Category: আন্তর্জাতিক

  • ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলেন খাশোগির বাগদত্তা

    ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলেন খাশোগির বাগদত্তা

    সৌদির নিহত সাংবাদিক জামাল খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিজ হোয়াইট হাউজ সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    তিনি বলেছেন, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প মোটেই আন্তরিক নন এবং এ কারণে তিনি এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। খবর পার্সটুডের।

    শুক্রবার তুরস্কের হাবেরতুর্ক টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে খাশোগির বাগদত্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনমতকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে তাকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

    খাদিজার সঙ্গে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে নিহত হন জামাল খাশোগি। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে অন্তত চারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে রিয়াদ সম্প্রতি স্বীকার করেছে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে।

    তবে এ ঘটনায় রাজপরিবারের জড়িত থাকার কথা এখনও অস্বীকার করে যাচ্ছে রিয়াদ। যদিও তুরস্কের তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি যুবরাজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগী এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন।

    কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মনে করছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘হয়তো’ এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তিনি সৌদি আরবের কাছে ১১০ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রির চুক্তি বাতিল করতেও অনীহা প্রকাশ করেছেন।

    এ অবস্থায় খাশোগির বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিজ শুক্রবার তুর্কি টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কান্নারত অবস্থা বলেন, সৌদি সরকার খাশোগিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে বলে সামান্যতম ধারণা পেলেও তিনি তাকে ওই কনস্যুলেটে যেতে দিতেন না।

    তিনি বলেন, শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত যারাই এ পাশবিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছে তাদের সবার বিচার করে শাস্তি দিতে হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে খাদিজা আরও বলেন, কোনও সৌদি কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। সৌদি আরবে যদি কখনও খাশোগির লাশ পাওয়া যায় তাহলে তিনি তার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে দেশটি সফরে যাবেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সে সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দেন।

  • জিম্বাবুয়েকে টাইগারদের হোয়াইট ওয়াশ

    জিম্বাবুয়েকে টাইগারদের হোয়াইট ওয়াশ

    তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করল টাইগাররা। কায়েস-সৌম্যর দুর্দান্ত সেঞ্চুরির উপর ভর করে এ জয় পায় তারা।

    জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

    আজ শুক্রবার তৃতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রামের জহুর আহম্মেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হয় ম্যাচটি। ব্যাট হাতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৫ উইকেটের বিনিময়ে ২৮৬ রান। জবাবে কায়েস-সৌম্যর দুর্দান্ত সেঞ্চুরির উপর ভর করে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ।

  • দিল্লীতে শিল্পকর্মে দি অ্যাসিভার বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাজশাহীর সোমা

    দিল্লীতে শিল্পকর্মে দি অ্যাসিভার বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাজশাহীর সোমা

    ভারতের দিল্লীর কালারার ফাউন্ডসন আয়োজিত শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে এবার দি অ্যাসিভার বেস্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাজশাহীর চিত্রশিল্পী নারগিস পারভীন সোমা। পুরস্কারপ্রাপ্ত তার চিত্রকর্মটির শিরোনাম ছিলো ‘ওম্যান লাইফ’।

    কালারার ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার জয়া আরোরা গত বুধবার রাতে দিল্লীর র‌্যাডলেন্স মোটেলে এশিয়া গ¬মার ফ্যাশান শো অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন নারগিস পারভীন সোমার হাতে। সোমা ষড়ং আট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজশাহী আর্ট কলেজের প্রভাষক।

    সোম জানান, ১৯ অক্টোবর থেকে গোয়ার গ্যালারি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে শুরু হওয়া চিত্র প্রদর্শনী শেষ হয় ২২ অক্টোবর। এই প্রদর্শনীতে নার্গিস সোমা ছাড়াও নেপাল, জাপান, নেদারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের ৮৪ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। এই ৮৪ জনের ৮৪টি শিল্পকর্মের ভেতরে ১৮ জনকে বেস্ট পেইন্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে রাজশাহী আর্ট কলেজের প্রভাষক নারগিস পারভীন সোমা একজন।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রদর্শনীতে বেস্ট নিরিখা পুরস্কার দিয়ে মূলত যাত্রা শুরু তার। দেশের বাইরে প্রথম জাপানে তারপর ইন্ডিয়ার বিভিন্নস্থানে যেমন কেরেলা, দিল্লী, আহমেদাবাদ, শিমলা, নেপাল, মুম্বাইয়ে নারীর জীবন সংগ্রামের ছবির উপর পুরস্কার পেয়েছেন সোমা। এ পর্যন্ত নারীর জীবন সংগ্রাম বিষয়ক ২৬টি ছবি এঁকেছেন তিনি। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক একাধিক পুরস্কারও।

  • কেবল মক্কা আর মদিনা ছিল দৃশ্যমান,আর পৃথিবীর বাকি সবই ছিল অন্ধকার: সুনিতা উইলিয়াম

    কেবল মক্কা আর মদিনা ছিল দৃশ্যমান,আর পৃথিবীর বাকি সবই ছিল অন্ধকার: সুনিতা উইলিয়াম

    মহাকাশ অঙ্গনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সম্পর্কে সুনিতা উইলিয়াম নিজেই বলেছেন যে, ‘আমি যখন পৃথিবী থেকে প্রায় ২৪০ মাইল উপরে উঠলাম, তখন পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে পৃথিবীপৃষ্ঠে দুটি তারা (আলো) দেখতে পেলাম।

    এর পর একটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে আলো দুটি দেখার চেষ্টা করলে দেখি, একটি আলোর অবস্থান মক্কায় আর অন্যটি মদিনায়। এই দৃশ্য দেখার পর আমি প্রচণ্ডভাবে অভিভূত হই এবং তখনই ইসলাম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিই। পরে ইসলাম গ্রহণ করে ফিরে এসে।

    একটি নভোযান পাঠানো হলো বরাবরের মতোই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা থেকে। ২০০৬ সালের কথা। যে অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশের খোঁজখবর সংগ্রহ করাই।

    অন্য গবেষকদের সঙ্গে সে নভোযানে অবস্থান করছিলেন সুনিতা উইলিয়াম। মহাকাশ গবেষণাযানটি যখন পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ২৪০ মাইল উপরে, হঠাৎ নিচের দিকে চোখ আটকে যায় সুনিতার। পৃথিবী পৃষ্ঠে তারার মতো তিনি দুটি আলো জ্বলতে দেখলেন।

    তখন চিন্তায় পড়ে গেলেন সুনিতা; ভাবলেন, পৃথিবীপৃষ্ঠে তো কোনো আলোকশিখা থাকার কথা নয় এভাবে জ্বলে থাকার মতো। সঙ্গীদের ডেকে দেখালেন এবং টেলিস্কোপের সাহায্যে আলো দুটিকে নির্ণয় করার চেষ্টা চালালেন।

    তবে এই আলোকরশ্মি দুটি কি? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হলো সুনিতার। আরো কাছে, আরো পরিষ্কারভাবে দেখলেন, আলো দুটির কেন্দ্রস্থল পৃথিবীর মক্কা ও মদিনা। মহাকাশমুখি এই আলোকরশ্মি দুটি বিকিরিত হচ্ছে মক্কা শহরের কেন্দ্রস্থল ও মদিনা শহরের কেন্দ্রস্থ থেকে।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুনিতা উইলিয়াম ১৯৬৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ায়ো অঙ্গরাজ্যের ‘ইউক্লিডে’ জন্মগ্রহণ করেন। বাবা দীপক পাণ্ডে ও মা বনি পাণ্ডে উভয়ই ছিলেন ভারতীয় হিন্দু।

    সব জল্পনা-কল্পনা এবং সন্দেহ-কানাকানির ইতি টেনে গত রমজান মাসে ওমরাহ পালন করতে এসে নিজের মুসলমান হওয়ার ঘোষণা দিলেন সুনিতা উইলিয়াম এবং গর্ব করে বললেন, ‘আমি এখন একজন মুসলমান, এটা ভাবতেই আমার ভালো লাগছে।

    নাসার প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক সুনিতার ইসলাম গ্রহণ করা বিষয়ে তাঁকে চেনেন বা জানেন এমন অনেকের মন্তব্য ছিল অনেকটাই এরকম- ‘আর কারো পক্ষে সম্ভব হলেও সুনিতার পক্ষে এটা কখনো সম্ভব নয়। কারণ সে ছিল ইসলাম বিদ্বেষী’।

    আর আমি এখন একজন মসলমান।’ ইসলাম গ্রহণ করা নিয়ে শত জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে ওমরাহ পালন করতে আসা সুনিতা উইলিয়াম জেদ্দার হোটেল হিলটনে বসে এভাবেই ব্যক্ত করছিলেন তাঁর ইসলাম গ্রহণ করার কাহিনী।

    সাংবাদিকদের শোনাচ্ছিলেন তাঁর মুসলমান হওয়ার রোমাঞ্চকর গল্প। এ সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করার নেপথ্যে থাকা ঘটনা ব্যক্ত করার পাশাপাশি উত্তর দেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও।

    যে দেশে কোন মসজিদ নেই, গোপনে নামাজ পড়েন মুসলমানেরা!

    ‘জানেন এই থিম্পুতে ৯টি গির্জা আছে। অথচ কোনো মসজিদ নেই। আমরা মুসলমানেরা তো কম নই। আপনি মিডিয়ার লোক। যদি পারেন ভুটানে মসজিদ নেই এ বিষয়ে কিছু একটা করেন।’ ক্ষোভের সাথে কথাগুলো বলছিলেন হাজী আবদুল কাদের। ভারতের বিহারের এই মুসলমান বিয়ে করেছেন ভুটানি এক মহিলাকে।

    থাকেন থিম্পুতে। গোশত আর মাছের ব্যবসা আছে তার। থিম্পুর কক টাওয়ারসংলগ্ন নারজিন ল্যাম সড়কে তার গোশতের দোকান। ভারতের ব্যাঙ্গালুর থেকে গরুর হালাল গোশত আমদানি করে বিক্রি করেন থিম্পুতে। থিম্পুতে একমাত্র ওই দোকানেরই এক অংশে নামাজ ঘর বানিয়েছেন তিনি।

    ছোট পরিসরের এই রুমেই হয় জুমার নামাজ। পায়ের ব্যথার জন্য থিম্পু ইমটাটে ভারতীয় গ্রিফ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকা নামাজ ঘরে যেতে পারেন না তিনি। তাই ১২-১৩ বছর আগে বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই নামাজ ঘর বানিয়েছেন তিনি। এই নামাজ ঘরের মুসল্লিরা আবার হাতেগোনা ৩০-৩৫ জন। শুধু জুমার নামাজই পড়ার সুযোগ পান এখানে।

    মুসল্লিরা সবাই ভারত থেকে থিম্পুতে রুটি-রুজির জন্য আসা নিম্ন আয়ের গরিব মুসলমান। অন্যদের এখানে নামাজ পড়তে দিতে চান না আবদুল কাদের। তাকে দেয়া অনুমতির খবর জানাজানি হলে যদি ঝামেলা পোহাতে হয়। ভারতীয় মুসলমান আজিবর, রিপন শেখদের দেয়া তথ্য, ‘ভুটানে কাজ করা ভারতীয় শ্রমিকদের ৯০ শতাংশই মুসলমান’।

    এই নামাজ ঘরের ছবি তুলতে গেলে ভীষণ আপত্তি এই মুসলমানদের। ‘ভাই আপনি যদি ছবি তোলেন এবং তা জানাজানি হয়ে যায় তাহলে এখানে আমাদের নামাজ পড়াই বন্ধ হয়ে যাবে।’ অনুরোধ নামাজিদের। এর পরও নিউজের প্রয়োজনে একটি ছবি তুলেছি।

    ২০১৩ সালে বিজেএমসি ফুটবল দলের সাথে ভুটান সফরের সময় এই হালাল গোশতের দোকানের সন্ধান পেয়েছিলাম ভারতীয় এক মুসলমানের কাছ থেকে। তখন জানতাম না এখানে যে নামাজ হয়। সে সময় থিম্পুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন তথ্য দিয়েছিলেন, ‘এখানে প্রকাশ্যে নামাজ পড়া নিষেধ। বাংলাদেশ দূতাবাসে আমরা জুমার নামাজের ব্যবস্থা করলেও পরে ভুটান সরকারের নির্দেশে তা বন্ধ করতে হয়।

    ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যাচ কভার করতে থিম্পুতে গিয়ে হোটেল গাসেলের কর্মচারী মইনুলের কাছে জানতে পারি থিম্পুতে বাংলাদেশীরা এক জায়গায় জুমার নামাজ পড়েন। সে স্থানকে মইনুলরা নাম দিয়েছেন ‘বাংলাদেশ’।

    সময় স্বল্পতায় মইনুল সেখানে নিয়ে যেতে পারেননি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল কভার করতে গিয়ে এই গোশতের দোকান কাম নামাজ ঘরের সন্ধান পাই। কিন্তু আমাকে সেখানে জুমার নামাজ পড়ার অনুমতি প্রথমে দিতে চাইছিলেন না হাজী কাদের। কারণ আমি বিদেশী। এসেছি বাংলাদেশ থেকে। কিছুক্ষণ পর অবশ্য দিলেন সবুজ সঙ্কেত।

    কিন্তু পরদিন আসরের নামাজ পড়তে গেলে বাধা দেন আবদুল কাদের। শেষ পর্যন্ত অনুরোধের সূরে বললেন, ‘ভাই দয়া করে আপনি আর এখানে নামাজ পড়তে আসবেন না। আজ পড়ে যান। এর পর থেকে আপনার হোটেলেই নামাজ আদায় করে নেবেন।’

    নেপথ্য উল্লেখ করলেন, ‘আপনি বাইরের লোক। আপনি এখানে নামাজ পড়তে আসেন এটা জানাজানি হয়ে গেলে আমি খুব সমস্যায় পড়ে যাবো। বিশেষ অনুমতি নিয়ে আমি এখানে নামাজের ব্যবস্থা করেছি। আমরা কয়েক জনের জন্য।’

    এরপর কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে তার অসহায় আত্মসমর্পণ, জানেন এভাবে কতজনকে যে আমি এখানে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছি। এতে অনেক পাপ হয়েছে আমার। কিন্তু কী করব। আমি যে নিরুপায়। এখন আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করলেই হলো।

    ২০১৭ সালে ভারতের কুচবিহার থেকে আসা ইমাম মুর্শিদে আলমের ইমামতিতে জুমার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছিল। ২০১৮ সালের আগস্টে ইমাম হিসেবে পেয়েছি নজরুল ইসলামকে। অক্টোবরে আর নজরুলকে পাইনি।

    তাকে নতুন করে ভুটানে কাজের অনুমতি দেয়নি ভুটান সরকার। তাই ফিরে গেছেন ভারতে। ৮-৯ বছর আগে নজরুলকে ভুটানি পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল এখানে নামাজ পড়ার জন্য। ফলে এর পর থেকে তারা গোপনে শুধু জুমার নামাজ পড়ে এই গোশতের দোকানে। আগে এখানে খতম তারাবিও হতো। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।

    ভুটানে প্রাণী জবাই করা নিষেধ। ফলে কোরবানি দেয়ার জন্য ভারতীয় মুসলমানেরা চলে যান তাদের দেশে। অবশ্য ভুটানে গরু, ছাগল, মহিষ জবাই নিষিদ্ধ হলেও এর গোশত খেতে কোনো সমস্যা নেই। তাই ভারত থেকে জবাই করা এসব প্রাণীর গোশত আমদানি করা হয়। সাধারণ শ্রমিকের কাজও করে না ভুটানিরা। এই শ্রমিকও ভারতের। এতে ভুটানিদের টাকা চলে যায় প্রতিবেশী দেশটিতে। এখন তা বুঝতে পারছে ভুটানিরা।

    কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার দেশ ভুটান। রাস্তায় কোনো গাড়ি হর্ন বাজায় না। জেব্রা ক্রসিংয়ে মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকলে দেখলে গাড়ির ড্রাইভাররা থামিয়ে দেন গাড়ি। জনগণ নির্বিঘেœ পারাপার করেন রাস্তা।

    কেউ জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পার হলে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে অর্থদণ্ড দিতে হয়। প্রকাশ্যে ধূমপান নিষেধ। মদপানে বেশ এগিয়ে ভুটানিরা। কিন্তু তা করতে হয় নির্দিষ্ট স্থানে। ভুটানের প্রতিটি দোকানই যেন একটি মিনিবার।

    কোনো চোর ডাকাত নেই। রাস্তায় গাড়ি রেখে রাতে বাড়ি চলে যান স্থানীয়রা। সবাইকে অবশ্য গাড়ি রাখার জন্য পয়সা দিতে হয় সরকারের ভাণ্ডারে। সবার জন্য গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা আছে। থিম্পুর গাসেল হোটেলের মালিক সনম জানান, ‘আমরা ভুটানিরা চোর নই। চুরি চামারির ঘটনা ঘটায় ভারত থেকে আসা লোকেরা।’

    ভুটানিরা যে সৎ এর প্রমাণও মিলল। থিম্পুর চাংলিমাথান স্টেডিয়ামের গ্যালারির এক কোণায় ব্যাগ রেখে অন্যত্র গিয়ে দেখলাম কেউ আমার ব্যাগটি ছুঁয়েও দেখেনি। এবার সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলের ফাইনালের দিন ভুটানে কর্মরত বাংলাদেশী নাশিদ ভুল করে গ্যালারিতে তার ছাতা রেখে চলে চান। এক ঘণ্টা পর ফিরে এসে নির্দিষ্ট স্থানেই পান তার ছাতাটি। কেউ নেয়নি। মোটামুটি লেখাপড়া জানা সব ভুটানিই ভালো ইংরেজি জানেন। জাতি হিসেবে বেশ ভদ্র।

    ২০০২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছয়বার ভুটান সফরে তাদের এমনই পেয়েছি। তবে এখন দেশটির যুবসমাজ পর্নোগ্রাফি ও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পরিসংখ্যানে তা ধরা পড়েছে। জানান স্থানীয় কুইনসেল পত্রিকার সাংবাদিক সনম ছোডেন। মিডিয়ার অবশ্য কোনো স্বাধীনতা নেই।

    সরকার বা আমলাদের বিরুদ্ধে কোনো নিউজ হলে চাকরি হারাতে হয় ওই সাংবাদিককে। তবে নাগরিকদের লেখাপড়া ও চিকিৎসা ফ্রি। সরকারি খরচেই তাদের লেখাপড়া ও চিকিৎসা। ভুটানে ডাক্তারদের প্রাইভেট চিকিৎসা নিষিদ্ধ। সবাইকে কাজ করতে হয় সরকারি হাসপাতালে।

    রাজাকে তারা খুব সম্মান করেন। নীতি ও নিষ্ঠাবান রাজা খুবই জনপ্রিয়। এত নিয়ম মানা দেশে মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য কোনো মসজিদ থাকবে না তা মেনে নেয়া কষ্টকর। মূলত বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে স্থানীয় মুসলমানের সংখ্যা খুব কম। তারা ভয়ে মুসলমান হিসেবে পরিচয়ও দিতে চান না।

    জানান ভারতীয় মুসলমান মুহাম্মদ হোসেন। পর্যটক হিসেবে আসা মুসলমানদের নামাজ সারতে হয় হোটেলে বা ঘরে। অবশ্য এবার বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর শাবাব বিন আহমেদ জানান, আগে কী হয়েছে তা আমি জানি না। তবে আমরা এখন দূতাবাসে নামাজের ব্যবস্থা করেছি।

    জুমার নামাজও হয় সেখানে। রাষ্ট্রদূত জিষ্ণু রায় চৌধুরী জানান, মাঝে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ ছিল বাংলাদেশ দূতাবাসে। তবে এখন যারা নামাজ পড়তে আসেন তাদের গেটে নাম ঠিকানা লিখে এরপর নামাজ পড়তে আসতে হয়।’ গাড়ির গ্যারেজে জুমা ও ঈদের নামাজের ব্যবস্থা।

    দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, নতুন যে স্থানে বাংলাদেশ দূতাবাস নির্মাণ করা হবে সেখানে নামাজের জন্যও নির্দিষ্ট স্থান থাকবে।

    ভুটানে অবস্থানরত ভারতীয় মুসলমানেরা এখন তাকিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের দিকে। বাংলাদেশ দূতাবাস যদি একটি মসজিদ বানায় তাহলে তাদের নিয়মিত নামাজের একটি জায়গা হবে। ভারত থেকে আসা বর্ষীয়ান আবদুল হাকিমের মতে, ভুটান সরকারের সাথে চমৎকার সম্পর্ক বাংলাদেশের।

    এখন বাংলাদেশ সরকার যদি একটু জোর চেষ্টা চালায় তাহলে আমরা ভুটানে একটি মসজিদ পাবো নামাজের জন্য।’ তিনি ও আবদুল কাদের জানালেন, ‘ভুটানের ততীয় রাজা আগে ঈদের নামাজের সময় শুভেচ্ছা জানাতে আসতেন। তিনি আশ্বাসও দিয়েছিলেন মসজিদের জন্য জায়গা দেয়ার। পরে তা আর হয়নি।’

    বিশ্বের প্রায় সব দেশের রাজধানীতেই মসজিদ আছে। অথচ ব্যতিক্রম ভুটান। পুরো দেশের কোথাও নামাজের জায়গা নেই। কেন মসিজদ নির্মাণ করতে দেয়া হচ্ছে না। স্থানীয় ভুটানিদের মতে, মসজিদ নির্মাণ হলে তা হবে ইসলামের একটি সেন্টার। এতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভুটানিরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে যাবে। এ আতঙ্কেই মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয়া।

  • কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

    কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

    ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার দিল্লিতে একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভ থেকে তাকেসহ বিরোধী অনেক প্রবীণ নেতাকে আটক করে পুলিশ।

    এনডিটিভি খবর দিয়েছে, দিল্লিতে ক্রাইম ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিশাল এক প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে বিরোধী দলগুলো।

    মোদি প্রশাসন প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাধা দিচ্ছে বলে দাবি করেন বিরোধী নেতারা।

    সিবিআই প্রধান অলোক বর্মার অপসারণের প্রতিবাদে সকালে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস মিছিল বের করে। মিছিলটিকে সিবিআই সদর দফতরের ৫০০ মিটার দূরেই আটকে দেয় পুলিশ।

    পরে লোধি রোড পুলিশ থানায় গিয়ে প্রতীকী গ্রেফতার বরণ করেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সভাপতির মতোই প্রতীকী গ্রেফতার বরণ করেন অশোক গেহলট, প্রমোদ তিওয়ারি, আহমেদ প্যাটেলের মতো প্রবীণ নেতারা।

    এদিন টুইট করে কংগ্রেস সভাপতির আটকের খবর দেন দলীয় নেতা রণদীপ সুর্যওয়াল। তিনি লেখেন, সিবিআই সদর দফতরের বাইরে রাহুল গান্ধীসহ যেসব কংগ্রেস নেতারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাদের আটক করা হয়েছে।

    শুক্রবার গোটা দেশেই কংগ্রেস কর্মীরা সিবিআই দফতরের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। কিন্তু, দিল্লিতে কংগ্রেসের বিক্ষোভে রাহুল গান্ধীর যোগদান তাতে অন্যমাত্রা এনে দেয়। কংগ্রেস কর্মীরা আরও উজ্জীবিত হয়ে যায়।

    আন্দোলনের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন রাহুল। সিবিআই কর্মকর্তার অপসারণ নিয়ে মোদিকে খোঁচা মেরে তিনি বলেন, ‘চৌকিদার, চোর হ্যায়।

    এদিন কংগ্রেস কর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সিবিআই সদর দফতরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে বাধা দেয় পুলিশ৷ পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর রাহুলকেও উঠে পড়তে দেখা যায়।

    পরে রাহুল সেখানেই বসে পড়েন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি দেশের সব সংস্থাকে ধ্বংস করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

  • টাইগারদের ২৮৭ রানের টার্গেট দিল জিম্বাবুয়ে

    টাইগারদের ২৮৭ রানের টার্গেট দিল জিম্বাবুয়ে

    জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আজ শুক্রবার তৃতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রামের জহুর আহম্মেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হয় ম্যাচটি। ব্যাট হাতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৫ উইকেটের বিনিময়ে ২৮৬ রান।

    এদিন ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে তৃতীয় বলেই জিম্বাবুয়ের ওপেনার চিপহাস জুহওয়াওকে বোল্ড করে প্রথম উইকেট তুলে নেন টাইগার অলরাউন্ডার সাইফুদ্দিন। তৃতীয় ওভারেই সবচেয়ে বড় শিকার ধরেন এই সিরিজে প্রথম সুযোগ পাওয়া আবু হায়দার রনি। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে বোল্ড করে সাজ ঘরে ফেরান তিনি।

    মাত্র ৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়েকে টেনে তুলেন ব্র্যান্ডন টেইলর-শন উইলিয়ামস জুটি। ৭২ বলে ৭৫ রান করে নাজমুলের ঘূর্ণিতে মুশফিকুর রহিমের তালুবন্দী হন টেইলর। এর আগে ৩টি ওভার বাউন্ডারি ও ৮টি বাউন্ডারি মেরে দলকে বিপদমুক্ত করেন তিনি।

    অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান টেইলরের বিদায়ের পর উইলিয়ামসকে দারুন সঙ্গ দিতে থাকা সিকান্দার রাজাকেও (৪০) সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত করেন অপু। ২২২ রানে চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে জিম্বাবুয়ের।

    পরে দলীয় ২৮৪ রানে রান আউটের শিকার হন পিটার মুর।

  • সৌদি কনস্যুলেট ভবনেই হত্যা করা হয় খাশোগিকে : এরদোগান

    সৌদি কনস্যুলেট ভবনেই হত্যা করা হয় খাশোগিকে : এরদোগান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেছেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে পূর্ব পরিকল্পিত ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিজ দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্যদের সামনে মঙ্গলবার এ কথা বলেন তিনি।

    এরদোগান বলেন, তুরস্কের কাছে জোরালো প্রমাণ রয়েছে যে, গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুল শহরের সৌদি কনস্যুলেট ভবনে অত্যন্ত নির্মাভাবে খাশোগিতে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার কয়েকদিন আগেই এ নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, সন্দেহভাজনদের ১৮ ব্যক্তিকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে এবং তাদের সবার বিচার তুরস্কের মাটিতে হতে হবে। খাশোগির লাশ কোথায় রাখা হয়েছে এবং কে তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন- সৌদি আরবের কাছে তার জবাব দাবি করেন এরদোগান।

    তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে সৌদি আরব থেকে ১৫ জন নাগরিক আলাদা বিমানে করে তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে তুরস্কে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের আগে এসব গ্রুপের কয়েকজন সদস্য কনস্যুলেট ভবনের পাশে ‘বেলগ্রেড জঙ্গল’ পরিদর্শন করে। এছাড়া, কনস্যুলেট ভবনের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করা হয়েছিল।

    শুধু তাই নয়- খাশোগির চেহারার মতো এক ব্যক্তিকে খাশোগি সাজিয়ে কনস্যুলেট ভবন ত্যাগের দৃশ্য রেকর্ড করেছেন সৌদি কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে সৌদি কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে খাশোগি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।

    এরদোগান বলেন, সৌদি আরব থেকে আসা ১৫ ব্যক্তি ও সৌদি কনস্যুলেটের তিন কর্মকর্তাকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি সন্দেহভাজন মনে করেন।

  • মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর ‘রান না পাওয়া’ নিয়ে চিন্তিত পাপন

    মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর ‘রান না পাওয়া’ নিয়ে চিন্তিত পাপন

    টাইগারদের ব্যাটিং বিপর্যয়ে কেউ না কেউ এসে হাল ধরা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তবে বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের রান না পাওয়া নিয়ে চিন্তিত তিনি।

    জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরেজের প্রথম ম্যাচ শেষে ম্যাচ পরবর্তী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথনে তিনি এসব কথা বলেন।

    ম্যাচটি জিতলেও বাংলাদেশ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে একটা পর্যায়ে। দলের ডিফেন্ডেবল ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাতি থাকলেও এদিন দলের বিপদের মুখে ম্যাচের হাল ধরতে ব্যর্থ হন টাইগারদের অন্যতম সেরা দুই তারকা মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এটাই ভাবিয়ে তুলেছে নাজমুল হাসান পাপনকে।

    বিবিসি সভাপতি অবশ্য মুশফিক ও রিয়াদের অবদান স্মরণ করতে ভুলে যাননি। তার মতে, দলের ডিফেন্ডেবল ব্যাটসম্যানের মধ্যে অন্যতম মুশফিক ও রিয়াদ। কিন্তু সাকিব ও তামিমের অনুপস্থিতে মুশফিক-রিয়াদের রান না পাওয়াটা আমাদের দুঃশ্চিন্তায় ফেলেছে। তাই তাদের রানে ফেরাটা জরুরি।

    অবশ্য এই ম্যাচে রান না পেলেও কিছুদিন আগে সমাপ্ত এশিয়া কাপে এক সেঞ্চুরি ও এক অর্ধশতকের সাহায্যে ৬১ গড়ে ৩০২ রান করেছেন মুশফিক, যা ছিল টুর্নামেন্টে শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার পর তৃতীয় সর্বোচ্চ। সব দেশেরই করা এশিয়া কাপের সেরা একাদশে নাম রয়েছে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের।

    আর মাহমুদুল্লাহ এশিয়াকে কাপে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও খারাপ করেননি। ৫ ম্যাচে ১৫৬ রান করার মধ্যে একটি ম্যাচে ৭৪ রানের একটি ম্যাচসেরা ইনিংস ছিল। এক ম্যাচে থিতু হওয়ার পর আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হয়েছেন। পাশাপাশি বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিয়ে দলকে ভালোই সাপোর্ট দিয়েছেন তিনি। এশিয়া কাপের সেরা একাদশে কোনো কোনো একাদশে তারও নাম ছিল। যদিও তার কাছ থেকে দেশবাসী আরও বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিল।

    এদিন, টাইগারদের টেস্ট দল নিয়েও কথা বলেন বিসিবি সভাপতি। সম্প্রতি বিসিবি একাদশের হয়ে সেঞ্চুরি করা সৌম্য সরকার টেস্ট স্কোয়াডের জন্য বিবেচনায় আছেন বলে জানান বিসিবি সভাপতি। এক প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, সিনিয়র ক্রিকেটারদের চেয়ে তরুণদের নিয়েই বেশি ভাবছেন তারা।

  • ওর হাতটা আমার পিঠে ওঠানামা করছিল

    ওর হাতটা আমার পিঠে ওঠানামা করছিল

    মিটু আন্দোলনে বলিউডের আরও এক অভিনেতার নাম জুড়ল। এবার ৫৪ বছরের এক দক্ষিণী অভিনেতার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনলেন ২৯ বছরের এক অভিনেত্রী।

    অভিনেত্রী শ্রুতি হরিহরণ ঠিক দুই বছর আগের একটি ঘটনার কথা সামনে এনেছেন। দক্ষিণী অভিনেতা অর্জুন সারজা অভিনয়ের সুযোগে কী ভাবে তাকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন শনিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে সে কথা সকলের সঙ্গে শেয়ার করেছেন তিনি।

    শ্রুতি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, তখন সবে ডায়ালগ বলা শুরু হয়েছিল। ছবিতে আমি তার স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রীর কিছু সংলাপ ছিল। কিন্তু সংলাপের বাইরে গিয়ে নিজেই আলাদা স্ক্রিপ্ট সাজিয়ে ফেলেন। সংলাপ চলাকালে সবাইকে অবাক করে আমাকে জড়িয়ে ধরেন। গায়ের জোরে টেনে আমার শরীরটাকে একেবারে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। তার হাতদুটো আমার পিঠে ওঠানামা করছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম কিন্তু কিছুই বলতে পারছিলাম না। এরপর পরিচালককে অর্জুন ফিল্মের এই অংশে একটি ফোরপ্লে-র দৃশ্যও রাখতে বলেন।

    অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিলেন শ্রুতি। কিন্তু অর্জুন সারজা বিষয়টা এমন ভাবে সকলের কাছে উপস্থাপন করেছিলেন, যেন সবটাই তিনি অভিনয়ের স্বার্থে করছেন। অভিনয়টাকে আরও সাবলীল করার জন্য। সেই মুহূর্তে তাই কিছু বলতে পারেননি বলে দাবি করেন শ্রুতি।

    ছোটবেলা থেকে যার ছবি দেখে বড় হয়েছেন, তার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন, এটা ভেবে প্রথম থেকেই খুব উত্তেজিত ছিলেন শ্রুতি। কিন্তু অভিনেতাকে নিয়ে তার ভুল এভাবে ভাঙবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।

    সে দিন মেকআপ আর্টিস্ট এবং সেটের কয়েক জনকে অর্জুনের অসৎ উদ্দেশ্যের কথা বলেছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে বৃহৎ পরিসরে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।মিটু আন্দোলনই তাকে সেই সাহস জুগিয়েছেন বলে ফেসবুকে জানান তিনি।

    শ্রুতি আরও লেখেন, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেই, কারণ আমার মনে হয়েছে অর্জুনের বোঝা উচিত, দুই জন অভিনেতার মধ্যে যে দূরত্ব থাকে, তা অতিক্রম করা উচিত নয়। ক্ষমতা জাহির করে এমন কাজ করা উচিত নয়, তা অন্যকে আঘাত দেবে।মিটু আন্দেলন আমাকে শক্তি দিয়েছে, আমাকে বুঝতে শিখিয়েছে যে, কোনও পুরুষই একজন নারীর ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।

    তিনি লিখেছেন, এই ইন্ডাস্ট্রি (ফিল্ম) আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমার স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছে। এতো কিছুর পরেও এটা বলতে আমার কষ্ট হচ্ছে যে, অনেক সময়ই আমি ভীষণ অসুরক্ষিত, হতাশ অনুভব করি।

    যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, সেই অর্জুন সারজা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন যাবতীয় অভিযোগ। তামিল, তেলুগু এবং কন্নড় ভাষায় ১৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করা অর্জুন তার বিরুদ্ধে আনা যৌন হেনস্তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি বিস্মিত।

  • আপনারা চাইলে আজই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব : মাহাথির

    আপনারা চাইলে আজই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব : মাহাথির

    মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব চান না বরং সবাই চেয়েছে বলেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। রবিবার মালয়েশিয়ার লংকাউয়িতে ট্যাক্সি চালকদের অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন কথা বলেন।

    মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, তিনি সমাজের সবার সুবিধার জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান বের করতে চান। আর এরপরই প্রায় ২০০ জন ট্যাক্সি চালকের মধ্যে ১০ জনের একটি দল মাহাথিরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক শব্দ ব্যবহার করেন এবং সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।

    পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর মাহাথির বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ট্যাক্সি চালকদের সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন।

    মাহাথির আরও বলেন, এমন না যে আমি প্রধানমন্ত্রী থাকতে চাই। আমি অবসর নিয়েছিলাম, কিন্তু মানুষজনই আবার আমাকে চেয়েছে, তাই আমি ফিরে এসেছি। যদি আপনারা আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে না চান, তাহলে আমি আজই পদত্যাগ করতে পারি, এটি আমার জন্য কোনও সমস্যা না।