Category: আন্তর্জাতিক

  • আসুন, শান্তি ফেরাতে আলোচনায় বসি, মোদিকে ইমরান

    আসুন, শান্তি ফেরাতে আলোচনায় বসি, মোদিকে ইমরান

    ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিন টুইট করেছিলেন। রবিবার টেলিফোন করে ভাবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

    ইমরান খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চান ভারতের ভাবি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর জন্য মোদিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীকে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিবেশীদের অগ্রাধিকার দেয়ার সরকারি লাইনের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইমরানকে মনে করিয়ে দিয়েছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইটা সবার আগে লড়তে হবে দারিদ্র দূরীকরণের জন্য। এই অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য যে পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়িয়ে তোলা আর সংঘর্ষ বন্ধ করাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি ইমরান খানকে সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মোদি।

  • মোদির শপথ বৃহস্পতিবার

    মোদির শপথ বৃহস্পতিবার

    নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছেন আগামী বৃহস্পতিবার। দেশটির রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ টুইট বার্তায় এমন তথ্য জানিয়েছেন।

    শনিবার সন্ধ্যায় নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন।

    বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ৫৪৫টি আসনের মধ্যে ৩৫২টি পায় বিজেপি। সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রী কারা, সে বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। তবে মোদি ও তার সহকারী অমিত শাহ একঝাঁক নতুন মুখকে মন্ত্রী হিসেবে বেছে নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গে ২ থেকে ১৮টি পদে উত্থানের পরে আশা করা হচ্ছে সেখান থেকে অনেকে প্রতিনিধি হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহ এখন পর্যন্ত ‘বিগ ৪’ অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র, অর্থ, বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কারা হবেন সে ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিতই দেননি।

    বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি আমেঠীতে রাহুল গান্ধীকে হারানোর পুরস্কার হিসেবে আরও বড় কোনো দফতর দেয়া হতে পারে। ওই কেন্দ্র চার দশক ধরে কংগ্রেসের দখলে ছিল বলে জানা যায়। রাহুল নিজে ওখান থেকে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন।

  • বেলজিয়ামে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বরিশালের শায়লা

    বেলজিয়ামে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বরিশালের শায়লা

    ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি প্রার্থী হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শারমিন শায়লা। রোববার (২৬ মে) দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশটির ওয়ার্কার্স পার্টির (পিভিডিএ) পক্ষ থেকে নির্বাচন করবেন শায়লা। এর আগে অক্টোবরে এনটওয়ারপ থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি।

    সাংবাদিকদের শায়লা বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেলজিয়ামসহ সমগ্র ইউরোপে সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হোক এটাই আমার চাওয়া। একসময় এখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হতেন। অনেক সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা সেসব পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। আমি এমপি পদে নির্বাচিত হলে, সবার আগে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অন্যদের পরিচিত করাতে একনিষ্ঠভাবে কাজ করবো। সেই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে সবরকম সহযোগিতা করবো।’

    বেলজিয়ামের পিভিডিএ পার্টির তরুণ রাজনীতিক হিসেবে শায়লা ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি ইউরোপে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তার কর্ম ও প্রচেষ্টা দিয়ে।

    শায়লার বাড়ি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দেওপাশা গ্রামে। তার স্বামী মো. জাহিদুল ইসলাম জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এম রফিকুল ইসলামের ভাই। তার বাবার বাড়ি বরিশাল জেলার কর্ণকাঠি এলাকায়।

    শায়লা বরিশাল সরস্বতী গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৯৯৫ সালে এসএসসি, ১৯৯৭ সালে এইচএসসি ও ১৯৯৯ সালে ঢাকার বাঙলা কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৫ সালে পরিবারের সঙ্গে বেলজিয়াম যান। ২০১০ সালে বেলজিয়ামের ওয়ার্কার্স পার্টিতে (পিভিডিএ) যোগ দেন তিনি।

  • নেপালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৩

    নেপালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৩

    নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জোড়া বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন নিহত ও আরো পাঁচজন আহত হয়েছে। তবে রোববারের এই বিস্ফোরণের কারণ এখনও পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

    পুলিশের কর্মকর্তা শ্যাম লাল গয়ালি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বিস্ফোরণের পৃথক দু’টি ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে বিস্ফোরণ কী ধরনের ছিল সেটি জানতে তদন্ত চলছে।

    কাঠমান্ডুর প্রাণকেন্দ্রের ঘাট্টেকুলো এলাকার একটি বাড়িতে প্রথম বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন নিহত হয়। শহর থেকে একটু দূরে সুকেধারা এলাকার একটি সেলুনের পাশে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণে দুজনের প্রাণহানি ঘটে। পৃথক বিস্ফোরণে আহত পাঁচজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    রয়টার্সের এক আলোকচিত্রী দ্বিতীয় বিস্ফোরণস্থলে কাছে দেখেছেন, সেলুনের দরজা এবং জানালা বিস্ফোরণে উড়ে গেছে। ওই এলাকায় বর্তমানে দেশটির সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে রোববারের এই বিস্ফোরণের দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি।

  • ৬ মাস ধরে ক্ষমতাহীন, আর মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে চাই না: মমতা

    ৬ মাস ধরে ক্ষমতাহীন, আর মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে চাই না: মমতা

    ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নাটকীয় উত্থান হয়েছে। বিজেপির কাছে বেশ কয়েকটি আসন হারিয়েছে রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করার পর থেকেই দলের নেতাদের কাছে ফোন করে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তার পদত্যাগ মেনে নেয়নি দল। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এসব কথা বলেছেন তিনি।

    গেরুয়া ঝড়ে পশ্চিমবঙ্গে কার্যত তছনছ তৃণমূল ব্রিগেড। লোকসভা নির্বাচনে দলের হারের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে শনিবার নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন মমতা। কালীঘাটে নিজের বাসভবনে বিকেল ৪টায় বৈঠক শুরু করেন তৃণমূল নেত্রী। এতে যোগ দেন দলের সব জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা। বৈঠকে ছিলেন দলের সব জেলা সভাপতিরাও। মমতার জরুরি বৈঠকে অংশ নেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

    দলের বৈঠক শেষে শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা জানান, দলকে বলেছিলাম মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করব। কিন্তু দল রাজি হল না। তিনি বলেন, ‘৬ মাস ধরে ক্ষমতাহীন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলাম। এটা মানতে পারছি না। অমি আর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে থাকতে চাই না। আমার কাছে চেয়ার বড় নয়। যারা ভোট দেননি, তারা নিশ্চয়ই অপছন্দ করেছেন আমায়, বিবেকে লেগেছে।’

    তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, ‘চেয়ার ইজ নাথিং ফর মি। এক মিনিটে রেলের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে এসেছিলাম। আমার চেয়ারের কোনও দরকার নেই। চেয়ারের আমাকে দরকার।’

    এত কাজ করার পরও ভোটে হারায় আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, অনেক উন্নয়ন করেছি। পুরোটাই হয়ে গিয়েছে। আর উন্নয়ন করব না। এ বার দলে বেশি করে সময় দেব।

    নিজের মায়ের প্রসঙ্গও টানেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, আমি যখন প্রথম মন্ত্রী হয়েছিলাম, তখন একটি সংবাদপত্র আমার মায়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। সেখানে আমার মা বলেছিলেন, মমতা যেন মমতাই থাকে। মমতা মমতাই আছে। বদলায়নি। একা হয়ে গেলেও সত্যিটা বলব।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানালেও বিজেপির সমালোচনা করতে ছাড়েননি মমতা। বলেন, আসন সংখ্যা হয়তো কমেছে, তবে ভোট শতাংশ বেড়েছে তৃণমূল। ওরা সাম্প্রদায়িকতায় বিষ ছড়িয়ে সফল হয়েছে। মোদিজিকে অভিনন্দন। জানি না কেন এরা ২৩টি আসনই কেন পেল না। কেন তিন-চারটে এদিক ওদিক হলো?।

    ধর্মীয় মেরুকরণের জেরেই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিপর্যয় হয়েছে তা স্বীকার করে মমতা বলেন, সামনে ঈদ আসছে। তিনি অবশ্যই ইফতারে যাবেন। তার কথায়, আমি তো মুসলিম তোষণ করি। যে গরু দুধ দেয় তার লাথিও খাব। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য ওয়াল।

  • বিমানের চেয়েও দ্রুতগতির ট্রেন আনছে চীন!

    বিমানের চেয়েও দ্রুতগতির ট্রেন আনছে চীন!

    চীনারা নিজেদের রেকর্ডই নিজেরা ভাঙছে এবার। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ট্রেন (চলমান) চীনের দখলে। এবার নিজেদের সেই রেকর্ড ভেঙে অবিশ্বাস্য গতির ভাসমান বুলেট ট্রেন আনতে চলেছে চীন। যার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৬শ কিলোমিটার। অর্থাৎ, বিমানের চেয়েও দ্রুতগতিসম্পন্ন ট্রেন আনতে চলেছে চীন।

    প্রোটোটাইপ বডির এ ম্যাগনেটিক ট্রেনকে বলা হয় ম্যাগলেভ। চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি চীন রেলওয়ে রোলিং স্টক এটি তৈরি করছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্রানজিট উপকরণ প্রস্তুতকারী এ প্রতিষ্ঠানটি ট্রেনটি চলতি বছরের দ্বিতীয় ভাগে চালু করতে পারে।

    চীনের তৈরি নতুন ম্যাগলেভ ট্রেনের আসন উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বেইজিং থেকে সাংহাই যেতে বিমানে সাড়ে ৪ ঘণ্টা, হাইস্পিড ট্রেনে সাড়ে ৫ ঘণ্টা লাগে।

    সেখানে নতুন ম্যাগলেভে লাগবে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টা। চীনা রেলওয়ে রোলিং স্টকের ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার ডিং স্যানসান বলছিলেন এমনটি।

    ম্যাগলেভ ট্রেনে ম্যাগনেটিং যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তা ট্রেনকে মাটি থেকে উপরে রেখে এগিয়ে নেয়। প্রায় তিন বছরের গবেষণার পর গতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো ট্রেনের বডি প্রস্তুত করা গেছে বলে জানিয়েছেন ডিং।

  • ফেইসবুক কি ভাঙছে?

    ফেইসবুক কি ভাঙছে?

    হোয়াটসঅ্যাপ, ফেইসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম—তিনটি প্রতিষ্ঠানই ফেইসবুকের মালিকানাধীন। এই কম্পানির সিইও মার্ক জাকারবার্গ সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠান তিনটি আলাদা হওয়া উচিত। শুধু তা-ই নয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারও চাইছে ফেইসবুক ভেঙে তিনটি আলাদা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে। জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দুনিয়ায় একাই রাজত্ব করতে চায় ফেইসবুক। সম্প্রতি ফেইসবুকের মনোপলির বিষয়টি বেশ জোরেশোরে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেইসবুকসহ ছয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আছে। এতগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থাকার পরেও ফেইসবুকের মনোপলির কথা ওঠার কথা নয়। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে ফেইসবুকের প্রতিযোগিতানীতি। ফেইসবুকের প্রতিযোগিতার নীতি হচ্ছে প্রতিযোগীকে কিনে নাও বা প্রতিযোগীর ফিচারকে নকল করো। ফেইসবুকের বাইরে যে পাঁচটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম বলা হয়েছে, তার মধ্যে দুটি—অর্থাৎ ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপকে এরই মধ্যে কিনে নিয়েছে ফেইসবুক। টুইটার থেকে হ্যাশট্যাগের ফিচারটি ধার করা হয়েছে। স্ন্যাপচ্যাট থেকে স্টোরিজ ফিচারটি চুরি করা হয়েছে এবং ইউটিউবকে টেক্কা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে ফেইসবুক ওয়াচ। এই পুরো বিষয়টি ফেইসবুকের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের একটি চেষ্টা। ফেইসবুকের আধিপত্য এতটাই ব্যাপক যে ২০১১ সালের পর থেকে আর কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্টার্টআপ গড়ে ওঠেনি। এমনকি ব্যর্থতা মেনে নিয়ে ‘গুগল প্লাস’-এর মতো সেবাও বন্ধ করে দিতে হয়েছে খোদ গুগলকে।

    ফেইসবুকের একচ্ছত্র আধিপত্যের সমস্যা
    এ রকম মনোপলি বা একচ্ছত্র আধিপত্যের একটি সমস্যা আছে। কোনো ব্যবসা মনোপলিতে রূপ নিলে সেখানে স্বেচ্ছাচার তৈরি হয়। নিয়ম-নীতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঢিলেমি দেখা যায়। গোপনীয়তার বিষয়টি তারা আর গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না। মার্ক জাকারবার্গ তো কয়েক দিন আগে প্রাইভেসির বিষয়টি নিয়ে বেশ ঠাট্টা-মসকরাও করার চেষ্টা করলেন। করবেন নাই বা কেন। ৩০০ কোটি মানুষের তথ্য যে তাঁর হাতে। ফেইসবুকের সর্বেসর্বা তিনি। তিনি কারো কাছে জবাব দেন না। তিনি চাইলেই যেকোনো দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। ফলাফল পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। যা তিনি করছেনও। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির পর বিষয়টি আরো বেশি আলোচনায় এসেছে।

    কী করা যেতে পারে?
    ফেইসবুক এখন মাইক্রোসফট ও গুগলের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে। মাইক্রোসফট ও গুগল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বড় হওয়ার পর বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতারা নিজেদের কর্তৃত্ব দেখানো বন্ধ করেন। ফেইসবুকও এমনটি করতে পারে। মার্ক জাকারবার্গ একা সব কয়টি কম্পানিকে সামাল দিতে পারছেন না বলে প্রমাণিত হয়েছে বহুবার। একেকটি শাখাকে একেকটি কার্যকর পরিষদের ওপর ছেড়ে দিতে পারেন মার্ক। প্রতিটি বিষয়ে নিজের নাক গলানোর অভ্যাসটি পরিহার করতে পারেন। এটি যেমন ফেইসবুকের জন্য মঙ্গল, তেমনি গ্রাহকদের জন্যও।

    সরকারপ্রধানরা যা করতে পারেন
    বলাই বাহুল্য, ফেইসবুক বর্তমানে সমাজের একটি মূল উপাদানে পরিণত হয়েছে। সামাজিক আচার-আচরণ, রাজনৈতিক পরিক্রমা—সব কিছুই ফেইসবুকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই প্রতিটি দেশের সরকারের উচিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা। কিভাবে এই মনোপলি ভেঙে নতুন উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া যায়, সেই দিকটির দিকেও খেয়াল রাখা।

    ফেইসবুক যেন কোনো স্পর্শকাতর তথ্য কোনো স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা।

    ফেইসবুকে কোনো অ্যালগরিদম চালু করার আগে প্রতিটি দেশের সরকারকে সেটি সম্পর্কে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

  • যে পাঁচ কারণে ভরাডুবি হলো কংগ্রেসের

    যে পাঁচ কারণে ভরাডুবি হলো কংগ্রেসের

    পরপর টানা দুবার ভরাডুবি হলো রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের। রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের অধীন ইউপিএ জোটের চেয়ারম্যান। জোট রাজনীতির মারপ্যাঁচে তিনি ইউপিএকে তলানি থেকে উঠিয়ে আনতে পারলেন না। ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামানো হয় রাহুলের বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। তিনি মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। তবে ভোটের মাঠে তিনি ব্যর্থ হলেন। স্বাধীনতার পর প্রায় চার দশক ভারত শাসন করা কংগ্রেসের এই নাজুক অবস্থার নেপথ্যের পাঁচটি কারণ জানানো হলো।

    দুর্বল নেতৃত্ব
    সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি থাকাকালে নেহরু-গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল। সোনিয়ার আমলে দুবার ইউপিএ জোটের ওপর ভর করে সরকার গঠন করে কংগ্রেস। তবে ২০১৪ সাল থেকে দলের মূল ভূমিকায় আসেন রাহুল। তার পর থেকে কংগ্রেসের নেতৃত্ব ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় চরিত্রের রাজনীতিক হিসেবে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারেননি তিনি, যেটা পেরেছেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী থেকে ভারতের ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে গেছেন মোদি।

    বিজেপিবিরোধী ইস্যু তৈরিতে ব্যর্থতা
    রাহুল গান্ধী বিজেপির বিরুদ্ধে বেশ কিছু ইস্যু নিয়ে ভোটের প্রচারে নেমেছিলেন। যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো; রাফায়েল দুর্নীতি, অর্থনীতির মন্দা গতি, কৃষক অসন্তোষ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন। তবে এসব ইস্যুতে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন রাহুল। রাজনীতির জন্য সঠিক সময়ে সঠিক ইস্যু তৈরি করে মানুষের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয়নি তার।

    আঞ্চলিক দলের আস্থাহীনতা
    উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী ও অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোট গড়তে ব্যর্থ হন রাহুল। তাদের দৃষ্টিতে, রাহুলের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। একই চিত্র পশ্চিমবঙ্গেও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার নেতৃত্ব মেনে নিতে রাজি হননি। মোটা দাগে এমন চিত্র আরও কিছু রাজ্যে।

    মোদিঝড়
    প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক ইস্যুতে ঝড় তুললেও রাহুল তা পারেননি। গণমাধ্যমে তার মুখ দেখা গেছে খুবই কম। মোদির মতো তিনি তেমন প্রচারে আসতে বা থাকতে পারেননি। তাছাড়া মোদি যেভাবে ভারতের মানুষের আবেগকে ধরতে পেরেছেন রাহুল সেখানে ব্যর্থ।

    পারিবারিক রাজনীতির প্রতি অনীহা
    বিজেপি যেভাবে গান্ধী পরিবার নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি করেছে, তা সামাল দিতেপারেনি কংগ্রেস। জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীকে নিয়ে বিতর্কিত ইস্যু চাঙ্গা করে ভোটের মাঠে ফায়দা তুলেছেন মোদি ও অমিত শাহরা। আর অমিত শাহর ধর্মীয় রাজনীতি মোকাবেলার মতো তেমন কোনো অস্ত্র ছিল না রাহুলের হাতে।

    ভারতের স্বাধীনতার পর ৭২ বছরের মধ্যে ৫৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকেছে কংগ্রেস। এর মধ্যে রাজীব গান্ধী নিহত হওয়ার পরই কেবল কয়েক বছরের জন্য দলের নেতৃত্ব গান্ধী পরিবারের বাইরের কারও হাতে ছিল। দীর্ঘ সময় দল ও দেশের নেতৃত্বে থাকা পরিবারটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিরও অভিযোগ ছিল অতীতে। বিজেপি সেই বিষয়টি সামনে আনতে পেরেছেন ভালোমতোই, যা ভোটারদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে।

  • বিজেপিকে ভোট, শায়েস্তা করতে গিয়ে গণধোলাই খেল তৃণমূল নেতাকর্মীরা

    বিজেপিকে ভোট, শায়েস্তা করতে গিয়ে গণধোলাই খেল তৃণমূল নেতাকর্মীরা

    অনলাইন ডেস্ক :: ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেয়ায় শায়েস্তা করতে গ্রামে ঢুকে পাল্টা গণধোলাই খেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। রাজ্যের সন্দেশখালির খুলনা পঞ্চায়েতের শীতলিয়া গোলাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। গণধোলাইয়ের শিকার তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজ বলছে, তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, ঘাসফুলের সঙ্গে প্রচারে থেকে গ্রামের কিছু মানুষ ভোট দিয়েছে বিজেপিকে। এর বিহিত করতে গোলবাড়ি গ্রামে যায় তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতা ও তার বাইকবাহিনী। গ্রামে ঢুকে কয়েকজনের বাড়ি ভাঙচুর ও মারধর করে। এরপর এ ঘটনার প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ান গ্রামের নারীরা।

    গ্রামবাসীরা রুখে দাঁড়ালে তৃণমূলের ওই নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে হুমকি দিতে থাকেন। এতে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন গ্রামের বাসিন্দারা। তারা ওই তৃণমূল নেতা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের ধরে বেধড়ক পেটায়। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় তাদের মোটরসাইকেলে।

    পুলিশ বলছে, গ্রামবাসীদের মারধরে স্থানীয় পঞ্চায়েত উপপ্রধান সত্যজ্যোতি সান্যাল ও তার ভাই দেবজ্যোতি-সহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের বসিরহাট সুপার স্পেসালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে

    শনিবার দুপুরের দিকে ২০-২৫ জনের একটি একটি দল খুলনা পঞ্চায়েতের গোলাবাড়ির কলোনিপাড়ায় যায়। গ্রামে ঢুকে তারা কল্পনা বিশ্বাস, বিশ্বিজিৎ বিশ্বাস ও তপতী মাইতিকে মারধর ও তাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে।

    পরে গ্রামের নারীরা উত্তেজিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া দেয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের। এ সময় পালাতে গিয়ে কয়েকজন ধরা পড়ে যায়। পরে তাদের গণধোলাই দেয় গ্রামের বাসিন্দারা।

  • ট্রাম্পের গলায় এখন ভিন্ন সুর, তিনি বলেন হুয়াওয়ে হতে পারে চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বানিজ্য চুক্তির অংশ

    ট্রাম্পের গলায় এখন ভিন্ন সুর, তিনি বলেন হুয়াওয়ে হতে পারে চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বানিজ্য চুক্তির অংশ

    যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হবে। এর প্রভাব কি শুধু হুয়াওয়েতে সীমাবদ্ধ থাকবে? বিশ্লেষকেরা বলছেন, হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ও গুগল। মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাচ সতর্ক করে বলেছে, হুয়াওয়ের নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় অ্যাপলের ব্যবসায় ঝুঁকি তৈরি হবে। সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আইফোন নির্মাতার বৈশ্বিক মুনাফা ২৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে।

    ব্যবসা ও প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট বিজনেস ইনসাইডারকে সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক প্রযুক্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জিবিএর ব্যবস্থাপনা অংশীদার জর্জ বার্কোভিজ বলেছেন, হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞায় গুগলের ওপর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বার্কোভিজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও সেবা ব্যবহারের যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাতে তারা চীনা অ্যাপ ও সেবা দেশটির বাইরে ছড়িয়ে দিতে উৎসাহী হবে। এতে চীনা প্রতিষ্ঠান বাইদু গুগলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করবে। এ ছাড়া উবারের বিরুদ্ধে লেগে যাবে ডিডি। যেসব এলাকায় হুয়াওয়ের ভিত্তি শক্ত, সেখানে গুগল ও উবারের মতো সেবাগুলো বিপদের মুখে পড়বে। বার্কোভিজ বলেন, শুধু চীন নয়, যেখানে হুয়াওয়ে স্মার্টফোন বেশি বিক্রি হয়, সেখানে সমস্যা সৃষ্টি হবে। গুগলের সার্চের বদলে মানুষ বাইদুর সার্চ ব্যবহার শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বব্যাপী তাদের সেবা বাড়ানোর সুযোগ করে দেবে। ভারত, আফ্রিকার বাজার ধরার চেষ্টা করবে তারা। অ্যান্ড্রয়েড সুবিধা না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও উন্নত দেশগুলোয় হয়তো বাজার হারাবে হুয়াওয়ে, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজারে অবস্থা ভিন্ন হতে পারে। সেখানে অপারেটিং সিস্টেমের চেয়ে কম দামে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য লুফে নেবে ক্রেতারা।

    চীনের বাজারে দামি হার্ডওয়্যার বিক্রেতা হিসেবে অ্যাপল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বদলা নিতে চীনের বাজারে আইফোন বিক্রি বন্ধ করে দিতে পারে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এতে অ্যাপলের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তবে স্বল্পমেয়াদের প্রভাবের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলেন বার্কোভিজ। তাঁর ভাষ্য, হুয়াওয়ের ওপর আক্রমণের অনেক পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে, যা প্রাথমিক প্রভাবের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ মে ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে হুয়াওয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করে। এতে সরকারি অনুমোদন ছাড়া মার্কিন সংস্থা থেকে প্রযুক্তিসেবা নেওয়ার পথ বন্ধ করা হয় হুয়াওয়ের জন্য। অবশ্য গত সোমবার হুয়াওয়ের বিধিনিষেধ তিন মাসের জন্য শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার পর হুয়াওয়ের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে কিছু সেবার আর কোনো আপডেট ভার্সন দেবে না বলে জানায় গুগল। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় ভবিষ্যতের স্মার্টফোনগুলোয় গুগলের অ্যাপ হুয়াওয়ের ফোনে চলবে না এবং গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ওএস ব্যবহার করতে পারবে না।

    ২৩ মে অ্যান্ড্রয়েড ডটকম থেকে গুগল কর্তৃপক্ষ হুয়াওয়ে পি৩০ প্রো ও মেট এক্স ফোন দুটি সরিয়ে দিয়েছে। হুয়াওয়ে বলেছে, পরিস্থিতি আগেই আঁচ করতে পেরেছিল তারা। নিজেদের অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে তাই আগেই কাজ শুরু করেছিল। সেই অপারেটিং সিস্টেমের নাম ‘হংমেং’। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই এ কাজ করেছে হুয়াওয়ে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত হুয়াওয়ের ব্যবসার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। পশ্চিমে হুয়াওয়ের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে স্টোর বাদে ফোন কিনতে আগ্রহী হন না। এর আগে হুয়াওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেন ঝেংফেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় তাঁরা প্রস্তুত। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নেবেন তাঁরা। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটগুলোয় বলা হচ্ছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন ওএস বাজারে আনবে হুয়াওয়ে। হুয়াওয়ের নতুন অপারেটিং সিস্টেম বা ওএস স্মার্টফোন, ট্যাব, পিসি, টিভি, অটোমোবাইল, পরিধানযোগ্য প্রযুক্তিপণ্যসহ সব ধরনের ডিভাইসে চলবে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ বলছে, হুয়াওয়ের নতুন ওএস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ও ওয়েব অ্যাপ সমর্থন করবে।

    হুয়াওয়ের ওএসে অ্যান্ড্রয়েড ওএস ৬০ শতাংশ দ্রুতগতিতে কাজ করবে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে গুগল, এআরএম, ইনটেল, কোয়ালকম ও ব্রডকম হুয়াওয়ের সঙ্গে কাজ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। এর বাইরে এসডি অ্যাসোসিয়েশন, ওয়াই-ফাই অ্যালায়েন্সও হুয়াওয়ের পাশ থেকে সরে গেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হলেও তারা নিজেদের ক্ষতি কি চাইবে? ইতিমধ্যে গুগল ও হুয়াওয়ে সমস্যা সমাধান করার ইঙ্গিত দিয়েছে। জাপানের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্যানাসনিক হুয়াওয়ের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েও এখন উল্টো সুরে কথা বলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গলায় এখন ভিন্ন সুর। তিনি বলছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তির অংশ হতে পারে হুয়াওয়ে। চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী মি. গাও বলেন, বাণিজ্য বিষয়ে তাঁরা আলোচনার পথ এখনো খোলা রেখেছেন। তবে আলোচনা করতে হলে তাঁদের এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ভুল পদক্ষেপগুলো সংশোধন করতে হবে।

    অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ আলোচনার টেবিলে বসা না পর্যন্ত সমাধানের পথ নেই। ১০ মে চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আর কোনো আলোচনা হয়নি। হুয়াওয়ে ডুবলে আরও অনেককে নিয়ে যে ডুববে, তা এখন অনেকেই আঁচ করতে পারছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো যত দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবে, প্রযুক্তিপ্রেমীরা ততটাই স্বস্তিতে থাকবেন।