Category: আন্তর্জাতিক

  • পাকিস্তানজুড়ে শোরগোল, নতুন মন্ত্রিসভায় ৫ নারী

    পাকিস্তানজুড়ে শোরগোল, নতুন মন্ত্রিসভায় ৫ নারী

    পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিজের মন্ত্রিসভা সাজিয়েছেন। নানা টালবাহানার পরে গতকাল শপথ নিয়েছেন সদ্যগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যরা। আর সেখানে চমক রেখেছেন পিএমএল-এন প্রধান শাহবাজ। তার মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছে পাঁচ নারী সদস্য। খবর ডনের।

    দেশটির সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মন্ত্রিসভায় নারীরা তেমন গুরুত্ব পাননি। কিন্তু শাহবাজ নিজের মন্ত্রিসভায় পাঁচ নারীকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেরি রহমান, হিনা রব্বানি খার, সাজিয়া মারি, মরিয়ম আওরঙ্গজেব ও আয়েশা গউস পাশা।

    এদিকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান তথা বেনজির ভুট্টোর পুত্র বিলাওয়াল জারদারি ভুট্টো শরিফের এই মন্ত্রিসভায় আপাতত কোনো পদ পাননি। তবে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে জল্পনা চলছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন বিলাওয়াল। তবে শরিফ আপাতত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদটি নিজের কাছেই রেখেছেন। আর সেই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন পিপিপির নেত্রী হিনা রব্বানি খারকে।

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে হিনার দলের চেয়ারম্যান অর্থাৎ বিলাওয়ালকেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসনে বসাতে পারেন শরিফ। তবে তার আগে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিজে মাপতে চাইছেন শাহবাজ। তাই আপাতত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রেখেছেন এই মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন এক নারীকেই

    যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শেরি রহমানকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন শরিফ। ইমরান খানের আমলে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তার দলের জাররতাজ গুল। কিন্তু তিনি ততটা গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এক এক সময়ে পরিবেশ সংক্রান্ত নানা বিতর্কিত কথা বলে সংবাদের শিরোনামে থেকেছেন গুল।

    পিএমএল-এন নেত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেবকে তথ্যমন্ত্রীর পদ দিয়েছেন শাহবাজ। বরাবরের স্পষ্টবাদী মরিয়মও নিজের কাজ ভালোভাবেই সামলাতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় আরও দুই নারী মুখ হলেন পিপিপি-র নেত্রী সাজিয়া মারি ও পিএমএল-এনের আয়েশা গউস পাশা। তারা দু’জনেই প্রথমবারের জন্য পাকিস্তানের মন্ত্রী হলেন। সাজিয়াকে বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম (বিআইএসপি) মন্ত্রণালয় ও আয়শাকে অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • দিল্লিতে বাড়ির সামনে বিজেপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    দিল্লিতে বাড়ির সামনে বিজেপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে স্থানীয় এক বিজেপি নেতাকে। তার নাম জিতু চৌধুরী। বুধবার রাত ৮টার দিকে দিল্লির ময়ূর বিহার এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জিতুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর এনটিভির।

    দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ময়ূর বিহারের সি-ওয়ানে ভিড় দেখে দাঁড়ায় তাদের টহলদারী ভ্যান। এসময় দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছন একজন। তাকে ঘিরেই স্থানীয় লোকজনের ভিড়।

    পরে পুলিশ জানতে পারে ওই ব্যক্তির নাম জিতেন্দ্র ওরফে জিতু চৌধুরী। তিনি এলাকায় বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এদিকে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে আততায়ীকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক কারণ না কি ব্যক্তিগত শত্রুতা। কেন জিতুকে এ ভাবে খুন হতে হলো তা তদন্ত করে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

  • অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাধা যুদ্ধ, আরও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

    অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাধা যুদ্ধ, আরও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে বিশ্ব অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, দুই বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম হবে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    আইএমএফ এক পর্যবেক্ষণে জানায়, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

    সংস্থাটি অনুমান করছে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতি তিন দশমিক ছয় শতাংশ বাড়তে পারে, যা ২০২১ সালের চেয়ে অনেক কম। কারণ এ সময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ছয় দশমিক এক শতাংশ। তাছাড়া জানুয়ারিতে পূর্বাভাস দেওয়া থেকে যথাক্রমে শূন্য দশমিক আট ও শূন্য দশমিক দুই শতাংশ কম।

    এদিকে বিশ্ব ব্যাংকও পূর্বাভাসের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার ইঙ্গিত দিয়েছে। বর্তমানে এটি ধারণা করছে ২০২২ সালে বিশ্ব অর্থনীতি বাড়তে পারে তিন দশমিক দুই শতাংশ।

    আইএমএফের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, যুদ্ধ এখনো ইউক্রেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে রাশিয়ার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা ও মহামারির ফলে অর্থনীতি নিম্নমুখী থাকবে।

    তাছাড়া যুদ্ধের ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংস্থাটি অনুমান করছে, চলতি বছরে ইউক্রেনের অর্থনীতি ৩৫ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। একই সময় রাশিয়ার অর্থনীতি কমতে পারে আট দশমিক পাঁচ শতাংশ।

    দেশ দুইটির মধ্যে চলা যুদ্ধের ফলে এরই মধ্যে জ্বালানিসহ নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট। আশঙ্কা করা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়ে।

    আইএমএফ জানায়, বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তীব্র বাধার সৃষ্টি করবে এই যুদ্ধ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়াবে।

  • পুতিনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ বাইডেনের

    পুতিনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ বাইডেনের

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক অনুষ্ঠানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের আরও বলেন, আমি একে গণহত্যাই বলছি, কারণ এটি আরও স্পষ্ট যে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়ে যেসব হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তা মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন পুতিন এবং এই প্রমাণগুলো আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে কিনা সেটি আইনজীবীরাই জানাবেন, তবে আমার মনে হয় সেটিই ঘটেছে।

    এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনই এটিকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করলেন।

    পুতিনের বিরুদ্ধে বাইডেনের ‘গণহত্যার’ অভিযোগ আনার পরপরই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বক্তব্যকে ‘সত্য কথা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন জেলেনস্কি।

    এদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করছে দেশটি। এর মাঝে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে একের পর এক গণকবরের সন্ধান পাওয়ার দাবি করছে তারা। গত রোববার এক হাজার দুশো’র বেশি মরদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ।

    রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশের পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা শুরু করেন রাশিয়ার সেনারা। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক থেকে, এমনকি বেলারুশ থেকেও হামলা চালানো শুরু হয়। ধীরে ধীরে রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হয় রুশ সেনারা। দু’পক্ষের লড়াই গড়িয়েছে দ্বিতীয় মাসে।

    সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি

  • পাকিস্তানে নতুন সরকারের সামনে যত চ্যালেঞ্জ

    পাকিস্তানে নতুন সরকারের সামনে যত চ্যালেঞ্জ

    অনাস্থা ভোটে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন মুসলিম লীগ (নওয়াজ) নেতা শাহবাজ শরিফ। শিগগির নতুন সরকার ঘোষণা করবেন তিনি। কিন্তু বহু মতের বহুদলীয় জোটে গড়া এই সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে খোদ পাকিস্তানি বিশ্লেষকদেরই। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডনের অনলাইনে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তেও এ নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য লেখাটির বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো-

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আসন্ন জোট সরকারের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে শুরুতেই ভয়ংকর কিছু চ্যালেঞ্জ পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ও দেশের কিছু অংশে জঙ্গিবাদের পুনরুত্থান।

    এর চেয়েও বড় কথা, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে বিরোধ থাকা বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী নিয়ে গঠিত ক্ষমতাসীন জোট আগামী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত টিকবে কি না, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। তারা হয়তো ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার সাধারণ লক্ষ্য অর্জন করেছে, কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কী?

    পিটিআই জাতীয় পরিষদ থেকে বেরিয়ে গেছে এবং আগাম নির্বাচনের জন্য তার উত্তরসূরীদের ওপর জনসাধারণের শক্তিশালী চাপ তৈরির প্রতিজ্ঞা করেছে। ফলে নতুন প্রশাসনের জন্য এই যাত্রা খুব একটা মসৃণ হবে না।

    শাহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্ভবত পাকিস্তানের ভেঙে পড়া অর্থনীতি ঠিক করা এবং তার উচিত এটিকে এজেন্ডার শীর্ষে রাখা। পিটিআই উত্তরাধিকার সূত্রে একটি দরিদ্র অর্থনীতি পেয়েছিল, যাকে তারা আরও খারাপ অবস্থায় ফেলেছে; সাধারণ মানুষ উচ্চতর ডাবল-ডিজিট মূল্যস্ফীতির মুখে পড়েছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো কমে যাওয়ার পাশাপাশি তারা বেতন ও চাকরি হারানোর সমস্যায় ভুগছে।

    করোনাকালীন সংক্ষিপ্ত বিরতির পর অর্থপ্রদানের ভারসাম্য সংকট এরই মধ্যে ফিরে এসেছে। কারণ, দেশে অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অতিপ্রয়োজনীয় বহুপাক্ষিক সহায়তা আটকে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্য, বিশেষ করে খাদ্য ও অপরিশোধিত তেলের বাড়তি দাম দুর্বল বাহ্যিক খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

    অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দরকার কঠিন সিদ্ধান্ত। যেমন- বিদ্যুৎ ও পেট্রোলিয়ামের দামের ওপর সীমাবদ্ধতা অবিলম্বে অপসারণ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা করা। এটি যদি অসম্ভব না-ও হয়, তবু যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক মেরামত না করলে তা কঠিনই হবে।

    ক্ষমতাসীন জোট কি পারবে রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এসব সিদ্ধান্ত নিতে? নতুন নির্বাচন খুব বেশি দূরে নয়। তার ওপর ইমরান খানের দল পিটিআই নতুন সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের পর্যালোচনা ও সমালোচনা করবে।

    শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরপরই পার্লামেন্টের বক্তৃতায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন ১০ শতাংশ বাড়ানো এবং গম-আটায় ভর্তুকি দেওয়ার মতো জনপন্থি ঘোষণা তার ওপর মারাত্মক চাপেরই ইঙ্গিত দেয়। একদিকে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিষিদ্ধ করা, অন্যদিকে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা- জোট সরকার ও তার নেতার সামনে খুব বেশি বিকল্প নেই, অন্তত এই মুহূর্তে। তাদের একাধিক সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হতে হচ্ছে।

    পাকিস্তানে অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক নীতির চ্যালেঞ্জের বিশালতা একটি শক্তিশালী সরকারের দাবি করে, যার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় জর্জরিত নয় এবং কঠোর ও অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষেত্রে জনসমর্থন রয়েছে। এ অবস্থায় বুদ্ধিমানের কাজ হবে নির্বাচনী আইন সংস্কার করা ও শিগগির নতুন নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া।

  • শ্রীলঙ্কায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব

    শ্রীলঙ্কায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব

    সংকটময় পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে সম্প্রতি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতাসীন জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া তিনটি রাজনৈতিক দল এবার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বড়ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পরিবর্তে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সোমবার (১১ এপ্রিল) এমন প্রস্তাব আনার বিষয়টি জানায় দলগুলো।

    ২২৫ সদস্যের শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট থেকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ছাড়া পদত্যাগ করেন মন্ত্রিসভার সব সদস্য। এরপর প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন এবং সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানান।

    তিনটি শরিকদলের ১৬ জন আইনপ্রণেতা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এরইমধ্যে তারা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সর্বদলীয় সরকার গঠনের ব্যাপারে। তবে বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

    জাথিকা হেলা উরুমায়া পার্টির প্রধান উদয় গাম্মানপিলা বলেন, আমাদের প্রস্তাব হলো, সব দলের অংশগ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা। সর্বদলীয় ওই কমিটি একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী নিয়োগ করলে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তারা

    এর আগে রোববার (১০ এপ্রিল) তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (টিএনএ) জানায়, প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসেকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পার্লামেন্টে বিরোধী সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব আনলে তাতে দলটি সমর্থন দেবে।

    ২২৫ আসন বিশিষ্ট দেশটির পার্লামেন্টে সামাগি জনা বালাওয়েগায়া (এসজেবি) ও তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের (টিএনএ) সমন্বয়ে আসন রয়েছে ৬৪টি। জোট গঠন করে ১৫০ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল শ্রীলঙ্কা পদুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) দল। কিন্তু সম্প্রতি জোটের ৪২ জন আইনপ্রণেতা পদত্যাগ করেন এবং নিজেদের স্বতন্ত্র বলে ঘোষণা দেন। এদিকে, ১৯ এপ্রিলের আগে বসছে না শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট।

    অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশটির সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনকে দিন আরও বাড়ছে ঋণের বোঝা। খাদ্যপণ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গ কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যদিও অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ার পেছনে করোনা মহামারিকেই দুষছেন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রেসিডেন্টসহ তিনি দেশকে সংকট থেকে বের করে আনতে প্রতিটি মূহুর্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    এসএলপিপি দলের নেতা গোতাবায়া রাজাপাকসে ২০১৯ সালে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তার দল। নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য সংবিধান সংশোধনও করেন তিনি। কিন্তু অভ্যন্তরীণ নানা কারণে সম্প্রতি দেশটির অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

    খাদ্যপণ্যসহ সবধরনের জিনিসের দাম আকাশচুম্বী। গ্যাস, পানির তীব্র সংকট, এমনকি ফুরিয়ে আসছে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সব ওষুধ। এসব কারণে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়াসহ তার বড়ভাই ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে কলম্বোর মানুষ। অর্থনীতির এ হেন অবস্থার জন্য সরকারকেই দায়ী করছেন আন্দোলনকারীরা।

    সূত্র: রয়টার্স, পিটিআই, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

  • বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

    বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) টোকিওতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি ইয়োশিমাসার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

    এ বছর দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এই শুভ বার্ষিকী অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    জাপানের নাম বাংলাদেশের জনগনের কাছে অতি প্রিয় এবং জাপান বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে ব্লু ইকোনমি (সুনীল অর্থনীতি), অটোমোবাইলস, আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালসে, প্রকৌশল, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদির মতো উদীয়মান খাতে বিনিয়োগের অপার সুযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাযাত্রার সঙ্গে জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও আকৃষ্ট হবে। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ব্লু ইকোনমি, আইসিটি এবং ফার্মাসিউটিক্যালসে খাতে আরও সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

    জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশকে বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান অব্যাহত রাখবে।

    এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনা ভ্যাকসিন প্রধানের জন্যে জাপানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এসব সহায়তার কারণেই বাংলাদেশ এ পর্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করেছে।

    এছাড়া দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি নিয়েও আলোচনা করেন। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ভাসানচরে স্বেচ্ছায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরসহ এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে এ পর্যন্ত প্রদেয় সহায়তার পাশাপাশি সমস্যা নিরসনে জাপানের অবিচল প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানান। এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য জাপানের আরও সম্পৃক্ততা কামনা করেন।

    জবাবে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা বিষয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রত্যাবাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াাশি ইউক্রেন, উত্তর কোরিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।

    এসময় ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া বা লিবিয়া যেখানেই যুদ্ধ হয় সেখানে জানমালের ক্ষতি হয়। বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা প্রদানের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে।

    দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু এবং বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের উপর এর প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন। তারা বৈশ্বিক ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশে আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাপানের সহায়তা কামনা করেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে ভবিষ্যৎ প্রার্থিতা নিয়েও আলোচনা করেন এবং একে অপরের প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

    জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা বিবেচনা করতে সম্মত হন।

  • শিগগির নির্বাচন চান ইমরান খান

    শিগগির নির্বাচন চান ইমরান খান

    পাকিস্তানের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান শিগগির নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। এক টুইট বার্তায় তিনি এ দাবি জানান।

    ইমরান খান দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানানোর এক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা শাহবাজ শরিফ। সোমবার (১১ এপ্রিল) দেশটির পার্লামেন্টে ১৭৪ সদস্য তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য ভোট দেন।

    যদিও ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে দাবি করেছিলেন যে তাকে পদ থেকে অপসারণ বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ এবং তিনি শাহবাজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেন।

    পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান বলেন, আমরা অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি করছি কারণ এটিই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায়। তিনি বলেন, দেশের জনগণ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে যেন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারা কাকে তাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায়।

    ইমরান খান আরও ঘোষণা দিয়েছেন যে, বুধবার পেশওয়ারে র‌্যালিতে অংশ নেবেন তিনি।

    পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল মূলত ২০২৩ সালের আগস্টে। কিন্তু তার আগেই অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। অতীতের ধারা অনুসরণ করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতনও হয়েছে মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই।

    পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী অনাস্থা ভোটে হেরে বিদায় নিলেন ক্ষমতা থেকে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার শুনানি হতে পারে। রাজনীতির লড়াইয়ে গ্রেফতারও হতে পারেন পাকিস্তানের এই সাবেক ক্যাপ্টেন।

    সূত্র: জিও নিউজ

  • সংকট মোকাবিলায় তরুণদের আহ্বান জানালেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী

    সংকট মোকাবিলায় তরুণদের আহ্বান জানালেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী

    অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার (১১ এপ্রিল) রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। এসময় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী তরুণদের বিষয়টি যৌক্তিকভাবে ভাবার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জাতীয় পতাকা বহনকারী বিক্ষোভকারীদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে কে তাদের দেশের যে কোনো জায়গায় জাতীয় পতাকা রাখতে সক্ষম হন।

    এসময় মাহিন্দা রাজাপাকসে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কাজে বাঁধা না দেওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বানও জানান তিনি।

    রাজাপাকসে বলেন, তার সরকার দেশের সংকট কাটাতে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন যদি ২২৫ জন সংসদ সদস্যকে প্রত্যাখ্যান করার স্লোগান দেওয়া হয়, তাহলে সম্প্রতি অতীতের দিকে নজর দিলেই এর বিপদসংকেত বোঝা যাবে। আন্দোলনকারী তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশকে যেন আর অতীতের দিকে টেনে না নিয়ে যাওয়া হয়।

    বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গ্যাস ও পানির তীব্র সংকট, খাদ্য সংকট, প্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দামসহ নানা সমস্যার বেড়াজালে আটকা পড়েছে শ্রীলঙ্কার মানুষ। শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা বলছেন, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি দেশটির অর্থনীতি।

    দেশটিতে অর্থনীতি ধসে পড়ার জন্য সরকারকে দায়ী করে বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) রাতে কলম্বোর মিরিহানায় প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের ব্যক্তিগত বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে কয়েকশ মানুষ। এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের। শেষ পর্যন্ত টিয়ার শেল আর জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৫০ জন। আটক করা হয় আরও ৫০ জনের মতো আন্দোলনকারীকে।

  • রাশিয়ার ১৯৫০০ সেনা নিহত: দাবি ইউক্রেনের

    রাশিয়ার ১৯৫০০ সেনা নিহত: দাবি ইউক্রেনের

    এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধে ৭২৫টি ট্যাংক, ১ হাজার ৯২৩টি সামরিক যান, ১৫৪টি প্লেন এবং ১৩৭টি হেলিকপ্টার খুইয়েছে রাশিয়া।

    এদিকে গত শুক্রবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করা হয়। তবে তারা হতাহত সৈন্যের সংখ্যা উল্লেখ করেনি। এর আগে গত ২৪ মার্চ ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ইউক্রেন যুদ্ধে ১৫ হাজার সেনা হারিয়েছে মস্কো।

    অপরদিকে রাজধানী কিয়েভের কাছে রোববার এক হাজার দুশ’র বেশি মরদেহ পাওয়া গেছে বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। গত মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে বহু বেসামরিক নিহত হয়েছে। বিভিন্ন শহর ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ পালাতে বাধ্য হয়েছে।

    এছাড়া রোববার সকালে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেগ সিনেগৌবভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মাত্র একদিন আগেই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহরে এক শিশুসহ ১০ বেসামরিক নিহত হয়। এর আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে বুজোভা গ্রামে আরও একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে ডজনখানেক বেসামরিক নাগরিকের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ইউক্রেন যুদ্ধে প্রায় ১৯ হাজার ৫শ সেনা হারিয়েছে রাশিয়া। কিয়েভের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে হামলা চালায় রাশিয়া। দুপক্ষের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

    এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধে ৭২৫টি ট্যাংক, ১ হাজার ৯২৩টি সামরিক যান, ১৫৪টি প্লেন এবং ১৩৭টি হেলিকপ্টার খুইয়েছে রাশিয়া।

    এদিকে গত শুক্রবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করা হয়। তবে তারা হতাহত সৈন্যের সংখ্যা উল্লেখ করেনি। এর আগে গত ২৪ মার্চ ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ইউক্রেন যুদ্ধে ১৫ হাজার সেনা হারিয়েছে মস্কো।

    অপরদিকে রাজধানী কিয়েভের কাছে রোববার এক হাজার দুশ’র বেশি মরদেহ পাওয়া গেছে বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। গত মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে বহু বেসামরিক নিহত হয়েছে। বিভিন্ন শহর ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ পালাতে বাধ্য হয়েছে।

    এছাড়া রোববার সকালে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেগ সিনেগৌবভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মাত্র একদিন আগেই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহরে এক শিশুসহ ১০ বেসামরিক নিহত হয়। এর আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে বুজোভা গ্রামে আরও একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে ডজনখানেক বেসামরিক নাগরিকের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।