Category: আন্তর্জাতিক

  • ইমরান খান এখনো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

    ইমরান খান এখনো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান এখনো দেশটির প্রধানমন্ত্রী। রোববার (৩ এপ্রিল) রাতে ক্যাবিনেট সচিব একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেন ইমরান খান এখন আর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেই। তবে এক টুইট বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি ঘোষণা দেন যে, ইমরান খানই আপাতত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    যদিও, পাকিস্তানের সংবিধানের ২২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ইমরান খান ১৫ দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বহাল থাকতে পারবেন।

    আরিফ আলভি টুইটারে জানান, ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তানের সংবিধানের ২২৪ এর এ (৪) অনুচ্ছেদের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকবেন।

    রোববার (৩ এপ্রিল) পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি জানিয়ে দেন যে ‘দেশের স্বার্থে’ ইমরান খানের সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করা হচ্ছে। আর এরপর থেকেই দিনভর নাটকীয় ঘটনা ঘটে দেশটিতে।

    ১৯২ জন বিরোধীদলের সদস্য অ্যাসেম্বলিতে শাহবাজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, সেখানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট অ্যাসেম্বলি ভেঙে দিয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করার বিষয়টি অসাংবিধানিক। আবার রাতে পাকিস্তানের ক্যাবিনেট সচিব একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেন ইমরান খান এখন আর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেই।

    সোমবার (৪ এপ্রিল) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে ইমরান খানের ইচ্ছে মতো আগামী ৯০ দিনে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না।

    এর আগে, ইমরান খান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন সবাইকে। এরই মাঝে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দিয়েছেন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে সরকার চালায় অন্তরবর্তীকালীন সরকার। যদিও কোনও অন্তরবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেননি প্রেসিডেন্ট।

    অপরদিকে, পাকিস্তানি সেনার তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ইসলামাবাদের ঘটনা প্রবাহের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    সূত্র: জিও নিউজ

  • মালিতে সামরিক অভিযানে নিহত ২০৩

    মালিতে সামরিক অভিযানে নিহত ২০৩

    মালিতে সামরিক অভিযানে ২০৩ জন নিহত হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সাহেল রাজ্যে ওই অভিযান চালানো হয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন জানিয়েছে, তাদের কাছে বেসামরিক হতাহতের খবর রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

    শুক্রবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৩ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোরা অঞ্চলে ওই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, ৫১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

    এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো যখন দেশটির বেশ কিছু সামাজিক মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মোরা অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে বেসামরিক নাগরিকসহ বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

    মালিতে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের অনুমতি না থাকায় সামরিক অভিযান এবং হতাহতের খবর যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মালির সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, মোরা গ্রামে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। তবে তারা নিহতদের সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করেছে। বলা হচ্ছে তিন শতাধিক সন্ত্রাসী নির্মূল করা হয়েছে।

    প্রশাসন বলছে, আল কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই ওই এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে সেখানে কী ঘটছে সে সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কিছু জানা সম্ভব হচ্ছে না।

    এদিকে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মালির সামরিক বাহিনী একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, মোরা গ্রামে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। তবে তারা নিহতদের সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করেছে। বলা হচ্ছে তিন শতাধিক সন্ত্রাসী নির্মূল করা হয়েছে।

    প্রশাসন বলছে, আল কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস) ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই ওই এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে সেখানে কী ঘটছে সে সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কিছু জানা সম্ভব হচ্ছে না।

  • কিয়েভ পুরোপুরি রুশ সেনামুক্ত, দাবি ইউক্রেনের

    কিয়েভ পুরোপুরি রুশ সেনামুক্ত, দাবি ইউক্রেনের

    ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে রুশ সেনাদের পুরোপুরি ‘হটিয়ে’ দেওয়ার দাবি করেছেন দেশটির উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্না মালিয়ার। তিনি বলেছেন, ‘কিয়েভ এখন পুরোপুরি ইউক্রেনীয় বাহিনীর দখলে।’

    স্থানীয় সময় শনিবার (২ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন দাবি করেছেন।

    হান্না মালিয়ার লিখেছেন, ‘আক্রমণকারীদের কাছ থেকে ইরপিন, বুচা, গোস্তমেল ও পুরো কিয়েভ মুক্ত হয়েছে।’ তবে ইউক্রেনীয়দের এখনই নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে হামলার মুখে পড়া বাড়িঘরে ফিরতে নিষেধ করেছেন তিনি।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ইউক্রেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বরাতে এমন খবর জানিয়েছে। তবে বিবিসি তাৎক্ষণি এ দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকদিন ধরে কিয়েভ ও এর আশপাশের শহর থেকে রুশ সেনাদের সরে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। দুটি কারণে রুশ সেনারা সরে যেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষণকারীরা।

    প্রথমত- ইউক্রেনের সেনাদের মনোবল চাঙা থাকা এবং প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা। দ্বিতীয়ত- রুশ সেনারা এখন ডানবাস দখলে বেশি মনোযোগী হয়েছেন। ফলে কিয়েভ থেকে সেনা গুটিয়ে নিচ্ছেন তারা। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হচ্ছে, তারা রুশ সেনাদের হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

  • একসময় ‘হিটলার’ ডাকা মোদীকেই এবার প্রশংসায় ভাসালেন ইমরান খান

    একসময় ‘হিটলার’ ডাকা মোদীকেই এবার প্রশংসায় ভাসালেন ইমরান খান

    ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখাওয়ায় এক জনসমাবেশে বিজেপি নেতাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি। রোববার ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে। এতে হেরে তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এমন মুহূর্তে ইমরান খান হঠাৎ চিরাচরিত অভ্যাস বদলে একটি ‘শত্রু’ দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করায় অবাক হয়েছেন অনেকেই।

    শনিবার (২ এপ্রিল) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, মালাকান্দে এক উন্মুক্ত জনসমাবেশে ভারত ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে একঝাঁক ইতিবাচক কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি আমাদের প্রতিবেশী হিন্দুস্তানের বৈদেশিক নীতির প্রশংসা করতে চাই। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি মুক্ত ও স্বাধীন এবং এর একমাত্র লক্ষ্য, নিজের জনগণের উন্নতি করা।

    খবরে বলা হয়েছে, এদিন হাজার হাজার সমর্থকের সামনে প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের প্রশংসা করতে দেখে অবাক হয়েছেন পাকিস্তানের অনেক নেতাই। কারণ এই ইমরান খানই একসময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নরেন্দ্র মোদীকে ‘হিটলার’ ও ‘নাৎসি নেতা’ বলে উপহাস করতেন। সেই তিনিই এমন সময়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করছেন, যখন তার সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে।

    ইমরান খানের এমন ‘অভূতপূর্ব’ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভারত বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। আমাদের রেকর্ডই সেই কথা বলে। তাই এটা বলা ভুল হবে যে, মাত্র একজন নেতাই ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করেছেন।

    দ্য নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান বজায় রেখেছে ভারত। তারা সরাসরি রাশিয়ার বিরোধিতা করেনি, রুশ আক্রমণের পক্ষেও কিছু বলেনি। এমনকি, রাশিয়া ইস্যুতে পশ্চিমাদের অবস্থান নিয়েও বিতর্কিত কোনো মন্তব্য করেনি ভারত। এর বদলে সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

    এছাড়া, ভারত মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়াড জোটের শরিক হলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী মোদী যেভাবে ‘নিরপেক্ষ’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছেন এবং ভারতের নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। এই সংকটে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর চাপে পড়েননি মোদী। এমনকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনে ভারতকে কোনো চাপের মধ্যে পড়তে হয়নি।

    একই সময় পাকিস্তানের ঐতিহাসিক মিত্র সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে ভারত। সৌদি আরব পাকিস্তানকে আর ঋণ দিচ্ছে না এবং আমিরাত সরকার পাকিস্তানের অনুরোধ সত্ত্বেও কাশ্মীর ইস্যুতে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে।
    আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের এমন সাফল্যের কারণে পাকিস্তানের বিরোধী নেতারা ইমরান খানকে আর মোদীর উদারহরণ না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। এসব নেতার অভিযোগ, ইমরান খানের ‘অযোগ্যতার’ কারণেই গোটা বিশ্ব এখন পাকিস্তানকে নিয়ে হাসাহাসি করছে।

  • দুই বছরের মধ্যে রেকর্ড দরপতন তেলের বাজারে

    দুই বছরের মধ্যে রেকর্ড দরপতন তেলের বাজারে

    বিশ্ববাজারে গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে অপরিশোধিত তেলের। গত এক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই (ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট) উভয় তেলের দাম কমেছে অন্তত ১৩ শতাংশ, যা ২০২০ সালের পর আর দেখা যায়নি। তবে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় জ্বালানি বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে এই দরপতন স্থায়ী হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর রয়টার্সের।

    শুক্রবার (১ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম ৩২ সেন্ট বা ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৩৯ মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১ দশমিক ০১ ডলার বা ১ শতাংশ কমে বিক্রি হয়েছে ৯৯ দশমিক ২৭ ডলারে।

    এর একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী মে মাস থেকে টানা ছয় মাস যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ থেকে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণা অনুসারে দেশটি ১৮ কোটি ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ থেকে এটিই হবে সর্বোচ্চ পরিমাণে তেল ছাড়ার ঘটনা।

    তবে রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা সামলাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। পিভিএমের বিশ্লেষক স্টিফেন ব্রেনক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ব্যারেল ব্যারেল তেল ছাড়ায় এই সত্যটা পরিবর্তন হবে না যে, আগামী মাসগুলোতে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া কঠিন হবে।

    তার মতে, নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা ও ক্রেতারা অনুৎসাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার দৈনিক যে ৩০ লাখ ব্যারেল রুশ তেল হারাচ্ছে, তার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ ছাড়ার পরিমাণ খুবই নগণ্য।

    গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে রেকর্ড দরপতনের পরেও জেপি মরগ্যান চলতি বছরের বাকি অংশজুড়ে তেলের দামের পূর্বাভাস অপরিবর্তিতই রেখেছে। তাদের ধারণা, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১৪ ডলার এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ১০১ ডলার দেখা যেতে পারে।

    বহুজাতিক ব্যাংকটি এক নোটে বলেছে, রিজার্ভ ছাড়া তেল সরবরাহের কোনো স্থায়ী উৎস নয়। আগামী বছর যদি আটকে থাকা রুশ তেলের পরিমাণ দৈনিক গড়ে ১০ লাখ ব্যারেলও হয়, তাহলেও গভীর সংকট তৈরি হবে। এতে ২০২৩ সালের জন্য আমাদের তেলের দামের পূর্বাভাস ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলারও কম মনে হবে।

  • পদত্যাগের বিষয়ে যা বললেন ইমরান খান

    পদত্যাগের বিষয়ে যা বললেন ইমরান খান

    পাকিস্তানের সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হওয়া ইমরান খান ইসলামাবাদে ‘ঐতিহাসিক’ জনসমাবেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, ‘আমাকে যদি পদত্যাগও করতে হয়, তারপরও দেশের দুর্নীতিবাজ নেতাদের ছাড় দেব না।’

    রোববার ইসলামাবাদের প্যারেড গ্রাউন্ডে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থকের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এই হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি। ভাষণের শুরুতে ইমরান খান বলেন, ‘প্রথমে আমি দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই। আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আপনারা দেশের প্রত্যেক প্রান্ত থেকে যেভাবে সমাগত হয়েছেন, সেজন্য আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।’

    ‘আমি আমার সংসদ সদস্যদেরও শ্রদ্ধা জানাই। কারণ তাদের অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা আমাকে খুশি করেছেন এবং আমি তাদের জন্য গর্বিত।’

    ইমরান খান বলেন, ‘‘আমি আমার হৃদয়ের কথা বলতে চাই এবং আমি চাই আপনারা আমার কথা শান্তভাবে শুনুন। আমি আপনাদের ‘আমর বিল মারুফের’ জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম যে, আমাদের পাকিস্তান ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্রের আদর্শে গড়ে তোলা হয়েছিল। রিয়াসাতে মদিনার ভিত্তিতে দেশ গড়তে হবে।’’

    তিনি বলেন, ‘আমরা আবাসন, কারিগরি শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য পরিবারগুলোকে ঋণ দিচ্ছি। শুল্ক বাড়ানোর সাথে সাথে আমি ভর্তুকি এবং পেট্রোলের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলাম। বিদ্যুতের দামেও ভর্তুকি দিয়েছি। আমি জনগণের জন্য আরও অর্থ ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছি। কারণ আমাদের সরকার করের ক্ষেত্রে আরও মূলধন সংগ্রহ করবে।

    পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার যুদ্ধকে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমাদের নবীও (সা.) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছিলেন। আমি দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেব না। কারণ আমার নবী ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, গরিবদের শাস্তি দিলে এবং ধনীদের ছাড় দিলে জাতি ধ্বংস হয়ে যায়।

    দুর্নীতিবাজদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন, আমি তাদের ছাড় দেব না। এমনকি আমার সরকার চলে গেলেও অথবা আমি প্রাণ হারালেও তাদের ক্ষমা করবো না।’

    আজকের এই সমাবেশের নাম কেন আমর বিল মারুফ করা হয়েছে, তার ব্যাখ্যায় ইমরান খান বলেন, আমর বিল মারুফের অর্থ হচ্ছে, কোনো জাতি মন্দের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং ভালোকে সমর্থন করতে বাধ্য। ইরাক যুদ্ধের সময় ব্রিটেনে ২০ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। এটা ছিল আমর বিল মারুফ।

    সমাবেশস্থলে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের এখানে ডেকেছি, কারণ জনগণকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাকিস্তান ধ্বংস হচ্ছে দাবি করে তারা আমাদের সরকার ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে চাই, গত সাড়ে তিন বছরে আমাদের সরকারের মতো পাকিস্তানের কোনো সরকারই কাজ করতে পারেনি।’

    দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। গত ০৮ মার্চ রাজধানী ইসলামাবাদে বিরোধী দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও মুসলিম লীগের (নওয়াজ) নেতৃত্বে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের আবেদন করে। সেই সময় দেশটির বিরোধীরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দাবি তোলেন—‘হয় পদত্যাগ করুন, নয়তো অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হোন।’

    শুক্রবার জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনের তারিখ ছিল। কিন্তু শুক্রবারের অধিবেশনে সম্প্রতি জাতীয় পরিষদের মারা যাওয়া সদস্য খায়াল জামান, সাবেক প্রেসিডেন্ট রফিক তারার ও উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য রেহমান মালিকের বিদেহী আত্মার প্রার্থনা করা হয়। পরে আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার আসাদ কায়সার।

    এর আগে, গত বছরের মার্চে বিরোধীদের দাবিতে প্রথমবারের মতো অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হয়েছিলেন ইমরান খান। তবে সেই সময় অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিপদ উৎরে যান ক্রিকেট তারকা থেকে প্রধানমন্ত্রীর মসনদে আসীন ইমরান। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে আয়োজিত সেই আস্থা ভোটে জয়ের জন্য ইমরানের ১৭২টি ভোটের প্রয়োজন হলেও তিনি পেয়েছিলেন ১৭৬ ভোট।

    সূত্র: ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

  • ইউক্রেন সীমান্তে আরও ৪০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে ন্যাটো

    ইউক্রেন সীমান্তে আরও ৪০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে ন্যাটো

    ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের এক মাস পূর্তির দিনই পূর্ব ইউরোপে আরও ৪০ হাজার সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ন্যাটো। বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) ব্রাসেলসে পশ্চিমা সামরিক জোটের নেতাদের শীর্ষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকের পর জোটের মহাসচিব ইয়েন স্টলটেনবার্গ জানিয়েছেন, পূর্ব ইউরোপে আরও ৪০ হাজার ন্যাটো সৈন্য পাঠানো হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়ায় এসব সেনা মোতায়েন করা হবে।

    এদিন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কড়া বার্তা দিয়ে ন্যাটো মহাসচিব বলেছেন, তারা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

    ন্যাটোর বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউরোপে বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    স্টলটেনবার্গের কথায়, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনে ইউরোপে নিরাপত্তার মানচিত্র আমূল বদলে গেছে।

    পশ্চিমা নেতাদের এই বৈঠকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যোগ দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেখানে তিনি ন্যাটোর কাছে ‘অবাধ সামরিক সহযোগিতা’ চান। এদিন ফের ইউক্রেনে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার দাবি না জানালেও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে যুদ্ধবিমান ও ট্যাংক চেয়েছেন জেলেনস্কি।

    ন্যাটো ইউক্রেনকে এ ধরনের ভারী সমরাস্ত্র দেবে কি না- এ প্রশ্নে সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান জোটের মহাসচিব। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষার জন্য ইউক্রেনকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে ন্যাটো।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ থেমে যাবে: বিশ্বাস ইউক্রেনীয়দের

    কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ থেমে যাবে: বিশ্বাস ইউক্রেনীয়দের

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামবে তা এখনো স্পষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে সম্প্রতি স্থানীয় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন যুদ্ধে তাদের দেশ জয়ী হবে। সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    তাছাড়া জরিপে অংশ নেওয়াদের প্রায় অর্ধেক আশা করেন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ থেমে যাবে। কিন্তু এক-চতুর্থাংশ মনে করেন এ যুদ্ধ কয়েক মাস দীর্ঘস্থায়ী হবে।জানা গেছে, রেটিং গ্রুপের জরিপে এক হাজার ইউক্রেনীয় নাগরিকের ওপর জরিপটি পরিচালিত করে। যাদের সবার বয়স ১৮ বছরের বেশি। এতে ডোনবাস ছাড়া দেশটির সব অঞ্চলের ইউক্রেনীয়রা অংশ নেয়।

    এদিকে জরিপে অংশ নেওয়া ৭৪ শতাংশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠককে সমর্থন করেন। অন্যদিকে ৮৯ শতাংশ সাময়িক যুদ্ধ বিরতির বিপক্ষে।

    ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ইউক্রেনীয় তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) প্রধান।

    সংস্থাটির শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি এক টুইট বার্তায় জানান, ইউক্রেনের যুদ্ধ এতটাই ধ্বংসাত্মক যে এরই মধ্যে দেশটির প্রায় এক কোটি লোক ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ দেশের অভ্যন্তরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে আবার কেউ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে।

  • যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে পাঁচ হাজার শিশুর জন্ম: ইউনিসেফ

    যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনে পাঁচ হাজার শিশুর জন্ম: ইউনিসেফ

    যুদ্ধ-সংঘাতের মধ্যেই ইউক্রেনে কমপক্ষে পাঁচ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থার একজন মুখপাত্র এ তথ্য জানান। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকটি শিশুর আলাদা গল্প রয়েছে। এসব শিশুদের জীবন এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। কারণ তাদের পরিবারগুলো প্রায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন। এসব শিশুদের জরুরিভিত্তিতে শান্তি প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

    এদিকে রাশিয়ার দখল করে নেওয়া ইউক্রেনের মারিওপোল শহরের একটি থিয়েটার হলে আশ্রয় নেওয়া বেসামরিক নাগরিকদের ওপর রাশিয়া বিমান হামলা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া।

    আল জাজিরার খবরে বলা হয়, মারিওপোল সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, থিয়েটার হলে বোমা হামলায় ঠিক কত জন হতাহত হয়েছেন এখন পর্যন্ত সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। হামলা থেকে বাঁচতে থিয়েটার হলে এক হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

    এ ঘটনার পর পুতিনকে যুদ্ধাপরাধী বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে রাশিয়া।

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করে রুশ বাহিনী। গত ২০ দিনে তাদের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর। প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকশ বেসামরিক নাগরিক। জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ আক্রমণের মুখে এরই মধ্যে ৩০ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছেন।

  • বিশ্বে আরও ৬ হাজার মৃত্যু, ২০ লাখের বেশি শনাক্ত

    বিশ্বে আরও ৬ হাজার মৃত্যু, ২০ লাখের বেশি শনাক্ত

    বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দৈনিক মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬ হাজার ৫ জন। আগের দিনের তুলনায় মৃত্যু বেড়েছে সাতশোরও বেশি। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬০ লাখ ৮৭ হাজার ৩০২ জনে।

    একইসময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৭৩ হাজার ১৪৯ জন। আগের দিনের তুলনায় শনাক্ত রোগী বেড়েছে প্রায় আড়াই লাখ। এ নিয়ে মোট শনাক্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ৫৯ লাখ ৭১ হাজার ৮৩৪ জনে।

    শুক্রবার (১৮ মার্চ) সকালে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত, মৃত্যু ও সুস্থতার নিয়মিত আপডেট দেওয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দৈনিক মৃত্যুর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জার্মানি ও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলো।

    দক্ষিণ কোরিয়ায় একদিনে সংক্রমিত হয়েছেন আরও ৬ লাখ ২১ হাজার ৩২৮ জন এবং মারা গেছেন ৪২৯ জন। মহামারি শুরুর পর থেকে পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৮২ লাখ ৫০ হাজার ৫৯২ জন এবং মারা গেছেন ১১ হাজার ৪৮১ জন।

    দৈনিক প্রাণহানিতে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৯২৫ জন। এসময়ে ভাইরাসটিতে শনাক্ত হয়েছেন ৩৫ হাজার ৭৮ জন। করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটিতে এ পর্যন্ত ৮ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৭ জন সংক্রমিত এবং ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    রাশিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬১ জন মারা গেছেন এবং সংক্রমিত হয়েছেন ৩৪ হাজার ৮১৯ জন। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত ১ কোটি ৭৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৫৭ জন এবং মারা গেছেন ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯ জন।

    ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে একদিনে শনাক্ত আরও ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮০ জন এবং মারা গেছেন ২৪২ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার ৫২৫ জন শনাক্ত এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৭২ জনের।

    শনাক্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪৮৪ জন এবং সংক্রমিত হয়েছেন ৪৯ হাজার ৬০১ জন। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত ২ কোটি ৯৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৪০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৭ জনের।

    শনাক্তের তালিকায় দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রতিবেশী দেশ ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ১৫০ জন এবং নতুন সংক্রমিত হয়েছেন ২ হাজার ২৯০ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৪ কোটি ৩০ লাখ ৩ হাজার ৭৬৭ জন এবং মারা গেছেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ৩১২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় মেক্সিকোতে মারা গেছেন ২৪৪ জন। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার এ দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার ৬১৯ জনের।

    তুরস্কে একদিনে শনাক্ত আরও ২১ হাজার ৩৫৪ জন এবং মারা গেছেন ১০১ জন। এসময়ে ইতালিতে শনাক্ত ৭৯ হাজার ৮৯৫ জন এবং মারা গেছেন ১২৮ জন, ইন্দোনেশিয়ায় শনাক্ত ১১ হাজার ৫৩২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩৭ জন, ফ্রান্সে শনাক্ত ১ লাখ ১ হাজার ৭৪৭ জন এবং মারা গেছেন ১১৬ জন, জাপানে নতুন শনাক্ত ৫৬ হাজার ৫৭৩ জন এবং মারা গেছেন ১৫৮ জন।

    এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাজ্যে নতুন শনাক্ত ৮৯ হাজার ৭১৭ জন এবং মারা গেছেন ১৩৮ জন। একইসময়ে পোল্যান্ডে শনাক্ত ১২ হাজার ২৭৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২০৭ জনের।

    অন্যদিকে একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ফিলিপাইনে ১৪৫ জন, কানাডায় ৮১ জন, হংকংয়ে ২৮৯ জন, ইউক্রেনে ৭২ জন, আর্জেন্টিনায় ২৯ জন, ইরানে ৯৮ জন, মালয়েশিয়ায় ৮৬ জন, চিলিতে ১৮৪ জন এবং থাইল্যান্ডে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।