Blog

  • পিএসজি ছেড়ে রিয়ালের দিকে ঝুঁকছেন নেইমার

    পিএসজি ছেড়ে রিয়ালের দিকে ঝুঁকছেন নেইমার

    পিএসজিতে যাওয়ার মাত্র দু’‌মাসের মধ্যেই জানা গেল এমন খবর। নেইমার যে কোনও মুহূর্তে পিএসজি ছেড়ে দিতে পারেন।

    কেন না নতুন ক্লাবে খুব একটা খুশিতে নেই তিনি। কাভানির সঙ্গে মনোমালিন্যই এর কারণ। তাই তিনি স্পেনে ফিরতে চাইছেন।

    সূত্রের খবর, ইতোমধ্যে নেইমারের বাবা দেখা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ‌ফিওরেন্তিনা পেরেজের সঙ্গে। তাও আবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পরিবর্ত হিসেবে ছেলে নেইমারের খেলার বন্দোবস্ত করতে। নেইমারের বাবার এই সাক্ষাতের খবর সামনে আসতেই কানাঘুষো শুরু হয়ে গেছে। মনে করা হচ্ছে নেইমার আবার লা লিগায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

    স্প্যানিশ পত্রিকা ‘‌মুন্ডো ডিপোর্টিভো’‌-এর খবর নেইমার সিনিয়র আর পেরেজ ব্রাজিলীয় এই ফুটবলার তারকার ট্রান্সফারের ব্যাপারেই কথা বলেছেন। ২০১৩ সালে নেইমারকে সান্টোস থেকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল রিয়েল।

    কিন্তু সেই সময় তা পূর্ণতা পায়নি। কিন্তু নেইমারকে নেওয়ার জন্য বের্নাব্যুর দরজা যে চিরকালই খোলা, তা এবারে নেইমার সিনিয়রের রিয়ালের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করাতেই প্রমাণ পাওয়া গেল। এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে ২০২১ সালে রোনালদোর চুক্তি শেষ হলে তবেই নেইমারকে নেওয়া সম্ভব।

    খবর যা রটে, তার কিছুটা তো বটে। তবে রোনালদো যদি রিয়াল ছাড়েনও, সেক্ষেত্রে কি রোনালদোর পরিবর্ত হিসেবে নেইমারকে পছন্দ হবে কিনা জিদানের, সেটিও অনে বড় প্রশ্ন হয়েই থাকবে। ‌ অনেক যদি, কিন্তু আছে। তবে নেইমার সিনিয়রের এই আচমকা রিয়াল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করাটা স্রেফ জল্পনা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ‌‌

  • মন্দের ভালো

    মন্দের ভালো

    গত মাসে হলিউডের বিখ্যাত প্রযোজনা সংস্থা ওয়াইনস্টিনের কো-চেয়ারম্যান হার্ভি ওয়াইনস্টিনের যৌন হয়রানির অভিযোগের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্কটা। এরপর একে একে উঠে এসেছে চলচ্চিত্র পরিচালক জেমস টোব্যাক, ব্রেট রেটনার থেকে অভিনেতা কেভিন স্পেইসির নামও।

    ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের অভিযোগ উঠে আসাটাকে অভিনেত্রী মিশেল ফাইফার বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে হলিউডে চলতে থাকা এ ধরনের অপরাধের একটি চিত্র। বিবিসিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘লাভ ফিল্ড’ তারকা বলেন, ‘হলিউডে আমার পরিচিত সব নারীই কোনো না কোনোভাবে যৌন হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন। আর এটাই প্রমাণ করে এই সমস্যা কতটা গুরুতর। এসব নিয়ে আমরা কখনো আলোচনা করতে চাইনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলো জনসমক্ষে প্রকাশিত হলো। ’

    তিনি মনে করেন, হার্ভি বিতর্কটা হচ্ছে মন্দের ভালো। কেননা এর মাধ্যমে যে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে, তা হয়তো ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে সক্ষম হবে

  • আত্মঘাতী গোলে স্বপ্নডুবির পথে বাংলাদেশ

    আত্মঘাতী গোলে স্বপ্নডুবির পথে বাংলাদেশ

    ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুর্ভাগা বাংলাদেশ। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ফেরে পড়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপে মূলপর্বের স্বপ্ন বিলীন হতে বসেছে! পুরো ম্যাচ ঠেকিয়ে ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে হেরে গেছে উজবেকিস্তানের সঙ্গে।

    এই হারের জ্বালা তীরে এসে তরী ডোবার মতোই। গ্রুপে এখন ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশের রানার্স-আপ হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা কমে গেছে অনেকখানি। এখানেই বড় হয়ে ধরা পড়ছে স্বপ্নডুবির শঙ্কা।

    ঠিক যেভাবে তাজিকিস্তানের সঙ্গে খেলেছিল, সেই কৌশলেই কাল বাংলাদেশ নেমেছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। সোজাসুজি ড্রয়ের লক্ষ্যে। এর চেয়ে বড় করে ভাবারও খুব সুযোগ নেই। কিন্তু সত্যি সত্যি একটা সুযোগ সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল ১০ মিনিটে। কাউন্টারে সুফিল উজবেক গোলরক্ষককে একা পেয়েও পারেননি বল জালে পাঠাতে। লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হওয়ার পর সবাই মিলে নেমেছিল গোল ঠেকানোর মিশনে।

    সফলভাবে ঠেকিয়েছেও। বাংলাদেশ কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি বলেছেন, ‘তাজিকিস্তানের চেয়েও শক্তিশালী উজবেকিস্তান, ট্যাকটিক্যালি ও টেকনিক্যালি অনেক ভালো তারা। এর পরও আমাদের বিপক্ষে ওরকম ওপেন করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে একবার তারা ওপেন করেছে, কিন্তু গোল করতে পারেনি। পুরো ম্যাচ আমাদের ছেলেরা খুব ভালো খেলেছে, কৌশল অনুযায়ী পারফরম করেছে। উজবেকিস্তান আধিপত্য করলেও চাপে ফেলতে পারেনি। মাঝমাঠে আমাদের ব্লক ভালো হয়েছে। ডিফেন্সও খুব ভালো খেলেছে, তাই গোলের ক্লিয়ার চান্স পায়নি সেভাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য ম্যাচ শেষের ৩০ সেকেন্ড আগে গোল খেয়ে সব কিছুই অর্থহীন হলে গেল। ’ ৪ মিনিট ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে শুধু গোলের দুর্ভাগ্য নয়, সেটাও হয়েছে আত্মঘাতী। একটা শট ঠেকাতে গিয়েছিলেন আতিকুজ্জামান, কিন্তু এতক্ষণ ভালো খেলা এই ডিফেন্ডারের বাঁ পায়ে লেগে বল ঢুকে গেছে বাংলাদেশের জালে। ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করারও সুযোগ নেই আর!

    গোলের পরপরই বাঁজে শেষ বাঁশি আর হতাশায় ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। বাংলাদেশ কোচের কণ্ঠেও প্রকট হয়ে ধরা পড়েছে এমন হারের আক্ষেপ, ‘নেহাৎ ভাগ্যটা খারাপ বলেই আমরা হেরে গেলাম। তাতে মূলপর্বে যাওয়া কঠিন হয়ে গেল। শেষ ম্যাচে তাজিকিস্তানকে হারতে হবে বেশি গোলে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে হবে বড় ব্যবধানে। আসলে অনেক হিসাব-নিকাশ সামনে চলে আসবে। এই ম্যাচটা ড্র করতে পারলে আমাদের ভালো সুযোগ ছিল। ’ ম্যাচটা ড্র হলে মূলপর্বে যেতে সেরা পাঁচ রানার্স-আপে থাকার ভালো সম্ভাবনা থাকত। তখন কাল শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারালে এবং উজবেকিস্তানের কাছে তাজিকিস্তান হারলে স্বপ্নপূরণের পথেই থাকত বাংলাদেশ। এখন বেঁচে আছে কেবল গাণিতিক সম্ভাবনা, যা বাস্তবে মেলানো কঠিনই।

  • শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনিশ্চিত

    শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক এবং পক্ষপাতদুষ্ট দাবি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ৬ সাংবাদিক (প্রেসকাবের সদস্য) জিয়াউদ্দিন বাবু, কাজল ঘোষ, মো: শাহজাহান হাওলাদার, মনোবীর আলম খান, এম ফোরকান ও আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয় শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে। আদালতের বিচারক মো: হাদিউজ্জামান মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে মামলার বিবাদীদের নালিশীতে বর্ণিত বিষয়গুলো সম্পর্কে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। মামলার আইনজীবী অ্যাড. আজাদ রহমান এজাহারের বরাত দিয়ে বলেন, আগামী ১০ নভেম্বর শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিন ধার্য করে সভা আহবান করা হয়েছে। ১১ নভেম্বর বিশেষ জরুরি সাধারণ সভা আহবান করে আলোচ্য বিষয়াবলীর উপরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছেন মামলার বাদীরা। বিষয়গুলো হচ্ছে-বিশেষ জরুরি সভার আলোচ্যসূচি সিংহভাগ সহযোগী সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে গঠনতন্ত্রের ধারা-উপধারা সংযোজন এবং ১০ নভেম্বর প্রেসকাব নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচ্যসূচি। মামলার বাদীগণ দাবি করেছেন, প্রেসকাব নির্বাচনের পূর্বে আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের একটি সাংবাদিকবান্ধব গঠনতন্ত্র রচনা করা একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। যেহেতু প্রেসকাবের গঠনতন্ত্র দীর্ঘদিনের পুরনো এবং অসংগতিপূর্ণ ও সময়োপযোগী নয়; তাই গঠনতন্ত্রের নিম্নোক্ত আলোচ্য বিষয়গুলো সংশোধন করা প্রয়োজন:- প্রস্তাবগুলো হল-“মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত বা নীতি-আদর্শ পালনকারী কোন সাংবাদিক বা ব্যক্তি, কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা সমাজের নিন্দিত কোন ব্যক্তি প্রেসকাবের সদস্যপদ পাবার জন্য আবেদন করতে পারবেন না বা করলে তা সরাসরি অগ্রহণযোগ্য হবার বিধান রাখতে হবে (গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ১)”। “২৫ ডিসেম্বর খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’-এ সকাল ১০টা থেকে একটানা রাত ১১টা পর্যন্ত প্রেসকাবের সাধারণ সভা ও বার্ষিক নির্বাচনের দিন ও সময় পরিবর্তন করে যে কোন উপযুক্ত সময়ে সভা ও নির্বাচনের তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে (প্রেসকাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৪ এর ধারা ২)”। বরিশাল প্রেসকাবের যে সকল সহযোগী সদস্যদের সদস্য পদ প্রাপ্তির ৩ বছর সময় অতিক্রম হবে তাদের পেশাগত কর্মকা- পুনর্বিবেচনাপূর্বক পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদ প্রদানের বিধান সহজতর করতে হবে (প্রেসকাবের গঠনতন্ত্র অনুচ্ছেদ ২ এর ৪ ধারা)”। বরিশাল প্রেসকাবের সদস্যপদ প্রদানের লক্ষ্যে ৩/৪ (তিন
    চতুর্থাংশ) অংশ হ্যাঁ সূচক ভোট পাবার পর সদস্য পদ প্রদানের বিধানের স্থলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সদস্য পদ প্রদানের বিধানের ব্যবস্থা করতে হবে (প্রেস কাবের গঠনততন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২ এর ধারা ৩)”। প্রেসকাবের সদস্য পদ পাবার পরে তিন বছর অতিক্রম না হলে কোন সদস্য বা সদস্যরা প্রেসকাব নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না-এমন বিধান বাতিল করে ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সদস্যরাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারার বিধান করতে হবে (প্রেসকাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৩ এর ধারা ৩)”। প্রেসকাব নির্বাচন প্রতি বছর না করে ২ বছর পর পর করার বিধান করতে হবে, সেক্ষেত্রে কার্যকরী পরিষদের মেয়াদকাল ১ বছরের পরিবর্তে ২ বছর করতে হবে (প্রেসকাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৪ এর ধারা ২)”। পরপর ২ বছর কোন সদস্য সাধারণ সম্পাদক বা সভাপতির দায়িত্ব পালন করলে পরের বছর প্রেসকাবের নির্বাচনে ওই পদে অংশগ্রহণ না করতে পারার বিধান বাতিল করতে হবে (প্রেসকাবের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৩ এর ধারা ২)”। প্রেসকাবের নির্বাচনে যেসকল প্রার্থী নির্বাচিত হবেন তাদের দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে শপথ বাক্য পাঠের বিধান গঠনতন্ত্রে সংযোজন করতে হবে। শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রয়াত শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে নিহত হওয়ায় ওই দিন তার শাহাদৎবরণ দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও রুহের মাগফেরাত কামনায় কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, স্মরণসভা ও দু:স্থদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানটি গঠনতন্ত্রে সংযোজিত করতে হবে। এছাড়া কোন সহযোগী সদস্য দুই বছরের মধ্যে প্রেসকাবের পূর্ণ সদস্য পদ লাভ করতে ব্যর্থ হলে কাবে তার সহযোগী সদস্য পদ বাতিল করা হবে বলে গঠনতন্ত্রে অগণতান্ত্রিকভাবে ধারা/উপধারা সন্নিবেশিত করে সহযোগী সদস্যদের স্বার্থ পরিপন্থী গঠনতন্ত্র সংশোধনে পাঁয়তারা চলছে। এছাড়া কথিত বাছাই কমিটির মাধ্যমে কাবের বিদ্যমান গ্রুপিংকে প্রাধান্য দিয়ে খোঁড়া ও অবিশ্বাস্য অজুহাত এনে সিংহভাগ সহযোগী সদস্যদের সদস্যপদ বাতিলের অপর একটি গঠনতন্ত্র পরিপন্থী প্রক্রিয়া চলমান আছে। প্রকাশ থাকে যে, এক-দুই বিবাদীগণ উপরোক্ত আলোচ্য বিষয়গুলোতে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ জরুরি সাধারণ সভা বে-আইনিভাবে সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে ১১ নভেম্বর আহবান করেছেন। যাহাও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। বাদী পক্ষ আবেদনে গঠনতন্ত্র সংশোধনপূর্বক একটি সাংবাদিকবান্ধব গঠনতন্ত্র না করা পর্যন্ত শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের আগামী নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত না হতে পারে বা নির্বাচন সংক্রান্ত কোন তফসিল ঘোষণা না করতে পারে বা কোন বিশেষ জরুরি সাধারণ সভা আহবান করতে না পারে বা নতুন কোন সদস্য পদ প্রদান করতে না পারে বা সহযোগী সদস্যদের কথিত বাছাই প্রক্রিয়া কার্যকর করতে না পারে বা বাছাই করার ন্যূনতম কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারে তৎমর্মে বিবাদীদের প্রতিকূলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং অত্র দরখাস্ত শুনানি সাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ প্রদান করার আবেদন করেছেন। এ কারণে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের আগামী নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাপারে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসকাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা জটিলতার কারণে আসন্ন প্রেসকাব নির্বাচন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আহুত বিশেষ জরুরি সাধারণ সভার আলোচ্যসূচি মামলার নালিশীতে অন্তর্ভুক্ত থাকায় আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত ওই সভা স্থগিত থাকবে।

  • বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেলের শিশু বিভাগ শয্যা ৪০, রোগী ৩২০

    বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে গত ৩০ অক্টোবর গৌরনদী থেকে ছেলেকে নিয়ে এসেছেন মুন্নি বেগম। এসে দেখেন বিছানা খালি নেই। তাই মেঝেতে বিছানা করে অন্য শিশুর সঙ্গে রাখা হয়েছে।
    একই দিন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন রোজিনা বেগম। তিনি বলেন, খালি না থাকায় তিন শিশুর সঙ্গে এক বিছানায় রেখে তার চিকিৎসা চলছে।

    মুন্নি বেগম ও রোজিনা বেগম বলেন, তাঁদের সন্তানেরা হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। উপায় না দেখে সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন।
    চিকিৎসকেরা জানান, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ ঠান্ডায় লেগে শিশুরা শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দিকাশি নিয়ে ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। হাসপাতালে শিশুদের জন্য বিছানা বরাদ্দ আছে ৪০টি। রোগীর সংখ্যা তিন শতাধিক। তাই এক বিছানায় তিন-চারজন শিশুকে রাখা হচ্ছে। মেঝেতেও একই অবস্থা। পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।
    হাসপাতালটির শিশুবিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক এম আর তালুকদার মুজিব বলেন, ঠান্ডায় এক থেকে ছয় মাস বয়সের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ভর্তি ছিল ৩২০ জন শিশু। এত বেশি শিশুর চিকিৎসা দেওয়া খুব কঠিন।

    সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের একটি বিছানায় তিন থেকে চারটি করে শিশু রাখা হয়েছে। মেঝেতে একেকটি বিছানায় দুই থেকে তিনজন করে শিশু আছে। মেঝেতে বিছানা করায় পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। এর মধ্যেই কাজ করছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা।
    শিশু বিভাগের রেজিস্ট্রার ও পরিচালকের কার্যালয়ে থাকা তালিকা থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি হওয়া ৩০ শিশুকে বাদ দিলে বাকি ২৯০টি শিশু শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি ও বুকে কফ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

    সেবিকা হাসিনা খানম বলেন, স্বাভাবিক সময়ও বিছানার তুলনায় কয়েক গুণ শিশু বেশি ভর্তি থাকে। কিন্তু সেটা দুই শর বেশি হয় না। গত ১০ দিনে শিশু রোগীর সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়ে গেছে।

    সদর উপজেলার সাহেবের হাট এলাকা থেকে আসা জুয়েল রানা বলেন, হাসপাতালে বিছানা নেই, মেঝেতেও জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে এক বিছানায় দুই শিশুর পাশে আমার শিশুকে রেখেছি। জ্বর, কাশি ও বুকে কষ্ট হচ্ছিল। এখন একটু ভালো।’

    রহমতপুর এলাকার বাসিন্দা তাহমিনা বেগম বলেন, সোমবার রাতে দুই মাস বয়সের শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখে সহ্য করতে পারছিলেন না। দ্রুত হাসপাতালে আসেন তিনি।
    জানতে চাইলে হাসপাতালের বহির্বিভাগের দায়িত্ব পালন করা শিশু বিশেষজ্ঞ সালেহ আল-দ্বীন-বিন নাসির রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২০০ শিশুর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের বেশির ভাগই ভাইরাসে আক্রান্ত। অনেককেই অন্তর্বিভাগে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই সময়ে শিশুদের উষ্ণ রাখার চেষ্টা করতে হবে। বাইরের ঠান্ডা যেন শিশুর শরীরে না লাগে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রয়োজনে হাত-পা মোজা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। রাতে যাতে শিশুর ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

  • ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর আজ

    ঘটনাবহুল ৭ নভেম্বর আজ

    আজ ৭ নভেম্বর, ঘটনাবহুল ও আলোচিত দিন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন পৃথক নামে দিনটি পালন করে। বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। জাসদ পালন করে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে। আর প্রগতিশীল দল ও সংগঠনগুলোর অনেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
    ৭ নভেম্বর উপলক্ষে বিভিন্ন দল ও সংগঠন পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে। এ উপলক্ষে ১১ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এর আগে ৮ নভেম্বর সেখানে সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

    নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সোমবার বিকেলে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘রাজধানী ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন (সিপিএ) হচ্ছে। এতে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য আমরা ১১ নভেম্বর শনিবার সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
    সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘সমাবেশের অনুমতি এখনো পাইনি। তবে আশাবাদী অনুমতি পাব।’

    বিএনপির সূত্র জানায়, সিপিএ সম্মেলনের কারণে এবার ৭ নভেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানো ও ফাতিহা পাঠের কর্মসূচি রাখা হয়নি। দলের মহাসচিবও যাচ্ছেন না। তবে এ ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে এ কর্মসূচি পরে পালন করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
    জাসদের একাংশ আজ বিকেল চারটায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে আলোচনা সভা করবে। এতে জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু অংশ নেবেন। খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম স্মৃতি পরিষদ ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে স্মরণসভার আয়োজন করেছে। একই সময়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ ও জয় বাংলা মঞ্চ নামের দুটি সংগঠন যৌথভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে সমাবেশ কর্মসূচি দিয়েছে।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটে। এর আড়াই মাস পর ৩ নভেম্বর শুরু হয় সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা। এসব ঘটনার একপর্যায়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দী হন। ৭ নভেম্বর অপর এক অভ্যুত্থানে তিনি মুক্ত হন।

  • বাঁশ-দড়িতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

    বাঁশ-দড়িতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

    রাজধানীর সিগন্যাল বাতি গাড়ির গতি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে অনেক আগেই। এরপর ফেল মারল হাতের ইশারা আর বাঁশিও।

    তাই অবশেষে বাঁশ ও দড়ি দিয়ে চলছে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিআইপি সড়কগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে দড়ি আর বাঁশের ব্যবহার। ট্রাফিক বিভাগ বলছে, দুর্ঘটনা ঠেকাতে ও যানজট কমাতে নিতে হয়েছে এ ব্যবস্থা।

    সরজমিনে বিজয় সরণি এলাকায় দেখা যায়, দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে সিগন্যাল পড়লেই দড়ি বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ হাতের ইশারায় গাড়ি থামিয়ে দড়ি টেনে নিয়ে গিয়ে বাঁধছেন। আবার সিগন্যাল ছাড়লে খুলে দেওয়া হচ্ছে দড়ি। এ রাস্তায় দড়ি ব্যবহূত হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আবুল কালাম বলেন, ‘হাত দেখালেও থামে না গাড়িগুলো। অন্য দিক থেকে গাড়ি চলে আসায় অনেক সময় ঘটে যায় দুর্ঘটনা কিংবা তৈরি হয় যানজট।

    তাই দড়ি দিয়ে বেঁধে দিই, যাতে সামনের দিকে যেতে না পারে। ’ রাজধানীর পান্থপথেও চোখে পড়ে একই চিত্র। অফিস সময়ে যানবাহনের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। তাই দড়ি দিয়ে রাস্তার দুপাশ বেঁধে থামানো হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। বিমানবন্দর এলাকায় দেখা যায়, বাঁশ দিয়ে লেন ও ফুটপাত চিহ্নিত করা হয়েছে। রাস্তার মধ্যে রাখা ডিভাইডারের মধ্য দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বাঁশ। একই অবস্থা মহাখালীর রাস্তাতেও। ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার লিটন কুমার সাহা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মোটরসাইকেলগুলো হাতের ইশারা না মেনে বেরিয়ে যায়, থামানো যায় না। তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নাইলনের দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা রঙিন দড়ি বাঁধেন। এতে দূর থেকে দেখা যায়। এখানে আসে বাঁশকল লাগানোর কথা। কিন্তু এ রোডে সেটা সম্ভব না। তাই যানজট আর দুর্ঘটনা ঠেকাতে দড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    ঢাকার যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের কাজে গত ১৭ বছরে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০০০ সালের দিকে ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের আওতায় ৭০টি জায়গায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানোর কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ২০০৮ সালে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার না হওয়ায় অল্প দিনেই বেশির ভাগ বাতি অকেজো হয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১০-১১ অর্থবছরে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) নামে আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সরঞ্জাম কেনা হয়। এর আওতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯২টি মোড় বা ইন্টারসেকশনে সোলার প্যানেল, টাইমার কাউন্ট-ডাউন, কন্ট্রোলার ও ক্লেব স্থাপন করা হয়। এ স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থাও এখন অকার্যকর। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও পুলিশ আধাস্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়। নতুন পদ্ধতিতে মোড়ে দাঁড়ানো ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হাতে থাকবে রিমোট কন্ট্রোল। যে সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকবে, রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা সেখানে সবুজ বাতি জ্বালাবেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন ও সংস্থার মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। ফলে এ উদ্যোগটিও বিফলে যায়।

  • প্যারাডাইস কেলেঙ্কারিতে কাঁপছে বিশ্ব

    প্যারাডাইস কেলেঙ্কারিতে কাঁপছে বিশ্ব

    বিশ্বের ২৫ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক লেনদেন ও মালিকানা সংক্রান্ত গোপন তথ্যভাণ্ডার ফাঁস হয়ে গেছে। ১৮০টি দেশের ধনী, সুপরিচিত ও প্রভাবশালীদের এই তথ্যভাণ্ডার তাদের গোপন বিনিয়োগ, অর্থ পাচারসহ  কর ফাঁকির বিষয় প্রমাণ করে।

    বেশির ভাগ তথ্যই বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের, যারা কর থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন ট্যাক্স হ্যাভেনে (কর দিতে হয় না কিংবা খুবই নিম্ন হারে কর দেওয়া যায় এমন দেশ) বিনিয়োগ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তাই এই কেলেঙ্কারির নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্যারাডাইস পেপারস’। স্থানীয় সময় রবিবার এই পেপারস সবার সামনে ফাঁস হওয়ার পর সারা বিশ্বেই হৈচৈ পড়ে গেছে। ফাঁস হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর অনেক ব্যক্তির গোপন তথ্য। গোপন নথিতে উঠে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মতো হাইপ্রোফাইল মানুষের গোপন তথ্য।

    প্যারাডাইস পেপারসে ১৪ জন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানসহ বিশ্বের কমপক্ষে ৪৭টি দেশের ১২৭ জন রাজনীতিক এবং সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দলিল রয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার প্রকাশিত ওই নথিতে আরও উঠে এসেছে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মরিসিও ম্যাকরি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট ও আবুধাবির আমির খলিফা জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো প্রসেনকো, কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পল মার্টিন, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলেফ, জর্দানের রানী নুর আল হুসেইন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফ বিন আবদুল আজিজসহ শতাধিক ব্যক্তির নাম।

    শুধু তাই নয়, ভারতেরও সাত শতাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে এ তালিকায়। প্যারাডাইস পেপারসে বলা হয়েছে, করের হাত থেকে বাঁচতে দেশের বাইরের বিভিন্ন স্থানে অর্থ খাটিয়েছেন এই আলোচিত বিত্তশালীরা। কর দিতে হয় না বা নামমাত্র কর দিয়ে বিনিয়োগ করা যায় এমন স্থানগুলোই বেছে নিয়েছেন তারা। অনেকেই এসব লেনদেন করেছেন সবার চোখের আড়ালে। অর্থ আয়ের জন্য এমন গোপন বিনিয়োগের সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম এরই মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। সামনে আরও নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।   গত বছর ফাঁস হওয়া পানামা পেপারসের মতো এবারও এসব নথি প্রথমে আসে জার্মান দৈনিক সুইডয়চে সাইটংয়ের হাতে। পরে সেসব নথি ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) হাতে তুলে দেয় তারা। ১ কোটি ৩৪ লাখ গোপন নথির এই ডাটাবেজে রয়েছে ১ হাজার ৪০০ গিগাবাইটেরও বেশি ডাটা।

    নথিগুলোর প্রায় ৬৮ লাখ এসেছে অফশোর আইনি সেবা সংস্থা অ্যাপলবাই এবং করপোরেট সেবা সংস্থা এস্টেরা থেকে। ২০১৬ সালে এস্টেরা আলাদা হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি একসঙ্গে অ্যাপলবাই নামে কর্মকাণ্ড চালাত। আরও ৬০ লাখ নথি ১৯টি আদালতের করপোরেট রেজিস্ট্রি থেকে বের করা হয়েছে। আদালতগুলোর বেশির ভাগই ক্যারিবীয় অঞ্চলের। বাকি অল্প কিছু নথি পাওয়া গেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাস্ট এবং করপোরেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান এশিয়া সিটি ট্রাস্ট থেকে। প্যারাডাইস পেপারসে ফাঁস করা নথিতে রয়েছে ১৯৫০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ বছরের তথ্য। এসব নথি পেয়েছে বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের ১০০টি সংবাদমাধ্যম। ৫ নভেম্বর আইসিআইজে তাদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

  • মুক্তামণির মতো রোগে আক্রান্ত স্বর্ণালি

    মুক্তামণির মতো রোগে আক্রান্ত স্বর্ণালি

    মুক্তামণির মতো বিরল রোগে আক্রান্ত আরেক শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে। রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের টেগাটাপাড়া গ্রামের স্বর্ণালির ডান হাতে মুক্তামণির মতো রোগ দেখা দিয়েছে।

    জন্মের সময় ছোট কালো দাগ থেকে এখন পুরো হাতেই ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগ। এ নিয়ে চরম বেকায়দায় ও মানসিকভাবে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্বর্ণালির বাবা-মা। স্বর্ণালির বয়স এখন ১২ বছর। স্থানীয় নোনামাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সে। তার বাবা আবদুল মান্নান দুর্গাপুরের দাওকান্দি কলেজের পিয়ন ও মা রুমা বেগম গৃহিণী। স্বর্ণালির ডান হাতে জন্মের পর থেকে কালো দাগ থেকে এ রোগের উত্পত্তি। বিরল এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই ভেবে এত দিন ডাক্তার দেখাননি বাবা-মা। তবে পত্রপত্রিকায় মুক্তামণির রোগ ও চিকিৎসা নিয়ে খবর প্রকাশের পর তা দেখে মনে সাহস জেগেছে তাদের। এ রোগ ভালো হয়ে যেতে পারে এ আশায় তারা ছুটে যান চিকিৎসকের কাছে। তবে অপারেশন বাবদ যে টাকার হিসাব দেওয়া হয়েছে, এ ব্যয়ভার জোগানো কোনোভাবেই তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বর্ণালির মা রুমা বেগম ও বাবা আবদুল মান্নান জানান, মুক্তামণির হাতে যে বিরল রোগ, তার মেয়ের হাতেও একই রোগ বাসা বেঁধেছে।

  • ২০১৮ সালে সরকারি ছুটি ২২ দিন

    ২০১৮ সালে সরকারি ছুটি ২২ দিন

    ২০১৮ সালে সরকারি ছুটি হচ্ছে মোট ২২ দিন। এর মধ্যে ৭ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে।

    গতকাল প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন বছরের ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০১৮ সালের জন্য ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে ৮ দিন সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ছুটি থাকবে ২২ দিন। ২০১৭ সালেও মোট ২২ দিন সরকারি ছুটির মধ্যে ১০ দিনের ছুটি পড়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। আর ২০১৬ সালে ২২ দিন সরকারি ছুটির মধ্যে চার দিনের ছুটি পড়েছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগামী বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ২৯ এপ্রিল বৌদ্ধ পূর্ণিমা, ১ মে মে দিবস, ১৫ জুন জুমা’তুল বিদা, ১৬ জুন ঈদুল  ফিতর, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ২২ আগস্ট ঈদুল আজহা, ২ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর দুর্গাপূজা, ২১ নভেম্বর ঈদে মিলাদুন্নবী, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর বড় দিনের সাধারণ ছুটি থাকবে। এছাড়া সরকারের নির্বাহী আদেশে ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ২ মে শবে বরাত, ১২ জুন শবে কদর, ১৫ ও ১৭ জুন ঈদুল ফিতরের আগে ও পরের দিন, ২১ ও ২৩ আগস্ট ঈদুল আজহার আগে ও পরের দিন এবং ২১ সেপ্টেম্বর আশুরার ছুটি থাকবে। এবারে সাধারণ ছুটির ১৪ দিনের মধ্যে চার দিন এবং নির্বাহী আদেশে আট দিনের মধ্যে তিন দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র-শনিবার পড়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, যেসব অফিসের সময়সূচি ও ছুটি তাদের নিজস্ব নিয়ম ও বিধি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় বা যেসব অফিস, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকার কর্তৃক অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেসব অফিস নিজেদের নিয়মে জনস্বার্থ বিবেচনা করে ছুটি ঘোষণা করবে।