Blog

  • বিবাহিত নারীর পরকীয়া

    অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক

    সুজন ও রীতার দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল। হঠাৎ একটি মোবাইল ফোন তাদের সুখের সংসারকে তছনছ করে দেয়।

    সুজনের এক বন্ধু তাকে ফোন করে জানায় যে তার স্ত্রী রিতা অন্য একটি ছেলের সঙ্গে একটি শপিং মলে ঘোরাফেরা করছে। ব্যবসায়ী সুজন হন্তদন্ত হয়ে শপিং মলে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে থাকা ছেলেটির পরিচয় জানতে চান। এ সময় সুজনের স্ত্রী উল্টো তাকে প্রশ্ন করেন ‘আপনি কে? আপনাকে তো আমি চিনি না। ’ সুজন রাগ সংবরণ করতে না পেরে স্ত্রীকে তখন কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। নারীর গায়ে হাত তোলার অপরাধে উপস্থিত নিরাপত্তা রক্ষীরা সুজনকে পাকড়াও করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশের জেরায় সব সত্য প্রকাশ করেন রিতা।

    এ সময় রিতার প্রেমিক পুলিশকে বলেন, ‘রিতার সঙ্গে আমার এক বছরের সম্পর্ক। অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দিয়েছে আমার কাছে। সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

    ’ এ সময় স্বামীকে না চেনার ভান করায় সুজনও রিতাকে ঘরে নিতে অস্বীকার করেন। ঘটনার কিন্তু এখানেই শেষ নয়! শেষমেশ রিতা সুজনের কাছে ক্ষমা চায় এবং প্রেমিক ওই পুরুষটি তাকে ভুল বুঝিয়ে এ পথে নামিয়েছে জানিয়ে তার বিচার দাবি করেন। সুজন শেষমেশ রিতার কথামতো ওই প্রেমিক পুরুষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দেন। দণ্ডবিধি আইনের ৪৯৭ ধারায় ব্যভিচারের শাস্তির উল্লেখ করা হয়েছে। এ আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য লোকের স্ত্রী জানা সত্ত্বেও বা সেটা বিশ্বাস করার অনুরূপ কারণ রয়েছে এমন কোনো নারীর সঙ্গে স্বামীর সম্মতি ব্যতীত যৌন সঙ্গম করেন এবং অনুরূপ যৌন সঙ্গম যদি ধর্ষণের অপরাধ না হয়, তাহলে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের দায়ে দায়ী হবেন, যার শাস্তি সাত বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নির্যাতিতাকে অন্য লোকের স্ত্রী হতে হবে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, ব্যভিচারের ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকের কোনো শাস্তির বিধান আইনে নেই। ওই স্ত্রীলোকটি যে দুষ্কর্মের সহায়তাকারিণী বা ব্যভিচারের অপরাধে দোষী অথচ তিনি কোনো সাজা পাবে না। এ বিষয়ে মহামান্য লাহোর হাই কোর্ট একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত দিয়েছে, যা পাকিস্তান লিগ্যাল ডিসিশন, ১৯৭৪ সন্নিবেশিত রয়েছে। মহিলা আসামি হতে পারে না। তবে ওই পুরুষটির সাজা দিতে হলে অভিযোগকারীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, ওই মহিলার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার সময় আসামি জানত অথবা জানার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল যে, যৌন সঙ্গমকারী মহিলা অপর কোনো ব্যক্তির স্ত্রী। উল্লেখ থাকে যে, কোনো মহিলাকে তার আগের স্বামী তালাক দিয়েছেন এই সরল বিশ্বাসে আসামি বিবাহ করলে তাকে এ ধারার অধীন দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে মহিলার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করা হয় সে মহিলা ওই সময় বিবাহিত না হলে এই ধারার অধীনে কোনো অপরাধ আমলে আনা যায় না। এ ধারার অধীন শাস্তি দিতে হলে বিবাহের বিষয়টি যথাযথভাবে প্রমাণ করতে হয়। তবে মহামান্য লাহোর হাই কোর্ট বলেছেন, অবিবাহিত পুরুষ ও স্ত্রীলোক যদি দীর্ঘদিন ধরে একত্রে বসবাস করে তাহলে বলা যাবে না যে, তারা ব্যভিচারের অপরাধ করেছে। (পিএলডি ১৯৬২, ৫৫৮)। যেহেতু এ ধারার অপরাধ জামিনযোগ্য, অভিযুক্ত প্রেমিক পুরুষ আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন জানান এবং বিচারক মহোদয় তাকে জামিন দেন। এ মামলায় আসামিকে সাজা দিতে হলে বাদীকে পাঁচটি বিষয় অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে। প্রথমত, আসামি কোনো নারীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করেছিল, দ্বিতীয়ত, ওই নারী বিবাহিত ছিল, তৃতীয়ত, আসামি বিবাহের বিষয়টি জানত এবং তা বিশ্বাস করার কারণও ছিল, চতুর্থত, ওই যৌন সঙ্গম নারীর স্বামীর সম্মতি বা সমর্থন ব্যতিরেকে হয়েছিল, পঞ্চমত, ওই যৌন সঙ্গম নারী ধর্ষণের শামিল ছিল না। যেহেতু সাক্ষ্য আইনের ১০১ ধারামতে কোনো ঘটনা প্রমাণের দায়িত্ব বাদীর।   গোপাল চন্দ্র বনাম লাসমত দাসী মামলা যা ৩৪ ডিএলআর, ১৪৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে যে, বিচার্য বিষয় সম্পর্কে যে পক্ষ কোনো ঘটনার অস্তিত্বের দাবি করে সে পক্ষই তা প্রমাণ করবে। এ মামলায় আসামি যে রিতার সঙ্গে ব্যভিচারী করেছে, বাদী সুজন প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় বিচারিক প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, সেই সঙ্গে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করে রায় প্রদান করেন।

    লেখক : আইনজীবী।

  • সেন্সরের মাধ্যমে ট্রাম্পের উপর নজর রাখে সিক্রেট সার্ভিস

    সেন্সরের মাধ্যমে ট্রাম্পের উপর নজর রাখে সিক্রেট সার্ভিস

    আমেরিকার সিক্রেট সার্ভিস নিয়ে সবসময় আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। হলিউড ছবিতে যেমন দেখা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের আশপাশেও তেমন নিরাপত্তা চোখে পড়ে।

    কালো টাক্সেটো, নিখুঁত সানগ্লাস, কানে ইয়ারপিস, লাক্সারি গাড়ি নিয়ে সবসময় থাকে সিক্রেট এজেন্টরা।

    সিক্রেট সার্ভিস আসলে দুই ধরনের মিশনের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। একটি তদন্তকারী, অন্যটি প্রতিরক্ষামূলক।

    ১) শুধু বর্তমান প্রেসিডেন্টকে নিরাপত্তা দেওয়া সিক্রেট সার্ভিসের কাজ থাকে না। বর্তমান প্রেসিডেন্টের পরিবার, তার অতিথি, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও তাদের পরিবারকেও নিরাপত্তা দেয় এরা। সেই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট যাদের চায়, তাদেরও নিরাপত্তা দেওয়ার কাজ করে সিক্রেট সার্ভিস।

    ২) প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করার জন্যই শুধু গঠিত হয়নি এজেন্সি। সিক্রেট সার্ভিস তৈরির মূল লক্ষ্য জালিয়াত ও অর্থনৈতিক প্রতারকদের মোকাবিলা করা।

    ৩) সাধারণ মানুষ যা ভাবে, তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করে এই নিরাপত্তা কর্মীরা।

    পার্সোনাল প্রোটেকশন ইউনিটের মধ্যে বাছাই করা কর্মীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫০০ জন।

    ৪) প্রেসিডেন্টের জন্য জীবন উৎসর্গ করার কোনও শপথ এরা নেয় না। যদি কোনও এজেন্ট প্রেসিডেন্টকে বাঁচাতে গিয়ে মারা যান, সেটা সম্পূর্ণভাবে স্বেচ্ছাকৃত বলে ধরে নেওয়া হয়। ইতিহাসে একমাত্র একজনই এমন অফিসার আছেন। তাঁর নাম লেসলি কফিলেট। প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানকে বাঁচাতে গিয়ে মারা যান তিনি।

    ৫) প্রথমেই কিন্তু সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ফিল্ড মিশনের জন্য আসতে পারে না। প্রথমে তাদের ডেস্কে চাকরি করতে হয়। অন্তত ৩ বছর চাকরি করার পর ফিল্ড মিশনের কথা ভাবতে হয় তাদের। ডেস্কের চাকরি ৪ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। তারপর যদি ফিল্ড মিশনের জন্য কেউ উত্তীর্ণ হয়, তবেই তিনি ফিল্ডে যেতে পারেন। নাহলে তাকে অফিসেই কাজ করতে হয়।

    ৬) বুলেট, পানি সহ সবকিছু নিয়ে অনুশীলন করতে হয় তাদের। যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ মিশনের আগে তাদের এই অনুশীলন করতে হয়। প্রতি ৮ সপ্তাহ অন্তর তাদের স্কিল ডেভলপমেন্ট কোর্সের মাধ্যমে প্রতিটি পরিস্থিতির মোকাবিলা করার চর্চা করা হয়।

    ৭) প্রত্যেক এজেন্টের মেডিক্যাল নিয়ে সর্বনিম্ন জ্ঞান থাকা জরুরি। মুশকিল পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য তাদের এই শিক্ষা প্রয়োজনীয়। দরকার পড়লে যাতে রক্ত দেওয়া যায়, তার জন্য তারা প্রেসিডেন্টের জন্য সবসময় অতিরিক্ত রক্ত সঙ্গে রাখে।

    ৮) প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের জন্য একই অক্ষরের কোড দেওয়া হয়। যেমন, বারাক ওবামার কোড নেম ছিল রেনেগেড। তাঁর স্ত্রীয়ের ছিল রেনাইসান্যান্স। দুই মেয়ের নাম ছিল ব়্যডিয়্যান্স ও রোজবার্ড।

    ৯) যদি কখনও প্রেসিডেন্ট তাঁর ওভাল অফিসে একা থাকতে চান, থাকতে পারেন। কিন্তু তখনও সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা তাঁর উপর নজর রাখেন। প্রেসিডেন্টের সমস্ত মুহূর্তের খবরাখবর তাঁরা সেন্সারের মাধ্যমে নজর রাখেন।

    ১০) প্রেসিডেন্ট যেখানেই যান, এজেন্টরা তাঁকে ফলো করেন। এটাই নিয়ম। প্রেসিডেন্টের যাবতীয় কাজ, শখ মেটানোর সময়ও উপস্থিত থাকেন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা।

    ১১) ওয়াশিংটনের এইচ স্ট্রিটে আছে সিক্রেট সার্ভিসের হেডকোয়ার্টার।

    ১২) ১৪ এপ্রিল, ১৮৬৫ সালে হিউগ ম্যাককালোচ সিক্রেট সার্ভিসের প্রতিষ্ঠা করেন। ওইদিনই মারা যান আব্রাহাম লিঙ্কন।

  • মহিউদ্দিন চৌধুরীকে দেশের বাইরে নেওয়া হবে

    মহিউদ্দিন চৌধুরীকে দেশের বাইরে নেওয়া হবে

    উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র  এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া নেওয়া হবে।

    সোমবার সকালে দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি অনলাইন পোর্টালকে একথা জানিয়েছেন তার ছেলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

    তিনি বলেন, রবিবার রাতে প্রথম দফায় ডায়ালাইসিস সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বাবার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

    ডাক্তারের বরাত দিয়ে মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত। প্রাথমিকভাবে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে হৃদরোগজনিত সমস্যায় তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তাররা।

    তিনি আরও বলেন, বিদেশ নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। সবার সঙ্গে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, উন্নত চিকিৎসার জন্য এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে রবিবার বিকালে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম থেকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই নেতা।

  • সাভারে সমাবেশের গাড়িবহর আটকে দেয়ার অভিযোগ, আটক ১৮

    বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীর প্রবেশ পথসহ সাভারের বিভিন্ন মাহসড়কে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় তল্লাশীর কথা বলে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বহনকারী গাড়িগুলো আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

    এছাড়াও বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে যানবাহন ভাড়া না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিবহন মালিকদেরকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন একাধিক বিএনপির নেতাকর্মীরা।

    এদিকে সমাবেশে আসার পথে সাভার-আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের ১৮ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে অধিকাংশই নাশকতা মামলার আসামি। বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন আশঙ্কায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের সমাবেশকে পণ্ড করতে পুলিশি বাধার বিষয়ে অভিযোগ করলেও পুলিশের দাবি বাঁধা দেওয়ার জন্য নয় নিরাপত্তার জন্যই সাভারের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশী চালানো হচ্ছে।

    এদিকে নিরাপত্তার জন্য রাজধানীর প্রবেশদ্বার আমিনবাজার এলাকায় তল্লাশী চালানোর কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঢাকামুখী যানবাহনের দীর্ঘ জানজট দেখা দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে অনেককেই আবার পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যেতে দেখা গেছে।

    ঢাকা জেলা বিএপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সমাবেশে যাওয়ার জন্য তিনি তার নেতাকর্মীদের নিয়ে সকাল দশটার দিকে সাভার থেকে রওনা দেন। পরে সাড়ে দশটার দিকে আমিনবাজার এলাকায় এসে পৌঁছালে সেখানে থাকা পুলিশের একটি চেকপোষ্ট তাদের ১৩টি গাড়ী বহর আটকে দেয়।

     

    পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, যুবদল নেতা রকিব দেওয়ান ও আলমগীরসহ বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীরা যেন উপিস্থত না হতে পারে সেজন্য সকাল থেকে রাজধানীর প্রবেশ পথ ও সাভারের বিভিন্ন মহাসড়কে চেক পোষ্ট বসিয়ে তল্লাশীর নামে বিএনপির গাড়ী বহর আটকে দিচ্ছে পুলিশ। সমাবেশে লোক সমাগম বাধাগ্রস্থ করতে তাদের নেতাকর্মীদের আটক করছে পুলিশ। এ কারণে বাধ্য হয়ে কৌশল অবলম্বন করে সাধারণ বাসে যাত্রীবেশেই তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হয়েছে।

    এদিকে নাশকতা করতে পারে এমন আশঙ্কায় ধামরাই থেকে দুই জন, আশুলিয়া থেকে সাতজন ও সাভার থেকে নয়জন বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
    এব্যাপারে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান বিএনপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মহাসড়কে নিরাপত্তার জন্য ২ ঘণ্টা পুলিশ চেক পোষ্ট বসিয়ে তল্লাশী চালানো হচ্ছে। এছাড়াও বিএনপির গাড়ি বহর আটকে দেওয়ার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন আমাদের টারগেট হলো রেজিষ্টশন বিহীন মটরসাইকেল। এছাড়া নাশকতা এড়াতে বেশি নিরাপত্তার জোরদার করা হয়েছে ।

     

  • নিজের ছেলে ও মেয়েকে বিয়ে করে হাজতবাস!

    নিজের মেয়ে ও ছেলেকে বিয়ে করে নিলেন এক নারী। আজব এই ঘটনা ঘটেছে আমেরিকার ওকলাহোমা প্রদেশের ডানকান অঞ্চলে।

    এদের তিনজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও প্যাট্রিসিয়া স্প্যান নামে ওই নারীর দাবি যে এই বিয়ে আইনিভাবে বৈধ।

    স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া প্যাট্রিসিয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। যদিও আদালতের নির্দেশে এই তিন ভাই-বোন থাকতে তাদের দাদির সঙ্গে। দাদি এই তিনজনকে নিজের সন্তান হিসেবে দত্তক নিয়েছিলেন। বেশ কয়েক বছর ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না প্যাট্রিসিয়ার। বছর দুয়েক আগে তার সঙ্গে ফের দেখা হয় মেয়ে মিস্টি স্প্যানের। তার তখন ২৬ বছর বয়স। নিজেদের মা-মেয়ের সম্পর্কের বিষয়ে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল হয়েই তারা বিয়ে করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই প্যাট্রিসিয়া ও মিস্টিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপরই তদন্তে নেমে জানতে পারে যে নিজের সন্তানকে বিয়ে এর আগেও করেছিল প্যাট্রিসিয়া। ২০০৮-এ নিজের এক ছেলেকেও বিয়ে করেছিল সে। সেই ছেলের তখন বয়স ছিল ১৮। এরপরই নাতি-নাতনিদের দত্তক নিয়ে নেন তাদের দাদি। এই অপরাধের জেরে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। -এই সময়।

  • গ্রাহক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে  বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের সময়োপযোগী উদ্যোগ।

    গ্রাহক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের সময়োপযোগী উদ্যোগ।

    কাজী সাইফুলঃ

    বরিশাল পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১, রুপাতলী, বরিশাল এর সম্মানীত জেনারেল ম্যানেজার গ্রাহক সেবা বৃদ্ধিসহ যেকোন অভিযোগ সরাসরি তিনিসহ দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জানানোর জন্য মূল অফিসের প্রবেশদ্বারেই সকল কর্মকর্তাগনের মোবাইল নাম্বার টাঙিয়ে দিয়ে যেকোন অভিযোগ সম্মন্ধে সরাসরি তাদের জানানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে করে গ্রাহক হয়রানী অনেকাংশেই লোপ পেয়েছে।

    আমাদের দেশের বিদ্যুৎ সেক্টরটিই সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হয়রানীর বড় উদাহরণ।আর যে কারনে ভোগান্তির শিকার হন সাধারন জনগন ।অনেক অংশে দেখা যায় মিটারের রিডিং এর তুলনায় বিল বেশি আসে,বিলের ডকুমেন্টে তথ্য ভুল থাকে।এবং এই ভুল সংসোধনের ক্ষেত্রে ও জনগনের হয়রানির শিকার হতে হয়।এ ক্ষেত্রে এমন একটি উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।

    বিদ্যুত্ অফিসে আসা সাধারণ জনগন বিষয়টির প্রশংসা করেছেন। দেশের প্রতিটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এমন ব্যবস্থা চালু করা হলে গ্রাহক হয়রানী নিঃসন্দেহে বন্ধ হবে বলে বিশ্বাস করেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ ।

  • প্রধান বিচারপতি পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন: বিদেশে বসে পদত্যাগের কারণ

    প্রধান বিচারপতি পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন: বিদেশে বসে পদত্যাগের কারণ

    সিঙ্গাপুরে বসে স্বাক্ষর করা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গতকাল সকালে বঙ্গভবনে এসে পৌঁছে। কী লিখেছেন তার পদত্যাগপত্রে তা জানতে মানুষ উদগ্রীব ছিল। কী কারণে পদত্যাগ করলেন- এ বিষয়ে প্রশ্নও ছিল সবার মুখে মুখে।
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব এবং ‘মানসিক ও শারীরিক’ কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। তার পরিবারের অন্তত দুজন সদস্য পদত্যাগের কারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
    সিনহার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে যে পদত্যাগপত্রটিতে তিনি স্বাক্ষর করেন, তা লিখেন ইংরেজিতে। পদত্যাগপত্রে বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মন্ত্রিসভার কয়েক সদস্য বিষয়টি নিয়ে সংসদে এবং সংসদের বাইরে নানাভাবে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামগ্রিক দিক বিবেচনায় আমি মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছি। এ অবস্থায় আমার পক্ষে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। তাই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
    তার পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, বিচারপতি এসকে সিনহা দেশে ফিরে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে ফেরায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার পরিবার। পরিবারের সদস্যরা তাকে সিঙ্গাপুরে বসেই পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে রাজি করান। এক্ষেত্রে তার দুই মেয়ে, স্ত্রী, ভাই ও ভাতিজা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশে ফিরে ঝামেলার মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে বিদেশে শান্তিতে বাকি জীবন কাটানোর পথ বেছে নেওয়ার জন্য বিচারপতি সিনহাকে তাগিদ দেন তারা।
    ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে দেশে প্রথমবারের মতো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। আবার বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনাও এই প্রথম। ফলে রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভের একটির প্রধান ব্যক্তির এ পদত্যাগ ৪৭ বছরের বাংলাদেশকে নতুন একটি অভিজ্ঞতার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
    সাবেক আইনমন্ত্রী বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এ ঘটনাটিকে ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ আখ্যায়িত করে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলে মনে করলেও বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জলঘোলা হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না।
    ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার অভিযোগ তুলে নানা আলোচনার জন্ম দেন বিচারপতি সিনহা। নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিধান নিয়ে সরকারের নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। অবসরের পর রায় লেখা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মী বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে তার বাদানুবাদ বিচারাঙ্গন ছাড়িয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছিল। এর পর সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপন নিয়েও সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন চলে বিচারপতি সিনহার।
    সবচেয়ে বেশি টানাপড়েন দেখা দেয় অধস্তন আদালতের বিচারকদের আলাদা আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি তৈরি নিয়ে। এ বিধির গেজেট জারি করতে বারবার সরকারের পক্ষে সময় চাওয়ায় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। এ বিষয় নিয়ে শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি বিভিন্ন মন্তব্য করেও বেশ আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন।
    এর পর সর্বশেষ উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে বড় ধরনের টানাপড়েনের মধ্যে পড়েন এসকে সিনহা। এ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশিত হয় ১ আগস্ট। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও সরকার-সমর্থক আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। কেউ কেউ তার পদত্যাগের দাবি তোলেন। সরকার-সমর্থক আইনজীবীরা তার পদত্যাগের আলটিমেটামও দেন। পাশাপাশি রায়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া পর্যবেক্ষণও স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানান। তবে বিএনপিসহ কিছু দল এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
    সমালোচনার মধ্যেই ২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা হঠাৎ করেই এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে চিঠি দেন। পরের দিন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর আইনমন্ত্রী জানান, প্রধান বিচারপতি ক্যানসারে আক্রান্ত। পরে ১১ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ছুটি ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
    গত ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এসকে সিনহা। দেশ ছাড়ার আগে তিনি তার বাসভবনের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অসুস্থ নই। বিচার বিভাগের স্বার্থে আবার ফিরে আসব। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে একটি মহল প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছেন।’ তিনি একটি লিখিত বিবৃতিও সাংবাদিকদের দিয়ে যান। পরের দিন ১৪ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ ওঠার পর তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসতে চাননি আপিল বিভাগের বিচারপতিরা। এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতির দেশে ফেরা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়।
    নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা একাই অস্ট্রেলিয়া থেকে সিঙ্গাপুরে আসেন। সেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানে দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাসহ তৃতীয় একটি পক্ষও ছিল। বৈঠকে এসকে সিনহা ১১ অভিযোগের বিষয়টি নিষ্পত্তি করে সম্মানজনকভাবে দেশে ফিরে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য এজলাসে বসতে চেয়েছিলেন। অন্যথায় পদত্যাগ করতে চান। সূত্রটি আরও জানায়, কিছু দিন আগে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মাধ্যমে এ দেশ থেকে ই-মেইলযোগে পদত্যাগপত্রের খসড়া নেন। এর পর পদত্যাগপত্র প্রধান বিচারপতি নিজেই চূড়ান্ত করেন

  • হামলার শঙ্কা দেখলেই পরমাণু হামলা চালানো হবে : আমেরিকা

    হামলার শঙ্কা দেখলেই পরমাণু হামলা চালানো হবে : আমেরিকা

    উত্তর কোরিয়া আঘাত হানবে বলে মনে হলে আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পরমাণু হামলা চালাবে। মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস।

    এরই মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হামলার মহড়াও আমেরিকা চালিয়েছে বলেও কংগ্রেসকে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার আসন্ন সরাসরি বা সত্যিকার হুমকির মুখে আমেরিকা নিজ পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে। অবশ্য ‘আসন্ন সরাসরি বা সত্যিকার হুমকি’ বলতে কি বোঝানো হয়েছে সে কথার কোনও ব্যাখ্যা খবরে পাওয়া যায়নি। তিনি কংগ্রেসকে আরও বলেন, আমেরিকাকে রক্ষা করার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের উপর বর্তায়, কংগ্রেসের উপর নয়। মার্কিন নির্বাহী ব্যবস্থার উপর আস্থা রাখার জন্যও কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরমাণু পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যখন টানাপড়েন তুঙ্গে তখন এই বার্তা প্রকাশ্যে এল। এদিকে মার্কিন পরমাণু অস্ত্র নিয়ে সামরিক মহড়া ‘গ্লোবাল থান্ডার’ শুরু করেছে আমেরিকা।   এই মহড়াকে ‘নিছক উন্মাদনা’ বলেছেন আমেরিকার সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষক স্কট রিচার্ড।   এটি উত্তর কোরিয়ার সরকার এবং জনগণকে বৈরী করে তুলবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরণের তৎপরতা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

  • গৌরনদীতে সৎ মায়ের নির্যাতন

    গৌরনদীতে সৎ মায়ের নির্যাতন

    সৎ মায়ের অমানুষিক নির্যাতনে একটি কানের অর্ধেক ছিড়ে ঝুলে গেছে শিশু সাইমুনের (৮)। হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে জেলার গৌরনদী উপজেলার টরকী নবীনগর গ্রামে। জানা গেছে, ওই গ্রামের হালিম হাওলাদারের প্রথম স্ত্রী ছয়বছর পূর্বে মারা যায়। এরপর সাথী বেগমকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন হালিম। সৎ মা সাথীর জ্বালাতনে অতিষ্ঠ হয়ে হালিম তার প্রথম স্ত্রীর পুত্র সাইমুনকে কসবা শরীফবাড়ি নূরানী মাদ্রাসার ভর্তি করে সেখানকার বোর্ডিংয়ে রাখেন। দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র সাইমুন জানায়, শুক্রবার বিকেলে সে বাড়িতে এসে ওইদিন রাতে বাড়িতে থাকায় তার সৎ মা তাকে গালিগালাজের একপর্যায়ে অমানুষিক নির্যাতন করে। এতে তার একটি কানের অর্ধেক ছিড়ে ঝুলে যায়। এসময় সাইমুনের চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে শিশু সাইমুনের পিতা হালিম বাড়িতে পৌঁছে স্থানীয় এক চিকিৎসকের মাধ্যমে সাইমুনের চিকিৎসা করায়। সৎ মা কর্তৃক শিশুকে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • বরিশাল বিমান বন্দরে সরোয়ারের সাথে করমর্দন না করায় আ.লীগ নেতা লাঞ্চিত

    বরিশাল বিমান বন্দরে সরোয়ারের সাথে করমর্দন না করায় আ.লীগ নেতা লাঞ্চিত

    বরিশাল বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে করমর্দন না করায় ঝালকাঠী জেলা পরিষদের সদস্য ও নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মজিবুর রহমানকে লাঞ্চিত করেছে তার (সরোয়ার) সহকর্মীরা। গতকাল শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে উপস্থিত ঝালকাঠীর আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি বিএইচ হারুন এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। তবে নগরীর বিমান বন্দর থানার ওসি বলেছেন, করমর্দন করা না করা নিয়ে বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে ঝালকাঠী জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুল রহমানের বাদানুবাদ হয়েছে মাত্র।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বরিশাল বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে পৌঁছেন। সেখানে পৌঁছে উপস্থিত সবার সাথে করমর্দন করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে ঝালকাঠী জেলা পরিষদের সদস্য ও নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মজিবর রহমানের দিকে করমর্দনের উদ্দেশ্যে হাত বাড়িয়ে দেন সরোয়ার। এ সময় ঝালকাঠী জেলা পরিষদের সদস্য ও নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মজিবুল রহমান করমর্দন থেকে বিরত থাকলে সরোয়ার তাৎক্ষনিক অপ্রস্তুত হন এবং ওই লাউঞ্জে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এমপি বিএইচ হারুন, সরকারী কর্মকর্তা সহ অন্যান্যদের সাথে পর্যায়ক্রমে করমর্দন করেন। পরে সরোয়ার ফের মজিবুল রহমানের পাশের সোফায় গিয়ে বসেন এবং করমর্দন না করার কারন জানতে চান। এ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হলে সরোয়ারকে বিমান বন্দরে এগিয়ে দিতে যাওয়া বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ঝালকাঠী জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুল রহমানকে লাঞ্চিত করেন। পরে সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এমপি বিএইচ হারুন সহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এরপর যথারীতি সরোয়ার এবং মজিবুল রহমান সহ পূর্ব নির্ধারিত যাত্রীরা দুপুর দেড়টার ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন।
    বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান সরোয়ার ভিআইপি লাউঞ্জে বসে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়েছেন দাবী করে এ ব্যপারে খন্দকার মজিবুর রহমান বলেন, ১৯৭৯ সালের ২৭ জুন বরিশালের অশ্বিনী কুমার হলে সরোয়ারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলা হয়। সরোয়ার ওই সময় তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালান। এ কারনে তিনি সরোয়ারের সঙ্গে হাত মেলাতে চাননি। তিনি প্রতিবাদ করলে সরোয়ারের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে ভিআইপি লাউঞ্জে ঢুকে পড়ে। খন্দকার মজিবুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, সরোয়ার তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। সরোয়ারকে বিমান বন্দরে এগিয়ে দিতে যাওয়া বরিশাল মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক জিয়াউদ্দিন শিকদার জিয়া বলেন, চেনা-অচেনা নিয়ে বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে একটু ভুল বোঝাবুঝির সৃস্টি হয়েছিলো। কিন্তু পরক্ষনে সমস্যা মিটে যায়। এটা তেমন কিছুনা। ঝালকাঠী জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুল রহমানকে বিএনপি’র কোন নেতাকর্মী লাঞ্ছিত করেনি বলে দাবী করেন জিয়া। ঝালকাঠী জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুল রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে রিং দেয়া হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে ঝালকাঠীর আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি বিএইচ হারুনের ব্যক্তিগত সহকারী মজিবুল হক কামাল বলেন, সালাম বিনিময় নিয়ে দুই নেতার মধ্যে একটু তর্ক হয়েছিলো। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। নগরীর বিমান বন্দর থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার সময় তিনি বা পুলিশের সিনিয়র কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। খবর পেয়ে তারা সেখানে যাওয়ার আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাদ দিয়ে ওসি আনোয়ার বলেন, করমর্দন করা নিয়ে বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে ঝালকাঠী জেলা পরিষদ সদস্য মজিবুল রহমানের বাদানুবাদ হয়েছে। তবে এর বেশী তিনি কিছু জানেন না।