Blog

  • সচিবের পেনশন থেকে জরিমানা আদায়!

    সচিবের পেনশন থেকে জরিমানা আদায়!

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অপারেশন সাপোর্ট টু দ্য এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (ইজিপিপি)’ প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের দায়ে সাবেক এক সচিবকে সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল কুদ্দুসের পেনশন থেকে এ জরিমানার অর্থ কেটে নেয়া হয়।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থ বিভাগ গত ২ নভেম্বর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে অর্থছাড় করে এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে। পরিপত্রটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠিয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামাল জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রটি তারা পেয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    পরিপত্রে বলা হয়, বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়িত ইজিপিপি প্রকল্পে ‘বকেয়া অনুপযুক্ত ব্যয়’ হিসেবে চলতি অর্থবছরে অর্থ বিভাগের বাজেটের অধীন অপ্রত্যাশিত খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে আট লাখ ৪০ হাজার ৬৯৩ টাকা বিশ্ব ব্যাংককে পরিশোধ করতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ওই টাকা বিশ্ব ব্যাংকে ফেরত দিয়ে এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে।

    সূত্র জানায়, তৎকালীন ইজিপিপি প্রকল্প পরিচালক আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে চার লাখ ৫১ হাজার ১৪৩ টাকার মিসপ্রোকিউরমেন্ট এবং তিন লাখ ৮৯ হাজার ৫৫০ টাকার অনুপযু্ক্ত আদেশর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাসহ মোট আট লাখ ৪০ হাজার ৬৯৩ টাকা ক্ষতিসাধনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

    অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগেই আব্দুল কুদ্দুস চাকরি থেকে অবসরের আগে অবসরোত্তর ছুটিতে যান। ফলে বাংলাদেশ সর্ভিস রুল প্রথম খণ্ড-এর ২৪৭ বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ১৯৮৫ এর বিধি ৩(বি) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে এই মামলা রুজু হয়। একই সঙ্গে গত বছরের ১৮ এপ্রিল তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

    সে অনুযায়ী গত বছরের ২৫ এপ্রিল কারণ দর্শানো সংক্রান্ত একটি লিখিত জবাব দেন আব্দুল কুদ্দুস। এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১ জুন তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।

    লিখিত জবাব ও শুনানিতে আব্দুল কুদ্দুস জানান, স্বাভাবিকভাবে তিনি কোনো আর্থিক অনিয়ম করেননি। তবে দুর্ভাগ্যবশত তিনি টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটির ত্রুটি ধরতে পারেননি।

    এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, আব্দুল কুদ্দুসের লিখিত জবাব, ব্যক্তিগত শুনানির বক্তব্য, ভুলের স্বীকারোক্তি এবং প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ‘অসদাচরণ’র অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তার পেনশন হতে ওই পরিমাণ অর্থ কেটে নেয়ার আদেশ দিয়ে বিভাগীয় মামলাটির নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, এই অর্থসংশ্লিষ্ট সরকারি খাতে জমা হবে। বিধি মোতাবেক কেটে নেয়া অর্থ বাদে তার পেনশনের টাকা এবং পেনশনজনিত অন্যান্য আনুতোষিক পরিশোধের আদেশ দেয়া হয়েছে।

  • অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেলেন যাঁরা

    অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেলেন যাঁরা

    বাংলাদেশ পুলিশ এর পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৩৩ জন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে।

    অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাগণ হলেন- মোঃ রেজাউল করিম পিপিএম-সেবা, বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি, ঢাকা, মোঃ হারুন-অর-রশীদ, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা, শেখ নাজমুল আলম বিপিএম, পিপিএম (বার), উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা, গাজী মোঃ মোজাম্মেল হক বিপিএম-সেবা, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, মহাঃ আশরাফুজ্জামান বিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার ডিএমপি ঢাকা, এ জেড এম নাফিউল ইসলাম, বিশেষ পুলিশ সুপার, এসবি, ঢাকা, মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা,

    এস এম আক্তারুজ্জামান, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, মোঃ ইমাম হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি ঢাকা, আমেনা বেগম বিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, নরসিংদী, মোঃ হায়দার আলী খান, পুলিশ সুপার, এসপিবিএন ঢাকা, মোঃ মনিরুল ইসলাম পিপিএম, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর ঢাকা, মোঃ আজাদ মিয়া, বিশেষ পুলিশ সুপার, এসবি, ঢাকা,

    মোঃ মাহবুবুর রহমান ভূইয়া বিপিএম, এআইজি পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, বেগম আতিকা ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা, মোঃ রুহুল আমিন বিপিএম, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, বাসুদেব বনিক, উপ-পুলিশ কমিশনার, এসএমপি, সিলেট, মোঃ সুজায়েত ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার, সিএমপি, চট্টগ্রাম, মোঃ মোজাম্মেল হক বিপিএম, পিপিএম-সেবা, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা, মোঃ রফিকুল হাসান গনি, পুলিশ সুপার, শেরপুর জেলা, মাহফুজুর রহমান বিপিএম, পুলিশ সুপার, মানিকগঞ্জ, মোঃ রেজাউল হক পিপিএম, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, মোঃ মনির হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক (পুলিশ সুপার), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার(এনটিএমসি),

    এ কে এম নাহিদুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার, আরএমপি, রাজশাহী, মোঃ মনিরুজ্জামান বিপিএম, পিপিএম (বার), এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা, মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম (বার), পুলিশ সুপার, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, মোঃ মুনিবুর রহমান, পুলিশ সুপার, মাগুরা, পরিতোষ ঘোষ, পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশ, কুমিল্লা অঞ্চল, কুমিল্লা, সরদার রকিবুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, নড়াইল, মোঃ মজিদ আলী বিপিএম, পুলিশ সুপার, পিবিআই, ঢাকা, জয়দেব কুমার ভদ্র, উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা, কাজী জিয়া উদ্দিন, এআইজি, পুলিশ অধিদপ্তর, ঢাকা ও মোঃ আসাদুজ্জামান বিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার, বগুড়া।

    ০৮ নভেম্বর’১৭ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ পদোন্নতি প্রদান করা হয়।

  • জিহাদী জীবন থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি তানিয়া

    জিহাদী জীবন থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি তানিয়া

    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ তানিয়া জর্জেলাস ও তার স্বামী জনের জীবনকাহিনী চারটি মহাদেশে বিস্তৃত। জন ছিলেন টেক্সাসের এক ধনী খ্রিস্টান পরিবারের ছেলে।

    কৈশোরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এর ১৩ বছর পর ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগদান করে নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন জন। এর মধ্যেই লন্ডনে তানিয়াকে বিয়ে করেন তিনি।

    সম্প্রতি তানিয়াকে ‘আইএস-এর ফার্স্টলেডি’ অভিধা দিয়ে তার উপর একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করে আমেরিকান ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিক।

    সেই জিহাদি জীবন থেকে পালিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ তানিয়া জর্জেলাস। ফলে জনকে ডিভোর্স দিয়ে ২০১৩ সালে জিহাদি জীবনধারা ত্যাগ করেন তিনি। যদিও তার স্বামী এখনও আইএস’র সঙ্গেই আছেন। আর তানিয়া বর্তমানে বসবাস করছেন মার্কিন শহর ডালাসে।

    তানিয়ার জীবন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে ইয়াহু লাইফস্টাইলে।

    এতে বলা হয়ে, ২০০৪ সালে তানিয়া ও জন জর্জেলাসের সাক্ষাৎ ও বিয়ে হয়। জন জর্জেলাস ইয়াহিয়া আল বাহরুমি বা ইয়াহিয়া দ্য আমেরিকান নামেও পরিচিত। তিনি আমেরিকায় আইএসের শীর্ষ নেতা হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। মুসলিম ভাবধারায় বেড়ে ওঠা তানিয়ার সঙ্গে টেক্সাস থেকে আসা জর্জেলাসের পরিচয় হয়। জর্জেলাসের বাবা মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন ডাক্তার। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরে টুইন টাওয়ারে হামলার পরপরই তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। কাকতালীয়ভাবে, ইতিহাসের এই সংকটকালীন তানিয়াও মৌলবাদে আকৃষ্ট হয়েছিলেন।

    এরই মধ্যে তানিয়া ও জন দম্পতির দ্রুতই তিন সন্তান বিশিষ্ট একটি পরিবার গড়ে উঠে। পরে ২০১৩ সালে তারা আইএসে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করেন এবং একই বছরের আগস্টে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। অবশেষে জন তিন সন্তান ও সন্তানসম্ভবা তানিয়াকে নিয়ে সিরিয়া পৌঁছায়। কিন্তু পৌঁছানোর পর তানিয়ার মনোভাব পরিবর্তন হয়। তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। স্বামীর পিতা-মাতার সহায়তায় তানিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। তিনি আইএসের সঙ্গে থাকা স্বামীকে ডিভোর্স দেন।

    দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনে সম্প্রতি তানিয়ার ওপর একটি ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। পুরো ফিচারজুড়ে একটি জিজ্ঞাসাই ফুটে উঠেছে, তা হলো- আসলেই কি তানিয়ার মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘একসময় তিনি একটি পরিবারকে দেখাশোনা করতেন ও তাদের গুপ্তহত্যার প্রশিক্ষণ দিতেন। লেখক গ্রায়েম উডের পর্যবেক্ষণ হলো- এখনো তার মধ্যে লক্ষণ আছে, সহিংসতার না, তবে জেহাদের বিষয়ে তাকে যেভাবে ভুল বোঝানো হয়েছে তার স্থায়ী একটি প্রভাবের লক্ষণ রয়েছে। এক সময় তিনি আমাকে বললেন যে, তিনি মনে করেন, শিয়ারা প্রকৃত মুসলিম না। আইএস একটি সুন্নি মৌলবাদী দল, শিয়াদের ঘৃণা করাই যাদের মূল তত্ত্ব। সে কখনোই বলেনি যে, সে সিরিয়ায় ফিরে যেতে চায়। কিন্তু সে শোকাহত হয়েছে যে, অনেক আইএস অনুসারীদের বোমা মেরে ধ্বংস করা হচ্ছে। শুধু এই জন্য যে, তারা একজন খলিফার অধীনে বাঁচতে চেয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা সাধারণ বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করার পর তার এ ধরনের মন্তব্য পাওয়া যেতো। ’

    লন্ডনে নিজের বেড়ে উঠার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তানিয়া বলেন, ‘আমি অসংখ্যবার বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছি। প্রায়ই নিজেকে বহিরাগত মনে হত। আমি প্রতিশোধ নেয়ার একটা পথ খুঁজতাম। ”

    যদিও লেখক উড বলেন, তানিয়ার পরিধেয় পোশাক দেখে মনে হতে পারে যে, তিনি গত কয়েক দশক ইতালির ‘ভোগ’ ম্যাগাজিন পড়ে কাটিয়েছেন, কোরান নয়।

    এখনো তিনি তার জেহাদি স্বামীর জন্য টান অনুভব করেন। তিনি বলেন, আমি তাকে না ভালোবেসে থাকতে পারি না। এই ভালোবাসা কিভাবে যাবে তা আমি জানি না। এই পর্যায়ে এসে জর্জেলাস দম্পতির অবস্থা হলো, জন তার আমেরিকান, খ্রিস্টান, শহরতলীর ধনী জীবন ত্যাগ করে আইএসের একজন সদস্য হিসেবে একজন জিহাদির জীবন বেছে নিয়েছে। আর তানিয়া করেছেন তার উল্টোটা- এখন তিনি ডালাসের শহরতলিজুড়ে নিজের পরিচয় খুঁজে বেড়ান। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টায় নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন।

  • নাজমুল হুদার চার বছরের কারাদণ্ড

    নাজমুল হুদার চার বছরের কারাদণ্ড

    ঘুষ গ্রহণের এক মামলায় বিএনপি সরকারের সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার সাত বছরের সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার দুপুরে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    খবর-বিডিনিউজ’র।

    এর আগে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ নাজমুল ও তার স্ত্রী সিগমাকে খালাস দিলেও আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানিতে পাঠায়।

    এই রায়ের অনুলিপি যেদিন বিচারিক আদালতে পৌঁছাবে সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    জজ আদালত এ মামলায় নাজমুল হুদাকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। হাইকোর্টের রায়ে সে বিষয়ে কিছু বলা না থাকায় সেই জরিমানা বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

    বর্তমানে নতুন দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা হাইকোর্টে নিজেই শুনানি করেছিলেন। তবে বুধবার রায়ের সময় তিনি আদালতে ছিলেন না।

    সিগমা হুদার পক্ষে এদিন আদালতে ছিলেন তার আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউ সি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির আহমেদ।

    ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলায় অভিযোগে বলা হয়, নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার মালিকানাধীন সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য জনৈক মীর জাহের হোসেনের কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন তারা।

    ২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মামলাটিতে নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২০ মার্চ নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে তাদের খালাস দেন হাইকোর্ট।

    পরে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ০১ ডিসেম্বর খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। এরপর হাইকোর্টে এ মামলার পুনঃশুনানি শুরু হয়।

  • নেটদুনিয়ায় বিকিনিতে ভাইরাল সোনম কাপুর

    বলিউডের হালের হার্টথ্রুব অভিনেত্রীদের একজন সোনম কাপুর। এবার নেটদুনিয়ায় তার বিকিনি পরিহিত ছবি ও ভিডিও ঝড় তুলেছে।

    মূলত তার এক বন্ধুর মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় বলিপাড়ায়। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে সেটি।

    ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, শুটিংয়ের মাঝেও নিজের জন্য সময় বের করে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিলেন সোনম। ‘ভীর দি ওয়েডিং’-এর শুটের ফাঁকে হাতে একটু সময় পেয়েই বোন রিয়া ও প্রিয় বান্ধবী স্বরাকে নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন সুইমিং পুলে।   আর সেখানে অফ শোল্ডার বিকিনিতে নায়িকার বিশ্রামের কাহিনি নিজের ইনস্টাগ্রামে ফাঁস করে দিয়েছেন স্বরা ভাস্কর।

    অনিল-কন্যার এ রূপ ইতিমধ্যেই তিন লক্ষেরও বেশি দর্শক দেখে ফেলেছেন। কেউ করেছেন প্রশংসা, কেউ আবার নিন্দা। তবে নিন্দার তোয়াক্কা কোনও দিন করেননি সোনম। পর্দার সামনেও বোল্ড হতে তেমন আপত্তি করেননি অভিনেত্রী।

    তাঁর স্টাইল সেন্সেরও বেশ কদর রয়েছে গ্ল্যামার জগতে। তারই নমুনা মিলল এই ছবিতে।

    নতুন বছরেই মুক্তি পাবে পরিচালক শশাঙ্ক ঘোষের ‘ভীর দি ওয়েডিং’। ইতিমধ্যেই ছবির প্রথম ঝলকে করিনা, সোনমের পাশাপাশি নজর কেড়েছেন স্বরা ভাস্কর ও শিখা তালসানিয়া।

    প্রথম পর্বের শুটিং দিল্লিতে শেষ হয়েছে কিছুদিন আগেই। দ্বিতীয় পর্বের শুটিং করার জন্য ফুকেটে পাড়ি দিয়েছেন সোনম-স্বরা-রিয়া।

    ভিডিওতে স্বরা লিখেছেন, লম্বা বিমান যাত্রার পর একটু অবসর পেয়েই পুলের পাশে জমায়েত হয়েছেন সুন্দরীরা। জমাটি আড্ডায় কারিনাকেও যে মিস করছেন সেকথাও জানাতে ভোলেননি স্বরা। তবে ক্যাপশনের থেকেও নেটিজেনদের নজর কেড়েছে সোনমের এই নয়া বিকিনি লুক। যা ইতিমধ্যেই ভাইরাল।

  • আক্রমণাত্মক শুভাশিসকেই ‘সরি’ বললেন মাশরাফি

    আক্রমণাত্মক শুভাশিসকেই ‘সরি’ বললেন মাশরাফি

    চিটাগং ভাইকিংসের দেওয়া ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাট করছিল রংপুর রাইডার্স। তখন ইনিংসে ১৭তম ওভারের খেলা চলছিল। শুভাচিটাগং ভাইকিংসের দেওয়া ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাট করছিল রংপুর রাইডার্স। তখন ইনিংসে ১৭তম ওভারের খেলা চলছিল। শুভাশিসের ইয়র্কার লেন্থের বল ঠেকান ব্যাটসম্যান মাশরাফি। নিজের বলে ফিল্ডিং করেই বল মাশরাফির দিকে ছুড়ে মারতে উদ্যত হলেন শুভাশিস। মাশরাফি হাত ইশারায় বললেন, ‘যা’।

    এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যান শুভাশিস। তেড়ে ‍যান মাশরাফির দিকে। সতীর্থরা এসে যখন শুভাশিসকে টেনে নিচ্ছিলেন তখনও আক্রমণাত্মক ভঙ্গি করতে থাকেন তিনি। বাকিটা মাশরাফি শুধু তাকিয়ে লক্ষ্য করেন। মাশরাফির মতো একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গে শুভাশিসের এমন আচরণে সবাই হতবাক।

    স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসল এই প্রসঙ্গ। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, ‘আমি মনে করি, আই শুড সে সরি টু হিম। আমারই সরি বলা উচিত। ক্রিকেটেরই অংশ। হয়ে থাকে এমন। ওর জায়গা থেকে হয়ত ঠিকই আছে। সে জিততে চায়, আমিও জিততে চাই। যেহেতু সে আমার ছোট, আমার আরেকটু মাথা ঠাণ্ডা রাখলে ভালো হতো। সিরিয়াস কিছু হয়নি অবশ্যই। আমি জানি না, ওর কি করা উচিত ছিল। কিন্তু সিনিয়র হিসেবে আমার আরেকটু শান্ত থাকলে ভালো হতো।’

    সংবাদ সম্মেলন শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এক সংবাদ কর্মী বললেন ‘দেশের একজন ক্রিকেটার আপনার দিকে তেড়ে আসছে হয়তো এই অভিজ্ঞতাটাই বাকি ছিল’! মাশরাফি হেসে বলেন, ‘ছেলেরা সব স্মার্ট হয়ে যাচ্ছে, ভালোই।’ ‘ঘটনা যা ছিল, তা সিরিয়াস কিছু নয়। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ রকম হয়।

     

  • সৌদি প্রিন্স ফাহাদ বেঁচে আছেন

    সৌদি প্রিন্স ফাহাদ বেঁচে আছেন

    ফিলিস্তিন ও আল আকসা মসজিদের স্বাধিকারের পক্ষে সোচ্চার সৌদি প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন ফাহাদের নিহত হওয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রিন্স আবদুল আজিজ সাবেক সৌদি বাদশাহ ফাহাদের কনিষ্ঠ পুত্র।

    সৌদি আরবের তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।

    ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রিন্স আবদুল আজিজের নিহত হওয়ার বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত গুজবের কোনো সত্যতা নেই। তিনি বেঁচে আছেন এবং ভালো আছেন।

    হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে প্রিন্স মনসুর বিন মুকরিন নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর প্রিন্স আবদুল আজিজের নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।

    নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও মাইক্রোব্লগ টুইটারে ‘ডেথ অব প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন ফাহাদ’ নামক হ্যাশট্যাগ দিয়ে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর সাবেক স্পেশাল এজেন্ট আল এইচ সৌফান আবদুল আজিজের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

    টুইটারে দেয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, আবদুল আজিজের মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার বয়স ছিল ৪৪ বছর। এর আগে সাবেক যুবরাজের পুত্র প্রিন্স মনসুর বিন মুকরিনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    গত শনিবার সৌদি যুবরাজ সালমান বিন আবদুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে দেশটির ১১ রাজপুত্র প্রিন্স, চারজন বর্তমান মন্ত্রী এবং প্রায় ডজন খানেক সাবেক মন্ত্রী গ্রেপ্তার হন।

    এরপর সোমবার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আসির প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স মনসুর বিন মুকরিন তার কয়েকজন সহকর্মীসহ নিহত হন।

    প্রিন্স মনসুর নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর একই দিন প্রিন্স আবদুল আজিজ নিহত বলে গুজব ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

    এই প্রিন্স ফিলিস্তিন ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ার কারণে মুসলিম বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়। তার নিহত হওয়ার খবরে বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে সৌদি সরকার। -এএফপি

  • মিয়ানমারকে নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিন

    মিয়ানমারকে নিরাপত্তা পরিষদ রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিন

    রাখাইন রাজ্যে আন্ত সম্প্রদায় সহিংসতা ও সামরিক বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ বন্ধ করে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গত সোমবার রাতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমার পরিস্থিতিতে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

    নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ইতালির স্থায়ী প্রতিনিধি সিবাসতিয়ানো কার্ডি পরিষদের পক্ষে বিবৃতিটি পড়ে শোনান। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের তার দেশের নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার না করলেও বিবৃতিতে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিই ব্যবহার করা হয়েছে।

    জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জানায়, নিরাপত্তা পরিষদের এ বিবৃতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিষয়ে এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি পরিষদে গৃহীত দলিল হিসেবে লিখিত থাকবে।

    চীনের আপত্তিতে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব আনতে পারছে না—আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এমন তথ্যের মধ্যেই চীনসহ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী সব সদস্যের সম্মতিতে ওই বিবৃতি গৃহীত হয়েছে। এতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে তিনি এই সংকট উত্তরণে একজন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখেন। সংকট নিরসনে তাঁর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখতেও মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।   নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতি গ্রহণের ৩০ দিন পর মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বিবৃতি দিতেও জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত বর্ণনাতীত সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবিক সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে নাখোশ হয়েছে মিয়ানমার। জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হাও দো সুয়ান এ বিবৃতিকে ‘অযৌক্তিক চাপ’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ জানান। সংকট নিরসনে এ বিবৃতি সহায়ক হবে না উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২৫ আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার মধ্য দিয়ে এ ট্র্যাজেডির শুরু এবং বিদ্রোহীদের সঙ্গে বিদেশি জঙ্গিও লড়াই করছে। মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেন, ওই ট্র্যাজেডি মোকাবেলায় মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং দুটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। তবে বিবৃতির কিছু অংশ মিয়ানমার প্রত্যাখ্যান করলেও সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজতে অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে। হাও দো সুয়ান বলেন, মিয়ানমার সরকার রাখাইনে শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখবে।

    মিয়ানমার সংকট সমাধানে সর্বসম্মতিক্রমে ‘প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতি’ গ্রহণ করায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন নিরাপত্তা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘সংকট সমাধানের জন্য আমরা সব সময়ই প্রস্তুত রয়েছি এবং আমাদের যা করণীয় তা করে যাচ্ছি। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে চাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদ যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে যথাযথ দায়িত্ব গ্রহণ না করবে ততক্ষণ দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ’

    রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতেও মিয়ানমার বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণে সব সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, এ প্রস্তাব মিয়ানমার সংকট সমাধানে সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের দ্বিবিধ ভূমিকার ক্ষেত্রে পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, যা জাতিসংঘ মহাসচিবের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী করবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে নিহিত। ’

    মাসুদ বিন মোমেন বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন। প্রথমত, উত্তর রাখাইন প্রদেশে বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা দেওয়া, যাতে যে রোহিঙ্গা জনগণ সেখানে রয়েছে তাদের আর পালাতে না হয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে অবশ্যই দৃশ্যমান, ফলপ্রসূ ও টেকসই কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং রাখাইনে মানবিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজকে এ বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। তৃতীয়ত, কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।

    নিরাপত্তা পরিষদের এক হাজার ৩৬২ শব্দের বিবৃতির শুরুতেই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গত ২৫ আগস্ট আরসার হামলার তীব্র নিন্দা এবং আরসার দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। পরের অনুচ্ছেদেই রাখাইন রাজ্যে ২৫ আগস্ট থেকে ব্যাপক সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, সহিংসতায় ছয় লাখ সাত হাজার ব্যক্তির গণবাস্তুচ্যুতি ঘটেছে এবং তাদের বড় অংশই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের।

    নিরাপত্তা পরিষদ রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারাসহ সব মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের খবরে বিশেষ করে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে বল প্রয়োগ ও দমন-পীড়ন, হত্যা, যৌন সহিংসতা এবং বাড়িঘর ও সম্পত্তি ধ্বংসের শিকার হয়েছে বলে পরিষদ উল্লেখ করেছে।

    পরিষদ রাখাইনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এবং পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত কাঠামো বাস্তবায়নে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমারের জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের—এ কথা গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করে পরিষদ মিয়ানমারে গণতন্ত্রায়ণে নিরাপত্তা ও সামাজিক খাত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।

    রাখাইনে মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য মিয়ানমারের ‘ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজ কাঠামো’ গড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে ওই কাঠামো যাতে রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতে সহায়ক হয় এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পরিষদ সংশ্লিষ্ট সরকার ও সব মানবিক অংশীদারকে নারীদের বিশেষ করে যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের প্রয়োজনের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

    জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে রাখাইন রাজ্য বিষয়ক পরামর্শক কমিশনের সুপারিশগুলোর প্রতি মিয়ানমার সরকারের প্রকাশ্য সমর্থনকে নিরাপত্তা পরিষদ স্বাগত জানিয়েছে। এ ছাড়া পরিষদ ধর্ম বা গোষ্ঠী-নির্বিশেষে সবার নাগরিকত্ব, সেবা পাওয়ার সমান সুযোগ, চলাফেরার সুবিধাসহ কোনো ধরনের বৈষম্য না করে সবার মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাখাইনে সংকটের মূল কারণগুলো মিয়ানমার সরকারকে সমাধান করতে বলেছে।

    মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার ওপরও জোর দিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদ মিয়ানমারকে জাতিসংঘের সব সংস্থার, বিশেষ করে মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাজে সহযোগিতা করতে এবং দেশটিতে এ হাইকমিশনারের অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছে।

    নিরাপত্তা পরিষদ বিবৃতিতে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকে দ্রুত রাখাইন রাজ্যসহ সারা দেশে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের একটি উন্মুক্ত সেশনে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দেন। ওই সেশনে মিয়ানমার প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। এরপর ১৩ অক্টোবর মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ‘আরিয়া ফর্মুলা’ মিটিংয়ে বসে নিরাপত্তা পরিষদ। ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ইকোসক চেম্বারে ‘রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতা বিষয়ে’ জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী এবং জাতিসংঘের আন্ডারসেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য ব্রিফিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের আয়োজনে এবং গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নির্মূল ও মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগঠন ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’-এর সহযোগিতায় ‘রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা : শুধু নিন্দা জ্ঞাপনই নয়, প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ’ শীর্ষক একটি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

    মহাসচিবের বিশেষ দূত বাংলাদেশে : কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সংঘাতময় পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত প্রমিলা পাট্টিনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত রবিবার থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে রোহিঙ্গাদের খোঁজখবর নিচ্ছে। এদিকে শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি ভার্জিনিয়া গাম্বা চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গা শিশুদের পরিস্থিতির খোঁজ নেবেন বলে জানা গেছে

  • লাদেন মাছুম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড গ্রেপ্তার

    লাদেন মাছুম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড গ্রেপ্তার

     

    লক্ষ্মীপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী লাদেন মাছুম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড আব্দুছ ছাত্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে।

    আজ মঙ্গলবার রাতে চন্দ্রগঞ্জ বশিকপুর ইউনিয়নের ফতেহধর্মপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    পুলিশ জানায়,  সম্প্রতি দুই সন্ত্রাসীর বন্দুকযুদ্ধে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী লাদেন মাছুম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছাত্তার। খবর পেয়ে ফতেহধর্মপুর এলাকা থেকে একটি দোনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড বন্দুকের কার্তুজ ও ২৬৬ রাউন্ড গুলিসহ ছাত্তারকে আটক করা হয়। চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ছাত্তারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।

  • মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে চালু হল অপারেটর পরিবর্তন সেবা

    মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে চালু হল অপারেটর পরিবর্তন সেবা

    দেশে প্রথমবারের মত চালু হলো মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তন করার সুবিধা। মঙ্গলবার বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার যৌথ কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেককে এ সেবা প্রদানের নোটিফিকেশন পত্র প্রদান করা হয়। এসময় বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, কমিশনের বিভিন্ন বিভাগের কমিশনার, মহাপরিচালক এবং লাইসেন্সের জন্য নোটিফিকেশন প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইনফোজিলিয়ান ছাড়াও মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) নামের এই সেবা প্রদানের জন্য আরও চারটি কনসোর্টিয়াম সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।

    প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ও লিথুনিয়ার যৌথ কোম্পানি গ্রিন টেক মিডিয়াফোন লি., ব্রাজিল বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম, বাংলাদেশ ও পোল্যান্ডের যৌথ কোম্পানি রিভ নম্বর লি. এবং বাংলাদেশ ও মিসরের যৌথ কোম্পানি রয়েল গ্রিন লি.। এমএনপি লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত টেন্ডার কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইনফোজিলিয়ান সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে এ সেবা প্রদানের যোগ্যতা অর্জন করে। বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, গত ১৫ অক্টোবর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে বিটিআরসি কর্তৃক লাইসেন্স প্রদানের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে কমিশনের ২০৮তম সভায় সরকার পূর্বানুমোদন জ্ঞাপন করায় এমএনপি গাইডলাইনের সকল শর্ত পালন সাপেক্ষে ওই প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর গত ০১ নভেম্বর ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেককে লাইসেন্স প্রাপ্তি সংক্রান্ত একটি নোটফিকিশেন পত্র ইস্যু করা হয়। লাইসেন্স প্রাপ্তির পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের মোবাইল গ্রাহকের কমপক্ষে ১ শতাংশ, ১ বছরের মধ্যে ৫ শতাংশ এবং ৫ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ-কে এ সেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

    একজন সেবা গ্রহীতা ৩০ টাকার বিনিময়ে প্রতিবারের জন্য অপারেটর বদল করতে পারবেন। লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য নোটিফিকেশন প্রাপ্ত ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেককে এমএনপি গাইডলাইনের শর্তানুযায়ী লাইসেন্স অ্যাকুইজিশন ফি ১০ কোটি টাকা, বাৎসরিক লাইসেন্স ফি ২৫ লক্ষ টাকা, রেভেনিউ শেয়ারিং (২য় বছর থেকে) ১৫ শতাংশ হারে, ব্যাংক গ্যারান্টি ১০ কোটি টাকা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে ২য় বছর থেকে বাৎসরিক নিরীক্ষাকৃত আয়ের ১ শতাংশ বিটিআরসিকে প্রদান করতে হবে । এমএনপি চালুর ফলে এক অপারেটরের নম্বরে অন্য অপারেটরের সংযোগ নেয়া যাবে। গ্রাহক যে অপারেটরের সেবা পছন্দ করবে, বিনা দ্বিধায় সেই অপারেটরের সংযোগ নিতে পারবেন। এ জন্য নিজের ফোন নম্বরটিও পাল্টাতে হবে না। এ সেবা প্রবর্তনের ফলে মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে গুণগত সেবা প্রদানের প্রতিযোগিতা এবং মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের ৭২ টি দেশে এ সুবিধা চালু রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০১১ সালে এবং পাকিস্তানে এই সেবা ২০০৭ সাল থেকে চালু রয়েছে।