Blog

  • বরিশাল অঞ্চলে আমড়ার বাস্পার ফলন ।

    বরিশাল অঞ্চলে আমড়ার বাস্পার ফলন ।

    শামীম আহমেদ, বরিশাল॥

    চলতি বছরে বরিশাল অঞ্চলে বাস্পার ফলন ফলেছে বাংলার ঋতু ফল আমড়া। ভাল ফলন হলেও গাছ মালিকদের মুখে তেমন কোন হাসী মুল্য না থাকার কারনে। যেকারনে অধিক ফলন হলেও লোকসানের আশংকা করছেন কৃষকরা। টক-মিষ্টি জাতিয় সুস্বাদু বিভিন্ন প্রকার আমড়ার জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত হচ্ছে দক্ষিনাঞ্চলের বরিশাল-ঝালকাঠী-পিরোজপুর জেলা।
    কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, এইসব জেলায় আমড়া চাষের জন্য ব্যবহার হচ্ছে ১ হাজার ৩৩৯ হেক্টর জমি। আর চলতি বছর উৎপাদন হয়েছে ১৯ হাজার ৮’শ ৪৭ মেট্রিকটন আমড়া। যা গতবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন।
    এরমধ্যে ঝালকাঠী সদর উপজেলায় ২৬০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৬৪০ মেট্রিকটন আমড়া। পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী উপজেলায় উৎপাদন হয়েছে ১৫৯ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৪৬৫ মেট্রিকটন আমড়া। এই অঞ্চলের মধ্যে এই দুই এলাকাতেই উৎপাদন সবচেয়ে বেশী।

    আমড়া গাছে ফুল আসে মাঘ ও ফাল্গুন মাসে। আমড়ার সময় হচ্ছে আষাড় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত।
    আমড়া পাইকারী ক্রয়-বিক্রয়ের বাজার হচ্ছে ঝালকাঠী, ভীমরুলি ও পিরোজপুর, স্বরূপকাঠী,আটঘর, কুড়িয়ানা,জিন্দাকাঠী। এসব বাজার থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে আমড়া সরবরাহ করা হয়ে থাকে।বরিশাল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রমেন্দ্র নাথ বাড়ৈ জানিয়েছেন, এবছর এই অঞ্চলে সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে আমড়ার। প্রায় ২০ হাজার মেট্রিকটন। তিনি আরো জানিয়েছেন,বিপুল পরিমান উৎপাদনের কারনে আমড়ার বাজার দর কিছুটা কম।

    স্বরূপকাঠীর পাইকারী ব্যবসায়ী আলমগীর জানিয়েছেন, ফলন বেশী হলেও দর গত বছরের তুলনায় অর্ধেক। সঙ্গত কারনে কৃষকরা লোকসানের আশংকা করছেন। গত বছর ছিল প্রতি মন ১৮০০ টাকা। এবার ১১০০ টাকা।
    জিন্দাকাঠী এলাকার কৃষক গোকুল মজুমদার জানান, গত বছর ৩ একর জায়গায় উৎপাদিত আমড়া বিক্রি করেছি ১৫ লক্ষ টাকায়, একই জমিতে এবার ফলন বেশী হলেও বিক্রি করেছি মাত্র ১০ লক্ষ টাকার আমড়া।আটঘর, কুড়িয়ানা, জিন্দাকাঠী এলাকার কৃষকরা জানান, স্থানীয় পাইকারী বাজারে প্রতিমন আমড়া বিক্রি হচ্ছে ৯০০-১০০০ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছে ১৮০০-২০০০ টাকায়।

    ফরিদুল আলম। স্বরূপকাঠীর একজন পাইকারী ব্যবসায়ী। তিনি জানান,এবছর তিনি দেশের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে ঢাকা,সিলেট ও চট্টগ্রামে ১৫-১৬ হাজার মন আমড়া পাঠিয়েছেন।কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উৎপাদিত ফসলের সুফলটুকু ভোগ করে ফরিয়া, দালাল বা মধ্যসত্ত্বভোগীরা।

  • মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না- সাদিক আবদুল্লাহ

    মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না- সাদিক আবদুল্লাহ

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২৩ ও ৭নং ওয়ার্ডে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বিকেলে ২৩নং ও পরে রাতে ৭নং ওয়ার্ডে কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠিত সভাপতি আলহাজ মুনসুর আহমেদ খান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সচেতন সকলকে আমাদের নতুন সদস্য হিসেবে নিতে হবে। কোন ক্রমেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে সদস্য হিসেবে নেয়া যাবে না। তিনি উপস্থিত নেতা কর্মিদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আমার দাদা বরিশালের মাটি ও মানুষের সাথে বেড়ে উঠেছে। আমার বাবা বরিশালের মানুষের সেবায় আজীবন কাজ করে গেছে। আমিও আপনাদের সেবায় নিয়োজিত হতে চায়।

    আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার, রেশমী বেগমসহ আরো অনেকে। পরে রাতে নগরীর ৭নং ওয়ার্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফারুক হুমায়ন এর সভাপতিত্বে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহনগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বরিশাল সদর উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, জাতীয় পরিষদ সদস্য আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম তোতা, মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাসান মাহামুদ বাবু, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান, প্রচার সম্পাদক গোলাম সারোয়ার রাজিব, উপ-দপ্তর সম্পাদক কাজী মুনির উদ্দিন তারিক, নিগার সুলতানা হনুফা, রফিকুল ইসলাম খোকন, সুমন সেরনিয়াবাত, ইমরুল আহমেদ, মো. আসলামসহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংঠনের নেতৃবৃন্দ।

  • ১০ হলে ডুব ছবির প্রথমদিনের আয়

    ১০ হলে ডুব ছবির প্রথমদিনের আয়

    অনেক আলোচনার অবসান ঘটিয়ে মুক্তি পেয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সিনেমা ‘ডুব’। ছবিটি বেশ ভালোই দর্শক টেনেছে রাজধানী ঢাকার সিনেপ্লেক্সগুলোতে। প্রথম দিনটা খানিকটা ঢিমেতালে শুরু হলেও দ্বিতীয় দিনে দর্শক বাড়ছে।

    ছবিটি বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে ১৩টি প্রদর্শনীতে দেখানো হচ্ছে। তবে দর্শক এখনও ঢাকা অ্যটাকেই মজে আছেন। সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘মুক্তির পর থেকে একটু ধীরগতিতেই চলছে ‘ডুব’। অ্যাকুরেটা সেল রিপোর্ট পেতে আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। তবে দর্শক বাড়ছে। কিন্তু ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিটির দর্শক এখনো কমেনি।’

    শুধু ঢাকাতেই নয়, ঢাকা অ্যাটাকের প্রভাব ডুবে রয়ে গেছে ঢাকার বাইরেও। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, ডুব চলছে এমন হলে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলছে ভেবে প্রচুর দর্শক আসছেন। সেটি না পেয়ে অনেকেই চলে যাচ্ছেন মন খারাপ করে। তবে কেউ কেউ ‘ডুব’ উপভোগ করতে ‍ডুব দিয়েছেন ফারুকীর ছবিতে।

    এদিকে বুকিং এজেন্ট সূত্রে জাগো নিউজের হাতে এসেছে ঢাকার বাইরে যশোরের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল মনিহারসহ ১০টি সিনেমা হলে ‘ডুব’ ছবির প্রথমদিনে সেল রিপোর্ট। জানা গেল, শুক্রবার ঢাকার বাইরের হলগুলোর সেল খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না ‘ডুব’ ছবির জন্য। দ্বিতীয় দিনে বাড়ছে দর্শক উপস্থিতি। রাজধানীর বাইরে সিলেটের নন্দিতা সিনেমা হল থেকে প্রথমদিনের চার শো থেকে এসেছে ৪৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া জয়দেবপুরের বর্ষায় ২৬০০০, গাজীপুরের চম্পাকলিতে ৬১৮১৫, খুলনার লিবার্টিতে ৪২০০, রংপুরের শাপলায় ৩৩০০০, দিনাজপুরের মর্ডান হলে ৪৫০০০, পাবনার বীণা হলে ২৪৭০০, নারায়ণগঞ্জের নিউ মেট্রোতে ৪১০০০, যশোরের মনিহার সিনেমা হলে ৭৫০০০, সিরাজগঞ্জের মমতাজ সিনেমা হলে নিট বিক্রি হয়েছে ১৩০০০ টাকা।

    ‌‌‘ডুব’ পরিচালনা করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বলিউডের অভিনেতা ইরফান খান ও কলকাতার পার্নো মিত্র, বাংলাদেশের নুসরাত ইমরোজ তিশা ও রোকেয়া প্রাচী। বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়ার পাশাপাশি কলকাতার এসকে মুভিজ ছবিটি প্রযোজনা করেছে। এ ছাড়া সহ-প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন ইরফান খান।

  • ঢাকা সিটির জন্য বিশ্বমানের পরিকল্পনা হচ্ছে : সাঈদ খোকন

    ঢাকা সিটির জন্য বিশ্বমানের পরিকল্পনা হচ্ছে : সাঈদ খোকন

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ‘আমরা ঢাকা সিটির জন্য বিশ্বমানের পরিকল্পনা করছি। উন্নত বিশ্বের সিটিগুলোর অভিজ্ঞতা আমরা নিচ্ছি। গত জুলাইয়ে আমরা বিশ্বব্যাংককে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম সেখানে ঢাকার বিভিন্ন সমস্যা উঠে এসেছিল। আমরা সেগুলো সমাধানে কাজ করছি। যেখানে বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সহায়তা করছে। বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, আমরাও বিশেষভাবে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী গড়তে কাজ করছি।’

    শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মেয়রদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা আয়োজন করে বিশ্ব ব্যাংক। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘বিল্ডিং নলেজ নেটওয়ার্ক অ্যান্ড পার্টনারশিপ ফর সাসটেইনেবল আরবান ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের প্রায় ৩২২ জন পৌর মেয়র অংশ নেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতায় ছিল মিউনিসিপল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি), বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব সুইস এজেন্সি।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমাও ফান, সুইডারল্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর রেন হলিন্সট্রিন মিউনিসিপল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আব্দুল বাতেন সভার বিভিন্ন সেশনে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সেশনে সিটি লিডারশিপ অ্যান্ড গুড গভরনেন্স বিষয়ক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ক্লেমশন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসন জেমস এইচ স্পেনসার।

    এই অধিবেশনে নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি বলেন, ঢাকা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে নারায়াণগঞ্জ। ঢাকার কাছে হলেও উন্নয়ন তেমন হয়নি। এটা আলোর নিচেই অন্ধকার। উন্নয়ন কিছুই হয়নি তা নয়, কিছু কিছু উন্নয়ন হয়েছে, পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের এখানে স্থানীয় সরকারকে কীভাবে দুর্বল করে রাখা যায় এর চিন্তা করা হয়। কিন্তু উন্নত রাষ্ট্রে স্থানীয় সরকারকে কীভাবে শক্তিশালী করা তা ভাবা হয়। আইভী বলেন, দেশের প্রত্যেক পৌরসভা ও সিটিতে সমস্যার ধরণ ও চিত্র ভিন্ন। বাংলাদেশের সব মেয়র প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    স্থানীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন বিভিন্ন প্রকল্প জমা দিয়ে টাকা পাচ্ছে। সে তুলনায় পৌরসভা খুব কম টাকা পায়। তবে আগের চেয়ে অনেকটাই টাকা বাড়ানো হয়েছে।’ আইভী বলেন, ‘আমরা স্বাবলম্বী হতে চাই। সড়ক, জনপদ, রেলসহ অন্যান্য খাস জমি আমাদের ব্যবহারের জন্য দেয়া হোক। আমরা এ জমিগুলো ভাড়া দিয়ে অর্থ পেতে পারি।’ এ সময় পৌরসভাগুলোতে সরকারের বাজেট বাড়ানোর অনুরোধ করেন আইভী। বক্তব্য শেষে উপস্থিত মেয়ররা আইভীকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। জবাবে আইভী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী থাকলে আপনাদের এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন। আমি এ বিষয় কিছু বলতে চাই না। আপনারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

    দ্বিতীয় সেশনে ফিলিপাইনের মেয়র মেল সেনেন এস সারমিনতো বলেন, ‘মেয়রদের উচিত সুশাসন নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন ত্বরান্নিত করতে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।’ এ সময় তিনি ফিলিপাইনের অবস্থা তুলে ধরে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পক্ষে মত দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটির মেয়র রালফ বেকার বলেন, ‘বাংলাদেশের শাসনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শাসন আলাদা। আমরা বিকেন্দ্রীকরণ ক্ষমতার চর্চা করি। প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে অনেক লোক আসে অসংখ্য সমস্যা নিয়ে আসে। আমাদের কাজ হলো কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে এর প্রতিকার করা। আমার শহর কীভাবে গতিশীল করব সেই লক্ষ্যে কাজ করি। আমি মনে করি এটা বাংলাদেশেও প্রযোজ্য। আমরা শহরে সর্বত্রই যোগাযোগের আওতায় এনেছি। আমাদের শহরে যখন অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল, কর আদায় হচ্ছিল না তখন ব্যবসায়ীদের আন জানালে তারা এগিয়ে আসে উন্নয়নের জন্য।’

    এই সেশনে আরও বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু। তিনি তার পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, আমরা ৩০ হাজার টাকার বিলবোর্ড আয়কে কয়েক লাখে নিয়ে গেছি। আগে এ টাকাটা এককভাবে নিত বাড়িওয়ালারা, এখন সেটা পৌরসভাও পাচ্ছে। দিনের তৃতীয় সেশনে শহর পরিকল্পনা ও টেকসই অবকাঠামো বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশে নগর পরিকল্পনা নেই। পৌরসভার নিজস্ব আয় কম। পৌরসভার মোট ব্যয়ের ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ তারা বহন করতে পারে। বাকি অর্থের জন্য সরকার ও দাতা সংস্থার দিকে চেয়ে থাকতে হয়।

    এ সেশনের সভাপতিত্ব করেন বিশ্বব্যাংকের ইভারজেলিন কিম কুইনসো। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স এর প্রফেসর ড. আখতার মাহমুদ, ক্যার্লিফোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রবার্ট কারবেরো।অনুষ্ঠানে আগত মেয়রদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার আবেদন জানানো হয়। তারা বলেন, স্থানীয় সরকারের বাজেট বাড়াতে হবে। পৌরসভাগুলোকে নিজস্ব আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি পৌরসভাকে ২০০ একর জমি বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান তারা। এ জমি ব্যবহার করে পৌরসভাগুলো সেখানে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন করবে।

    শিল্পকারখানা গড়ে তুলবে। পৌরসভার আয়ের একটা পথ বের করবে। অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় শুরু হয়। আগামীকাল শেষ হবে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন।

  • মালির ফুল ফোটানো ম্যাচে জিতলো ব্রাজিল

    মালির ফুল ফোটানো ম্যাচে জিতলো ব্রাজিল

    ম্যাচের পর মালির ফুটবলাররা যখন পরস্পরকে সান্ত্বনা দিতে দিতে মাঠ ছাড়ছিলেন তখন বিবেকানন্দ যুব ভারতি ক্রীড়াঙ্গনের ভরা গ্যালারিতে তুমুল করতালি। ড্রেসিং রুমের টানেলে প্রবেশের আগে দর্শকের ভালোবাসার জবাবও দিয়েছেন আফ্রিকার দেশটির যুব ফুটবলাররা। কিন্তু মুখে হাসি ছিল না তাদের। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বাকাপের গত আসরের রানার্সআপ মালি দুর্দান্ত ফুটবল খেলেও হারের বেদনা নিয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে তাদের।

    স্পেন-ইংল্যান্ড ফাইনাল রাতে হলেও বিকেলেই ভরে যায় সল্ট লেকের যুব ভারতি স্টেডিয়ামের গ্যালারি। বেশিরভাগ দর্শকই ছিল ব্রাজিলের সমর্থক। হাতে ব্রাজিলের পতাকা, মাথায় ক্যাপ-বাদ্যযন্ত্র নিয়েও হাজির হয়েছিলেন পেলে-নেইমারদের উত্তরসূরিদের খেলা দেখতে; কিন্তু যাদের জন্য এত আয়োজন দর্শকের সেই ব্রাজিল মন ভরাতে পারলো না তাদের। সমর্থকদের জয়টা উপহার দিতে পারলেও ব্রাজিলীয় ফুটবলটা প্রদর্শন করতে পারেনি তারা।

    সল্ট লেকে বরং ফুটবলের ফুল ফোটালো মালি। গত আসরের রানার্সআপ আফ্রিকার দেশটির সামনে ব্রাজিলের যুবারা ছিলো অনুজ্জ্বল। ২-০ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। কিন্তু ম্যাচের চিত্রের সঙ্গে স্কোরটা কোনোভাবেই যায় না। মালির দুর্দান্ত ফুটবলের ম্যাচটি ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো ব্রাজিল।

    আগের দিন ব্রাজিল যুব দলের কোচ কার্লোস আমাদেউ বলেছিলেন, ২৪ দলের মধ্যে তৃতীয় হওয়াও কম কৃতিত্বের নয়। আমরা জয় দিয়েই বিশ্বকাপটা শেষ করতে চাই। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ব্রাজিল শুধু জয়টাই পেলো। তাতে কোচের তৃতীয় হওয়ার লক্ষ্যটা পূরণ হলেও দর্শকের ভালো ফুটবল দেখার স্বপ্ন থেকে গেলো স্বপ্নই।

    ব্রাজিলের কাছে হারের পর বেশি কপাল চাপড়াবেন মালির গোলরক্ষক ইউসুফ কইতা। ৫৫ মিনিটে ব্রাজিলের গোলটি যে হয়েছে তারই ব্যর্থতায়। বক্সের মাথা থেকে অ্যালান যে শটটি নিয়েছিলেন তাতে না ছিল ধার, না ছিল গতি। বলটি ছিল গোলরক্ষকের হাতের নাগালে। কিন্তু অ্যালানের সাধারণ শটটিই এগিয়ে দেয় ব্রাজিলকে। বল গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক গলিয়ে চলে যায় জালে।

    কখনো ছোট, কখনো লম্বা খেলে মালি কোনঠাসা করে রাখে ব্রাজিলকে। কিন্তু ফুটবল গোলের খেলা, দুটি গোল করে ম্যাচ শেষে জয়ী দলের নাম ব্রাজিল। উপমহাদেশের প্রথম বিশ্বকাপের ট্রফি উড়িয়ে নেবে ব্রাজিল-এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। বিশেষ করে কোলকাতাজুড়ে ছিল ব্রাজিলের গান। শেষ পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরছে তৃতীয় হয়ে। তাও শুধু গোল দিয়ে, সুন্দর ফুটবল খেলে নয়।

    পিছিয়ে পড়া মালি গোলের জন্য মরিয়া হয়েও সফল হয়নি। উল্টো শেষ বাঁশির মিনিট তিনেক আগে দ্বিতীয় গোল খেয়ে হারের ব্যবধান একটু বড় হয় তাদের। ব্রাজিলের ব্যবধান বাড়ানো গোলটি অবশ্য পরিকল্পিত এক আক্রমনের ফল। বক্সে বল পেয়ে অ্যালান ঠেলে দেন অনেকটা অরক্ষিত থাকা বদলি খেলোয়াড় ইউরি আলবার্তোকে। ৭৪ মিনিটে লিনকনের পরিবর্তে মাঠে নামা আলবার্তোর শট নিশ্চিত করে ব্রাজিলের জয়।

  • আইসিটি লিডার অব দ্য ইয়ার পলক

    আইসিটি লিডার অব দ্য ইয়ার পলক

    তথ্যপ্রযুক্তিতে অসামান্য অবদানের জন্য ওয়ার্ল্ড এইচআরডি কংগ্রেসের ‘আইসিটি লিডার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। শনিবার বিকেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

    এর আগে গত বছর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে জুনাইদ আহমেদ পলককে যুব বিশ্ব নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়। সংস্থাটি পলকসহ ৪০ বছরের কম বয়সী বিশ্বের অন্যান্য যুব বিশ্ব নেতাদের নামের একটি তালিকা করে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে।

    পেশাদারী কর্ম সম্পাদন, সমাজের প্রতি অঙ্গীকার এবং আগামীর পৃথিবী রূপায়ণে সম্ভাব্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলককে ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডার ২০১৬’ মনোনীত করা হয়।

    উল্লেখ্য, জুনাইদ আহমেদ পলক ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য। তিনি ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি নির্বাচিত সরকারের সংসদ সদস্য এবং ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

  • রোহিঙ্গাদের ৭১ হাজার একর জমির ধান কাটছে মিয়ানমার

    রোহিঙ্গাদের ৭১ হাজার একর জমির ধান কাটছে মিয়ানমার

    উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ছেড়ে আসা আবাদি জমি থেকে ধান কেটে নিতে শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। স্থানীয কর্মকর্তাদের বরাত ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    এএফপি বলছে, মিয়ানমার সরকারের এই পদেক্ষেপের ফলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় পালিয়ে যাওয়া ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গার রাখাইনে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। গত আগস্টের শেষের দিকে শুরু হওয়া সহিংসতায় মিয়ানমারের এই সীমান্ত অঞ্চলের বেশির ভাগই এখন জনমানবশূন্য। রোহিঙ্গাবিরোধী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নিধন’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

    বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে ‘রাষ্ট্রহীন সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা’দের রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। উত্তর রাখাইনের রোহিঙ্গাদের শত শত গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, রাখাইনের উগ্র বৌদ্ধদের সহযোগিতায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেখানে হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করছে।

    আন্তর্জাতিক ব্যাপক চাপের মুখে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসনের অঙ্গীকার করেছে। যারা সেদেশের বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ দেখাতে পারবেন শুধুমাত্র তাদেরকেই ফেরত নেয়া হবে বলে দেশটির নেত্রী অং সান সু চি জানিয়েছেন।

    তবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসনের এই পরিকল্পনা এখনো আঁধারেই রয়েছে। দেখা দিয়েছে বেশ কিছু প্রশ্নের; কে তাদেরকে ফেরার অনুমতি দেবে, তাদেরকে কীভাবে ফেরত নেয়া হবে এবং কীভাবে তারা ওই অঞ্চলে বসবাস করবেন যেখানে রোহিঙ্গাবিরোধী বিদ্বেষ এখনো আকাশচুম্বী।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, শনিবার রাখাইনের মংডুর ৭১ হাজার একর জমির ধান কাটতে শুরু করেছে সরকার। ব্যাপক সহিংসতায় মংডুর অধিকাংশ এলাকা থেকে পালিয়েছে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা।

    মংডু কৃষি বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা থেইন ওয়েই বলেন, আমরা আজ থেকে মিও থু জি গ্রামের জমি থেকে ধান কাটতে শুরু করেছি। আমরা বাঙালিদের কিছু ধানক্ষেত কাটতে যাচ্ছি; যারা বাংলাদেশে পালিয়েছেন। বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে ডাকা হয়।

    তবে দেশটির সরকার এই ধান কী করবে বা প্রক্রিয়া কি হবে সেবিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা। ফসল কাটার কাজে সহায়তা করার জন্য দেশের অন্যান্য অংশ থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতেই একাজ করা হচ্ছে বলে মিয়ানমার সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ফিল রবার্টসন বলেন, ফসল কাটায় সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্ব দেয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যে রোহিঙ্গারা এসব জমিতে বীজ বপন করেছিলেন সেটার চেয়ে ফসল কাটতেই বেশি মনযোগী মিয়ানমার সরকার।

    এসব বলপ্রয়োগের অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইন থেকে বার্তা দেয়া হচ্ছে যে, ‘তোমাদের যা ছিল; এখন তা আমাদের এবং তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে না।’

    সূত্র : এএফপি, গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার।

  • প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বরিশাল মহানগর মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ

    প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বরিশাল মহানগর মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ

    আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ।

    এ উপলক্ষে গতকাল এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ বরিশাল মহানগরীর সভাপতি মুহাঃ পলাশ চৌধুরী।
    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বরিশাল মাহনগর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট একেএম জাহাঙ্গির হোসেন। এ সময় তার বক্তব্যে তিনি আগামী দিনের পথ চলায় বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
    সভায় সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ বরিশাল মহানগর এর সাধারন সম্পাদক সাফিন মাহামুদ তারিক।

    আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর তারিখে এই সংগঠনের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। সারা দেশের মত বরিশালেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে। তাছাড়া এ উপলক্ষে বর্ণিল আলোকসজ্জা, র‌্যালি, আলোচনা সভা সহ নানান কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে।

  • আমরা মানুষ, এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নয় – শেখ হাসিনা

    আমরা মানুষ, এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নয় – শেখ হাসিনা

    ‘শিশু, নারী এবং নিরীহ মানুষের কী দোষ? তারা তো দায়ী নয়। সাধারণ জনগণকে আক্রমণের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বা অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমর্থন করা উচিত নয়।’ কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে বিবিসিকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাদের (মিয়ানমারের) এটি বন্ধ করা উচিত। পাশাপাশি মিয়ানমার সরকারের উচিত ধৈর্যের সঙ্গে এ অবস্থা মোকাবিলা করা। তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় সংসদে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মিয়ানমারকে তাদের সব নাগরিককে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং তাদের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।’

    মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন, যাতে তারা তাদের জনগণকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা বিনয়ের সঙ্গে তাদের আশ্রয় দেব, যাতে তারা খাদ্য, চিকিৎসা পায়।’
    কত দিন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবেন—বিবিসির সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যত দিন তাদের ফেরত না নেওয়া হবে। তারা মানুষ। এমন ভয়াবহ অবস্থায় আমরা তাদের ফেরত পাঠাতে পারি না। আমরা মানুষ।’

  • ‘সব হারিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেদনা বুঝি’ – শেখ হাসিনা

    ‘সব হারিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেদনা বুঝি’ – শেখ হাসিনা

    মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়ে সব হারিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব হারিয়ে যারা বাংলাদেশে এসেছেন তাদের বেদনা বুঝি।

    আজ মঙ্গলবার বেলা পৌঁনে ১২টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা আমরা বুঝি। ’৭৫-এ বাবা-মা হারিয়ে আমাদেরও রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ’৭১-এ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের ওপর এভাবেই অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। পাক হানাদার বাহিনী আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল, আমাদের দেশের মানুষকেও ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আমাদের মানুষদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মানুষ উপায় না পেয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। তাই আমাদের যতটুকু সামর্থ আছে সাহায্য করছি। এ বিষয়ে আমরা কমিটিও করে দিয়েছি। ’

    শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য, আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। আমি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছি। তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের যা করার দরকার আমরা সেটি করবো। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে তাতে কি তাদের বিবেককে নাড়া দেয় না? একজনের ভুলে এভাবে লাখ লাখ মানুষ ঘরহারা হচ্ছে। আমরা শান্তি চাই। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ। সবার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি। সেখানে আরও ৫/৭ লাখ মানুষকেও খেতে দিতে পারবো। ’

    এ সময় স্থানীয়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন যারা যুবক তারা হয়তো মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি। কিন্তু আমরা দেখেছি। তাই রোহিঙ্গাদের যেন কোনও কষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ’

    এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, কক্সবাজার-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম ও মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

    এর আগে বেলা সোয়া ১০টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে গাড়ি বহরে কুতুপালংয়ের উদ্দেশে রওনা হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান।