Category: আন্তর্জাতিক

  • রাশিয়া-ইউক্রেন চুক্তি,কাটবে খাদ্য সংকট, কমবে মূল্যস্ফীতি

    রাশিয়া-ইউক্রেন চুক্তি,কাটবে খাদ্য সংকট, কমবে মূল্যস্ফীতি

    নিউজ ডেস্কঃ খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে দিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি চুক্তি সই করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। যুদ্ধ চলাকালে বিশ্বজুড়ে যে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছিল, সই হওয়া এ চুক্তির ফলে তা থেকে মুক্তির পথ খুলেছে। এখন চুক্তি বাস্তবায়ন হলে সারাবিশ্ব যেমন উপকৃত হবে, তেমনি বাংলাদেশও উপকৃত হবে। ফলে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম কমবে। সেই সঙ্গে কমবে মূল্যস্ফীতি। এমনই অভিমত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

    তারা বলছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। যুদ্ধ চলাকালে খাদ্যশস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এই দুই দেশ যে চুক্তি করেছে তা ঐতিহাসিক। এ চুক্তি বাস্তবায়ন হলে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে গম, সানফ্লাওয়ার, সার, কীটনাশক রপ্তানি হবে। বাংলাদেশ এর সুফল পাবে। গমভিত্তিক বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম কমবে। সেই সঙ্গে কমবে ভোজ্যতেলের দাম। পাশাপাশি সারে সরকারের ভর্তুকি কমে আসবে।

    চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। রাশিয়া হামলা শুরুর পর ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হু হু করে বেড়েছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী মন্দা ও দুর্ভিক্ষের পদধ্বনির মধ্যেই খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে দিতে শুক্রবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে জাতিসংঘ-সমর্থিত চুক্তিটি সই করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।

    এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার চুক্তির ফলে আশা করা যায় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা কমবে। এরই মধ্যে গমের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা কমেছে। আমাদের দেশে গম অনেকটাই আমদানিনির্ভর। সুতরাং আমরা তার থেকে (গমের দাম কমা) কিছুটা সুফল পাবো। সেটা হয়তো আমাদের মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমতে একটু সময় লাগে। সে কারণে এদিকে সরকারকে একটু সচেতন থাকতে হবে।

    অন্যদিকে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এখানে অনেক অনিশ্চয়তা আছে। কারণ যুদ্ধের মধ্যে যেকোনো কিছু ঘুরে যেতে পারে। যদি কোনো অঘটন না ঘটে এবং চুক্তি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয় তাহলে এর বিরাট বড় একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ইউক্রেনে দুই কোটি টন গম জমা আছে। রাশিয়ায় আরও বেশি পরিমাণ গম জমা আছে। যুদ্ধের কারণে এখন রাশিয়া ও ইউক্রেন কেউই তা রপ্তানি করতে পারছে না। চুক্তি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে সেটা পৃথিবীর বাজারে চলে আসবে। এরই মধ্যে গমের দাম কমে গেছে।

    কাজেই সেটা আমাদের জন্য সুবিধা হবে। আমাদের গমের দাম কমে যাবে। একই সঙ্গে ভুট্টার দাম কমবে। সেই সঙ্গে ভোজ্যতেলের দামও কমবে। কারণ ইউক্রেন হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সানফ্লাওয়ার রপ্তানিকারক দেশ। সানফ্লাওয়ার তেল যদি বাজারে বেশি আসে, তাহলে সয়াবিনের দাম কমে যাবে। পাম অয়েলের দামও কমবে। কাজেই সেদিক থেকেও আমরা বেনিফিটেড হবো এবং সারাবিশ্ব বেনিফিটেড হবে।

    তিনি বলেন, বিশ্বে দুর্ভিক্ষের একটা ছায়া পড়ে গিয়েছিল। আফগানিস্তান, সোমালিয়া, কেনিয়ার মতো বিভিন্ন গরিব দেশগুলোতে অবস্থা ভয়াবহ। লেবানন, সিরিয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কিছু দেশে গমের দাম বাড়ায় ক্ষুধা এবং দারিদ্র্য বেড়ে গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেনের চুক্তি বাস্তবায়ন হলে সে জায়গা থেকে পৃথিবী বেরিয়ে আসতে পারবে। এতে পৃথিবীর উপকার হবে, আমাদের দেশেরও উপকার হবে।

    ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দুর্ভিক্ষের যে পদধ্বনি শোনা যাচ্ছিল এ চুক্তির ফলে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা পথ খুললো। এটা আমাদের দেশের জন্য অনেক উপকারে আসবে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে। মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ গমের দামের সঙ্গে চালের দাম সম্পৃক্ত। সেই সঙ্গে সারের দাম কমবে। কারণ রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক ও সার রপ্তানি হয়। এটা বন্ধ ছিল। এই চুক্তির ফলে তা আবার রপ্তানি শুরু হবে। এটি আমাদের বিশাল উপকারে আসবে। আমাদের ৩০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয় সারে, সেটা কমে আসবে অনেকটা।

    এই চুক্তির বিষয়ে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন চুক্তি খুবই ভালো সংবাদ। এই চুক্তি যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে ওখান থেকে আমাদের দেশে গম আসবে। গম এলে আমাদের গমভিত্তিক যেসব খাদ্য আছে তার দাম কমে আসবে। এরই মধ্যে গমের দাম কমেছে আমরা দেখতে পাচ্ছি। এছাড়া সানফ্লাওয়ার ওখানে হয়, ওখান থেকে সানফ্লাওয়ারের বিজ আসে। সুতরাং এগুলোর দাম কমে যাবে। ভোজ্যতেলের দাম কমেছে, সামনে আরও কমবে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পণ্যের দাম কমতে পারে, তখন আমাদের দেশেও কমবে।

    ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, এই চুক্তির ফলে আমাদের দেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইউক্রেন অনেক এগিয়ে ছিল। ইউক্রেনে সমস্যা হওয়ার কারণে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এখন তাদের মধ্যে চুক্তি হলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    তিনি বলেন, সমস্যা এখন রাশিয়া-ইউক্রেনের নয়, এটা বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে গেছে। এখন বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমস্যা হয়ে গেছে। রাশিয়া এবং ইউক্রেন গ্লোবাল প্লেয়ার। তারা যখন যুদ্ধে নেমে যায় তাদের খরচ বেড়ে যায়, এদের থেকে আমাদের ওপরও প্রভাব পড়ে। এখন তাদের মধ্যে যেকোনো ধরনের সমঝোতা হলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

  • ইরানে বন্যায় ২২ জনের মৃত্যু

    ইরানে বন্যায় ২২ জনের মৃত্যু

    আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। খবর ব্লুমবার্গের।

    শনিবার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তারা বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেন। তারা জানিয়েছেন,
    প্রাদেশিক রাজধানী শিরাজ থেকে ১৭৪ কিলোমিটার পূর্বের ইস্তাহবান শহরে জরুরি বিভাগের ১৫০ কর্মী সেখানে কাজ করছেন।

    ইস্তাহবানের মেয়র ইউসেফ কারগারের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ইরনা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    বন্যা পরিস্থিতির বেশ কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রদেশের সংকট ব্যবস্থা বিভাগের প্রধান খলিল আবদুল্লাহি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কমপক্ষে ৫৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    গত এক দশকে বারবার খরার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরান। একই সঙ্গে কয়েক বছর ধরে নিয়মিত আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের মতে অসময়ে কোথাও খরা, কোথাও বন্যা পরিস্থিতি আসলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই হচ্ছে।

    এর আগে ২০১৯ সালে ভয়াবহ বন্যায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে কমপক্ষে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়। সে সময় প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত জানুয়ারিতে ফার্স প্রদেশে ভারি বৃষ্টি ও বন্যায় দুজনের মৃত্যু হয়।

  • মার্কিন ডলার এত শক্তিশালী কেন?

    মার্কিন ডলার এত শক্তিশালী কেন?

    আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিনিদের জন্য ইউরোপ ভ্রমণের এখন দারুণ সময়। চলতি মাসের শুরুর দিকে গত দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারের সঙ্গে সমতা হারায় ইউরো। তবে মার্কিনিদের কেবল ইউরোপ ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। কারণ ইদানিং বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই তাদের জন্য সস্তা হয়ে উঠেছে। এ বছর ইয়েনের বিপরীতে ১৫ শতাংশ, পাউন্ডের বিপরীতে ১০ শতাংশ এবং ইউয়ানের বিপরীতে পাঁচ শতাংশ মূল্যমান বেড়েছে ডলারের। কিন্তু কেন?

    ২০২১ সালের প্রথম দিকে এক ঝাঁক মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান নেমে গিয়েছিল পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। মহামারির অনিশ্চয়তায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সেটি। তবে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে সুদিন ফেরে ডলারেরও। কিন্তু এর মান যে এত বেশি বাড়বে, তা আশা করেননি বেশিরভাগ বিশ্লেষক। গত বছরের জুনের তুলনায় বর্তমানে বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০০২ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ।

    এর অন্যতম প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ। মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে গত মার্চ থেকে সুদের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছে তারা। বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, বছর শেষ হওয়ার আগে আরও দুই শতাংশ পয়েন্ট সুদের হার বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে এত দ্রুত সুদের হার আর বাড়ায়নি দেশটি।

    সুদের হার হলো বিনিময় হারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। উচ্চ সুদের হারযুক্ত কোনো দেশের একটি শক্তিশালী মুদ্রা থাকা উচিত। কারণ সেই দেশের সম্পদগুলো তখন উচ্চ হারে মুনাফা দেয়, যা আরও বেশি মূলধন প্রবাহকে আকর্ষণ করে। এ কারণেই মূলত ইউরো ও ইয়েনের বিপরীতে এত ভালো ফল করেছে ডলার। ফেডারেল ব্যাংকের তুলনায় ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) ও ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) অনেক বেশি নমনীয়। এ সপ্তাহে ইসিবি হয়তো সুদ বাড়ানোর পদক্ষেপ শুরু করতে পারে, কিন্তু বিওজে এখনো নেতিবাচক সুদের হার শক্তভাবে ধরে রেখেছে।

    নীতির এই বৈসাদৃশ্য অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলোর গভীর পার্থক্যকে প্রতিফলিত করে। কয়েক বছর ধরে জাপানের সমস্যা হলো মূল্য সংকোচন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে পণ্যের দাম সামান্য বেড়েছে। তবে ইউরো জোনে মূল্যস্ফীতি প্রায় আমেরিকার মতোই বেশি। কিন্তু তাদের দুশ্চিন্তা রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে। সেখানে সুদের হার বাড়ানো জ্বালানি খরচ তো কমাবেই না, বরং তা মন্দার আশঙ্কা বৃদ্ধি করবে।

    যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি চলাকালীন অত্যাধিক চাহিদা ও আর্থিক প্রণোদনা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। আগের বছরের তুলনায় গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল মূল্যস্ফীতি (পরিবর্তনশীল খাদ্য ও জ্বালানি ব্যয় বাদে) ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, কিন্তু ইউরোপে ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

  • আটক হলো পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রী ‘পার্থ-ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা

    আটক হলো পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রী ‘পার্থ-ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতা

    আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী (সাবেক শিক্ষামন্ত্রী) ও তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জিকে গ্রেফতার করার পর আটক করা হলো অর্পিতা মুখার্জিকেও। শনিবার সকালে অর্পিতাকে আটক করা হয় বলে জানায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর (ইডি) একটি সূত্র।

    এর আগে, দক্ষিণ কলকাতার একটি অভিজাত আবাসনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ২০ কোটিরও বেশি রুপি উদ্ধার করেছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই ফ্ল্যাটটি অর্পিতা মুখার্জির বলে দাবি তাদের। শুক্রবার (২২ জুলাই) ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ইডি।

    ইডির দাবি, অর্পিতা রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, ‘পার্থ-ঘনিষ্ঠ’ অর্পিতার বাড়ি থেকে ২০টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার হয়েছে। পাওয়া গেছে স্বর্ণসহ বিদেশি মুদ্রা।

    শুক্রবার রাতেই ইডি টুইটার বার্তায় জানায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন ও পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’ এর সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে নগদ টাকার ছবি পোস্ট করা হয়েছে ইডির টুইটার থেকে।

    ইডি সূত্র বলছে, টালিগঞ্জের কাছে হরিদেবপুরের একটি আবাসনে অর্পিতার ফ্ল্যাট। সেখানে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে অন্তত ২০ কোটি নগদ অর্থ।

    সূত্র: আনন্দবাজার

  • শপথ নিলেন শ্রীলঙ্কার ১৮ মন্ত্রী

    শপথ নিলেন শ্রীলঙ্কার ১৮ মন্ত্রী

    আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের উপস্থিতিতে আজ শুক্রবার দুপুরের পর শ্রীলঙ্কার নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী দিনেশ গুনাবর্ধনের হাতে থাকছে জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, প্রাদেশিক পরিষদ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া আরও ১৭ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন।

    ডগলাস দেবানন্দ মৎস্যসম্পদ; সুশীল প্রেমজয়ন্ত শিক্ষা, বন্দুলা গুনাবর্ধনে পরিবহন, মহাসড়ক ও গণমাধ্যম; কেহেলিয়া রামবুকওয়েলা স্বাস্থ্য ও পানি সরবরাহ; মাহিন্দা অমরাবিরা কৃষি, বন্য প্রাণী ও বন সংরক্ষণ; ড. বিজয়াদাসা রাজাপক্ষে বিচার, কারাগার ও সাংবিধানিক সংস্কার; হারিন ফার্নান্দো পর্যটন ও ভূমি; রমেশ পাথিরানা বৃক্ষরোপণ ও শিল্প; প্রসন্ন রানাতুঙ্গা নগর উন্নয়ন ও আবাসন; আলী সাবরি পররাষ্ট্র; বিদুর বিক্রমনায়েকে বুদ্ধশাসন, ধর্মীয় ও সংস্কৃতি; কাঞ্চনা উইজেসেকেরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি; নাসির আহমেদ পরিবেশ; রোশন রণসিংহ ক্রীড়া, যুববিষয়ক ও সেচ, মনুষা নানায়াক্কারা শ্রম ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান; তিরান আলেস জননিরাপত্তা এবং নলিন ফার্নান্দো বাণিজ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

    এর আগে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ শুক্রবার শপথ নিয়েছেন প্রবীণ আইনপ্রণেতা দিনেশ গুনাবর্ধনে। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে প্রেসিডেন্ট অফিসের বাইরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরপরই শপথ নেন দিনেশ গুনাবর্ধনে। শপথগ্রহণের সময় প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, আইনপ্রণেতা ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ও আজ শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট অফিসের বাইরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় শ্রীলঙ্কার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় যেসব তাঁবুতে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান করছিল, সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভস্থল থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান চালানোর সময় বিবিসির এক সাংবাদিককে মারধর করেন সেনাসদস্যরা। ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলা হয়।

  • আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ

    আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ

    আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গাম্বিয়া যে মামলা করেছে, সে বিষয়ে নেপিডোর প্রাথমিক আপত্তি খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে)। শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে এই রায় দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে গণহত্যার মূল মামলার শুনানির পথ উন্মোচিত হলো।

    মিয়ানমারের সামরিক সরকার দেশটিতে ক্ষমতা দখলের পর ওই মামলার শুনানি প্রশ্নে তাদের প্রাথমিক আপত্তি জানায়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তির ওপর শুনানি শুরু হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট চার দিন বিষয়টির ওপর আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি পাল্টাযুক্তি শোনেন।

    ওই সময় আদালতের শুনানিতে মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করেন আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী কো কো হ্ল্যাং। তিনি দাবি করেন, গণহত্যার অভিযোগ শুনানির এখতিয়ার আদালতের নেই। মিয়ানমার গণহত্যা সনদের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তার ফৌজদারি আইন সংশোধন করে গণহত্যাকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে বলে জানান হ্ল্যাং। তিনি বলেন, গাম্বিয়া আদালতের বাইরে আগেই বিশ্ববাসীকে বিশ্বাস করাতে চায় যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ গণহত্যাকারী।

    মিয়ানমারের উত্থাপন করা আপত্তিগুলোর মধ্যে প্রধানত যে বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়, সেগুলো হচ্ছে আদালতের এখতিয়ার; ইসলামি সম্মেলন সংস্থা ওআইসির প্রতিভূ হিসেবে গাম্বিয়ার মামলা দায়ের, যার সুযোগ গণহত্যা সনদে নেই; গাম্বিয়ার কোনো নাগরিক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় দেশটির সংক্ষুব্ধ হিসেবে নিজেকে দাবি করতে না পারা এবং দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা না করেই আদালতের শরণাপন্ন হতে না পারা।

    গাম্বিয়া মিয়ানমারের আপত্তিগুলোর জবাবে দাবি করে, দুই বছর আগেই আদালত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার অন্তর্বর্তী আদেশ জারির সময় আদালতের এখতিয়ার ও গাম্বিয়ার মামলা করার অধিকারের প্রশ্নগুলো নিষ্পত্তি করেছেন।

    মিয়ানমার মূলত সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছে ও সময়ক্ষেপণের কারণে রোহিঙ্গাদের জীবন আরও বিপন্ন হয়ে পড়ছে দাবি করে গাম্বিয়া প্রাথমিক আপত্তির আবেদন নাকচ করে দিয়ে দ্রুত মূল মামলার শুনানি করার আবেদন জানায়।

    গাম্বিয়ার প্রতিনিধি দেশটির আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল দাওদা জালো গাম্বিয়া ওআইসি বা অন্য কারও প্রতিভূ হিসেবে নয় দাবি করে বলেন, গণহত্যা সনদে স্বাক্ষরকারী হিসেবে নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁর দেশ মামলা করেছে।

  • আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছরের সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম

    আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছরের সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম

    আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে স্বর্ণের দাম। দেশে দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগ্রাসীভাবে মুদ্রানীতি সংকোচনের প্রভাবে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদায় ভাটা পড়ছে। ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা ঘোষণার অপেক্ষায় ধাতুটিতে বিনিয়োগ বন্ধ রেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। খবর নাসডাক।

    তথ্য বলছে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ১ হাজার ৬৮২ ডলার ৬৭ সেন্টে। এর আগে ধাতুটির দাম কমে ২০২১ সালের মার্চের সর্বনিম্নে নেমেছিল।

    অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে স্বর্ণের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ১ হাজার ৬৮১ ডলারে।

    আগামী সপ্তাহে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকে ব্যাংকটি ২৫ বেসিস পয়েন্টে সুদের হার বাড়াতে পারে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের দাম আরো এক ধাপ কমবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

    অন্যদিকে রুপার দাম ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ১৮ ডলার ২৮ সেন্টে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৮৫১ ডলার ১৮ সেন্টে নেমেছে।

  • ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি দেশটির প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতিও। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) তিন দফায় গণনা শেষে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন দ্রৌপদী। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী যশবন্ত সিনহাকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৫ লাখ ৪০ হাজার ৯৯৬ ভোট। সেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু পেয়েছেন ৫ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি।

    এই জয়ের মাধ্যমে ভারতের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের উত্তরসূরী হচ্ছেন দ্রৌপদী। আগামী ২৫ জুলাই রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

    ১৬তম রাষ্ট্রপতি ভোটে বিজয়ী প্রার্থী হচ্ছেন দেশটির ১৫তম রাষ্ট্রপতি। কারণ, ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ পর পর দু’বার (১৯৫২ এবং ১৯৫৭) নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

    এর আগে, গত সোমবার (১৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয় ভারতের ১৬তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এতে ভোট পড়েছিল ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সব মিলিয়ে ভোট দিয়েছিলেন ৪ হাজার ৭৯৭ জন সংসদ সদস্য ও বিধায়ক। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় ভোট গণনা।

    আনন্দবাজার পত্রিকার খবর অনুসারে, দ্রৌপদী মুর্মু এখন পর্যন্ত ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ১৬১টি এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী যশবন্ত সিনহা পেয়েছেন ১ হাজার ৫৮টি। দ্রৌপদীর পক্ষে ভোটমূল্য জমা হয়েছে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭৭টি আর যশবন্ত পেয়েছেন ২ লাখ ৬১ হাজার ৬২।

    অবশ্য আগেই ধারণা করা গিয়েছিল, ফলাফল কী হতে পারে। এদিন মূলত দেখার বিষয় ছিল, কত ভোটে জেতেন এনডিএ প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা গড়াতেই সামনে এলো সেই ফল। তিন দফার গণনা শেষে দ্রৌপদী মুর্মু বিপুল ভোটে বিজয়ী। অবশ্য এক দফা এখনো গণনা বাকি রয়েছে। তবে তাতে ফলাফল বদলাবে না, তা ধরে নেওয়া যায়।

    এদিকে যত সময় গেছে, ততই তার জয়ের পাল্লা ভারী হতেই আনন্দে মেতে ওঠেন বিজেপি সমর্থকেরা। দলের দিল্লির সদর দপ্তরে দ্রৌপদীর জয় উদযাপনের আয়োজন চলছে। সব রাজ্য শাখাকেও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে মিষ্টিমুখ কর্মসূচি পালন করতে। সম্ভব হলে বিজয় মিছিল করতে হবে।

  • ব্রাজিলে পুলিশের অভিযানে নিহত ১৮

    ব্রাজিলে পুলিশের অভিযানে নিহত ১৮

    আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ব্রাজিলের রিওডি জেনিরোর সহিংসতাপূর্ণ ফাভেলায় একটি অপরাধী চক্রকে ধরতে পুলিশের অভিযানে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে আলেমাও ফাভেলায় ভারী অস্ত্রসহ চারশ’র মতো পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল ওই এলাকায়।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৬ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী। নিহত হন এক পথচারী ও আরেক পুলিশ সদস্যও।

    দিনব্যাপী চলা অভিযানে নিজেদের বাড়ির মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন কয়েক হাজার মানুষ। পুলিশ বলছে, সন্ত্রাসীদের হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে ও তাদের আটক করার জন্যই এ অভিযান।

    অ্যানাক্রিম হিউম্যান রাইটস কমিশনের গিলবার্তো সান্তিয়াগো লোপেস বলেছেন, অভিযান চলাকালে পুলিশ স্থানীয়দের সাহায্য করতে অস্বীকার করে। তিনি রয়টার্সকে বলেন, পুলিশ ‘তাদের গ্রেফতার করার লক্ষে নয়, তাদের লক্ষ্য ছিল হত্যা করা। সেকারণে আহতদের সাহায্য করতে অস্বীকার করে তারা’।

    রিও ডি জেনিরোর ফাভেলায় এ ধরনের অভিযান অস্বাভাবিক নয়। পুলিশ মাদক পাচারকারী চক্রকে খুঁজে বের করতে প্রায়ই অভিযান চালায় সেখানে।

    কিন্তু ব্রাজিলের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে এ ধরনের অভিযান নিয়ে। তারা বলছে, জনাকীর্ণ, নিম্ন-আয়ের মানুষ বসবাসকারী এলাকায় পুলিশের এ ধরনের অভিযান সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ নয় বাসিন্দাদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

    এর আগে গত মে মাসে, ভিলা ত্রুুজেইরো ফাভেলায় এক পথচারী নারীসহ ২২ জন নিহত হন। গত বছর শহরের জ্যাকারেজিনহো এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ২৫ জন নিহত হন।

    সূত্র: বিবিসি

  • ফের করোনা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিলে

    ফের করোনা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিলে

    নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে ১৬০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮২ জন। এছাড়া একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭২০ জন।

    এ নিয়ে বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার ২৩৪ জনে। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ কোটি ২৫ লাখ ৮ হাজার ১৯১ জনে। এছাড়া করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৫৪ কোটি ২৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৩১ জন।

    শুক্রবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে জাপানে, ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৩৯ জনের। দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৫৪ জন। এ সময়ে সবেচেয়ে বেশি ২৭১ জন মারা গেছেন ব্রাজিলে। এই ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৫১ হাজার ৯৮৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

    করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ লাখ ৭১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন ২৫১ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯ কোটি ১৯ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৪ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১০ লাখ ৫১ হাজার ২৩৫ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আট কোটি ৭১ লাখ ৭ হাজার ৭৫ জন।

    এছাড়া ফ্রান্সে একদিনে মারা গেছেন ১৩৩ জন, ইতালিতে ১৫৭ জন, মেক্সিকোয় ১০৭ জন, রাশিয়ায় ৪২ জন, অস্ট্রেলিয়ায় ৮৯ জন, চিলিতে ৭০ জন এবং তাইওয়ানে ৭৪ জন মারা গেছেন।

    এসময়ে বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ২৫৬ জনে। এসময়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৮৪ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৭৯ জনে।