Category: আন্তর্জাতিক

  • রাখাইনে ফের নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর আরসার হামলা

    রাখাইনে ফের নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর আরসার হামলা

    রাখাইনের স্বাধীনতাকামী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলায় মিয়ানমারের ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে এই হামলা চালিয়েছে আরসা।

    শনিবার মিয়ানমার রেডিও ও টেলিভিশন (এমআরটিভি) বলছে, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্যদের বহনকারী একটি পুলিশ ভ্যান মংডু শহরের ওয়াত কিইয়েন গ্রামের কাছে আক্রান্ত হয়েছে। দেশটির সরকার বলছে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন আরসা এই হামলার সঙ্গে জড়িত।

    ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে বিজিপির একাধিক তল্লাশি চৌকিতে আরসার একযোগে হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের প্রাণহানি ঘটে। রাখাইনে আরসার এই হামলার পর সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। কঠোর এই অভিযানে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে।

    বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলেছেন, অভিযানের নামে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে নির্বিচারে রোহিঙ্গা হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে। ২০১৭ সালের ওই হামলার পর মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে বিজিপির ওপর হামলার নিন্দা জানায়।

    কয়েকদিন আগেও দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে আরসার বিরুদ্ধে। শনিবার সকালের দিকে বিজিপির ওপর হামলার ছোট একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওতে আরসার লোগো এবং হামলার তারিখ দেখা যায়।

    ভিডিওতে অস্ত্রে-শস্ত্রে সজ্জিত মুখোশ পরিহিত কিছু মানুষকে দেখা যায়; আগের ভিডিওতে একে-৪৭ রাইফেল-সহ যাদের দেখা গেছে তাদের সঙ্গে মুখোশ পরিহিত এই অস্ত্রধারীদের চেহারার মিল নেই। একে-৪৭ রাইফেল থেকে পুলিশের একটি ভ্যানে গুলি ছুড়েছিল আরসার ওই সদস্যরা।

    এমআরটিভিতে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে একজন বন্দুকধারীকে বলতে শোনা যায়, সৃষ্টিকর্তা নিরাপত্তা বাহিনীকে হত্যার নির্দেশ দেয়ায় গত ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ আমাদের আরসার সদস্যরা হামলা চালিয়েছে।

    তবে শনিবার পুলিশের অপর এক প্রতিবেদনে নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলার জন্য রাখাইনের অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত অপর বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিকে (এএ) দায়ী করা হয়।

  • ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’

    ১ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’

    আগামী ১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ‘বিশ্ব হিজাব দিবস।’ গত ৬ বছর থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে এ দিবস পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এবারও সিটি হলের বারান্দায় ঐদিন বেলা ১২টায় সকলে জড়ো হবেন। মিলিত হবেন সংবাদ সম্মেলনে। দাবি জানাবেন, হিজাব বিরোধী মনোভাব পরিহারের, ধর্ম ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হবার।

    এ কর্মসূচির প্রবক্তা বাংলাদেশি এ্যাক্টিভিস্ট মাজেদা-এ-উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর আগে নাজমা খান নামক এক বাংলাদেশি ছাত্রী জ্যামাইকায় আক্রান্ত হন। বাংলাদেশি পোশাকে তিনি পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন বলেই বিদ্বেষমূলক আচরণের কবলে পড়েন। সেই ঘটনার প্রতিবাদ, নিন্দা এবং সর্বসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে শুরু হওয়া হিজাব দিবস এবারও উদযাপিত হবে ঐ একই চেতনায়। কারণ এখনও ধর্মীয় পোশাক, জাতিগত কারণে বৈষম্যের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে সর্বত্র। এবারের কর্মসূচিতে নাজমা খানও থাকবেন।

    উল্লেখ্য, নাজমা খানই হচ্ছেন এই কর্মসূচির উদ্যোক্তা। তার পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছেন মাজেদার মত নারী জাগরণের কর্মীরা। মাজেদা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার খর্ব করার বিরুদ্ধে নিরবতা অবলম্বনের সুযোগ নেই। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। হিজাব দিবসে সে সুযোগ দেয় সকল অধিকার সচেতন মানুষকে। আপনি কোন ধর্মের-বর্ণের-গোত্রের, সেটি বড় কথা নয়, আপনি একজন মানুষ- এ চেতনায় জড়ো হন হিজাব দিবস’র কর্মসূচিতে।

    মাজেদা বলেন, আমরা নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টে ‘ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’র দাবি জানিয়েছিলাম। ২০১৬ সালে সে বিল উঠিয়েছিলেন স্টেট সিনেটর রোকসানা জে পারসুয়াদ। সেটি পাশ হয়েছে ‘জাতীয় সিলেব্রেশন ডে’ হচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে’ শিরোনামে।  হিজাব ডে’র সাথে ইতিমধ্যেই সংহতি প্রকাশ করেছেন ৪৫ দেশের ৭০ জনের অধিক রাষ্ট্রদূত, খ্যাতনামা রাজনীতিক, স্কলারসহ টাইম ম্যাগাজিন, সিএনএন-এর মত বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম। এবারের হিজাব দিবসের  স্লোগান হচ্ছে, ‘হিজাব ইজ মাই ফ্রিডম’, ‘হিজাব ইজ মাই প্রটেকশন’, ‘হিজাব ইজ মাই চয়েস’, ‘হিজাব ইজ মাই কভার’ ইত্যাদি।

  • উট দৌড়ে প্রথম হলেন নেইমার!

    উট দৌড়ে প্রথম হলেন নেইমার!

    ফ্রেঞ্চ লিগে নিশ্চিন্তেই আছেন নেইমার-এমবাপ্পেরা। ১৬ জয় আর ২ ড্রয়ে শীর্ষে পিএসজি। শুধু শীর্ষে নয়, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে পার্থক্য ১৩ পয়েন্টের। ১৯ তারিখ আবার লিগ ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে মৌসুমের বাকি অর্ধেকটার। বধ্যবর্তী বিরতিতে বসে ছিলেন তাও কিন্তু নয়। কাতারে গিয়ে নতুন এক পেশার সন্ধান খুঁজেছেন নেইমার ও তাঁর সঙ্গীরা।

    কাতারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দারুণ এক উটের দৌড় প্রতিযোগিতা। সেখানে প্রতিযোগী পিএসজির সবাই। নতুন খেলায় অনভিজ্ঞ সবাই। তাই খেলা শুরু হওয়ার আগে প্রতিযোগীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণাদায়ী এক জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিলেন পিএসজি কোচ টমাস টুখেল। তারপর ছুটল উট আর উটচালকেরা। দৌড়ে কিন্তু ঠিকই জিতলেন গুরু আর তাঁর প্রিয় এক শিষ্য।

    ১৩জন বিজয়ীর মাঝে জয়ের হাসি হাসলেন নেইমার এবং টুখেল। পুরস্কার হিসেবে দুজনই পেয়েছেন ২৫০০০ হাজার ইউরো। প্রতিযোগিতা শেষে মজা করতে ভোলেননি কাটখোট্টা স্বভাবের টুখেল, ‘প্রতিযোগিতায় জয়ের টেকনিক আমি প্রকাশ করব না, আমি জানি আমার জয় খেলোয়াড়দের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন। তবে এটা খুবই ট্যাকটিক্যাল ছিল। জেতাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি গর্বিত যে আমি এই জয়ে যেই অর্থ অর্জন করেছি সেটি চ্যারিটিতে দান করার সুযোগ পেলাম। এটা আমার জন্য বড় একটি সফলতা।’ নেইমারও জয়ের আনন্দ প্রকাশ করেছেন শিশুদের আনন্দ নিয়ে, ‘আমি খুব খুশি। আমাদের গ্রুপ সেরা হয়েছে। আমি প্রথম হয়েছি আর দানি (দানি আলভেজ) তৃতীয়। আমি জিতেছি আমি জিতেছি।’

    উট দৌড় কাতার এবং আরব আমিরাতে বেশ জনপ্রিয় একটি খেলা। এক সপ্তাহের সফরে কাতার ভ্রমণ করেছেন নেইমাররা। ভ্রমণ শেষে পিএসজি ফ্রান্সে ফিরেছে আজ।

  • ইমরান খানকে সোনায় মোড়ানো রাইফেল দিলেন সৌদি প্রিন্স

    ইমরান খানকে সোনায় মোড়ানো রাইফেল দিলেন সৌদি প্রিন্স

    ইসলামাবাদ সফরে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সোনায় মোড়ানো কলাশনিকভ রাইফেল উপহার দিলেন সউদি প্রিন্স ফাহাদ বিন সুলতান বিন আবদুল আজিজ। সৌদি আরবের তাবুক প্রদেশের গভর্নর এই প্রিন্স গত সোমবার রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্রটি গুলিসহ পাক সরকারপ্রধানের হাতে তুলে দেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম পাকিস্তান টুডে বুধবার এ খবর জানায়।

    সফরকালে প্রিন্স দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা জোরদার করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারভেজ খাটক ও পররাষ্ট্রসচিব তাহমিনা জানজুয়ার সাথে বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্ট আলভি এ সময় প্রিন্সকে বলেন, তার দেশ বন্ধুপ্রতিম সৌদি আরবের সাথে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ককে খুবই গুরুত্ব দেয় এবং এই বন্ধনকে আরো মজবুত করতে চায়। তিনি দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    অর্থনীতির দুর্বল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে গত অক্টোবরে পাকিস্তান তার বন্ধু দেশটির কাছ থেকে ৬০০ কোটি ডলারের অনুদান প্রাপ্তি নিশ্চিত করে। সউদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের বাণিজ্য সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর ইমরান খানকে ওই অনুদানের আশ^াস দেয়া হয়।

    তবে সৌদি আরবের নাগরিক সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার সাথে দেশটির রাজপরিবারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন রাজনীতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব সম্মেলনটি বয়কট করেন। প্রতিশ্রুত অনুদানের অর্ধেক তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির আর্থিক ঘাটতি কাটাতে প্রদান করা হয়। বাকি অর্থ পরবর্তীতে তেল আমদানির সময় দেয়ার কথা বলা হয়।

  • লাইনে দাঁড়িয়ে বার্গার কিনলেন বিল গেটস!

    লাইনে দাঁড়িয়ে বার্গার কিনলেন বিল গেটস!

    পৃথিবীর শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। আপাতত বিশ্বের শীর্ষ ধনীর স্থানটি জেফ বেজোসের কাছে হারালেও তালিকায় দুই নম্বরে রয়েছেন তিনি। হ্যাঁ, বিল গেটসের কথাই বলা হচ্ছে। খুব সাদামাটা জীবনযাপনের পাশাপাশি যেখানে যে নিয়ম সেটা মানতে পছন্দ করেন তিনি। আর এ কারণে সামান্য একটা বার্গারের জন্য সাধারণ মানুষের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই ধনী! লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা তার এমনই একটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন মাইক্রোসফটের সাবেক কর্মী মাইক গ্যালোস। এরপর মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে।

    ছবিতে দেখা যায়, ধূসর রংয়ের প্যান্ট ও লাল সোয়েটার পরিহিত বিল গেটস পকেটে হাত ঢুকিয়ে বার্গারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী হলেও তিনি তার খ্যাতির সুবিধা নিয়ে লাইন ভেঙে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেননি।

    এজন্য মাইক গ্যালোস বলেছেন, ‘যখন আপনার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার আর আপনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতব্য ফাউন্ডেশন চালান কিন্তু আবার একটি বার্গারের জন্য লাইনেও দাঁড়ান তখন ঘটনাটা অন্যরকম।’

    ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিল গেটস বার্গার খেতে ভালোবাসেন। পছন্দের এই খাবার খেতে যেখানে সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। গত সপ্তাহেও সিয়াটলের একটি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁয় তাকে লাইনে দাঁড়িয়ে বার্গার কিনতে দেখা যায়।

    ফেসবুক পোস্টে মাইক গ্যালোস জানিয়েছেন, ছবিটি তিনি তোলেননি। মাইক্রোসফটের গোপন একটি গ্রুপ থেকে ছবিটি পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

  • মমতার জনসভায় থাকছেন বিজেপি বিরোধী সব নেতাই, সমর্থন রাহুলের

    মমতার জনসভায় থাকছেন বিজেপি বিরোধী সব নেতাই, সমর্থন রাহুলের

    আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের বিজেপি সরকারকে হঠাতে আগামীকাল শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জির ডাকা জনসভায় হাজির হতে চলেছে বিজেপি বিরোধী শিবিরের প্রায় সব নেতাই। মমতার সভায় উপস্থিত থাকতে পারেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জনতা দল সেকুলার নেতা এইচ.ডি.দেবগৌড়া, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টি(আপ) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শরদ পাওয়ার, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রফুল্ল প্যাটেল ও টি.আর বালু, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদব, দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাঘাম (ডিএমকে) সভাপতি এম.কে.স্ট্যালিন, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) নেতা ওমর আবদুল্লা, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী টি.আর.বালু, বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি)-র সাধারণ সম্পাদক সতীশ মিশ্র, ঝাড়খন্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, আরেক সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি, অরুণাচল প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গেগং আপাং, অসমের সাংসদ ও এআইডিইউএফ নেতা বদরুদ্দিন আজমল-এর মতো নেতারা।

    মঞ্চে দেখা যেতে পারে শত্রুঘ্ন সিনহা, যশবন্ত সিনহা, অরুণ শৌরি-র মতো কয়েকজন বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা-সাবেক মন্ত্রীদেরও। তবে জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এই সমাবেশে উপস্থিত না থাকলেও দলের পক্ষ থেকে থাকবেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং অভিষেক মনু সিংভি। রাহুল নিজে অবশ্য বিজেপি বিরোধী সমাবেশকে সমর্থন জানিয়ে মমতাকে খোলা চিঠি লিখেছেন। মমতাকে দিদি বলে সম্বোধন করে রাহুল লেখেন ‘মমতা’দির সভার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি। আশা করছি আমরা বিরোধীরা সবাই একত্রিত হয়ে এক শক্তিশালী বার্তা দিতে সক্ষম হবো। জাতীয়তাবাদ এবং উন্নয়নকে রক্ষা করতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই আমাদের আস্থা আছে। বিজেপি এবং পিএম মোদি ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধ্বংস করতে চাইছেন। সেটা আমাদের ঠেকাতে হবে।’

    কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দান থেকেই কেন্দ্রে বিজেপি বিদায়ের ঘণ্টা বাজানো হবে বলে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ট্যুইটার পেজে বার্তা দেওয়া হয়েছে। মমতা নিজেও জানান, ‘ইতিমধ্যেই বিজেপির বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। এটা হবে ঐক্যবদ্ধ ভারত সমাবেশ। এই মঞ্চ থেকেই ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সূচনা হবে।’

    আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময়ে লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে এই সমাবেশ থেকে মোদি বিরোধী জোটের ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে সেকথা বলাই যায়। নির্বাচনের আগে সম্ভবত এটিই হবে প্রথম ও শেষ বিরোধী মঞ্চের সমাবেশ।

    রাজনৈতিক মহলের ধারণা মমতার এই সমাবেশ থেকে ঘুরিয়ে কংগ্রেসকেও একটা বার্তা দেওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তা হল বিরোধী দলগুলির এই মহাজোট যদি প্রতিটি রাজ্যে পৃথক লড়াই করে, তবে কংগ্রেসের চেয়েও বেশি আসন পেতে পারে। এর অর্থই হল পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা ঠিক করার ক্ষমতা থাকবে বিরোধী মহাজোটের হাতে। এ প্রসঙ্গে মমতা জানান, ‘আঞ্চলিক দলগুলিই হবে নির্ণায়ক শক্তি। প্রতিটি রাজনৈতিক দলেই নিজস্ব অভিমত, দর্শন আছে তারা সেটা তুলে ধরবে। আমরা সকলকে সম্মান করি। আমি কারও ওপর আমার মতামত চাপিয়ে দেবো না।’

    বর্তমানে দেশে মোদি ঝড়ও অনেকটা উধাও। বিভিন্ন জরিপেও দেখা গেছে ২০১৪ এর মতো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপির এবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা অনেক কম। সেই সম্ভবনা থেকেই মমতা বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে বিজেপি ১২৫-টির বেশি আসন পাবে না। সেটাও যদি তারা পায়, তবে বলব অনেক! তবে কংগ্রেস কত আসন পাবে, তা আমি বলতে পারব না।’ তৃণমূল নেত্রীর অভিমত, ‘সবদিক থেকেই এই জনসভা ঐতিহাসিক হবে।’

    শনিবার ব্রিগেড জনসভায় প্রায় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সমাবেশে মোট পাঁচটি মঞ্চ করা হচ্ছে। মূল মঞ্চে থাকবেন মমতাসহ জাতীয় নেতারা। বাকী চারটির কোথাও রাজ্যের নেতারা, কোথাও বিনোদন জগতের সেলিব্রিটিরা থাকবেন। দর্শকদের সুবিধার্থে মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হয়েছে এলইডি স্ক্রিন। আটোসাঁটে করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যেও নজরদারি চালানো হবে।

  • বলিউড ছেড়ে ইসলাম প্রচারে আত্ননিয়োগ করেছিলেন অভিনেতা কাদের খান

    বলিউড ছেড়ে ইসলাম প্রচারে আত্ননিয়োগ করেছিলেন অভিনেতা কাদের খান

    বলিউড ছেড়ে ইসলাম প্রচারে- কাদের খান একজন বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা, কমেডিয়ান, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখক এবং পরিচালক। তিনি ১৯৭০ সাল থেকে একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ৪৫০ টিরও বেশি হিন্দি এবং উর্দু সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং ২৫০ টিরও বেশি ভারতীয় সিনেমার সংলাপ লিখেছেন।

    চলুন যেনে নেয়া যাক এই অভিনেতার তিনি বলিউড ছেড়ে ইসলামের দিকে চলে আসার কাহিনী। কাদের খান ১৯৩৫ সালের ২২ অক্টোবর আফগানিস্তানের কাবুলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কাবুল আফগানিস্তানের আফগান পশতুন বংশোদ্ভুদ। তার পিতা মৌলভী আব্দুর রহমান যিনি কান্দাহারের বাসিন্দা ছিলেন। তার মাতা ইকবাল বেগম ছিলেন বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের পিশিন জেলার অধিবাসী। তিনি পবিত্র কুরআনে হাফেজ ছিলেন। তার পরিবার কানাডা এবং হল্যান্ডে বাস করে। তার তিন ছেলে কানাডায় বাস করে। কাদের খান ভারত ও কানাডার নাগরিক ছিলেন। কাদের খানের বাবা মৌলভী আব্দুর রহমান শুধু ধর্মীয় পণ্ডিত ছিলেন না, তিনি আরবি ভাষা ও ইসলামিক সাহিত্যে স্নাতকোত্তরও ছিলেন। তিনি হল্যান্ডে চলে যান। সেখানে তিনি নিজে ইসলামিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে কাদের খানের পিতা মৃত্যুর পূর্বে সেখানে ডেকে পাঠালেন এবং প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলে প্রথমে কাদের খান রাজি হননি। তিনি যুক্তি হিসেবে বলেন, ইসলাম সম্পর্কে তার জ্ঞান কম।

    তখন কাদের খানের পিতা জানতে চাইলেন, বলিউডে যোগ দেয়ার আগে ‍তুমি কি সেই জগৎটাকে জানতে? তিনি আরো বলেন, সিনেমার গল্প লেখা বা কথোপকথন লেখার বিষয়ে তার প্রথমে কোন জ্ঞান ছিল না, তিনি শিখেছিলেন এবং বলিউডে বেশ নাম করেছেন। তাই, একইভাবে তিনি ইসলাম, আরবি ও উর্দু সম্পর্কেও শিখতে পারবেন। কাদের খানের পিতার এই কথা তাকে ব্যাপক প্রভাবিত করে। এর ফলে তিনি ১৯৯৩ সালে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড এরাবিক লিটারেচারে ভর্তি হন। পিতার ইচ্ছার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নার্সারি লেভেল থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন স্তরে ইসলামী শিক্ষা, শরিয়াহ আইন এবং অনুরূপ বিষয়ের জন্য বিভিন্ন ইসলামিক কোর্স কারিকুলাম তৈরি করেন। এই কোর্সের অন্যতম দিক ছিল অতি সহজেই একজন সাধারন মানুষ যাতে কুরআন বুঝতে পারেন। এমনকি অমুসলিমরাও যাতে সহজেই ইসলামিক শিক্ষা লাভ করতে পারেন। এছাড়াও তিনি দুবাইয়ে কেকে ইন্সটিটিউট অব এরাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। পরবর্তীতে কানাডায় তিনি আরবি ভাষা ও পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন ইসলামিক আইনের উপর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেন।

    ২০০৫ সালের দিকে কাদের খানের ইসলামিক সেন্টারগুলো পূর্ণরুপে চলতে থাকে। পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত হন।

    এছাড়াও সারা জীবন তিনি ভারতের সাধারণ মুসলামানদের মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি চাইতেন মুসলিম যুবকেরা শিক্ষায় ও কারিগরি দক্ষতা দিয়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের স্থান তৈরি করে নিতে পারে।
    তার অসুস্থতার পূর্বে কাদের খান তার শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর জন্য বিভিন্ন দেশে শাখা স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, লন্ডন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। ভারতে মুসলিম সমাজে তার অবদানের জন্য আমেরিকান ফেডেরাশন অব মুসলিম ফ্রম ইন্ডিয়া (AFMI) স্বীকৃতপ্রাপ্ত হয়।
    কাদের খান ২০১৪ সালে পবিত্র হজ পালন করেন। এভাবেই তিনি বলিউড থেকে দূরে চলে আসেন। আর ইসলাম প্রচারে নিজেকে নিয়োগ করেছিলেন।

     

  • কেনিয়ায় হোটেলে আটকা পড়েছেন বেসামরিক নাগরিকরা

    কেনিয়ায় হোটেলে আটকা পড়েছেন বেসামরিক নাগরিকরা

    কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির একটি বিলাসবহুল হোটেলে হামলা এখনও চলছে। জঙ্গিরা ওই হোটেলে হামলা চালালে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়। এখনও পর্যন্ত হোটেলটিতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    মঙ্গলবার ওয়েস্টল্যান্ডস জেলার একটি ভবনে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। ওই ভবনটি দুসিটডি২ হোটেল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জঙ্গিদের হামলায় ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছে।

    Kenya-2

    বুধবার সকালেও গোলাগুলি এবং বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা অভিযান এখনও চলছে। অনেক বেসামরিক নাগরিক তাদের স্বজনদের ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছে।

    সোমালিয়াভিত্তিক আল শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক। হামলাকারীদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা এখনও পরিস্কার নয়।

    বন্দুকধারীরা হোটেলের লবিতে ঢোকার আগে কার পার্কিংয়ে রাখা গাড়িতে হামলা চালায়। এক হামলাকারী আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হোটেল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে সেখানে থাকা লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    Kenya-3

    হোটেলের পাশের ভবনের এক নারী রয়টার্সকে বলেন, আমি গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছি। সে সময় লোকজন ভয়ে দৌঁড়ে পালাচ্ছিল। অনেকেই জীবন বাঁচাতে ব্যাংকের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছে।

    নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, কমপক্ষে চার ভারী অস্ত্রধারী হেঁটে এসে গোলাগুলি শুরু করে। এই হামলার কয়েকদিন আগেই তারা ওই ভবনটিতে ঘুরে গেছে।

  • ভেঙে গেল শ্রাবন্তীর দ্বিতীয় বিয়েও

    ভেঙে গেল শ্রাবন্তীর দ্বিতীয় বিয়েও

    সুপার মডেল কৃষ্ণ ভিরাজের সঙ্গে ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে।

    মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর জেলা আদালতে তাদের ডিভোর্স নিয়ে চূড়ান্ত শুনানি। সেখানেই বিচারক রবীন্দ্রনাথ সামন্ত অভিনেত্রী শ্রাবন্তী ও ভিরাজের মিউচুয়াল ডিভোর্সের আবেদন মঞ্জুর করেন।

    শ্রাবন্তীর আইনজীবী অনুনয় বসু বলেন, “২০১৬ সালে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু, বিভিন্ন কারণে নিজেদের মধ্যে অমিল ঘটায় ২০১৭ সালে দু’জনের সম্মতিতেই আলিপুর আদালতে ডিভোর্সের মামলা দায়ের হয়। আজ বিচারপতি এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন।”

    এর আগে, ২০০৩ সালে পরিচালক রাজিব বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শ্রাবন্তীর। তাঁদের একটি পুত্র সন্তানও আছে। কিন্তু, রাজিব একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন শ্রাবন্তী। এরপর বেশ কিছুদিন প্রেম করার পর ২০১৬ সালে কৃষ্ণ ভিরাজকে বিয়ে করেন অভিনেত্রী। একটি বিজ্ঞাপনের কাজে গিয়ে মুম্বাইয়ের মডেল ভিরাজের সঙ্গে আলাপ হয় শ্রাবন্তীর। পরিচয়ের প্রায় দেড় বছর বাদে বিয়ে করেন তাঁরা। কিন্তু, বিয়ের কয়েকমাসের মধ্য়েই ডিভোর্সের আবেদন করেন শ্রাবন্তী-ভিরাজ। সূত্র: এনাডু ইন্ডিয়া.কম

  • মৃতদের সঙ্গে যৌনমিলন করেন যে হিন্দু সাধুরা

    মৃতদের সঙ্গে যৌনমিলন করেন যে হিন্দু সাধুরা

    এরা ধ্যান করেন, খান, ঘুমান এবং শ্মশানে চারিদিকে চিতায় আগুনে পুড়তে থাকা লাশের পাশেই যৌনমিলনে লিপ্ত হন। এরা নগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়ান, মানুষের মাংস খান এবং নরকংকালের খুলি থেকে পান করেন। গাঁজায় টান দেন। আর তাদের কেবল জনসমক্ষে দেখা যায় বহুদিন পরপর কেবল কুম্ভমেলার সময়।

    ভারতের এই হিন্দু সাধুদের বলা হয় অঘোরি। সংস্কৃত ভাষায় অঘোরি মানে হচ্ছে ভীতিকর নয় এমন কিছু। কিন্তু বাস্তবে এই অঘোরিদের জীবনযাপনের কাহিনী মানুষের মধ্যে জাগায় একই সঙ্গে ভীতি, কৌতুহল এবং ঘৃণা।

    এই সাধুদের নিয়ে গবেষণা করেছেন লন্ডনের স্কুল অব আফ্রিকান এন্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের অধ্যাপক জেমস ম্যালিনসন।তিনি সেখানে ‘সংস্কৃত এন্ড ক্লাসিকাল ইন্ডিয়ান স্টাডিজ’ পড়ান।

    জেমস ম্যালিনসনের ভাষায়, ‘অঘোরিদের এ সব রীতির মূল কথা হচ্ছে, তারা অ্যাধাত্মিক মুক্তিলাভের মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে এক হতে চান, আর সে জন্যে তারা বিশুদ্ধতার সূত্রের সীমা ছাড়িয়ে যেতে চান।’

    ম্যালিনসন পড়াশোনা করেছেন ব্রিটেনের খুবই অভিজাত স্কুল ইটনে এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি নিজেও একজন মহান্ত বা গুরু। তবে একটি ভিন্ন হিন্দু গোত্রের অনুসারী তিনি, যারা বিশুদ্ধতার সব সূত্র মেনে চলে। অঘোরিদের এ সব নিয়ম কানুন তাদের গোত্রে নিষিদ্ধ। তবে অঘোরিদের মেলা-মেশার সুযোগ হয়েছে তার।

    ‘যা কিছুই গর্হিত বা নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত, তার সব অঘোরিরা ভঙ্গ করতে চায়। সনাতনী ভালো-মন্দের যে ধারণা, সেটা তারা প্রত্যাখ্যান করে।

    ‘যে পথ ধরে তারা আধ্যাত্মিক সাধনায় লিপ্ত হয়, সেটা পাগলামি এবং বিপদজনক বলে মনে হবে। এরা মানুষের মাংস খায়, এমনকি নিজেদের মল খায়। কিন্তু তারা মনে করে এই কাজ করে তারা চেতনার একটা উচ্চতম পর্যায়ে পৌঁছায়।’

    অঘোরিদের মধ্যে যে সব রীতি বা প্রথা চালু রয়েছে, সেগুলো সাম্প্রতিকালের বলেই মনে হবে। অঘোরি শব্দটাই জানা যায় আঠারো শতক থেকে।

    তবে এই হিন্দু সাধুরা কাপালিকদের অনেক নিয়ম কানুন অনুসরণ করে। নরমুন্ডু বহনকারী কাপালিকদের সম্পর্কে কিন্তু জানা যায় সেই সপ্তম শতক থেকেই। কাপালিকরা নরবলির প্রথায় বিশ্বাস করতো। কিন্তু এদেরকে এখন আর দেখা যায় না।

    অন্য হিন্দু জাতের মতো অঘোরিদের সমাজকে খুব সুসংগঠিত বলা যাবে না। বেশিরভাগ সময় এরা বাস করে দূরের কোন জনবিচ্ছিন্ন এলাকায়। বাইরের দুনিয়ার লোকদের এরা খুব বিশ্বাস করে না। তারা এমনকি তাদের নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখে না।

    অঘোরিরা সাধারণত আসে সমাজের তথাকথিত ‘নিচু জাতের’ লোকদের মাঝ থেকে। তবে বুদ্ধিবৃত্তির বিচারে এদের মধ্যেও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ আছে। ম্যালিনসন জানান, একজন অঘোরি নেপালোর রাজার উপদেষ্টা পর্যন্ত হয়েছিলেন।

    লেখক মনোজ ঠাক্কার অঘোরিদের নিয়ে একটি বই লিখেছেন। তার মতে, অঘোরিদের আসলে খুব বেশি ভুল বোঝে মানুষ। ‘এরা আসলে খুব সহজ-সরল মানুষ। প্রকৃতির মাঝে বাস করে। তাদের কোনও চাহিদা নেই।’

    ‘তারা সবকিছুকে দেখে সর্বশক্তিময়ের প্রকাশ হিসেবে। তারা কাউকে বা কোনও কিছুকে প্রত্যাখানও করে না, ঘৃণাও করে না। এ কারণেই তারা একটি জবাই করার পশুর মাংসের সঙ্গে নরমাংসের কোনও তফাৎ করে না। যা পায়, তাই খায়।’

    অঘোরিদের সংখ্যা খুবই কম। জেমস ম্যালিনসন এবং মনোজ ঠাক্কার দুজনেই মনে করেন, কুম্ভমেলায় যাদের দেখা যায়, তারা হয়তো নিজে থেকে অঘোরিদের অনুসারী, তারা হয়তো যথাযথভাবে অঘোরি সমাজে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

    অনেকে হয়তো তীর্থযাত্রীদের এবং পর্যটকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য এবং অর্থ উপার্জনের জন্য ওই বেশ ধারণ করে।

    পূণ্যার্থীরা তাদের খাবার এবং অর্থকড়ি দেয়। কিন্তু মনোজ ঠাক্কার বলছেন, অঘোরিরা অর্থকড়ির ব্যাপারে নিস্পৃহ।

    ‘এরা কিন্তু সবার জন্যই প্রার্থনা করে। কেউ সন্তান পাওয়ার জন্য তাদের আশীর্বাদ চাইছে আর কে বাড়ি বানানোর জন্য, সেটা নিয়ে তারা ভাবে না।’

    অঘোরিরা মূলত শিবের পুজারি। ধ্বংসের দেবতা। উত্তর ভারতে কেবলমাত্র পুরুষরাই অঘোরি সম্প্রদায়ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নারী অঘোরিও দেখা যায়। এরা শ্মশানে বাস করে। তবে তারা কাপড় পরে।

    ‘বেশিরভাগ মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়। শ্মশান হচ্ছে মৃত্যুর প্রতীক। কিন্তু অঘোরিদের জন্য সেটাই হচ্ছে শুরু। তারা সাধারণ মানুষের নীতি এবং মূল্যবোধকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়’, বলছেন মনোজ ঠাক্কার।

    গত কয়েক দশকে সমাজের মূলধারার অনেক কিছু অঘোরিরা তাদের সমাজে চালু করেছে। যেমন তারা কুষ্ঠরোগীদের জন্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার সাংস্কৃতিক নৃতাত্ত্বিক রন ব্যারেট জানালেন, সমাজের সবচেয়ে অস্পৃশ্য বলে বিবেচিত কুষ্ঠরোগীদের সঙ্গে তারা কাজ করছে।

    বেনারসে অঘোরিরা কুষ্ঠরোগীদের জন্য ক্লিনিক চালায়। সেখানে তাদের আয়ুর্বেদী চিকিৎসা দেয়।

    অঘোরিদের অনেকে এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। বাসে-ট্রেনেও চড়ে। আর জনসমক্ষে আসার সময় তারা অন্তত কিছু কাপড় পরে।

    অঘোরিদের সংখ্যা কত অনুমান করা কঠিন। তবে ধারণা করা হয় এই সংখ্যা কয়েক হাজারের বেশি হবে না। বেশিরভাগ ভারতীয়, যারা হিন্দু সাধুদের দেখে অভ্যস্ত, তারাও যখন কোনও অঘোরির মুখোমুখি হয়, সেটি তাদের খুবই বিচলিত করতে পারে, তাদের মনে ঘৃণা জাগাতে পারে।

    অনেক অঘোরি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে তারা মৃতদেহের সঙ্গে সঙ্গম করেছে। তবে তাদের সমাজেও যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু নিষেধের বেড়াজাল আছে।

    জেমস ম্যালিনসন জানান, এরা পতিতাদের সঙ্গে তাদের রীতি অনুযায়ী যৌনসঙ্গম করে। কিন্তু সমকামিতায় বিশ্বাসী নয় তারা, এটি অনুমোদনও করে না। যখন অঘোরিরা মারা যায়, তাদের দেহ অন্য অঘোরিরা খায় না। তাদেরকে কবর দেওয়া হয় কিংবা চিতায় পোড়ানো হয়।