Category: আন্তর্জাতিক

  • কুরআন অনুবাদ করে মুসলমান হলেন মার্কিন যাজক স্যামুয়েল

    কুরআন অনুবাদ করে মুসলমান হলেন মার্কিন যাজক স্যামুয়েল

    মার্কিন এক যাজক মুসলমান হওয়ার পর বলেছেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পর বন্ধুত্বপূর্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার সৌদি গণমাধ্যম সাবাককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন যাজক স্যামুয়েল আর্ল শ্রপশায়ার এ কথা বলেছেন।

    ৭০ বছর বয়সী স্যামুয়েল জানান, মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে মুসলমানদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে প্রথমবার সৌদিতে যান পবিত্র কুরআনকে নতুনভাবে অনুবাদের জন্য।

    তবে সৌদি আরবে গিয়ে একেবারেই ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি লক্ষ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি সেখানে অনেক ভালো মানুষ দেখতে পাই। আমি মুসলিম কিংবা অমুসলিম, সেটা বিবেচনা না করে কেবল মানুষ হিসেবে আমার সঙ্গে তারা ভালো আচরণ করে।

    জেদ্দায় থেকে কুরআনের অনুবাদের কাজ করার সময় যে আতিথেয়তা পেয়েছেন তিনি, সেটাই তাকে ইসলামের প্রতি ভালোলাগা তৈরি করে দিয়েছে।

    তিনি বলেন, সৌদিবাসীদের শুধু এক আল্লাহর উপাসনা করে এবং তাদের ভালো নৈতিকতা রয়েছে।

    বর্তমানে তিনি সৌদি আরবেই আছেন। শান্তি ও সংহতির জন্য মুসলমানদের কণ্ঠস্বর নামে অলাভজনক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

  • অদ্ভুত কিছু তথ্য

    অদ্ভুত কিছু তথ্য

    পৃথিবীতে বড়ই বৈচিত্রময়। প্রতিনিয়ত এখানে কত রকমের ঘটনাই না ঘটে! এসব ঘটনার কিছু চলে আসে খবরের শিরোনামেও। তেমনি কিছু অদ্ভুত তথ্য নিচে দেওয়া হল-

    ● পৃথিবীর মোট উৎপাদিত খেলনার মধ্যে ৭০ ভাগই চীন তৈরি করে থাকে!

    ● ভারতে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি সংখ্যক পোস্ট অফিস রয়েছে?
    ● ইংরেজি ‘level’ শব্দটির অক্ষরগুলো উল্টে দিলেও তা একই থাকবে!
    ● ইংরেজি বর্ণমালায় সর্বাধিক ব্যাবহার করা বর্ণ হলো ‘E’ এবং সবচেয়ে কম ব্যবহার করা বর্ণ হলো ‘Q’।

    ● একটি ডিমে শুধু ভিটামিন সি বাদে অন্য সব প্রকার ভিটামিন থাকে!

    ● পৃথিবীর মোট বিক্রি হওয়া ৯৬% মোমবাতিই মেয়েরা কিনে।

    ● পাবলিক টয়লেট বা বাথরুম ব্যবহার করার পর বিশ্বের ৪২% পুরুষ এবং ২৫% মহিলাই তাদের হাত পরিষ্কার করেন না।

    ● সুইজারল্যান্ডের মানুষরা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি চকোলেট খায়। বছরে গড়ে প্রতিজন খায় প্রায় ১০ কেজি করে।

    ● প্রতি মিনিটে পুরো বিশ্বে ৬০০০ বা তার অধিকবার বজ্রপাত হয়!

    ● আফ্রিকা মহাদেশে অন্য যেকোনো প্রাণীর আক্রমণের চেয়ে জলহস্তীর আক্রমণে বছরে বেশি মানুষ মারা যায়।

    ● ফ্রেন্স ফ্রাইয়ের জন্মস্থান ফ্রান্সে নয়, বরং বেলজিয়ামে।

    ● কোথাও ভ্রমণ করার সময় মানুষ টুথব্রাশ নিতে সবচেয়ে বেশি ভুলে যায়।

    ● আগস্ট মাসে জন্মহার অন্য সব মাসের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ বিশ্বে আগস্ট মাসেই সবচেয়ে বেশি জন্মদিন পালন করা হয়।

    ● যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো খাবার আপনার মুখের লালার সাথে না মিশে আপনি ততক্ষণ সেই খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে পারেন না।

    ● অধিকাংশ লিপস্টিক তৈরিতে মাছের আঁশ ব্যবহার করা হয়।

    ● পাখিদের খাদ্য গেলার জন্য অভিকর্ষজ বলের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ কোনো পাখিকে যদি চাঁদে নিয়ে খাবার খেতে দেয়া হয় তবে সেটি খাবার গিলতে পারবে না।

    ● মেয়েদের হার্ট ছেলেদের হার্টের চেয়ে দ্রুত স্পন্দিত হয়।

    ● শুধু হৃৎপিণ্ডই নয়, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এমনকি চোখের পাতাও দ্রুত ফেলে!! (প্রায় দিগুন দ্রুত)

    ● প্রাচীনকালে মিশরে মমি পুড়িয়ে আগুন তৈরি করা হতো। কারণ, সেখানে কাঠের সল্পতা ছিলো, কিন্তু মমির সল্পতা ছিলো না।

    ● অ্যান্টার্কটিকাতে সবচেয়ে মোটা (প্রস্থে) বরফের টুকরাটির ব্যাসার্ধ ৩ মাইল!!

  • সেতু নির্মাণে সময় ও খরচ বাঁচিয়ে ‘চমক’ দেখালো জাপানিরা

    সেতু নির্মাণে সময় ও খরচ বাঁচিয়ে ‘চমক’ দেখালো জাপানিরা

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মেঘনা-গোমতী দ্বিতীয় সেতু নির্মাণে সময় ও অর্থ বাঁচিয়ে ‘চমক’ দেখালো জপানিরা। এক মাস সময় হাতে থাকতেই সেতুটির নির্মাণ শেষ করেছে তারা।

    কেবল তাই নয়, ‘চমক’ দেখিয়েছে তিনটি সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩৮ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিয়েও।

    গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ‘কালো ছায়া’ ফেলেছিলো জাপানি বিনিয়োগে দেশে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোতে। ওই হামলায় জাপানিরা আক্রান্ত হওয়ায় তার প্রভাব পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্মাণাধীন মেঘনা-গোমতী দ্বিতীয় সেতু প্রকল্পেও। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগে নির্মাণ কাজ করে রীতিমতো চমক দেখিয়েছে জাপানের তিন নির্মাণ কোম্পানি।

    সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হলি আর্টিজানের ঘটনায় প্রায় ছয় মাস কাজ বন্ধ রাখে জাপানের তিন নির্মাতা কোম্পানি। এজন্য প্রকল্প মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোরও আবেদন করে তারা। কিন্তু সেই ৬ মাস তো দূরে থাক, আগের সময় এক মাস হাতে থাকতেই নির্মাণ শেষ করেছে তারা। কেবল তাই নয়, ‘চমক’ দেখিয়েছে তিনটি সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩৮ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিয়েও।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে উল্টো দফায় দফায় প্রকল্প ব্যয় বাড়ানোর ‘ধান্দা’য় থাকে, সেক্ষেত্রে জাপানিরা তাদের চমক দেখিয়েছে নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ করে। অন্যদিকে প্রায় হাজার কোটি টাকা ফেরত দেওয়াও একটি জাপানি শিক্ষা।

    সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৭ মাস আগেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতুর উদ্বোধন করবেন। এছাড়া একই সময়ে দ্বিতীয় মেঘনা সেতুও উদ্বোধন করা হবে।

    নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৭৩৮ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু গত মার্চ মাসে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সেতু বিভাগ বলছে, চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন এসে আগে পুরাতন মেঘনা-গোমতী সেতুতে একলেনে উঠতো। পুরাতন সেতুটি বেশি ঢাল এবং যানবাহনের ধীরগতির কারণে যানজটের আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়তেন যাত্রী ও চালকেরা।

    এক হাজার ৪১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর রয়েছে ১৬টি পিলার। এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা। আর পুরাতন মেঘনা-গোমতী সেতু পুনঃনির্মাণের জন্য ব্যয় হবে ৪০০ কোটি টাকা।

    দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতু উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলে শুরু হবে পুরাতন সেতুর পুনঃনির্মাণ কাজ।

    ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্প অনুযায়ী, ২০২০ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তার বেশ কয়েকমাস আগেই নতুন সেতু নির্মাণ ও পুরাতন বিদ্যমান সেতুর সংস্কার কাজ শেষ হবে।

    জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও স্টিল ন্যারো বক্সগার্ডারের ওপর নির্মিত হয়েছে এই সেতু। এ ধরনের প্রযুক্তিতে এটাই বাংলাদেশে প্রথম সেতু। এর আগে ভিয়েতনাম ও জাপানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

    এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে গড়াই ব্রিজ নির্মাণের কাজ (১৯৯০ সালে) নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা হয়েছিল। এরপর নির্ধারিত সময়ের আগে পুরাতন মেঘনা ও গোমতী সেতুর কাজ শেষ করা হয়েছিল যথাক্রমে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে। সবগুলো কোম্পানিই ছিল জাপানের। বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকল্পের কাজ শেষ করার ইতিহাস একমাত্র জাপানিদেরই। আর কারও নেই। ১৯৯৫ সালের পর এই কাজটা তারাই করল।

  • শিক্ষার ভিত দুর্বল হচ্ছে পরীক্ষাকেন্দ্রিক পাঠদানে

    শিক্ষার ভিত দুর্বল হচ্ছে পরীক্ষাকেন্দ্রিক পাঠদানে

    শিক্ষার্থীরা শিখছে, তবে খণ্ডিতভাবে। শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, বছরের নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যবইয়ের পুরোটা পড়ানোর কথা থাকলেও শিক্ষকরা বিবেচনায় নিচ্ছেন পরীক্ষাকে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থী-অভিভাবকের চাপে নির্বাচিত কিছু অধ্যায় পড়িয়েই শেষ করছেন সিলেবাস। পরীক্ষাকেন্দ্রিক এ পাঠদানে দুর্বলই থেকে যাচ্ছে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার ভিত। সাম্প্রতিক নানা গবেষণায়ও বিষয়টি উঠে এসেছে।

    নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের একদল গবেষক দেশের মাধ্যমিক স্তরে পরীক্ষা ও এর প্রভাব নিয়ে গত বছর একটি গবেষণা চালান। এতে নেতৃত্ব দেন নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টারবারির স্কুল অব টিচার এডুকেশনের শিক্ষক জ্যানিনকা গ্রিনউড ও মো. আল আমিন নামের এক গবেষক।

    গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জরিপ চালানো হয়। জরিপ চালাতে গিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন গবেষকরা। জরিপে পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে ‘দি এক্সামিনেশন সিস্টেম ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড ইটস ইমপ্যাক্ট: অন কারিকুলাম, স্টুডেন্টস, টিচার্স অ্যান্ড সোসাইটি’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন তারা, যা সম্প্রতি জার্মানিভিত্তিক প্রকাশনা স্প্রিঞ্জারে প্রকাশিত হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের ৬৭ শতাংশ জানিয়েছেন, স্কুলের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকরা তাদের সবসময় যে পদ্ধতিতে পড়ালে শিক্ষার্থীর ভালো নম্বর নিশ্চিত হবে, সেভাবেই পড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। ৭১ শতাংশ শিক্ষক জানান, পরীক্ষায় সন্তানের ভালো নম্বর নিশ্চিত করতে চাপ প্রয়োগ করেন অভিভাবকরা। অন্যদিকে ৮০ শতাংশ শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা থাকে যেসব বিষয় পরীক্ষায় কমন আসার সম্ভাবনা বেশি, সেগুলোই যেন শ্রেণীকক্ষে পড়ানো হয়।

    কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এসব নির্দেশনা ও প্রত্যাশা পাঠদান পদ্ধতিকে প্রভাবিত করছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তাদের পাঠদান পদ্ধতিতে। ৫৭ শতাংশ শিক্ষক গবেষকদের জানান, তারা ক্লাস লেকচার তৈরি করার সময় পরীক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখেন। এছাড়া ৬৫ শতাংশ শিক্ষকই মনে করেন, পরীক্ষা না থাকলে তাদের পাঠদান পদ্ধতি ভিন্ন হতো।

    শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভালো নম্বর বা গ্রেড পাইয়ে দেয়াকেই পাঠদানের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে নিচ্ছে বিদ্যালয়গুলো। অভিভাবকদের মধ্যেও সন্তানের ভালো ফল অর্জন নিয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীর কাছে জ্ঞানার্জনের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে বেশি নম্বর প্রাপ্তি। নম্বর ও গ্রেডনির্ভরতার ফলে অর্জিত হচ্ছে না শিক্ষার মূল লক্ষ্য।

    পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের বাইরে প্রাইভেট টিউশন ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে প্রিয়া নামের এক শিক্ষার্থীর উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, ওই শিক্ষার্থীর কাছে ইংরেজি বই দেখতে চাইলে সে গবেষক দলের সদস্যদের কাছে নবদূত প্রকাশনীর একটি গাইড বই নিয়ে আসে। সে জানায়, এটি সে বিদ্যালয়ে ও প্রাইভেট পড়তে নিয়ে যায়। এটি দেখেই শিক্ষক তাদের পড়ান। অন্য শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে এ বইই নিয়ে আসে। এ সময় পাঠ্যবইয়ের কথা জানতে চাইলে সে বলে, ‘ওহ, মেইন বুক!’ এরপর আলমারি থেকে সে মূল পাঠ্যবইটি বের করে দেখায়, যা না পড়ার কারণে তখনো অনেক নতুন দেখাচ্ছিল।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এসএম হাফিজুর রহমান বলেন, শিখন-শেখানোর একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেই পাঠ্যবই লেখা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে পাঠদান শেষে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা যা শেখার তা শিখছে না। তাহলে ধরে নিতে হবে, পাঠদান পদ্ধতিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে। পাঠদান পদ্ধতির সমস্যা হচ্ছে, ক্লাসে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পাঠদান দেয়া হচ্ছে না। যে টপিক যেভাবে পড়ানোর কথা, শিক্ষকরা তা অনুসরণ করছেন না। আবার অনেক শিক্ষক নিজেই পাঠ্যবইয়ের বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেন না। তাই শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যক্রম অনুসরণে শিক্ষকদের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদানের যোগ্যতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

    এদিকে সম্পূর্ণ পাঠ্য না পড়ানোর ফলে এক ধরনের খণ্ডিত জ্ঞান নিয়েই বের হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে পাস করে বের হওয়ার পরও মৌলিক অনেক বিষয়ে দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে তাদের। সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালে মাধ্যমিক শিক্ষায় বিষয়ভিত্তিক শিখন মান যাচাইয়ে ‘লার্নিং অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস’ (লাসি) শীর্ষক এক জরিপ চালানো হয়। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিখন মান কেমন, তা যাচাইয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ জরিপ চালায়। দেশের ৩২ জেলার ৫২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে দেখা যায়, অষ্টম শ্রেণীর অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা কাঙ্ক্ষিত মানের নয়।

    এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা স্কুলে ভর্তি হচ্ছে। ক্লাস করছে। পাস করে বেরও হচ্ছে। কিন্তু তারা কতটুকু শিখছে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সরকারের পক্ষ থেকে বড় অংকের অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হচ্ছে। বড় বড় প্রকল্পও গৃহীত হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে বেরিয়ে আসছে ভিন্ন ফল। তাহলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কী ধরনের ত্রুটি আছে, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। পদ্ধতি ঠিক না করে যত অর্থই ব্যয় করা হোক, সেটি ফলপ্রসূ হবে না

  • ধ্বংসস্তূপের মাঝে ইফতার করছেন ফিলিস্তিনিরা

    ধ্বংসস্তূপের মাঝে ইফতার করছেন ফিলিস্তিনিরা

    মাহে রমজানে রোজা পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা। এই মাসে রোজা পালন করা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়। রমজানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির রোজা রাখা ফরজ।

    রোজা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমরা তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই রোজা পালন করেন। রোজার অন্যতম দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সাহরি ও ইফতার। এই দু’টি বিষয়কে কেন্দ্র করে নানা আয়োজন চোখে পড়ে। স্বচ্ছল পরিবারগুলো বিভিন্ন ধরণের খাবারের ব্যবস্থা করেন।

    তবে যাদের সামর্থ্য নেই তাদের জন্য রোজা রাখাটাও কষ্টকর হয়ে যায়। তাদের কাছে সাহরি বা ইফতারে বিশেষ কোন আয়োজন থাকে না। বিশ্বের এমন অনেক দেশই আছে যেখানে সাহরি ও ইফতারের সময় প্রচুর খাবার নষ্ট করা হয়। আবার অন্য প্রান্তের লাখ লাখ মানুষ হয়তো শুধু একটু পানি আর কয়েকটি খেজুর দিয়েই ইফতার করছেন।

    যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশগুলোতে এই রোজার সময় সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হয়। খাবার এবং পানির সংকট আর শত্রুদের আতঙ্কের মধ্যেই রোজা পালন করতে হয় রোজাদারদের।

    সাম্প্রতিক সময়ে গাজা উপত্যকা থেকে তোলা ইফতারের মুহূর্তের বেশ কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এসব ছবি দেখে যে কারো চোখে পানি চলে আসবে। ওই ছবিগুলোতে দেখা গেছে খোলা আকাশের নিচেই ইফতার করছেন অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার।

    হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতে ফিলিস্তিনিদের বহু বাড়ি-ঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। ইফতারের সময় সেই ভেঙে পড়া বাড়ি-ঘরের সামনেই বড় টেবিল পেতে ইফতার করছেন শিশু, বৃদ্ধ, পুরুষ এবং নারীরা।

    তাদের মাথার ওপর এক টুকরো ছাদও নেই। খাবার আর পানির সংকটও রয়েছে। তবুও তারা ধৈর্য্যহারা না হয়ে এমন পরিস্থিতিতেও সাহস নিয়ে বেঁচে আছেন। বিভিন্ন পরিবারের সবাই মিলে এক সঙ্গে ইফতার করছে। সংঘাত তাদের মনোবল নষ্ট করতে পারেনি।

  • ২০২০ এর মাঝামাঝি সময়ের আগেই স্যামসাংকে পেছনে ফেলে প্রথম স্মার্টফোন নির্মাতার স্থান দখল করবে হুয়াওয়ে।

    ২০২০ এর মাঝামাঝি সময়ের আগেই স্যামসাংকে পেছনে ফেলে প্রথম স্মার্টফোন নির্মাতার স্থান দখল করবে হুয়াওয়ে।

    স্টাফ রিপোর্টার// শাওন অরন্য:

     

    আমাদের দেশে মোবাইল ফোনের টাওয়ার সহ নেটওয়ার্কিং এর যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, তার ৯০% হুয়াওয়ের।
    শুধু আমাদের দেশ না, পৃথিবীর ১৭০টা দেশের নেটওয়ার্কিং এর যন্ত্রপাতি কেনা হয় হুয়াওয়ে থেকে।পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ৫০টা টেলিকম অপারেটরের মধ্যে ৪৫টা ব্যবহার করে হুয়াওয়ের যন্ত্রপাতি। শুধুমাত্র ২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার তিনভাগের এক ভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে হুয়াওয়ের কনজিউমার।এই সংখ্যাটা পরবর্তীতে আরো বেড়েছে,কমেনি।
    হুয়াওয়ে হচ্ছে ওয়ার্ল্ড বিগেস্ট টেলিকম ইকুইপমেন্ট মেইকার।এই ব্যবসায় তাদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায় আরেক চাইনিজ কোম্পানী ZTEকে।যারা হুয়াওয়ের জিনিস কিনেনা,তারা ZTE থেকে কিনে।

    হুয়াওয়ে সেকেন্ড লার্জেস্ট টেলিভিশন চিপ নির্মাতা কোম্পানী।
    প্রথম 5G টিভি আনার ঘোষণা দিয়ে তারা স্যামসাং এবং অ্যাপলের টিভি ব্যবসাকে বিপদে ফেলে দিয়েছে।একই সংগে এই টিভি 8K রেজ্যুলেশন এবং 360 ডিগ্রী ভিউ। যা দিয়ে দর্শক যেকোনো দিক থেকে টিভি দেখতে পারবে।

    বলা বাহুল্য,হুয়াওয়ে পৃথিবীর প্রথম কোম্পানী হিসেবে সফলভাবে 5G নেটওয়ার্ক এনেছে।

    হুয়াওয়ের নেটওয়ার্কিং এবং ইলেক্ট্রনিকস ছাড়াও আমরা যেভাবে হুয়াওয়েকে চিনি, সেটা হচ্ছে মোবাইল বা স্মার্টফোন দিয়ে।
    ২০১৮ সালে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা হিসেবে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে হুয়াওয়ে। প্রথম অবস্থানে আছে স্যামসাং। গবেষকরা বলছেন ২০২০এর মাঝামাঝি সময়ের আগেই স্যামসাংকে পেছনে ফেলে প্রথম স্মার্টফোন নির্মাতা হবে হুয়াওয়ে।যদিও সেই অগ্রযাত্রা এখন হোঁচট খেয়েছে। সেটাতে পরে আসছি।
    ভাঁজ করা যায় এমন স্মার্টফোন প্রথম যে দুটি কোম্পানী এনেছে,তারা হচ্ছে যথাক্রমে স্যামসাং এবং হুয়াওয়ে।
    এই দুটি কোম্পানী ফোল্ডেবল স্মার্টফোন আনার জন্য গবেষণা চালাচ্ছিল বেশ কয়েক বছর ধরে।

    যদিও তাড়াহুড়ো করে হুয়াওয়ের এক সপ্তাহ আগে রিলিজ হওয়া স্যামসাং এর ফোনটি কিছুদিনের মধ্যেই মার্কেট থেকে তুলে ফেলা হয়েছে।এতে যথেষ্ট সমস্যা ছিল।ফোল্ডেবল দুটি ফোনের মধ্যে হুয়াওয়েরটাই উন্নত এবং পারফেক্ট।

    মোবাইল ফোনের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (R&D) খাতে হুয়াওয়ের ইনভেস্ট অন্য যেকোনো কোম্পানীর চেয়ে বেশী।
    ২০১৮ তে তারা এই খাতে বাজেটে স্যামসাংকে ছাড়িয়ে যায়।এর আগে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী বাজেট ছিল স্যামসাং এর।২০১৮ তে স্যামসাং সিদ্ধান্ত নেয় তারা মোবাইলের গবেষণা খাতে আর টাকা ব্যয় করবেনা।
    এখনো পর্যন্ত R&Dর জন্য সবচেয়ে বেশী ব্যয় করে এই দুটি কোম্পানী।এটি শুধুমাত্র স্মার্টফোনের কথা বলছি।
    টোটাল R&D স্পেন্ডিং এর মধ্যে শীর্ষে ছিল এপল আর স্যামসাং তারা ১১ বিলিয়ন এবং ১৩ বিলিয়ন করে ব্যয় করতো। তারপর হুয়াওয়ে এক নাম্বারে চলে আসে যখন তারা বাজেট বাড়িয়ে ২০ বিলিয়নে নিয়ে যায়।চাইনিজ কোম্পানী হওয়ার কারণে কাজ অনুপাতে অন্য দুটি কোম্পানীর চেয়ে হুয়াওয়ের ব্যয় কম।

    স্মার্টফোন, টিভি, নেটওয়ার্কিং এসব ব্যবসায় হুয়াওয়ের এক আধিপত্যের কারণে ইউএসের পশ্চিমের কোম্পানী গুলো ব্যবসা প্রায় করতেই পারছেনা।
    হুয়াওয়ের বিকল্প খুঁজে না পাওয়ার প্রধান দুটি কারণ হচ্ছে-
    ১. ওদের মত কোয়ালিটি অন্য কেউ দিতে পারছেনা।
    ২. ওদের মত সস্তায় অন্য কোনো কোম্পানী দিতে পারছেনা।
    এই দুটি কারণে ওরা হয়ে উঠেছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

    এবার আসি মোবাইল ফোন ব্যবসার মধ্যে। এতদিন আইফোন আর স্যামসাং যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতো,সেখানে মাত্র কয়েক বছরে বড় প্লেয়ার হিসেবে মাঠে ঢুকে পড়ে হুয়াওয়ে।এবং গত বছর তারা অ্যাপলকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে আসে।

    স্যামসাং যদিও আমেরিকান কোম্পানী নয়, তারপরও তারা সেখানে অ্যাপলের মতই সমাদর পায়।এর কারণ হচ্ছে সাউথ কোরিয়া।
    সাউথ কোরিয়াকে বলা হয় আমেরিকার আন অফিশিয়াল স্টেট।না না, এখনই তেড়ে আসার দরকার নেই। এটা শুধু শুধু বলা হয় না, এরপেছনে যথেষ্ট কারণ আছে। সাউথ কোরিয়া হচ্ছে ইউএস ব্যাকড স্টেট।যাদেরকে ইউএস প্রটেক্ট করে। সাইথ কোরিয়াতে ইউএস মিলিটারী, নেভী এবং এয়ারফোর্সের সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার।তারা সবকিছুই করে যৌথভাবে। তাদের সামরিক নীতি, পররাষ্ট্রনীতি এসবও ঠিক করে ইউএস। অনেকটা এডভাইজর এবং গার্ডিয়ানের মত।
    ইউএস কতৃক যথেষ্ট সাপোর্ট তারা পায় প্রায় সব কিছুতে।এবং সাউথ কোরিয়াকে একটি খ্রিস্টান প্রধান দেশই বলা যায়।

    সাউথ কোরিয়ান কোম্পানী স্যামসাং ইউএসের জন্য সমস্যা না।সমস্যা হচ্ছে চাইনিজ কোম্পানী গুলো।বিশেষ করে সেটা যদি হয় টেলিকমিউনিকেশনস প্রোডাক্ট।
    ইউএস সাধারণত দুনিয়ার সবার উপর নজরদারী চালায়, এমনকি তাদের বন্ধুরাষ্ট্রের প্রধানদের উপরও।যেটা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এবং এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্য থেকে জানা যায়।

    ইউএস সরকার জানে আপনি কার সাথে কথা বলছেন, কীভাবে চিন্তা করেন, কার সাথে ডেট করেন, কোথায় যান, কোথায় ঘুমান।
    অ্যান্ড্রয়েড, গুগল, ফেইসবুক এসবের কারণে এটা সবচেয়ে সহজ এখন।

    কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোম্পানীটি যদি আপনাদের নিজেদের না হয়?বা আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা কোনো শত্রুদেশের হয়?
    তাহলে আপনি তো ওদের ডিভাইস গুলো থেকে তথ্য পাচ্ছেনই না,আবার রিস্ক থাকছে ওরা আপনারই তথ্য পেয়ে যাচ্ছে।
    আপনি নিজে যখন চুরি করেন, তাহলে আপনি জানেন যে একই জিনিস দিয়ে অন্যজন কীভাবে চুরি করবে।
    তার উপর সেই কোম্পানী যদি জায়ান্ট হয়ে উঠে, আপনার কোম্পানী তো ব্যবসায়ই করতে পারছেনা।সব দিক দিয়েই লস।
    তাহলে কী করবেন?এমন ব্যবস্থা করবেন, যাতে তারা ব্যবসা করতে না পারে। ট্যাক্স বাড়িয়ে লাভ নাই, কারণ ওটা আপনার জনগণই তাদের হয়ে পে করছে। তাহলে কী করতে হবে? কোম্পনীটিকে করতে হবে নিষিদ্ধ।
    এমনটিই হয়েছে চাইনিজ অন্য একটি কোম্পানী জেডটিইর সাথে। ২০১৮ সালে আমেরিকা ZTEকে ব্ল্যাকলিস্টেড করে।
    নেটওয়ার্কিং ব্যবসার বাইরে মোবাইল ব্যবসাতেও দারুণ উদ্ভাবন করছিল ZTE. তাদের স্মার্টফোন ব্র‍্যান্ড Nubiaর ফোন গুলো দেখলেই সেটা বুঝতে পারবেন।
    এখন যে বিভিন্ন কোম্পানী ফুল স্ক্রীন ডিসপ্লে শুধু রিয়ার ক্যামেরা দিয়ে ফোন বানাচ্ছে, এমন ফোন আরো এক বছর আগেই এনেছে Nubia.

    তাদের Nubia X ফোনটির সাথে যদি আপনি পরিচিত হয়ে থাকেন, তাহলে দেখবেন এটি অসাধারণ উদ্ভাবন। এই ফোনটির দুটি ডিসপ্লে, একটি ডিসপ্লে পেছনে। মজার ব্যাপার হচ্ছে ডিসপ্লেটা অন না করা পর্যন্ত বুঝাই যায়না যে এটি ডিসপ্লে।

    ২০১৯ এ এসে হুয়াওয়ে ইউএসএতে ব্ল্যাকলিস্টেড হয়। এতদিন যে আমেরিকাতে হুয়াওয় ব্যবসা করে পারতো, এমনটা কিন্তু না। এখন যেটা করেছে, হুয়াওয়ের সাথে ইউএসএর কোনো ফার্ম ব্যবসা করতে পারবেনা।
    ইউএসের মার্কেট ছাড়াই হুয়াওয়ের স্মার্টফোন এই অবস্থানে এসেছে। ইউএসের মার্কেট থাকলে আরো আগেই এক নাম্বারে চলে আসতো তারা।

    প্রাচীন সমাজের আদলে তখনকার সমাজপতিদের মত আমেরিকা তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে না পারলে এক ঘরে করে রাখার সিস্টেমেই চলছে।
    আমেরিকার পরামর্শ উপেক্ষা করে ইউরোপ যখন হুয়াওয়েকে তাদের দেশে ব্যবসা করার অনুমতি দিচ্ছে, তখনই তাড়াতাড়ি করে হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ করে দিল আমেরিকা। আমেরিকার সবচেয়ে কাছের মিত্র ব্রিটেন হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করছেনা। আদৌ নিষিদ্ধ করবে কিনা, সেটাও বলা যাচ্ছেনা।
    বৃটিশদের স্ট্র‍্যাটেজি হচ্ছে- “If you cannot beat them, join them.”
    এই ব্যাপারেও সুযোগ বুঝে কোপ দেবে ব্রিটেন।

    আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার ফলে গুগলের সাথে আর ব্যবসা করতে পারবেনা হুয়াওয়ে। এই কারণে তাদের পরবর্তী ফোন গুলোতে এন্ড্রয়েডের গুগল সার্টিফিকেট পাবেনা আর।
    এন্ড্রয়েড যেহেতু ওপেনসোর্স, তাই চাইলে যে কেউ সেটি নিয়ে ব্যবসা করতে পারে। কিন্তু জিমেইল, গুগল ম্যাপ এবং ইউটিউব যেহেতু ওপেনসোর্স নয়, তাই হুয়াওয়ের পরবর্তী ফোন গুলোতে আর এসব দিতে পারবেনা তারা।
    তবে যে ফোন গুলো মার্কেটে ইতিমধ্যে চলে এসেছে সেই সব ফোন গুলোতে সব ঠিকঠাক মত চলবে, এইসব অ্যাপেরও ঠিকঠাকমত আপডেট পাওয়া যাবে।
    হুয়াওয়ে আজকেই জানিয়েছে তারা তাদের গ্রাহককে নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট দিয়ে যাবে। যে সেটগুলো মার্কেটে আছে এবং যে সেটগুলো এখনো স্টোরে আছে বিক্রি হয়নি, সবগুলোতেই গুগল সার্টিফিকেট থাকায় সব সুবিধা ঠিকঠাক মত পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবেনা।
    শুধুমাত্র এন্ড্রয়েডের নেক্সট ভার্সন আপডেট পাওয়া যাবেনা। নেক্সট ভার্সন আপডেট আর সফটওয়্যার আপডেট একই জিনিস নয়। নেক্সট ভার্সন মানে হচ্ছে আপনার যদি এন্ড্রয়েড ভার্সন ৮ থাকে, তাহলে আর ৯ পাবেন না। আর ৯ থাকলে পরবর্তী আপডেট ১০ পাবেন না।

    হুয়াওয়ের ফোন গুলো যারা ইউজ করেছেন, তারা জানেন হুয়াওয়ে ফোন গুলো কেমন ক্লিন আর স্মুথ। ফোনের অনেকগুলো ফিচার হুয়াওয়ের ইনভেন্ট করা। এন্ড্রয়েডের উন্নতিতে হুয়াওয়ের অবদান অনস্বীকার্য। লং স্ক্রীনশট, স্প্যামার ডিটেক্ট এন্ড ব্লক, একাধিক ক্যামেরা, কুইক ক্যামেরা এসবও দেখিয়েছে হুয়াওয়ে।
    এমনকি স্যামসাং এর S10+ এ দেয়া পাঞ্চহোল কিন্তু হুয়াওয়ে তাদের Honor view 20 তে গতবছর দিয়েছে।
    আর ফোনের নেটওয়ার্ক এর জন্য হুয়াওয়ের সবসময়ই সেরা। কোনো ফোনে যখন সিগন্যাল পাওয়া যায়না, তখনো হুয়াওয়েতে সিগন্যাল থাকে। এটা হয়তো তাদের নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্ট এর কারণে।

    হুয়াওয়ে জানতো একদিন তাদেরকে উইন্ডোজ এবং এন্ড্রয়েড ইউজ করতে দেয়া হবেনা। এজন্য তারা বেশ কয়েক বছর আগে থেকে নিজেদের অপারেটিং সিস্টেম (OS) ডেভেলপিং করে যাচ্ছিল। ২০১৮র ডিসেম্বরে ঘোষণা দিয়েছিল এই ওএস রেডি। এটা প্ল্যান বি হিসেবে রেখেছে তারা।
    দেখা যাক তাদের নতুন ওএস কেমন হয়।

    চীনে যেহেতু গুগলের সব সার্ভিস নিষিদ্ধ, আমেরিকারও উচিৎ চীনা ফোন গুলোতে আমেরিকার সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া।
    এইদিক থেকে হিসাব করলে ঠিকই আছে।

    আমেরিকানরা যে অভিযোগ করছে চীন তাদের ডিভাইস দিয়ে গুপ্তচর বৃত্তি করছে, কথাটা চাইনিজ কোম্পানী গুলো অস্বীকার করলেও তাদেরকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।
    কারণ চাইনিজ প্রত্যেকটি কোম্পানী তাদের তথ্য সরকারকে দিতে বাধ্য। নাহয় সেখানে তারা ব্যবসা করতে পারবেনা। চীন কোনো গণতান্ত্রিক বা নাগরিক অধিকারের দেশ নয়।

    কথা হচ্ছে আপনার আমার উপর গুপ্তচরবৃত্তি সবাই করছে। আমেরিকান কোম্পানী গুলোকে দিয়ে আমেরিকানরা করছে, চীনা কোম্পানীকে দিয়ে চীনারা করছে, রাশিয়ান কোম্পানী গুলো দিয়ে রাশিয়ানরা করছে।
    তবে চীন রাশিয়াতে তাদের সরকার যতটা সহজে তথ্য পেতে পারে, মার্কিন সরকার এত সহজে তথ্য পেতে পারেনা। যেমন গুগল এবং ফেইসবুক সহজে সরকারকে তথ্য দিলেও অ্যাপল এবং টুইটার দেয় না।
    নিশ্চয় মনে আছে একজন নিহত টেরোরিস্টের আইফোনের লক খুলে দেয়ার জন্য এফবিআই অ্যাপলকে অনুরোধ করেছিল, অ্যাপল খুলে দেয়ার বদলে আদালত দেখিয়ে দিয়েছিল।
    পরে আদালতে এফবিআই হেরে গিয়েছিল, অ্যাপল আর সেই লক খুলে দেয়নি।

    আমেরিকার এই ব্যানের কারণে হুয়াওয়ায়ে একটা হোঁচট খাবে নিশ্চিত, তবে এই টেলিকমিউনিকেশন জায়ান্ট কীভাবে সামলে উঠে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
    কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, আপনি হুয়াওয়েকে যতই অপছন্দ করেন, কোনো না কোনোভাবে আপনি হুয়াওয়ের ইউজার। হতে পারে সেটা আপনার টিভির ভেতরের চিপ হুয়াওয়ের কিংবা আপনার মোবাইলের নেটওয়ার্ক।
    হুয়াওকে আপনি অপছন্দ করতে পারেন, কিন্তু কনজিউমার হওয়া থেকে নিজেকে এড়াতে পারেন না।

  • রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা করবে চীন : তথ্যমন্ত্রীকে চীনা রাষ্ট্রদূত

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা করবে চীন : তথ্যমন্ত্রীকে চীনা রাষ্ট্রদূত

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়ক ভূমিকার কথা পুণর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জুয়ো। আজ রোরবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সাথে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন সহায়ক ভূমিকা রাখবে। চীন নিরপেক্ষভাবে আশা করে, শীঘ্রই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে।’

    তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসময় চীনা সহায়তায় দেশের ৬টি বিভাগে পুর্ণাঙ্গ টেলিভিশন স্টেশন নির্মাণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘বিশালায়তন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে চীনের সুনাম রয়েছে। বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টে অংশীজন হিসেবে চীন সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে।’

    চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধন করছে। উপকূলীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ও ব্লু ইকোনমি’র বিষয় জোর পদক্ষেপ বাংলাদেশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে অত্যন্ত সহায়ক হবে।’

    এ সময়ে তথ্যসচিব আবদুল মালেক, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোহিতা অব্যাহত থাকবে : জাপানি রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোহিতা অব্যাহত থাকবে : জাপানি রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি বলেছেন, জাপান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার চলমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

    জাপানের রাষ্ট্রদূত আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে একথা বলেন।

    সাক্ষাতের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    তিনি বলেন, জাপানের দূত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফরে দুই দেশের মধ্যে আড়াই বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ৪০তম অফিসিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিসটেন্স (ওডিএ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যা গত বছরের চাইতে ৩৫ শতাংশ বেশি।

    রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে জাপানে তার আসন্ন সফরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

    বিগত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে জাপানের দূত বলেন, আগামী ৫ বছর বাংলাদেশ ও দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতি আরো এগিয়ে যাবে।

    জাপানের রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জানান, জাপানের সহায়তার নির্মানাধীন কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ১২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের আগ্রগতিতে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবেকে তার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তিনিও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের বিভিন্ন অবদনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের এক মহান বন্ধু।

    তিনি এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে দেশে রূপসা সেতু নির্মাণে জাপানের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • হুয়াওয়ে ফোনে অ্যান্ড্রয়েড সেবা বন্ধ

    হুয়াওয়ে ফোনে অ্যান্ড্রয়েড সেবা বন্ধ

    মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল চীনা ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড সেবাসহ নিজেদের কিছু কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে গুগল অ্যান্ড্রয়েডের পরবর্তী যে ভার্সন বাজারে আনবে সেখানে হুয়াওয়ের জন্য তাদের আপডেট বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে এটাও বলা হয়েছে, এখন যারা হুয়াওয়ে ব্যবহার করেন, তাদের কোনো চিন্তা নেই।

    গুগল আসলে কী বলছে?

    গুগল সেই সব সেবা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে যেখানে হার্ডওয়্যার অথবা সফটওয়্যারের জন্য টেকনিক্যাল সার্ভিস প্রয়োজন হয়। এখানে আবার বলা হয়েছে, ওপেন সোর্স লাইসেন্সের আওতায় যে সব সেবা আছে, সেগুলো পাওয়া যাবে।

    ওপেন সোর্স লাইসেন্সের সেবা মূলত ‍মূলত বিনা মূল্যে পাওয়া যায়। এটি ব্যবহার করার স্বাধীনতা, তার প্রোগ্রামিং সংকেত (কোড) দেখার স্বাধীনতা, বিতরণ করার স্বাধীনতা, নিজের মতো পরিবর্তন করে তা ব্যবহার ও আবার বিতরণ করার স্বাধীনতা সকলের থাকে। এগুলো একটি ওপেন সোর্স লাইসেন্সের আওতায় থাকে।

    সে ক্ষেত্রে হুয়াওয়ের নতুন ফোনে পাওয়া যাবে না অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট। একই সঙ্গে জনপ্রিয় সেবা গুগল প্লে স্টোর, জিমেইল, ক্রোম ব্রাউজার এবং ইউটিউবও চলবে না। এগুলো গুগলের নিজস্ব ব্যবসায়িক সেবা।

    তাহলে হুয়াওয়ে কী করবে?

    মোবাইল ফোনের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম না পাওয়া মানে হুয়াওয়ের জন্য বড় ক্ষতি। কারণ বিশ্ববাজারে তাদের নিজস্ব কোনো অপারেটিং সিস্টেম নেই। নতুন ফোনে তারা অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রোজেক্ট (এওএসপি) ব্যবহার করতে পারবে। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু এই সিস্টেম আধুনিক ডিভাইসের মতো উন্নত নয়।

    এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হুয়াওয়ে বসে নেই। গত কয়েক বছর ধরে সমস্যা আঁচ করতে পেরে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছে তারা। চীনে কিছু প্রযুক্তি তারা বাজারেও ছেড়েছে। তা ছাড়া চীনে গুগলের অধিকাংশ অ্যাপ নিষিদ্ধ। নিজেদের দেশের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় সেখানে। তাই বিশ্ববাজারে হুয়াওয়ে বিপাকে পড়লেও নিজ দেশের বাজারে অতটা ক্ষতির সম্মুখীন হবে না।

    গুগলের কেন এমন সিদ্ধান্ত?

    গুগল মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের কারণে এটি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুয়াওয়েকে ‘বিপজ্জনক’ তালিকাভুক্ত করার কয়েক দিন বাদে এই সিদ্ধান্ত নিল তারা। আমেরিকার অভিযোগ, চীনের এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের রাষ্ট্রীয় তথ্য চুরির সঙ্গে জড়িত।

  • ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু

    ৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু

    ডেস্ক রির্পোটঃ আগামী ০৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আর সেই হিসেবে হজ ফ্লাইটের টিকেট বিক্রির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। চলতি বছর হজে যাবেন এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ৫৯৯ জনকে পরিবহন করবে বাংলাদেশ বিমান। আগামী ৩২ দিনে ১৫৭টি ডেডিকেটেড ও ৩২টি শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। প্রি-হজ ফ্লাইট শেষ হবে ৫ অগাস্ট।

    এ বছরই প্রথম ঢাকা থেকে মদিনায় ১১টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা ১০টি, সিলেট থেকে জেদ্দা ৩টি, চট্টগ্রাম থেকে মদিনা ৭টি ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। বাকি ১২৬টি ফ্লাইট ঢাকা থেকে জেদ্দায় নিয়ে যাবে হজ যাত্রীদের। এ বছর হজ ফ্লাইটে নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে বিমান। ফিরতি হজ ফ্লাইট ১৭ অগাস্ট থেকে শুরু হয় শেষ হবে ১৪ সেপ্টেম্বর।

    এ বছরই প্রথম ঢাকায় ইমিগ্রেশন করা হবে হজ যাত্রীদের। ফলে সৌদি আরবে গিয়ে ইমিগ্রেশনের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না তাদের। তবে এ কারণে ফ্লাইটের এক দিন আগেই হজযাত্রীদের তথ্য সৌদি আরবে পাঠাতে হবে। ওই সময়ের পর ফ্লাইটে নতুন করে যাত্রী নেওয়া যাবে না। এ কারনে হজ এজেন্ট ও যাত্রীগণকে তাদের ফ্লাইট ডিপার্চার এর ২৪ ঘন্টা আগেই যাত্রার বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত শিডিউলের বাইরে অতিরিক্ত স্লট দেবে না সৌদি সরকার। জটিলতা এড়াতে এ বছর কোনো যাত্রী হজ ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করলে বা সময় পরিবর্তন করলে জরিমানা আদায় করবে বিমান। যাত্রা বাতিলের ক্ষেত্রে ৩৫০ ইউ এস ডলার এবং যাত্রা তারিখ পরিবর্তন এর ক্ষেত্রে সময় ভেদে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার প্রদান করতে হবে।

    সুষ্ঠুভাবে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করতে বিমানের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হজ এজেন্সি ও হজযাত্রীরা যথাসময়ে ফ্লাইটের টিকিট সংগ্রহ করলে কোনও ধরনের জটিলতা হবে না।