Category: আন্তর্জাতিক

  • শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা চান সৌদি বাদশাহ

    শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা চান সৌদি বাদশাহ

    সৌদি বাদশাহ ও দুই পবিত্র মসজিদের হেফাজতকারী সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসামান্য উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা এবং তাঁর (শেখ হাসিনার) সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

    বুধবার বিকেলে রিয়াদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি বাদশাহর বৈঠকের পর পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক সৌদি বাদশাহর উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক আর উন্নত হবে এবং সকল ক্ষেত্রে উন্নতি সাধিত হবে।’ পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সৌদি বাদশাহ তিনবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, বৈঠকটি উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাদশাহ নিজে রাজপ্রাসাদের প্রবেশ দ্বারে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    বাদশাহ প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ‘এটি আপনার ঘর এবং আপনাকে সব সময় এখানে স্বাগতম।’ বাদশাহ বলেন, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ দু’টি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ এবং ধর্মের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন বিষয়ে একই বন্ধনে বাঁধা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদশাহর আথিয়েতার জন্য ধন্যবাদ জানালে সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ বলেন, এটা তাঁর দায়িত্ব। তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক উন্নত হয়েছে এবং উল্লেখ করেন যে অর্থনীতি, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে।

    বাদশাহ বলেন, ‘আমরা যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এটা অব্যাহত থাকবে এবং এটি দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের জনগণের অভিন্ন আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব করলে বাদশাহ প্রস্তাবগুলো যথাযথ বলে অভিহিত করেন।

    বাদশাহ বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে আলোচনার পর এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেব।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করছে উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে তাদের দেখাশোনা করার জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। সৌদি বাদশাহ সেদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সৌদি অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে উল্লেখ করে বলেন, তাদের দেখভাল করা আমার দায়িত্ব।

    প্রধানমন্ত্রী সৌদি বাদশাহকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাদশাহ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, বাদশাহ ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সব সময় মুসলিম উম্মাহর প্রশ্নে লড়াই করে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে।’
    বাদশাহ বলেন, ‘এ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সব সময় সম্মানজনক এবং এজন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।

  • খাশোগিকে টুকরো টুকরো করে সৌদির ‘কসাই’ খ্যাত সালাহ

    খাশোগিকে টুকরো টুকরো করে সৌদির ‘কসাই’ খ্যাত সালাহ

    সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে ইস্তান্বুলে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে টুকরো টুকরো করে হত্যায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ব্রিটেনে প্রশিক্ষণ নেয়া সৌদি ফরেনসিক এক্সপার্ট সালাহ মুহাম্মদ আল-তুবাইগি।

    ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল বলছে, ‘২০০৪ সালে ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব গ্ল্যাসগোতে প্যাথলজি বিষয়ে পড়াশোনা করেন সালাহ মুহাম্মদ। ফরেনসিক এক্সপার্ট হিসেবে পরিচিত সৌদি এই চিকিৎসক কীভাবে ময়নাতদন্ত করতে হয় তা শিখেছিলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    গত ২ অক্টোবর khasoggy2খাশোগি নিখোঁজের দিনে তাকে ইস্তান্বুলে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। সাংবাদিক খাশোগির অ্যাপল ব্র্যান্ডের ঘড়িতে হত্যার অডিও রেকর্ড রয়েছে। এতে খাশোগি হত্যার ঘটনার সঙ্গে সালাহ মুহাম্মদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

    সাত মিনিটের ওই অডিও রেকর্ডে খাশোগিকে নৃশংসভাবে টুকরো টুকরো করে হত্যার নেতৃত্বে সালাহ মুহাম্মদ আল-তুবাইগির কণ্ঠ শোনা যায়।

    একটি টেবিলের ওপর খাশোগিকে নেয়ার পর কিলিং স্কোয়াডের অন্য সদস্যদের কানে হেডফোন দেয়ার নির্দেশ দেন তুবাইগি। তুরস্কের একটি সূত্র মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত তুবাইগি খাশোগিকে হত্যার সময় অন্যদের বলেন, ‘আমি যখন এই কাজটি করি, তখন গান শুনি।

    অডিও রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর খাশোগিকে টেনে-হেঁচড়ে পাশের একটি কক্ষে নেয়া হয়; যেখানে তার দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়। টুকরো টুকরো করার আগে তার শরীরে অজ্ঞাত একটি ইঞ্জেকশন দেয়া হয়, এতে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন।

    ইস্তান্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে ২ অক্টোবর সালাহ আল তুবাইগিকে দেখা যায়। আর এই বিষয়টি অত্যন্ত জোরালো করে তুলেছে যে, সাংবাদিক খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে তুবাইগি তার অ্যাকাউন্টে সৌদি সায়েন্টিফিক কাউন্সিল অব ফরেনসিকের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    সৌদি রাজপরিবারের কট্টর সমালোচক ও সাংবাদিক খাশোগিকে হত্যারে উদ্দেশ্যে ২ অক্টোবর রিয়াদ থেকে ১৫ সদস্যের সৌদি কিলিং স্কোয়াড তুরস্কে পৌঁছায় বলে দাবি করেছে আঙ্কারা। সন্দেহভাজন এই ১৫ ঘাতকের ছবিও প্রকাশ করেছে তুর্কি গণমাধ্যম। তবে এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সন্দেহভাজন অভিযুক্তদের কোনো মন্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

    বুধবার মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ জনের কিলিং স্কোয়াডের মধ্যে অন্তত ৯ জন সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী, সেনাবাহিনী অথবা দেশটির অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সদস্য।

    নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ফেস শনাক্তকারী সফটওয়্যার, সৌদি আরবের মোবাইল ফোন নম্বরের তথ্য-উপাত্ত ও ফাঁস হওয়া সৌদি বিভিন্ন নথি-পত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমের সহায়তায় ঘাতকদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    tubaigy

    সন্দেহভাজন ঘাতকদের একজন মাহের আব্দুল আজিজ মুতরেব। ২০০৭ সালে লন্ডনে নিযুক্ত সৌদি দূতাবাসে কূটনৈতিক হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি।

    নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, সম্প্রতি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মাদ্রিদ থেকে প্যারিস সফরের সময় তার বডিগার্ড হিসেবে দেখা গেছে মুতরেবকে। যুবরাজের সঙ্গে বিমানে উঠতে এবং নামতে দেখা যায় মুতরেব। এ ঘটনার ছবি আছে তাদের কাছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের হাস্টন, বোস্টন ও জাতিসংঘের সদর দফতরে সফরের সময়ও যুবরাজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে দেখা যায় মুতরেবকে। মার্কিন এই দৈনিক বলছে, অন্য তিন সন্দেহভাজন হলেন আব্দুল আজিজ মোহাম্মদ আল-হাসায়ি, থার গালিব আল-হার্বি ও মোহাম্মদ সাদ আলজাহরানি। এই তিনজনই সৌদি যুবরাজের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষবাহিনীর সদস্য।

    এদিকে, বৃহস্পতিবার তুরস্কের দৈনিক ইয়েনি সাফাক এক প্রতিবেদনে বলছে, খাশোগি নিখোঁজের দিনে তুরস্কে উড়ে যাওয়া সৌদি আরবের ১৫ সদস্যের ‘কিলিং স্কোয়াড’র এক সদস্য রিয়াদে গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। সৌদি রয়্যাল এয়ার ফোর্সের লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার এ কর্মকর্তার দুর্ঘটনায় প্রাণহানি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।

  • আকাশ আলোকিত করতে কৃত্রিম চাঁদ বানাচ্ছে চীন

    আকাশ আলোকিত করতে কৃত্রিম চাঁদ বানাচ্ছে চীন

    বিজ্ঞানের কল্যাণে প্রকৃতিকে বশ করে অনেক দূর এগিয়েছে মানুষ। যদিও প্রকৃতির প্রয়োজনীয়তা ফুরাবে না কোনদিন। কিন্তু বিজ্ঞান যে মানুষের হাতে নতুন একটা চাঁদ তুলে দেবে এটা হয়তো কেউ ভাবেনি। এবার ওই ভাবনার চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে আকাশে কৃত্রিম চাঁদ স্থাপন করতে যাচ্ছে চীন।

    দেশটির একটি শহরে উৎক্ষেপণ করা ওই চাঁদ আকাশ থেকে চারপাশের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা আলোকিত করবে। চীনের সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলীর এক প্রতিবেদেনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ২০২০ সালে তথাকথিত আলোকসজ্জা বিষয়ক উপগ্রহ অর্থাৎ সেই চাঁদটি শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চেংগদু শহরে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ওই অঞ্চলের ওপরে নিক্ষেপ করা এই উপগ্রহটি সত্যিকারের চাঁদের চেয়ে আটগুণ বেশি আলো দিবে।

    উপগ্রহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই প্রকল্পের কিছু কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, ফ্রান্সের একজন শিল্পীর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই এ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তারা। ওই শিল্পী ওপর থেকে পৃথিবীতে আয়নার একটি নেকলেস ঝুলিয়ে দেয়ার কথা প্রথম কল্পনা করেছিলেন।

    চেংগদু অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যাণ্ড টেকনোলোজি মাইক্রো-ইলেক্ট্রনিক্স সিস্টেম রিসার্স ইন্সটিটিউট কোম্পানি লিমিেটের প্রধান উ চুংফেন্ড ১০ অক্টোবর কৃত্রিম চাঁদ নামের এই প্রকল্পের বিষয়টি প্রথম জনসম্মুখে প্রকাশ করেন।

    এমন চাঁদের ব্যাপারে উ চুংফেন্ডকে সংশয়ের কথা জানালে তিনি বলেন, আমরা অনেক বছর ধরে এটির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আর বর্তমানে আমরা এ ব্যাপারে আশাবাদী যে ২০২০ সালের মধ্যে আমরা এটিকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করতে পারবো।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রাশিয়া রাতের আকাশে এমন একটা কিছু উৎক্ষেপণ করার চেষ্টা করেছিলো যা চাঁদের পর সবচেয়ে আলোকিত কিছু বলে জানানো হয়েছিল তাদের পক্ষ থেকে।

  • নিষেধাজ্ঞার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আসক্তি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে: ইরান

    নিষেধাজ্ঞার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আসক্তি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে: ইরান

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আসক্তি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ইরানের ২০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন সরকার মঙ্গলবার নতুন করে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সে ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এক টুইটার বার্তায় জারিফ একথা বলেন।

    তিনি বলেন, ইরানি জনগণের জন্য খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধ আমদানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান পালনকারী একটি ব্যাংকের ওপর আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার টুইটার বার্তায় আরও বলেন, আমেরিকা নতুন করে নিষেধজ্ঞা আরাপ করে আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে।

    মঙ্গলবার ইরানের ২০টি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা।  মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ব্যাংক মেল্লাত’ এবং ‘মেহর একতেসাদ’ ব্যাংক’সহ ইরানের ২০ ব্যাংক, কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অজুহাতে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

    সম্প্রতি মার্কিন উপ অর্থমন্ত্রী সিগাল ম্যানডেলকার বলেছিলেন, ওয়াশিংটনকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • ‘মি টু’ ঝড়ে উড়ে গেলেন মন্ত্রী আকবর

    ‘মি টু’ ঝড়ে উড়ে গেলেন মন্ত্রী আকবর

    যৌন হয়রানির অভিযোগে ভারতে শুরু হওয়া ‘মি টু’ ঝড়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এমজে আকবর। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

    বিবৃতিতে ভারতীয় এই মন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমি আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুতরাং আমার কাছে মনে হয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ এবং আমার বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা অভিযোগের মোকাবেলা করাই এখন যৌক্তিক কাজ।’

    ‘এমন অবস্থায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদ থেকে আমি পদত্যাগ করছি। দেশের সেবা করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালের দিকে ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এমজে আকবর। সেই সময় অন্তত ১৬ নারী সাংবাদিক তার কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে সম্প্রতি অভিযোগ তোলেন।

    রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমজে আকবর তার বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগকে ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত এবং বিব্রতকর বলে প্রত্যাখ্যান করেন। সোমবার সাংবাদিক প্রিয়া রমনীর বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন সদ্যপদত্যাগকারী এই মন্ত্রী।

    ভোগ ম্যাগাজিনে দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে সাবেক এই সম্পাদকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন প্রিয়া। চলতি মাসের শুরুর দিকে এমজে আকবর নাইজেরিয়া সফরে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মি টু ঝড় তোলেন এই নারী সাংবাদিক।

  • চার দিনের সফরে সৌদি গেলেন প্রধানমন্ত্রী

    চার দিনের সফরে সৌদি গেলেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি বাদশাহ এবং দুটি পবিত্র মসজিদের খাদেম সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় সফরের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার বিকেলে চার দিনের সফরে রিয়াদের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সৌদি রাজধানী রিয়াদের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। বিমানটি সন্ধ্যা সাতটায় (স্থানীয় সময়) রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।

    শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এস এম শাহজাহান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
    মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    রিয়াদে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি
    প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বুধবার তাঁর স্যুটে কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বার (সিএসসি) এবং রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই দিন বিকেলে শেখ হাসিনা সৌদি রাজপ্রাসাদে বাদশাহর সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সাক্ষাৎ শেষে বাদশাহের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
    প্রধানমন্ত্রী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি সৌদি রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশ চ্যান্সেরি ভবনের উদ্বোধন করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিমানযোগে পবিত্র নগরী মদিনার উদ্দেশে রিয়াদ ত্যাগ করবেন এবং মসজিদে নববিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর রওজা জিয়ারত করবেন।

    বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী জেদ্দা পৌঁছাবেন এবং সেখানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। শেখ হাসিনা এশার নামাজের পর মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার সকালে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন।

    দুটি সমঝোতা স্মারক সই হবে
    পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরকালে ২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এগুলো হলো: প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং আইসিটি খাতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সৌদি বাদশাহর মধ্যে বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হবে।
    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিষয়গুলো ছাড়াও শ্রমিককল্যাণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য ও সমৃদ্ধি প্রভৃতি বিষয়েও আলোচনা হবে।

  • বিশ্ব রাজনীতি উত্তপ্ত করা কে এই সাংবাদিক জামাল খাসোগি

    বিশ্ব রাজনীতি উত্তপ্ত করা কে এই সাংবাদিক জামাল খাসোগি

    সৌদির নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাসোগি ইস্যুতে উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি। ২ অক্টোবর তুরস্কে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে যাওয়ার পর থেকে তার হদিস নেই। তুরস্কে শুরু থেকেই দাবি করেছে, সৌদি সরকারের নির্দেশে কনস্যুলেটের ভেতরেই খুন করা হয়েছে এ সাংবাদিককে।

    কারণ খাসোগি সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে প্রবেশ করলেও তাকে বের হতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে প্রথমে সৌদির দাবি, মূলদ্বার দিয়ে প্রবেশ করলেও খাসোগি বের হয়ে গেছেন পেছনের গেট দিয়ে। কিন্তু তুরস্ক পাল্টা দাবি করেছে, সিসিটিভি রেকর্ডে তা নেই। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, জামাল খাসোগির মৃত্যুর কথা স্বীকারের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। সৌদির রাজপরিবারের প্রতিনিধিদের তদন্তের সময় মারা গেছেন খাসোগি- তাদের বিবৃতিতে এমনটা থাকতে পারে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাদশা সালমানের সঙ্গে খাসোগির বিষয়ে আলোচনা করতে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে নির্দেশ দিয়েছেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করবেন পম্পেও। জামাল খাসোগি ইস্যুতে ক্রমাগতভাবে চাপ বাড়ছে সৌদি আরবের ওপর। খাসোগি নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর গতকাল সোমবার তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে তদন্তের অনুমতি পান তুরস্কের তদন্ত কর্মকর্তারা।

    জামাল খাসোগির পুরো নাম জামাল আহমেদ খাসোগি। তার জন্ম ১৯৫৮ সালে মদিনায়। তিনি সৌদির আলোচিত অস্ত্র ব্যবসায়ী প্রয়াত আদনান খাসোগির ভাতিজা। জামাল খাসোগির চাচাতো ভাই দোদি আল ফায়েদ ছিলেন ব্রিটিশ রাজকুমারী ডায়ানার প্রেমিক। পরে তারা দু’জনেই প্যারিসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

    জামাল খাসোগি পড়াশুনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সৌদি গেজেটের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেছেন। আল আরব নিউজের সাবেক প্রধান সম্পাদক ছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের এ কলামিস্ট। সৌদি সংবাদপত্র আল ওয়াতানের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সৌদি থেকে পালিয়ে যান। তার অভিযোগ ছিল, সৌদি সরকার তাকে টুইটারে নিষিদ্ধ করেছে। সৌদি সরকারের সমালোচনা করে নিবন্ধও লিখেছিলেন তিনি। সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও সৌদি বাদশাহর কড়া সমালোচক ছিলেন জামাল। ইয়েমেনে সৌদি হস্তক্ষেপেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। চলতি বছরের মে মাসে সৌদি নারী মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেফতার করলে কড়া সমালোচনা করেন জামাল খাসোগি।

    জামাল খাসোগি নিখোঁজ না খুন হয়েছেন- সে রহস্যের এখনো কূল-কিনারা পাওয়া যায়নি। তবে এরইমধ্যে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করেছে সৌদি আরবের ওপর থেকে। যুক্তরাষ্ট্রও জানিয়েছে, হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হবে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে সৌদি আরবকে। তবে নিষেধাজ্ঞা দিলে সৌদি আরবও বসে থাকবে না। তারাও প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বাড়িয়ে দিতে পারে তেলের দাম যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

  • ক্লিনটনের যৌন কেচ্ছা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য হিলারির

    ক্লিনটনের যৌন কেচ্ছা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য হিলারির

    মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে বিল ক্লিনটনের যৌন কেলেঙ্কারি আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে রয়েছে। সে সময় বিল ক্লিনটনের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। যদিও এই নিয়ে একটি মন্তব্যও করেননি বিল ক্লিনটনের স্ত্রী হিলারি। এতদিনে তিনি মুখ খুললেন।   ‌

    হিলারি বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে হোয়াইট হাউসের ইন্টার্ন মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে যৌনতায় জড়াননি। কাজেই এই কাজের জন্য প্রেসিডেন্ট পদ না ছেড়ে ঠিকই করেছিলেন বিল ক্লিনটন। মিটু নিয়ে যখন গোটা বিশ্ব তোলপাড় হচ্ছে তখন কিন্তু মনিকা লিউনস্কি একটি শব্দও খরচ করেনি। কারণ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্লিনটন সে কাজ করেননি।

    মনিকা লিউনস্কিরও সম্মতি ছিল তাতে। ক্লিনটন পদত্যাগ না করলেও তাকে ইম্পিচ করা হয়েছিল। কারণটা ছিল মনিকার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক লুকিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু মার্কিন সিনেটর ক্রিস্টিন গ্রিলব্যান্ডের এই অভিযোগ সপাটে খারিজ করে পদত্যাগ না করার প্রশ্নে ক্লিনটনের পাশেই দাঁড়িয়েছেন হিলারি। এতদিন পরে সে কথা প্রকাশ করলেন তিনি। সে দিন যে স্বামীর সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেছিলেন সেটা জানিয়েছেন হিলারি।

  • ভারতের চেয়ে ১১ গুণ বেশি দামে ইভিএম

    ভারতের চেয়ে ১১ গুণ বেশি দামে ইভিএম

    ভারতের চেয়ে ১১ গুণ বেশি দামে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিনছে বাংলাদেশ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি ইভিএম কিনতে খরচ করবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৩ টাকা। এর আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ইসির জন্য যে ইভিএম তৈরি করেছিল, তার প্রতিটির দাম পড়েছিল ২০-২২ হাজার টাকা। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে কিছু পার্থক্য থাকলেও দামের বিশাল পার্থক্যকে অস্বাভাবিক বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    ভারতের নির্বাচন কমিশন ওই দেশের লোকসভা, রাজ্যসভাসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য নতুন মডেলের ইভিএমের দাম নির্ধারণ করেছে ১৭ হাজার রুপি। প্রতি রুপি ১ টাকা ২৫ পয়সা হিসেবে ধরে বাংলাদেশি টাকায় ভারতের ইভিএমের দাম পড়ে ২১ হাজার ২৫০ টাকা। সেই হিসাবে ১১ গুণ বেশি খরচ করে ইভিএম কিনছে বাংলাদেশ। তবে ইসি দাবি করছে, গুণগত মান বিবেচনায় বাংলাদেশের ইভিএমের দাম অন্যান্য দেশের চেয়ে তুলনামূলক কম পড়ছে।

    এদিকে এই ইভিএম তৈরির ক্ষেত্রে কারিগরি কমিটির সুপারিশও পুরোপুরি আমলে নেয়নি ইসি। ভোটারদের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য কমিটি ইভিএমে ভোটার ভ্যারিয়েবল পেপার অডিট ট্রেইল বা ভিভিপিএটি (যন্ত্রে ভোট দেওয়ার পর তা একটি কাগজে ছাপা হয়ে বের হবে) সুবিধা রাখার পরামর্শ দিলেও তা রাখা হয়নি। এতে ভোট পুনর্গণনার বিষয় এলে ইসিকে সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।

    ২০১১ সালের পর থেকে বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার লক্ষ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব করেছে ইসি। সংসদে আরপিও সংশোধনী পাস হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সীমিত পরিসরে ইভিএম ব্যবহার করতে চায় ইসি।

    নতুন ইভিএম কেনার জন্য ইসির ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাস করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। দেড় লাখ ইভিএম কিনতে ওই প্রকল্পে ৩ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট প্রকল্পে ব্যয়ের ৯২ শতাংশ। আগামী ছয় বছরে তিন পর্যায়ে দেড় লাখ ইভিএম কেনার ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রকল্পের দলিল বলছে ভিন্ন কথা। শুধু চলতি অর্থবছরেই ১ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্ধেকের বেশি টাকা চলতি অর্থবছরে খরচ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্প দলিলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইভিএমের দাম ২ থেকে ৩ হাজার ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারত ও বাংলাদেশের ইভিএম
    ইভিএম নির্মাণ করে এমন কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, সাধারণত ভোটার ও প্রার্থীসংখ্যা, ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করা, ভোট গণনা, সার্ভার-সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের স্পেসিফিকেশনের ওপর ইভিএমের দাম নির্ভর করে।

    ভারত ও বাংলাদেশের কেন্দ্রপ্রতি ভোটারের সংখ্যা প্রায় একই রকম। ভোটারদের শিক্ষার হার ও সচেতনতা প্রায় একই পর্যায়ের। দামের এত পার্থক্য থাকলেও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের ইভিএমের পার্থক্য খুব বেশি নয়। বাংলাদেশের ইভিএমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বা হাতের আঙুলের ছাপ দিয়ে বা স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ভারতের ইভিএমে এই সুবিধা নেই। তবে ভারতের ইভিএমে ভ্যারিয়েবল পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপিএটি) সংযুক্ত আছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইভিএমে সেই সুবিধা নেই।

    বাংলাদেশের ইভিএমে তিনটি অংশ আছে। এগুলো হলো কন্ট্রোল ইউনিট, ব্যালট ইউনিট ও ডিসপ্লে ইউনিট। ভোটারের নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করতে আঙুলের ছাপ দেওয়া সঙ্গে সঙ্গে ডিসপ্লেতে ওই ভোটার ছবিসহ যাবতীয় তথ্য চলে আসবে। ব্যাটারির মাধ্যমে ইভিএম চলবে। চার্জ থাকবে ৪৮ ঘণ্টা। ইভিএমের সঙ্গে বাইরের কোনো ইন্টারনেট বা এ ধরনের কোনো সংযোগ থাকবে না। ফলে এটি হ্যাক করার কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্প দলিলে বলা হয়েছে, ইভিএমের ওয়ারেন্টি ১০ বছর নিশ্চিত করতে হবে।

    ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, আগামী নভেম্বর মাস থেকে ১৬ লাখ ইভিএম কেনা শুরু করবে ভারতের নির্বাচন কমিশন। নতুন মডেলের ওই ইভিএমে কন্ট্রোল ইউনিট ও ব্যালট ইউনিট—এই দুটি ইউনিট আছে। সর্বোচ্চ ৩৮৪ জন প্রার্থী থাকলেও এই ইভিএমে ভোট নেওয়া সম্ভব হবে। একটি ইভিএমে সর্বোচ্চ দুই হাজার ভোট নেওয়া যাবে। এই ইভিএম ব্যাটারিতে চলবে। ভারতের ইভিএমে ভোট দেওয়ার কক্ষেই একটি স্বচ্ছ বাক্স থাকে। ভোটার ভোট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন প্রার্থীকে ভোট দিলেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইভিএম থেকে একটি কাগজে ছাপা হয়ে স্বচ্ছ বাক্সে পড়বে। মূলত ভোটাধিকারের দলিল বা ব্যালট হিসেবে এটি কাজ করবে। কেউ চ্যালেঞ্জ করলে প্রমাণ হিসেবে এটি রাখা হয়। ভারতের নির্বাচন কমিশন এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে যেসব ইভিএম ব্যবহার করেছিল, সেগুলোর দাম ছিল ৮ হাজার ৬৭০ রুপি করে।

    ইভিএম প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দাম নির্ভর করে যন্ত্রাংশের মান ও ‘কনফিগারেশনের’ ওপর। তাঁরা সবচেয়ে মানসম্পন্ন ইভিএম তৈরি করছেন, যাতে ১০-১৫ বছর ব্যবহার করা যায়। ইভিএমের দাম বেশি পড়ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে ইভিএমের দাম প্রায় চার হাজার ডলার। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাঁরা তুলনা করে দেখেছেন, বাংলাদেশের ইভিএমের দাম তুলনামূলক কম পড়ছে।

    বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে নতুন ইভিএম সরবরাহ করবে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)। ইতিমধ্যে চীন ও হংকং থেকে ইভিএমের মূল যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আনার প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বিএমটিএফ। সাধারণ ঋণপত্র খুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। তবে আমদানির প্রক্রিয়া ভিন্ন বলে ট্রাস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ইভিএম আমদানির জন্য এ ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন দিতে হয়েছে।

    এর আগে এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন বাংলাদেশে প্রথম ইভিএম ব্যবহার করে। ওই ইভিএম তৈরি করেছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। বুয়েটের তৈরি ইভিএমে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন পুরোপুরি ইভিএমে হয়েছিল। ওই ইভিএমে বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার ব্যবস্থা ছিল না। ভিভিপিএটি সুবিধাও ছিল না।

    ওই ইভিএম তৈরির নেতৃত্বে ছিলেন বুয়েটের অধ্যাপক এস এম লুৎফুল কবির। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের জন্য বুয়েট ১ হাজার ১০০টি ইভিএম তৈরি করেছিল। প্রতিটি ইভিএমের খরচ পড়েছিল ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। বৃহৎ আকারে উৎপাদনে গেলে খরচ আরও কমে যেত। ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে ভোটার পরিচয় নিশ্চিত করা, ভিভিপিএটি সুবিধা যুক্ত করে ৪০-৫০ হাজার টাকার মধ্যে ইভিএম তৈরি করা সম্ভব। তিনি বলেন, বৈশিষ্ট্যের কারণে ইভিএমের দামের তুলনা করা কঠিন। কিন্তু প্রতিটি ইভিএমের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ধরা হলে তা একটু অস্বাভাবিকই।

    কমিটির সুপারিশ মানা হয়নি
    ইভিএম কেনার প্রকল্প প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ইভিএম তৈরির জন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে কারিগরি ও পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) নমুনা ইভিএম তৈরি করেছে। তবে ইসির এই বক্তব্য পুরোপুরি সঠিক নয়।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নতুন ইভিএম পর্যালোচনার জন্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে উপদেষ্টা করে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে ইসি। ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর তাদের প্রথম বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নতুন ইভিএমের নমুনা দেখানো হয়। বৈঠকে জানানো হয়, নতুন ইভিএম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুজন অধ্যাপকের পরামর্শে পোল্যান্ডের একদল কারিগরি সদস্যের সহায়তায় তৈরি করা হয়। ওই বৈঠকে নতুন যন্ত্রে ভোটার ভ্যারিয়েবল পেপার অডিট ট্রেইল (ভিভিপিএটি) যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি কমিটির আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আবারও পেপার ট্রেইলের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, ভোটারদের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য ইভিএমের সঙ্গে পেপার অডিট ট্রেইলের ব্যবস্থা করা যায়, যাতে ভোট দেওয়াসংক্রান্ত তথ্যের হার্ড কপি ভোট প্রদান শেষে সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু নতুন যে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোতে এই সুবিধা নেই।

    এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, কারিগরি কমিটি পেপার ট্রেইলের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু উপকমিটি দেখেছে, পেপার ট্রেইল যুক্ত করে অনেকে ঝামেলায় পড়েছে। ভারতে ১৫-১৮ শতাংশ কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করতে হয়েছে পেপার ট্রেইলে সমস্যার কারণে। পেপার ট্রেইল মূলত ভোটারের মানসিক শান্তির জন্য যুক্ত করা হয়। এই ইভিএমে ভোটার যে মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য ঠিক করবেন, সে মার্কা স্ক্রিনজুড়ে বড় হয়ে ভেসে উঠবে। এটি ইলেকট্রনিক্যালি করা হয়েছে পেপারে না যাওয়ার জন্য।

    জানতে চাইলে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ইভিএম প্রস্তুত করা হয়েছে—এই বক্তব্য আংশিক সত্য। তিনি কমিটির দুটি বৈঠকে অংশ নেন। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, মেশিন ঠিক আছে। কিন্তু মেশিনের সঙ্গে ভিভিপিএটি যুক্ত করতে হবে। ভিভিপিএটি ছাড়া মেশিন গ্রহণযোগ্য হবে না।

    জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কারিগরি কমিটিকে জিজ্ঞাসা না করে ইসি সামনের দিকে এগিয়ে গেছে। একটি সাব-কমিটি বৈঠক করে কারগরি কমিটির ওই সুপারিশ বাদ দিয়েছে। সুতরাং এখানে আমার নাম ব্যবহার করা ইসির ঠিক হচ্ছে না।

  • নভেম্বরেই খুন করা হবে মোদিকে : দিল্লি পুলিশকে ই-মেইলে হুমকি

    নভেম্বরেই খুন করা হবে মোদিকে : দিল্লি পুলিশকে ই-মেইলে হুমকি

    আগামী নভেম্বর মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খুন করা হবে। এক লাইনের এই হুমকি ই-মেইলে পেয়েছেন নয়াদিল্লি পুলিশের কমিশনার অমূল্য পট্টনায়েক। তার সরকারি ই-মেইলে এই হুমকি দেয়া হয়।

    হুমকি পাওয়ার পর নরেন্দ্র মোদির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে দেশটির পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    দেশটির গোয়েন্দারা বলছেন, নভেম্বরে দেশজুড়ে একাধিক জনসভা ও মিছিল করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেই কারণেই নভেম্বর মাসকে টার্গেট করছে জঙ্গিরা।

    ই-মেইল পাওয়ার পর দেশজুড়ে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে। তবে ই-মেইলে কারা বা কে মোদিকে খুনের এই ষড়যন্ত্র করছে, তা এখনও জানা যায়নি।

    তবে গোয়েন্দারা প্রাথমিক তদন্তের পর বলছেন, যে সার্ভার থেকে নয়াদিল্লি পুলিশ কমিশনারের ই-মেইলে হুমকি এসেছে সেটি উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম প্রদেশে অবস্থিত।

    ভারতের এই প্রধানমন্ত্রীকে খুনের হুমকি অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগে, চলতি বছরের জুনে একটি গোপন চিঠি উদ্ধার করার কথা জানিয়েছিল পুণে পুলিশ। সেই চিঠিতে মোদিকে খুন করার ছক লেখা ছিল। সেই সময় সন্দেহের তির ছিল মাওবাদী বিদ্রোহীদের দিকে।

    চিঠি পাওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধিকে যেভাবে খুন করা হয়েছিল; ঠিক একই কৌশলে মোদিকে সরানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের ভিমা কোরেগাঁও দাঙ্গার তদন্ত করতে গিয়ে এই চিঠিটি হাতে এসেছিল গোয়েন্দাদের।

    ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল লেখা এই চিঠি পাওয়া গিয়েছিল রোনা উইলসন নামের এক সমাজকর্মীর দিল্লির বাড়ি থেকে। ভিমা কোরেগাঁও কাণ্ডে রোনা উইলসন-সহ আরও পাঁচ সমাজকর্মীকে জুনেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখনই মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা প্রথম সামনে আসে।

    সেই চিঠিটি লিখেছিল ‘আর’ নামের এক ব্যক্তি। তা লেখা হয়েছিল কমরেড প্রকাশ নামের কোনও একজনকে। চিঠিতে রোড শো চলাকালীন নরেন্দ্র মোদিকে রাজীব গান্ধি স্টাইলে হত্যা করার কথা বলা হয়েছিল। পুণে পুলিশ এই দাবি করলেও অনেকেই অবশ্য এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।