Category: আন্তর্জাতিক

  • দুই পুত্রবধূর ঝগড়ায় ব্রিটিশ রাজপরিবারে ভাঙন!

    দুই পুত্রবধূর ঝগড়ায় ব্রিটিশ রাজপরিবারে ভাঙন!

    বৃটেনের রাজপরিবারের দুই পুত্রবধূর মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। এমনকি এ কারণে নাকি রাজপরিবারে ভাঙনের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

    দেশটির রাজপরিবারের দুই পুত্রবধূ কেট মিডলটন ও মেগান মর্কেল পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছেন। এ কারণে বড়দিনের অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা যাবে না।

    এবার বড়দিনে হ্যারি ও মেগান জুটি রাজপ্রাসাদে থাকছেন না। তারা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে স্যান্ড্রিংহামে ছুটি কাটাবেন। আর কেট যাবেন বাপের বাড়ি বার্কশায়ারে।

    রাজপরিবারের দুই বধূর বিবাদ শুরু হয় মেগান মর্কেলের বিয়ের আগে থেকেই। রাজপরিবারের বৌ হওয়ার আগে তিনি পরিবারের মধ্যে প্রভাব খাটাতে শুরু করেন। সেখান থেকেই বিবাদ শুরু হয়।

    কেট মিডলটনের এক পরিচারিকাকে নিয়ে দুই রাজবধূর ঝগড়া শুরু হয়। ওই পরিচারিকার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন মর্কেল। তাতে ক্ষুব্ধ হন কেট। এক পর্য়ায়ের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

    পরে স্ত্রীর পক্ষে মুখ খোলেন প্রিন্স হ্যারি। অন্যদিকে কেটের পক্ষ নেন স্বামী উইলিয়াম। দুই বধূ থেকে ঝগড়া ছড়িয়ে পড়ে পুরো রাজপরিবারে। বর্তমানে বেশ তিক্ততা চলছে তাদের মধ্যে। ফলে আগামী বড়দিনের অনুষ্ঠান দুই ভাই একসাথে কাটাবেন না।

  • শেখ হাসিনা’ বিশ্বের সবচেয়ে সাদা-সিধে জীবনযাপনকারী রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন

    শেখ হাসিনা’ বিশ্বের সবচেয়ে সাদা-সিধে জীবনযাপনকারী রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন

    নাইজেরিয়ার প্রভাবশালী দৈনিক ‘ডেইলি লিডারশিপ’বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বের সবচেয়ে সাদা-সিধে জীবনযাপনকারী রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন বলে আখ্যায়িত করেছে।

    দৈনিকটির ১৮ নভেম্বর ২০১৮,রবিবার প্রকাশিত ইস্যুর ‘আনরিপোর্টেড’ সেকশনে বিশ্বের মাত্র ৫ জন নেতাকে নিয়ে একটি ফিচার স্টোরি ছাপা হয়। এতে বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাসিক মাত্র ৮০০ ডলারের (নাইজেরিয়ান মুদ্রায় ২ লাখ ৮৮হাজার নায়রা) মূল বেতন এবং এই টাকার মধ্যেই জীবন-যাপনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ফোবর্সের বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর ৫৯তম স্থান অধিকার করার বিষয়টিও এতে উল্লেখ করা হয়।

    এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর দুটি হলো, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধকারীদের বিচার সম্পন্ন করা।

    পত্রিকাটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মি. ডিলে ফ্যানিমো (Dele Fanimo) বলেন, বাংলাদেশ এবং এর প্রধানমন্ত্রীর জন্য এমন একটি মহা সম্মান ও প্রশংসার জন্য আমি গর্ব অনুভব করি।

    তিনি জানান, বন্ধুপ্রতীম দুই রাষ্ট্র- বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়ার জনগনের মধ্যে বোঝাপড়া আরো বাড়ানোর জন্য তিনি বাংলাদেশি হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

  • ’কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ জর্জ হ্যারিসনকে মনে আছে কি?

    ’কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ জর্জ হ্যারিসনকে মনে আছে কি?

    নিরবে কেটো গেলো, গত ২৯ নভেম্বর। জর্জ হ্যারিসনের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী,১৯৭১ সালের আগস্ট মাস। বাংলাদেশে তখন মুক্তিযুদ্ধ চলছে। একই সাথে চলছে পাকবাহিনীর গণহত্যা। পাশের দেশ ভারতে তখন বাংলাদেশী শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। আর হাজার মাইল দূরে নিউইয়র্কে চলছে অন্যরকম এক যুদ্ধের প্রস্তুতি।

    যে যুদ্ধের নাম “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। পপ সঙ্গীতের জনপ্রিয় শিল্পী জর্জ হ্যারিসন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পন্ডিত রবি শংকরের অনুরোধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের পহেলা আগস্টে এক বেনিফিট সঙ্গীত অনুষ্ঠানের কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজন করেছিলেন। এই কনসার্ট হতে সংগৃহীত ২,৫০,০০০ ডলার বাংলাদেশের উদ্বাস্তুদের জন্য দেয়া হয়েছিল।

    ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে কনসার্ট ফর বাংলাদেশের মাধ্যমে বিশ্ববাসী আরও ভালোভাবে জেনেছিল, সভ্যতার ভয়াবহ গণহত্যা ও ধ্বংসের মাঝে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়ছে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ। সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণের কাছের মানুষ জর্জ হ্যারিসন।

    একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যা, ধ্বংস আর হানাহানি বিপর্যস্ত করে তুলেছিল পণ্ডিত রবিশংকরকে। তিনি চাচ্ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে। তিনি তাঁর মনের কথা শেয়ার করেন সাবেক বিটলস মেম্বার জর্জ হ্যারিসনের সাথে। রবিশংকর জানান, তিনি বাংলাদেশের জন্য তহবিল সংগ্রহে একটি কনসার্ট করতে চান। এ উদ্যোগে তিনি জর্জকে পাশে চান। জর্জেরও মনে হলো, এ কাজে তাঁর নিযুক্ত হওয়া উচিত। তার ডাকে অনেকে সাড়া দেবে, একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোর মাঝামাঝি সময়ে ওই কনসার্ট আয়োজন সময়োপযোগী ছিল।

    জর্জ তখন বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, ওস্তাদ আলী আকবর, ওস্তাদ আল্লা রাখা ও রবিশংকরকে নিয়ে কনসার্ট আয়োজন করে। ওই কনসার্ট দিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে জর্জের বন্ধন শুরু।’ জর্জ হ্যারিসন যখন দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তখন বিটলসের সহশিল্পীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না। তারপরেও তিনি সহশিল্পী ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কনসার্টে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান। বিটলসের ড্রামার রিঙ্গো স্টার রাজি হয়েছিলেন এক কথায়। বিল প্রেস্টন, লিওন রাসেলও প্রথমবারেই রাজি হয়েছিলেন।

    বব ডিলান ও এরিক ক্ল্যাপটনও প্রস্তাবটি বিবেচনার আশ্বাস দিলেন। কিছুটা অনিশ্চয়তার পর দুজনই অংশ নিয়েছিলেন। জর্জ হ্যারিসন অনুষ্ঠানে হাজার হাজার শ্রোতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুরুতেই বলেন, ‘ভারতীয় সংগীত আমাদের চেয়ে অনেক গভীর।’ তারপর পণ্ডিত রবিশংকর ও ওস্তাদ আলী আকবর খান এবং সহশিল্পীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তবলায় ছিলেন ওস্তাদ আল্লা রাখা এবং তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর বড় আকর্ষণ ছিলেন বব ডিলান ও জর্জ হ্যারিসন। অসাধারণ গিটার বাজিয়েছিলেন এরিক ক্ল্যাপটন। জর্জ হ্যারিসন আটটি গান গেয়েছিলেন। এর একটি ছিল বব ডিলানের সঙ্গে। বব ডিলান গেয়েছিলেন পাঁচটি গান।

    রিঙ্গো স্টার ও বিলি প্রেস্টন একটি করে গান করেছিলেন। লিওন রাসেল একটি একক এবং ডন প্রেস্টনের সঙ্গে একটি গান করেছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশনা ছিল জর্জ হ্যারিসনের সেই অবিস্মরণীয় গান ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, একটি কনসার্ট হবে।

    কিন্তু সেদিন এত বিপুল সাড়া জাগিয়েছিল কনসার্টটি যে পরে অনুষ্ঠানসূচি ঠিক রেখে, একই দিনে আরও একটি অনুষ্ঠান করতে হয়েছিল দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর। জর্জ, ১৯৭১ সালে আপনি আমাদের জন্য যা করেছেন আমরা তা ভুলবো না কোনদিন। আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, বাংলাদেশের মানুষের কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা সবসময়ই আপনার সাথে আছে।শেষ করি শ্মশ্রুমণ্ডিত হাস্যোজ্বল জর্জ হ্যারিসনের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে তাঁর দৃপ্ত কন্ঠে গাওয়া বাংলাদেশ গানটি দিয়ে।

    Bangladesh, Bangladesh Where so many people are dying fast And it sure looks like a mess I’ve never seen such distress Now won’t you lend your hand and understand? Relieve the people of Bangladesh.

    সম্পাদনা:- মুহাঃপলাশ চৌধুরী

  • দীপিকা-রণবীরের পার্টিতে কারিনাকে অপমান

    দীপিকা-রণবীরের পার্টিতে কারিনাকে অপমান

    বিয়ের পর শেষ পার্টি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন দীপিকা-রণবীর। রাজকীয় বিয়ের ছোঁয়া রেখেছিলেন সবকিছুতেই। এবারও তার বিপরীত কিছু হলো না। লাল গোলাপে সাজানো বড় গেট, দীপিকার ব্লাড রেড গাউন, রণবীরের জেট ব্ল্যাক স্যুট। কোথাও কোন কমতি ছিলনা।

    বলিউড থেকে শুরু করে ক্রীড়াজগতেরও অসংখ্য তারকারা উপস্থিত ছিলেন সেই পার্টিতে। একে একে সকল তারকারা এসে লাল গোলাপে বাঁধানো গেটের সামনে দাঁড়িয়ে পোজ দিচ্ছিলেন পাপারাৎজির ক্যামেরায়৷ রণবীর-দীপিকার রিসেপশন বলে কথা, মিডিয়ার নজর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

    কিন্তু এই গ্র্যান্ড পার্টি শুরু হওয়ার আগেই ঘটে গেল অঘটন। অঘটনের শুরু কারিনা কাপুর খান ও সাইফ আলি খানের প্রবেশের সময় থেকে। মিডিয়ার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেননি এই তারকা জুটি। সোনমের বিয়েতে কারিনা-সাইফের ফটো তোলা নিয়ে যেরকম সমস্যা শুরু হয়েছিল তেমনও কিছু ঘটেনি।

    সমস্যার কারণ হল কারিনার পোশাক। কারিনা এদিন পরেছিলেন একটি শিম্যরি ব্যাকলেস গাউন। যার পেছনের দিকটা একটু বেশিই কাটা৷ আর সেটাই হজম করতে পারল না সংবাদমাধ্যম। দীপিকা-রিণবীরের পার্টির ভিডিওতে পরিষ্কার শুনতে পাওয়া গেল তাদের কুমন্তব্য।

    কারিনা পোজ দেওয়ার পর পেছন ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন৷ সেই সময় দু-একজন বলে উঠল, “ইচ্ছাকৃত পেছন ঘুরে দাঁড়ালেন করিনা, যাতে ব্যাক দেখাতে পারে৷” তখনের সেই হইচইয়ের মধ্যে এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই কারিনা কিংবা সাইফ পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

    তবে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে কমেন্ট সেকশন৷ তাদের কথায়, ভারতীয় মিডিয়া যে কতটা নিম্নমানের তা প্রমাণ করে দিল। আজ যদি কোনও হিরো শার্টলেস হয়ে আসত তাহলে সকলে বাহবা দিত আজ একজন অভিনেত্রী ব্যাকলেস গাউন পরেছেন বলে এত সমস্যা।

  • যৌনকর্মীর গল্পে কাঁদলেন বিল গেটস

    যৌনকর্মীর গল্পে কাঁদলেন বিল গেটস

    এক যৌনকর্মীর গল্প শুনে কেঁদেছেলিন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস! গেটস ফাউন্ডেশনের কাজে বেশ কয়েকবার ভারতে এসেছেন বিল গেটস। মূলত এইডস প্রতিরোধ কর্মসূচিতেই আসেন তিনি। তেমনই এক কর্মসূচিতে গিয়ে এক যৌনকর্মীর গল্প শুনে কেঁদেছেন গেটস।

    ওই যৌনদাসীর মেয়ে আত্মহত্যা করেছিল। তার মেয়ের আত্মহত্যার কারণ ছিল- মেয়েটির স্কুলের বন্ধুরা তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করতো। এছাড়া তাকে একঘরে করে ফেলা হয়েছিল। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ওই মেয়েটি আত্মহত্যা করে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    গেটস ফাউন্ডেশনের এইচআইভি এইডস প্রতিরোধ কর্মসূচির প্রধান অশোক আলেকজেন্ডার বইটি লিখেছেন। বইটির নাম ‘অ্যা স্ট্রেঞ্জার ট্রুথ: লেসন্স ইন লাভ, লিডারশিপ, অ্যান্ড কারেজ ফ্রম ইন্ডিয়া’জ সেক্স ওয়ার্কার্স’।

    এই বইয়ে ভারতের যৌনকর্মীদের জীবনযাপন পদ্ধতি তুলে ধরেছেন অশোক। পাশাপাশি আরও বেশকিছু বিষয় আলোচিত হয়েছে এতে। অশোক আলেকজান্ডার লিখেছেন, ভারত সফরের সময় বিল গেটস বাইরের কোন বিষয়ে খুব একটা নজর দিতেন না। শুধু যৌনকর্মীদের সমস্যার কথা শুনতেন। তাদের বাড়ি গিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতেন সেগুলো।

    ২০০০ সালে ভারতে আসার পর এক যৌনকর্মী বিল গেটসকে বলেন, তিনি মেয়ের কাছে লুকিয়ে রেখেছেন তার আয়ের কথা। মেয়ে স্কুলে পড়ত। কিন্তু তার সহপাঠীরা একদিন জেনে যায় সে যৌনকর্মীর মেয়ে। এরপর থেকে প্রতিদিন স্কুলে তাকে নিয়ে ঠাট্টা করতো সহপাঠীরা। কেউ তাকে খেলতে নিতো না। একদিন ওই যৌনকর্মী বাড়িতে ফিরে দেখেন, মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। সে চিঠিতে লিখে গেছে, সহপাঠীদের বিদ্রুপ আর সহ্য হচ্ছে না।

    অশোক আলেকজান্ডার লিখেছেন, ওই যৌনকর্মী যখন মেয়ের গল্প বলছে, তখন আমি দেখলাম, বিল গেটস মাথা নিচু করে নিঃশব্দে কাঁদছেন। ভারতের যৌনকর্মীদের জীবন নিয়ে এই রকমই কিছু মর্মান্তিক সত্যি ঘটনা ফুটে উঠেছে এই বইতে। আনন্দবাজার।

  • ১৫ ঘণ্টা উড়ে এল দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার

    ১৫ ঘণ্টা উড়ে এল দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হলো বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত সম্পূর্ণ নতুন দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ হংসবলাকা। ড্রিমলাইনার নামে পরিচিত এই বোয়িং শনিবার রাতে এখানে এসে পৌঁছেছে। ১৫তম বিমান হিসেবে এটি জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যোগ হলো।

    বিমানের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বাসসকে জানান, ‘হংসবলাকা নামের নতুন বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল বোয়িং ফ্যাক্টরি থেকে বিমানটি টানা ১৫ ঘণ্টার উড্ডয়ন শেষে বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

    এর আগে ২৯ নভেম্বর বিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং কর্তৃপক্ষ সিয়াটলে বিমানের ডিরেক্টর ফ্লাইট অপারেশন ক্যাপ্টেন ফরহাত হাসান জামিলের কাছে নতুন এই বিমানটির মালিকানা হস্তান্তর করে।

    ড্রিমলাইনার হংসবলাকা ঢাকা থেকে লন্ডন, দাম্মাম ও ব্যাংকক রুটে চলাচল করবে।

    বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, ১০ ডিসেম্বর থেকে বিমানটি দিয়ে সপ্তাহে ঢাকা-লন্ডন রুটে ছয়টি ফ্লাইট, ঢাকা-দাম্মাম রুটে চারটি ফ্লাইট ও ঢাকা-ব্যাংকক রুটে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

    ৭৮৭-৮ বোয়িংয়ে ২৭১টি আসন রয়েছে। এটি অন্যান্য বিমানের চেয়ে ২০ শতাংশ জ্বালানিসাশ্রয়ী। বিমানটি ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে একটানা ১৬ ঘণ্টা চলতে সক্ষম।

    এর যাত্রীরা সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ফুট উঁচুতে ওয়াইফাই সেবা পাবেন। এতে করে যাত্রীরা বিমানে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে তাঁদের বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

    ড্রিমলাইনারের ওজন ২৯টি হাতির সমান
    ড্রিমলাইনার ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম। উড়োজাহাজের শব্দ কমাতে ইঞ্জিনের সঙ্গে শেভরন প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। বিমানটি নিয়ন্ত্রিত হবে ইলেকট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমে। কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় বিমান ওজনে হালকা। ভূমি থেকে বিমানটির উচ্চতা ৫৬ ফুট। দুটি পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট। এর মোট ওজন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬১৭ কিলোগ্রাম, যা ২৯টি হাতির সমান! এর ককপিট থেকে টেল (লেজ) পর্যন্ত ২৩ লাখ যন্ত্রাংশ রয়েছে।

    ড্রিমলাইনারে ২৭১টি আসনের মধ্যে ২৪টি বিজনেস ক্লাসের আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসের। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়কভাবে বিশ্রাম নিতে পারবেন। দু-দুপাশের প্রত্যেক আসনের পাশে রয়েছে বড় আকারের জানালা। একই সঙ্গে জানালার শাটার বন্ধ করা ও খোলা যাবে বোতাম টিপে। জানালা থেকে শুরু করে কেবিনেও রয়েছে মুড লাইট সিস্টেম। এর ফলে যাত্রীরা সহজেই পরিবর্তন করতে পারবেন লাইটিং মুড। দীর্ঘ ভ্রমণে যাত্রীরা যেন ক্লান্তি অনুভব না করেন, সে জন্য এয়ার কম্প্রেসর সিস্টেম অন্যান্য উড়োজাহাজের তুলনায় উন্নত।

    সব সময় ওয়াইফাই সুবিধা, স্ক্রিনে থ্রিডি ম্যাপ
    ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট (আইএফই) সেবা দিতে প্যানাসনিক এভিওনিকস করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিমান। প্রতিটি আসনের সামনে প্যানাসনিকের এলইডিএস-মনিটর রয়েছে। মনিটরে বিবিসি, সিএনএনসহ ৯টি টিভি চ্যানেল দেখা যাবে। ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমে থাকবে ১০০টির বেশি ক্ল্যাসিক থেকে ব্লকবাস্টার ছবি। বিমানের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত গেমসও আছে। ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। এ ছাড়া মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা থাকলে আকাশে উড্ডয়নের সময় কল করতে পারবেন। এ জন্য ২৫টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে করা হয়েছে চুক্তি। উড়োজাহাজটি যে স্থানের ওপর দিয়ে যাবে, যাত্রীদের সামনে তখন স্ক্রিনে দেখা যাবে থ্রি-ডি ম্যাপ। একই সঙ্গে উঠে আসবে সেই স্থানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

    এর আগে গত ১৯ আগস্ট বিমানের প্রথম ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ ঢাকায় আসে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ সেপ্টেম্বর বিমানটি উদ্বোধন করেন।

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন বিমান কেনার জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের চুক্তি করে। ইতিমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ৬টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ২টি ৭৩৭-৮০০ এবং ১টি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। বাকি তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের মধ্যে দ্বিতীয়টি বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে ১ ডিসেম্বর। চারটি ড্রিমলাইনারসহ সব উড়োজাহাজের নাম পছন্দ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

  • মুসলিম বন্ধুকে কিডনি দিয়ে বাঁচাতে আদালতে শিখ তরুণী

    মুসলিম বন্ধুকে কিডনি দিয়ে বাঁচাতে আদালতে শিখ তরুণী

    সহিংসতায় জরাজীর্ণ জম্মু ও কাশ্মিরে বন্ধুত্বের মর্মস্পর্শী নিদর্শন এটা। মরণাপন্ন মুসলিম বন্ধুকে বাঁচাতে মানবতার নতুন নজির তৈরি করলেন উধমপুরের ২৩ বছরের শিখ তরুণী মনজ্যোৎ সিংহ কোহলি।

    প্রাণের বন্ধু ২২ বছরের সমরিন আখতারকে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্তে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার নিজেরই পরিবার। অযথা দেরি করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    সে কারণে কিডনি দেওয়ার ছাড়পত্র জোগাড় করতে শেষ পর্যন্ত আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন শিখ তরুণী।

    ওই তরুণী সাংবাদিকদের বলেছেন, সমরিন আমার চার বছরের পুরনো বন্ধু। ও খুব ভালো বন্ধু হলেও ভেতরে ভেতরে এতটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তা জানায়নি আমাকে। অন্য একজন বন্ধু আমাকে বিষয়টি জানায়। আমার খারাপ সময়ে পাশে ছিল সমরিন। এখন ওর খারাপ সময়। তাই পাশে দাঁড়ানোটা আমার কর্তব্য। ওর অসুস্থতার কথা শোনার পরই আমি সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।

    এই কঠিন সিদ্ধান্ত তিনি সহজে নিয়ে ফেললেও বাকি কাজটা খুব একটা সহজ হচ্ছে না মনজ্যোতের কাছে। প্রথম বাধা এসেছে পরিবারের কাছ থেকে। কিন্তু তাতেও থামানো যায়নি ওই শিখ তরুণীকে। বন্ধুকে বাঁচানোর রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।

    তিনি জানান, কিডনি দিতে বাধা দিচ্ছে ‘শের-ই-কাশ্মির ইনস্টিটিউট বি মেডিক্যাল সায়েন্সেস’। অঙ্গদানের প্রাথমিক ছাড়পত্র পেলেও সেই প্রক্রিয়া কিছুতেই শুরু করছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই আমি আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    মনজ্যোতের কাছ থেকে বন্ধুত্বের এই উপহার পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন সমরিনও। তিনি জানান, মনজ্যোতকে ধন্যবাদ জানানোর কোনো ভাষা আমার জানা নেই। ওর কথা শুনে আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। তার পর সে আমাকে নিয়ে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। তার এই সিদ্ধান্তে পাল্টে গেল আমার গোটা জীবনটাই।

    আপাতত মনজ্যোতের চিন্তা, মেডিক্যাল ছাড়পত্র থাকলেও কিডনি দান করা কেন যাচ্ছে না, তা নিয়ে। কারণ, এই টালবাহানায় আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে সমরিনের শরীরের অবস্থা। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন ‘শের-ই-কাশ্মির ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস’-এর অধিকর্তা ওমর শাহ।

    কোনো কোনো মহলের মতে, একজন শিখ তার মুসলিম বন্ধুকে কিডনি দিচ্ছেন, তা মেনে নিতে পারছেন না চিকিৎসকদের একাংশ। সে কারণে আগ বাড়িয়ে বাধা তৈরি করছেন তারা।

    কেউ আবার বলছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অনুমতি না মেলাতেই অঙ্গদান করতে দেওয়া হচ্ছে না মনজ্যোতকে। যদিও সে সবে গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি।

    তিনি বলেন, আমি জানি, আমার পরিবার হাসপাতালে নোটিস পাঠিয়েছে। তারা কোনো দিনই অনুমতি দেবে না। কিন্তু আমি এক জন প্রাপ্তবয়স্ক। আমার পরিবারের অনুমতি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

  • স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি জামায়াত শিবির ও হেফাজত

    স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি জামায়াত শিবির ও হেফাজত

    মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত এক প্রস্তাবে জামায়াত ইসলামী , ইসলামী ছাত্রশিবির ও হেফাজতে ইসলামকে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে থামাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধিসভায় গত ২০ নভেম্বর প্রস্তাবটি এনেছেন ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি জিম ব্যাঙ্কস। প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তা পাঠানো হয়েছে প্রতিনিধিসভার পররাষ্ট্র-বিষয়ক কমিটিতে।

    ‘বাংলাদেশে ধর্মের নামে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলোর কারণে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সৃষ্ট হুমকির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ’ শীর্ষক উত্থাপিত ওই প্রস্তাবে গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন এবং তাদের সঙ্গে অংশীদারি বন্ধ করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    ওই প্রস্তাবের চারটি দফার প্রথমটিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের প্রতি জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও হেফাজতে ইসলামের মতো কট্টর গোষ্ঠীগুলোর হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে এসব গোষ্ঠীগুলোকে থামাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তৃতীয় দফায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধকে গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি। চতুর্থ দফায় জামায়াত, শিবির ও হেফাজতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন এবং তাদের সঙ্গে অংশীদারি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য উল্লেখ করে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গত জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি,জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। তাদের হামলায় হিন্দুদের ৪৯৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিন্দুদের ৫৮৫টি দোকানে হামলা বা লুট হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙচুর হয়েছে ১৬৯টি মন্দির।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সম্প্রতি হামলার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত। এ ছাড়া বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও আহমদিয়া মুসলমানদের ওপর ধর্মীয় উগ্রবাদীরা হামলা চালিয়েছে। হেফাজতে ইসলাম অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে পুরোপুরি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে আন্দোলন চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে। এতে বলা হয়েছে, দাবি মানা না হলে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদের হুমকি দিয়েছে হেফাজত।

  • প্রিন্স সালমান ও পুতিনের ‘হাই-ফাইভ’ বিনিময়

    প্রিন্স সালমান ও পুতিনের ‘হাই-ফাইভ’ বিনিময়

    আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এয়ারসে শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রভাব প্রতিপত্তিশীল ১৯ দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের নিয়ে গঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে গিয়ে আধুনিক স্টাইলে ‘হাই-ফাইভ’ বিনিময় করেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মোহাম্মদ বিন সালমান।

    শুক্রবার জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের প্লিনারি সেশনে তারা পাশাপাশি আসনে বসেছিলেন এই ‘হাই-ফাইভ’ বিনিময়ের পাশাপাশি মন খুলে হাসি-আড্ডায় মেতে উঠেন। খবর- বার্তা সংস্থা রয়টার্স’র।

    এর আগে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

    সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগি অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে হত্যার শিকার হন। সেই হত্যাকাণ্ডে ক্রাউন প্রিন্স জড়িত থাকতে পারেন বলে সংশয় রয়েছে। এ ওই সম্মেলনে ক্রাউন প্রিন্সের দিকে বাঁকা চোখে তাকাচ্ছেন অন্য নেতারা। কিন্তু তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশ করলেন পুতিন।

  • বিএনপির ভোটে আসা অপ্রত্যাশিত: হাউস অব কমন্স

    বিএনপির ভোটে আসা অপ্রত্যাশিত: হাউস অব কমন্স

    বাংলাদেশের নির্বাচন পরিস্থিতি সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর ধারে-কাছেও নেই বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্স। এক প্রতিবেদনে হাউস অব কমন্স এই মন্তব্য করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নিচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন তীব্র রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণকে অপ্রত্যাশিত বলছে হাউস অব কমন্স।

    বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন পরিস্থিতি সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের এই প্রতিবেদন ‘রিসার্চ ব্রিফিং’ নামে পরিচিত। দেশটির এমপিদের অবগতির জন্য এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এতে গত বুধবার বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এক রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও স্থান পেয়েছে।

    ১৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে কোনো পর্যবেক্ষক দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, ইইউ’র এমন সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি দেওয়া হয় যে, আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে ইইউ দুই সদস্যের ‘এক্সপার্ট মিশন’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে কমনওয়েলথ এখনো কিছু বলেনি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের আয়োজনসহ কোনো দাবি পূরণ না হওয়া স্বত্বেও বিএনপি অপ্রত্যাশিতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এর ফলে নির্বাচন তুলনামূলক বিশ্বাসযোগ্য হবে। কিন্তু ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিতের বিষয়টি অনেক দূরে।

    নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বহু আগ থেকেই যে বিরোধীদের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে—সেই প্রসঙ্গটিও বাদ যায়নি প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন’ (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। বিএনপি এর বিরোধিতা করে আসছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিয়মের প্রতি (রুলস অব গেইম) সার্বিক আস্থার মাত্রা তলানিতে রয়ে গেছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রচারকালে বা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপর সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা শুরু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার বলেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনের ১৫ দিন আগে সেনা নামবে।

    হাউস অব কমন্সের এই প্রতিবেদনে বিএনপির দাবি-দাওয়া, খালেদার মামলা ও সাজা, সংলাপের আয়োজনসহ সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে। দলগুলোর আদর্শিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে বিএনপি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকে স্বাগত জানিয়েছে। এর বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির জোরালো দাবিদার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সম্প্রতি রক্ষণশীল ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সখ্য। এ অবস্থা উল্টো পথে মোড় নেওয়ার মতো।

    এ ছাড়া এই প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। আছে কোটা বিরোধী আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে পুলিশি বলপ্রয়োগ এবং ছাত্রলীগের হামলার প্রসঙ্গও। প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে এক শ দিনের বেশি কারাবন্দী রাখার বিষয়টিও আছে প্রতিবেদনে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন চেষ্টায় বাধা পড়ার বিষয়ে আছে বিস্তারিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী-জঙ্গি উৎপাতের ঘটনা কমলেও ঝুঁকি শেষ হয়ে যায়নি।