Category: আন্তর্জাতিক

  • যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা

    যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা

    অর্ধশতাধিক দলীয় মন্ত্রীর সমর্থন হারানোর পর অবশেষে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সরকারপ্রধানের পাশাপাশি দলীয়প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাগ্রহণ না করা পর্যন্ত অন্তবর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকছেন জনসনই। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে- কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বলছে, এই দৌড়ে এককভাবে কেউই এগিয়ে নেই। তবে আলোচনায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একাধিক নেতা। চলুন দেখে নেওয়া যাক কে হতে পারেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী-

    লিজ ট্রাস
    দলের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে ৪৬ বছর বয়সী এ নেতার। গত সেপ্টেম্বর থেকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে লিজ ট্রাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

    নাদিম জাহাবী
    যুক্তরাজ্যের নতুন এ চ্যান্সেলরের জন্ম বাগদাদের একটি কুর্দি পরিবারে। সাদ্দাম হুসেইনের শাসনামলে ইরাক ছেড়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যখন পাড়ি জমান, তখন ঠিকমতো ইংরেজিও বলতে পারতেন না। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আর বুদ্ধিমত্তার জোরে আজ তিনি মিলিয়নিয়ার। ২০১০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রবেশের আগে পাঁচ বছর পোলিং ফার্ম ইউগভের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। তেল শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে ৫৫ বছর বয়সী এ নেতার।

    ঋষি সুনাক

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৪২ বছর বয়সী এ নেতা একসময় বরিস জনসনের উত্তরসূরী হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মীদের জন্য হাজার কোটি পাউন্ডের প্রণোদনা দেওয়ায় ঘরে ঘরে পৌছে গিয়েছিল সদ্য পদত্যাগকারী ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রীর নাম। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্ত্রীর নন-ডোম ট্যাক্স স্ট্যাটাস, নিজে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড নেওয়া এবং যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিতে প্রতিক্রিয়া জানানোয় অতি ধীরগতি বিতর্ক সুনাকের খ্যাতি অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। এরপরও বরিস জনসনের উত্তরসূরী হওয়ার প্রতিযোগিতায় তার নাম আসছে জোরেশোরেই।

    বেন ওয়ালেস
    কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ নেতাদের কাতারে বেন ওয়ালেসের নাম উঠে এসেছে বেশি দিন হয়নি। তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া এবং আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর লোকজন সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাবেক আর্মি ক্যাপ্টেন ওয়ালেস ২০০৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হন, এর আগে অবশ্য স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। ২০১৫ সালে ডেভিড ক্যামেরনের সরকারের জুনিয়র মন্ত্রী থেকে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে পদোন্নতি পান ৫২ বছর বয়সী এ নেতা।

    সাজিদ জাভিদ
    ব্রিটিশ সরকারের হাল ধরার মতো আরেকজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক হলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ। সদ্যই যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সরকারের ছয়টি বিভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার, এর মধ্যে ২০১৯ সালে লিডারশিপ কন্টেস্টে চতুর্থও হয়েছিলেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী সুনাকের সঙ্গে সাজিদের বন্ধুত্ব সর্বজনবিদিত। ফলে তাদের একজন প্রধানমন্ত্রী এবং আরেকজন চ্যান্সেলর হওয়ার সম্ভাবনা এখন বেশ আলোচিত। সুনাক আগে রাজস্ব মন্ত্রণালয়ে সাজিদের সহযোগীও ছিলেন।

    পেনি মর্ডান্ট
    বর্তমান মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে কেউ যদি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তবে তার এক নম্বর দাবিদার পেনি। ৪৯ বছর বয়সী এ নেতা কনজারভেটিভ পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় এমপিদের একজন। বেটিং কোম্পানি ল্যাডব্রোকসের নজরে জনসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষস্থান দখলকারী পেনি। তাছাড়া, চলতি সপ্তাহে কনজারভেটিভহোমের জরিপে সম্ভাব্য দলীয়প্রধান হিসেবে ওয়ালেসের কাছে সামান্য ভোটে হেরেছেন বর্তমানে বাণিজ্যমন্ত্রী।

    অন্যান্য
    এছাড়াও যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান টম টুগেনধাট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল, জ্বালানি মন্ত্রী কোয়াসি কোয়ার্টেং, আবাসন মন্ত্রী মাইকেল গভ প্রমুখ।

  • যুদ্ধের মধ্যে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মানবাধিকার লঙ্ঘন: প্রধানমন্ত্রী

    যুদ্ধের মধ্যে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মানবাধিকার লঙ্ঘন: প্রধানমন্ত্রী

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমেরিকার স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, আমি মনে করি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কখনো কোনো দেশ বা জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সেটা নিশ্চয়ই এখন দেখতে পাচ্ছেন। তার প্রভাব তার নিজেদের দেশের ওপরও পড়ে। কাজেই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া এবং পণ্য পরিবহন (স্বাভাবিক রাখা দরকার), আর যুদ্ধ যাদের করার করতে থাকেন। কিন্তু পণ্য পরিবহন বা আমদানি-রপ্তানি এটা তো সহজভাবে হওয়াই উচিত, সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ খাদ্যটা মানুষের সব থেকে বড় চাহিদা। আর সেখানেই সমস্যায় পড়ে গেছে অনেক উন্নত দেশও।

    বৃহস্পতিবার (৭ জুলঅই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ৮ তলা অফিস ভবন উদ্বোধন এবং বঙ্গবন্ধ কূটনৈতিক উৎকর্ষ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য যে যখন সারাবিশ্ব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে বিরাট ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, ঠিক সেই সময়ে ইউক্রেন এবং রাশিয়া যুদ্ধে জড়ায়। এতে বিশ্বব্যাপী মানুষের অবস্থাটা আরও করুণ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার ওপর আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, এর ফলে আমাদের পণ্য প্রাপ্তিতে বা যেগুলি আমরা আমদানি করি সেখানে বিরাট বাধা আসছে। শুধু বাধাই না, পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে এবং আমরা যেখানে প্রয়োজনীয় পণ্য পাবো সে প্রাপ্তির ক্ষেত্রটাও সংকুচিত হয়ে গেছে। এই প্রভাবটা শুধু বাংলাদেশে না, আমি মনে করি আমেরিকা, ইউরোপ থেকে শুরু করে সারাবিশ্ব প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, মানুষ কিন্তু কষ্ট ভোগ করছে। এটা আসলে সবার, অন্তত উন্নত দেশগুলির বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিত। আমেরিকাকেই বিবেচনা করা উচিত তারা যে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে তাতে তাদের দেশের লোকও যে কষ্ট পাচ্ছেন। সেদিকেও তাদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) যাদের বিরুদ্ধে দিচ্ছেন তাদেরকে আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাচ্ছেন। কিন্তু কতটুকু তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? তার থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। উন্নত দেশ, উন্নয়নশীল দেশ- সব দেশের মানুষই, যারা নিম্ন আয়ের সব দেশগুলি কিন্তু কষ্ট পাচ্ছে।

    সরকার প্রধান বলেন, করোনা মহামারি থেকে কেবল আমরা একটু উদ্ধার পাচ্ছিলাম। তখনই এই যুদ্ধ আর নিষেধাজ্ঞা। এটা সত্যি আমাদের জন্য বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    তিনি বলেন, আমরা যেটা খবর পাই বিভিন্ন দেশ থেকে, আমাদেরও অনেক লোক সেখানে বসবাস করেন। প্রত্যেকের জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কী অর্থ থাকতে পারে আমরা ঠিক জানি না। এখানে আমি বলবো, একদিক থেকে বলতে গেলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। মানুষের যে অধিকার আছে সে অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। আমরা আশা করি যে একটি দেশকে শাস্তি দিতে গিয়ে বিশ্বের মানুষকে শাস্তি দেওয়া- এখান থেকে সরে আসাটাই বোধহয় বাঞ্চনীয়। সবাই সেটাই চাইবে- আমি এটা মনে করি।

    এ সময় করোনাভাইরাসের কারণে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে বলে জানান সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আমাদের যথেষ্ট সমস্যার সৃষ্টি করছে। আশা করি এই বিষয়টা উন্নত দেশগুলি একটু দেখবে। জলবায়ুর অভিঘাত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি- আমরা যাতে বাঁচতে পারি সেটাও সবাই দেখবেন সেটাই আমরা চাই।

    শেখ হাসিনা বলেন, একটা বিষয় আমি একটু না বললে নয়, সেটা হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুটা। আমরা মানবিক কারণে এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু তিনটা বছর পূর্ণ হয়ে গেছে। আমাদের জন্য আসলে এটা একটা বিরাট বোঝা। একে তো এই করোনাভাইরাস, তার ওপরে যুদ্ধ- এই পরিস্থিতিতে উন্নত দেশগুলি যেখানে অর্থনৈতিক ক্ষেতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমাদের এই সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের ওপরে এই আরেকটা বোঝা টানা যে কত কষ্টকর- সেটা সবার উপলব্ধি করা উচিত।

    তিনি বলেন, আমি মনে করি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এবং দেশগুলি যদি আর একটু সক্রিয় হয়ে এই রোহিঙ্গারা যেন তাদের নিজের দেশে ফিরে যেতে পারে, তাদের ছেলে-মেয়েরা যেন তাদের নিজের দেশে মানুষ হতে পারে, তারা একটা ভালো পরিবেশে চলে যেতে পারে, এভাবে ক্যাম্পের জীবন-যাপন যেন না করতে হয়। তাদেরও তো একটা মানবাধিকার আছে। কাজেই সে ব্যাপারে সবাই একটু সক্রিয় হবেন সেটাই আমি আশা করি।

    কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে সমস্যাগুলো ছিল সবার সঙ্গে আলোচনা করে দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছি বলে জানান সরকার প্রধান।

    তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। পৃথিবীটা একটা গ্লোবাল ভিলেজ। আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। সেভাবেই আমাদের কাজ করতে হবে যে সবার সঙ্গে মিলে আমরা কাজ করবো যাতে মানুষের উন্নতি হয়। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমার কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমার দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি। সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে আমরা আমাদের উন্নয়নটা ত্বরান্বিত করতে চাই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজস্ব সামর্থ্য যতটুকু আছে আমরা সেইভাবেই চলতে চাই। আমরা অহেতুক কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত পয়সা নেই না। একটা কাজ করলে মানুষ কতটা লাভবান হবে, আমরা যেন কারও ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ি। আমরা যেন আত্মনির্ভরশীল থাকতে পারি, আত্মমর্যাদাশীল থাকতে পারি এবং আমরা যেন বিশ্ব দরবারে মাথা উচুঁ করে চলতে পারি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এটা গুরুত্ব দিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

  • পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

    পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

    পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। নিজ দলের মন্ত্রীদের গণপদত্যাগ ও এমপিদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সরকারপ্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

    এদিন ডাউনিং স্ট্রিটে সরকারি বাসভবনের দরজায় দাঁড়িয়ে জনসন জানান, সহকর্মীদের মতামতকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন এ কনজারভেটিভ নেতা।

    এর আগে অবশ্য পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছিলেন বরিস জনসন। বলেছিলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর কাজ হচ্ছে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। তাই আমি পদত্যাগ করবো না। তাছাড়া আমার প্রতি বড় ম্যানডেট রয়েছে।

    তবে এরপর একযোগে ৫৪ মন্ত্রী পদত্যাগ করলে জনসন সরকারের পতন কেবল সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। শেষপর্যন্ত দলীয় মন্ত্রী-এমপিদের অনুরোধে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হন তিনি।

    সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন বরিস ও তার সরকার। করোনা লকডাউন চলাকালে সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটে একাধিক মদের আসর বসিয়ে তিনি সমালোচনার জন্ম দেন। গত মাসে তার বিরুদ্ধে দলীয় আস্থাভোট আনা হলেও তাতে পার পেয়ে যান বরিস।

    তবে দলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয় ডেপুটি চিফ হুইপ হিসেবে ক্রিস পিনচারকে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার পর। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বরিস স্বীকার করেন, ক্রিস পিনচারের অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়টি তার জানা ছিল। তারপরও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ডেপুটি চিফ হুইপ করেন তিনি। এটি ছিল তার একটা ‘বাজে ভুল’। বরিসের এই স্বীকারোক্তি তাকে চাপে ফেলে দেয়।

    বৃহস্পতিবার সরকারি বাসভবনের দরজায় দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ কারণে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা উচিত।

    জনসন বলেন, পৃথিবীর সেরা চাকরি ছেড়ে দিতে হওয়ায় আমি দুঃখিত। তবে এটি বিরতি।

    তিনি বলেন, আমরা এত কিছু দিচ্ছি, এত বিশাল ম্যান্ডেট রয়েছে, যখন অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে অর্থনীতির পরিস্থিতি ভালো নয়, তখন সরকার পরিবর্তন করা উদ্ভট ব্যাপার। আমার আফসোস হচ্ছে, বিতর্কে জিততে পারিনি।

    জনসন আরও বলেন, রাজনীতিতে কেউই অপরিহার্য নয়। আমাদের উজ্জ্বল এবং ডারউইনীয় ব্যবস্থা অন্য নেতা তৈরি করবে।

  • পাকিস্তানে প্রবল বর্ষণে ৭৭ জনের প্রাণহানি

    পাকিস্তানে প্রবল বর্ষণে ৭৭ জনের প্রাণহানি

    পাকিস্তানে প্রবল বর্ষণে অন্তত ৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বেলুচিস্তান প্রদেশে। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শেরি রেহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর জিও নিউজের।

    শেরি রেহমান এত মৃত্যুর ঘটনাকে জাতীয় দুর্যোগ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ প্রবল বর্ষণে শতাধিক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। তাছাড়া ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, মৃত্যু ও ধ্বংস এড়াতে আমাদের একটি ব্যাপক পরিকল্পনা দরকার। কারণ এই দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটছে।

    পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। আরও একদিন ভারি বৃষ্টি থাকবে। তাছাড়া নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

  • সৌদি পৌঁছেছেন ৬০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী

    সৌদি পৌঁছেছেন ৬০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী

    শেষ হলো সৌদি আরবে যাওয়ার হজ ফ্লাইট।‌ মঙ্গলবার (৫ জুন) পর্যন্ত গত ৩২ দিনে ১৬৫টি ফ্লাইটে সৌদি আরবে গেছেন ৬০ হাজার ১৪৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী।

    ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্কের হজের প্রতিদিনের বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী—১৬৫টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৭টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩০ হাজার ৩৬৩ জন হজ যাত্রী পরিবহন করেছে

    এছাড়া সৌদি এয়ারলাইন্স ৬৪টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ২৩ হাজার ৯১৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৪টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৫ হাজার ৮৬৪ জন হজযাত্রী পরিবহন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ১৩ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ নয়জন ও নারী চারজন। সর্বশেষ মঙ্গলবার নওগাঁর মো. আব্দুল মোত্তালিব (৫৮) মক্কা আল-মুকাররমায় ইন্তেকাল করেছেন। তার পাসপোর্ট নম্বর: বিটি ০৬৮৬৭১০।

    আগামী ৮ জুলাই হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর কোটা ৬০ হাজার জন। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ১৪ জুলাই, ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে ৪ আগস্ট।

  • বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত শস্যের অর্ধেকেরও কম যায় মানুষের পেটে

    বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত শস্যের অর্ধেকেরও কম যায় মানুষের পেটে

    ইউক্রেনের পতাকায় নীল-হলুদ রঙ দেশটির মেঘহীন আকাশের নিচে গমের প্রাচুর্যের প্রতীক। কিন্তু সেই আকাশ আজ গাঢ় ধোঁয়ায় ধূসর বর্ণ ধারণ করেছে। ট্রাক্টরগুলোতে এখন শস্য নয়, আনা-নেওয়া হচ্ছে যুদ্ধের সরঞ্জাম। আর রুশ নৌবাহিনীর অবরোধে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না ইউক্রেনের উৎপাদিত শস্যগুলো। যুদ্ধের প্রভাবে এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে, এতে অন্তত ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়েছে।

    ইউক্রেনের শস্য রেলপথে বিদেশে পাঠানো কঠিন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যদি তারা এভাবে বিচ্ছিন্নই থাকে, তাহলে বিশ্ববাসীর চাহিদা মেটাতে অন্য অঞ্চলগুলোতে শস্য উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে।

    তবে বাস্তবতা বলছে, বিশ্বের সব মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর মতো শস্য এরই মধ্যে উৎপাদন হয়েই রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, এর ৪৩ শতাংশ হয় জৈব জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হবে নাহয় পশুপাখির পেটে যাবে এবং এর পরিমাণ হবে রাশিয়া-ইউক্রেনে উৎপাদিত শস্যের প্রায় ছয়গুণ বেশি।

    বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত শস্যের অর্ধেকেরও কম যায় মানুষের পেটে

    বিশ্বে উৎপাদিত মোট শস্যের অর্ধেকেরও কম মানুষের পেটে যায়। যেমন- গমের কথাই ধরা যাক। রাশিয়া-ইউক্রেনে উৎপাদিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য এটি। সবশেষ ২০১৯ সালে পাওয়া তথ্য বলছে, ওই বছর বর্তমানে যুদ্ধরত দেশ দুটিতে গম উৎপাদন হয়েছিল মোট ১০ কোটি ৩০ লাখ টন। অথচ একই বছর বিশ্বজুড়ে পশুপাখির খাদ্য হয়েছিল অন্তত ১২ কোটি ৯০ লাখ টন গম, আরও ২ কোটি ২০ লাখ টন ব্যবহৃত হয়েছিল জৈব জ্বালানি তৈরিতে।

    রাশিয়া-ইউক্রেনের দ্বিতীয় প্রধান শস্য ভুট্টা মানুষের খাবার প্লেটে ওঠে আরও কম। বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত ভুট্টার মাত্র ১৩ শতাংশ খায় মানুষ। তার ওপর দেশ দুটিতে চাল উৎপাদন একেবারে সামান্য হওয়ায় তাদের উৎপাদিত শস্যে মানুষের ক্ষুধা নিবারণের হার মাত্র ৩৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড় ৪৬ শতাংশেরও কম।

    ২০১০-এর দশকে বিশ্বে জনসংখ্যা যে হারে বেড়েছে, তারচেয়েও দ্রুত বেড়েছে শস্য উৎপাদন। ওই বছরগুলোতে বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১১ শতাংশ, সেই তুলনায় শস্য উৎপাদন বেড়েছে অন্তত ১৭ শতাংশ। এসময় অনেকে অভুক্ত থাকলেও মানুষের মাথাপিছু খাদ্যগ্রহণের হার ছিল প্রায় অপরিবর্তিত। ফলে বাড়তি শস্যগুলো ব্যবহৃত হয়েছে অন্য কাজে। ১০ ভাগের প্রায় নয়ভাগ রূপান্তরিত হয়েছে জৈব জ্বালানিতে (যা প্রধানত যানবাহনে ব্যবহৃত হয়), তবে সিংহভাগই গেছে পশুপাখির পেটে।

    দ্য ইকোনমিস্টের হিসাবে, বিশ্বে শূকরের মোট সংখ্যা যদি কোনো একটি দেশের জনসংখ্যা হতো, তবে সেটিই হতো শস্যের এক নম্বর ভোক্তা। এরা যে পরিমাণ শস্য খাবার হিসেবে গ্রহণ করে, তা দিয়ে বিশ্বের ২০০ কোটি মানুষের ক্ষুধা নিবারণ সম্ভব।

    ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত শস্যের পরিমাণ বছরে ৭৭ কোটি টন থেকে বেড়ে ৯৮ কোটি ৭০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এই সময়ে বিশ্বে চারণভূমি কমলেও মাংসের প্রতি মানুষের আগ্রহ অনেক বাড়তে দেখা গেছে।

    ভুট্টার ভূসির মতো শস্যজাত কিছু জিনিস মানুষের খাবারের উপযোগী নয়। এগুলো পশুপাখিকে খাওয়ানোর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মানুষেরই খাদ্য উপাদন হয়; যেমন- দুধ, ডিম, মাংস। তবে এই প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত অপচয়কারী। একটি গরুকে প্রতি ১০০ ক্যালরির শস্য খাওয়ালে মাত্র তিন ক্যালোরির মাংস পাওয়া যায়। তাছাড়া এদের জন্য নানা খাদ্যশস্য উৎপাদন ও চারণভূমির পাশাপাশি লালন-পালনে যে জমি ব্যবহৃত হয়, সেখানে মানুষের জন্যই খাদ্যশস্য উৎপাদন করা যেতো।

    বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত শস্যের অর্ধেকেরও কম যায় মানুষের পেটে

    ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে অধিক পরিমাণ শস্যকে খাদ্যে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জার্মানি ও বেলজিয়াম জৈব জ্বালানি নীতির বাধ্যবাধকতা শিথিল করতে পারে। চীন এরই মধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ভুট্টাকে ইথানলে রূপান্তর ‘কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করবে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় চলতি বছরের মধ্যে জৈব জ্বালানির চাহিদা আরও পাঁচ শতাংশ বাড়বে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ)।

    এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট সমাধানের একমাত্র উপায়- নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো। তবে আপাতত অপচয় কমানো এবং পশুখাদ্যের পরিবর্তে গম-ভুট্টাকে মনুষ্য খাদ্যে পরিণত করাই সম্ভবত সেরা প্রতিকার। মজার বিষয় হলো, বিশ্বের শস্যঘাটতি দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো- মানুষকে আরও বেশি করে শস্য খেতে হবে, কমাতে হবে মাংস খাওয়া।

  • পাকিস্তানি প্রেমিকের কাছে যেতে গিয়ে সীমান্তে আটক ভারতীয় শিক্ষিকা

    পাকিস্তানি প্রেমিকের কাছে যেতে গিয়ে সীমান্তে আটক ভারতীয় শিক্ষিকা

    পাকিস্তানি প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে সীমান্তে আটক হয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় স্কুলশিক্ষিকা। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভি সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াঘা সীমান্ত থেকে ফিজা খান নামের ওই শিক্ষিকাকে আটক করা হয়।

    জানা গেছে, ওই তরুণী মধ্য প্রদেশের রেওয়া জেলার একটি স্কুলের শিক্ষিকা। তিনি পাকিস্তানের লাহোরের এক যুবকের প্রেমে পড়েছেন।

    তাকে বিয়ে করার জন্যই সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন ফিজা। তখন পুলিশ আটক করে তাকে।
    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ফিজা খান ও ওই পাকিস্তানি যুবকের মধ্যে। এরপরই তারা দু’জনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

    তরুণীটি নয়া দিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তানি হাইকমিশন থেকে ভিসা নেন এবং পরিবারকে না জানিয়েই পাকিস্তানে রওনা হয়েছিলেন।
    তরুণীর বাবা তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি থানায় জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে থানা কর্তৃপক্ষ দেশটির এয়ারপোর্ট, রেলওয়ে স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়। এই নির্দেশনা ওয়াঘা বর্ডারে দায়িত্বরত ভারতীয় ফোর্সের কাছেও পাঠানো হয়।

    তাই যখন-ই তরুণীটি ওয়াঘায় পৌঁছায়, তখনই অফিসাররা তাকে হেফাজতে নিয়ে নেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী এই প্রেম কাহিনীকে একটি স্পর্শকাতর নিরাপত্তা ইস্যু মনে করে তাকে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা নিয়েছে।

  • প্রচণ্ড দাবদাহে জাপানে বিদ্যুৎ সংকট, সতর্কতা জারি

    প্রচণ্ড দাবদাহে জাপানে বিদ্যুৎ সংকট, সতর্কতা জারি

    জাপানে প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে দেশজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ–সংকট দেখা দিতে পারে।

    রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, টোকিওতে বর্ষা মৌসুম আগেভাগেই বিদায় নেওয়ায় প্রচণ্ড গরম পড়তে শুরু করেছে তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সোমবার টোকিওতে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়েছে।

    আগামী রোববার পর্যন্ত এটা ৩৪ ডিগ্রির নিচে নামবে না। গতকাল রাত থেকে বিদ্যুৎ–বিভ্রাট শুরু হওয়ার সতর্কতা জারি করেছিল কর্তৃপক্ষ, যা কয়েক দিন ধরে চলতে পারে।
    রবিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডেপুটি চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিহিকো ইসোজাকি বলেছেন, আমরা জনগণকে সন্ধ্যার শুরুর দিকে বিদ্যুৎ অপচয় না করার আহ্বান জানাচ্ছি। সতর্ক করে তিনি বলেন, শীতল থাকতে এবং হিটস্ট্রোক (প্রচণ্ড গরমে নানা শারীরিক সমস্যা) এড়াতে বাসিন্দাদের যা যা করা দরকার, তা–ই করা উচিত।

  • যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে ট্রাক-ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৩

    যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে ট্রাক-ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৩

    যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর একটি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে তিন জন নিহত ও অন্তত ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার ১২টা ৪২ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    লস অ্যাঞ্জেলেস-শিকাগোগামী ট্রেনটি মেন্ডন শহরের কাছে একটি রেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় ২৪৩ জন যাত্রী ছিলেন ট্রেনটিতে।

    দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সার্ভিস বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

    এক বিবৃতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রেল অপারেটরের (অ্যামট্রাক) তরফে জানানো হয়েছে, ক্যানসাস শহর থেকে ৮৪ মাইল (১৩৫ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত শহর মেন্ডনের কাছে একটি ট্রেনের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয় ক্রসিং অতিক্রম করার সময়। এরপর ট্রেনটির বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ট্রেনটিতে ১২ জন ক্রু সদস্যও ছিলেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে ট্রাক-ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৩

    মিসৌরি হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ট্রেনের দুই যাত্রী ও ট্রাকের একজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের এক সদস্য জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

    ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রেল অপারেটর কর্তৃপক্ষ।

  • পদ্মা সেতু সফলভাবে সম্পন্ন করায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের অভিনন্দন

    পদ্মা সেতু সফলভাবে সম্পন্ন করায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের অভিনন্দন

    পদ্মা বহুমুখী সেতু সফলভাবে সম্পন্ন করায় বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান।

    সোমবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ঢাকা বিমানবন্দরে হজযাত্রীদের জন্য প্রি-ইমিগ্রেশন সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূত ও সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এসময় বাংলাদেশে আরও সৌদি বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত।

    প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে চমৎকার সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে তার প্রচেষ্টার জন্য তিনি রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।

    রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ, চট্টগ্রাম ও জেদ্দার মধ্যে সরাসরি শিপিং, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।