Category: আন্তর্জাতিক

  • তীব্র ভূমিকম্পে ১০ ইঞ্চি উপরে উঠে গেল ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ

    তীব্র ভূমিকম্পে ১০ ইঞ্চি উপরে উঠে গেল ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ

    ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপ ১০ ইঞ্চি ওপরে উঠে গেছে বলে জানা গেছে। শনিবার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উপগ্রহ চিত্র মারফত এই তথ্যের প্রমাণ মিলেছে।

    তাদের মতে, ছবিতে স্পষ্ট লম্বক দ্বীপের মাটি উঁচুনিচু ও অসমান হয়েছে। দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম পাশ অর্থাৎ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে ভূখণ্ডটি প্রায় ১০ ইঞ্চি উঁচু হয়ে গেছে। এমনই তথ্য জানাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।

    ৫ আগষ্টের ওই ভূমিকম্পে শুধু দ্বীপ উচুঁই হয়ে যায়নি, বিভিন্ন জায়গা দুই থেকে ছয় ইঞ্চি নিচুও হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় বেসিনে আগ্নেয়গিরি আর চ্যুতি রেখার অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা তথা রিং অব ফায়ারের মধ্যে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া। ফলে এখানে ভূমিকম্প নিত্যদিনের ঘটনা।

    উল্লেখ্য, ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯। জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে রবিবারের সেই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০। তবে সরকারি সংস্থা বলছে, ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এ পর্যন্ত ৩৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • মারা গেছেন সাহিত্যে নোবেলজয়ী ভি এস নাইপল

    মারা গেছেন সাহিত্যে নোবেলজয়ী ভি এস নাইপল

    সাহিত্যে নোবেলজয়ী লেখক ভি এস নাইপল মারা গেছেন। ৮৫ বছর বয়সে লন্ডনে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাইপল ১৯৩২ সালে ১৭ আগস্ট ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করেন।

    ভি এস নাইপলের দাদা ভারত থেকে পাড়ি জমান ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে। তার বাবাও একজন লেখক ও সাংবাদিক ছিলেন। বাবার পথেই হাঁটেন নাইপল। ২০০১ সালের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী নাইপল ৩০টির বেশি বই লিখেছেন। নোবেল বিজয়ের আগে ১৯৭১ সালে তিনি বুকার পুরস্কার পেয়েছেন।

    তিনি এক একটি দেশ ঘুরেছেন আর এক একটি সাড়াজাগানো বই লিখেছেন। ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব ‘ঢাকা লিটারেরি ফেস্টিভ্যাল’-এর ষষ্ঠ পর্বে অংশ নিতে বাংলাদেশেও এসেছিলেন তিনি।

    ভি এস নাইপলের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘এ হাউস ফর মি. বিশ্বাস’, ‘এ বেন্ড ইন দ্য রিভার’, ‘অ্যামং দ্য বিলিভার্স’, ‘দি অ্যানিগমা অব অ্যারাইভাল’।

  • গোপন ক্যাম্পে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দী রেখেছে চীন : জাতিসংঘ

    গোপন ক্যাম্পে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দী রেখেছে চীন : জাতিসংঘ

    চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে একটি গোপন ক্যাম্পে (চরমপন্থাবিরোধী কেন্দ্রে) আটক করে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘ। চীন নিয়ে জাতিসংঘের দুই দিনব্যাপী এক বৈঠকে এই দাবি করেছেন জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য নির্মূল কমিটির একজন সদস্য গে মকডোগাল। খবর বিবিসির।

    তিনি বলেছেন, বেইজিং ‘স্বায়ত্তশাসিত ‍উইঘুর অঞ্চলকে একটি বড় বন্দি শিবিরে পরিণত’ করেছে এমন খবরে তিনি উদ্বিগ্ন। এদিকে জাতিসংঘের এমন অভিযোগের পর চীনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ৫০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটি জানিয়েছে, তারা সোমবার জেনেভায় অধিবেশন চলাকালে এ বিষয়টি তুলে ধরবে। এর আগে অবশ্য বেইজিং এ ধরনের কোনও শিবিরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিল।

    জাতিগত সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানরা সাধারণত চীনের জিনজিয়াং প্রদেশেই বসবাস করেন। সেখানকার জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ ভাগই উইঘুর মুসলিম। তিব্বতের মতো জিনজিয়াং প্রদেশও আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের ভেতর অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।

    এদিকে ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস জানিয়েছে, বন্দিদের কোনও ধরনের অভিযোগ ছাড়াই অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা হয় এবং তাদের কমিউনিস্ট পার্টির স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। তারা আরো জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব বন্দিদের ঠিকমতো খাবার খেতে দেয়া হয় না এবং তাদের ওপর নির্যাতনও চালানো হয়।

  • উত্তাপ ছড়িয়ে বিতর্কিত সাগরেই বিমানবন্দর নির্মান করছে চীন

    উত্তাপ ছড়িয়ে বিতর্কিত সাগরেই বিমানবন্দর নির্মান করছে চীন

    আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগর। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে চীন। তারই জের ধরে এবার সামনে এলো চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। বিতর্কিত সেই এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণ করছে বেইজিং। এমনটাই দাবি করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

    এ ব্যাপারে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমান শুক্রবার দক্ষিণ চীন সাগরের ওই এলাকার প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যায়। ওই বিমানে সিএনএন’র সাংবাদিকও ছিলেন। তারা দেখেছেন, পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে কৃত্রিম দ্বীপে। বড় রানওয়ের পাশাপাশি রাডার, পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সামরিক বিমানের সহজ ওঠানামার জন্য সকল ব্যবস্থাই রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এদিকে, বিমানটি উড়ে যাওয়ার সময় চীনা সামরিক বাহিনী অন্তত ছয়বার সতর্ক করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় মার্কিন বিমানকে সতর্ক করে বলা হয়, ‘কোনো ভুল বোঝাবুঝির আগেই এলাকা ত্যাগ কর।’

    এ ব্যাপারে মার্কিন বিমানটির নেতৃত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট লরেন কালেন বলেন, সাগরের মাঝখানে বিমানবন্দর দেখে অবাক হয়েছি।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে উল্লেখ করে চীন বলেছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো খুবই জরুরি।

    সূত্র: সিএনএন

  • এবার রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আনছে যুক্তরাষ্ট্র

    এবার রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আনছে যুক্তরাষ্ট্র

    এবার রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আনতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে এমন পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সাবেক রুশ এজেন্ট এবং তার মেয়ের ওপর নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    গত মার্চে সাবেক রুশ এজেন্ট সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ে ইউলিয়াকে সালিসবারি শহরের একটি বেঞ্চে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে জানা যায় যে, তাদের ওপর রাসায়নিক নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার কয়েক সপ্তাহ পর তারা সুস্থ হতে শুরু করেন।

    ব্রিটেনের এক তদন্তে ওই রাসায়নিক হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগে কঠোরভাবে বিরোধীতা করেছে ক্রেমলিন। তাদের দাবি ওই হামলার সঙ্গে রাশিয়ার কোন সম্পর্ক নেই।

    বুধবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, রাশিয়াই ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিথার নওয়ের্ট এক বিবৃতিতে বলেন, এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দেশটি রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। অথবা, তারা নিজেদের দেশের নাগরিকদের ওপর লিথাল রাসায়নিক বা জৈবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে স্বাগত জানিয়েছে ব্রিটেন। এক বিবৃতিতে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সালিসবারির রাস্তায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার ঘটনায় কঠোর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া রাশিয়াকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তাদের উত্তেজক এবং বেপরোয়া আচরণকে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ করা হবে।

  • সন্ধ্যা নামলেই কিশোরীদের তুলে নিত গাড়িগুলো

    সন্ধ্যা নামলেই কিশোরীদের তুলে নিত গাড়িগুলো

    সন্ধ্যা নামলেই সাদা-কালো রঙের গাড়িতে বিভিন্ন লোকের আনাগোনা শুরু হতো হোমে। তারা ‘ম্যাডাম’ বলে ডাকত হোমের মালকিন গিরিজা ত্রিপাঠীকে। তার সঙ্গে কথাবার্তার পরই মেয়েদের গাড়ি করে নিয়ে চলে যেত ওই লোকগুলো। গভীর রাতে আবার ফিরিয়ে দিয়ে যেত। গত তিন বছর ধরে এটাই ছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওরিয়ার হোমের নিত্য দিনের রুটিন।

    হোম থেকে পালিয়ে এসে পুলিশকে এ কথাই জানিয়েছিল বছর দশের মেয়েটি। শুধু তাই নয়, অভিযোগ, আবাসিকদের জোর করে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হত। কেউ মুখ খুললে তার ওপর চলত নির্মম অত্যাচার।

    রবিবার তল্লাশি অভিযান চালিয়ে দেওরিয়ার ওই হোম থেকেই ২৪ জন নাবালিকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে হোমের ১৮ আবাসিক নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

    পুলিশ জানিয়েছে, দেওরিয়ার ওই হোমে মোট ৪২ জন আবাসিক ছিল। মূলত ১৫-১৮ বছরের মেয়েরাই থাকত সেখানে। সরকারি সহযোগিতায় হোমটি চালাতেন গিরিজা ত্রিপাঠী এবং মোহন ত্রিপাঠী।

    ২০১৭ সালে দেশ জুড়ে বিভিন্ন হোমে যখন তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল সিবিআই, সে সময় দেওরিয়ার এই হোমের বেশ কিছু অনিয়ম সামনে আসে। তারপরই সরকারি স্বীকৃতি বাতিল করে দেয়া হয় হোমটির। কিন্তু তারপরেও ত্রিপাঠি দম্পতি হোমটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

    গত সপ্তাহেই রাজ্য পুলিশের একটি দল হোমে তল্লাশি অভিযানে গিয়েছিল। অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ওই দম্পতি। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরও করে পুলিশ।

    বিহারের মুজাফফরপুরের হোমের ঘটনা নিয়ে দেশ জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সেই বিতর্কের মধ্যেই রবিবার দেওরিয়ার হোমের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। মুজাফফরপুরের ঘটনায় বিহার সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে। হোমের নাবালিকদের ধর্ষণের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে নীতীশ সরকারকে।

    দেওরিয়ার হোমের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কালবিলম্ব না করে খোদ উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ময়দানে নেমে পড়েছেন।

    তড়িঘড়ি নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী রীতা বহুগুণা জোশিকে ডেকে পাঠান তিনি। সরিয়ে দেয়া হয় জেলাশাসক এবং এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে। গ্রেপ্তার করা হয় ত্রিপাঠী দম্পতি ও তাদের মেয়েকে। সিল করে দেয়া হয় হোমটি।

    পুলিশ সুপার রোহন পি কনয় জানিয়েছেন, হোম থেকে দত্তক নেয়ার ক্ষেত্রেও বহু গরমিল পাওয়া গিয়েছে। কারা দত্তক নিতেন, দত্তক নেয়া মেয়েদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হত, এর সঙ্গে নারীপাচারের যোগ আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী রীতা বহুগুণা জোশি বলেন, ‘হোমটি সম্পূর্ণ বেআইনি। সিবিআইয়ের তদন্তের পর আইনি নোটিস পাঠানো হয় হোমে। এর স্বীকৃতিও বাতিল করে দেয়া হয়। হাইকোর্টে মামলাটি ঝুলছে।’

    পাশাপাশি তিনি আরও জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে হোমের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর করা হয়েছিল। হোমের আবাসিকদের সরকারি হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল প্রশাসনকে। ত্রিপাঠী দম্পতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবেও বলে জানিয়েছেন রীতা।

    প্রশ্ন উঠছে, সরকারি স্বীকৃতি বাতিল হয়ে গেলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় হোমটি এত দিন ধরে কীভাবে চালাচ্ছিলেন ত্রিপাঠী দম্পতি। এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধী দলগুলি ময়দানে নেমে পড়েছে। তারা সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে।

    সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

  • মেয়েদের হাতে বই দেখলেই জঙ্গীরা ভয় পায়: মালালা

    মেয়েদের হাতে বই দেখলেই জঙ্গীরা ভয় পায়: মালালা

    পাকিস্তানে উগ্রবাদীদের হামলায় ধ্বংস হওয়া স্কুলগুলো পুননির্মাণ করতে বলেছেন নোবেল জয়ী নারী শিক্ষা অধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাই। শনিবার এক টুইট বার্তায় এ দাবি জানান তিনি। এপি।
    মালালা বলেন, ‘বই হাতে থাকা মেয়েদেরকেই বেশি ভয় পায় জঙ্গীরা।’
    শুক্রবার পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে বোমা হামলা ও আগুন দিয়ে ১২টি গার্লস স্কুল পুড়িয়ে দেয়া হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
    ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও। দ্বায়িত্ব নেয়ার পর নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলেছেন তিনি।
    নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ হামলার নিন্দা জানিয়ে স্কুলগুলোকে নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছে।
  • রাশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১৮

    রাশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১৮

    রাশিয়ায় একটি এমআই-৮ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে সাইবেরিয়ার ক্রাশনুইয়ার্স্ক অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
    রাশিয়ান সংবাদ সংস্থ তাস-এর বরাত দিয়ে দ্যা এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়- শনিবার ভোরে সাইবেরিয়ার ক্রাশনুইয়ার্স্ক অঞ্চলে এমআই-৮ হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। হেলিকপ্টারে ১৫ জন যাত্রী এবং তিনজন ক্রু ছিলেন। তাদের সবার মৃত্যু হয়েছে।
  • ‘পাদ্রী আমাদের নগ্ন সাঁতরাতে বাধ্য করেন, গায়ে হাত দেন’

    ‘পাদ্রী আমাদের নগ্ন সাঁতরাতে বাধ্য করেন, গায়ে হাত দেন’

    চিলির কর্তৃপক্ষ সেদেশের রোমান ক্যাথলিক গির্জার ৩০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করছে। বলা হচ্ছে, এই ধর্মীয় নেতারা হয় যৌন নির্যাতন করেছেন, না হয় অভিযোগ ধামা চাপা দিয়েছেন।

    ২০০০ সাল থেকে রোমান ক্যাথলিক গির্জার এসব নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এখন পর্যন্ত ২৬৬ জন, যাদের ৬৭ শতাংশই শিশু, অভিযোগ করেছে তারা পাদ্রী, বিশপদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত শুরু করেছে।

    এমনকি চিলির ক্যাথলিক গির্জার প্রধান কার্ডিনাল রিকার্ডো এজ্জাতির ওপর কলঙ্কের দাগ পড়েছে। সম্প্রতি এক বিচার বিভাগীয় তদন্তে বলা হয়েছে, কার্ডিনাল যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

    এ বছরের গোঁড়ার দিকে চিলির ৩৪ জন বিশপকে রোমে ডেকে এনে পোপ ফ্রান্সিস নির্যাতন এবং ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা করেন। পাঁচজন বিশপ তখন পদত্যাগ করেন। বিবিসির কনস্তানজা ওলা গির্জা স্কুলের দু’জন প্রাক্তন ছাত্রের সঙ্গে কথা বলেছেন; যারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন। যে পাঁচ বিশপ পদত্যাগ করেছেন তাদের অন্যতম গোনজালো দুয়ার্তের সাথেও কথা বলেন বিবিসির সংবাদদাতা।

    ১৯৯৩ সালে একটি ক্যাথলিক যুব দলের সদস্য ছিলেন মরসিও পালগার। চিলির মধ্যাঞ্চলের একটি ছোট শহরে এক প্রার্থণা সভার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। ফাদার এম (ছদ্মনাম) সেই অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন।

    ‘এক রাতে ওই পাদ্রী তাদের জামা কাপড় খুলে সুইমিং পুলে নামতে বলেন। আমি এবং আমার এক বন্ধু অস্বীকার করি, কিন্তু ফাদার এম আমাদের ওপর জবরদস্তি শুরু করেন, তিনি বলেন, আমরা নগ্ন হচ্ছি না। কারণ আমাদের যৌন রোগ আছে।’

    ‘এরপর ফাদার এম সুইমিং পুলে নেমে আমাদের গায়ে হাত দেয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, সম্পর্কে আস্থা তৈরির জন্য, মর্যাদাবোধের জন্য এটা ভালো।’ দুমাস পর, পাদ্রি হওয়ার জন্য পড়াশোনা শুরু করেন মরিসিও। তিনি বলেন, গির্জার সেই স্কুলেও তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

    তারা পেছনে থেকে জড়িয়ে ধরতো..বাঁধা দিলে রেগে যেত। চুম্বন করতে না দিলে তারা গালিগালাজ শুরু করতো। ফাদার ‘এইচ’ (ছদ্মনাম) নামে আরেক পাদ্রীর সাথে যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলেন মরিসিওি। কাছের একটি শহরে ওই পাদ্রিকে কিছু কাজে সাহায্য করছিলেন।

    ‘তিনি আমাকে বলেন, কেন আমি সম্পর্ক করতে উদ্যোগী হচ্ছি না? আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না তিনি ঠিক কি বলছেন। তখন তিনি আমাকে বলেন, আমরা সবাই আসলে সমকামী এবং আমাদের সবকিছু উপভোগের চেষ্টা করা উচিৎ।’

    জুন মাসে পদত্যাগের আগে বিশপ দুয়ার্তে বিবিসিকে বলেন, তিনি শুনেছেন ফাদার ‘এইচের’ সমকামীতার সমস্যা রয়েছে, তবে সেসবে নাক গলানোর কর্তৃত্ব তার ছিল না।

    মরিসিও বলেন, ফাদার এইচ তাকে তার গির্জায় এক রাতে থাকতে বলেন, তিনি আমাকে কিছু পানীয় দিয়েছিলেন এবং তা খেয়ে আমি অসুস্থ বোধ করতে থাকি, তিনি তখন বলেন, আমার বিছানায় শুয়ে পড়ো।

    ‘আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। পরে ঘনঘন শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দে আমি জেগে উঠে দেখি তিনি আমাকে নির্যাতন করছেন। আমি হাত-পা ছুঁড়তে চেয়েও পারিনি। একসময় আমি একটি হাত ছাড়াতে পারি, কিন্তু তিনি তা ধরে ফেলেন এবং…’

    কথা বলতে বলতে গলা ধরে আসে মরিসিওর। তিনি তখন টাকা ভর্তি একটি ড্রয়ার খোলেন এবং বলেন আমি এখন তার চক্রের অংশ। আমি তাকে বললাম, আমি তা হতে চাই না এবং এরপর আমি বেরিয়ে যাই।

    মরিসিও ওই স্কুল ছেড়ে দিয়েছিলেন, তবে কেন ছেড়েছিলেন সে কথা বলতে তার ২০ বছর লেগে গিয়েছিল। ২০১৩ সালে তিনি গির্জা কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।

    বিশপ দুয়ার্তে বলেন, অবশ্যই তদন্ত হয়েছিল, তবে অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, সমকামিতা ‘পাপ’ কিন্তু দুজন প্রাপ্তবয়স্ক লোক এতে যুক্ত হলে তা অপরাধ হয় না।

    বিবিসি বাংলা।

  • আসামে নাগরিকত্ব বাতিল : আরেকটি রোহিঙ্গা সংকটের সামনে বাংলাদেশ?

    আসামে নাগরিকত্ব বাতিল : আরেকটি রোহিঙ্গা সংকটের সামনে বাংলাদেশ?

    ভারতের আসামে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের বেশিরভাগই বাংলাভাষী মুসলমান; যারা আসামের রাজনীতিতে অনেক পুরনো ইস্যু। এদের তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশি বলে নিয়মিত উল্লেখ করে থাকেন স্থানীয় রাজনীতিবিদদের একটি অংশ।

    অতীতে নানা সময়ে তথাকথিত এই অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলেও রাজনীতিবিদরা ঘোষণা দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ বহন করে? বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কি কোনো কারণ আছে?

    ভারতের আসামে নাগরিকের তালিকা থেকে চল্লিশ লাখ মানুষ বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সরকার এখনো কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশ বরাবরই বলে এসেছে যে এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

    কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রুকসানা কিবরিয়া বলছেন, এটি বাংলাদেশের ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলছেন, সেইক্ষেত্র ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। আমাদের হাইকমিশনার বলছেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু এই চল্লিশ লাখ লোকের সবাই না হোক, কয়েক লাখ লোককেও যদি বাংলাদেশের ঢুকে যেতে বাধ্য করা হয়; তখন কী সেটি আর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকবে? সেটি বাংলাদেশের ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে।

    ‘এখনও তা হয়নি, কিন্তু হলে আমরা কি করবো; তার একটা কনটিনজেন্সি প্ল্যান তো থাকতে হবে।’

    কিন্তু ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো জয়িতা ভট্টাচার্য বলছেন, ভারত চাইলেই এতগুলো মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে পারবে না। কারণ এর লম্বা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের এখনই চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এত সহজে চল্লিশ লাখ মানুষকে পাঠিয়ে দেয়া যাবে না। এর প্রক্রিয়া অনেক লম্বা। প্রথমে এনিয়ে আপিল হবে। ব্যুরোক্র্যাটিক সমস্যার কারণেও অনেকের নাম কাটা পড়েছে। তাদের বিষয়টা দেখা হবে। তারপরে ফরেনার ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে। সুপ্রিম কোর্টসহ অনেক আইনি প্রক্রিয়া আছে। বিষয়টি এত সোজা নয়।

    কিন্তু বাংলাদেশে এ নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে; এই যে চল্লিশ লাখ মানুষ বাদ পড়লেন তারা সবাই কি এই আইনি প্রক্রিয়ায় উতড়ে যেতে পারবেন?

    না পারলে তারা আসলে কোথায় যাবেন? ২৫ মার্চ ১৯৭১ এর আগে যারা আসামে এসেছেন বলে কাগজপত্রে প্রমাণ করতে পারেননি, তাদের নাম জাতীয় নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিশেষ তারিখের উল্লেখই আসলে বাংলাদেশের জন্য একটি পরিষ্কার ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আর ভারতের প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশেরই বরং প্রথম উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে। যেমনটা বলছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির। তিনি বলছেন, যেহেতু আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্র, যেহেতু যাদের নিয়ে কথা হচ্ছে তারা বাংলা ভাষাভাষী এবং এদের অধিকাংশই মুসলমান, সেই ক্ষেত্রে আমরা একটু তো চিন্তিত হবোই।

    ‘কারণ এই লোকগুলো কোথায় যাবে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে অন্যান্য অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা বলতে পারি যে, এরা আমাদের এখানে আসার একটা চেষ্টা করতেই পারে। আসবেই এমন কথা বলছি না কিন্তু একটা উদ্যোগ নিতেই পারে। তাই এ বিষয়ে আমরা যাতে নেতিবাচকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হই সেবিষয়টি ভারতের সাথে তোলা যেতেই পারে।’

    ভারতের আসামের বাংলাভাষী মুসলিম এই জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব সেখানকার রাজনীতিতে অনেক পুরনো ইস্যু। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের অনেকেই তাদের অবৈধ বাংলাদেশী বলে উল্লেখ করে। এমনকি ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতারাও এই রাজ্য থেকে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন।

    এর ফলে আরেকটি রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক এএনএম মুনিরুজ্জামান মনে করছেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে যেভাবে কালক্ষেপণ করেছে – তা থেকে বাংলাদেশকে শিক্ষা নিতে হবে এবং এখনই বিষয়টি নিয়ে ভারতের সাথে কথা বলতে হবে।

    তিনি বলছেন, দুটি কারণে আমাদের জন্য বিষয়টিতে বড় উদ্বেগের কারণ থাকবে। বাংলাদেশে যদি আবার একটা রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, সেটার জন্য আমরা কোনভাবেই প্রস্তুত নই। আমাদের এখনই এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হবে। ভারত সরকারকে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য অনুরোধ করতে হবে।

    ‘রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে যে কালক্ষেপণ হয়েছে, আর আমরা ভবিষ্যতের পরিস্থিতি অনুধাবন করার ক্ষেত্রে আমরা যে দূরদৃষ্টি দেখাতে পারি নাই সেটা যাতে এই ক্ষেত্রে না হয় সে ব্যাপারে আমি সকলকে সতর্ক করছি।’

    কিন্তু সেই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কতটা সতর্ক, আর তা সরাসরি ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিবেশীকে আদৌ কতটা স্পষ্ট করে বলতে পারবে, এখন সেই প্রশ্নই উঠছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এই প্রসঙ্গে চুপ করে থাকাই বরং বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী হবে বলে মনে করছেন এএনএম মুনিরুজ্জামান। বিবিসি বাংলা।