Category: আন্তর্জাতিক

  • ইউক্রেনে আরও ৭ বেসামরিক লোক নিহত

    ইউক্রেনে আরও ৭ বেসামরিক লোক নিহত

    ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে রাশিয়ার হামলায় শিশুসহ আরও সাতজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি। কিয়েভের নিকটে রুশ সেনাদের হামলার সময় তারা পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এদিকে, ফ্রান্স বলছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো প্রস্তুত নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা সার্ভিস জানিয়েছে, পেরেমোহা গ্রাম থেকে পালানোর সময় হামলার শিকার হন অনেকে। এসময় এক শিশুসহ মারা যান সাতজন।

    তবে এ ব্যাপারে রাশিয়ার তরফে কিছু জানা যায়নি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে আগ্রাসন চালানোর পর থেকে মস্কো বেসামরিক লোকদের টার্গেট করে হামলার কথা অস্বীকার করে আসছে । লোকজন সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইউক্রেন বলেও দাবি তাদের।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মস্কো নতুন করে সেনা পাঠিয়েছে দেশটিতে। স্থানীয় সময় শনিবার এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, আমরা হাল ছাড়িনি, এখনো যুদ্ধ করে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত ১৩শ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি রাশিয়ার সেনাদের হুমকি দিয়ে বলেন, রাজধানীতে ঢুকলে তাদের প্রাণ যাবে।

    এদিকে, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জার্মান চ্যান্সেলর ও প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রোর সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর জার্মান ও ফ্রান্সের নেতারা রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন দ্রুত যুদ্ধবিরতি ঘোষণার জন্য।

    সূত্র: রয়টার্স

  • চীনে ফের বাড়ছে করোনা

    চীনে ফের বাড়ছে করোনা

    সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সাংহাই প্রদেশে স্কুল বন্ধ রেখেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে দেশটির ১০টির মতো প্রদেশে।

    চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন রোববার (১৩ মার্চ) জানিয়েছে, দেশটিতে একদিনে করোনা শনাক্ত হয় অন্তত তিন হাজার ৩৯৩ জনের। এটি ২০২০ সালের ফ্রেব্রুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ।

    চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। সেখান থেকেই আজ গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়েছে। যদিও করোনার প্রকৃত উৎস কোথায় তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে।

    ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি। কয়েক বছরে করোনা বারবার ধরন বদলে আবারও সংক্রমণ ঘটিয়েছে। এদিকে, করোনা ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে চলছে টিকাদান কর্মসূচি ।

    সূত্র: এএফপি

    চীনে একদিনে তিন হাজার চারশো জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত দুই বছরের মধ্যে একদিনে আক্রান্তের সংখ্যার এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সাংহাই প্রদেশে স্কুল বন্ধ রেখেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে দেশটির ১০টির মতো প্রদেশে।

    চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন রোববার (১৩ মার্চ) জানিয়েছে, দেশটিতে একদিনে করোনা শনাক্ত হয় অন্তত তিন হাজার ৩৯৩ জনের। এটি ২০২০ সালের ফ্রেব্রুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ।

    চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। সেখান থেকেই আজ গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়েছে। যদিও করোনার প্রকৃত উৎস কোথায় তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে।

    ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি। কয়েক বছরে করোনা বারবার ধরন বদলে আবারও সংক্রমণ ঘটিয়েছে। এদিকে, করোনা ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে চলছে টিকাদান কর্মসূচি ।

    সূত্র: এএফপি

  • পাঁচ হাজারের নিচে নামলো মৃত্যু, শনাক্ত সাড়ে ১২ লাখ

    পাঁচ হাজারের নিচে নামলো মৃত্যু, শনাক্ত সাড়ে ১২ লাখ

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারাবিশ্বে আরও চার হাজার ৫০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ লাখ ৫২ হাজার ৩৩৭ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১২ লাখ ১৪ হাজার ৩৬০ জন।

    এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ ৬২ হাজার ৫৫৯ জনে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৪ জনে। এছাড়া এ পর্যন্ত করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৩৯ কোটি তিন লাখ ১৪ হাজার ৮৩২ জন।

    এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাবিশ্বে পাঁচ হাজার ৯৪৬ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হন ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৭৪ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৪৫ জন।

    রোববার (১৩ মার্চ) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

    ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এসময়ে দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন তিন লাখ ৮৩ হাজার ৬৫১ জন। একই সময়ে দেশটিতে মারা গেছেন ২৬৯ জন। এ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ ছয় হাজার ২৭৭ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১০ হাজার ১৪৪ জন।

    তবে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ৬৩০ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্য বেড়ে দাঁড়ালো তিন লাখ ৬০ হাজার ২১৫ জনে। এই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ১৫৪ জনের। দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার ১৯৭ জনে।

    করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪৬০ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ১২ হাজার ২৬১ জন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো আট কোটি ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৩৪ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয় লাখ ৯৩ হাজার ৬৯৩ জনে।

    করোনা সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় এবং মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে একদিনে মারা গেছেন আরও ৩৮১ জন। এ নিয়ে দেশটিতে এ পর্যন্ত ছয় লাখ ৫৪ হাজার ৯৯৩ জনের মৃত্যু হলো। ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ২৬৫ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন দুই কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৭৯ জন।

    করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১৪ জন। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫২৩ জন। মহামারি শুরুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন চার কোটি ২৯ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৮ জন এবং মারা গেছেন পাঁচ লাখ ১৫ হাজার ৮৪৭ জন।

    একদিনে ফ্রান্সে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৭২ হাজার ৪৪৩ জন এবং মারা গেছেন ৫১ জন। এ নিয়ে দেশটিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো দুই কোটি ৩৪ লাখ ৫৩ হাজার ২২২ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ৪০ হাজার ৮০ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় জার্মানিতে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৪৫ হাজার ২৬৭ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ১৬৬ জন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা রোগী বেড়ে দাঁড়ালো এক কোটি ৭০ লাখ ২৭ হাজার ২১৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ২৬ হাজার ৭৭ জন।

    এছাড়া তুরস্কে ১৩২ জন, ইতালিতে ১৩৩ জন, ইরানে ১৩৯ জন, ইন্দোনেশিয়াতে ২৪৮ জন, পোল্যান্ডে ১২৭ জন, মেক্সিকোতে ২৪৪ জন, জাপানে ১৬৩ জন, মালয়েশিয়াতে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি

  • চাহিদার শীর্ষে থাকা বহুল ব্যবহৃত অস্ত্র তৈরি করেছে যে দেশ

    চাহিদার শীর্ষে থাকা বহুল ব্যবহৃত অস্ত্র তৈরি করেছে যে দেশ

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অস্ত্র আমদানি-রপ্তানি আরও বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রসিদ্ধ অস্ত্রগুলো কোন দেশে তৈরি করেছে তা নিয়েও চলছে জল্পনা-কল্পনা।

    জানা গেছে, বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ও চাহিদা সম্পন্ন একটি অস্ত্রের নাম হলো রাশিয়ার একে-৪৭। এটি কালাশনিকভ নামেরও পরিচিত। ১৯৬০ এর দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনা প্রধান মিখাইল কালাশনিকভ এটি তৈরি করেন। সস্তা, টেকসই ও সহজে ব্যবহারযোগ্য এই অ্যাসল্ট রাইফেলটি ১০০টির বেশি দেশে ব্যবহার করা হয়।

    বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১০ কোটি একে-৪৭ বা একই ধরনের অস্ত্র রয়েছে। এটি বিশ্বের বহুল আলোচিত অস্ত্র বলেও জানা গেছে।

    তাছাড়া রাশিয়া যুদ্ধবিমান, ইঞ্জিন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বিক্রি করে। রাশিয়া তাদের অস্ত্রের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৮ দশমিক ছয় শতাংশ বিক্রি করে যুদ্ধবিমান। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাশিয়া ১৩টি দেশে প্রায় ৪০০ যুদ্ধবিমান বিক্রি করে। এগুলোর মধ্য সুখোই ও মিগ মডেলের বিমানও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ভারতই কিনেছে অর্ধেক। তাছাড়া রাশিয়া থেকে একটি পারমাণবিক সাবমেরিন লিজও নিয়েছে ভারত।

    অন্যদিকে সোভিয়েত সময়ের অনেক অস্ত্রের উন্নয়ন করেছে রাশিয়া। ক্রমেই বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের উন্নয়ন ও নতুন সংযোজন করছেন পুতিন। বিশেষ করে তাদের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০। যা চীন, ভারত, সিরিয়া ও তুরস্কে বিক্রি করা হয়েছে। অন্যদিকে আরও কয়েকটি দেশ দীর্ঘ-পরিসরের মোবাইল সিস্টেম কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর প্রত্যেক ইউনিটের মূল্য ৪০ কোটি ডলার।

  • রাশিয়া ইস্যুতে এশিয়ায় কেন বিভক্তি?

    রাশিয়া ইস্যুতে এশিয়ায় কেন বিভক্তি?

    ইউক্রেন আক্রমণের জেরে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশে পরিণত হয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা দেশগুলো গণহারে নিষেধাজ্ঞা দিলেও মস্কোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে এশিয়ার হাতেগোনা কয়েকটি দেশ। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানায়নি চীন, কোনো নিষেধাজ্ঞাও দেয়নি। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, লাওস, মঙ্গোলিয়ার মতো দেশগুলো জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা নিন্দা প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    তবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ানের মতো পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের অনুকরণে সুইফট গ্লোবাল পেমেন্ট সিস্টেম থেকে রাশিয়ার কয়েকটি ব্যাংককে বাদ দিয়েছে টোকিও এবং সিউল। তবে মস্কোর গায়ে তাদের এই নিষেধাজ্ঞার আঁচ লেগেছে খুব সামান্যই। কারণ, পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞায় এশিয়ার যে কয়টি দেশ ও অঞ্চল যোগ দিয়েছে, রাশিয়ার বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাদের অংশ মাত্র আট শতাংশের মতো।

    আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মুনির খসরুর মতে, এশিয়ার দুই জায়ান্ট চীন ও ভারতকে নিষেধাজ্ঞাদাতার কাতারে না আনলে মস্কোর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, রাশিয়ার বৈশ্বিক বাণিজ্যের ১৮ শতাংশের জন্য দায়ী এ দুটি দেশ।

    তাছাড়া, আট বছর আগে ক্রিমিয়া দখলের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল রাশিয়া। তখন থেকেই মস্কো এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সামলাতে প্রস্তুতি নিয়েছে। মুনিরের কথায়, ২০১৪ সালের পর বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের অংশ হিসেবে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বর্ণ এবং চীনা ইউয়ানে ঝুঁকতে শুরু করে রাশিয়া।

    গ্যাস জায়ান্ট গ্যাজপ্রমসহ রাশিয়ার বহু ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে লেনদেনের ক্ষেত্রে চীনা মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহার করছে। আর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

    চীনের নীরবতার কারণ কী?
    বেইজিংয়ের জন্য বিষয়টি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার মূল্য চুকানো অথবা এ থেকে ফায়দা নেওয়ার কৌশল মাত্র। চীন আগে থেকেই রাশিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। তার ওপর ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়া থেকে গম আমদানিতে বিধিনিষেধ তুলে নেয় বেইজিং এবং আরও বেশি গ্যাস আমদানির জন্য ৩০ বছর মেয়াদী চুক্তি করে।

    জাতিসংঘ ও রাশিয়ায় সিঙ্গাপুরের সাবেক রাষ্ট্রদূত বিলাহারি কৌসিকানের মতে, চীনের উদ্দেশ্য তিনটি। প্রথমত, তিব্বত, জিনজিয়াং ও তাইওয়ানের কারণে চীন সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং হস্তক্ষেপ না করার মতো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কিছু নীতিতে বেশ সংবেদনশীল।

    তিনি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এই নীতির চরম লঙ্ঘন হলেও সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় উদ্দেশ্য রয়েছে। চীনের অন্য কোনো অংশীদারের কৌশলগত গুরুত্ব রাশিয়ার ধারেকাছেও নেই।

    তাছাড়া, পশ্চিমা-আধিপত্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায়ও অস্বস্তি রয়েছে চীনের। তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের বাজার রাশিয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতেই বেশি আগ্রহী বেইজিং।

    কার পক্ষে ভারত?
    ভারত-ভিয়েতনামের জন্য রাশিয়া হচ্ছে সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী। আর গত মাসে মস্কো সফরে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কৌসিকান বলেন, ভারতের কাছে সোভিয়েত আমলের অস্ত্রের বড় মজুদ রয়েছে, যা তাকে সচল রাখতে হবে। আর তার পেছনে কারণ হলো চীন।

    রাশিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক থাকলেও ভারত জাপান-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়াডেরও অংশ, যেটিকে এ অঞ্চলে চীন-বিরোধী জোট হিসেবে দেখা হয়।

    ‘ভারত কার পক্ষে?’ সম্প্রতি রাশিয়ায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ সরণ টুইট করেছেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষে?’

    রাশিয়া ইস্যুতে এশিয়ার অবস্থান অনেকটা এমনই। এখানকার সরকারগুলো বাণিজ্য সংঘাত থেকে শুরু করে মানবাধিকারের মতো ইস্যুগুলোতে কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে পারে, তবে অর্থনৈতিক ইস্যুতে তারা সবসময়ই বাস্তববাদী।

    অধ্যাপক মুনির বলেন, আপনি আশা করতে পারেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত রুশ আগ্রাসনের নিন্দা করবে। কিন্তু দেশগুলো নিজস্ব ভূরাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থই বেশি দেখে, ন্যায়নীতি বা আন্তর্জাতিক নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা কম।

    বড় শক্তির চাপ
    ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাবে এশিয়ার নীতিগত বিভাজন আরও স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়া পাঁচ দেশের একটি উত্তর কোরিয়া। মিয়ানমার নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে মত দিলেও তা ছিল দেশটির ক্ষমতাচ্যুত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিনিধির ভোট। দেশটিতে ক্ষমতা দখল করা জান্তা সরকার বরাবরই রাশিয়ার পক্ষে কথা বলে আসছে। অভ্যুত্থানের পরেও তাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করা দেশগুলোর একটি রাশিয়া।

    সিঙ্গাপুরের এনইউএস ডিপার্টমেন্ট অব পলিটিক্যাল সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক চং জা ইয়ানের মতে, এ অঞ্চলের অন্য ছোট অর্থনীতির দেশগুলো রাশিয়া, চীন ও পশ্চিমা চাপের মধ্যে আটকা পড়েছে। এ ধরনের দেশগুলো সাধারণত বড় শক্তির সমালোচনা এড়িয়ে চলে। কারণ তাতে শাস্তির মুখে পড়ার ভয় রয়েছে।

    তিনি বলেন, এদের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসন মারাত্মক এবং সার্বভৌমত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ। তাই তারা নীরব থাকার পথ বেছে নেয়। এ ধরনের দেশগুলো মস্কোর সমালোচনা করতে না চাইলেও তাকে সমর্থনও করে না।

    এছাড়া, এশিয়ার অনেক দেশেরই চীনের সঙ্গে আঞ্চলিক বিরোধ রয়েছে। তাদের দুশ্চিন্তা হলো, ইউক্রেনে কী ঘটছে তাতে সূক্ষ নজর রেখেছে বেইজিং। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিবাদে কী ফল হবে তা বুঝতে চেষ্টা করছে চীন।

    মার্কিন থিংক ট্যাক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনের ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মঞ্জরি চ্যাটার্জি মিলার বলেন, এশিয়ার বেশিরভাগ দেশই চায় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থিতি। তবে ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশ চায়, চীন ইস্যুতে রাশিয়া ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করুক।

    এটি হয়তো রাশিয়ার নিন্দা জানানো থেকে এশীয় দেশগুলোর বিরত থাকার কারণ কিছুটা ব্যাখ্যা করবে, তবে এর উল্টো দিকটাও ভেবে দেখা দরকার- চীন এই রুশ আগ্রাসন থেকে কী শিক্ষা নিচ্ছে?

    মঞ্জরি চ্যাটার্জির কথায়, রাশিয়াকে আটকানো না গেলে চীন কী বুঝবে? নিষেধাজ্ঞায় যদি কাজ না হয়? ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সীমালঙ্ঘন বা তাইওয়ানের ভবিষ্যতের জন্য এর অর্থ কী হবে?

    এ বিশ্লেষকের মতে, বিষয়টি বেশ জটিল হতে চলেছে। আগ্রাসনের সঙ্গে তেলের দাম আর নৃশংসতা বাড়তে থাকলে তারা কতক্ষণ চুপ থাকতে পারবে।

    সূত্র: বিবিসি

  • জেলেনস্কিকে ফোনে ৪৯ মিনিট ধরে কী বোঝালেন বাইডেন?

    জেলেনস্কিকে ফোনে ৪৯ মিনিট ধরে কী বোঝালেন বাইডেন?

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে শুক্রবার (১১ মার্চ) টেলিফোনে দীর্ঘসময় কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পাক্কা ৪৯ মিনিটের ওই কথপোকথনে তিনি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে বোঝাতে চেষ্টা করেছেন, রাশিয়াকে সাজা দিতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

    সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বাইডেন-জেলেনস্কি এর আগে যতবার ফোনে কথা বলেছেন, সেগুলোর স্থায়িত্ব ছিল বড়জোর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। কিন্তু শুক্রবারই তারা সবচেয়ে বেশি সময় কথা বলেছেন

    এসময় বাইডেন জেলনস্কিকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন আক্রমণের কারণে ক্রেমলিনকে সাজা দিতে রাশিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্য সম্পর্কও স্থগিত করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপ প্রসঙ্গে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট পরে টুইটারে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাস্তবসম্মত কথপোকথন হয়েছে। তাকে যুদ্ধের পরিস্থিতি ও বেসামরিক মানুষদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার করা অপরাধ সম্পর্কে অবহিত করেছি। আমরা ইউক্রেনের নিরাপত্তা জোরদার এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে আরও পদক্ষেপের বিষয়ে সম্মত হয়েছি।

    গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে কথিত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে রাশিয়া। এরপর থেকে ইউক্রেনে চার শতাধিক বেসামরিক মানুষ হতাহত ও রাশিয়ার কয়েক হাজার সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে এই লড়াইয়ে পশ্চিমা মিত্রদের সরাসরি পাশে পায়নি দেশটি। প্রবল পরাক্রমশালী রুশ বাহিনীর বিপক্ষে তাদের লড়তে হচ্ছে একাই।

    রাশিয়া আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটো দেশগুলো সৈন্য-সামন্ত নিয়ে এগিয়ে আসবে বলে ধারণা ছিল ইউক্রেনের। কিন্তু ন্যাটো পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না। এমনকি রুশ আগ্রাসন ঠেকাতে ইউক্রেনের আকাশে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা দিতেও আপত্তি জানিয়েছে পশ্চিমা এই সামরিক জোট।

    এখন পর্যন্ত রুশ আগ্রাসন ঠেকাতে ইউক্রেনকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা আর মস্কোর ওপর বড় বড় নিষেধাজ্ঞা দিয়েই ক্ষান্ত পশ্চিমা দেশগুলো। ইউক্রেনকে মানবিক ও সামরিক সহায়তা দিতে শুক্রবারই ১ হাজার ৩৬০ কোটি ডলারের বিশাল একটি প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস।

  • একদিনে ৫৯৪৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত প্রায় ১৭ লাখ

    একদিনে ৫৯৪৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত প্রায় ১৭ লাখ

    এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪৭ জনে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ১১ হাজার ৯৫২ জনে। এছাড়া এ পর্যন্ত করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৩৮ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার ২০৪ জন।

    এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাবিশ্বে ছয় হাজার ৬২১ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হন ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৩ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৯৫ জন।

    শনিবার (১২ মার্চ) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

    ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এসময়ে দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ৮২ হাজার ৯৭৬ জন। একই সময়ে দেশটিতে মারা গেছেন ২২৯ জন। এ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৬২৬ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন নয় হাজার ৮৭৫ জন।

    তবে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এ পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন এক হাজার ২২ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৩৯ হাজার ২৫৪ জন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো আট কোটি ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬০ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয় লাখ ৯৩ হাজার ৪৪ জনে।

    করোনা সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় এবং মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে একদিনে মারা গেছেন আরও ৪৬৫ জন। এ নিয়ে দেশটিতে এ পর্যন্ত ছয় লাখ ৫৪ হাজার ৬১২ জনের মৃত্যু হলো। ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৫ হাজার ২১১ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন দুই কোটি ৯৩ লাখ পাঁচ হাজার ১১৪ জন।

    করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৮৮ জন। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ২০০ জন। মহামারি শুরুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন চার কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬১ জন এবং মারা গেছেন পাঁচ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৩ জন।

    একদিনে ফ্রান্সে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৭২ হাজার ৩৯৯ জন এবং মারা গেছেন ১৪৯ জন। এ নিয়ে দেশটিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো দুই কোটি ৩৩ লাখ ৮১ হাজার ২৭৯ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ৪০ হাজার ২৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় জার্মানিতে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন দুই লাখ ৪৫ হাজার ৩৪২ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ২৪২ জন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা রোগী বেড়ে দাঁড়ালো এক কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার ৯৪৮ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ২৫ হাজার ৯১১ জন।

    যুক্তরাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৪ জনের মৃত্যু এবং ৭২ হাজার ৮২৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার ৪৮৫ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ালো এক লাখ ৬২ হাজার ৭৩৮ জনে।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ায় ৬৭৪ জন, তুরস্কে ১২৩ জন, ইতালিতে ১৫৬ জন, স্পেনে ৫৮ জন, ইরানে ১৩৯ জন, ইন্দোনেশিয়াতে ২৯০ জন, পোল্যান্ডে ১২১ জন, মেক্সিকোতে ১৯৭ জন, জাপানে ২১১ জন, ভিয়েতনামে ৭১ জন, মালয়েশিয়াতে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারাবিশ্বে আরও পাঁচ হাজার ৯৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৭৪ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৪৫ জন।

    এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪৭ জনে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ১১ হাজার ৯৫২ জনে। এছাড়া এ পর্যন্ত করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৩৮ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার ২০৪ জন।

    এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাবিশ্বে ছয় হাজার ৬২১ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হন ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৩ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৯৫ জন।

    শনিবার (১২ মার্চ) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

    ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। এসময়ে দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন দুই লাখ ৮২ হাজার ৯৭৬ জন। একই সময়ে দেশটিতে মারা গেছেন ২২৯ জন। এ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ লাখ ২২ হাজার ৬২৬ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন নয় হাজার ৮৭৫ জন।

    তবে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এ পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন এক হাজার ২২ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৩৯ হাজার ২৫৪ জন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো আট কোটি ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬০ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয় লাখ ৯৩ হাজার ৪৪ জনে।

    করোনা সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় এবং মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে একদিনে মারা গেছেন আরও ৪৬৫ জন। এ নিয়ে দেশটিতে এ পর্যন্ত ছয় লাখ ৫৪ হাজার ৬১২ জনের মৃত্যু হলো। ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৫ হাজার ২১১ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন দুই কোটি ৯৩ লাখ পাঁচ হাজার ১১৪ জন।

    করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৮৮ জন। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ২০০ জন। মহামারি শুরুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন চার কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬১ জন এবং মারা গেছেন পাঁচ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৩ জন।

    একদিনে ফ্রান্সে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৭২ হাজার ৩৯৯ জন এবং মারা গেছেন ১৪৯ জন। এ নিয়ে দেশটিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো দুই কোটি ৩৩ লাখ ৮১ হাজার ২৭৯ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ৪০ হাজার ২৯ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় জার্মানিতে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন দুই লাখ ৪৫ হাজার ৩৪২ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ২৪২ জন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা রোগী বেড়ে দাঁড়ালো এক কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার ৯৪৮ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন এক লাখ ২৫ হাজার ৯১১ জন।

    যুক্তরাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৪ জনের মৃত্যু এবং ৭২ হাজার ৮২৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার ৪৮৫ জনে এবং মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ালো এক লাখ ৬২ হাজার ৭৩৮ জনে।

    এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ায় ৬৭৪ জন, তুরস্কে ১২৩ জন, ইতালিতে ১৫৬ জন, স্পেনে ৫৮ জন, ইরানে ১৩৯ জন, ইন্দোনেশিয়াতে ২৯০ জন, পোল্যান্ডে ১২১ জন, মেক্সিকোতে ১৯৭ জন, জাপানে ২১১ জন, ভিয়েতনামে ৭১ জন, মালয়েশিয়াতে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

  • ইউক্রেন যুদ্ধে খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে: জাতিসংঘ

    ইউক্রেন যুদ্ধে খাদ্যের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে: জাতিসংঘ

    ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে খাদ্যপণ্যের দাম আট থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে এবং তার ফলে বিশ্বব্যাপী অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। তারা বলেছে, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে ফসল চাষ অনিশ্চিত ও নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার খাদ্য রপ্তানিতে সংশয় উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুক্রবার (১১ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে এফএও।

    সংস্থাটির তথ্যমতে, রাশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম বড় গম রপ্তানিকারক, এক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবস্থান পঞ্চম। এ দুটি দেশ বিশ্বে যব সরবরাহের ১৯ শতাংশ, গমের ১৪ শতাংশ ও ভুট্টার চার শতাংশ জোগান দেয়। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসে রাশিয়া-ইউক্রেন থেকে। তাছাড়া, রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম সার সরবরাহকারীও বটে।

    কিন্তু যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন এবারের মৌসুমে ফসল তুলতে পারবে কি না তা নিয়ে যেমন সংশয় রয়েছে, তেমনি নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার খাদ্য রপ্তানিও অনিশ্চিত। এএফও’র মতে, ইউক্রেনে হয়তো ২০২২-২৩ মৌসুমে শীতকালীন শস্য, ভুট্টা ও সূর্যমুখীর মতো ফসল চাষে ব্যবহৃত জমির ২০ থেকে ৩০ শতাংশ অনাবাদিই থেকে যাবে।

    এফএও মহাপরিচালক কিউ ইউ ডং আশঙ্কাপ্রকাশ করে বলেন, এসব পণ্যের প্রধান দুই রপ্তানিকারকের কৃষিকাজে ব্যাঘাত বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

    কৃষি বাজারে রাশিয়া-ইউক্রেনের অনুপস্থিতিতে তৈরি ঘাটতির সামান্য অংশই অন্য দেশগুলো পূরণ করতে পারবে বলে মনে করছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা। তাদের মতে, এই সংকট বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও পশুখাদ্যের দাম আট থেকে ২২ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে।

    এফএও জানিয়েছে, বিশ্বের অন্তত ৫০টি দেশ গমের জন্য ৩০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি রাশিয়া-ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল, যাদের মধ্যে অনেকেই স্বল্পোন্নত দেশ। সাম্প্রতিক যুদ্ধ তাদের আরও অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।

    সংস্থাটি বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে এফএও’র খাদ্যমূল্য সূচক নতুন রেকর্ড ছুয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে আগামী মাসগুলোতে এটি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বাড়তে পারে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। তারপরে সাব-সাহারান আফ্রিকাসহ পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকায় খাদ্যপণ্যের দামে রকেটগতি দেখা যেতে পারে।

    এ অবস্থায় অন্য দেশগুলোকে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা না দিতে অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘ। অবশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে এরই মধ্যে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপের বেশ কিছু দেশ।

    সূত্র: রয়টার্স

  • লড়াই করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই : ইউক্রেনের এমপি

    লড়াই করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই : ইউক্রেনের এমপি

    বর্তমান ইউক্রেনের কোনো শহরই নিরাপদ নেই বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের সংসদ সদস্য ইননা সোভসুন।

    শুক্রবার সকালে এক টুইটবার্তায় তিনি এ কথা বলেন। খবর বিবিসির। ইননা সোভসুন বলেন, আমরা গত দুই সপ্তাহ ধরে দিনে তিন ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারিনি।


    বিবিসির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই আমরা আমাদের শিশুদের জীবন নিয়ে আতঙ্ককে আছি। কিন্তু আমরা অনেক কিছু করতে পারি না। আমরা আত্মসমর্পণ করতে পারি না, আমরা তাদের দখল করতে দিতে পারি না।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের লড়াই করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমাদের জন্য সেটা যতই ভয়ঙ্কর হোক না কেন। সোভসুন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে পশ্চিমাদের দ্বারা আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুতিনের আক্রমণ বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট।

    তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বের কাছে অনুরোধ করছি দয়া করে হস্তক্ষেপ করুন। দয়া করে রাশিয়াকে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে দেবেন না এবং পুরো দেশকে ধ্বংস করতে দেবেন না। আমরা এর প্রাপ্য কিছু করিনি।


    উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশের পর ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। এ অভিযানের অংশ হিসেবে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা চালানো হচ্ছে।

    অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনের সেনাবাহিনীও প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। আজ যুদ্ধের ১৬তম দিন।

  • মহাবিপদে ইউক্রেন, চোখ রাঙাচ্ছে রাশিয়ার চেয়ে বড় শক্তি!

    মহাবিপদে ইউক্রেন, চোখ রাঙাচ্ছে রাশিয়ার চেয়ে বড় শক্তি!

    যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের বিভিন্ন পরীক্ষাগারে থাকা উচ্চ-হুমকির প্যাথোজেন বা রোগ সংক্রামক জীবাণু ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মানুষের মধ্যে সেগুলো ‘যেকোনো সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে’—এমন আশঙ্কা থেকেই সংস্থাটি এই পরামর্শ দিয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বায়োসিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনে রুশ সেনাদের চলাচল এবং বিভিন্ন শহরে গোলাবর্ষণের ফলে পরীক্ষাগারে থাকা এসব প্যাথোজেন ছড়িয়ে পড়ার হুমকি দেখা দিয়েছে। তাই দ্রুত সেগুলো ধ্বংস করা প্রয়োজন।

    যুদ্ধের মধ্যে ওই রোগ সংক্রামক জীবাণুগুলো ছড়িয়ে পড়লে ইউক্রেনের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্যাথোজেনের মাধ্যমে কঠিন রোগব্যাধি ছড়াতে পারে। এতে করে রুশ আগ্রাসন ঠেকানো গেলেও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ইউক্রেন।

    অন্য দেশের মতো ইউক্রেনেও জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার জন্য অনেক পরীক্ষাগার রয়েছে। মানুষ ও প্রাণী উভয়কেই প্রভাবিত করে—এমন বিপজ্জনক রোগের হুমকি ঠেকাতে সেখানে কাজ করা হচ্ছিল।

    সম্প্রতি করোনা ভাইরাস নিয়েও ওই পরীক্ষাগারে গবেষণা চলছিল। ল্যাবে এসব নিয়ে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন রয়েছে।

    ১৬ দিন ধরে ইউক্রেনে রুশ হামলা চলছে। এতে অনেক মানুষ হতাহত হয়েছেন। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ২০ লাখের বেশি মানুষ। এখনো বিভিন্ন শহরে গোলাবর্ষণ করছে রাশিয়ার সেনারা।

    এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পরীক্ষাগারগুলো সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে জানতে চায় রয়টার্স। ইমেইলে দেওয়া এক উত্তরে সংস্থাটি জানায়, অনেক বছর ধরেই তাদের সঙ্গে ইউক্রেনের পাবলিক হেলথ ল্যাবগুলো কাজ করছে।

    এই কাজের অংশ হিসেবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্য দায়িত্বশীল সংস্থাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, সম্ভাব্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উচ্চ-ঝুঁকির প্যাথোজেনগুলো ধ্বংস করতে হবে। এই কাজ খুব দ্রুত করার কথাও বলা হয়েছে।

    ইউক্রেন কর্তৃপক্ষকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কবে এই সুপারিশ করেছে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। দেশটির পরীক্ষাগারগুলোতে কী ধরনের প্যাথোজেন বা বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। সংস্থাটির ওই সুপারিশগুলো পাওয়ার পর ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ কাজ করেছে কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি।

    এ বিষয়ে কিয়েভ ও ওয়াশিংটন দূতাবাসে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। কিন্তু তারা সেই অনুরোধে সাড়া দেননি।