Category: আন্তর্জাতিক

  • বন্ধুর সামনেই প্লেবয় মডেলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন ট্রাম্প!

    বন্ধুর সামনেই প্লেবয় মডেলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন ট্রাম্প!

    ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে নৈতিকভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এরইমধ্যে বোমা ফাটালেন সাবেক প্লেবয় প্লেম্যাট মডেল বারবারা মুর (৪৯)। ডেইলি মেইলকে তিনি জানান, ১৯৯৩ সালের মার্চে তার সঙ্গে পরিচয় ঘটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ছয় মাস টিকেছিল তাদের এ সম্পর্ক। ওই সময়টাতে ট্রাম্পের বাগদত্তা ও পরবর্তীকালে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মারলা ম্যাপলস গর্ভবতী ছিলেন।

    মারলা ম্যাপলসকে ধোঁকা দিয়ে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়লেও বারবারার দাবি, প্রেসিডেন্ট ‘বড় মাপের প্রেমিক ও সত্যিকারের ভদ্রলোক’।

    ট্রাম্পের মার-এ-লাগোতেও গিয়েছিলেন বারবারা। সেসময় তার বয়স ছিল ২৪। সেই বাড়িতে বিকিনিতে বেশ কয়েকটি ছবি তুলেছেন যা তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দিয়েছেন। এমনকি তিনি সুইমিং পুলের কাছে রৌদ্রস্নানরত হাস্যোজ্জ্বল ট্রাম্পেরও ছবি তুলেছেন। ট্রাম্পও বিকিনি পরিহিতা বারবারার ছবি তুলে দিয়েছিলেন।

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা অভিযোগপত্রে সাবেক প্লেবয় মডেল কারেন ম্যাকডুগাল বারবারার নাম উল্লেখ করেছিলেন। এরপর থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলার বিষয়ে বারবারাকে অনুরোধ জানিয়ে আসছে সংবামাধ্যমগুলো। তারই প্রেক্ষিতে রাজি হন বারবারা।

    ট্রাম্প টাওয়ারেও আমন্ত্রিত হন বারবারা। তিনি আরও জানান, তার এক বন্ধুর সামনেই ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন।

  • “লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে

    “লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে

    কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে যোগ দিতে লন্ডনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১টার দিকে সৌদি সরকারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে লন্ডনের লুটন বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সেখানে ব্রিটিশ সরকারের কমনওয়েলথ ও পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রটোকল পরিচালক নেইল হল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন তাকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নেওয়া হয় ক্লারিজ হোটেলে।

    সাত দিনের লন্ডন সফরে ওই হোটেলে থাকবেন তিনি। হোটেলে পৌঁছালে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাকে সংবর্ধনা জানান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মের আমন্ত্রণে ২৫তম কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। ১৭ থেকে ২১ এপ্রিল যুক্তরাজ্য সফরে থাকবেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে লন্ডনের ওয়েস্ট মিনস্টারে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্মেলন কক্ষে ‘এডুকেট টু এম্পাওয়ার: মেইকিং ইকুইটেবল অ্যান্ড কোয়ালিটি প্রাইমারি এডুকেশন অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন এ রিয়েলিটি ফর গার্লস অ্যাক্রস দ্য কমনওয়েলথ’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। সেখানে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক সহায়তা বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে শেখ হাসিনার।

    বিকেলে যুক্তরাজ্যের গবেষণা সংস্থা ওডিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি: নীতি, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা থাকবেন তিনি। এছাড়া ১৮ এপ্রিল এশীয় নেতাদের অংশগ্রহণে ‘ক্যান এশিয়া কিপ গ্রোইং?’ শীর্ষ একটি গোলটেবিল আলোচনায় যোগ দেবেন। সেদিন বিকেলে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে যোগ দেবেন। ১৯ এপ্রিল কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকের উদ্বোধনী ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। কমনওয়েলথ মহাসচিবের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

    ২০ এপ্রিল সম্মেলনের সমাপনী কার্যনির্বাহী অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পরদিন তিনি রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটি (আরসিএস) আয়োজিত সংবর্ধনা ও রানির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে আছেন। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

  • সৌদিতে সামরিক মহড়ার সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী

    সৌদিতে সামরিক মহড়ার সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এক বিশাল যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-জুবাইলে ‘গাল্ফ শিল্ড-১’ শীর্ষক এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    সৌদি বাদশা ও দুই পবিত্র মসজিদের হেফাজতকারী সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কুচকাওয়াজে বাংলাদেশসহ ২৪টি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছে।
    উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় বন্ধু দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সমন্বয় ও সহযোগিতায় সৌদি আরব মাসব্যাপী এ সামরিক মহড়ার আয়োজন করে।
    বাদশাহ সালমান বন্ধু দেশগুলোর বেশ কয়েকজন নেতাকে নিয়ে মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সামরিক মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করবেন।

    সামরিক মহড়ার মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল সুবাইয়ে বলেছেন, ২৪টি দেশের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অংশগ্রহণে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই মহড়ার আয়োজন করেছে।
    এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, মিশর, জর্ডান, সুদান, মৌরিতানিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শাদ, জিবুতি, নাইজার, কমরোস, আফগানিস্তান, ওমান, গায়ানা, তুরস্ক ও বুরকিনাফাসো যোগ দিয়েছে।

    গত ১৮ মার্চ এই মহড়া শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে।
    আবদুল্লাহ বলেন, প্রচলিত ও অপ্রচলিত এই দুই ধরনের সামরিক অভিযান নিয়ে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

    মুখপাত্র বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, এমন বৈরী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে যৌথ সামরিক যুদ্ধাভিযান পরিকল্পনার ধারণা কার্যকর করা হচ্ছে এই মহড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
    বিশ্লেষকেরা অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ও এতে ব্যবহৃত অস্ত্রের গুণগত মানের নিরিখে এটিকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বৃহত্তম সামরিক মহড়া হিসেবে গণ্য করছেন।
    প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে যোগ দিতে আজ বিকেলে লন্ডনের উদ্দেশে দাম্মাম ত্যাগ করবেন।

  • তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কী শুরু হবে?

    তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কী শুরু হবে?

    বারাক ওবামা যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সেই সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ গ্যাস হামলা চালান। এতে এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ২০১৩ সালের আগস্টের ঘটনা এটি। ওই সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেছিলেন, ‘সিরিয়ায় যখন আমরা হামলা চালাতে যাচ্ছি; তখন তা কেন সম্প্রচার করা হচ্ছে? কেন আমরা একটু শান্ত থাকতে পারি না? আমরা যদি হামলা চালাই, তাহলে সেটাকে বিস্ময়কর হিসেবে ধরা যায় না?

    এখন সিরিয়া শাসক ও তার মিত্ররা যখন একই ধরনের রাসায়নিক হামলা চালাল ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন আবারো টুইট করলেন। টুইটে তিনি বলেন, ‘সিরিয়ায় ছোড়া যে কোনো এবং সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র গুলি চালিয়ে ভূপাতিত করার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। প্রস্তুত হও রাশিয়া, কারণ সুন্দর, নতুন এবং স্মার্ট ক্ষেপণাস্ত্র আসছে। গ্যাস প্রয়োগে হত্যাকারী জানোয়ারের সঙ্গী হওয়া উচিত নয় রাশিয়ার; যে তার দেশের মানুষকে হত্যা করে উল্লাস করছে।’

    অতীতের রেকর্ড বলছে, ট্রাম্পের মতে ওবামা আমলের পররাষ্ট্র নীতি গোপন রাখা উচিত ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান কর্মকাণ্ড বলছে, পররাষ্ট্র নীতির গঠন এবং প্রচার উভয়ই টুইটারে হওয়া উচিত। এটি তিনি করেছেন, টুইটারে ঘোষণা দিয়ে যে, রাশিয়া, আসাদ এবং ইরানের জন্য অস্পষ্ট ‘কিছু’ আসছে।

    পশ্চিমা বিশ্বের কিছু বিশ্লেষক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেয়ার আবারো একটা সুযোগ পেলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আর এটা অপ্রত্যাশিত নয়। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ক্রেমলিন নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম রীতিমতো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মুডে রুশ নাগরিকদের দিক নির্দেশনা দেয়া শুরু করলো যে, বাঙ্কারে আত্মগোপনে যাওয়ার আগে কি ধরনের খাদ্য-সামগ্রী তাদের কিনতে হবে।

    হামলার খবরে সম্ভবত উভয়-পক্ষের লোকজন ভীত-সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়লেন। তবে ট্রাম্পের আদেশ এবং থেরেসা মে ও এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর যোগদানের ফলে সিরিয়া অথবা অন্য যে কোনো স্থানে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল না। এমনকি প্রকাশ্যে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মুখোমুখি হতেও দেখা গেল না।

    এবারের এই হামলা ছিল ২০১৭ সালে সিরিয়ার শ্যায়রাত বিমান ঘাঁটিতে হামলার মতোই; অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সিরিয়ায় রুশ স্বার্থ এড়িয়ে শনিবার হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলা সিরিয়ার শাসনব্যবস্থার শীর্ষে থাকা আসাদকে উৎখাত করতে পারবে না। এছাড়া এর ফলে সিরিয়ায় মার্কিন অগ্রাধিকারে কোনো পরিবর্তন আসবে না; যা ওবামা আমলের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নীতির মতোই এখনও অব্যাহত রয়েছে।

    আসাদ শুধুমাত্র তখনই খারাপ; যখন তিনি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেন

    সিরিয়ায় নাগরিকরা রাশিয়া এবং ইরানের শাসকগোষ্ঠীর হাতে যে অন্যান্যভাবেও হত্যার শিকার হচ্ছেন সেবিষয়ে আলোচনা না করে বেসামরিকদের ওপর রাসায়নিক হামলার অভিযোগ অত্যন্ত হাস্যকর।

    একদিকে আসাদের সঙ্গে মিত্রতা করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো কেউ রাশিয়ার সমালোচনা করবেন এটা যেমন আরো বেশি হাস্যকর; অন্যদিকে দুর্নীতি ও মিথ্যাচারের প্রাথমিক তদন্তের কারণে রুশ-মার্কিন সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে সেটাও বেশ হাস্যকর।

    তবে এটা পরিষ্কার, রাসায়নিক অস্ত্রের ধোঁয়া তুলে সিরিয়াকে কোণঠাসা করে রাখতে ওবামা প্রশাসনই প্রাথমিকভাবে দায়ী; এমনকি সিরিয়াকে রাশিয়া এবং ইরানের হাতে তুলে দেয়ার জন্যও। যখন আসাদকে (সিরীয় আন্দোলনের মূল দাবি) অপসারণের কথা বলা হয়, তখন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয়ার পরিবর্তে ইরাকের জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধকে বেশি অগ্রাধিকার দেন ওবামা।

    ওবামার নির্দেশে কুর্দি যোদ্ধাদের সমন্বয়ে সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স গঠন করা হয়; যাদের সঙ্গে গেরিলা যোদ্ধা ওয়াইপিজি গোষ্ঠীর সম্পর্ক রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের শপথ নেয়ার পর ২০১৭ সালের শুরুর দিকে সিরিয়ায় কয়েকশ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয়। এছাড়া ওয়াইপিজি গোষ্ঠী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়ে আসছে তখন থেকেই।

    ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বিমান হামলা শুরু হয় এবং ১৫ হাজারের বেশিবার হামলা চালানো হয়েছে। এতে শিশুসহ হাজার হাজার সিরীয় নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে। পাশাপাশি আল-রাক্কা এবং দেইর আল-জোরের মতো শহর ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তবে মোটাদাগে বলা যায়, ট্রাম্পের সিরিয়া নীতি ঠিক ওবামার নীতির মতোই বলবৎ অাছে; কোনো পরিবর্তন হয়নি। এছাড়া এ ধরনের হামলার ফলে এখনই পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনাও খুবই কম।

    সিরীয় জনগণের বন্ধু নয় ট্রাম্প

    টুইটারে ট্রাম্পের দেয়া বড় বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর সবচেয়ে বড় ফল শূন্যের খাতায়। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার মিত্রদের নৃশংসতার পর ট্রাম্পের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সিরিয়ার মানুষকে কোনো আশা দেখাতে পারেনি। শাসকগোষ্ঠীর স্থাপনা লক্ষ্য করে পশ্চিমা জোটের হামলাকে সিরীয় জনগণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাগত জানায়।

    কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে তারা হতাশ হয়ে পড়েন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জিম ম্যাটিসের বক্তব্যে। ম্যাটিস বলেন, ‘এই মুহূর্তে, এটি একটি ঝটিকা অভিযান এবং আমি বিশ্বাস করি যে এর মাধ্যমে আবারো (রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার থেকে) থামাতে অবাধ্য আসাদকে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়া গেছে।’

    কিন্তু একজন রিফ্রেশার হিসেবে যিনি নিজের দেশে সিরীয় নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন আর যাই হোক তাদের ব্যাপারে যে তিনি যত্নশীল হবেন না এটাই স্বাভাবিক। তারা মরছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে। এটা আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে সিরীয় এবং অন্যান্যদের আসার পথ আরো কঠিন করে তোলার লড়াই করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    ২০১৩ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসলামোফোবিয়া নিয়ে করা টুইটগুলো স্মরণ করাই বিচক্ষণতার কাজ হবে। ওই সময় সিরিয়ায় মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরোধীতায় টুইট করেন তৎকালীন মার্কিন এ ধনকুবের। সেই সময় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে দেশটির মানুষ আন্দোলন শুরু করলে ট্রাম্প টুইটে বলেন, ‘মনে করুন, সিরিয়ার এই মুক্তিযোদ্ধারা বিমানে করে আমাদের ভবনে উড়ে আসতে চায়। তিনি আরো দাবি করেন, সিরিয়ার বিদ্রোহীদের অনেকেই ইসলামি মৌলবাদী; যারা খ্রিষ্টানদের খুন করছে। কেন আমরা তাদের সঙ্গে লড়াই করবো?

    রুশ-মার্কিন সমন্বয়, মোকাবেলা নয়

    সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হামলার পর এখন কি ঘটতে যাচ্ছে অধিকাংশ বিশ্লেষকের মনযোগ এখন সেদিকেই। গত সপ্তাহে সিরিয়ার হোমস নগরীর বিমানঘাঁটিতে বেশ কয়েকবার হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অন্তত তিন সদস্য নিহত হয়। শুক্রবার সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর ঘোষণা দেয় সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত বাহিনী। তাদের এই ঘোষণার জবাব দেয়ার মোক্ষম সময় হিসেবে শনিবার একযোগে হামলা চালানোর পথ বেছে নেয় ইঙ্গ-মার্কিন-ফরাসী জোট।

    ইরানের ওই ঘোষণা এবং ইসরায়েলি হামলার সময় নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখে রাশিয়া। বাগাড়ম্বরপূর্ণ বাক-বিতণ্ডা থেকে বিরত থাকে দেশটি। তবে এটা টুকে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন হামলা চালানোর সময় সিরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি; যা বর্তমানে রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে।

    সর্বশেষ এই মার্কিন জোটের অভিযান ও আগের বিমান হামলার পর রাশিয়ার সঙ্গে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন বলে অনেকেই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। সিরিয়ায় রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। ২০১৫ সালে দেশটিতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পর থেকে ওয়াশিংটন এবং মস্কো সামরিকভাবে সমন্বয় করে আসছে। এবং ভবিষ্যতে সিরিয়ায় যাই ঘটুক না কেন যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া নিশ্চিতভাবে একটি নিষ্পত্তিতে পৌঁছাবে।

    এদিকে, একজন আছেন যিনি বিশ্বাস করেন উভয় পক্ষের জন্যই সিরিয়া পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশের ভেতরে ট্রাম্প বর্তমানে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন। নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্তের জেরে সম্প্রতি ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেনের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে এফবিআই। গত সপ্তাহের এ ঘটনা নিয়ে মোটামুটি অস্বস্তিতেই রয়েছেন তিনি। এফবিআইয়ের তদন্তের এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প সিরিয়া শাসক আসাদের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যাচ্ছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে সংবাদ প্রচার করা হয়।

    অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে ক্রেমলিন; পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রুশ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো খারাপ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থেকে বিশ্ব সুপার পাওয়ারের তকমা ছিনিয়ে নিতে মরিয়া রাশিয়া দেশের ভেতরে ও বাইরের সমস্যা থেকে জনগণকে দূরে রাখার উপযুক্ত সময় বগলদাবা করতে সক্ষম হয়েছে।

  • সিরিয়ায় মার্কিন হামলা নিয়ে রাশিয়ার নিন্দা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

    সিরিয়ায় মার্কিন হামলা নিয়ে রাশিয়ার নিন্দা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

    সিরিয়ায় মার্কিন জোটের হামলার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার উত্থাপিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে পাশ্চাত্যের দেশগুলো। শনিবার মস্কোর আহ্বানে পরিষদের জরুরি বৈঠক বসলেও তাতে কোনো সমাধান আসেনি।

    এর মধ্যেই সিরিয়ায় অভিযান পরিচালনায় পাশে থাকায় মিত্রদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে আবারো রাসায়নিক হামলার ঘটনা ঘটলে আসাদ সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে সিরিয়ায় মার্কিন হামলার প্রতিবাদে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে।

    সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হামলার বিষয়ে শনিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী বৈঠকের আহ্বান করে রাশিয়া। বৈঠকে দামেস্কে হামলা চালানোর জন্য নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করে মস্কো।

    সদস্য দেশগুলোর আলোচনার পর নিন্দা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকে সিরিয়ায় হামলার পক্ষে সাফাই গায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ১৫ সদস্য দেশের মধ্যে কেবলমাত্র চীন এবং বলিভিয়া রুশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।

    জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি কারেন প্রিস বলেন, ‘এটা বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে যে, রাসায়নিক হামলার পক্ষে কয়েকটি দেশ কথা বলছে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে নিরপরাদ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়াতে যুক্তরাজ্য বেআইনি কিছু দেখতে পায় না।’

    অন্যদিকে যৌথ হামলার সফলতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তবে এই হামলায় যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বিরোধী দল লেবার পার্টি। সিরিয়ায় হামলার বিষয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। রাসায়নিক হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই সিরিয়ায় হামলা চালানো হয় বলে পেন্টগন জানিয়েছে।

    পেন্টাগন আরো জানায়, কোনো সন্দেহ নেই সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে আসাদ সরকার। এটি নিশ্চিত হয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ৭ ঘণ্টায় পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে সব জায়গাতেই সফলভাবে হামলা চালাতে পেরেছি।’

    এদিকে টুইট করে পশ্চিমা মিত্রদের এক হয়ে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে সিরিয়ায় আবারো রাসায়নিক হামলা চালানো হলে তার জন্য আসাদ সরকারকে আরো চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুশিয়ার করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, ‘সিরিয়ায় সফল অভিযান চালানোর জন্য আমি মার্কিন এবং মিত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানায়। সেই সঙ্গে বলতে চাই, সিরিয়ায় আবারো রাসায়নিক হামলা চালানো হলে, তার জন্য আসাদ সরকারকে আরো চড়া মূল্য দিতে হবে।’

    এরই মধ্যে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিবাদে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন যুদ্ধবিরোধীরা। তারা সিরিয়ায় হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেন।

  • কাশ্মীরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে ২ মন্ত্রীর পদত্যাগ

    কাশ্মীরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে ২ মন্ত্রীর পদত্যাগ

    ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ৮ বছর বয়সী এক সংখ্যালঘু শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পদত্যাগ করেছেন রাজ্য সরকারের দুই মন্ত্রী। দু’জনই কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতা। ধর্ষণের বিষয়ে এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধীদের কেউই ছাড় পাবে না।

    ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্তদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার কারণে তুমুল সমালোচিত-নিন্দিত শিল্পমন্ত্রী চন্দ্র প্রকাশ গঙ্গা ও বনমন্ত্রী লাল সিং শুক্রবার রাতে পদত্যাগ করেন। ওই অভিযুক্তদের আটক করার পর এর প্রতিবাদে একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সমাবেশের আয়োজন করলে সেখানে গিয়ে বক্তৃতা করেন চন্দ্র প্রকাশ ও লাল সিং।

    কিন্তু সম্প্রতি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তারা। খোদ বিজেপির অংশীদারিত্বের সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিই এ দুই মন্ত্রীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, সরকারে বিজেপি নেতাদের নেতৃত্ব ক্রমেই অসমর্থনযোগ্য হয়ে উঠেছে।

    আসিফা বোনো নামে ওই শিশুকে গণধর্ষণ ও হত্যায় তোলপাড় চলছে ভারতজুড়েই। বিচার দাবিতে রাজনীতিক, সুশীল সমাজের নেতা থেকে শুরু করে কলিউড-টলিউড-বলিউডের তারকারা পর্যন্ত সোচ্চার হয়েছেন। শুরু হয়েছে ‘জাস্টিস ফর আসিফা’ (#JusticeForAasifa) হ্যাশট্যাগ প্রচারণাও।

  • সৌদিতে আগুনে দগ্ধ হয়ে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

    সৌদিতে আগুনে দগ্ধ হয়ে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

    সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দাখেল মাহদুদ এলাকার এক বাড়িতে আগুনে দগ্ধ অন্তত ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়েছেন আরও ৭ জন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের আবুল হোসেনের ছেলে রবিন (২২), গাজীপুরের কালীগঞ্জের হিমেল (২৮), রূপগঞ্জের মজিদ (৫০), ঢাকার যাত্রাবাড়ীর সোলেমান, কিশোরগঞ্জের ইকবাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেলিম ও সিলেটের জোবায়ের।

    এর মধ্যে নরসিংদীর ডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঝের চরের পাভেল (২২) ও ঢাকার খোরশেদ (৫০) গুরুতর আহত বলে জানা গেছে।

  • আলজেরিয়ায় বিমান বিধ্বস্তে ২৫৭ জন নিহত

    আলজেরিয়ায় বিমান বিধ্বস্তে ২৫৭ জন নিহত

    আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের বুফারিকের কাছে বিমানঘাঁটিতে এক সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২৫৭ জন নিহত  হয়েছেন।

    আলজেরিয়ায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানটি ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরী আইআই-৭৬ মডেলের। এটি দক্ষিণ-পশ্চিম আলজেরিয়ার বেছার এলাকায় যাচ্ছিল।

    এদিকে, দেশটির রেডিও-র রিপোর্ট জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ জানা যায়নি।

    আলজেরিয়ার জরুরী বিভাগের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। টিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত বিমানটি থেকে কালো ধূয়া বের হচ্ছে।

  • রোহিঙ্গা হত্যার দায়ে মিয়ানমারে ৭ সেনার কারাদণ্ড

    রোহিঙ্গা হত্যার দায়ে মিয়ানমারে ৭ সেনার কারাদণ্ড

    গত বছর বিচারবহির্ভূতভাবে ১০ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যার দায়ে মিয়ানমারের সাত সেনাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। আজ বুধবার দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হলিং ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।

    গত ২ সেপ্টেম্বর ইনদিন গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ বিচারের মধ্য দিয়ে এটি একমাত্র ঘটনা, যা সেনাবাহিনী স্বীকার করল।

    সিনিয়র জেনারেল মিন অং হলিংয়ের পোস্ট থেকে জানা যায়, সেনাবাহিনী থেকে চার কর্মকর্তাকে অপসারণ করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিন সৈন্যকেও একই ধরনের দণ্ড দিয়ে সাধারণ কয়েদিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত আহ্বান করেছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গন। কিন্তু তা উপেক্ষা করে রুদ্ধদ্বার বিচার অনুষ্ঠিত হয়।

    মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন।

    গত আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনে নামে সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা নিজ দেশে ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

    রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চলাকালে সেখানে রয়টার্সের হয়ে কাজ করছিলেন সাংবাদিক ওয়া লোন (৩১) এবং কিয়াও সো ও (২৭) ওই দুই সাংবাদিক। নির্যাতনের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন করার কারণে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা এমন তথ্য এবং নথি সংগ্রহ করেছেন, যা ‘শত্রুদের কাজে লাগতে পারে’। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

    তাঁদের আটকের এক মাস পর দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে, যা বিরল। সেখানে বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ডে তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যদিও সেনাবাহিনী বরাবরই দাবি করে আসছে, রোহিঙ্গা পুরুষেরা ‘সন্ত্রাসী’। তবে তারা কখনোই তাদের দাবির বিপরীতে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

    এই দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা জানানো হয়। সবাই তাঁদের মুক্তির দাবি জানায়। আজ ওই দুই সাংবাদিকের মুক্তি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলে আদালত তা খারিজ করেন।

    ওই দুই সাংবাদিক বৌদ্ধ গ্রামবাসী, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে, বিভিন্ন তথ্য–প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিলেন। সেখানে ফুটে উঠেছিল গণকবরে ডাম্প করার আগে কীভাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ গ্রামবাসী ১০ জন পুরুষকে হত্যা করেছিল।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইনদিনের এই হত্যাকাণ্ডকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ‘হিমশৈলের উপরিভাগ’ বলে মন্তব্য করেছে।

    ডক্টরস উইদাউট বর্ডারের (এমএসএফ) এক হিসাবে বলা হয়, সামরিক নির্যাতনের প্রথম মাসে অন্তত ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে।

  • লালু প্রসাদের ছেলেকে বিয়ে করছেন ঐশ্বরিয়া রায়

    লালু প্রসাদের ছেলেকে বিয়ে করছেন ঐশ্বরিয়া রায়

    ভারতের বিহার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডির প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের বড় ছেলে তেজ প্রতাপ যাদবের বিয়ে ঠিক হয়েছে। পাত্রীর নাম ঐশ্বরিয়া রায়। না, ইনি বলিউড সুন্দরী ঐশ্বরিয়া বচ্চন রায় নন। তিনি বিহারের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিকা প্রসাদ রাইয়ের মেয়ে।

    জি নিউজের খবর, তেজ প্রতাপ ও ঐশ্বরিয়ার বিয়ে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। অবশেষে আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের বাড়ি থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। আগামী ১৮ এপ্রিল বাগদান পর্বের পর ১২ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হচ্ছে তাদের।

    বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দারোগা প্রসাদ রাইয়ের নাতনি ঐশ্বরিয়া স্নাতক পাস। বর্তমানে কয়েকটি সামাজিক প্রকল্পের ওপর কাজ করছেন তিনি।

    পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় লালু এখন জেলে। কিন্তু ছেলে তেজের বিয়ে নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত তাঁর পরিবার।