Category: অপরাধ

  • কুয়াকাটায় পর্যটকের ওপর বাস শ্রমিকদের হামলা

    কুয়াকাটায় পর্যটকের ওপর বাস শ্রমিকদের হামলা

    কুয়াকাটায় বাসের চালক, কন্ডাক্টর, হেল্পার ও কাউন্টার ইনচার্জের নেতৃত্বে পর্যটকের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার বিকেলের দিকে এই হামলা চালানোহয়। হামলা থেকে রক্ষা পায়নি নারী পর্যটকরাও। হামলার সময় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে গলার স্বর্ণের চেইন।

    আহত পর্যটকরা হচ্ছেন, মোঃ রুবেল, রিপন মাহমুদ ও মোসাম্মৎ হনুফা বেগম।

    হামলার শিকার রুবেল জানান, তারা পারিবারিকভাবে শিশু সন্তানসহ ১১ জনে বরিশাল থেকে কুয়াকাটায় যাওয়ার জন্য ‘ছন্দা’ নামের (পটুয়াখালী-ব-৩১-০০৪৫) বাসে বেলা ১১টার দিকে ওঠেন। পথিমধ্যে রুবেলের সঙ্গে থাকা এক শিশু সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সিটে ওই শিশুকে শুইয়ে রেখে নিজে দাড়িয়ে থাকেন। এসময় বাসের কন্ডাক্টর এসে দাড়িয়ে থাকলে একজনের বাড়তি ভাড়া দেয়া লাগবে বলে উচ্চবাক্য বিনিময় করেন।

    এ ঘটনার কিছু অংশ ভিডিও করেন রুবেল। এসময় বাসের কন্ডাক্টর রুবেলকে গালিগালাজ করে চুপ থাকতে বলেন। বিকেলে বাসটি কুয়াকাটায় এসে থামতেই সংঘবদ্ধভাবে ঐ পর্যটকদের ওপর হামলা করে।

    ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে মহিপুর থানা পুলিশ গিয়ে বাসের চালক মোঃ কালামসহ ওই পর্যটকদের থানায় ডেকে নিয়ে যায়।

    রুবেল জানান, তাকে মারধর করে স্বর্ণের চেইন ছিড়ে নিয়ে গেছে। মোবাইল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

    মহিপুর থানা পুলিশ জানিয়েছেন, উভয়পক্ষকে থানায় নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

  • নিখোঁজ ডায়েরি করতে গিয়ে জানলেন ছেলে খুন হয়েছে

    নিখোঁজ ডায়েরি করতে গিয়ে জানলেন ছেলে খুন হয়েছে

    ঢাকার সাভার পৌরসভায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে মো. আলামিন (১৫) নামের এক কিশোর। নিহতের বাবা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করতে এসে জানেন ছেলে খুন হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ জুলাই) দুপুরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত কিশোর আলামিন (১৫) ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার হাট গোবিন্দপুর গ্রামের আকমল খানের ছেলে। সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় গেদু মিয়ার বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

    স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) রাতে সাভারের একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল আলামিন। ওয়াবদা রোড এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পথচারীরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

    খবর পেয়ে পুলিশ সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    নিহতের বাবা আকমল খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছেলে কাল দুপুরে বাসায় খেয়ে কাজে গিয়েছে। রাতে আর বাসায় ফেরেনি। আজ সকালে ছেলে নিখোঁজের একটি জিডি করতে যাই। তখনই জানতে পারি আমার ছেলেকে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা।’

    এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুণ-উর-রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আলামিনের বুকে ও পিঠে ছুরির গভীর আঘাত রয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি। এছাড়া ভুক্তভোগীর পরিবারকে নিয়ে মামলার প্রস্তুত চলছে।’

  • পদ্মা সেতু দেখানোর কথা বলে রিসোর্টে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

    পদ্মা সেতু দেখানোর কথা বলে রিসোর্টে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

    ঢাকার ধামরাই উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী প্রেমিকাকে পদ্মা সেতু দেখানোর কথা বলে একটি রিসোর্টে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে।

    অভিযুক্ত প্রেমিক আলামিন হোসেন উপজেলার চরচৌহাট এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। গতকাল শুক্রবার (২৪ জুন) দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে।

    ভুক্তভোগী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে আলামিনের।

    এই সুবাদে আলামিন প্রেমিকাকে পদ্মা সেতু দেখানোর কথা বলে শুক্রবার সকালে একটি রিসোর্টে নিয়ে যায়। এরপর ওই স্কুলছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সে। দুপুর পর্যন্ত ওই রিসোর্টে অবস্থান করে তারা।

    বিষয়টি কাউকে না বলতে ওই প্রেমিকাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে ভুক্তভোগী ওই কিশোরী। ওই স্কুলছাত্রী দাবি করে, স্কুলে আসা-যাওয়ার পথিমধ্যে আলামিনের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

    এরই সূত্র ধরে সে আমাকে পদ্মা সেতু দেখানোর কথা বলে শুক্রবার সকালে রওনা হয়। এরপর দুপুরের দিকে শহর অঞ্চলের একটি রিসোর্টে নিয়ে যায়। সেই শহর ও রিসোর্ট আমি চিনি না।

    সেখানে একটি রুমের ভেতরে নিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য আমার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় আলামিন।

    আমি বিকেলে বাড়ি ফিরেই আমর দাদাসহ পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি অবহিত করি। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই। এ বিষয়ে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা দাবি বলেন, আলামিন আমার মেয়েটির সর্বনাশ করেছে। আমরা তার কঠোর বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শান্তি চাই।

    তিনি বলেন, চৌহাট ইউপির সাবেক মেম্বার মো. জাকির হোসেন আমাকে থানায় যেতে না দিয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক করে। আমি প্রহসনের কোনো বিচার-সালিশ মানি না। আমি আইনের আশ্রয় নিতে চাই।

    এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি মেম্বার মো. জাকির হোসেন বলেন, যে ঘটনায় ঘটুক না কেন মেয়েটি বাচ্চা মানুষ। তাই ওর ভবিষ্যৎ নষ্ট করা যাবে না। তাই স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছি। এতে দোষের কী?

    এ বিষয়ে চৌহাট ইউনিয়নের পুলিশ বিট অফিসার কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ধর্ষণের বিষয়ে কেউ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

  • কলাপাড়ায় বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেফতার

    কলাপাড়ায় বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেফতার

    পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছর বয়সী এক কণ্যাশিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাহ-আলম শেখ নামে (৫৮) এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা ওই শিশুটির পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহষ্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত শাহ-আলম গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া থানার হিরন ইউপির আক্তার উদ্দিন শেখের ছেলে।

    শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে বানাতী বাজার কেরাতুল কুরআন মাদ্রাসায় পাঠদান শেষে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। পথে বৃষ্টি নামলে বালীয়াতলী ইউপির বলিপাড়া গাজী মার্কেট এলাকায় শাহ-আলমের ভাঙ্গাড়ি দোকানে আশ্রয় নেয় প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।

    পরে শিশুটিকে বিস্কুট কিনে দিয়ে দোকানের পেছনে নিয়ে দোকানের দরজা কপাট বন্ধ করে দেয় শাহ-আলম। এরপর জোরপূর্বক শিশুটির পরিধেয় পোশাক খুলে ধর্ষণ করে। এসময় ওই শিশু শিক্ষার্থী চিৎকার দিলে বৃষ্টিতে লোকজন না থাকায় তাকে ছেড়ে দেয় শাহ-আলম। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার মাকে সব ঘটনা জানালে তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এবং তার পিতা কলাপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

    কলাপাড়া থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন জানান, শিশু শিক্ষার্থীর পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শাহ-আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত শাহ-আলম বালীয়াতলীর বলিপাড়ায় দোকান রেখে ভাঙ্গাড়ি ব্যবসা করতেন বলেও জানান ওসি।

  • ডেল্টা লাইফে মাস্ক কেলেঙ্কারি

    ডেল্টা লাইফে মাস্ক কেলেঙ্কারি

    এবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জীবন বিমা কোম্পানি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে মাস্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। মাস্ক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রশাসক সুলতান উল-আবেদীন মোল্লাসহ একাধিক কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত সমন ইস্যুর আদেশ দিয়েছেন।

    জানা গেছে, ডেল্টা লাইফ ২০২১ সালের মে মাসে লাজিম মিডিয়া থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার মাস্ক কেনে। প্রতিটি ৫০ টাকা করে এই মাস্কের মূল্য ধরা হয় ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যে সময় এই মাস্ক কেনা হয়, সে সময় ডেল্টা লাইফে প্রশাসক হিসেবে ছিলেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাবেক সদস্য সুলতান উল-আবেদীন মোল্লা।

    এই মাস্ক অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত লাভের জন্য সুলতান উল-আবেদীন মোল্লার নির্দেশে কেনা হয়েছে বলে মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন ডেল্টা লাইফের এক পরিচালক জেয়াদ হোসেন। সুলতান উল-আবেদীন মোল্লার সঙ্গে ডেল্টা লাইফের ডিএমডি মনজুরে মাওলা, ইভিপি কামরুল হক এবং এম হাফিজুর রহমান খান এ কার্যক্রমে জড়িত বলে অভিযোগ করেন ডেল্টা লাইফের এই পরিচালক।

    মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রথম দুই কোটি টাকা উৎকোচ দাবি করে। পরিচলনা পর্ষদ অপারগতা প্রকাশ করলে পরে ১ কোটি টাকা এবং সর্বশেষ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এই টাকা না দেওয়ায় ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সুলনাত উল-আবেদীন মোল্লাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এতে আরও বলা হয়েছে, সুলতান উল-আবেদীন মোল্লা প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার নির্দেশে ওই বছরের ৪ মে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ২ লাখ ১৫ হাজার পিস মাস্ক ৫০ টাকা হিসেবে ক্রয় করার জন্য ডেল্টা লাইফের কর্মকর্তা মো. কামরুল হক এবং মো. মনজুরে মাওলা নোট প্রস্তুত করেন। কোম্পানির ক্রয়, সংগ্রহ এবং পেমেন্ট পদ্ধতি লঙ্ঘন করে ওই দিনই বিনা টেন্ডারে পলিসিহোল্ডার এবং কোম্পানির স্বার্থবিরোধী নোট সাবমিট এবং অনুমোদন করা হয়। পরদিন ৫ মে লাজিম মিডিয়ার কাছ থেকে কোটেশন গ্রহণ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. কামরুল হক এবং মো. মনজুরে মাওলার অনুমোদনে ২ লাখ ১৫ হাজার মাস্ক ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। যার প্রতিটির মূল্য ধরা হয় ৫০ টাকা, যা ওই সময়ের বাজার মূল্য অপেক্ষা অনেক বেশি। লাজিম মিডিয়াকে কার্যাদেশ দিয়ে ৫০ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হয়। আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। এতে কোম্পানির পলিসিহোল্ডার এবং শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি করে নিজেরা লাভবান হয়েছেন।

    এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্ত করে সুলতান উল-আবেদীন মোল্লা, মো. কামরুল হক এবং মো. মনজুরে মাওলার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪০৮/৪২০/৩৪ ধারায় অপরাধ সত্য প্রমাণিত হয়েছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দালিখ করে।

    এই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সম্প্রতি অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুবকর ছিদ্দিকের আদালত এই আসামিদের বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করেছেন। সেই সঙ্গে আগামী ২৩ মে সমন জারির প্রতিবেদন প্রাপ্তি এবং উভয় পক্ষের উপস্থিতির জন্য ধার্য করেছেন।

    এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সুলতান উল-আবেদীন মোল্লা বলেন, মাস্ক নিয়েছে, ডেলিভারি দিয়েছে। দামের বিষয়; এটা তো একটা রিলেটিভ মেটার। মাস্ক তো বিভিন্ন দামের আছে। কোনোটা বেশি কোনোটা কম, সেটা কে এক্সামিনেশন করছে। বিমা আইন অনুযায়ী প্রশাসক হিসেবে আমার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা হবে না। তারপরও তারা করেছে। এখন দেখেন ম্যাজিস্ট্রেট কী করেন। আমার আইনজীবীও থাকবেন।

    পিবিআই’র তদন্তে অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যতদূর বুঝি ওরা (জেয়াদ রহমান) ম্যানেজ করে এটা করিয়েছেন। পিবিআই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, আমরা যে কথাগুলো বলেছি সেগুলো ওই তদন্ত প্রতিবেদনে নেই।

    তিনি আরও বলেন, আমার পর ওখানে (ডেল্টা লাইফ) আরও দুজন প্রশাসক যোগ দিয়েছে। আমি অর্ডার দিয়েছি, তার পরের প্রশাসক পেমেন্ট দিয়েছে। অথচ তাকে এই মামলা থেকে বাদ দিয়েছে। তাকেও আসামি করা হয়েছিল, কিন্তু পিবিআই বাদ দিয়েছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন পিবিআই কীভাবে কাজ করছে।

    এদিকে সুলতান উল-আবেদীন মোল্লা আইডিআরএ সদস্য থাকা অবস্থায় ২০১৭ সালে তার নামে মোবাইল চার্জার কিনতে ২২ হাজার ২৯০ টাকা খরচ দেখানো হয়। আইডিআরএ থেকে এ টাকা দেওয়া হয় চেকের (চেক নম্বর-২২৯২৯৩৪) মাধ্যমে।

    সে সময় সুলতান উল-আবেদীন মোল্লা বলেন, আইডিআরএ থেকে কখনো মোবাইলের চার্জার কেনার টাকা নেইনি। এছাড়া মোবাইলের চার্জারের দাম কিছুতেই ২২ হাজার টাকা হতে পারে না। এটা অবশ্যই অস্বাভাবিক। এখন তো বালিশসহ কত কিছু বেরিয়ে আসছে। খরচের খাতে আমার নাম দেখালে তো কিছু করার নেই। আমি এখন আইডিআরএ-তে নেই। আমি থাকা অবস্থায়ও কেউ অগোচরে এটা করলে আমার কিছু করার নেই। আমার জানা মতে এমন পার্সেস (ক্রয়) আমি করিনি।

  • রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে বরিশালের ব্যবসায়ী নিহত

    রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে বরিশালের ব্যবসায়ী নিহত

    রাজধানীর বাড্ডা সাঁতারকুল এলাকায় দোকান বসানো নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সাইফুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন নিহতের ভাই মো. বাবু মিয়া (১৮) ও সাবু মিয়া (১৪)।

    বুধবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

    গুরুতর আহত অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টায় তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে সাইফুলকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজন আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    নিহতের আরেক ভাই রুবেল জানিয়েছেন, বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় তাদের একটি মুদি দোকান রয়েছে। তিনি জানান, তাদের দোকানের পাশে একই ধরনের আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দোকান বসানো নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে মারামারির ঘটনা ঘটে।

    ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বাকি দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবিহিত করা হয়েছে।

    নিহতের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার বন্দর থানার সাহেবের হাট টুঙ্গীবাড়িয়া গ্রামে। নিহত সাইফুলের বাবার নাম আব্দুল খালেক হাওলাদার। বর্তমানে দোকানের পাশে তাদের বাসা।

  • প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের পর ভিডিও, ৯৯৯ এ ফোনে গ্রেফতার ২

    প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের পর ভিডিও, ৯৯৯ এ ফোনে গ্রেফতার ২

    জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে রাজধানীর ডেমরায় এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পৃথক ঘটনায় রংপুরে এক শিশুকে ধর্ষণের পর আটকে রাখার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (২০ এপ্রিল) ৯৯৯ এর পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার (মিডিয়া) এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় একজন কলার ডেমরা ডগাই ঈদ্গাহ মেলার মাঠ থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান তার অটোচালক ছোট ভায়ের প্রতিবন্ধী স্ত্রী দুদিন আগে ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযুক্তরা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। ভুক্তভোগী তরুণী বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় এ বিষয়ে কাউকে বুঝিয়ে বলতে পারেনি। ভিডিও দেখে তারা ধর্ষণের ঘটনা জানতে পারেন। অভিযুক্তরা এলাকায় অবস্থান করছে।

    ৯৯৯ এর কলটেকার এএসআই ফেরদৌস ডেমরা থানায় বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। সংবাদ পেয়ে ডেমরা থানা পুলিশের একটি দল স্থানীয়দের সহায়তায় ধর্ষণের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে একটি মামলা করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন- জালাল ব্যাপারী (৩৫) ও চান মিয়া (৩৮)।

    এদিকে একইদিন বিকেলে সাড়ে চারটায় একজন কলার রংপুরের হারাগাছ থানাধীন সারা ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, তার শিশুকন্যাকে এক ব্যক্তি ধর্ষণ করে আটকে রেখেছে। ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল ইবনুল ফয়েজ কলটি রিসিভ করে হারাগাছ থানায় জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

    খবর পেয়ে হারাগাছ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে ও ধর্ষণের অভিযোগে একই থানার মতিয়ারকে (৪৫) গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে।

  • ঈদের আগে বেপরোয়া ছিনতাই-চাঁদাবাজি, বিপজ্জনক ৫০ স্পট

    ঈদের আগে বেপরোয়া ছিনতাই-চাঁদাবাজি, বিপজ্জনক ৫০ স্পট

    চলছে পবিত্র রমজান মাস। সামনে আবার ঈদুল ফিতর। এরই মধ্যে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বেড়েছে ছিনতাই-চাঁদাবাজি। এ ধরনের ৫০টি স্পট খুঁজে পেয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এসব স্পটে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সেই সঙ্গে চাঁদাবাজির পেছনে যারা মদদ দিচ্ছেন তাদেরও নজরে রাখা হয়েছে।

    র‌্যাব বলছে, ছিনতাইকারীরা ঢাকার অলিগলিতে ওঁৎ পেতে থেকে পথচারী, রিকশারোহী, যানজটে থাকা সিএনজি, অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। অপরদিকে ভয় দেখিয়ে লেগুনা, বাস, পণ্য পরিবহনের গাড়ি ও দোকান থেকে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর রমনা, খিলগাঁও, হাতিরঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ ও ওয়ারীসহ ১৫টি স্থানে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতাসহ ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় ছিনতাইয়ে জড়িত আরও ২০ জনকে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ কথা জানান।

    তিনি বলেন, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। এরা বিভিন্ন স্থানে সবজি ও ফলের দোকান, ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান, লেগুনাস্ট্যান্ড এবং মালবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করছে।

    কেউ চাঁদা দিতে রাজি না হলে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। র‌্যাব অভিযোগ পেয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় গতরাতে র‌্যাব-৩ এর কয়েকটি দল একযোগে অভিযান চালিয়ে ৫৩ জনকে গ্রেফতার করে। এসময় চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায় করা নগদ এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৩০ টাকা, ৬০টি মোবাইল ও ৪৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

    র‌্যাব জানায়, ওয়ারী থানাধীন কাপ্তান বাজারে চাঁদাবাজি শুরু হয় রাত ১২টার পর, যা চলে ভোর পর্যন্ত। পোল্ট্রি মুরগি বহনকারী কোনো গাড়ি এ বাজারে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ির ধরন ও মুরগির পরিমাণ দেখে নির্ধারণ করা হতো চাঁদার পরিমাণ। যা জোরপূর্বক আদায় করা হয়। চাঁদা না দিলে নানাভাবে হয়রানি, মালামাল আনলোড ও বিক্রিতে দেওয়া হয় বাধা। প্রতি রাতে এখান থেকে আদায় করা হতো কয়েক লাখ টাকা।

    রমনা থানার শান্তিনগরে মূলত রাস্তার ধারে ভাসমান দোকান থেকে নির্দিষ্ট হারে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করা হয়। সকাল-বিকেলে দুই শিফটে আদায় করা হয় চাঁদা। এ কাজে চার-পাঁচজনের একটি গ্রুপ জড়িত। প্রতিদিন এখান থেকে লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করা হয়।

    অপরদিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মালিবাগ রেলগেট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালভার্ট রোড, নাসিরের টেক হাতিরঝিল, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং পল্টন মোড়, গোলাপ শাহর মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আব্দুল গণি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

    jagonews24

    র‌্যাবের হাতে গ্রেফতাররা হলেন- আওয়াল (৪৫), আতিক (৩৫), আলাউদ্দিন (৪৫), ইসমাইল (৫৪), জুয়েল (৪৩), দুলাল (৪৫), বদির উদ্দিন বাবু (৫০), বাবুল (৫২), বাবুল হাওলাদার (৪৯), মোস্তফা হাওলাদার (৫০), সাহেব আলী (৫৪), তানভির (৪০), জালাল হোসেন (৩০), নিয়ামুল হোসেন (২৯), ময়নুল হোসেন (৪৫), মিন্টু খান (২৫), মেনু মিয়া (৩৮), রনি (৩১), রানা (২৪), শরীফ সরকার (৩৫), মহসীন (২৫), রনজিৎ দাস (৪৮), রাসেল শিকদার (২১), হারেজ (৪৩), বাদশা (২৯), আল আমীন সর্দার (২০), শহীদ (২৭), রাজু (৩৫), রফিক (২৫), রোমান (৪২), আকবর (২০), ইমন (১৯), রাব্বি (১৯), হৃদয় (১৯), মো. হোসেন (১৯), আল আমিন (২২), ইসমাইল হোসেন (২২), নাইমুল ইসলাম মিশু (২৫), নুরুল হক (২৫), রতন (২২), রাব্বি (১৯), শফিকুল ইসলাম (২৪), সাগর হোসেন শামীম (২০), উজ্জল মিয়া (২০), আক্কাছ (৫০), ইউছুফ (৩২), জাহিদ (৪৪), মুন্সি মুছা আহমেদ (৫২), রবিন মিয়া (৩২), সাগর (২৭), সুজন (৪৫), সোহাগ মৃধা (৩২) ও সোহেল সরকার (৩১)। এদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

    jagonews24

    কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রত্যেক দোকানির কাছ থেকে দৈনিক ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল।

    তিনি আরও বলেন, লেগুনাস্ট্যান্ডে তাদের কথা মতো কেউ চাঁদার টাকা না দিলে কোনো রুটে লেগুনা চলতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। তখন লেগুনা চালকরা পেটের দায়ে বিনা প্রতিবাদে চাঁদা পরিশোধ করে। এসব চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনায় নিরীহ দোকানদার ও লেগুনা চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ছিনতাই-চাঁদাবাজদের মদদদাতা যারা তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর প্রায় ৫০ স্পটে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। এছাড়া ঢাকার প্রবেশ পথেও গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে।

  • ভোলায় তৃতীয় লিঙ্গের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৭

    ভোলায় তৃতীয় লিঙ্গের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৭

    ভোলায় আধিপত্য বিস্তার ও অঞ্চলভিত্তিক ঈদ বোনাসের টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে তৃতীয় লিঙ্গের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাতজন আহত হয়ে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে দৌলতখান উপজেলার বাংলাবাজার বটতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন- স্বর্ণা, রিদিলা, জারা, সুমনা, সাগরিকা, পাপড়ি ও শারমিন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন।

    আহত রিদিলা বলেন, ইফতারের পরে আমরা সাতজন দৌলতখান উপজেলার বাংলাবাজার বটতলা বাজারে রোজা ও ঈদ উপলক্ষে চাঁদা তুলতে যাই। রাত ৮টার দিকে দৌলতখান উপজেলার সর্দার ময়নার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল এসে আমাদের জানায়, বাজার কমিটির লোকজন আমাদের ডাকছে। এই বলে তারা বাজার থেকে পাশে নিয়ে যাই। সেখানে ময়নার লোকজন আমাদের লাঠিসোঁটা দিয়ে মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ময়না খুর, চাপাতি ও লোহার পাইপ নিয়ে এসে আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা করে। আমাদের খুর ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তার সঙ্গে থাকা লোকজন আমাদের থেকে টাকা-পয়সা ও সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    আহত সাগরিকা বলেন, আমরা তো ময়নার এলাকায় ঢুকে বা তার থেকে ঈদ বোনাসের টাকা উঠাইনি। আমরা সদর উপজেলার বডারে সাধারণ মানুষ থেকে ঈদ উপলক্ষে চাঁদা তুলছিলাম। আমাদের মারলে সাধারণ মানুষ মারতে পারে। ময়নার তো মারার কথা না। আমাদের ওপর হামলার কঠিন বিচার চাই।

    সদর উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের সর্দার জুই বলেন, চরফ্যাশন, বোরহানউদ্দিন উপজেলার আদুরি, মাদুরী ও পায়েল প্রায় সময় আমাদের মোবাইল ফোনে হুমকি দিতে। আমরা যেন ভোলা থেকে চলে যাই। আজ তাদের কথা না শোনায় দৌলতখানের ময়নাকে দিয়ে আমার শীর্ষদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। আমরা অসহায়। আমরা মানুষের কাছ থেকে ৫-১০ টাকা চাইয়া নেই। ওই টাকা দিয়া দুইডা ডাল ভাত খাইয়া জীবন চালাই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কীভাবে বাঁচব। কিছু দিন আগে হুমকি দিছে, আজ মারছে, কালকে হয়তো মেরেই ফেলবে। ওরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়, আর দোষ দেয় আমাদের। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

    খবর পেয়ে সদর হাসপাতালে দেখতে এসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো.ফরহাদ সরদার জানান, ভোলা সদর উপজেলার জুই গ্রুপের সদস্যরা দৌলতখান উপজেলার বটতলায় চাঁদা তুলতে গেলে দৌলতখানের ময়না গ্রুপে সর্দার ময়নাসহ স্থানীয় ১০-১২ জন ছেলে মিলে তাদের ওপর হামলা করে। এতে একজন গুরুতর আহতসহ আরও ৬ জন আহত হয়েছেন। বিষয়টি জানার পর পরই আমাদের টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • নেশার টাকা জোগাড় করতে ফুপাকে গলা কেটে হত্যা

    নেশার টাকা জোগাড় করতে ফুপাকে গলা কেটে হত্যা

    রাজধানী উত্তরায় নিজ বাসায় ব্যবসায়ী মো. শামসুদ্দিন আহমেদ (৭৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। নেশার টাকা জোগাড় করতে ও পাওনাদারদের দেনা পরিশোধের জন্য আপন ফুপা শামসুদ্দিনকে গলা কেটে হত্যা করে তানভির আহম্মেদসহ তার দুই সহযোগী। হত্যার পর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

    গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, রাজধানীতে প্রতিনিয়ত অপরাধের ধরণ পরিবর্তন হচ্ছে। নিকট আত্মীয়রা বাসায় প্রায়শই আসে। ঢাকা শহরে অনেক বাসায় একজনের পরিচয়ে আরও কয়েকজন বাসায় আসে। আত্মীয়ের সঙ্গে অপরিচিত কেউ বাসায় এলে সবাই সাবধানে থাকবেন। প্রতিটি পরিবারের সচেতন থাকা উচিত। নিজের সন্তান কি করছে সবাইকে খোঁজ নেওয়া উচিত।

    গত ১৫ মার্চ দুপুরে রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কে ৮০ নম্বর বাড়ির পাঁচতলায় নৃশংসভাবে হত্যা করে তারই নিহতের ভাতিজা তানভীরসহ তিনজন। রক্তাক্ত অবস্থায় শামসুদ্দিনকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগ। তারা হলেন- মো. মুসলিম (২০), ও মো. আবু সাফি (২৫)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি শাটার গান, ৪ রাউন্ড গুলি, লুণ্ঠিত অলংকার ও নগদ ৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

    তিনি বলেন, পাঁচজনের সংসারে স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ শামসুদ্দিন সুখে শান্তিতে ছিলেন। তানভীর ছিলেন শামসুদ্দিনের স্ত্রী রাশিদা বেগমের ভাতিজা। গত ১৫ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাশিদার ভাতিজা তানভীরসহ অপরিচিত আরও দুজন আসেন তাদের বাসায়। রান্নাবান্না শেষে নাতনিকে স্কুল থেকে বাসায় আনার জন্য বাইরে যান রাশিদা বেগম। এ সময় বাসায় একা ছিলেন শামসুদ্দিন। এরপর স্কুল থেকে নাতনিকে নিয়ে বাসায় এসে দেখেন রাশিদার স্বামী নিহত শামসুদ্দিন খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে। হত্যার পর তারা পালিয়ে যায়।

    ডিবি প্রধান বলেন, কেন নিজের ফুপাকে গলা কেটে হত্যা করলো তানভীর, মামলার পর বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রথমে মুসলিম নামের একজনকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সাফি নামের আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে অস্ত্র, গুলি, কিছু স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    তিনি বলেন, তানভীর নেশা করতেন, ঋণগ্রস্তও ছিলেন। গ্রেফতার দুজন ও ভারতে পলাতক তানভীরসহ চারজন মিলে একটি টিম গঠন করে। এমন আরো কত ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা এখনো ডিটেক্ট করতে পারিনি। পলাতক তানভীরের ধারণা ছিল তার ফুপুর বাসায় গেলে কয়েক লাখ নগদ টাকা পাওয়া যাবে। এই টাকা দিয়ে সে ঋণ থেকে মুক্ত। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাই নেশাগ্রস্ত হওয়ায় নেশার টাকাও জোগাড়ের একটা ব্যবস্থা হবে বলে মনে করে।

    নিকট আত্মীয়রা বাসায় প্রায়শই আসে জানিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা শহরে অনেক বাসায় একজনের পরিচয়ে আরও কয়েকজন বাসায় আসে। আত্মীয়ের সঙ্গে অপরিচিত কেউ বাসায় এলে সবাই সাবধানে থাকবেন। প্রতিটি পরিবারের সচেতন থাকা উচিত নিজের সন্তান কি করছে সবাইকে খোঁজ নেওয়া উচিত।

    নিহতের ছেলে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, তানভীরের পরিবারকে আমার মা প্রচুর সাহায্য করেছে। এখনো অনেক সাপোর্ট করে। আমি যে কারখানায় চাকরি করতাম, সেখানে সেও এক থেকে দেড় বছর চাকরি করতো।

    যারা ঘটনার দিন তানভীরের সঙ্গে বাসায় গিয়েছিল তারা কি এর আগেও গিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামাতো ভাই তার দুই বন্ধুকে বাসায় নিয়ে এসেছে, বাসার সবাই বিষয়টা খুব স্বাভাবিকভাবে নিয়েছিল। এখানে সন্দেহ করার কোনো কারণ ছিল না। ওরা মনে করেছিল আমাদের বাসায় অনেক স্বর্ণালংকার পাওয়া যাবে। কিন্তু আমার বাসায় কোনো সোনার গহনা ছিল না।

    আত্মীয়তার সম্পর্কে এটা শুধু একটা খুন নয়, বিশ্বাসকে ভঙ্গ করা। পলাতক তানভীরকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

    ওরা ভেবেছিল আমাদের বাসায় অনেক টাকা পয়সা পাবে। কিন্তু পায়নি। এর মধ্যে আমার বাবা বাধা দিতে গেলে প্রথমে মামাতো ভাই বাবাকে আক্রমণ করে। মামাতো ভাই যে গার্মেন্ট কারখানায় চাকরি করত সেখানে সে বিভিন্ন পণ্য চুরি করতো। এই চুরির দায়ে তার চাকরি চলে যায়।