Category: আন্তর্জাতিক

  • ফলাফল দেখে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন কংগ্রেস নেতা!

    ফলাফল দেখে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন কংগ্রেস নেতা!

    অনলাইন ডেস্ক :: ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে দেশটির প্রধানবিরোধী দল কংগ্রেসের ভরাডুবির ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশটিতে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। এতে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভূমিধস জয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে আবারো ক্ষমতায় আসছে।

    কংগ্রেসের জন্য হতাশাজনক এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রদেশের শোহোর জেলায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ভোট গণনার সময় গণনা কেন্দ্রে ফলাফল দেখে মারা গেছেন কংগ্রেসের এক নেতা।

    ভারতীয় একটি দৈনিক বলছে, বৃহস্পতিবার যখন ভোটগণনা চলছিল সেই সময় গণনাকেন্দ্রেই ছিলেন শোহোর জেলার কংগ্রেস সভাপতি রতন সিং ঠাকুর। সেখানেই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

     

    স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, লোকসভা ভোটের ফল দেখেই বুকে ব্যথা অনুভব করেন রতন সিং। নির্বাচনের ফল তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। ভোটের উত্তেজনা ও হারের ধাক্কা সামলাতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। গণনাকেন্দ্রেই বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অবস্থা গুরুতর দেখে দলের কর্মীরা রতন সিংকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুরো ভারতের মতো মধ্যপ্রদেশেও শোচনীয় হারের মুখে রয়েছে কংগ্রেস। রাজ্যের ২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি আসনে বিজেপি জয় পেয়েছে।

     

    দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাত্র এক মাস আগে মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতায় রাজনৈতিক পালাবদল হয়। ১৫ বছরের বিজেপি সরকারের ইতি টানেন রাজ্যের মানুষ। আস্থা রাখেন কংগ্রেসের ওপর। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফলাফলকে এই ভোটে কাজে লাগাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস।

  • বিজেপি-মোদি- স্মৃতি ইরানিকে শুভেচ্ছা রাহুলের

    বিজেপি-মোদি- স্মৃতি ইরানিকে শুভেচ্ছা রাহুলের

    রাহুল গান্ধীনিজ দল কংগ্রেস হেরে গেছে। দুই আসনে লড়াই করেছিলেন তিনি। এর মধ্যে মা–বাবার স্মৃতিধন্য আমেথি থেকে হেরে গেছেন। জিততে চলেছেন শুধু কেরালার আসনটি থেকে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় সময় বিকেল পাঁচটায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। পরাজয়ে ডরে না বীর—যেন এই আপ্তবাক্যকেই সম্মান জানালেন তিনি। স্বীকার করলেন পরাজয়। অকুণ্ঠ চিত্তে শুভেচ্ছা জানালের বিজয়ী বিজেপিকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। তবে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের অভয় দিয়েছেন নেতা রাহুল। বললেন, ‘ভয় পাবেন না। একসঙ্গে থাকুন।’

    রাহুল আজ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিজয়ী দল বিজেপি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান। রাহুল বলেন, ‘জনতা সবকিছুর মালিক। তাদের রায় মাথা পেতে নিয়েছি। জনতা বিজেপির পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি তাদের শুভেচ্ছা জানাই। নরেন্দ্র মোদিজিকে শুভেচ্ছা জানাই।’

    রাহুল আজ নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, জনতা যে রায় দেয়, তা আমি মেনে নেব। জনতা বিজেপির পক্ষে রায় দিয়েছে। আমি মেনে নিচ্ছি।’

    ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে উত্তর প্রদেশের আমেথি থেকে হেরে গেছেন রাহুল। সেখানে বিজয়ী বিজেপির প্রার্থী স্মৃতি ইরানিকে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি রাহুল। বললেন, ‘আমেথির মানুষ স্মৃতিজির প্রতি আস্থা স্থাপন করেছেন। তাঁদের সেই রায়ের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। স্মৃতি আমেথির মানুষের ভালোবাসার মূল্য দেবেন, এই আশা করি।’

    আজ দুপুর নাগাদ শোনা যাচ্ছিল, দলীয় প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন রাহুল। আজ সেই ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। রাহুল বলেন, সবে নির্বাচন শেষ হলো। দলের কার্যকরী কমিটি বসবে। সেখানে সিদ্ধান্ত হবে। এখনই ইস্তফার প্রশ্ন নেই।

    দলীয় প্রচারের সব সময় ভালোবাসার কথা বলেছেন, হিংসার কথা বলেননি। আজ সেই কথা আবার স্মরণ করিয়ে দেন রাজীব-তনয় রাহুল।
    নির্বাচনে প্রচারের লড়াইয়ে যেসব কর্মী সমর্থক ছিলেন, আজ রাহুল তাঁদেরও শুভেচ্ছা জানান। দলের কর্মীদের রাহুল। বলেন, ‘ভয় পাবেন না। আমরা একসঙ্গে লড়ব। ভালোবাসা কখনো হারে না।’

  • মোদিকে অভিনন্দন জানালেন যুবলীগ চেয়ারম্যান

    মোদিকে অভিনন্দন জানালেন যুবলীগ চেয়ারম্যান

    ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি টানা দ্বিতীয়বারের মতো জয় পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

     

    বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে উষ্ণতার সূচনা হয়েছিল এবারের বিজয়ের ফলে তা নতুন মাত্রা পাবে।

     

    ওমর ফারুক চৌধুরী আশা করেন যে, দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বিশেষ করে উপমহাদেশের তরুণদের উন্নয়নের জন্য তিনি বাস্তবানুগ পদক্ষেপ এবং কর্মসূচী গ্রহণ করবেন।

     

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা উন্নয়নের গণতন্ত্রের প্রবর্তক। উন্নয়ন এবং উন্নয়নের গণতন্ত্রের মাধ্যমেই একটা দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায়। নরেন্দ্র মোদি এই উন্নয়নের গণতন্ত্রের অন্যতম ধারক। তিনি তার একাধিক বক্তৃতায় বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের গণতন্ত্রের চেতনাকে তিনি লালন করেন। ভারতে যে এবার নরেন্দ্র মোদির বিজেপি বিজয়ী হয়েছে সেটা উন্নয়নের গণতন্ত্রের নীতি-কৌশলের কারণেই সম্ভব হয়েছে।

     

    তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা যেমন এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ নিরসনের জন্য যুবক-তরুণদের মেধা-মননের বিকাশের জন্য কাজ করছেন, ঠিক তেমনি নরেন্দ্র মোদিও যুবক তরুণদের উৎকর্ষতা সাধনের জন্য কাজ করে যাবেন। একই সঙ্গে এই উপমহাদেশকে একটি শান্তির অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন তিনি।

  • ইসলাম গ্রহণ করেছেন তামিল নায়ক রাম চরন

    ইসলাম গ্রহণ করেছেন তামিল নায়ক রাম চরন

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলিউডের অনেক তারকা। এবার এই কাতারে সামিল হলেন তামিল নায়ক রাম চরণ। এমনই একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ছবিতে দেখা যায় রাম চরণ সাদা রঙের টুপি পরে কোনো একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে দোয়া ধরেছেন। তাকে ঘিরে আছেন তার অনুসারিরা।

    ভাইরাল হওয়া ফেসবুক স্টাটাসে লেখা আছে, ইসলাম ধর্ম যে পৃথিবীর শ্রেষ্ট ধর্ম এই বার্তাটি সারা বিশ্বের কাছে আরো একবার পৌছে দিতেই এই রমজানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন তামিল ছবির জনপ্রিয় নায়ক প রাম চরন।

    উল্লেখ্য, বলিউডের অনেক তারকাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছে সাইফ আলি খান এর স্ত্রী বলিউড তারকা কারিনা কাপুর। এছাড়াও রয়েছেন অস্কার জয়ী সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমান। আছেন হেমা মালিনী, সাইফ আলির মা শর্মিলা ঠাকুর, অমৃতা সিং এবং আয়েশা টাকিয়াসহ আরো অনেকে।

  • পশ্চিমবঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    পশ্চিমবঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, দেশজুড়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। তবে পশ্চিমবঙ্গের মসনদ বরাবরের মতো দখলে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভারতের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফলে দেখা গেছে, ১৯৩ আসনে এগিয়ে আছে নরেন্দ্র মোদির এনডিএ জোট। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ৬৯ আসনে এগিয়ে আছে।

    তবে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বিজেপি জোট ৩২৮ আসনে জয়ী হয়ে ইতিমধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে। আর কংগ্রেস জোট ১০৮ আসন পেতে যাচ্ছে।

    দেশের রাজত্ব ফের মোদির হাতে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ হাতছাড়াই থেকে যাচ্ছে। ‍যুগান্তরের কলকাতা প্রতিনিধির দেয়া তথ্যানুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ২৩ আসনে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে। আর ৮ আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বিজেপি।

    তবে এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকাসহ একাধিক গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪২ আসনের মধ্যে ৩১টির ফল পাওয়া গেছে। এতে তৃণমূল পেয়েছে ১৮টি, বিজেপি ১২টি এবং কংগ্রেস পেয়েছে ১টি আসন।

    এর আগের দুটি নির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করে।

    তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে মমতা পান ৩৪টি আসন। কংগ্রেস তাদের থলিতে ভরে চারটি আসন। আর বামফ্রন্ট এবং বিজেপি পায় দুটি করে আসন। এবার নির্বাচনের আগেই মমতা লক্ষ্য নেন ৪২টি আসনই জেতার।

    ১১ এপ্রিল শুরু হয়ে গত রোববার শেষ হয় ভারতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার সাত ধাপের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

    ৮৩ কোটির বেশি ভোটারের জন্য ৫৪২ আসনের ৯ লাখ কেন্দ্রে মোট সাত পর্বে চলে এই ভোটগ্রহণ। কোনো দলকে সরকার গঠন করতে হলে পেতে হবে ৫৪৩ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসন।

  • মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ শেখ হাসিনার

    মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ শেখ হাসিনার

    লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বে এনডিএ জোট নিরঙ্কুশ জয়ের পথে এগিয়ে থাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিকালে পাঠানো এক বার্তায় এই অভিনন্দন জানান তিনি।

    শুভেচ্ছা বার্তায় সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মোদীকে আমন্ত্রণও জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ খবর নিশ্চিত করেছে।

    অভিনন্দন বার্তায় নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখেছেন, আপনার অসাধারণ নেতৃত্বে ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের জয়ে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এবং আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। এই জয় আপনার প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন।

    বার্তায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সত্যিকার সুসম্পর্ক, পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধায় ভারতের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ছিল এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, নিজেদের জনগণ দ্বারা আপনি ও আমি পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার ফলে ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য আদর্শ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং আমাদের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

    অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রী ভারতের জনগণের জন্য শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি মোদীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

    সাত দফায় অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে ১৯ মে। আজ ২৩ মে চলছে ভোটগণনা। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এনডিএ পেয়েছে ৩৪৫টি আসন। যার মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছে ২৮২টি আসন। অপরদিকে অন্যরা পেয়েছে ১০৫টি আসন যার মধ্যে কংগ্রেসে জোটের আসন ৯৩টি।

  • বৃটেনে ৩৪০০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন

    বৃটেনে ৩৪০০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর জীবন বিপন্ন

    বৃটিশ সরকারের সিদ্ধান্তে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস হওয়ার পথে। ২০১৪ সালে সরকার অভিযোগ করে যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অর্থাৎ বাইরের দেশ থেকে সেখানে পড়তে যাওয়া প্রায় ৩৪০০০ শিক্ষার্থী বাধ্যতামূলক ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন । ভিসা নবায়নের জন্য এ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। তাতে প্রতারণার অভিযোগে ওইসব শিক্ষার্থীকে তাদের পড়াশোনা ত্যাগ করতে বাধ্য করানো হয়েছে। অনেককে এজন্য যার যার দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের অনেকে। তার মধ্যে ফারজানা ববি অন্যতম। আছেন ভারতের তেজাস সোনি, পাকিস্তানের নাভিদ খান। জীবনে বড় ধাক্কা খেয়ে এসব শিক্ষার্থীর অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। কেউ কেউ আত্মহত্যা করতে গিয়ে ফিরে এসেছেন। পরিবারের কাছে অনেকে হয়ে পড়েছেন অনাকাঙ্ক্ষিত। ফলে কোথাও তাদের ঠাঁই নেই। লন্ডনে যাওয়া, থাকা-খাওয়া, প্রতিষ্ঠানের খরচ সহ তাদের ও পরিবারের হাজার হাজার পাউন্ড অর্থ খরচ হয়েছে।

    কিন্তু তাদেরকে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে পড়াশোনা শেষ না করেই। এ অবস্থায় আগামী শুক্রবার বৃটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা বৃটেনের ন্যাশনাল অডিট অফিসের (এনএও)। ওদিকে কেন এত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এমন হয়ে গেল সে প্রশ্নে ক্রমশ চাপ বাড়ছে বৃটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কি ঘটেছিল তা নিয়ে প্রথমবার তদন্তের জন্য আগামী মাসের শুরুতে এমপিদের সর্বদলীয় একটি বৈঠক বসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে সরকার ভুল করে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করেছে এবং তাতে তাদের মধ্যে যে বিপর্যয়কর পরিণতি সৃষ্টি হয়েছে তা তুলে ধরতে মঙ্গলবার হাউস অব কমন্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা শিক্ষার্থীদের। বৃটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ এমপিদের কাছে ব্যক্তিগভাবে বলেছেন, তিনি ওইসব শিক্ষার্থীর অবস্থার সঙ্গে সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, তাদেরকে ভুল করে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এনএও’র রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ হতে পারে।

    এ খবর দিয়ে লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ান দীর্ঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, সরকারের ওই অভিযোগের পর বৃটেন থেকে কমপক্ষে ১০০০ শিক্ষার্থীকে বের করে দেয়া হয়েছে। কয়েক শত শিক্ষার্থী দীর্ঘ বন্দি জীবন কাটিয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই বলেছেন, ভুল করে তাদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কমপক্ষে ৩০০ এমন ঘটনা আদালতে মুলতবি আছে। এতে বাংলাদেশের ফারজানা ববির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, টিউশন ফি ও বৃটেনে বসবাসের খরচ মিলিয়ে ববির পরিবারকে হারাতে হয়েছে ৫০ হাজার পাউন্ড। কিন্তু বৃটিশ সরকারের অভিযোগ তিনি ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় প্রতারণা করেছেন। এ অভিযোগে তিনি লন্ডনে অবস্থান করতে পারেন নি। তাকে কলেজে যোগ দেয়া বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করে দেয় সরকার। এতে তার ডিগ্রি অর্জন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

    এর ফলে যে অর্থ নষ্ট হয়েছে তাতে ববি ও তার পিতামাতার মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। তিনি শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করতে পারেন নি। এজন্য তাকে কম বেতনের কাজ করতে হচ্ছে বাধ্যতামূলক। বৃটিশ সরকারের অভিযোগের কারণে তার চাকরির যোগ্যতাকে আরো খর্ব করেছে। তার পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ফারজানা ববি বিদেশে গিয়েছিলেন পড়াশোনা করতে। তা ছিল জীবনকে উন্নত হিসেবে গড়ে তোলার বাসনা। কিন্তু তার পরিবর্তে তার জীবনে নেমে এসেছে করুণ পরিণতি।

    গার্ডিয়ান লিখেছে, ফারজানা ববির বয়স ২৯ বছর। তিনি খুব পরিষ্কার এবং শুদ্ধ ইংরেজি বলেন। তিনি ১৯ বছর বয়সে ব্যবসায় পড়াশোনা করতে লন্ডনের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। তার আগে তার ইংরেজির দক্ষতা ছিল খুব ভালো। একটি মার্কিন সংস্থা পরিচালিত মিশনারি স্কুলে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। ফলে ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় তাকে কারো সহায়তা নেয়ার দরকার হওয়ার কথা নয়।

    বিবিসির একটি রিপোর্টের পর ইংরেজি ভাষায় প্রতারণার বিষয়টি সামনে চলে আসে। ইংলিশ ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন (টোয়েইচি) পরীক্ষায় দুটি কেন্দ্রে এমন প্রতারণা হয় বলে ওই রিপোর্টে বলা হয়। ওই পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্ব ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এডুকেশনাল টেস্টিং সার্ভিসেসের। বৃটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের প্রতি নির্দেশ দেয় ৫৮৪৫৮ জনের পরীক্ষা আবার পর্যালোচনা করতে, যাদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। এমন নির্দেশের পর ওই প্রতিষ্ঠান এটা চূড়ান্ত করে যে, ৩৪০০০ শিক্ষার্থী চিটিং করেছেন। ২২৬০০ শিক্ষার্থীর ফলকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে জানানো হয়। আর চিটিং বা প্রতারণা করেন নি ২০০০ শিক্ষার্থী। তাই ৩৪০০০ শিক্ষার্থীর সবার ভিসা বাতিল করা হয় অথবা মেয়াদ খর্ব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২২ হাজার ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীর অনেকে। এ অবস্থায় শত শত শিক্ষার্থী এমপিদের সহায়তা চেয়েছেন। এ নিয়ে যারা প্রচারণায় নেমেছেন তারা বলছেন, যারা পরীক্ষা দিয়েছেন তাদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৯৭ ভাগ শিক্ষার্থী কি করে এমন প্রতারণা করতে পারেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে যারা তাৎক্ষণিকভাবে বৃটেন ছেড়েছেন তাদের পক্ষে বিদেশে বসে এই লড়াই চালিয়ে নেয়া খুবই কঠিন, যদিও তাদেরকে বলা হয়েছে বৃটেনের বাইরে বসেও তারা আপিল করার অধিকার পাবেন। এমন অবস্থার শিকার শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তাদের কাছে এমন অনুভূতিকে আত্মহত্যার মতো মনে হয়েছিল। তারা জীবনে আর অগ্রগতি করতে পারছেন না।
    ফারজানা ববি ২০১২ সালে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে তাকে ইংরেজি ভাষায় কথা বলার দক্ষতা প্রমাণ করতে হতো। তিনি বেশ ভালো গ্রেড নিয়ে পাস করেন। ভিসার জন্য আবেদনপত্র জমা দেন। পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন। তারপর ২০১৪ সালের নভেম্বরের এক রোববার সকাল ৭টার সময় তার বাসায় হাজির অভিবাসন বিষয়ক ৬ জন কর্মকর্তা। তার ফ্লাটমেটদের কাছে জানতে চান, ফারজানা ববি সেখানে থাকেন কিনা।

    ববি বলেন, এ কথা শুনে আমার মনো হলো- আমি যেন একজন ক্রিমিনাল। তার ভিসা নবায়নের আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাখ্যান করেছে আগেভাগে তা তিনি জানতেন না। মুহূর্তের মধ্যে তিনি উচ্চ ফি দিয়ে পড়াশোনা করা একজন ছাত্রী থেকে যেন অবৈধ অভিবাসী হয়ে যান।
    ওই কর্মকর্তারা তাকে ইংরেজি পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করতে থাকেন। ববি বলেন, পরীক্ষা নিয়ে তারা প্রচুর প্রশ্ন করলেন আমাকে। যেখানে পরীক্ষা দিয়েছি সেই ভবনটি দেখতে কেমন, পরীক্ষা কেমন ছিল, পরীক্ষা দিতে আমি সিঁড়ি বেয়ে উপরে গিয়েছি নাকি নিচতলায় পরীক্ষা দিয়েছি- এসব জানতে চাইলেন তারা।

    ফারজানা ববিকে ইমিগ্রেশন সেন্টারে নিয়ে রাখা হয় কয়েক ঘণ্টা। এরপর ধরিয়ে দেয়া হয় একটি কাগজ। তাতে বলা হয়, বৃটেনে প্রতারণার জন্য তাকে বৃটেন ছাড়তে হবে। তবে শুরুতে এ বিষয়ে এতখানি বুঝতে পারেন নি ববি। তিনি বলেন, আমি মনে করেছিলাম আমাকে সম্ভবত ছাড় দেয়া হচ্ছে। বৃটেন একটি উন্নত দেশ। তারা আইন দিয়ে চলে। কিন্তু দ্রুত এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, তার মতো আরো কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে একইভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানোটা খুব সহজ ছিল না।

    পড়াশোনা করতে না পেরে এবং কাজ থেকে তাকে বিরত রাখায় খুব হতাশ হয়ে পড়েন ফারজানা ববি। তবে তিনি বৃটেনে থাকার পক্ষে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যাতে তার ডিগ্রি সম্পন্ন করে গ্রাজুয়েশন করতে পারেন। ৬ মাস বাকি ছিল তার সেই পড়াশোনায়। কিন্তু সেই সময়টাও পান না। ববি বলেন, এমন সময় আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আমাকে দিশাহারা করে তুললো। এক পর্যায়ে আমি আত্মহত্যা করবো ভেবেছিলাম। মনে হলো আমার সহায়তা নেয়া প্রয়োজন। তাকে তার ফ্লাটমেটরা চলে যেতে বললেন। ফলে কয়েক মাস আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন ববি। বিভিন্ন বন্ধুর বাসায় সোফার ওপর তাকে ঘুমাতে হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি মধ্য লন্ডনে একটি পার্কের বেঞ্চে ঘুমাতে বাধ্য হয়েছেন। আইনি লড়াই করবেন সেই সামর্থ্য ছিল না তার। নিজে নিজেই চেষ্টা করেছেন বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনায় আবেদন করতে। এ পথে অগ্রসর হওয়ার আগেই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

    ববি বলেন, আমি মানসিক, শারীরিক, আবেগ ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল আর বাঁচতে পারবো না। তাই হয়তো আমি আত্মহত্যা করবো। মনে হয়েছিল আমি ব্লাকহোলের মধ্যে অবস্থান করছি। এখান থেকে আমাকে মুক্তি পেতে হবে। ভীষণ ভীতু হয়ে পড়েছিলাম। মনে হতো, তারা আমাকে ধরে বন্দিশিবিরে পাঠাবে। এ অবস্থায় একজন ইংলিশ বন্ধু আমাকে ঢাকায় ফেরার একটি টিকিট কিনে দেন। ব্যর্থতা এবং ক্ষোভ আমার ভিতর যেন মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলো। একটি ভিডিও ক্লিপের ওপর ভিত্তি করে তারা এত হাজার ছেলেমেয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো, এতে খুব রাগ হয়েছে। একটি ভিডিও ক্লিপই এটা প্রমাণ করতে পারে না যে, আমরা সবাই প্রতারণা করেছি।

    ফারজানা ববির পিছনে যে বিপুল পরিমাণের অর্থ খরচ হয়েছে তার জন্য ক্ষুব্ধ তার পিতামাতা। তাই ববি বিশ্বাস করেন, বৃটিশ সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে। তারা সেটা করলে আমি আমার মা-বাবার কাছে ক্ষমা চাইতে পারবো। তারা জানতে পারবেন আমি কোনো অন্যায় করি নি। আমার হাতে প্রমাণ থাকবে। তাদেরকে দেখানোর মতো কিছু নেই আমার কাছে আর। আমি আমার আশা হারিয়ে ফেলেছি।

    বৃটেনে ১১ মাস জেলে কাটিয়েছেন ভারতের তেজাস সোনি (৩৬)। তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আছে। কিন্তু তিনি তা স্বীকার করেন না। এ অভিযোগের বিরুদ্ধে বৃটিশ আদালতে কোনো আপিল করার অধিকার নেই। ইংরেজিতে তার ভালো দক্ষতা। তিনি আশা করেছিলেন বৃটেনে উচ্চতর পড়াশোনা শেষে ভারতে চাকরি করতে পারবেন। তাই তাকে বিদেশ যেতে উৎসাহিত করেছিলেন তার পিতা। সোনি বলেন, বাবা চেয়েছিলেন আমি মাস্টার ডিগ্রি সম্পন্ন করি, যাতে জীবনে আমার অবস্থান হয় উন্নততর। এজন্য আইনগত ও টিউশন ফি বাবদ খরচ হয়েছে ৩৫০০০ পাউন্ড। বৃটেন যাওয়ার আগে ইংরেজিতে তার ছিল ভালো দক্ষতা। ২০১১ সালে ভিসা নবায়নের জন্য তাকে টোয়েইচ পরীক্ষা দিতে হয়। তিনি মনে করেন, এতে চিটিং করা খুব কঠিন। কারণ সেখানে পরীক্ষাকক্ষে ছিল সিসিটিভি। এ ছাড়া ২০ থেকে ২৫ জন মানুষ উত্তরগুলো কম্পিউটারে রেকর্ড করছিলেন।

    ২০১৪ সালে তাকে একটি চিঠি ধরিয়ে দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, তিনি অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন এবং তার ভিসার মেয়াদ কমিয়ে আনা হয়েছে। তাতে তার বিরুদ্ধে ইংরেজি পরীক্ষায় চিটিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। তাতে বলা হয, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের আর কোনো অধিকার নেই আপনার। বিলম্ব না করে আপনার চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া উচিত। এ অবস্থায় তখনকার প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা মে’র কাছে এ বিষয়ে চিঠি লেখেন সোনি। তাতে তিনি বলেন, বৃটেনে পড়াশোনা করতে গিয়ে তিনি পড়াশোনার পিছনে এবং ভিসার পিছনে প্রচুর অর্থ খরচ করেছেন। কিন্তু তার সেই পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই তার ভিসার মেয়াদ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সোনি এ সময় তাদের কাছে জানতে চান- আমার এখন কি করা উচিত? এই দেশে আমি কি একজন অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হবো? আমি কি মুখ বন্ধ করে থাকবো এবং আমার দেশে ফিরে যাবো? আমি কি টেমসের (নদী) পাড়ে যাবো এবং তার ভিতর নিজেকে ডুবিয়ে দেবো?

    সোনির নাম যতক্ষণ ওই তালিকা থেকে বাদ না যায় ততক্ষণ তাকে ইংল্যান্ডে থাকার পরামর্শ দেয় তার পরিবার। কিন্তু ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তার করে। হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে যায় বন্দিশিবিরে। সেখানে রাখা হয় ১১ মাস। এ সময়ে তিনি ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েন। ওই বন্দিশালার মেডিকেল টিম তাকে বিষণ্নতা বিরোধী ওষুধ দেয়। ওইসব স্টাফরা খুব সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে তার বর্ণনা। তবে তারা সহায়তা করায় সক্ষম ছিলেন না। এমন কি কতদিন থাকতে হবে বন্দি তাও তারা বলতে পারতেন না। ওদিকে তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেয়ায় ভেঙে যায় তার বিয়ে। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী মনে করেছিল আমি একজন লুজার। এক পর্যায়ে ভারতে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু ভারতের আহমেদাবাদে বসে এ লড়াই চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ভারতে বসে বৃটেনের অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাটা খুবই কঠিন। আমি এখনও আশা করি, বৃটেন আমার পড়াশোনার বাকি অংশটা সম্পন্ন করার অনুমতি দেবে।
    ওইসব শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের নাভিদ খান (৩৩)। তিনি বৃটিশ সরকারের ওই সিদ্ধান্তে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু বেঁচে যান। নিজেকে আবিষ্কার করেন একটি হাসপাতালে। চিকিৎসকরা তাকে পরামর্শ দেন পাকিস্তানে ফিরে আসতে। তারা মনে করেন, দেশে ফিরলে তিনি হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। কিন্তু তাকে প্রত্যাখ্যান করে তার পরিবার। কারণ, এ পরিবারটি বৃটিশ বিচার ব্যবস্থার ওপর এতটাই আস্থা রাখে যে, তারা মনে করে বৃটিশ সরকার অন্যায়ভাবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনতে পারে না। বৃটেনে থেকে ফিরে এসে পরিবারে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন নাভিদ। কোনো কাজ পাচ্ছেন না। পাকিস্তানে তিনি বিপন্ন অবস্থায় আছেন। দু’বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে দু’ঘণ্টার দূরত্বে গৃহহীন মানুষদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন তিনি।
  • দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ হল আইফেল টাওয়ার

    দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ হল আইফেল টাওয়ার

    দর্শনার্থীদের জন্য প্যারিসের আইফেল টাওয়ার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২০ মে) বিকেলে এক অনু্প্রবেশকারী লোহার তৈরি বিশাল এ স্থাপনা বেয়ে ওঠার চেষ্টা করলে এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। খবর দ্য গার্ডিয়ান’র।

    পুলিশ জানিয়েছে, আরোহণ বিশেষজ্ঞসহ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুপ্রবেশকারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে, ওই ব্যক্তি কত উঁচুতে উঠেছিলেন ও তার উদ্দেশ্য কী তা জানা যায়নি।

    এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। আইফেল টাওয়ার কবে নাগাদ খোলা হবে, তাও জানানো হয়নি।

  • ক্ষমতার আট বছর পূর্তিতে কঠিন চ্যালেঞ্জে মমতা

    ক্ষমতার আট বছর পূর্তিতে কঠিন চ্যালেঞ্জে মমতা

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার পশ্চিমবঙ্গে ৮ বছর পূর্ণ করেছে৷ সোমবার ট্যুইটারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিনটি নিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘২০১১ সালের ২০মে প্রথম মা, মাটি, মানুষ সরকার শপথ গ্রহণ করে। গত আট বছরে আমরা নিরলস পরিশ্রম করে গিয়েছি, বাংলার মানুষের উন্নতির স্বার্থে। আমাদের লক্ষ্য একটাই – বাংলা হবে বিশ্ব বাংলা। বাংলা হবে বিশ্ব সেরা৷’

    ঘটনাচক্রে রবিবার ১৭তম লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে৷ নির্বাচনের বুথফেরৎ সমীক্ষাগুলি কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ভালো খবর শোনায়নি৷ সমীক্ষাগুলি রাজ্যে বিজেপির আসন সংখ্যা বৃদ্ধির কথাই বলেছে৷ রাজনৈতিক মহলের মতে যা চিন্তায় রেখেছে মমতাকে৷

    কয়েকটি বুথ ফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত করেছে রাজ্যে বিজেপি ২৩টি আসন পেতে পারে– ঠিক যেমনটি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বুথ ফেরত সমীক্ষা সম্পর্কে বলেছেন, এই বুথ ফেরৎ সমীক্ষা হল ইভিএমকে এদিক-ওদিক করা বা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। এই গুজবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।

    তবে, সোমবার বিকেলে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রীকে হয়তো ভাবাবে৷ দিলীপ বলেছেন, অন্যদলের বিধায়করা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন৷ বুথ ফেরৎ সমীক্ষার ফল দেখে ওরা বিজেপিতে আসছে চাইছেন৷ নির্বাচনী প্রচার থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ মমতাকে ২৩ মের পর সরকার ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন৷

    কয়েক ধাপ অগিয়ে দিলীপ সোমবার বলেছেন, অন্যান্য দলের ফোন তিনি আগে থেকেই পান৷ প্রধানমন্ত্রী বললেন যে তার কাছে ৪০ জন (বিধায়কের) খবর পৌঁছেছে৷ এখানে তো ১০০ জনের খবর আছে৷ এখানকার খবর দিল্লি গিয়েছে৷

    এই নির্বাচনী চাপের মুখেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকার ৮ বছর সম্পূর্ণ করেছে সোমবার৷ ২০১১ সালে মমতার দেওয়া জ্বালাময়ী ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানকে বাংলায় এসেই ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন মোদি৷ বারবার মমতার সরকারকে তোলাবাজ এবং সিন্ডিকেট-রাজের সরকার বলেছেন৷ নারদা-সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন৷

    অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী চৌকিদারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন গণতন্ত্রের থাপ্পড় মারবেন৷ সারা দেশ দেখেছে মোদি-মমতার লড়াই৷ তবে রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, আট বছরের মাথায় সব থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে মমতার সরকার

  • সাত মাসের মাথায় একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম

    সাত মাসের মাথায় একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম

    একজন মা একসঙ্গে একটি সন্তানের জন্ম দেবেন এটা স্বাভাবিক। তবে কোনো মা যমজ সন্তানেরও জন্ম দেন। বিরল ঘটনা ঘটলে বিশ্বের কোনো এক প্রান্তে একসঙ্গে তিন কিংবা চারটি সন্তান জন্ম দেয়ার খবরও পাওয়া যায়। কিন্তু মধ্য ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডের এক মা গর্ভধারণের সাত মাসের মাথায় একসঙ্গে ছয়টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

    গত সোমবার এই ঘটনাটি ঘটেছে পোল্যান্ডের ক্রাকাউ শহরে। বিরল এই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন শহরটির ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কেননা ওই হাসপাতালেই এক সঙ্গে ছয়টি শিশুর জন্ম দিয়েছেন পোলিশ সেই নারী। বাচ্চারা সবাই সুস্থ আছেন।

    একসঙ্গে ছয়টি সন্তানের জন্ম (সেক্সটুপলেটস) প্রথমবারের মত ঘটলো পোল্যান্ডে। ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের মুখপাত্র রিচার্ড লুটারবাখ জানিয়েছেন, একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম দেয়া ওই নারীর বয়স ২৯ বছর। জন্ম দেয়ার পর ওই নারী তার ছয় সন্তানসহ সুস্থ আছেন বলেও জানান তিনি।

     

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ছয় নবজাতকের দুটি পুত্র এবং চারটি কন্যসন্তান। তবে সবার ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম। বাচ্চাগুলোর ওজন ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ গ্রামের মধ্যে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই বিরল ঘটনা নিয়ে দেশটির মানুষ বেশ উচ্ছ্বসিত।

    গর্ভধারণের মাত্র প্রায় সাত মাসের (২৯ সপ্তাহ) মাথায় ছয়টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ওই নারী। এছাড়া দুই বছর বয়সী আরও একটি ছেলে সন্তান আছে তার। একসঙ্গে ছয় সন্তানের জন্ম দেয়ার পর ওই নারীকে টুইটারে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট অ্যান্দ্রেজ দুদা।