Category: আন্তর্জাতিক

  • ফুরিয়ে আসছে হাসপাতালের ওষুধ, সংকট আরও গভীর শ্রীলঙ্কায়

    ফুরিয়ে আসছে হাসপাতালের ওষুধ, সংকট আরও গভীর শ্রীলঙ্কায়

    অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গোলযোগের মধ্যে পড়ে নাভিশ্বাস উঠে গেছে শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষের। খাদ্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম, লোডশেডিং, জ্বালানি তেলের সংকট, পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে দেশটিতে। দৈনন্দিন জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। এর মাঝে দেশটির চিকিৎসকরা সতর্ক বার্তা দিলেন, হাসপাতালের সব জরুরি ওষুধ শেষ হয়ে আসছে, শিগগির বন্ধ হতে চলেছে জরুরি অপারেশন কার্যক্রম।

    দেশটির মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (এসএলএমএ) জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য জরুরি বিদেশি ওষুধ ও সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রুটিন সার্জারিও আর করা যাচ্ছে না। যা অবস্থা, তাতে কিছুদিনের মধ্যেই জরুরি প্রয়োজনে সার্জারিও বন্ধ করে দিতে হবে।

    তারা আরও জানায়, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কে চিকিৎসা পাবে এবং কে পাবে না। সংগঠনটির তরফে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেকে চিঠি দিয়ে আরও জানানো হয়েছে, যদি কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না যায়, তবে মহামারির থেকে আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে।

    এদিকে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সামনে দুইদিন ধরে বিক্ষোভ করছে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়েছেন সেখানে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেকে ইস্তফা দিতে হবে।

    আগামীতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আর্থিক সম্ভাবনার অন্যতম দেশ হতে পারতো দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। কিন্তু তেমনটি না ঘটে বরং ফল হয়েছে উল্টো। দিন দিন বেড়েছে ঋণের বোঝা। ভেঙে পড়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থা।

    চা উৎপাদনে অগ্রগণ্য, শিক্ষিত জনগণ, পর্যটনখাতে বিপুল পরিমাণ আয়, তা সত্ত্বেও কেন শ্রীলঙ্কার এমন আর্থিক পরিণতি তার জন্য এককভাবে কোনো কারণকে দায়ী করা মুশকিল। শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা বলছেন, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি দেশটির অর্থনীতি।

    সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

  • শিগগির ন্যাটোতে যোগ দিচ্ছে ফিনল্যান্ড-সুইডেন

    শিগগির ন্যাটোতে যোগ দিচ্ছে ফিনল্যান্ড-সুইডেন

    ন্যাটোতে যোগ দিতে যাচ্ছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। জানা গেছে, আসন্ন গ্রীষ্মের শুরুতেই সামরিক জোটটিতে যোগ দেবে দেশ দুইটি। ধারণা করা হচ্ছে এ ঘটনাকে কেন্দ্রে করে নতুন করে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা শুরু হতে পারে। সোমবার (১১ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তার জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনও অংশ নেয়। এসময় নর্ডিক দেশ দুইটির ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি সেশনে এ বিষয়ে কথা হয় বলেও জানানো হয়েছে।

    এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সংঘাতের নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে রয়েছে ন্যাটো। ন্যাটোর আওতায় রয়েছে ৩০টি দেশ। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানি। আর এই গোষ্ঠীভুক্ত হওয়ার চেষ্টায় রয়েছে ইউক্রেন। এ ঘটনা নিয়েই মূলত দেশ দুটির মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।

    বিভিন্ন ইস্যুতে আগে থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তলানিতে রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রই রয়েছে ন্যাটোভুক্ত দেশের তালিকায়। এদিকে, ইউক্রেন চাইছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর সঙ্গে তারাও ন্যাটোর আওতায় চলে আসতে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই গোষ্ঠীতে প্রতিবেশী ইউক্রেনকে দেখতে নারাজ রাশিয়া। এই ঘটনা মস্কোকে খুব একটা স্বস্তি দেয়নি।
    ইউক্রেন যুদ্ধে প্রায় ১৯ হাজার ৫শ সেনা হারিয়েছে রাশিয়া। কিয়েভের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে হামলা চালায় রাশিয়া। দুপক্ষের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

  • পাকিস্তানে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভোট আজ

    পাকিস্তানে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভোট আজ

    ইমরান খান অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর পাকিস্তানের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভোট হতে যাচ্ছে সোমবার (১১ এপ্রিল)। দেশটির ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রোববার।

    এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পিটিআইয়ের ভাইস-চেয়ারম্যান শাহ মুহাম্মদ কুরেশি ও বিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত অর্থাৎ পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    ধারণা করা হচ্ছে, শাহবাজই হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। ৭০ বছর বয়সী শাহবাজ পাঞ্জাবের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। শাহবাজ পারিবারিকভাবে ধনী ব্যবসায়ী এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন-র (পিএমএল-এন) বর্তমান প্রেসিডেন্ট। দেশের বাইরে শাহবাজ ততটা পরিচিত নন। লন্ডন ও দুবাইয়ে বিলাসবহুল বাড়ি থাকার কারণে খবরের শিরোনাম হলেও দেশের ভেতরে প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য শাহবাজের সুনাম রয়েছে।

    সূত্র: ডন

  • পাকিস্তানে রাতভর বিক্ষোভ

    পাকিস্তানে রাতভর বিক্ষোভ

    অনাস্থা ভোটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থকরা। রোববার (১০ এপ্রিল) রাতে দেশটির অন্তত ৪০টি শহরে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হয়েছেন। এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

    এর মধ্যে করাচি, পেশোয়ার, মালাকান্দ, মুলতান, খানেওয়াল, খাইবার, ঝাং, কোয়েটা, ওকারা, ইসলামাবাদ, লাহোর ও অ্যাবোটাবাদ শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বাজাউর, লাওয়ার দির, শাংলা, কোহিস্তান, মানসেহরা, সোয়াত, গুজরাট, ফয়সালাবাদ, নওশেরা, ডেরা গাজি খান ও মান্ডি বাহাউদ্দিনেও বিক্ষোভ হয়েছে।

    এর আগে শনিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় ইমরান খান বলেন, শাসন পরিবর্তনে বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আজ থেকে পাকিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়েছে। দলের সমর্থকদের বিক্ষোভ-সমাবেশ নিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের জনগণই সবসময় তাদের নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করেছে।
    এর আগে শনিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় ইমরান খান বলেন, শাসন পরিবর্তনে বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আজ থেকে পাকিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়েছে। দলের সমর্থকদের বিক্ষোভ-সমাবেশ নিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের জনগণই সবসময় তাদের নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করেছে।
    আগের দিন পিটিআইয়ের মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরীও ইসলামাবাদে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় ইশার নামাজের পরে বিক্ষোভ করার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, খান যদি এই বিশাল আন্দোলনে নেতৃত্ব না দেন, তাহলে দেশের রাজনীতি ও সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।

    এদিকে, প্রবাসী পিটিআই সমর্থকরাও ইমরান খানের পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন। টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, পিটিআই সমর্থকরা লন্ডনের হাইড পার্কে জড়ো হয়ে ইমরানের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন।

    ইমরান খান প্রবাসীদের এমন সমর্থনের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এ নিয়ে এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, স্থানীয় মীরজাফরদের দ্বারা জামিনে মুক্ত হয়ে ক্ষমতায় এসে মার্কিন-সমর্থিত শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য সব পাকিস্তানিদের ধন্যবাদ। তিনি আরও বলেন, দেশে-বিদেশে পাকিস্তানিরা এটিকে (ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করা) জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করছে এই বিক্ষোভ তারই প্রমাণ।

  • ইউক্রেনে ঝটিকা সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

    ইউক্রেনে ঝটিকা সফরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে ঝটিকা সফরে গেলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। দেশটির রাজধানী কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।

    দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের ছবি ব্রিটেনে ইউক্রেনের দূতাবাসের তরফে টুইটারে পোস্ট করার পরেই বিষয়টি জানা যায়।

    তবে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, দুদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বিষয়ে কথা বলেন দুই নেতা। ইউক্রেনের মানুষের প্রতি সংহতিও প্রকাশ করেন বরিস জনসন।

    ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন গড়িয়েছে দ্বিতীয় মাসে। এখনো থেমে থেমে চলছে লড়াই। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশের পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা শুরু করেন রাশিয়ার সেনারা। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক থেকে, এমনকি বেলারুশ থেকেও হামলা চালানো শুরু হয়। ধীরে ধীরে রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হয় রুশ সেনারা। এরপর শুরু হয় দুপক্ষের লড়াই। এখন পর্যন্ত বহু মানুষ হতাহতের খবর পাওয়া গেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে। ধ্বংস হয়েছে বহু স্থাপনা। দেশ ছেড়েছেন প্রায় ৩০ লাখ ইউক্রেনীয়।

  • ৭৫ বছরে ইমরানই প্রথম ক্ষমতাচ্যুত অনাস্থা ভোটে

    ৭৫ বছরে ইমরানই প্রথম ক্ষমতাচ্যুত অনাস্থা ভোটে

    ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। এদিন স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন লিয়াকত আলি খান। কিন্তু তিনি তার প্রধানমন্ত্রিত্বের পুরো মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর এক জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান।

    এখান থেকেই শুরু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকালের ইতিহাস। কারণ দেশটিতে কোনো প্রধানমন্ত্রীই পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। সেই ধারা এবারও অক্ষুণ্ণ। সবশেষ ২০২২ সালে এসে সেই তালিকায় নাম লেখালেন ইমরান খান। তবে তিনি দেশটির ৭৫ বছরের ইতিহাসে এঁকে দিলেন নতুন কলঙ্ক। আর তা হলো- অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানো।

    কারণ, এর আগে পাকিস্তানের ২১ প্রধানমন্ত্রীর কেউই অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হননি। যদিও তাদের কারো প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ছিল ১৩ দিন তো কারো ৫৭ দিন। অনেকে আবার শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট বা সেনাপ্রধানের রোষের মুখে পড়েও গদি খুইয়েছেন। এদের কেউই পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।

    এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৯ এপ্রিল) রাতে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হন এক সময় ২২ গজের ক্রিকেট পিচ দাঁপিয়ে বেড়ানো এই খেলোয়াড়। তিনি ছিলেন পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী।

    এদিন রাত ১১টা ৫০ মিনিটে পাকিস্তানের সংসদ অধিবেশনে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। এতে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ১৭৪টি। প্রস্তাব পাসের জন্য দরকার ছিল ১৭২ ভোট। ভোটাভুটি শেষে প্যানেল স্পিকার পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) নেতা আয়াজ সাদিক এ ফল ঘোষণা করেন। অনাস্থা ভোটে না হারলে ইমরান খান ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারতেন।

    উইকিপিডিয়া বলছে, ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর, ১৯৯৬ সালে রাজনীতির ময়দানে আসেন ইমরান খান। দুর্নীতি বিরোধী স্লোগানে ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠা করেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এরপর ২০১৩ সালে পাকিস্তানের ১০তম নির্বাচনে তার দল বেশ কয়েকটি আসন জেতে। আর ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট দেশটির ১৫তম সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ইমরান খান।

    jagonews24

    পরিবারের সঙ্গে ইমরান খান

    সবশেষ পাকিস্তানের আর্থিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগে ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো। তবে এ প্রস্তাবকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে ৩ এপ্রিল তা খারিজ করে দেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি।

    সেদিনই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এ পরিস্থিতিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে নোটিশ দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বিরোধীরাও আদালতের দ্বারস্থ হন।

    শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট ৭ এপ্রিল অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেন। আর অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট করার নির্দেশ দেন।

  • পাকিস্তানে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সোমবার পার্লামেন্টে ভোট

    পাকিস্তানে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সোমবার পার্লামেন্টে ভোট

    ইমরান খান অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার পর পাকিস্তানের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভোট হতে যাচ্ছে সোমবার (১১ এপ্রিল)। দেশটির ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ভারপ্রাপ্ত স্পিকার আয়াজ সাদিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থীতার জন্য নমিনেশনপত্র পূরণ করে স্থানীয় সময় রোববার সকাল ১১টার মধ্যে জমা দিতে হবে।

    পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আগামী ২০২৩ সালের আগস্টে। কিন্তু তার আগেই ক্ষমতা ছাড়তে হলো প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতন হলো মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই।

    আর্থিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো। এ অনাস্থা প্রস্তাবকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে ৩ এপ্রিল খারিজ করে দেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এতে চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়ে পাকিস্তান।

    কয়েক দফা মুলতবির পর দেশটির স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে পাকিস্তানের সংসদ অধিবেশন অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। এতে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ১৭৪টি। প্রস্তাব পাসের জন্য দরকার ছিল ১৭২ ভোট। ইমরান সরকারের পতন হওয়ার পর প্রধান বিরোধী দলনেতা শাহবাজ শরিফকে অভিনন্দন জানান সদ্য স্পিকারের আসনে বসা আয়াজ সাদিক। ধারণা করা হচ্ছে এই শাহবাজই পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

    সূত্র: আল-জাজিরা

  • ইউক্রেনের বন্দরে এবার তুর্কি জাহাজে আগুন

    ইউক্রেনের বন্দরে এবার তুর্কি জাহাজে আগুন

    ইউক্রেনের মারিউপোল বন্দরে ডমিনিকান পতাকাধারী তুরস্কের একটি জাহাজে আগুন লেগেছে। ‘আজবুর্গ’ নামে জাহাজটি থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিক এসব কথা জানিয়েছে।

    ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল দোনেৎস্কের কর্মকর্তাদের বরাতে স্পুটনিকের খবরে দাবি করা হয়েছে, তুর্কি জাহাজটিতে ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদীরা হামলা চালিয়েছে। তারা এটি রুশ বাহিনীর কাজ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    দোনেৎস্ক সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মারিউপোল বন্দর নিয়ন্ত্রণ করা ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীরা পরাজয় আসন্ন বুঝতে পেরে সেখানকার অবকাঠামোর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা বিদেশি জাহাজগুলো ধ্বংস করছে।

    রাশিয়ার কাছ থেকে সম্প্রতি স্বাধীনতার স্বীকৃতি পাওয়া দোনেৎস্কের কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেছেন, ক্রুসহ ছয়টি বিদেশি জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে চলেছে কিয়েভ প্রশাসন। রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর আগেই ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীরা বন্দরের জলসীমায় মাইন বসিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেটি অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল বলে দাবি করেছেন তারা।

    এর আগে, রুশ অভিযানের মুখে গত মাসের শুরুর দিকে ইউক্রেনের ওলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’। এতে প্রাণ হারান এক নাবিক, বাকি ২৮ জনকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জাহাজটিতে হামলার ঘটনায় বিমা সংস্থার কাছে ২ কোটি ২৪ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।

  • ইমরানের ভাগ্য নির্ধারণ পেছালো আবারও

    ইমরানের ভাগ্য নির্ধারণ পেছালো আবারও

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত এখন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের হাতে। মঙ্গলবার দ্বিতীয়দিনের মতো এ বিষয়ে শুনানি হলেও রায় ঘোষণা হয়নি। শুনানি বুধবার (৬ এপ্রিল) পর্যন্ত মুলতবি করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

    গত রোববার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব বাতিল করলে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ডেপুটি স্পিকার অসাংবিধানিকভাবে অনাস্থা ভোট বাতিল করেছেন।

    মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে অনাস্থা ভোট বাতিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন দেশটির প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়াল, বিচারপতি মুনীব আখতার, বিচারপতি আইজাজুল আহসান, বিচারপতি মাজহার আলম ও বিচারপতি জামাল খান মন্দোখেল।

    শুনানিতে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ স্পিকারের কাউন্সেল নাঈম বোখারিকে গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত অধিবেশনের কার্যবিবরণী উপস্থানের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

    শুনানির শুরুতে বিরোধী দল পিপিপির সিনেটর রাজা রাব্বানী তার যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, এটি একটি বেসামরিক অভ্যুত্থান। বিভ্রান্তিকর অভিযোগের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

    পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গত ২৮ মার্চ উত্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু এরপর জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করা হয় বলেও উল্লেখ করেন রাব্বানী।

    পিপিপি সিনেটর অভিযোগ করেন, পার্লামেন্টে উপযুক্ত নথিপত্র জমা না দিয়েই অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব বাতিল করেছেন কাসিম সুরি। তিনি বলেন, ডেপুটি স্পিকারের রুলিং অবৈধ। ভোট না হলে অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা যায় না।

    গত রোববার ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব আনলে সেটি খারিজ করে দেন স্পিকার। এরপর প্রেসিডেন্টের কাছে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তার প্রস্তাবে পার্লামেন্টে ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি।

    সূত্র: ডন

  • অবাধ্য’ ইমরানকে সাজা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, দাবি রাশিয়ার

    অবাধ্য’ ইমরানকে সাজা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, দাবি রাশিয়ার

    ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাশে দাঁড়ালো রাশিয়া। দক্ষিণ এশীয় দেশটিতে বর্তমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে মস্কো। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ওয়াশিংটন ‘আবারও নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’-এর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানানো হয়েছে।

    এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, চলতি বছরের ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি ইমরান খানের মস্কো সফরের ঘোষণার পরপরই আমেরিকান ও তাদের পশ্চিমা সহযোগীরা পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীর ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে এবং ওই সফর বাতিলের আল্টিমেটাম দাবি করে।

    এরপরও তিনি (ইমরান) যখন আমাদের কাছে আসেন, [মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লু] ওয়াশিংটনে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের কাছে ফোন করে অবিলম্বে সফরটি স্থগিত করার দাবি করেন, যা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।’

    জাখারোভা বলেন, পাকিস্তানি মিডিয়ার খবর অনুসারে, চলতি বছরের ৭ মার্চ পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদের সঙ্গে এক কথোপকথনে যুক্তরাষ্ট্রের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (সম্ভবত ডোনাল্ড লু) ইউক্রেনের ঘটনায় পাকিস্তানি নেতৃত্বের ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ প্রতিক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানান এবং এটা স্পষ্ট করে দেন যে, ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব সম্ভব।

    রুশ এ কর্মকর্তা বলেন, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে আর কোনো সন্দেহ নেই যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবাধ্য’ ইমরান খানকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নির্লজ্জ মার্কিন হস্তক্ষেপের আরেকটি প্রয়াস।

    জাখারোভা বলেন, পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নিজেই বারবার বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বিদেশ থেকে অনুপ্রাণিত ও অর্থায়ন করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, পাকিস্তানি ভোটাররা নির্বাচনের সময় তাদের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবে।

    এর আগে, পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অভিযোগ করেন, তাকে ক্ষমতা থেকে হটাতে একটি বিদেশি রাষ্ট্র ষড়যন্ত্র করছে। একবার মুখ ফসকে যুক্তরাষ্ট্রের নামও বলে ফেলেছিলেন তিনি। ইমরানের দাবি, পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে ইসলামাবাদকে হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই ‘ষড়যন্ত্রে’ জড়িত মানুষটি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।

    ইমরানের ভাষ্যমতে, রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ডোনাল্ড লু। এসময় ডোনাল্ড লু হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবে ইমরান টিকে গেলে তার প্রভাব দেখা যেতে পারে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই ইমরান খানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।