Category: আন্তর্জাতিক

  • শেখ হাসিনার পদত্যাগ, যেভাবে দেখছে বিশ্ব গণমাধ্যম

    শেখ হাসিনার পদত্যাগ, যেভাবে দেখছে বিশ্ব গণমাধ্যম

    প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পদত্যাগের পর দুপুরে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ভারতে যান তিনি। এদিকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

    সিএনএন, বিবিসি, আলজাজিরা, এনডিটিভি, এএফপির মতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা এই পদত্যাগ ঘিরে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

    গতকাল শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ওয়েবসাইটে খবর প্রকাশ করা হয়। ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ শিরোনামে ওই খবরে বলা হয়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কয়েক শ মানুষ নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাকে ও তার বোনকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    হাসিনার অবস্থান স্পষ্ট নয়। তিনি ভারতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার ওয়েবসাইটের খবর দীর্ঘ সময় শীর্ষস্থানে রাখা ছিল। ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ, দায়িত্ব নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার’ শিরোনামের খবরে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

    জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে।’

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির শিরোনাম ছিল ‘পদত্যাগ করলেন শেখ হাসিনা’। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, সেনাবাহিনী একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে। বিক্ষোভকারীদের শান্তির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    দিল্লি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণের পর গতকাল সন্ধ্যায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে দেখা করেছেন শেখ হাসিনা।

    বার্তা সংস্থা এএফপির গতকালের প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন’। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসন গতকাল শেষ হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা প্রাণঘাতী বিক্ষোভে দেশ থেকে পালিয়েছেন তিনি। দেশটির সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে তারা।

    শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএনের শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ’। তাতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গতকাল পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  • ইসরাইলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪০ ফিলিস্তিনি

    ইসরাইলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪০ ফিলিস্তিনি

    চলমান উত্তেজনার মধ্যে ফের ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। আর এই হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৭১ জন আহত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা।

    এর আগে, অজ্ঞাত ফিলিস্তিনিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পর ৯০টি পচন ধরা মৃতদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। যা তাদের বর্বরতার কথা জানান দেয়।

    ইসরাইলের হামলা নিয়ে ফিলিস্তিনের গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, দখলদার ইসরাইলি বাহিনী সেখানকার স্কুল ও হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। এতে বহু নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ইসরাইলের দাবি, হামাসের কম্যান্ড সেন্টারকে টার্গেট করা হয়েছিল।

    গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুটি স্কুলে ইসরাইলের সেনা আক্রমণ করেছে। এর ফলে ২৫ জন মারা গেছেন। তার মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু।

  • জাপানে আঘাত হেনেছে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

    জাপানে আঘাত হেনেছে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

    অনলাইন ডেস্ক ::: জাপানে আবারও আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দেশটির উত্তরে অবস্থিত ইওয়াতে এবং আওমোরি অঞ্চলে আঘাত হানে এ ভূকম্পন। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬। তবে এর জন্য কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

    জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এদিন স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২৪ মিনিটে ইওয়াতে উপকূলে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭১ কিলোমিটার গভীরে।

    কম্পন মাপার একটি নিজস্ব স্কেল রয়েছে জাপানের। শূন্য থেকে সাত পর্যন্ত সেই স্কেলে মঙ্গলবারের কম্পনের মাত্রা ছিল পাঁচ। অর্থাৎ, প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে।

    স্থানীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, আওমোরি অঞ্চলের হাচিনোহে ও মিসাওয়া শহর এবং ইওয়াতে অঞ্চলের মিয়াকো ও কুজি শহরসহ অন্তত নয়টি পৌরসভায় ৫ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা জাপানি স্কেলের পঞ্চম-সর্বোচ্চ মাত্রা।

    এছাড়া মিয়াগি অঞ্চলের কিছু অংশে ৪ মাত্রা এবং দেশটির উত্তর থেকে পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত ১ থেকে ৩ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।

    ভূমিকম্পে আওমোরি অঞ্চলে দুজন আহত হয়েছেন। তবে অন্যান্য সম্পদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    বাসিন্দাদের আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য সতর্ক থাকতে বলেছে আবহাওয়া সংস্থা।

    জাপান অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ। প্রতি বছর সেখানে অন্তত ১ হাজার ৮০০টি ভূমিকম্প হয়, যা গোটা পৃথিবীর ১৮ প্রায় শতাংশ। দেশটির ঘরবাড়িগুলোও সেই মতো করে তৈরি করা হয়। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতিও হয় কম।

    সূত্র: জাপান টাইমস

  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা জাতিসংঘ মহাসচিবের

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা জাতিসংঘ মহাসচিবের

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। রোববার বিকালে উগান্ডার কাম্পালায় তৃতীয় দক্ষিণ শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    বৈঠকে মহাসচিব বৈশ্বিক অর্থনীতির কাঠামো সংস্কারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক প্রক্রিয়ায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যও তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।

    বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ নিরসনে জাতিসংঘ মহাসচিবের সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুকে জাতিসংঘের আলোচ্যসূচির শীর্ষে রাখার জন্য আন্তোনিও গুতেরেসকে অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

    ২০২৪ সাল জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ এটিকে যথাযথভাবে উদযাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি গুতেরেসকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান। দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও মহাসচিবকে ব্রিফ করেন হাছান মাহমুদ।

    তিনি জানান, জনগণের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উগান্ডার কাম্পালায় জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন এবং ৭৭ জাতি গ্রুপ ও চীনের তৃতীয় দক্ষিণ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ এ মুহিত, কেনিয়া ও উগান্ডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারেক মুহাম্মদ প্রমুখ।

  • ইমরান খানের তিন বছরের কারাদণ্ড, রায় ঘোষণার পরপরই গ্রেফতার

    ইমরান খানের তিন বছরের কারাদণ্ড, রায় ঘোষণার পরপরই গ্রেফতার

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানকে গ্রেফতার করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। তোষাখানা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর লাহোরের জামান পার্কের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (৫ আগস্ট) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও ডন এসব তথ্য জানায়।

    ইমরান খানকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে টুইট করেছেন পিটিআইয়ের পাঞ্জাব শাখা। টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, ইমরান খানকে কোট লাখপাত জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে শনিবার সেশন জজ ইমরান খানের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। সেই সঙ্গে তোষাখানা মামলায় পিটিআই চেয়াম্যানকে অভিযুক্ত করে তার তিন বছরের কারদণ্ড দেন অতিরিক্ত ও দায়রা জজ বিচারক হুমায়ুন দিলাওয়ার।

    বিচারক দিলাওয়ার তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, পিটিআই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সম্পদের ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। নির্বাচনী আইনের ১৭৪ ধারার অধীনে পিটিআই প্রধানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে।

    জানা গেছে, শুনানির আগে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা বাহিনীর অসংখ্য সদস্যকে মোতায়েন করা হয়। এছাড়া আদালতের ভেতর শুধুমাত্র আইনজীবী ছাড়া আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেও জানা যায়। যদিও এ রায় ঘোষণার সময় ইমরান খান ও তার আইনজীবী কেউই উপস্থিত ছিলেন না।

    এর আগে গত ৯ মে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে পিটিআই প্রধানকে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বাইরে থেকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানি রেঞ্জার্স। এর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে গোটা পাকিস্তান। পরে দুই দিনের মাথায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

  • প্রেম করার অপরাধে খুন: ফেলে দেওয়া হলো কুমিরের অভয়ারণ্যে

    প্রেম করার অপরাধে খুন: ফেলে দেওয়া হলো কুমিরের অভয়ারণ্যে

    ভালোবাসার অপরাধে খুন। মেয়েটির বয়স ১৮ আর ছেলেটির ২১। নির্মমভাবে খুনের শিকার হলেন এই দুই তরুণ-তরুণী। মেয়েটির পরিবারের লোকজন শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হয়নি। তাদের দুজনের মরদেহের সঙ্গে পাথর বেধে এমন একটি নদীতে ফেলা হয়েছে যে নদীটি রীতিমত কুমিরের অভয়ারণ্য। ওই নদীতে শত শত কুমিরের বসবাস। নির্মম এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশে।

    পুলিশ জানিয়েছে, সম্মান বাঁচাতে পরিবারের লোকজন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজ্যের রতনবাসাই গ্রামে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা শিবানী তমার।

    পাশের গ্রামের রাধেশিয়াম তমারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল শিবানীর। এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি শিবানীর পরিবার। এ নিয়ে তাদের বেশ ক্ষোভ ছিল। সেই সূত্র ধরেই শিবানী ও তার প্রেমিক খুনের শিকার হয়েছেন।

    তারা দুজন নিখোঁজ হওয়ার পর রাধেশিয়ামের বাবা একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অনেকদিন ধরেই তার ছেলে এবং পুত্রবধূ নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, তাদের হয়তো হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ ধারণা করছিল, তারা হয়তো গ্রাম থেকে পালিয়ে গেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায় যে, গ্রামের কেউ তাদের চলে যেতে দেখেননি।

    পরবর্তীতে শিবানীর বাবা এবং অন্যান্য স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এরপরেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে। তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে, শিবানী এবং তার প্রেমিককে হত্যা করা হয়েছে।

    শিবানীর পরিবার জানায়, গত ৩ জুন তাদের দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর তাদের মরদেহের সঙ্গে পাথর বেধে চম্বল নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ওই নদীতে প্রচুর কুমির রয়েছে। তারা হয়তো ভেবেছিলেন, ওই দুজনের মরদেহ কুমির খেয়ে ফেললে আর কোনও প্রমাণ থাকবে না।

    এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা নিহত নারীর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসবাদ করি। তারা নিজের মুখেই এই অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে, হত্যার পর দুজনের মরদেহ চম্বল নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। চম্বল ঘড়িয়াল অভয়ারণ্যে দুই হাজারের বেশি ঘড়িয়াল এবং পাঁচ শতাধিক মিঠা পানির কুমিরের বসবাস।

  • বিয়ের আসরেই ঝগড়ার পর বিষপান, বরের মৃত্যু; লাইফ সাপোর্টে কনে

    বিয়ের আসরেই ঝগড়ার পর বিষপান, বরের মৃত্যু; লাইফ সাপোর্টে কনে

    ঘটনাটি ভারতের। দেশটির মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ইন্দোর শহরে মঙ্গলবার এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, ওই শহরের কানাদিয়া এলাকার আর্য সমাজ মন্দিরে বিয়ের আয়োজন হয় এক যুগলের। কিন্তু বিয়ের আসরেই ঝগড়া বাঁধে ২১ বছরের বর ও ২০ বছরের মাঝে।

    ঝগড়া ও কথা কাটাকাটির জেরে বিষপান করেন বর। তা শুনে সঙ্গে সঙ্গে বিষপান করেন কনেও।
    এদিকে, হাসপাতালে নেওয়া বরের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ কনেকে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ওই কর্মকর্তা বলেছেন, বিষপানের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়া বরকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে নববধূ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    তিনি এখন লাইফ সাপোর্টে। কার্যত নিজের জীবন বাঁচাতে লড়াই করছেন।
    সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রমজান খান নামের ওই কর্মকর্তা বলেন, “কনে যখন জানতে পারেন যে, বর বিষপান করেছেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনিও তা পান করেন। ডাক্তাররা লোকটিকে মৃত ঘোষণা করেছেন, অন্যদিকে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে রাখা ওই নববধূর অবস্থা খুবই গুরুতর। ”

    তিনি আরও বলেছেন, বরের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেছেন- ওই তরুণী গত কয়েক দিন ধরে ওই ছেলেকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।

    তবে ওই ছেলে তার ক্যারিয়ারের কারণে বিয়ের জন্য আরও দুই বছর সময় চেয়েছিল। কিন্তু মেয়েটি তা না মেনে বরের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন।
    এই ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

  • নির্বাচনে জিতলেন মৃত নারী

    নির্বাচনে জিতলেন মৃত নারী

    মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ পর ভারতের উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন এক নারী। সমর্থকরা তার প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে তার প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন।

    মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের সরকারি কর্মকর্তারা স্থানীয় নির্বাচনে মৃত প্রার্থীর জয়ের এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর এএফপির। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসে ভারতের সর্বোচ্চ জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের পৌরসভার একটি নাগরিক সংস্থার নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়েছিলেন আশিয়া বি নামের ওই নারী। রাজ্যের বিজনোর জেলার এই নির্বাচনে প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পাওয়ায় আশিয়া বিকে মরণোত্তর বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

    ৩০ বছর বয়সি জনপ্রিয় এই নারী প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনি প্রচারের সময় ফুসফুস ও পেটে তীব্র সংক্রমণের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে মারা যান আশিয়া বি।

    আশিয়া বির মারা যাওয়ার তথ্য নির্বাচনি কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন তার স্বামী। মঙ্গলবার বিজনোর জেলার কর্মকর্তা ভগবান শরণ এএফপিকে বলেন, ব্যালট থেকে তার নাম মুছে ফেলার কোনো উপায় ছিল না।

    ‘নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু হলে, তা আর স্থগিত বা বন্ধ করা যায় না,’ বলেন শরণ। নির্বাচনের আগে মারা যাওয়ায় ভোটাররা আশিয়া বিকে ভোটদানের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানোর অঙ্গীকার করেন। অনেক ভোটার যে কোনো মূল্যে তাকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    বিজনোর জেলার স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকির দেশটির টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আশিয়া সহজেই মানুষকে বন্ধু বানাতেন। লোকজন তাকে সমর্থন করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা ভেঙে ফেলতে চায়নি এবং ফলাফলও তাই হয়েছে।’

    আশিয়ার স্বামী মুনতাজিম কুরেশি বলেন, বি ‘তার শান্ত স্বভাবের কল্যাণে মানুষের মন জয়’ করেছেন। বিজনোরের ভোটার আরিফ বলেন, ‘আমাদের এই ভোট তার প্রতি শ্রদ্ধা।’

  • পাকিস্তানে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ১৪

    পাকিস্তানে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ১৪

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুন প্রদেশের কোহাট জেলায় দুই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১২ জন।

    সোমবার কোহাট জেলার দারা আদম খেল এলাকায় দুই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন সানিখেল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এবং তিনজন আখোরওয়াল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। এ ছাড়া আহত ১২ জনের সবাই সানি খেল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ।

    সোমবার বিকাল ৫টার দিকে দারা আদম খেল পাহাড়ি এলাকায় কয়লা খনির দখলকে ঘিরে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী নিযুক্ত করা হয়।

    ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পাহাড়ি এলাকার প্রায় চার মাইলজুড়ে কয়লা খনি রয়েছে। এলাকাটি আখোরওয়াল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দখলে রয়েছে।

    এ সংঘর্ষের ব্যাপারে এখনো কোনো মামলা হয়নি। দারা আদম খেল প্রশাসনের কর্মকর্তা আজম খান বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা সাধারণত প্রচলিত আইন মানে না। তারা নিজেদের মধ্যে সমাধান করতে পছন্দ করে। এ কারণে কোনো মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি।

    ২০১৯ সাল থেকে এ এলাকার কয়লা খনির দখল নিয়ে সানি খেল ও আখোরওয়াল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।

    এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও এ এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছিল। তখন বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সেখানে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১২ মে আখোরওয়াল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা বাফার জোন লঙ্ঘন করলে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।

    ডনের প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, উভয় পক্ষের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রশাসনের দুর্বলতার জন্য রক্তক্ষয়ী বিরোধের সমাধান হচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

    সোমবার সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনী উভয় পক্ষের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ডেকেছে। তারা কোহাট পুলিশ ও আদম খেলের সহকারী কমিশনারের মধ্যস্থতায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন বলে মুসলিম আফ্রিদি নামের একজন তহসিলদার ডনকে জানিয়েছেন।

  • মার্কেটে এক শাড়ি নিয়ে দুই নারীর মারামারি

    মার্কেটে এক শাড়ি নিয়ে দুই নারীর মারামারি

    শাড়ি, নারী জাতির অন্যতম পছন্দের পোশাক। নারীরা সবসময় চান বেঁছে দেখে-শুনে নিজের পছন্দের শাড়ি কিনতে। তবে এক শাড়ি যদি দুই জনের পছন্দ হয়ে যায়! তাহলে বাঁধতে পারে বিপত্তি, হয়ে যেতে পারে মারামারি ও হাতাহাতি।

    এমনই ঘটনা ঘটেছে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে। যেখানে একটি শাড়ি নিয়ে মারামারি ও চুলোচুলিতে জড়িয়েছিলেন দুই নারী। ব্যাঙ্গালুরুর মাল্লেশরমে একটি দোকানে শাড়ির ওপর ছাড় দেওয়া হয়। সেখানেই এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে দুই নারী তর্কাতর্কি করছেন, এরপর একে-অপরের গায়ে হাত দেন। শেষের দিকে চুল ধরে টানাটানি শুরু করেন তারা।

    পাশে থাকা নিরাপত্তারক্ষী তাদের সামলানোর চেষ্টা করেন। তবে পাশে অন্য যেসব নারী ছিলেন তারা এই মারামারির দিকে নজর না দিয়ে পছন্দের শাড়ি দেখতে থাকেন।

    টুইটারে আরবৈধ্য২০০০ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটির শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘মায়সোরের শাড়ির বার্ষিক বিক্রি… দুই কাস্টমার একটি শাড়ি নিয়ে মারামারি করছে।’
    টুইটারে প্রকাশের পরই ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এটি নিয়ে হাসি-তামাশা ও ঠাট্টা করেছেন।

    একজন লিখেছেন, ‘কী হচ্ছে সেদিকে না তাকিয়ে যারা কেনাকাটা করছেন তাদের পছন্দ হয়েছে, হট্টগোলের দিকে কোনো মনোযোগ নেই।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘শাড়ি শুধুমাত্র একটি কাপড়ের টুকরো নয়, এটি আবেগ।’

    অপর এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তাদের শাড়ির কি চাহিদা এই দৃশ্য তাই প্রমাণ করছে। এই ভিডিও বিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে তারা।’ মজা করে আরেকজন লিখেছেন, ‘এই দেশে, আমাদের এমন মানুষ আছে যারা জমি, অর্থ ও শাড়ি নিয়ে লড়াই করে।’