Category: আন্তর্জাতিক

  • হবু বরের মুখে মদের গন্ধ; বিয়ের আসর থেকে উঠে গেল তরুণী

    হবু বরের মুখে মদের গন্ধ; বিয়ের আসর থেকে উঠে গেল তরুণী

    ভারতের উড়িষ্যার জাজপুর জেলার মানুষের কাছে সংঘমিত্রা শেঠি নামটা বেশ পরিচিত। বছর দুয়েক আগে ২২ বছরের এই তরুণী একটা মদের দোকান বন্ধ করে দিয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিলেন। তারপর থেকে মদ-বিরোধী নানা অভিযানে যুক্ত থেকেছেন তিনি।

    কিন্তু এবার তাকে মদ-বিরোধী অবস্থান তীব্র করতে হল নিজের বিয়ের দিনে। হবু স্বামীর মুখ থেকে মদের গন্ধ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিয়ের মণ্ডপ ছেড়ে উঠে যান, ভেঙ্গে দেন বিয়ে।

    সেই হবু বর, হাদিবন্ধু শেঠি, কলকাতায় পাচকের কাজ করেন। তাদের বাড়িও ওই জেলারই প্রধানপান্ডা গ্রামে। আটাশ বছরের হাদিবন্ধু বোধহয় জানতেন না যে বানিয়ামালা গ্রামের ওই তরুণীর কাছে মদ কতটা অপছন্দের বস্তু।

    “বিয়ের মণ্ডপে মন্ত্র পড়া চলছিল সেই সময়ে। হঠাৎই আমরা খেয়াল করি যে কনে সংঘমিত্রা বারে বারে নাক কুঁচকাচ্ছে। প্রথমে বুঝতে পারিনি বিষয়টা। কিন্তু তারপরে সে রাগে ফেটে পড়ে, বলে যে বিয়ে করবে না,” সেদিনের ঘটনা জানাচ্ছিলেন গ্রামেরই বাসিন্দা গোবিন্দচন্দ্র জেনা, “সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম! কী ব্যাপার! সে জানায় যে হবু বর মদ খেয়ে বিয়ে করতে এসেছে।”

    বিয়ের মণ্ডপ ছেড়ে বেরিয়ে যান সংঘমিত্রা। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “গ্রামের মেয়েদের নিয়ে আমরা গত দুবছর ধরে অনেক মদের দোকান, ভাটি বন্ধ করেছি। যখনই বুঝতে পারি আমার হবু স্বামী মদ খেয়ে রয়েছে, তখনই মাথায় রক্ত উঠে যায়। কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন লোক এর থেকেই বোঝা যায়।”

    পাত্র আর পাত্রীর দুই পরিবারই অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেন যাতে বিয়েটা না ভাঙ্গে। কিন্তু সংঘমিত্রা নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। পাশে অবশ্য নিজের কয়েকজন বন্ধুকে পেয়েছিলেন তিনি, যারা বিয়ে ভেঙ্গে দেয়াকে সমর্থন করেছিলেন।

    গ্রামের বয়স্করা এবং পঞ্চায়েত প্রধান মিলি জেনা পাত্রপক্ষকে নির্দেশ দেন সোনার গয়না আর যে নগদ পাত্রীপক্ষ দিয়েছিল, সেগুলো ফেরত দিতে হবে। এর পরপরই এক পারিবারিক পরিচিতর সঙ্গে বিয়ে হয়েছে সংঘমিত্রার।

  • বিশ্বসভায় লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছি, এসডিজি গ্লোবাল ফেস্ট

    বিশ্বসভায় লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছি, এসডিজি গ্লোবাল ফেস্ট

    প্রথম ইমেইল পেয়ে কোটি টাকার অস্ট্রেলিয়ান লটারীর মতো ফেইক মেইল ভেবেছিলাম। পরে গুগলে লিংক চেক করে নিশ্চত হলাম ‘ইউএন এসডিজি অ্যাকশন ক্যাম্পেইন’ কর্তৃপক্ষই মেইলটি করেছে। কিছুটা অবাক হয়েই রিপ্লাই দিলাম। পরবর্তী সময় মেইল আসলো তাদের ওয়েবসাইটে আমার একটি অনলাইন প্রোফাইলসহ, আমন্ত্রণ পত্রের মতো এম্বাসি ফেইস করার একটি সহযোগী পত্রও পাঠালো সাথে। জার্মানীর বন-এ ৩ দিন ব্যাপী আয়োজন।
    ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত সেনজেন ভিসা ইন্টারভিউয়ের যে ধারণা নিয়ে এম্বাসি ফেস করতে গেলাম- তার সাথে বাস্তবতা মিললো না, ভিসা অফিসার কাগজপত্র দেখছিলেন আর কম্পিউটারে কি যেন মেলাতে মেলাতে টুকটাক নিয়ম রক্ষার গল্প করলেন। যা থেকে ইউরোপের ভিসার ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু ছিল না। রেখে আসা পাসপোর্ট আনতে বরিশাল-ঢাকা করলাম না, পাসপোর্ট আনতে গেলো বিডিএ-এর এক ছোট ভাই মোসাদ্দিক বিল্লাহ হাসিব। হাসিব পাসপোর্ট হাতে নিয়ে মোবাইলে উচ্ছ্বাসিত আবেগ প্রকাশ করলো ‘ভাইয়া, পাইছেন পাইছেন’। বুঝলাম, ভিসা হয়েছে!
    কোন এক প্রধানমন্ত্রী জার্মানীর অপর এক শহর ‘হেগ’-এ গিয়েছিলেন ‘বন’ থেকে যা ছোটবেলায় আমাদের মুখরোচক আলোচনায় ছিল। সেই থেকে জার্মানীর বন শহরের সাথে আমার পরিচয়। সেখানে যাওয়া যেন ক্যান্সেল না করি তার জন্য বারবার তাগাদা দিচ্ছিল জুনায়েদ সাজিব। সজিব বলছিল, সে যখন আছে তখন বন আমার কাছে ঢাকা মনে হবে। জুনায়েদ বরিশালের ছেলে, জার্মানীতেই থাকছে এবং অসংখ্য বিদেশী ছেলেমেয়েদের সাথে প্রতিযোগিতা করে এই একই আয়োজনের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যদিও সজিব তার কথা পুরোটা রাখতে পারেনি, কারণ ঢাকা বানানোর কথা থাকলেও বন আমার কাছে প্রায় বরিশালের মতোই হয়ে গিয়েছিলো নিশ্চিন্ততায়।
    ২ হতে ৪ মে আয়োজিত এ বছরের অনুষ্ঠানে ১৫০ টির অধিক দেশ থেকে দেড় হাজারের বেশি কর্মী থেকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছে। সারা বিশ্বের উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, পরিবর্তনকারী এবং সৃষ্টিশীলেরা জার্মানীর বন শহরে একত্রিত হয়েছিলো এসডিজির কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে, নতুন আইডিয়া যাচাই ও ত্বরান্বিত করতে, সেই সাথে এসডিজি কার্যক্রমের জোটকে আরো শক্তিশালী করতে। সেখানে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিলো যাতে দৃষ্টিভঙ্গী এবং রুচি ভাগ করে নেয়া যায়, যেন নতুন ধারণাকে ত্বরান্বিত করা যায় এবং যেখানে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের জন্য এসডিজি হয়ে ওঠে গুরুত্ববহ।
    প্রথমদিন উদ্বোধনী আয়োজনে মডারেটরের হাস্য-কৌতুকপূর্ণ উপস্থাপনা সকলকে সহজ করে ফেলেছিল। আয়োজনের প্রধান কর্তাবৃন্দ ছাড়া কারো জন্যই বিশেষ কোন স্থান বরাদ্দ ছিল না। আন্তরিকতার সাথে তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার উজ্জীবিত রেখেছে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে। প্রধান বৃহৎ হলটিতে বৈশ্বিক সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অ্যাডভোকেসির প্রয়োজনীয়তা, নাগরিক সম্পৃক্ততা, আচরণের পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে এবং সেটার পুনরাবৃত্তির জন্য ছিল সকলের প্রতিশ্রুতি। জার্মানী রাস্ট্রের সংসদ সচিব মারিয়া ফ্লাক্সবার্থ কথা বলেছেন এসডিজির এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নের জন্য নতুন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে! তিনি বলেন, ‘এটা একটা দুর্দান্ত সময়। পৃথিবী জুড়ে বহুপাক্ষিকতা চাপের মুখে রয়েছে।’ জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিস-এর মানবাধিকার পরিচালক তানিয়া ফ্রেইন ভন উসলার একমত পোষণ করেন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং আশাদীপ্ত আন্ত:রাষ্ট্র সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে সকলকে বাস্তবায়নের পথে একত্রে হাঁটার আহ্বান জানান। সৃষ্টিশীল, কর্মী, যুব নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়ী ও সরকার বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনার এজেন্ডা হোক ২০৩০ এর জন্য এক সহজাত শক্তি।’
    এক অংশে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংগঠন বা উদ্যোক্তার সামাজিক উদ্ভাবনের প্রদর্শন করা হয়, যে গুলো নিজ নিজ দেশে এখনো চলমান এবং অন্যরা চাইলেও তা ব্যবহার করতে পারে। এর প্রত্যেকটিই টেকসই উন্নয়নের কোন না কোন লক্ষ্য সম্পর্কীত। এ সকল উদ্ভাবনে যার যার দেশের মানুষের সহযোগিতা এবং সমর্থনের গল্প শোনালেন সবাই মুখে এবং জায়ান্ট স্ক্রীনে। উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য রয়েছেঃ একটি সৃষ্টিশীল এবং অংশগ্রহণমূলক শিল্পকে ব্যবহার করে মালাওই এর যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য এবং এইচআইভি কে প্রতিহত করতে কাজ করা; লেবাননের কুখ্যাত ধর্ষণ-বিবাহ আইন রদ করতে একটি প্রতিবাদ যেভাবে জাতীয় প্রচারণা হয়; যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ার মুম্বাই এ একটি ক্রাউডম্যাপ; এসডিজি বিষয়ে তথ্য প্রচারের অভিনব ভাবনা। বৃহত্তর পরিসর এবং ছোট ছোট সমাবেশে উদ্ভাবনী আইডিয়া শেয়ারিং-এর সুযোগ করে দেয়া ছিলো এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
    যেখানেই যেভাবে সুযোগ পেয়েছি, বাংলাদেশের নামটি মুখস্থ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি, উড়িয়েছি লাল-সবুজের পতাকা কারণে-অকারণে! চেষ্টা করেছি সামান্য যে উদ্যোগে আমার সেখানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে সেটিকে তুলে ধরতে। সহকর্মী প্রতিভা নিটোল এবং নয়ন মাকসুদের সহযোগিতায় প্রস্তুত করে নেয়া প্রেজেন্টেশন প্রচারে আন্তরিকভাবে বরিশালের মানুষের উদ্যোমী শ্রম, উদ্যোগ বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পরা এবং সর্বোপরি তৎকালীন জেলা প্রশাসক গাজী সাইফ জামান স্যারের নেতৃত্বের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
    উল্লেখ করা প্রয়োজন, আমি ডাক পেয়েছিলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সরকারি দপ্তর এবং নাগরিকদের সমন্বিত কাজের ক্ষেত্র তৈরি করার ধারণার জন্য। যে ধারণার মাধ্যমে এসডিজি এর লক্ষ্য-১১ (স্বয়ং-সম্পূর্ণ নগর এবং সম্প্রদায়), লক্ষ্য-১৬ (শান্তি, ন্যায় বিচার এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান) এবং লক্ষ্য-১৭ (লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব) অর্জনে সরাসরি সহেযোগিতা হয়েছে এবং পরোক্ষভাবে এর প্রভাব পরেছে লক্ষ্য-৩ (সুস্বাস্থ্য এবং কল্যাণ) এবং লক্ষ্য-৬ (পরিষ্কার পানি ও পয়:নিষ্কাশন) অর্জনে। শূন্য খরচে কেবল স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের এই পদ্ধতি যখন কেউ প্রশংসায় ভাসিয়েছে তখন হঠাৎ হঠাৎ মাঝে মাঝে বুক ভারি হয়ে উঠছিল উল্লেখযোগ্য কোন কারণ ছাড়াই।
    ‘আমাদের প্রয়োজন অংশীদারিত্ব- পাবলিক এবং প্রাইভেট, প্রফিট এবং নন-প্রফিটের জন্য। আমাদের দরকার সরকারী এবং স্বায়ত্বশাসিত সংগঠন। আপনাদের স্থানীয় সংবিধানে এই এজেন্ডা নিতে হবে এসডিজিকে জাতীয়করণ করতে এবং তাদের রূপান্তরিত করতে হবে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায়। পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন গুরুত্বারোপ ও সংকল্প।’ বলছিলেন ইউএন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের ইউরোপের রিজিওনাল ব্যুরোর সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও পরিচালক মির্জানা স্পলজারিক এগার।
    মাল্টি-স্টেকহোল্ডারদের অন্তদৃষ্টি নিয়ে বলা কথায় লিডাররা গুরুত্ব দেয় অ্যাডভোকেসি এবং নাগরিক সম্পৃক্ততায়। টেকসই এবং নাগরিক ক্রিয়াকে সম্পর্কযুক্ত করে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থার সাবেক ডিরেক্টর জেনারেল জুয়ান সোমাভিয়া বলেন, ‘জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া এসডিজির বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ অসম্ভব।’ অন্যান্য বক্তাদের কথায়ও ছিল একই সুর। ‘আমরা হলাম পরিবর্তনের বাহক এবং আমরা যদি সেটা বিশ্বাস না করি, তাহলে আমাদের জীবনে কিছুই ঘটবে না।’ বলেন ম্যাক্সিকান কংগ্রেস ওমেন এবং ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভাপতি গ্যাব্রিয়েলা কুয়েভাস ব্যারন। সে তার বক্তব্য অব্যহত রাখে এই বলে যে, এই পরিবর্তন শুরু হয় সরকারের সাথে, হাতে হাতে কাজ করে, হৃদয় থেকে হৃদয়ে, সেইসকল মানুষদের সাথে যাদের তারা উপস্থাপন করে। ‘আমরা যদি সত্যিই এই এগারো বছরে পৃথিবীকে বদলাতে চাই, এটা অসম্ভব মনে হবে। কিন্তু অবশ্যই এটা সম্ভব এবং সেজন্যই আমরা এখানে।’
    এজেন্ডা ২০৩০ এর স্পেন সরকারের হাই কমিশনার ক্রিস্টিনা গ্যালাচ নেতৃত্বকে তিনটি মূল শব্দের একটি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি তার আলোচনায় তুলে ধরেন কিভাবে স্প্যানিশ সরকার এই এজেন্ডাকে একটি কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করেছে রাজনৈতিক কর্মকা-ে ‘উচ্চ নেতৃত্ব প্রয়োজন’ কিন্তু সেই সাথে প্রতিষ্ঠান এবং পৃষ্ঠপোষকতারও দরকার রয়েছে। তিনি পরামর্শ দেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, যুব সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পীদের সাথে সংযুক্তি গড়ে তোলার। তিনি মনে করেন, ‘নাগরিক সমাজ হলো চাবিকাঠি।’ হ্যাশট্যাগ আমাদের গল্প (#আওয়ারস্টোরী)-এর সহ উদ্যোক্তা এবং কর্মী ইউসুফ ওমার যুবদের তাদের উদ্ভাবনগুলোকে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিতে আাহ্বান জানান।
    পরিবর্তনশীল, প্রভাবপূর্ণ এবং উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ায় টেকসই উন্নয়ন আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে-
    এরকম বিভিন্ন চলমান উদ্ভাবনীকে পদক প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়া হয় শেষ দিনে। আমাদের দেশ এমনকি আমাদের বরিশালে স্বেচ্ছাসেবী অনেকগুলো যুব সংগঠন যে সকল কাজ করে চলেছে তারাও কিন্তু ওই সকল কাজের চেয়ে কম কিছু করছে বলে মনে হয় নি। পার্থক্য মনে হয়েছে বৈশ্বিক ভাবনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সমন্বয়ের অভাব।

    দ্বিতীয় দিনে ভরা যৌবনা রাইম নদীর তীর ঘেষে চলা বিশাল র‌্যালীর প্রথম সারিতে থেকে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা নাড়ানো ছিলো ব্যক্তিগত অবিস্মরনীয় অভিজ্ঞতা। এসডিজির পতাকার পাশাপাশি লাল-সবুজ পতাকা দেখে দুই/একজন যখন দেশের নাম জিজ্ঞেস করেছিলো তখন চিৎকার করে বাংলাদেশ বলতে পারার সুযোগ ছিল সৃষ্টিকর্তার বিশেষ উপহার। এ ছাড়াও তিন দিনব্যাপী মানবিক সংগীত, জলবায়ু সচেতনতার আয়োজন, ফিল্ম, ডকুমেন্টারীসহ সকল ইভেন্টের র্বণনা দিয়ে শেষ করতে পারবো না। তবে ফেসবুকে নিয়মিত কিছু নমুনা পোস্ট দিয়ে বন্ধু তালিকায় থাকা ইউজারদের আপডেট রাখার চেষ্টা করেছি এবং তারাও লাইক কমেন্ট করে আমাকে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে কৃতজ্ঞ করেছেন।
    বাংলাদেশ সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনে কাজ করে চলেছেন এবং বেশকিছু লক্ষ্যমাত্রায় বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়। তথাপি সরকারী ব্যবস্থাপনায় সাধারণ নাগরিকদের এসডিজির লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে আরো তথ্য সরবারহ করা প্রয়োজন বলে মনে করি। যখন অধিকাংশ নাগরিক এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হবে, তখনই সফলতা থাকবে আমাদের হাতের মুঠোয়। যে লক্ষ্য অর্জনে গোটা বিশ্ব ছুটছে তার সম্মুখভাগে থাকবে লাল-সবুজের প্রিয় বাংলাদেশ।

  • ‘দিদি’ ডাকায় লাথি দিয়ে মাছের ঝুড়ি ড্রেনে ফেলে দিলেন এসিল্যান্ড

    ‘দিদি’ ডাকায় লাথি দিয়ে মাছের ঝুড়ি ড্রেনে ফেলে দিলেন এসিল্যান্ড

    অনলাইন ডেস্ক : এসিল্যান্ডের এমন কাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে।

    সূত্র জানায়, গত রোববার সকাল বেলা এসিল্যান্ড কার্যালয়ের গেটের পাশে বসে মাছ বিক্রি করছিলেন কয়েকজন মাছ বিক্রেতা।

    এ সময় গাড়ি নিয়ে অফিসে প্রবেশ করছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা কর্মকার।

    অফিসের প্রবেশ পথে গাড়ি থামিয়ে দেন সঞ্চিতা কর্মকার। গাড়ির ভেতরে বসেই এক ব্যবসায়ীকে মাছের ঝুড়ি সরাতে বলেন।

    এ সময় লায়েক আহমেদ নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‌‌দিদি সরিয়ে নিচ্ছি।

    আর এ কথা শোনার পরেই ক্ষেপে যান এসিল্যান্ড সঞ্চিতা কর্মকার।

    গাড়ি থেকে নেমে বলেন, ‘আমি কিসের দিদি! এর পরই লাথি দিয়ে লায়েক আহমেদ ও তার সঙ্গী হাসান মিয়ার মাছের ঝুড়ি পাশের ড্রেনে ফেলে দেন।

    সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন আচরণে লায়েক মিয়াসহ অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ীরা হতভম্ব হয়ে যান।

    এসিল্যান্ডের এমন আচরণে উপজেলাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘মাছ ব্যবসায়ীরা কেউ এসিল্যান্ড কার্যালয়ের ভেতরে বসে মাছ বিক্রি করছিল না। সেটা করলে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতেন। অথচ এভাবে লাথি মারার মতো কাজটি করে তিনি মাছ বিক্রেতাদের রুজি-রুটিতে লাথি মারলেন। এমন বিরূপ আচরণ তার মতো উর্ধ্বতন কর্মকর্তার থেকে একেবারে কাম্য নয়। ’

    এ ঘটনায় এসিল্যান্ড সঞ্চিতা কর্মকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

    কিন্তু বিষয়টির কোনো সন্তোষজনক সমাধান না হওয়ায় পরদিন (১৩ মে) উপজেলার সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচিত হয়।

    সভায় স্থানীয় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজি বদরুদ্দোজা বলেন, ‘মাছ বিক্রেতাদের সঙ্গে এসিল্যান্ডের এই দুর্ব্যবহারের বিষয়টি আমি আলোচনায় তুলেছিলাম। তবে এসিল্যান্ডের পক্ষ থেকে মাছ বিক্রেতাদের সান্তনা দিতে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি।’

    এদিকে লাথি দিয়ে মাছ বিক্রেতার মাছ ফেলে দেয়া স্বীকার করেছেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা কর্মকার।

    এ ব্যাপারে তার অভিযোগ, ‘তারা মাছ নিয়ে আমার অফিসের ভেতরে ঢুকে যায়। বারবার নিষেধ করা হলেও তারা মানেন নি। ’

    এসব মাছ বিক্রেতার নিয়ে আসা মাছের দুর্গন্ধে অফিসে কাজ করতে কষ্ট হয় বলে জানান তিনি।

    এরপর স্থানীয়দের তুমুল সমালোচনার পর সঞ্চিতা কর্মকার বলেন, ‘সেদিন কোনোভাবেই আমি তাদের সরাতে না পেরে বেশ রেগে গিয়েছিলাম। তখনই লাথি দিয়ে মাছ ফেলে দিই। ’

    বিষয়টি ঠিক হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এজন্য আমি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে রাজি আছি।’

  • ভয়াবহ দুর্ঘটনা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো বহুতল ভবন, নিহত ১০

    ভয়াবহ দুর্ঘটনা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়লো বহুতল ভবন, নিহত ১০

    ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়েছে বহুতল ভবন। চীনের সাংহাই শহরে একটি বাণিজ্যিক ভবন ধসে ১০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    সাংহাইয়ের চেঞ্জনিং জেলার জোহা রোডের ওই ভবনটির পুনঃসংস্কারের কাজ চলছিল। আর সেই কাজ চলাকালীনই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই ভবনটি ধসে পড়ে। সেই সময় কংক্রিটের পিলার ও কাঠের বিম ধসে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

    ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ১০ জন মৃত বলে জানা গিয়েছে। এর আগে এক বিবৃতিতে সাতজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত আর কেউ ওই ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছে কিনা তার খোঁজ করছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে বলে জানা গিয়েছে।

  • জীবন্ত শিশুকে কবরের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করল কুকুর

    জীবন্ত শিশুকে কবরের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করল কুকুর

     কুকুর প্রভুভক্ত প্রাণী। এরকম অনেক নজির দেখা গেছে। কিন্তু কবরের মাটি খুঁড়ে শিশুকে উদ্ধার করবে কুকুর এমনটা অস্বাভাবিক বটে।

    এমন ঘটনা ঘটেছে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের একটি গ্রামে। সেখানে জীবন্ত অবস্থায় কবর দেয়া এক নবজাতক শিশুকে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে একটি কুকুর।

    বিবিসির প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটির মা ১৫ বছর বয়সী কিশোরী। তার পিতামাতার কাছ থেকে গর্ভধারণের কথা গোপন করার জন্য সে জ্যান্ত অবস্থায় শিশুটিকে পুঁতে দিয়েছিল।

    পিংপং নামের কুকুরটিকে ঘেউ ঘেউ করে ডাকতে ডাকতে থাইল্যান্ডের বান নং খাম নামের গ্রামটির একটি মাঠের মাটি খুঁড়তে দেখেন কুকুরটির মালিক। তিনি বলেন, তখন তিনি মাটির নিচ থেকে একটি শিশুর পা বের হয়ে আসতে দেখেন।

    উদ্ধার হওয়া নবজাতকটির মায়ের বিরুদ্ধে শিশুটিকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বাবা-মা ওই নবজাতককে লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • ট্রাম্প: এ কালের মিয়ার ব্যাটা ফেলু মিয়া

    ট্রাম্প: এ কালের মিয়ার ব্যাটা ফেলু মিয়া

    মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’—কথাটার অর্থ, আই মিন মর্মার্থ যা দাঁড়ায় তা হলো— ‘আমেরিকা এক সময় গ্রেট ছিল, তার জ্বলজ্বলা শান-শওকত ছিল, কিন্তু এখন তার দিনকাল খারাপ যাচ্ছে। তাই আমেরিকাকে আগের অবস্থা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করুন, তাকে আবার গ্রেট বানান।’

    তিন বছর আগে এই স্লোগান দিয়ে ভোট চাওয়া শুরু করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটভিক্ষার পিরিয়ডে ট্রাম্প শিবিরের লোকজনের মাথায় টকটকা লাল ক্যাপ থাকত। তার ওপর গোটা গোটা বড় হাতের রোমান হরফে লেখা ছিল, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’।

    ট্রাম্প গদিতে বসার পর জানা গেল এই ক্যাপ তৈরি হয়েছিল চীন, ভিয়েতনাম আর বাংলাদেশে। বাংলাদেশের ‘বস্ত্রবালিকারা’ জানতেও পারেননি, তাঁরা কী মারাত্মক একজন নেতার ইলেকশনে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা না বুঝলেও রাশিয়ার সাইবার বাহিনী আগে থেকে ঠিকই বুঝেছিল ট্রাম্প কী ‘জিনিস’। তারা হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল–টিমেইল সব হ্যাক করে ভোটের আগে ফাঁস করে দিল। যা লাভ হওয়ার তা ট্রাম্পেরই হলো। তিনি প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলেন।

    কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ট্রাম্পের মতো এমন ‘বোম্ব বাস্টিক’ নেতা যে আসেনি, তা বোঝার জন্য গুগলে সার্চ দেওয়ার দরকার হয় না। গত তিন বছরে তিনি যা করে দেখিয়েছেন এবং এখনো করে যাচ্ছেন, তা আমেরিকার আগের কোনো প্রেসিডেন্ট করতে পারেননি। ভবিষ্যতে কেউ পারবেন এমন ‘আশঙ্কাও’ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

    ইলেকশনে খাড়ানোর পরের দিন থেকে ট্রাম্প ধুমায়ে মিথ্যা কথা বলা শুরু করেছিলেন। বক্তৃতার মধ্যে হিলারিকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আকথা-কুকথা বলছিলেন। দেখা গেল, মিটিংয়ের মধ্যে তিনি বলা শুরু করলেন, আমেরিকায় ‘কামলা খাটতে’ আসা যেসব লোকের কাছে কাগজপত্র নাই, তাদের সবাইকে বের করে দেওয়া হবে। মেক্সিকোর বর্ডারের এমন বেড়া দেওয়া হবে যে, তা ডিঙিয়ে আসার ক্ষমতা কারও নেই। তিনি বললেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’, মানে ‘আগে আমেরিকার স্বার্থ’।

    ইলেকশনের আগে ট্রাম্প টুইটারে সমানে ‘টাউটারি’ পোস্ট দিচ্ছিলেন। উঠতি বয়সের ছেলেপেলের মতো তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোররাতেও টুইট করছিলেন। এসব দেখে একদল মনোবিদ ওই সময় বলেছিলেন, এগুলো বালখিল্য আচরণ, পোলাপানের কাজ কারবার; এই লোকের মাথায় নির্ঘাত ‘দোষ’ আছে। বাঘা বাঘা বিশ্লেষকেরা নানান ধরনের অঙ্ক করে-টরে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, ভোটে ট্রাম্প ডাহা ফেল করবেন।

    নিয়তির লীলা বোঝা বড় দায়। দেখা গেল আমেরিকার ভোটাররা এই পাগলামি গিললেন। তাঁর উল্টোপাল্টা কাজ কারবারই ভালো লাগল তাঁদের। ট্রাম্প ঠাস করে পাশ করে গেলেন। আক্ষরিক অর্থে কেঁদে চোখ ফুলিয়ে বিদায় নিলেন হিলারি ক্লিনটন।

    মহাসমারোহে শপথ পড়ে গদিতে বসেই একের পর এক ভেলকি দেখানো শুরু করলেন ট্রাম্প। প্রথমেই মুসলিম প্রধান দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন। নিজের ডান হাত, বাম হাত হিসেবে নিয়োগ দিলেন স্টিভ ব্যানন, রেক্স টিলারসনের মতো কট্টর রক্ষণশীলদের। এরপরই তিনি দেখাতে থাকলেন ‘এক্সিকিউটিভ পাওয়ার’ কাকে বলে। তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা খাটানোর স্টাইল দেখে তাঁকে শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ উপন্যাসের মিয়ার ব্যাটা ফেলু মিয়া ভাবা ছাড়া উপায় থাকে না। বাকুলিয়া গ্রামে ফেলু মিয়ার ওপরে কথা চলত না। কেউ গাঁইগুঁই করলেই তার চাকরি নট। ট্রাম্পের কাছে গোটা আমেরিকা এখন বাকুলিয়া গ্রাম আর তিনি সেখানকার মিয়ার ব্যাটা ফেলু মিয়া। তাঁর যেটি ঠিক মনে হচ্ছে সেটিই তিনি করছেন। কেউ উঁহু আহা করলেই তাঁকে সরিয়ে দিচ্ছেন।

    গদিতে বসার পর ট্রাম্প যে কথাটি অন্যকে বলতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন, সেটি হলো, ‘ইউ আর ফায়ারড্!’ এই সংলাপ দিয়ে গত তিন বছরে তিনি যার–তার চাকরি খেয়েছেন। কাউকে তিনি সরাসরি বরখাস্ত করেছেন, কেউ আবার মনে মনে ‘ভিক্ষা চাই না, কুত্তা ঠ্যাকাও’ বলে ‘মান সম্মান নিয়ে’ পদত্যাগ করেছেন।

    চার তারকা পাওয়া মেরিন জেনারেল জিম ম্যাটিস ওরফে ‘ম্যাড ডগ’ ম্যাটিসকে আদর করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে আনার কথা বলার পরই ম্যাটিস তা মানতে পারেননি। তাঁর আপত্তির কথা জানিয়েও ছিলেন। ট্রাম্প পাত্তা দেননি। তাই ম্যাটিস সরে গেলেন।

    জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হ্যালি এবং ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনও একইভাবে জিম ম্যাটিসের মতো পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চাকরি ছাড়লেন।

    ট্রাম্পের ইলেকশনে রাশিয়া কদ্দুর সাহায্য সহযোগিতা করেছিল, তা খতিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কোমি। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বের হয়ে পড়তে পারে—সেই আশঙ্কায় ট্রাম্প জেমস কোমিকে সরাসরি ‘ইউ আর ফায়ারড্’ বলে বিদায় দিয়েছেন। একইভাবে বরখাস্ত হয়েছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল সালি ইয়েটস।

    এভাবে বরখাস্ত হওয়া ও নিজ থেকে সরে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম বলতে গেলে রেক্স টিলারসন, স্টিভ ব্যানন, শন স্পাইসার, প্রিট ভারারা, ওয়াল্টার শাউব, মাইকেল ডুবাকি, রেইন্স প্রিবাস, মাইকেল শর্ট, অ্যান্থনি স্কারমুচ্চি, টম প্রাইস, অ্যান্ড্রু ম্যাককাবেসহ ডজন দুয়েক লোকের নাম বলা যাবে। এঁদের সবাইকে ট্রাম্পের অতি ঘনিষ্ঠজন বলেই সবাই জানত। কিন্তু ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন ‘ঘনিষ্ঠজন’ বলে তাঁর কেউ নেই। এই দিক থেকে তিনি নিঃসঙ্গ, একা।

    আমেরিকাকে আবার ‘গ্রেট’ বানাতে এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ট্রাম্প আমেরিকাকে যদ্দুর পারা যায় বন্ধুহীন করে চলেছেন। চীনের সঙ্গে তিনি বাণিজ্যযুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক না করেই সেখান থেকে সেনা সরিয়ে এনেছেন, মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়েছেন। ন্যাটো থেকে সরে আসারও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন–টরিবর্তন কিছু না, এসবের নামে গরিব দেশগুলো আমেরিকার মতো বড়লোকের কাছ থেকে চাঁদা তুলে খায়। এই কারণে তিনি চাঁদা দেওয়া বন্ধ করবেন।

    দেশের মধ্যেও কম প্যাঁচ লাগাননি ট্রাম্প। এর আগে বারাক ওবামা একটা স্বাস্থ্য সেবা প্রকল্প রেখে গিয়েছিলেন যেটি ‘ওবামা কেয়ার’ নামে পরিচিত। কোনো রকম বিকল্প ব্যবস্থা না করেই ‘ওবামা কেয়ার’ বাতিল করেছেন ট্রাম্প। যে শিশুদের জন্ম আমেরিকায় কিন্তু তাদের বাবা–মা বৈধ নাগরিক নন, সেই শিশুদের বাবা–মা থেকে বিচ্ছিন্ন করার মতো কাজও তিনি করেছেন।

    তাঁর আরেকটি নজিরবিহীন বড় কাজ হলো টানা তিন সপ্তাহ ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্ম অচল করে রাখা। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার খরচ বাবদ ট্রাম্প ৫৭০ কোটি ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদ সেই প্রস্তাবকে কুপ্রস্তাব বিবেচনা করে তাতে আপত্তি দিয়েছিল। এতে রাগ হয়ে ট্রাম্প কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় বরাদ্দের বিল ভাউচারে সই করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেছেন, তার কথায় প্রতিনিধি পরিষদ রাজি না হলে তার হাতে নির্বাহী ক্ষমতা আছে। সেই ক্ষমতা দিয়ে দিয়ে তিনি জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের সীমান্তে দেয়াল তোলার অর্থ পাশ করবেন।

    এত বড় একজন লোক, যিনি এক সময় ক্যাসিনো, মানে জুয়ার কারবার চালাতেন; যিনি এক সময় বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিলেন, যিনি টেলিভিশনে উপস্থাপনা করতেন, সেই লোকের নামে একটু স্ক্যান্ডাল থাকতেই পারে। এর আগে বেশ কয়েকজন নারী নানাভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন। সবাইকে ট্রাম্প সুন্দরভাবে ‘ম্যানেজ’ করেছেন। তবে ‘বড়দের ছবি’তে অভিনয় করা স্টর্মি ড্যানিয়েল তাঁকে বেশ ভালোই বেকায়দায় ফেলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছুই ঝেড়ে ফেলেছেন ট্রাম্প।

    ট্রাম্পের সামনে আরও এক বছর আছে। শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে এই এক বছরে আরও কত কী করবেন, তা বোধ হয় ট্রাম্প নিজেও জানেন না। তবে একটা বিষয় তিনি নিশ্চয়ই টের পেয়েছেন, আমেরিকাকে ‘গ্রেট’ বানাতে গিয়ে তিনি আসলে দেশটিকে ক্রমাগত একঘরে বানিয়ে ফেলছেন। আন্তর্জাতিক মহলের বিচার সালিসে আগে আমেরিকা ‘মুরুব্বি’ হিসেবে কথা বললে সবাই যেভাবে আমলে নিত, আস্তে আস্তে আমেরিকার সেই ওজন কমের দিকে যাচ্ছে। বাকি দুনিয়া থেকে আমেরিকা যত বেশি ফারাক হবে, এই ওজন তত কমতে থাকবে। আমেরিকা নামক বাকুলিয়ার ট্রাম্প নামক মিয়ার ব্যাটা ফেলু মিয়া কি সেটা টের পাচ্ছেন?

  • ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে মেরে পেট কেটে শিশুকে বের করে নিল মা-মেয়ে!

    ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে মেরে পেট কেটে শিশুকে বের করে নিল মা-মেয়ে!

    অনলাইন ডেস্ক :: ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে অপহরণ করে শ্বাসরোধ করে খুন। এরপর তার গর্ভ থেকে কেটে বের করে নেওয়া হল শিশুকে। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে।

    শেষবার যখন মারলেন ওকোয়া-লোপেজকে দেখা গিয়েছিল, তখন তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শিকাগোর অল্টারনেটিভ হাই স্কুল থেকে বিকেল ৩টে নাগাদ নিজের কালো হন্ডা সিভিকে নিজেই ড্রাইভ করে বেরিয়েছিলেন ১৯ বছরের এই কন্যা। দিনের শেষে পরিবারের কাছে ফোন আসে যে তিনি ডে-কেয়ার থেকে ৩ বছরের ছেলেকে নিতে যাননি। তাঁর ফোন থেকে স্বামীর ফোনে একটি মেসেজ গিয়েছিল। তাতে লেখা ছিল, তিনি খুব ক্লান্ত। তাই আর গাড়ি চালাতে পারছেন না। এরপর বেমালুম উধাও হয়ে যান মারলেন।
    এরপর একমাস কেটে যায়। তাঁর প্রসবের সময় পেরিয়ে যায়। মেয়ের খারাপ পরিণতির আশঙ্কায় বুক কেঁপে ওঠে পরিবারের। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার যাবতীয় চেষ্টা চালাতে থাকে তারা। বুধবার সামনে আসে চরম সত্যিটা। ওকোয়া-লোপেজদের বাড়ির সামনেই একটি আবর্জনার বিন থেকে উদ্ধার করা হয় মানব দেহাংশ। পুলিশের বক্তব্য মৃতদেহের গর্ভ থেকে ছিঁড়ে বের করা হয়েছে শিশুকে।

    মেডিক্যাল পরীক্ষার পর দেখা যায় দেহাংশটি মারলেনের। তাকে দড়ির ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। মৃত্যুর পর গর্ভ থেকে শিশুটিকে কেটে বের করে নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। ৪৬ বছরের ক্ল্যারিস্কা ফিগুয়েরো এবং তার কন্যা ২৪ বছরের ডেসিরির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বাচ্চাদের জিনিসপত্র ক্ল্যারিস্কার থেকে কিনতেন মারলেন। সেই থেকেই দু জনের মধ্যে পরিচিতি। যে দিন মারলেন নিখোঁজ হয়েছিলেন, সে দিন তাঁদের দু জনের ফেসবুকে কথা হয়েছিল। কিছু জিনিসপত্র নিকে ক্ল্যারিস্কার বাড়িতে গিয়েছিলেন মারলেন। সেখানেই তাঁকে খুন করে তাঁর গর্ভ থেকে শিশুকে কেটে বের করে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর।

  • প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলন: সাংবাদিকের প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন মোদি

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলন: সাংবাদিকের প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন মোদি

    ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি। গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একবারের জন্যও আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি মোদি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েও সাংবাদিকদের এড়িয়েই গেলেন নরেন্দ্র মোদি। শুধু বলে গেলেন নিজের কথা। আর প্রশ্ন উঠতেই তা ঠেলে দিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর দিকে।

    ভারতে চলমান লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। আগামী রোববার সপ্তম দফা ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই বিশাল নির্বাচনের ভোটগ্রহণের কাজ শেষ হবে। এর পর শুরু হবে ফলাফলের অপেক্ষা। সপ্তম দফায় ভোটগ্রহণের আগে আজ শুক্রবার ছিল প্রচারের শেষদিন। এ দিন সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী পদে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অবিসংবাদিত প্রার্থী তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমাদের দেশে এমন ঘটনা খুব কমই ঘটেছে যে, লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সরকার আবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েই ক্ষমতায় এসেছে।’ তাঁর দাবি, এবারও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েই টানা দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করবে বিজেপি।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন মোদি। ২০১৪ সালের বিজয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘১৬ মে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। আর ১৭ মে খুব বড় ধরনের হাঙ্গামা হয়েছিল। যারা ক্ষমতালিপ্সু এবং যারা বাজি ধরেছিল, তারা সেদিন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।’

    প্রধানমন্ত্রী মোদির এর আগে কোনো সংবাদ সম্মেলন না করার বিষয়টি সমালোচনায় মুখর ছিলেন বিরোধীরা। বিশেষ করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য প্রধান বিরোধী নেতারা এ নিয়ে সরব ছিলেন। তবে এত দিন সংবাদ সম্মেলনে হাজির না হলেও, নিয়মিতই বিভিন্ন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মোদি।

    শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনের প্রচার পরিকল্পনা অত্যন্ত বিস্তৃত ও নিখুঁতভাবে করেছেন তিনি। তবে এই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বরং তাঁকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন উঠতেই তা ঠেলে দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর দিকে। মোদি বলেন, ‘আমি একজন সুশৃঙ্খল সেনা, পার্টির সভাপতি আমার জন্য সবকিছু।’

    সম্মেলনে মোদিকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিককে অমিত শাহ বলেন, ‘আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা দরকারি নয়।’

    এদিকে একইদিন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীও সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। তিনি বলেছেন, এবারের লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভ করতে চলেছে ধর্মনিরপেক্ষ জোট। দেশটির নির্বাচন কমিশনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি বলেছেন, এই কমিশন পক্ষপাতী আচরণ করছে। রাহুলের দাবি, বিজেপি ও মোদির অনেক অর্থ আছে, কিন্তু কংগ্রেসের কাছে আছে ‘সত্য’। আর সত্যের জয় অবধারিত।

    দ্য কুইন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে মোদি বিরোধী বক্তব্যেই নতুন করে শান দিয়েছেন রাহুল। তিনি বলেন, মোদি যতই তাঁর প্রতি ঘৃণা বাক্য ছুড়ুন না কেন, ভালোবাসা দিয়েই তার জবাব দেওয়া হবে। রাহুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি যতই ঘৃণা ছড়ান না কেন, আমি ভালোবাসা দিয়েই তার উত্তর দেব। যদি প্রধানমন্ত্রী মোদির বাবা-মা’ও কোনো দোষ করে থাকেন, আমি তাঁদের নিয়ে কোনো কটুবাক্য বলব না।’

    রাহুল বলেন, ‘দেশের সত্যিকারের পরিস্থিতি দেখতে পারছেন না মোদি। তিনি ভুলে গেছেন যে, শুধু বক্তৃতা দেওয়ার জন্য ভারতের জনগণ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেনি।’

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলন করায় নরেন্দ্র মোদির প্রশংসাও করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এখন প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করছেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতে চাই যে, কেন তিনি রাফাল ইস্যুতে আমার সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেননি? আমি তাঁকে বিতর্কে অংশ নিতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম। সংবাদমাধ্যমকে এখন বলে দিন, কেন বিতর্ক করলেন না?’

    নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে রাহুল বলে দিয়েছেন, ‘আমি স্পষ্ট করেই বলেছি যে, ২৩ মে জনগণ তা নির্ধারণ করবে এবং জনগণের রায় জানার পর আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।’

  • ভবিষ্যত নিয়ে আতঙ্কিত ভারতের মুসলিমরা

    ভবিষ্যত নিয়ে আতঙ্কিত ভারতের মুসলিমরা

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘৃণা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক এই দেশটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অধীনে ক্রমশ ভয়াবহভাবে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। বিবিসিতে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছেন রাজিনি বিদ্যানাথান।

    এতে তিনি লিখেছেন, ভারতে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণের মাত্র কয়েকদিন আগের ঘটনা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের একজন মুসলিম ব্যবসায়ী তার কাজ শেষে ফিরছিলেন। কিন্তু এ সময় তাকে ঘিরে ধরে দাঙ্গাকারীরা। ওই মুসলিমের নাম শওকত আলী। তাকে একদল দাঙ্গাকারী ঘিরে ধরে কর্দমাক্ত স্থানে হাঁটু গেঁড়ে বসতে বাধ্য করে। এরপর তার ওপর হামলা হয়। তাদের একজন শওকত আলীকে ভারতের নাগরিক কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জানতে চান- ‘আপনি কি বাংলাদেশী?’ অন্য একজন শওকত আলীর দিকে আঙ্গুল নাচাতে নাচাতে জানতে চান, কেন এখানে গরুর মাংস বিক্রি করেছেন? এ সময় তার চারপাশে অনেক মানুষ সমবেত হয়। তারা শওকত আলীকে সহায়তা করার পরিবর্তে ঘটনা মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করতে শুরু করে।

    প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেছে। শওকত আলী এখনও ঠিক মতো হাঁটতে পারেন না। রাজিনি বিদ্যানাথান লিখেছেন, তিনি যেখানে দোকান চালান সেখান থেকে অল্প দূরেই তার বাড়িতে গেলাম সাক্ষাত করতে। তিনি বিছানায় পা ক্রস করে দিয়ে বসলেন। কথা বলার সময় অশ্রুতে চোখ ভরে যেতে লাগলো। তিনি বর্ণনা করতে লাগলেন কি ঘটেছিল সেদিন। শওকত আলী বলেন, তারা একটি লাঠি দিয়ে আমাকে পিটিয়েছে। মুখে লাথি মেরেছে। এ সময় তিনি তার থুঁতনির নিচে এবং মাথায় ক্ষতের চিহ্ন দেখান।

    কয়েক দশক ধরে ছোট্ট একটি দোকান থেকে গরুর মাংস বিক্রি করে তার পরিবার। কিন্তু এর আগে কখনো তাদেরকে এমন বিপত্তিতে পড়তে হয় নি। ভারতের অনেক রাজ্যে গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে গরুর মাংস আসামে বিক্রি করা বৈধ। শওকত আলী শুধু শারীরিকভাবে আহত হন নি।

    একই সঙ্গে তার মানমর্যাদাও যেন কেড়ে নেয়া হয়েছে। তার ওপর হামলাকারীরা তাকে শূকরের মাংস ভক্ষণ করতে বাধ্য করেছে। তাকে বাধ্য করেছে ওই মাংস চিবাতে এবং তারপর তা গিলে ফেলতে। কান্নায় ভেঙে পড়েন শওকত আলী। তিনি বলেন, আমার এখন বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই। আমার ওপর যে আঘাত হানা হয়েছে তা আমার পুরো ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাত।

    রাজিনি লিখেছেন, যেদিন আমরা শওকত আলীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলাম, সেদিন তার বাড়িতে সমবেত হলেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ। তারা সবাই শওকত আলীর কাহিনী শুনছিলেন। শুনতে শুনতে কেউ কেউ কাঁদতে শুরু করলেন। তাদের মধ্যে ভয়, তারাও কি একই রকম বিপর্যয়ের শিকার হবেন!

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের নির্বাচন চলছে ভারতে। কিন্তু প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে, কিভাবে দেশটির ১৭ কোটি ২০ লাখ মুসলিমকে কিভাবে সেই যাত্রায় সবার সঙ্গে অঙ্গীভূত করা হচ্ছে তা নিয়ে। গরুর মাংস বিক্রির জন্য অথবা সন্দেহজনকভাবে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে আক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার সর্বশেষ শিকার শওকত আলী। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার এক রিপোর্টে বলে যে, ২০১৫ সালের মে থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতের ১২টি রাজ্যে কমপক্ষে ৪৪ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

    এর মধ্যে ৩৬ জনই মুসলিম। একই সময়ে ২০টি রাজ্যে শতাধিক হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় ২৮০ জন। বার্ষিক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান মিশেলে ব্যাচেলেট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হয়রানি ও তাদেরকে টার্গেট করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মুসলিম ও ঐতিহাসিকভাবে যেসব মানুষ পিছিয়ে পড়েছে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে আছেন- যেমন দলিত, তারাই এমন আচরণের শিকার হচ্ছেন।

    স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ভারতে সব ধর্মবিশ্বাসের মানুষের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সহিংসতা কাঙ্খিত নয়। কিন্তু বাস্তব উদ্বেগের বিষয় হলো, যারাই বর্তমানে ক্ষমতা পান তারাই দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভোট করেন। এর সবচেয়ে শিহরণ সৃষ্টিকারী ঘটনারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে ভয়াবহ সব গণধর্ষণের পরের একটি বিষয়। গত বছর জানুয়ারিতে আট বছর বয়সী একটি মুসলিম মেয়ে তাদের ঘোড়াকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে গিয়েছিল। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের কাঠুয়া জেলায় তার বাড়ি। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।

    হিন্দুদের একটি মন্দিরে তাকে এক সপ্তাহ জিম্মি রাখা হয়। এ সময়ে তাকে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতন করা হয়। তারপর তাকে হত্যা করা হয়। এর পরে এ নিয়ে পুলিশ রিপোর্ট দেয়। তাতে বলা হয়, যাযাবর বলে পরিচিত মুসলিম বাকেরওয়াল সম্প্রদায়কে ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিতে চেয়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপ। এ জন্যই তারা ওই অপরাধ ঘটিয়েছে।
    এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কাঠুয়ার প্রত্যন্ত এলাকায় ওই কন্যাশিশুর বাড়ির বাইরে এখন একজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে প্রহরা দিচ্ছেন। রাজিনি লিখেছেন, নিহত কন্যার পিতা আমার সঙ্গে যখন কথা বলছিলেন, তখন তার চোখ দিয়ে যেন অশ্রুর বাঁধ মানছিল না। তিনি বলছিলেন, অভিযুক্তরা বলেছে ও হলো একজন মুসলিম কন্যা। তাকে হত্যা করো। এতে তারা ভয়ে ভীত হয়ে যাবে এবং এ এলাকা থেকে পালিয়ে যাবে।
    কিন্তু ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে তারা এক সময় যে বাড়িতে বসবাস করতেন তা তারা ছাড়তে পারেন নি। তারা ওই বাড়ি ছেড়ে যেতে চান না। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। ওই কন্যাশিশুর মা বলেন, আমরা বাড়ির বাইরে যেতে ভয় পাই। ভয় হয় আমাদের জীবনও শেষ করে দিতে পারে। আমরা বাইরে পা বাড়ালেই লোকজন আমাদেরকে প্রহার করার হুমকি দেয়।

    আট বছর বয়সী ওই কন্যাশিশুকে হত্যার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে। ওই নৃশংসতায় অভিযুক্ত আটজন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পক্ষেই রয়েছে বেশি মানুষের সমর্থন। তারা নির্যাতনে শিকার হয়ে মারা যাওয়া ওই শিশু ও তার পরিবারের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখায় নি। অভিযুক্তদের পক্ষে রাজপথে সমর্থন জানিয়ে যারা বিক্ষোভ করেছে তার মধ্যে রয়েছে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির দু’জন মন্ত্রী চৌধুরী লাল সিং এবং চন্দর প্রকাশ গঙ্গা। ওই সময় এক র‌্যালিতে লাল সিং বলেছিলেন, একজন মেয়ে মারা গেছে। অনেক তদন্ত হচ্ছে। এখানে তো এরকম অনেক নারীই মারা যান।

  • আবারো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

    আবারো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

    আবারও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার (১৪ মে) পুত্রজায়ায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিন ও মানবসম্পদমন্ত্রী তান কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ। বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

    এছাড়াও বৈঠকে দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় আলোচনা হয়েছে। গত আট মাস ধরে বাংলাদেশি কোন কর্মী নিচ্ছে না মালয়েশিয়া। এতে অন্তত এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেই বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

    এ সময় ইমরান আহমদ বলেন, ‘আগামী ২৯ ও ৩০ মে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।’ বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার শিগগিরই উন্মুক্ত হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে বলেও জানান তিনি।