবেক আহবায়ক জিয়াউর রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। উক্ত,সভা পরিচালনা করেন মহানগর আওয়ামীলীগ এর যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক ও ১৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক, ওয়ার্ড কাউন্সিলর গাজী নইমুল হোসেন লিটু।