Blog

  • হারের মুখ থেকে জিম্বাবুয়ের নাটকীয় ড্র

    হারের মুখ থেকে জিম্বাবুয়ের নাটকীয় ড্র

    বুলাওয়েতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন থেকেই নানা নাটকীয়তা চলেছে। একবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালো অবস্থানে, তো আরেকবার জিম্বাবুয়ে। তবে বিপদে পড়েও প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়রা ৪৪৮ রানের বড় পুঁজি গড়ে ফেললে হারের মুখে ছিল জিম্বাবুয়েই।

    নাটকের জন্ম দিয়ে এই ম্যাচটিই ড্র করে ফেলেছে গ্রায়েম ক্রেমারের দল। সিকান্দার রাজা আর রেগিস চাকাভার দেয়াল গড়ে দেয়া দুটি হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হতাশায় ডুবিয়েছে স্বাগতিকরা। পঞ্চম দিনে জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩০১ রান তোলার পর ড্র মেনে নেয় দুই পক্ষ।

    ১২ বছরের মধ্যে টেস্টে জিম্বাবুয়ের এটি প্রথম ড্র। ২০১৩ সালের পর ১০ টেস্টে এবারই প্রথম হার এড়াতে পারল তারা। তবে প্রথম টেস্ট জয়ের সুবাদে দুই ম্যাচের সিরিজটা ১-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজই।

    প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ে পিছিয়ে ছিল ১২২ রানের বড় ব্যবধানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত পরাজয় দেখছিল স্বাগতিকরা। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেন সিকান্দার রাজা।

    পঞ্চম দিনে ৮৯ রানে তিনি আউট হবার পর বাকি কাজটা সেরেছেন রেগিস চাকাভা। শেষপর্যন্ত ৭১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ২৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমারেরও এই ড্রয়ে অবদান কম নয়।

  • পারিবারিক কলহে প্রাণহানি বাড়ছে

    পারিবারিক কলহে প্রাণহানি বাড়ছে

    রাজধানীর কাকরাইলে মা ও ছেলে এবং উত্তর বাড্ডায় বাবা ও মেয়েকে হত্যার প্রাথমিক কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘পারিবারিক কলহ’। স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের একে-অপরের সঙ্গে কলহ-দ্বন্দ্ব আদিম যুগ থেকেই বাংলাদেশে ছিল। তবে বর্তমানে তা ভয়ঙ্ককর রূপ ধারণ করেছে। শুধু গত ১০ মাসে এই কলহের জেরে আক্রমণের শিকার হয়েছেন ৫১৩ জন। তাদের মধ্যে কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, কেউ আত্মহত্যা করেছেন।

    বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার (বিএমবিএস) এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পারিবারিক কলহের জেরে মারা গেছেন ৩৮৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১২৮ জন। ২০১৬ সালে একই কারণে প্রাণ যায় ৩৮৪ জনের এবং আহত হন ৩১৩ জন। ২০১৫ সালে মৃতের সংখ্যা ছিল ৩৭৯ এবং আহত ৩২৭জন।

    গত বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে ব্যবসায়ী আবদুল করিমের স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে শাওনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়ারা দাবি করছেন, বাড়ির মালিক আবদুল করিমের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সৃষ্ট কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

    ওইদিন একই সময়ে মুন্সীগঞ্জে মো. মমিন (৫০), স্ত্রী লুবনা বেগম (৪৪) ও শিশুকন্যা সানজিদা (৯) একসঙ্গে বিষপানে ‘আত্মহত্যা’ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় হত্যা করা হয় বাবা ও মেয়েকে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধারণা, ওই তিন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পারিবারিক কলহ। বিএমবিএসের ওই পরিসংখ্যানকে উদ্বেগজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

    bb

    উত্তর বাড্ডায় নিহত জামিল ও মেয়ে নুসরাত (ডানে)

    বিএমবিএসের জরিপ ও গবেষণা নিয়ে সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা সোহেল আহমেদ বলেন, ‘মূল্যবোধের অবক্ষয়, শিক্ষা ও অর্থের অভাব, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক সংকটের কারণে এ ধরনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। এছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অভাবের কারণেও এ ধরনের কলহ সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। আমাদের দেশে বিনোদনের মাধ্যমগুলোও এর অন্যতম কারণ। বিনোদনের নামে দেশের জনগণের ওপর কনফ্লিক্টের (দ্বন্দ্ব) বীজ দেয়া হচ্ছে। ভারতীয় সিরিয়ালগুলো এজন্য অনেকাংশে দায়ী। তাদের পারিবারিক কলহ আমাদের দেশের দর্শকদের দ্বন্দ্বে জড়াতে প্রভাবিত করে। এ পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব হ্রাস, সঠিক শিক্ষা ও বিনোদন নিশ্চিত করতে হবে।’

    ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের হিসাবে দেখা যায়, ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়ে রাজধানীতে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে ৩০ হাজার ৮৫৫টি। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি পরিবারে বিচ্ছেদ ঘটছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিত্বের সংঘাত, সামাজিক অস্থিরতা, তথ্যপ্রযুক্তি ও আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ও পারিবারিক কলহ।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, এ ধরনের সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়েই আছে। মূলত যাদের বেড়ে ওঠা সঠিকভাবে হয়নি, তারাই এ ধরনের আচরণ করে। এছাড়া এর পেছনে অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা থাকতে পারে।

    ‘স্বামী মদ খাবে, টাকা না পেলে স্ত্রীকে মারধর করবে। এ ধরনের ঘটনা থেকেই সূত্রপাত হয় কলহের। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবও এর জন্য দায়ী। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তারা মনে করে নিজেরা সর্বেসর্বা। তারা যেহেতু আয় করে তাই তারা মনে করে পুরো পৃথিবীই তার। আর যে সমস্ত নারী আয় করেন তারা পুরুষের এই একঘেয়েমি সহ্য করেন না, যা পারিবারিক কলহে রূপ নেয়। বিচ্ছেদও বাড়ে এ কারণে।’

    kk

    কাকরাইলে নিহত শামসুন্নাহার ও ছেলে শাওন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালমা আক্তার বলেন, ‘মানবিকবোধের বিপর্যয়, বস্তুবাদী, সামাজিক সংহতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, পরিবারকেন্দ্রিক বন্ধন কমে যাওয়াই পারিবারিক কলহের মূল কারণ।’

    তিনি বলেন, ‘সামাজিকীকরণের মধ্যে আগে যেমন পাস্পরিক সম্প্রীতি ছিল, সেখানে এখন অনেক ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে মানুষের মধ্যে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা দেখা যাচ্ছে, আমরা বস্তুবাদী হয়ে যাচ্ছি। মানবিক সম্পর্ক এবং নৈতিকতার বন্ধন থেকে আজ মানুষ বস্তুকে প্রাধান্য দিচ্ছে। একইসঙ্গে আগেরকার সময়ে আমাদের সামাজিক যে প্রতিষ্ঠান বা সম্প্রীতি ছিল সেটিও কমে যাচ্ছে। যার কারণে মানুষ একতাবদ্ধ থাকছে না।’

    ‘তাদের একিভূত করে রাখার যে বিষয়গুলো ছিল; যেমন- ধর্ম, পরিবার, আত্মীয়তার বন্ধন- এগুলো কিন্তু আমাদের জীবন থেকে একেবারে উঠে যাচ্ছে। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। এক সময় সামাজিক কিছু নিয়ম-রীতি ছিল, যার মাধ্যমে এলাকার মাতব্বররা এসব সমস্যার মিউচ্যুয়াল (সমাধান) করে দিতেন। এগুলো কিন্তু এখন আর নেই।’

    বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, শুধু পরিবার নয় আমাদের মধ্যে ছোটকালের স্কুলের শিক্ষকদের, প্রতিবেশী ও ধর্মীও নেতাদের শেখানো নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। রাষ্ট্রকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচল করতে হবে। কমিউনিটি বেইজড প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে।

  • ভ্যাটমুক্ত হতে পারে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল

    ভ্যাটমুক্ত হতে পারে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল

    ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যয় কমাতে ভ্যাটমুক্ত করার ঘোষণা আসতে পারে। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সম্প্রতি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ওনার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এমন ইঙ্গিত দেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, গত ৩০ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব ও একজন যুগ্ম সচিবের সঙ্গে তিনটি এজেন্ডা নিয়ে বৈঠক হয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ওনার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের। বৈঠকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভ্যাট আরোপের ফলে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন স্কুল প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ভর্তি, টিউশন ফিসহ অন্যান্য ব্যয়ে সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় শিক্ষা ব্যবস্থায় কীরূপ বৈষম্য হচ্ছে তাও তুলে ধরেন তারা।

    এছাড়া ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনা সংশোধনী নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগ এবং অভিভাবক-শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের যে রূপরেখা দেয়া হয়েছে তার নেতিবাচক কিছু দিক তুলে ধরা হয়।

    বৈঠকে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসিস্টেন্ড ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের প্রিন্সিপাল মো. মোর্শেদুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভ্যাট আরোপ করায় বাংলা ও ইংলিশ শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে। ভর্তি ও টিউশন ফি-তে ভ্যাটযুক্ত হওয়ায় পড়ালেখায় ব্যয় বেড়ে গেছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

    ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের মালিক সমিতির দুটি সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি আমরা অর্থমন্ত্রীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। ভ্যাট বাতিলে দ্রুত ইতিবাচক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন’-বলেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, সভায় ভ্যাট মওকুফ ছাড়া আরও দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তা হলো- সংশোধনী নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা এবং স্কুল পরিচালনায় অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া।

    ‘সংশোধনী নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়াসহ বাংলা মাধ্যমের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এতে নিয়োগে সময়ক্ষেপণসহ নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া স্কুল অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধি গঠনের কথা বলা হলেও কোন প্রক্রিয়ায় হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।’

    মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনায় সরকারি কোনো সহায়তা দেয়া হয় না। সেক্ষেত্রে বাংলা মিডিয়ামের আদলে আমাদের পরিচালনা করা কতটা যৌক্তিক তা তুলে ধরা হয় বৈঠকে। বিষয়গুলো সহজীকরণে অর্থমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন। দ্রুত এসব বিষয়ে সহজীকরণ করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব বলেন, সভায় তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে অরোপিত সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট মওকুফের বিষয়টি মূল বিষয় হিসেবে উত্থাপিত হয়। অর্থমন্ত্রী ভ্যাট মওকুফের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দ্রুত এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও মন্ত্রী ইংলিশ মিডিয়াম ওনার সমিতির প্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগ সহজীকরণ ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনে গাইডলাইন চাওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষক নিয়োগে একটি প্যানেল তৈরি ও কমিটি গঠনে নতুনভাবে দিকনির্দেশনা দেয়া হবে বলে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সাত শতাংশ ভ্যাট থেকে বাড়িয়ে সাড়ে সাত শতাংশ আরোপ করা হয়। এ নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সানিডেল ও সানবিম স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা রিটের শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের টিউশন ফির ওপর আরোপিত সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। এরপর দুই মাস ভ্যাট দিতে হয়নি অভিভাবকদের।

    তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করেন। ফলে নভেম্বর মাসে থেকে স্কুলগুলোকে আবার ভ্যাট দেয়া শুরু করতে হয়।

  • ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন আজ

    ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন আজ

    মানবসভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কময়, রক্তঝরা ও বেদনাবিধুর একটি দিন আজ। ৩ নভেম্বর, জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে। এরপর ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতাকে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

    জাতীয় এই চার নেতা হলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম কামরুজ্জামান।

    ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা।

    মুক্তিযুদ্ধে চার নেতার অবদান

    জাতীয় এ চার নেতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার হাতে আটক বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও নেতৃত্ব দান করেন। বঙ্গবন্ধুর আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে জাতির জনককে তার ঐতিহাসিক ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। পরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের মুজিবনগর সরকারের সমধিক পরিচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কোটি কোটি বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর অপর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    চার নেতার হত্যাকাণ্ড

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় চার নেতাকে তাদের সরকারে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এই জাতীয় চার নেতা সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এ কারণে তাদের নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়।

    গোলাম মুরশিদ তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’ গ্রন্থে লিখেছেন, খন্দকার মোশতাক আহমেদ জেলহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন কেবল ফারুক আর রশিদকে নিয়ে। তিনি ঠিক করেছিলেন যে, যে কোনো পাল্টা অভ্যুথান হলে কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানকে হত্যা করা হবে, যাতে নতুন সরকার গঠিত হলেও এই নেতারা তাতে নেতৃত্ব দিতে না পারেন।

    বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সবচাইতে ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্ররোচণায় এক শ্রেণির উচ্চাভিলাসী মধ্যম সারির জুনিয়র সেনা কর্মকর্তা এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটায়। দেশের এই চার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর কারাগারে পাঠিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা প্রথমে গুলি এবং পরে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

    মোশতাক ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র ৮২ দিন। এরই মধ্যে দেশকে পাকিস্তানিকীকরণের দিকে এগিয়ে নেয়া ছাড়া তার সবচেয়ে বড় দুটি কুকীর্তি হলো জেলে জাতীয় চার নেতাকে খুন এবং ১৫ আগস্টের খুনিদের বিচার করা যাবে না – দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করা। পঁচাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। আর জেলে নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটান ৩ নভেম্বর ভোর রাতে।

    জেল হত্যার মামলা

    জেল হত্যার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এ বিচার প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। মামলায় ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মামলায় রায় দেন। রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

    সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে হাইকোর্ট ২০০৮ সালে দেয়া রায়ে মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মারফত আলী ও হাসেম মৃধাকে খালাস দেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করে সরকার।

    ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সরকারপক্ষের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আদেশে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তবে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া দফাদার মারফত আলী শাহ এবং এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়। আত্মসমর্পণ না করলে তাদের গ্রেফতার করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল ওই আপিলের ওপর রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায়ে জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায় বহিষ্কৃত দুই সেনা সদস্য দফাদার আবুল হাসেম মৃধা ও দফাদার মারফত আলী শাহকে নিম্ন আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তাদের খালাস দেয়া সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল ঘোষণা করেন।

    জেল হত্যা দিবসের কর্মসূচি

    জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হবে শোকাবহ এই দিবসটি।

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা শহীদ জাতীয় চার নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

    জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শুক্রবার সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। এছাড়া সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ও জাতীয় নেতাদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

    একইভাবে রাজশাহীতে জাতীয় নেতা শহীদ কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

  • বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হাজী সহিদ

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হাজী সহিদ

    ৬ দিনের জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ভারপ্রাপ্ত মেয়র হচ্ছেন ১ নম্বর প্যানেল মেয়র ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী কেএম শহীদুল্লাহ সহিদ।

    বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ‘সিটি নেট কনগ্রেস-২০১৭’  এ অংশ নিতে শ্রীলঙ্কায় যাচ্ছেন।

     

    আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র কামাল শ্রীলঙ্কায় অবস্থানকালীন সময়ে সিটি করপোরেশনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক নম্বর প্যানেল মেয়র হাজী সহিদকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেন।

    গত ৩১ মেয়র মেয়র আহসান হাবিব কামাল এক অফিস আদেশে হাজী সহিদকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেন।   ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব নেবেন তিনি। এ নিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেলেন হাজী সহিদ।

  • কাবাডি খেলাকে এগিয়ে নিতে হবে : আইজিপি

    কাবাডি খেলাকে এগিয়ে নিতে হবে : আইজিপি

    বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, কাবাডি আমাদের জাতীয় খেলা। এই খেলাকে এগিয়ে নিতে সারাদেশে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।

    পাশাপাশি কাবাডি ফেডারেশনকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
    বৃহস্পতিবার বিকালে খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে অনুষ্ঠিত মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার গোল্ডকাপ কাবাডি প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন ও শেখ কামাল স্মৃতি সংসদ রানার্সআপ হয়।
    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী বেগম শামসুন্নাহার রহমান। কেএমপি কমিশনার মো. হুমায়ুন কবিবের সভাপতিত্ব বক্তৃতা করেন খুলনা-২ আসনের সাংসদ মিজানুর রহমান ও টুর্নামেন্ট কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম।

  • তৌসিফ-শবনমের ‘মিঃ এন্ড মিসেস জিনিয়াস’

    তৌসিফ-শবনমের ‘মিঃ এন্ড মিসেস জিনিয়াস’

    মেঘলার বাবা-মা কেঊ বেচে নেই, বড় ভাইয়ের কাছেই বাবা মায়ের আদর ভালোবাসা পায়,মেঘলা ভালোবাসে ফারহানকে কিন্তু ফারহানকে কোনভাবেই পছন্দ করেনা তার বড় ভাই,এই নিয়ে শুরু হয় ভাই বোনের মধ্যে মান-অভিমানের পর্ব। পরিশেষে ফারহানকে মেনে নিলেও বড় ভাইয়ের মনের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে কারণ ফারহান রোড এ্যাক্সিডেন্টে মারা যায়,যে ছেলেটির সাথে মেঘলার বিয়ে হয় সে ফারহানের মত দেখতে হলেও তার নাম রাফাত।

    এই নিয়েই মোর ঘুরতে থাকে ‘মিঃ এন্ড মিসেস জিনিয়াস’ নামক একটি নাটকের গল্পের।

    সিনেমাছি প্রডাকশন লিঃ এর ব্যানারে নির্মিত নাটকটি পরিচালনা করেছেন আহমেদ জিহাদ এবং গল্পের চিত্রনাট্য লিখেছেন সকাল আহম্মেদ সুমন।

    নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব,শবনম ফারিয়া, শতাব্দী ওয়াদুদ এবং নুরুল কাউসার মানিক।

    এছাড়াও আরো অভিনয় করেছেন নোমান হোসেন,রাহুল সরকারসহ আরো অনেকে।

    নাটক প্রসঙ্গে শতাব্দী ওয়াদুদ বলেন, ‘সিনেমাছি টিমের মিঃ এন্ড মিসেস জিনিয়াস নাটকটিতে কাজ করে খুব ভালো লেগেছে কারণ গল্পটি ছিল ভিন্ন ধারার, আশা করি কাজটি দর্শক জনপ্রিয়তা পাবে। ’ জানা যায় আগামঅকাল শুক্রবার ৮টা ১০মিনিটে আরটিভিতে নাটকটি প্রচার হবে।

  • সংঘাতের উসকানি দিয়ে সমঝোতা হয় না : কাদের

    সংঘাতের উসকানি দিয়ে সমঝোতা হয় না : কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংঘাতের উসকানি দিয়ে সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি হয় না। ফেনীর সাজানো হামলার ঘটনা সংঘাতের উসকানি।

    গতকাল দুপুরে রাজধানী ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘আমরা সংঘাত চাই না, সমঝোতা চাই’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি আয়োজিত ‘নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের ১১ দফা জনগণের প্রস্তাব’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব! আপনাদের মুখে সংলাপের কথা ও মনের কথার দূরত্ব যোজন যোজন। আপনারা যখন সমঝোতার কথা বলেন, তখন আমাদের ভাবতে হয় এটা কি আপনাদের মনের কথা, নাকি মুখের কথা?’ তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দলগুলোর মধ্যে একটা কাজের সমঝোতা আমরা চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী গণভবনে বেগম জিয়াকে ডেকেছিলেন। এর পরও আপনার ছেলের (আরাফাত রহমান কোকো) মৃত্যুর পর তাকে সমবেদনা জানাতে আপনার বাড়িতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন আপনারা যে আচরণ করেছেন, যারা তা করেছেন তারা তো সমঝোতায় বিশ্বাস করেন না। এ দরজা কী করে খুলব, তা আপনারা ভাবুন। ’

    নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোনো দলীয় বক্তব্য নিয়ে রাজনীতির চর্চা করে নিজেদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করুক, তা আমরা চাই না।

    কিন্তু বিএনপি এমন একটা নির্বাচন কমিশন চায় যার মাধ্যমে বিএনপি যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে। ’ বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার ‘আসল খবর বের হয়েছে’ দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘থলের বিড়াল অবশেষে মিউ ডেকেছে। গাড়ি পোড়ানো তো বিএনপির পুরনো অভ্যাস, এটা আওয়ামী লীগের ট্র্যাক রেকর্ডে নেই। পরিকল্পিতভাবে রংসাইডে বাস রাখা হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে হামলার নাটক করা হয়েছে। পুলিশের রিপোর্টেই এটা এসেছে। ’ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে সেমিনারে সূচনা বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার (অব.), অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মেজর জেনারেল আবদুর রশীদ (অব.), দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ। এ সময় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবীর কাওছারসহ আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • Untitled post 1390

    রাগলে পৃথিবী ওলটপালট করে দিতে পারার ক্ষমতা অনেকেই রাখেন। তবে যিনি রাগেন, ক্ষতিটা তারই হয়।

    মাথা ঠান্ডা রাখার উপদেশ সবাই দিয়ে থাকেন কিন্তু সব পরিস্থিতিতে মাথা ঠিক রাখা যায় না। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করার কিছু সহজ উপায়-

    * কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন, সে বাড়ির কাজই হোক বা অফিসের কাজ। যে কারণে রাগ সেটি মাথা থেকে সরে গেলেই রাগ পড়ে যাবে। মাথা গরম হলেই কানে হেডফোন গুঁজে গান শুনতে শুরু করুন। তারপর চোখ বুজে ডুবে যান সেই গানে। আর কোন ভাবনা মাথায় আসতেই দেবেন না।

    *  মাথা গরম হলেই যেখান আছেন, সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যান। সব সময় হয়তো তেমন পরিস্থিতি থাকে না কিন্তু এটা করতে পারলে রাগের মাথায় অনেক ভুল কাজ করে ফেলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন।

    * হাতের কাছে কাগজ থাকলে আঁকাআঁকি কাটতে শুরু করুন।

    মাথা যত ঠান্ডা হতে থাকবে, ততই দেখবেন ওই আঁকাআঁকি পালটে যাচ্ছে সুন্দর ছবিতে। কেউ কোন খারাপ কথা বলায় যদি রাগ হয় তবে চেঁচামেচি না করে ঠান্ডা মাথায় তাকে কঠিন কথা বলুন। মিষ্টি করেই কিন্তু সবচেয়ে সাংঘাতিক কথা বলা যায়।

    * হাতের কাছে চকলেট অথবা আপনার খুব প্রিয় কোন খাবার রাখুন। মাথা গরম হয়ে গেলেই মুখে পুরে দিন। এগুলি হল মুড বুস্টার। যতই এর স্বাদ নেবেন, ততই আপনার মুড ভাল হতে থাকবে এবং রাগ কমবে। ফোনে গেম খেলতে শুরু করুন। রাগ কমাতে এটিও ভাল কাজে দেয়।

    * খুব বেশি স্ট্রেসড লাগলে নির্জন কোণ বেছে নিন এবং তারপর রাগের কারণটি নিয়ে নিবিড়ভাবে ভাবতে থাকুন। আপনি কতটা খারাপ আছেন, আপনার উপর কত অন্যায়-অবিচার হচ্ছে এসব নিয়ে ভেবেই চলুন। ভাবতে ভাবতে একটা সময় হয় আপনি অত্যন্ত ভেঙে পড়বেন। নিজের উপর নিজেরই মমতা হবে। এই ক্যাথারসিসের পরেই আস্তে আস্তে মাথাটা ঠান্ডা হবে, মন হালকা হবে এবং রাগ কমে যাবে।

    * যদি রাগ হওয়ার সময়ে বাড়িতে থাকেন, তবে দরজা বন্ধ করে সাজগোজ করুন। নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর করে যেভাবে খুশি সাজান। মন ভাল হলে তবেই দরজা খুলবেন। হাতের কাছে সব সময় সুগন্ধি রাখবেন। রাগ হলেই স্প্রে করবেন হাতে। সুন্দর অ্যারোমা নার্ভকে রিল্যাক্স করে। মন ভাল হয়ে যায়।

  • জন্মস্থান বরিশালে পা রেখেই কাঁদলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার

    জন্মস্থান বরিশালে পা রেখেই কাঁদলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার

    জন্মস্থান বরিশালের মাটিতে পা রেখেই কাঁদলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘এ এক ভিন্ন অনুভূতি।

    ’ একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে জন্মস্থান ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল পুরো পরিবারকে। কলকাতায় গিয়েও একটা করুণ অবস্থার মধ্যে পড়েছিলেন। বাবা প্রাণতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঠাকুরদা সতীশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বরিশালে আইন পেশায় ছিলেন। বাবা-মার কাছে শুনেছেন, তার জন্ম বরিশালে ডগলাস বোর্ডিংয়ে। গতকাল বিকালে বরিশাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাকা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি বরিশাল বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরপরই স্ত্রী নন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নামেন বরিশালে জন্ম নেওয়া বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এই অতিথি দম্পতিকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল আলম, জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম, মহানগর পুলিশের উপকমিশনার উত্তম কুমার পাল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারন সম্পাদক একে. এম জাহাঙ্গীর, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, উপজেলা চেয়ারম্যান, যুবলীগ, ছাত্রলীগ  নেতৃবৃন্দ । জন্মস্থানে আসার অনুভূতি জানতে চাইলে বর্ষীয়ান রাজনীতিক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। বলেন, ‘এ অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না।

    ’ ৫ নভেম্বর থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সে যোগ দিতে গতকাল বিকালে ঢাকা হয়ে আকাশপথে জন্মস্থান বরিশালে আসেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৯৪৭-৪৮ সালে আমার জন্ম। অনেক দিন ধরেই বুকের ভিতর চাপা প্রত্যাশা ছিল জন্মভূমিতে আসার।

    সে আশা আজ পূরণ হয়েছে। কাল (আজ) দেখতে যাব জন্মভিটা। ’ আজ সকাল ১০টায় স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সস্ত্রীক পিতৃভিটা দেখতে প্রথমে বিএম কলেজে যাবেন। পরে গৌরনদীর ঐতিহ্যবাহী মাহিলাড়া মঠ, আগৈলঝাড়ার গৈলায় মনসা মঙ্গলের কবি বিজয় গুপ্তের মনসা মন্দির পরিদর্শন শেষে আবার সার্কিট হাউসে ফিরে মধ্যাহ্ন ভোজ করবেন। বিকালে যাবেন বরিশাল মহাশ্মশান ও চারণকবি মুকুন্দ দাশ প্রতিষ্ঠিত কালিমন্দির দর্শনে। আগামীকাল দুপুরে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ত্যাগ করবেন তিনি।