Blog

  • ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে রংপুরে মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, নিহত ১

    ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে রংপুরে মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, নিহত ১

    মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এবং মক্কা শরীফের ব্যাঙ্গাত্মক ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে রংপুরে স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ বিকেলে রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    এসময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটবিদ্ধ হয়ে হাবিব নামে স্থানীয় এক যুবক (২৭) নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৭ পুলিশসহ আহত হয়েছেন ৩০ জন। বিক্ষোভকারীরা হিন্দুদের ৯টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। আগুনে ১৮টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শর্টগান ও রাবার বুলেটবিদ্ধ ১১জন বিক্ষোভকারীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হাসপাতালের সহকারি পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, এদের মধ্যে মাহাবুবুল (২৫), জামিল (২৬), হাবিবুর রহমান (৩০),আলিম (৩২), জাহাঙ্গীর (২৮),আমিন (২৬) ও রিপনের (২৮) অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের পেটে ও মাথায় বুলেটবিদ্ধ হয়েছে। অন্যদের পায়ে ও হাতে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় মারা যান হাবিবুর রহমান।

    তিনি শলেয়াশাহ এলাকার একরামুল হকের ছেলে বলে ভর্তি রেজিস্ট্রারে উল্লেখ রয়েছে। বিপুল সংখ্যক সর্টগানের গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

    খলেয়া ইউনিয়ন সদর উপজেলার অধিন হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ। গঙ্গাচড়া থানার ওসি জিন্নাত আলী জানান, ঠাকুরপাড়া এলাকার টিটু রায় পেশায় কবিরাজ। গত সপ্তাহে তিনি নাকি তার ফেসবুকে নবীজি ও মক্কা শরীফের ব্যাঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ করবে করবে-এমন খবর পেয়ে বেলা তিনটা থেকে গঙ্গাচড়া, কোতোয়ালী ও তারাগঞ্জ থানা পুলিশ এলাকায় অবস্থান নেয়।

    বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খলেয়া ইউনিয়নের শলেয়াশাহ ও বালাবাড়ি গ্রাম এবং পাশের মমিনপুর গ্রামের ৮-১০ হাজার লোক লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ও লাঠি দিয়ে ঢিল ছুড়তে থাকে। এরই এক পর্যায়ে তারা ঠাকুরপাড়া গ্রামে অগ্নিসংযোগ করে।

    আগুনে টিটু রায়ের ৩টি, সুধীর রায়ের ৬টি, অমূল্য রায়, বিধান রায় ও কৌশল্য রায়ের ২টি করে ৬টি, কুলীন রায়, ক্ষিরোধ রায় ও দীনেশ রায়ের ১টি করে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিকল্পিতভাবে এ হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে গঙ্গাচড়া থানার ওসি জানিয়েছেন।

    টিটু রায়ের মা জীতেন বালা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শত শত মানুষ আসি তিনটা ঘরোত আগুন নাগে দেলে। চৌকের পলোকে ঘরগুল্যা পুড়ি ছাই হয়া গেলো। ঘরের কিছুই রক্ষা করব্যার পারি নাই। ‘

    সুধীর রায় বলেন, ‘৪-৫টা মানুষ আসি পেট্রোল ঢালি মোর একটা ঘরোত আগুন নাগে দেয়। ওই আগুনোত মোর ছয়টা ঘরের সউগ পুুড়ি য়ায়’। প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল আজিজ মাষ্টার জানান, পুলিশ বৃষ্টির মত রাবার বুলেট ও সর্টগানের গুলি ছুড়েছে।

    রংপুর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সাইফুর রহমান জানান, বিক্ষোভকরারীদের ইটপাটকেল ও লাঠির আঘাতে ৭ পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদেরকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কি পরিমাণ সর্টগানের গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে তা এ মূহুর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

    এদিকে টিটু রায়ের গ্রেফতারের দাবিতে গত মঙ্গলবার দুপুরে পাগলাপীর এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে কয়েকশ’ মানুষ। পাগলাপীর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মাষ্টার বলেন, কয়েকদিন আগে নবীজি ও মক্কা শরীফের ব্যাঙ্গাত্মক ছবি টিটু রায় তার ফেসবুকে পোস্ট করে। এ অভিযোগে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে টিটুকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করি।

    এছাড়া একই অভিযোগে খলেয়া ইউনিয়নের লালচাঁদপুর গ্রামের মুদি দোকানী আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে টিটু রায়কে আসামি করে ২৯ অক্টোবর গঙ্গচড়া থানায় মামলা করেন।

    গঙ্গাচড়া থানার ওসি জিন্নাত হোসেন বলেন, মামলা নেওয়ার পর আমরা টিটু রায়ের বাড়িতে যাই। তার মায়ের কাছ থেকে জানতে পারি টিটু রায় তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বাজার এলাকায় বাস করেন।

  • হামলায় আহত এমপি কেয়া চৌধুরী ওসমানীর আইসিউতে ভর্তি

    হামলায় আহত এমপি কেয়া চৌধুরী ওসমানীর আইসিউতে ভর্তি

    হবিগঞ্জের বাহুবলে নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুন কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী উপর হামলা চালিয়েছে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তারার মিয়া ও তার লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় মীরপুরে বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যে চেক বিতরনীয় অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগেরর সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়ার নেতৃত্বে তার লোকজন এমপি কেয়া চৌধুরী উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়।

    আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইমন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার পরে পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এখন এমপি কেয়া চৌধুরীকে ওসমানীর আইসিউতে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

    নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জের মিরপুরে বেদে পল্লীতে সংসদ সদস্যের বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যে চেক বিতরণে অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী ও উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগেরর সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়ার লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

    তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে তিনি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে অসুস্থ হয়ে পড়লে থাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেলে চিকিৎসা জন্য প্রেরণ করা হয়।

    এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক হামদুল করিম বলেন, মিরপুরে বেদে পল্লীর লোকজনকে নিয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুসরাত আরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে কি কারণে ঘটেছে তিনি কিছু জানতে পারেননি।

    এদিকে এমপি কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলার অভিযোগ এনে তার শুভাকাক্ষীরা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এ ব্যাপারে ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে একটি ছেলে মোবাইলে ছবি ধারণ করছিল। এ সময় সংসদ সদস্যের লোকজন তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

  • এসএসসি পরীক্ষা- বরিশালে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

    এসএসসি পরীক্ষা- বরিশালে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

    এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণের নামে জেলার সর্বত্র বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে দ্বিগুন টাকা নেয়া হচ্ছে। আবার কোনো কোনো স্কুলে কোচিং ফি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ অবস্থায় কোন ধরনের রশিদ ছাড়াই ফরম পূরণে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সন্তানদের পরীক্ষার কথা চিন্তা করে দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকদের ধারদেনা করে ফরম পূরণের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বাড়তি অর্থ নেয়ার কথা স্বীকার করে নানাখাতের অজুহাত দেখাচ্ছে। শিক্ষাবোর্ড থেকে ফরম পূরণের ফি নির্ধারণ করে দেয়া সত্ত্বেও তা মানছে না স্কুলগুলো। এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকদের দাবি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্তক্রমেই এ অর্থ গ্রহণ করা হচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের মতে, শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। গত কয়েকদিন থেকে এনিয়ে প্রতিদিনই স্কুলের শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বাগ্বিতন্ডা লেগেই রয়েছে। বিভিন্ন স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসএসসি’র ফরম পূরণের জন্য শিক্ষাবোর্ড থেকে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৬৫ টাকা। এরসাথে স্কুলগুলো থেকে বাধ্যতামূলক কোচিং ফি ধরা হয়েছে ৫০০ টাকা, কোচিং চলাকালীন বেতন ৩৬০টাকা, স্কুল উন্নয়ন ফি ২০০ টাকা, সেশন ফি ১২৫ টাকা, মিলাদ ১০০ টাকা, ব্যবহারিক ৫০ টাকা, পরীক্ষার সময় কেন্দ্রে শিক্ষকদের যাতায়াত ফি বাবদ ১০০ টাকা, স্কুলের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের জন্য ৫০ টাকা ও অনলাইন ফি বাবদ ২৫ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতিজন পরীক্ষার্থী বাবদ ৩ হাজার ৭৫ টাকা করে ধার্য করা হয়েছে। এরসাথে পরীক্ষার্থীদের স্কুলের বকেয়া বেতন ও টেস্ট পরীক্ষায় অকৃকার্য হওয়া প্রতিটি বিষয়ে ২০০ টাকা করে যোগ করা হচ্ছে। এরপর পরীক্ষার আগমুহুর্তে প্রবেশপত্র বিতরণের নামে হাতিয়ে নেয়া হবে মোটা অংকের অর্থ। সূত্রমতে, উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের স্কুলের বেতন ফ্রি হওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানছে না অধিকাংশ স্কুলগুলো। এমনকি টেস্ট পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে কৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্যও ৩ হাজার ৭৫ টাকা করে ধার্য করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার আগৈলঝাড়া, বাবুগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, গৌরনদী, বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। গৌরনদীর নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে একপ্রকার জোরজুলুম করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষকরা। গেরাকুল আখতারুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ম্যানেজিং কমিটির ব্যর্থতার কারণে শিক্ষকরা মনগড়াভাবে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ ঘটনার যে প্রতিবাদ করবে তার ফরম পূরন করা হবেনা বলেও কতিপয় শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্যরা পরীক্ষার্থীদের হুমকি প্রদর্শন করেছেন। তাই বাধ্য হয়েই তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফরমপূরণ করতে বাধ্য হচ্ছে। মাহিলাড়া এএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক প্রণয় কান্তি অধিকারী বলেন, বোর্ড যেটা নির্ধারণ করেছে তার সাথে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক টাকা নিয়ে ফরম পূরণ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দুঃস্থ পরিবারের পরীক্ষার্থীদের বেলায় অবশ্যই ছাড় দেয়া হচ্ছে। তবে কতো টাকা নিয়ে ফরমপূরণ করা হচ্ছে তা তার মনে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, প্রায় প্রতিটি স্কুলের বিরুদ্ধেই অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ফরমপূরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষা বোর্ডের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ফরম পূরণের নামে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা হলে অভিভাবকরা অভিযোগ দায়ের করবেন। অভিযোগের প্রমান পেলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে মন্ত্রী করার দাবী বরিশালবাসীর

    বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে মন্ত্রী করার দাবী বরিশালবাসীর

    মন্ত্রী পরিষদে রদবদলের গুঞ্জন শুরু হওয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে স্থাণীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও বরিশাল জেলা আ’লীগের সভাপতি সিংহ পুরুষ খ্যাত জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপিকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় আ’লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী সহ গোটা বরিশাল বাসী। দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা পার্বত্য শান্তি চুক্তির প্রণেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাাহ তার মেধা.মনন,শৈলী, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে আ’লীগকে বরিশাল সহ গোটা দক্ষিনাঞ্চলে শক্তিশালী ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে এক অপ্রতিদ্বন্ধী রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করেছেন। তার নেতৃত্বে আ’লীগ নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক তৎপরতায় এ অঞ্চলে বিএনপি-জামায়াত’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অনেকটা অস্তিত্বহীণ হয়ে পড়েছে। বরিশালে উপজেলা, ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে পলিসি মেকারের ভূমিকায় অবর্তীণ হন বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী আদর্শের এ নেতা। রাত-দিন একাকার করে তিনি আ’লীগকে সুসংগঠিতও দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে শহর থেকে গ্রাম আর গ্রাম থেকে গ্রামান্তর ছুঁটে বেড়ান। তার দূরদর্শিতায় বরিশালের সব জনপ্রতিনিধি এখন আ’লীগের। শুধু বরিশালেই নয় জাতীয় রাজনীতিতে তার সরব উপস্থিতিও রয়েছে। ১৯৯৭ সালে অশান্ত পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে ‘শান্তি চুক্তি’ সম্পাদনের মাধ্যমে তৎকালীণ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালণ করে বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি ইতিহাসের পাতায় তারও নাম লিখিয়েছেন। ১৯৭১ সালে মামা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে সেই সময়ের সাহসী টগবগে যুবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে বরিশাল অঞ্চলে মুজিব বাহিনী প্রধান হিসেবে মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য মনে করে সন্মূখ সমরে জীবন পণ লড়াই করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ বির্নিমানে অগ্রণী ভূমিকা পালণ করেন।স্বাধীনতার পর তিনি বরিশাল পৌরসভার সফল ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হিসেবে উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।পরবর্তীতে বরিশাল-১(আগৈলঝাড়া-গৌরনদী) আসনে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গোটা বরিশাল অঞ্চলে উন্নয়নের রূপকার হিসেবে আর্বিভূত হন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশেন,বিভাগ,শিক্ষা বোর্ড,বিশ্ববিদ্যালয়,পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা,দোয়ারিকা-শিকারপুর ও দপদপিয়া ব্রিজ নির্মাণ সহ বরিশালের সার্বিক উন্নয়নে তার অপরিসীম ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট কালরাতে রক্তঝড়া অচিন্তনীয় বিয়োগান্তুক অধ্যায়ের শোকগাথাঁয় মামা জাতির জন্ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে বাবা তৎকালীণ কৃষিমন্ত্রী ও কৃষক কুলের নয়নের মনি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও নিজের শিশু পুত্র সুকান্ত আব্দুলাহ সহ পরিবারের অনেক স্বজনকে হারান তিনি। সেদিন রাতে মৃত্যুর দুয়ার থেকে আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের অপার কৃপায় অলৌকিকভাবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ,বুলেটবিদ্ধ স্ত্রী শাহানারা আব্দুল্লাহ ও তার কোলে থাকা দেড় বছরের শিশু পুত্র সাদিক আব্দুল্লাহ বেঁচে যান। শরীরে ৫টি বুলেট বহন করে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে শাহানারা আব্দুল্লাহ স্বামী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর মতো আ’লীগের সুখ-দুঃখের অংশীদার। ৭৫’র পর সেনাশাসক জিয়াউর রহমান, স্বৈরশাসক এরশাদ ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে (৯১-৯৬ ও ২০০১-২০০৬) মিথ্যা মামলা সহ নানা ভাবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে হয়রানির শিকার হতে হয়। ১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলেও ষড়যন্ত্রের শিকার হন তিনি। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা চেহারার অবয়বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছ্বায়া আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে গুরুত্বপূর্ণ কোন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী করা হলে তিনি তার সততা,মেধা,বিশ্বস্ততা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ ও ২০৪১ সালের ভিশন বাস্তবায়ন করে ক্ষুধা,দারিদ্র,সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ-দুর্নীতিমুক্ত, শোষন ও বৈষম্যহীণ স্বপ্নের অসা¤্রদায়িক সোনারবাংলা বির্নিমাণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবেন। বরিশালের আ’লীগ নেতা-কর্মী ও সর্তীথজনদের বিশ্বাস জননেত্রী দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার বিচক্ষন্নতা দিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগি ও পরীক্ষিত নেতা বাংলাদেশ আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১ নং সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে তার ত্যাগ ও যোগ্যতার যথার্থ মূল্যায়ন করবেন।

  • আন্তর্জাতিক হিসাব বিজ্ঞান শিক্ষা দিবস পালিত

    আন্তর্জাতিক হিসাব বিজ্ঞান শিক্ষা দিবস পালিত

    দেশে প্রথমবারের মত ‘আন্তর্জাতিক হিসাব বিজ্ঞান শিক্ষা দিবস’ পালন করলো দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। শুক্রবার রাজধানীর  হাতিরঝিল থেকে আইসিএবি একটি র‌্যালি বের করে, যেটি সিএ ভবন কাওরান বাজারে এসে শেষ হয়।
    আইসিএবি’র সদস্য ছাডাও, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিএ ফার্ম থেকে  হিসাবশিক্ষাথীবৃন্দ র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করে। ১০ নভেম্বর দিবসটি সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। এরই আলোকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের হিসাববিদদের সংগঠন (সাফা) হিসাব পেশার গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য এ বছর দিবসটি জাঁকজমকমপূর্ণভাবে পালন করছে।
    সাফা’র সভাপতি এএসএম নাইম, আইসিএবি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তফা কামাল, সাফা এডুকেশন কমিটির সদস্য মহমুদুল হাসান খসরু, আইসিএবি ঢাকা রিজিওনাল কমিটি’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিনুল হক, কমিটির সদস্যবৃন্দ, আইসিএবি’র সচিব মেজর জেনারেল মুহাম্মদ ইমরুল কায়েস (অব) এবং সাফা’র নির্বাহী সচিব মাহবুব আহমেদ সিদ্দিকী র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন।
    আয়োজকরা জানান, এই দিনটি হিসাব পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ইতালীয় গাণিতিক লুকা পেসিওলি ‘সুমা ডি এরাথমেটিকা, জিওমেট্রিকা, প্রোপরশনি-এট-প্রোপরশনালিটা’- নামক একটি বই রচনা করেন যেটি ১৪৯৪ সালে ১০ নভেম্বর সর্বপ্রথম ইটালির ভেনিস থেকে প্রকাশিত হয়। এই বইটি তখনকার সময়ে গাণিতিক জ্ঞানের সারমর্ম তুলে ধরে। এটিকে ডাবল এন্ট্রি বুক কিপিং উপর প্রথম মুদ্রিত বই হিসাবে গণ্য করা হয়, যাকে বলা হয় মেথড অব ভেনিস।
  • বাবাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক

    আদমদীঘির কুশাবাড়ীর মণ্ডলপাড়ায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিজ ঘরে আগুনে দগ্ধ হয়ে হামিদুল (৫০) নিহত ও তার স্ত্রী হাফসা বিবি (৪৫) আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
    ছেলে রহিদুল (৩০) তারা বাবা হামিদুলকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। হামিদুলের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার আগাপুর গ্রামের হামিদুল ইসলাম আদমদীঘির কুশাবাড়ী গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে দীর্ঘ ধরে বসবাস করে আসছে। তার ছেলে রহিদুল ইসলাম ৫/৬ বছর আগে গজারিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে মর্জিনা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ৩/৪ মাস আগে রহিদুল তার স্ত্রী মর্জিনাকে মৌখিক ভাবে তালাক দেন। এরপর স্ত্রীকে পুনরায় সংসারে ফিরে নিতে কয়েক দফা বৈঠক বসে। রহিদুলের বাবা হামিদুল ইসলাম তাতে রাজি হননি।
    বৃহস্পতিবার বিকেলে রহিদুল বাজার থেকে ডাব কিনে নিয়ে এসে রাতে খাবার শেষে মা-বাবাকে খাওয়ান। পর তিনি পাশের ঘরে ঘুমাতে যান। রাত ১টার সময় হাফসার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পায় হামিদুল আগুনে পুড়িয়ে মারা গেছেন। হাফসা দগ্ধ অবস্থায় ছটফট করছেন। এসময় পাশের ঘরে থাকা তার ছেলে রহিদুল বাড়িতে ছিলেন না। তিনি তার বাবার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে আসেন।
    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল মণ্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসি আবু সায়িদ মো. ওয়াহেদুজ্জামান আটকের কথা নিশ্চত করেন।
  • সৌদি প্রিন্সসহ ২০১ জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

    সৌদি আরবে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ১০০ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে বহু ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিবিসি জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা ব্যক্তিদের মধ্যে সিনিয়র প্রিন্স, মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রয়েছেন।
    গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দেশটির রাজধানী রিটজ কার্লটন হোটেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সৌদি আরবের অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাউদ আল-মুজিব জানান, মোট ২০৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হলেও, এর মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না এনেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
    শেখ সাউদ আল-মুজিব একথাও নিশ্চিত করেছেন জিজ্ঞাসাবাদের কারণে দেশটিতে স্বাভাবিক ব্যবসা বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ শুধু ওইসব ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টই জব্দ করা হয়েছে।
    নতুন করে গঠিত দুর্নীতি বিরোধী কমিটির উদ্যোগে এ তদন্ত চলছে বলেও জানান শেখ সৌদ আল-মুজিব। যার দায়িত্বে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী নতুন ক্রাউন প্রিন্স শেখ মোহাম্মদ বিন সালমান।
  • অনশনের পর বিয়ের পিঁড়িতে

    রাজশাহীর তানোর উপজেলায় প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১৪ ঘণ্টা ধরে অনশনের পর বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন শাবানা খাতুন। বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার হরিপুর গ্রামে প্রেমিক মাসুদ রানার সঙ্গে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।

    জানা যায়, প্রেমিক মাসুদ হরিপুর গ্রামের আবদুল আজিজ মাস্টারের ছেলে। রাজশাহী কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ কামারগাঁ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। আর শাবানা খাতুন একই এলাকার শাফিউল ইসলামের মেয়ে। তিনি তানোর মহিলা কলেজের (চাপড়া) ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ বছর ধরে মাসুদ রানার সঙ্গে শাবানার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাসুদ তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দৈহিক সম্পর্ক করেন। কিন্তু এখন তাকে বাদ দিয়ে অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ খবর জানতে পেরে বুধবার সকালে মাসুদের বাড়িতে গিয়ে শাবানা বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। কিন্তু মাসুদের পরিবার তাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন করছিলেন শাবানা। মাসুদের সঙ্গে বিয়ে না হলে শাবানা আত্মহত্যার হুমকি দেন। এ সুযোগে বাড়ি থেকে কৌশলে পালিয়ে যান মাসুদ। তবে অনড় শাবানা বিয়ের দাবিতে মাসুদের বাড়ির উঠানে অনশন অব্যাহত রাখেন। এ নিয়ে বুধবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ এলাকার লোকজন সালিসে বসেন। সেখানে শাবানার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে প্রথমে অস্বীকার এবং তাকে বিয়ে করা সম্ভব নয় বলেও সাফ জানিয়ে দেন মাসুদ। এসময় শাবানাও মাসুদের সঙ্গে বিয়ে না হলে আত্মহত্যার ঘোষণা দেন। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে মাসুদ নিজের ভুল স্বীকার করে বিয়ে করতে রাজি হন। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ওই রাতেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

    তানোর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, লোকমুখে শুনেছি তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি।

  • শরীয়তপুরে ৬ নারীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ছড়ালেন ছাত্রলীগ নেতা!

    শরীয়তপুরে ৬ নারীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ছড়ালেন ছাত্রলীগ নেতা!

    শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদারের (২২) বিরুদ্ধে ৬  নারীর আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

    জানা যায়, প্রথমে গ্রামের এক গৃহবধূর গোসলখানায় গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে রাখেন তিনি।

    এরপর ভিডিও দেখিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলে তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সে ঘটনাও গোপনে ভিডিও ধারন করেন আরিফ। পরে সেই ভিডিও এলাকার মানুষের হাতে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন তিনি। এ ভাবে প্রতারণা করে ছয় জন নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন তিনি।   ওই নারীদের ধর্ষণের দৃশ্যর ভিডিও গ্রামের মানুষের মুঠোফোনে ছরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আপত্তিকর ওই ভিডিও ও ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছরিয়ে পরেছে।

    স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, আরিফ ভেদরগঞ্জ উপজেলার ফেরাঙ্গিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র। ২০১৫ সালের জুন মাসে তাকে নারায়নপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

    সে প্রতারণা করে যাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ভিডিও ধারণ করেছে তাদের মধ্যে দু‘জন স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী, দু‘জন গৃহবধূ এবং বাকি দু‘জনের পরিচয় এখনও জানা সম্ভব হয়নি।

    গত ১৫ অক্টোবর থেকে ওই নারীদের সাথে আরিফের ধর্ষণের ভিডিও গ্রামের যুবক ও তরুণদের মুঠোফোনে ছড়িয়ে পরে। ১৭ অক্টোবর থেকে ওই ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছড়াতে থাকে।
    ভুক্তভোগী নারীরা লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি নিয়ে কোন মামলা করেননি। এদের মধ্যে একজন গৃহবধূর স্বামী প্রবাশে থাকেন। ওই নারীর শ্বশুর-শাশুরী তাকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। আরেক গৃহবধূ গ্রাম থেকে চলে গেছেন।   কলেজ ছাত্রীরা লোকলজ্জার ভয়ে কলেজে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

    ভুক্তভোগী এক গৃহবধূর বোন বলেন, আমার বোনের কম বয়স। আরিফের প্রতরণার ফাঁদে পড়েছে। তাকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছে। ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কয়েকদফায় অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আতঙ্কে ও লোক লজ্জার ভয়ে এখনও মামলা করিনি।

    ভুক্তভোগি এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, আরিফ আমাকে শেষ করে দিয়েছে। এখন সমাজে কিভাবে মুখ দেখাব। মরে যাওয়া ছারা কোন পথ রইল না।

    নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, কোন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ এ কাজ করতে পারেনা। এ ঘটনাটি এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ঘৃনা ও নিন্দার সৃষ্টি করেছে। আমি আরিফের বাবাকে নিদের্শ দিয়েছি তাকে হাজির করার জন্য। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের জানানো হয়েছে। তাকে পাওয়া গেলে সামাজিকভাবে বিচার করা হবে।

    ভেদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ রাড়ী  বলেন, আরিফ এমন চরিত্রহীন মানুষ এটা আমাদের জানা ছিলনা। সে একাধিক নারীর সাথে প্রতারণা করে ভিডিও ধারণ করেছে তা ক্ষমা করা জায়না। এঘটনা জানার সথে সাথে আমরা ওই এলাকায় খোঁজ খবর নেই। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে সকল ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেই। আর আরিফ হোসেনকে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

    ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মেহেদি হাসান বলেন, ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক মেয়েদের ধর্ষণের ভিডিও ছরিয়ে দেয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ না পাওয়া গেলে কিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    জানতে চাইলে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভেদরগঞ্জের ছাত্রলীগের নেতা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা বড় ধরনের একটি সাইবার ক্রাইম। পুলিশ অভিযুক্ত ওই ছেলেকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। যে কোন উপায়ে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • ৮৩ নদী পুনঃখনন হচ্ছে

    ৮৩ নদী পুনঃখনন হচ্ছে

    বাগেরহাট জেলার ৮৩টি নদী ও খাল পুনঃখনন এবং মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এজন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩১ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

    বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।

    অতিরিক্ত সচিব বলেন, বৈঠকে ‘বাগেরহাট জেলার ৮৩টি নদী/খাল পুনঃখনন এবং মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের ৮৩টি নদী/খালের ৩০৯ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার ড্রেজিং ও পুনঃখনন কাজ করা হবে। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বাস্তবায়নের জন্য পিপিএ-২০০৬ এর ধারা ৬৮(১) অনুসারে সরকারি ক্রয় সম্পর্কিত বিশেষ বিধানের আলোকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে বাস্তবায়নের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৫৩১ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশ নৌ বাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

    River

    মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাইকার অর্থায়নে ‘মাতারবাড়ি কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের (সওজ অংশ)’ ডিটেইল ডিজাইন এবং নির্মাণ কাজের তদারকিতে পরামর্শক সেবার জন্য অ্যাডেনডাম-১ অনুমোদন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৪৭ টাকার কাজ বেড়ে যাওয়ায় মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের শতভাগ বিদ্যুতায়ন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলার জন্য ২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫৫টি বৈদ্যুতিক পোল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ২০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতা বর্ধন, পুনর্বাসন ও নিবিড়করণের কনডাক্টর ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।