Category: অপরাধ

  • অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে অটোরিকশাচালক

    অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে অটোরিকশাচালক

    বাগেরহাটের ফকিরহাটে চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে রাতে একা পেয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে এ অভিযোগ করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এর তৎপরতায় বাগেরহাট সদর থানা অভিযুক্ত অটোরিকশা চালক মাহামুদুল হাসানকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এর পরিদর্শক (মিডিয়া) আনোয়ার সাত্তার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন খুলনায়। স্বামীর ফোন পেয়ে বাগেরহাট থেকে রাতে রওনা দিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। তাকে একা পেয়ে অটোরিকশাচালক রাস্তার পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। এমন অভিযোগ করে বাগেরহাট সদরের সুগন্ধি গ্রাম থেকে এক গৃহবধূ রোববার বিকেলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

    ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, গত ৮ এপ্রিল ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায়, স্বামী অসুস্থ থাকায় ও লোকলজ্জার ভয়ে এ ঘটনা কাউকে জানাননি। পরে স্বামীকে ঘটনাটি জানালে স্বামীর পরামর্শে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার স্বামীর সঙ্গে ৯৯৯ এর কথা বলিয়ে দেন।

    তিনি আরও জানান, ৯৯৯ এর কলটেকার কনস্টেবল কে এম মাহফুজুর কলটি রিসিভ করেছিলেন। কনস্টেবল মাহফুজ তাৎক্ষণিকভাবে বাগেরহাট সদর থানায় বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে সদর থানাধীন চুলকাঠি তদন্ত কেন্দ্র পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য ও বর্ণনা অনুযায়ী অটোরিকশা চালক মাহামুদুল হাসান গ্রেফতার করে। ধর্ষণের ঘটনাস্থল বাগেরহাটের ফকিরহাট থানাধীন স্থানে হওয়ায় অভিযুক্তকে ফকিরহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ফকিরহাট থানার এস আই বেলাল হোসেন ৯৯৯-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সংক্রান্তে ফকিরহাট থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

  • মেম্বার রেশমাকে ধর্ষণের পর হত্যা, সন্দেহ এড়াতে দাফনেও ছিলেন আসামি

    মেম্বার রেশমাকে ধর্ষণের পর হত্যা, সন্দেহ এড়াতে দাফনেও ছিলেন আসামি

    বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য রেশমা খাতুনকে (৩৮) প্রথমে ধর্ষণ ও পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সন্দেহ এড়াতে এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবদুল লতিফ শেখ (৬০) মৃত রেশমা খাতুনের জানাজা ও দাফনকার্যেও অংশ নেন।

    র‌্যাব বলছে, গ্রেফতার আবদুল লতিফ শেখ নিজেকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখতে কৌশলে মরদেহ উদ্ধারকাজে স্থানীয়দের সহায়তা করেন। দাফনকার্যে অংশ নেন এবং ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রাখেন। তাকে গতরাতে মুন্সীগঞ্জ সদর থেকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যার ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে তিনি শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।

    শুক্রবার (২৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

    কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর বগুড়ার একটি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নিখোঁজ হন। এর পর ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কুড়িগাঁতী গ্রামের একটি ইটভাটার পাশে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    ওই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বগুড়ার ধুনট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করেন। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৪ মার্চ মুন্সিগঞ্জ সদরে অভিযান চালিয়ে আব্দুল লতিফ শেখকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১২ এর একটি দল।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লতিফ হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।

    jagonews24

    র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে লতিফ শেখ জানায়— হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৭ মাস আগে ইউনিয়ন পরিষদে কম্বল বিতরণের একটি অনুষ্ঠানে নিহত ইউপি সদস্যের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর লতিফ ঘনিষ্ঠতার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা ইউনিয়ন পরিষদ ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সময় দেখা করেন।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর কৌশলে ইউপি সদস্যকে মথুরাপুর এলাকার একটি ইটভাটার পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যান লতিফ। সেখানে পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভিকটিম তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে লতিফ তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর ধর্ষণের বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে কারাভোগ করতে হতে পারে এমন শঙ্কায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ওই নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি। পরে মরদেহ ইটভাটার পাশে রেখে পালিয়ে যান।

    নিজেকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখতে তিনি কৌশলে মরদেহ উদ্ধারকাজে স্থানীয়দের সহায়তা করেন। দাফনকার্যে অংশ নেন এবং ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রাখেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আশঙ্কা থেকে এলাকা ত্যাগ করেন। প্রথমে ছদ্মবেশে শ্রমিক হিসেবে নোয়াখালীতে কিছুদিন কাজ করেন, পরবর্তীতে মুন্সিগঞ্জে আত্মগোপন করেন।

    গ্রেফতার লতিফের সম্পর্কে র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, ছোটবেলা থেকে ফার্নিচার তৈরির কাজ করতেন আব্দুল লতিফ। তিনি তার নিজের বাড়িতেই কর্মচারী রেখে ফার্নিচার তৈরি করে তা বিক্রি করতেন। তার বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে বগুড়ায় একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তিনি ৭ মাস কারাভোগও করেছেন। বর্তমানে ধর্ষণ মামলা চলমান। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • মামিকে কুপিয়ে হত্যায় ভাগনে গ্রেফতার

    মামিকে কুপিয়ে হত্যায় ভাগনে গ্রেফতার

    হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বাগুনীপাড়া গ্রামে মামিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদকাসক্ত ভাগনে। রোববার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিনা বেগম (৩০) ওই গ্রামের দিনমজুর ইউনুস আলীর স্ত্রী। সোমবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক ভাগনে এমরান মিয়াকে গ্রেফতার করে।

    নিহত মিনা বেগমের স্বামী দিনমজুর ইউনুস আলী জানান, চুনারুঘাট উপজেলার লালিয়ারপাড় গ্রামের মৃত আনোয়ার মিয়ার ছেলে শুকুর আলী ওরফে এমরান মিয়া তার আপন ভাগনে। সে মাদকাসক্ত। চুরিসহ অসামাজিক কাজে জড়িত থাকায় তাকে তারা এড়িয়ে চলতেন।

    ইউনুস আলী ভ্যানে করে বেকারির মালামাল বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করেন। ইতোপূর্বে নেশার টাকা যোগাতে ইউনুস আলীর ৩টি ভ্যান চুরি করে এমরান। দু’দিন আগে সে তাদের বাড়িতে আসে। রোববার রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে হঠাৎ মিনা বেগম বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে ছেলে মেয়েরা দৌড়ে গিয়ে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে।

    তাদের চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে রক্তাক্ত মিনাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিনা বেগম মারা যান।

    হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রেজা জানান, মিনাকে জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসা শুরুর আগেই তিনি মারা যান। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

    শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোর্শেদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুকুর আলী ওরফে এমরান মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

  • ধর্মের দোহাই দিয়ে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা’

    ধর্মের দোহাই দিয়ে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা’

    বিনিয়োগে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের প্রায় দুইশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের মূলহোতা শাহ আলমসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

    র‍্যাব বলছে, শাহ আলম ২০১০ সালে নরসিংদীতে শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে এ প্রতারণা শুরু করে। তিনি প্রতিষ্ঠাটির চেয়ারম্যান। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক ব্যবসায় খুব সহজেই উদ্বুদ্ধ হয়। এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের প্রায় দুইশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    শনিবার (১২ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে নরসিংদী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন শিকদার (৫২), কাজী মানে উল্লাহ (৪৪), মো. সুমন মোল্লাহ (৩৩) ও আ. হান্নান মোল্লাহ (৩০)।

    রোববার (১৩ মার্চ) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

    তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সমবায় সমিতির নামে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রতারণার ঘটনা প্রচারে দেশব্যাপী চাঞ্চল্য ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করে।

    খন্দকার আল মঈন বলেন, নরসিংদী জেলার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার সাধারণ মানুষ একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েন। তারা ব্যবসায় অতিরিক্ত লাভের আশায় শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হন। বেশির ভাগ মানুষ তাদের সারাজীবনের কষ্টার্জিত জমানো অর্থ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। প্রতারক চক্রের সদস্যরা সাধারণ মানুষের প্রায় দুইশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।

    র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় গুটিয়ে নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সবাই গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নরসিংদী জেলার পলাশ থানায় একটি মামলা করা হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসন ও সমবায় অধিদপ্তরেও অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগীরা আইনি সহযোগিতার প্রত্যাশায় নরসিংদীতে অবস্থিত র‍্যাব-১১ এর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর র‍্যাব ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

    ‘গ্রেফতাররা জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়- ২০১০ সালে নরসিংদীতে শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারক চক্রটি। অতি সুকৌশলে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সুদমুক্ত ব্যবসায় প্রলুব্ধ করে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতো তারা।’

    তিনি আরও বলেন, চক্রের অন্যতম হোতা শাহ আলম নিজে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে চারটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠান ২৪ জন জনবলের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে। এছাড়া অতিরিক্ত ২০ জন পরিচালক নিয়োগ দেন। তারা আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তিদের পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ দিতেন। পরে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন থানার জনবহুল ও ব্যবসায়ীক এলাকায় জাঁকজমকপূর্ণ শাখা অফিস স্থাপন করে তারা। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- শাহ সুলতান এম.সি.এস. কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, স্বদেশ টেক্সটাইল লিমিটেড, শাহ সুলতান টেক্সটাইল লিমিটেড ও শাহ সুলতান প্রপার্টিজ লিমিটেড।

    কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায়, মাঠ পর্যায়ে গ্রাহক ও অর্থ সংগ্রহের জন্য গ্রেফতারদের প্রায় তিন শতাধিক কর্মী রয়েছে। যাদের কোনো বেতন দেওয়া হয় না। তাদের গ্রাহকদের বিনিয়োগের মাধ্যমে এককালীন ১০ শতাংশ ও বছরে ৬ শতাংশ অর্থ প্রাপ্তির প্রলোভন দেখানো হতো। গ্রেফতাররা বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক ১২-১৬ শতাংশ মুনাফার প্রলোভন দেখাতো। এছাড়াও তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে উচ্চ মুনাফায় মাসিক ভিত্তিতে ডিপিএসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতো বলে জানা গেছে। এভাবে তারা গ্রাহক বাড়াতে সক্ষম হয়। তারা বেশকিছু গ্রাহককে উচ্চ মুনাফায় লোন দেয়। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান না হলেও তারা ব্যাংকের মতোই গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ প্রদানের কার্যক্রম পরিচালনা করতো। গ্রাহকদের সংগৃহীত অর্থ ল্যান্ড প্রজেক্ট টেক্সটাইল ও নিজস্ব অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

    র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, করোনার ক্রান্তিলগ্নে যখন মানুষের টাকার প্রয়োজন হয়। তখন ভুক্তভোগীরা তাদের আমানতকৃত টাকা উত্তোলনের আবেদন করে। তখনই তারা বিভিন্ন অযুহাতে গচ্ছিত টাকা ফেরত না দিতে গড়িমসি শুরু করে। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ওমর ফারুক ও ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসুদ রানা গ্রাহকদের লগ্নিকৃত টাকা দিয়ে নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে ৫-৬ একর জমি নিজেদের নামে ক্রয় করে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির নামে নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে ৭-৮ একর জমি রয়েছে বলে জানা যায়। টাকা ফেরতের জন্য গ্রাহকদের ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুঁলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।

  • ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত ৩

    ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত ৩

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে কিশোরসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।

    রোববার (১৩ মার্চ) সকালে উপজেলার নম্মানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- দক্ষিণগাঁও এলাকার মৃত আলম হোসেনের ছেলে নাঈম (১৮), একই গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে ফারুক (২৬) ও হিরণ মিয়ার ছেলে রবিন (১৫)।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একজন নারীকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নাঈম, ফারুক ও রবিন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে নাঈম ও ফারুককে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অন্যদিকে রবিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম নাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি  বলেন, নাঈম ও ফারুক মনোহরদী হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায়। রবিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় বলে শুনেছি।

  • যৌন নির্যাতনের পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা: অভিযুক্ত গ্রেফতার

    যৌন নির্যাতনের পর স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা: অভিযুক্ত গ্রেফতার

    জামালপুরের মেলান্দহে আশামনি (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর সম্ভ্রমহানির পর আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি তামিম আহমেদ স্বপনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪।

    শনিবার (১২ মার্চ) দুপুরে শহরের বেলটিয়ায় র‌্যাব-১৪ (সিপিসি-১) জামালপুর ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান জানান, গত বৃহস্পতিবার মেলান্দহের এম এ গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী আশামনির সম্ভ্রমহানির পর অপমান সইতে না পেরে নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মেয়েটি। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক উপজেলার সাধুপুর কান্দাপাড়া গ্রামের মো. খোকা মোল্লার ছেলে তামিম আহম্মেদ স্বপন পালিয়ে যান।

    ঘটনার পরদিন নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা মেলান্দহ থানায় মামলা করেন। পরে আসামি তামিম আহমেদ স্বপনকে গ্রেফতার অভিযানে নামে র‌্যাব।

    শুক্রবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধর ইউনিয়নের চরশশা এলাকা থেকে তামিমকে গ্রেফতার করা হয়।

    উল্লেখ্য, তামিম আহম্মেদ স্বপন উপজেলার পূর্ব শাহাজাতপুরের মো. আবু মিয়ার একমাত্র মেয়ে আশামনিকে স্কুলে যাতায়াতের পথে বিরক্ত করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে বান্ধবীদের সঙ্গে স্কুলে যায় আশামনি। স্কুলে যাওয়ার পথে সাধুপুর কান্দাপাড়ার একটি বাড়িতে দিনভর আটকে রেখে আশামনিকে যৌন নির্যাতন করেন তামিম আহম্মেদ স্বপন। এরপর বিকেল ৩টায় আশামনি বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আশামনির মা শিলা বেগম জানালা দিয়ে মেয়েকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

    তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশে খবর দিলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর আশামনির ঘরে দুটি চিরকুট পাওয়া যায়।

    চিরকুটে লেখা ছিল, ‘তামিম আমাকে সারাদিন এক রুমে আটকে রাখছে। তামিম আমাকে খুব ডিস্টার্ব করত ও আমাকে বলেছে ওর সাথে দেখা করলে সে আমার জীবন থেকে চলে যাবে। কিন্তু ও আমার সাথে খুব খারাপ কিছু করেছে, যা বলার মতো না।’

  • সাবেক সরকারি কর্মকর্তার বাসায় মিললো ৫১২ লিটার সয়াবিন তেল

    সাবেক সরকারি কর্মকর্তার বাসায় মিললো ৫১২ লিটার সয়াবিন তেল

    বাজারে ভোজ্যতেলের সংকটকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি লাভের আশায় ৫১২ লিটার তেল মজুত করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা লায়েকুজ্জামান। পুলিশ জানিয়েছে, গত ছয়দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে এসব তেল বাসায় মজুত করেন তিনি।

    অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১১ মার্চ) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন লালমাটিয়া এলাকার ওই বাসা থেকে ৫১২ লিটার তেলসহ লায়েকুজ্জামানকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

    শনিবার (১২ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার এসব কথা জানান।

    তিনি বলেন, লালমাটিয়ার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা লায়েকুজ্জামান। এর পাশে অবস্থিত শ্বশুরের বাসাটিও তিনি দেখাশোনা করতেন। সেই বাসাতেই তিনি ৫১২ লিটার তেল মজুত করেন।

    গোপণ তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরের নেতৃত্বে একটি টিম ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে এই পরিমাণ তেল জব্দসহ লায়েকুজ্জামানকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার লায়েকুজ্জামানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, তিনি ব্যক্তি পর্যায়ে এসব তেল কিনে জমা করে রাখেন। এসব তেল কেনার রশিদ দেখতে চাইলে তিনি কৃষি মার্কেটের সূর্য এন্টারপ্রাইজের একটি রশিদ দেখান।

    পরে রশিদটি যাচাই করে দেখা গেছে, সেখান থেকে ১৫৯ টাকা দরে মাত্র ৪০ লিটার তেল কিনেছেন। বাকি তেল তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছেন। আর সূর্য এন্টারপ্রাইজের ওই রশিদের মাঝখানে নিজ হাতে বাকি তেলের পরিমাণ লিখে বিভিন্ন দাম বসিয়ে দিয়েছেন।

    ‘গ্রেফতার লায়েকুজ্জামান মনে করেছেন, যেহেতু বর্তমানে তেলের দাম বাড়তির দিকে, কয়েকদিন পর রমজানে আরও দাম বাড়তে পারে। তাই বাড়তি লাভের আশায় তিনি তেল কিনে মজুত করে রাখেন।’

    ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, লায়েকুজ্জামানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় তার সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। রিমান্ডে পেলে তাকে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে অতীতেও এমন কাজ করেছেন কিনা, কিংবা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানা যাবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, লায়েকুজ্জামান কোনো ব্যবসায়ী নন, ডিলারও নন। প্রাথমিকভাবে এটি তার ব্যক্তিগত অসৎ উদ্দেশ্য বলেই মনে হয়েছে। অতিরিক্ত লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে তিনি তেল মজুত করেছেন। ৫১২ লিটার তেল মজুত করা ফৌজদারি অপরাধ, এটি সংকট সৃষ্টির অপপ্রয়াস।

    ৪০ লিটার তেল এক দোকান থেকে কিনেছেন, বাকিগুলো কোথা থেকে কীভাবে সংগ্রহ করেছেন তা জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    গত ৬ মার্চ থেকে ছয়দিনে লায়েকুজ্জামান বিপুল পরিমাণ এই তেল মজুত করেছেন জানিয়ে ডিসি বিপ্লব বলেন, ৪০ লিটারের বাইরে বাকি তেল কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন এ বিষয়ে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো। কারণ অন্য জায়গা থেকে কিনলে সেটার রশিদ থাকতো।

    jagonews24

    অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষি মার্কেটের ওই ব্যবসায়ী কেন একজনের কাছে একবারে ৪০ লিটার তেল বিক্রি করলেন এ বিষয়ে তাকেও আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো। এছাড়া ভোজ্যতেলের এই সংকট সৃষ্টি করতে ব্যবসায়িক পর্যায়ে কেউ মজুতদারী করছে কি না প্রতিনিয়ত তা মনিটরিং করে যাচ্ছি। আমরা যখনই সংবাদ পাবো, অভিযান পরিচালনা করবো।

    জনসাধারণকে কষ্ট দেওয়ার জন্য এ ধরনের মজুতদারী করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার।

  • বগুড়ায় নির্মাণশ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

    বগুড়ায় নির্মাণশ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

    বগুড়ার শিবগঞ্জে ছোটদের ঝগড়া থামাতে গিয়ে গ্রামের যুবকদের পিটুনিতে এক নির্মাণশ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আতোয়ার রহমান (৩৫) নামের ওই শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১১ মার্চ) রাত ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়নের নাটমরিচা গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত আতোয়ার নাটমরিচা পশ্চিমপাড়ার বুলু আকন্দের ছেলে।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, গ্রামের স্কুলছাত্ররা আগামী রোববার পিকনিকে যাওয়ার জন্য নাটমরিচা গ্রামে এক দোকানের পাশে ব্যানার টাঙিয়ে দেয়। শুক্রবার দুপুরে কে বা কারা সেই ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে। রাতে এ নিয়ে ছোট ছেলেদের মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। ছোটদের এ বিরোধে গ্রামের কিছু নারী-পুরুষও জড়িয়ে পড়ে। এসময় আতোয়ার বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গেলে তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে জানান, ছোটদের ঝগড়াটি ওই গ্রামের কিছু নারী উসকে দেন। এসময় আতোয়ার ঝগড়া থামাতে গেলে তার মাথায় আঘাত করা হয়, এতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারীকে আটক করা হয়েছে।

  • রাস্তা নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

    রাস্তা নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

    রংপুরে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে আশরাফুল ইসলাম (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আশরাফুলের ছোট ভাই সিয়াম (২০)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শুক্রবার রাত ৮টার দিকে নগরীর বাহারকাছনা জুম্মাটারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ওই এলাকার শাজাহান মিয়ার ছেলে।

    এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন, জুম্মাটারী এলাকার মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে ইয়াসিন আলী (২৩), নগরীর শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৮), আমাশু কুকরুল এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহিন ইসলাম (২১), একই এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে ইব্রাহিম (১৯) ও পশ্চিম জুম্মাপাড়া এলাকার মৃত মমিন হোসেনের ছেলে নয়ন হোসেন (২১)।

    স্থানীয়রা জানান, বাড়ির চলাচলের রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়। এ সময় ইয়াসিন ও আরিফুলসহ তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আশরাফুল ও সিয়ামকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিয়াম সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    রংপুর মহানগর পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • সৌদিফেরত স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে পালালেন স্ত্রী

    সৌদিফেরত স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে পালালেন স্ত্রী

    টাঙ্গাইলের সখীপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সৌদিফেরত খোকন মিয়ার (৩৫) বিশেষ অঙ্গ কেটে পালিয়েছেন তার স্ত্রী রুপা আক্তার (২৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় খোকন মিয়াকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার (১১ মার্চ) সকালে উপজেলার দাঁড়িয়াপুর নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    এলাকাবাসী ও আহতের স্বজনরা জানান, প্রায় সাত বছর আগে দাঁড়িয়াপুর উত্তরপাড়ার ইসমাইলের মেয়ে রুপার সঙ্গে নয়াপাড়ার সোনা মিয়ার ছেলে খোকনের বিয়ে হয়। তাদের একটি ৪ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। খোকন মিয়া মাস খানেক আগে দেশে আসেন। দেশে আসার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকা-পয়সার হিসাব নিয়ে ঝগড়া লেগে থাকতো। টাকার হিসাব না দিতে পেরে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে পালিয়ে যেতে পারেন স্ত্রী রুপা।

    খোকনের চাচা খাজু মিয়া জানান, শুক্রবার (১১ মার্চ) ভোরে খোকন চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘরে প্রবেশ করে খোকনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পান। তখন রুপা ঘরে ছিলেন না।

    পালিয়ে যাওয়ার সময় রুপা তার স্বামী খোকনের পাসপোর্ট, ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও কয়েক লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে সখীপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান আহতের চাচি মর্জিনা বেগম।

    এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, থানায় অভিযোগ পেয়েছি, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।