Category: আন্তর্জাতিক

  • কোন দেশের সামরিক ব্যয় কত

    কোন দেশের সামরিক ব্যয় কত

    ইউক্রেনে হামলাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে পশ্চিমা বিশ্ব। এদিকে রাশিয়াও পাল্টা হুমকি ও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে সংকট। অনেকে বিশ্লেষক মনে করেন বিশ্ব নেতাদের দায়িত্বহীনতায় হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বের কোন দেশ সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী বা কারা সামরিকখাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে।

    জানা গেছে, গত তিন দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে রাশিয়া। ২০২০ সালে মস্কো সামরিকখাতে ব্যয় করে প্রায় ৬২ বিলিয়ন ডলার। যা দেশটির জিডিপির চার শতাংশ। দেশটিতে অস্ত্র ব্যবসায় এক হাজার ৩০০ কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত। যাতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ কর্মরত রয়েছেন। রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র কোম্পানি হলো রোসটেক। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।

    তাছাড়া, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকখাতে ব্যয় করে প্রায় ৭৭৮ বিলিয়ন ডলার। যা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয় চীনের। একই সময়ে দেশটি সামরিকখাতে ব্যয় করে ২৫২ বিলিয়ন ডলার। ব্যয়ের দিক থেকে এর পরেই অবস্থান করছে ভারত ও রাশিয়া। সামরিকখাতে এসময় ভারত ব্যয় করে ৭৩ বিলিয়ন ডলার।

    রাশিয়া যুদ্ধবিমান, ইঞ্জিন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বিক্রি করে। রাশিয়া তাদের অস্ত্রের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৮ দশমিক ছয় শতাংশ বিক্রি করে যুদ্ধবিমান। ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাশিয়া ১৩টি দেশে প্রায় ৪০০ যুদ্ধবিমান বিক্রি করে। এগুলোর মধ্য সুখোই ও মিগ মডেলের বিমানও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ভারতই কিনেছে অর্ধেক। তাছাড়া রাশিয়া থেকে একটি পারমাণবিক সাবমেরিন লিজও নিয়েছে ভারত।

    অন্যদিকে সোভিয়েত সময়ের অনেক অস্ত্রের উন্নয়ন করেছে রাশিয়া। ক্রমেই বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের উন্নয়ন ও নতুন সংযোজন করছেন পুতিন। বিশেষ করে তাদের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০। যা চীন, ভারত, সিরিয়া ও তুরস্কে বিক্রি করা হয়েছে। অন্যদিকে আরও কয়েকটি দেশ দীর্ঘ-পরিসরের মোবাইল সিস্টেম কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর প্রত্যেক ইউনিটের মূল্য ৪০ কোটি ডলার।

  • কোয়ারেন্টাইনে থাকা নারীর পোষা কুকুরকে পিটিয়ে মারলো স্বাস্থ্যকর্মী

    কোয়ারেন্টাইনে থাকা নারীর পোষা কুকুরকে পিটিয়ে মারলো স্বাস্থ্যকর্মী

    কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন চীনের এক নারী। এসময় তার পোষা কুকুরটিকে দুই স্বাস্থ্যকর্মী পিটিয়ে মেরে ফেলে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কুকুরটিকে নির্যাতনের ভয়াবহ দৃশ্য। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নিন্দার ঝড় বইছে।

    চীনা সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম উইবোতে গত ৪ মার্চ গুয়াংডং প্রদেশের ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, তার ৩ বছর বয়সী কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রমাণের জন্য তিনি ভিডিওটি শেয়ার করেন।

    বন্ধুর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ায় গত ২ মার্চ কোয়ারেন্টাইনে যান ওই নারী। এসময় তাকে তার কুকুর স্নোবলকে নিতে মানা করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরপর তিনি ভেতরে যাওয়ার পর তারা কুকুরটিকে নিয়ে যায়।

    নিরীহ প্রাণীটি তাদের কোনো ক্ষতি করেনি বলেও দাবি তার। তিনি তার পোস্টে চীনা ভাষায় লিখেছেন, স্নোবল তার কাছে পরিবারের একটি অংশ।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়েছে এবং ওই দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

  • আনারস কলা নারকেল উৎপাদনে সহযোগিতা করবে ফিলিপাইন

    আনারস কলা নারকেল উৎপাদনে সহযোগিতা করবে ফিলিপাইন

    বাংলাদেশে উন্নত মানের রপ্তানিযোগ্য আনারসের জাত এমডি-২, জি-নাইন কলা, ডেলমন চা এবং মাকাপুনো নারকেল উৎপাদনে সহযোগিতা করবে ফিলিপাইন। এ বিষয়ে শিগগির বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হবে।

    শুক্রবার (১১ মার্চ) ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ৩৬তম এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে এ তথ্য জানানো হয়। সমাপনী দিনের সেশন শুরুর আগে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে বৈঠক করেন ফিলিপাইনের কৃষিমন্ত্রী উইলিয়াম ডি. ডার। বৈঠকে এ তথ্য জানান হয়।

    বাংলাদেশে এরইমধ্যে ফিলিপাইন থেকে এমডি-২ জাতের আনারসের তিন লাখ চারা এনে চাষ শুরু হয়েছে। আরও চার লাখ চারা আনা প্রক্রিয়াধীন আছে। আগের চেয়ে আরও কম দামে ও সহজ শর্তে এ জাতের আনারসের চারা বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফিলিপাইনের কৃষিমন্ত্রী। এছাড়া, রপ্তানিযোগ্য সুস্বাদু জি- নাইন কলা, চা ও ধান চাষসহ কৃষিখাতে সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক সইয়ে সম্মত হন দুই মন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কৃষি উন্নয়নে যেভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন, বৈঠকে তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ফিলিপাইনের কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কৃষির উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পলিটিক্যাল উইল অ্যান্ড কমিটমেন্ট খুবই প্রশংসনীয়। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের কৃষি, অর্থনীতি ও মানবসম্পদ এখন শক্ত অবস্থানে আছে

    কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রীলঙ্কার কৃষিমন্ত্রী মিথালাওয়ে মাহিনদানার আলুথগামেজ

    কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ থেকে আমের জাত ও ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ব্রিধান-৮৯ নেওয়ার জন্য ফিলিপাইনকে আহ্বান জানান। এছাড়া ফিলিপাইনে গোল্ডেন রাইস চাষের অভিজ্ঞতা জানতে চান মন্ত্রী।

    এ বিষয়ে ফিলিপাইনের মন্ত্রী জানান, তারা সেদেশে এরইমধ্যে গোল্ডেন রাইস চাষের অনুমোদন দিয়েছেন। বীজ উৎপাদনের কাজ এখন চলছে। এ বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করবেন ও সহযোগিতা দিবেন।

    বিশ্বে ফিলিপাইন একমাত্র দেশ যারা গোল্ডেন রাইস চাষের অনুমোদন দিয়েছে।

    আলু নেবে শ্রীলঙ্কা
    শ্রীলঙ্কার কৃষিমন্ত্রী মিথালাওয়ে মাহিনদানার আলুথগামেজের সঙ্গেও আজ বৈঠক করেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন শ্রীলঙ্কার কৃষিমন্ত্রী। বৈঠকে শ্রীলঙ্কার নারকেল গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে পারস্পরিক সহায়তা বাড়ানোর তাগিদ দেন বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী।

    বাংলাদেশের সঙ্গে কৃষিখাতে সহযোগিতার জন্য শ্রীলঙ্কার দুইটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। বৈঠকে এ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণে সস্মত হন দুই মন্ত্রী।

    শ্রীলঙ্কার কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশে চা ও দারুচিনি রপ্তানি ও বার্টার পদ্ধতিতে বাংলাদেশের আলু নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, চীনের সঙ্গে তাদের বার্টার সিস্টেম চালু আছে।

    বাংলাদেশ বার্টার সিস্টেমের সম্ভাবনা বিবেচনা করে দেখবে বলে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান।

    লাওসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক হবে
    এরপর লাওসের কৃষি উপমন্ত্রী থংপাথ ভংমানির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় আপদকালীন চাল সংকট মোকাবিলায় লাওস থেকে আমদানি করার আগ্রহের কথা জানালে সহযোগিতার আশ্বাস দেন থংপাথ ভংমানি।

    কৃষিখাতে পারস্পরিক সহায়তা বাড়াতে শিগগির সমঝোতা স্মারক সই করার বিষয়েও সম্মত হয় দুই দেশ। থংপাথ ভংমানি এসময় বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    এই তিন বৈঠকেই কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

  • খাদ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে নিম্ন আয়ের দেশগুলো: বিশ্বব্যাংক

    খাদ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে নিম্ন আয়ের দেশগুলো: বিশ্বব্যাংক

    কয়েকদিন ধরেই ইউক্রেনে সংঘাত চলছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে হামলা চালায় রাশিয়া। এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে উচ্চমূল্যসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলো মারাত্মক খাদ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমনকি রেমিট্যান্সও কমে যাবে। এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটও তৈরি হবে।

    বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ন্যায়সঙ্গত প্রবৃদ্ধি, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান) ইন্দারমিট গ্রিল।

    বিজ্ঞপ্তিতে ইন্দারমিট গ্রিল জানান, কিছু উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ খাদ্যের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইউরোপ এবং মধ্যএশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মুষ্টিমেয় অর্থনীতির দেশে আমদানি করা গমের ৭৫ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে দেশ দুটি। সংঘাতের কারণে এই দেশগুলো রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শস্য এবং বীজ উৎপাদন আমদানি করতে পারছে না। খাদ্য পরিবহনও ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য সরবরাহে ব্যাঘাতের পাশাপাশি খাদ্যের উচ্চমূল্য, ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কারণ হতে পারে।

    জ্বালানি সংকটে পড়বে গোটা বিশ্ব

    রাশিয়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের বাজারেও একটি প্রধান শক্তি। এটি প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারের এক-চতুর্থাংশ, কয়লার বাজারের ১৮ শতাংশ, প্লাটিনামের বাজারের ১৪ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের বাজারে ১১ শতাংশ অবদান রাখে। এই পণ্যগুলোর সরবরাহে বিরাট প্রভাব পড়েছে। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিরও ব্যাপক প্রবৃদ্ধিও কমিয়ে দেবে। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশনা থেকে অনুমান করা হয়েছে যে তেল-মূল্যের ১০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। এটা চলতে থাকলে পণ্য-আমদানিকারী উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে প্রবৃদ্ধি হতাশাজনকভাবে কমবে।

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতসহ নানা কারণে গত ছয় মাসে তেলের দাম ১০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যদি এটি স্থায়ী হয় তবে চীন, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও তুরস্কের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলোতেও প্রবৃদ্ধি কমবে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ২ শতাংশ, তুরস্ক ২ থেকে ৩ শতাংশ এবং চীন ও ইন্দোনেশিয়া ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সংঘাতের কারণে দেশগুলো প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে না।

    বাড়ছে উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠী, কমবে রেমিট্যান্স

    সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ২০ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে বৃহত্তম গণঅভিবাসন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার আশঙ্কা করছে, খুব শিগগির শরণার্থীর সংখ্যা ৪০ লাখে উন্নীত হবে। বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর আকস্মিক আগমনকে মেনে নেওয়া আয়োজক সরকারের জন্য কঠিন। এটি জনসাধারণের অর্থায়ন ও পরিষেবা সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করে- বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    অর্থনৈতিক মন্দা পূর্ব ইউরোপের বাইরের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেসব দেশ প্রচুর পরিমাণে রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ মধ্যএশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ রাশিয়া থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল- কিছু ক্ষেত্রে, এই রেমিট্যান্স দেশের জিডিপির ১০ শতাংশের মতো। মধ্যএশিয়ার অনেক দেশে সংঘাতের ফলে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • রাশিয়ান দূতাবাসের টুইট ডিলিট

    রাশিয়ান দূতাবাসের টুইট ডিলিট

    ইউক্রেনের অবরুদ্ধ মারিউপোল শহরের একটি শিশু হাসপাতালে রুশ বাহিনীর হামলায় শিশুসহ হতাহতের ঘটনা ভুয়া বলে যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার দূতাবাসের করা টুইট মুছে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) এ হামলা চালানো হয় বলে দাবি করে ইউক্রেন।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, বুধবার (৯ মার্চ) মাতৃত্বকালীন ও শিশু হাসপাতালে রুশ বাহিনীর বোমা হামলা এক শিশুসহ তিনজন মারা গেছেন।

    টুইটারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, টুইটারের শর্ত লঙ্ঘনসহ সহিংস ঘটনা অস্বীকার করা ও হিংসাত্মক আচরণের অভিযোগে এমন ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    রাশিয়ান দূতাবাসের তরফে মারিউপোলে হাসপাতালে হামলার ছবি পোস্ট করে টুইট করা হয় যে এটি ‘ভুয়া’। ওই হাসপাতালটি অভিযানের বাইরে ছিল এবং সেটি ইউক্রেনের সেনারা ব্যবহার করছিল বলেও দাবি তাদের।

    রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশের পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা শুরু করেন রাশিয়ার সেনারা। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক থেকে, এমনকি বেলারুশ থেকেও হামলা চালানো শুরু হয়। ধীরে ধীরে রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হয় রুশ সেনারা। এখনো হামলা অব্যাহত রয়েছে ইউক্রেনে।

    ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা কবেলে পড়েছে দেশটি। রাশিয়ার তথ্য প্রচারে টুইটার, ফেসবুক কর্তৃপক্ষও নানা বিধিনিষেধ জারি করেছে এর আগেই।

    সূত্র: রয়টার্স

  • ইউক্রেনকে সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বড় অংকের বিল পাস

    ইউক্রেনকে সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বড় অংকের বিল পাস

    ইউক্রেনকে মানবিক ও সামরিক সহায়তা প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন অর্থাৎ এক হাজার ৩৬০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউজে এই বিলের নথিপত্র পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    এই প্যাকেজের তহবিলে সরকারের একটি বড় অংশ রয়েছে। বিরোধী রিপাবলিকানদের প্রতিবাদের কারণে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটরা কোভিড ত্রাণের জন্য তহবিল বাদ দেওয়ার পরে এটি অনুমোদিত হলো।

    ইউক্রেনীয়দের খাদ্য, ওষুধ, আশ্রয় এবং ইউক্রেন ছেড়ে যেতে হয়েছে এমন প্রায় দুই মিলিয়ন অর্থাৎ ২০ লাখ শরণার্থীর জন্য এ অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্র স্থানান্তরের জন্যও এখান থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে। বিলটি উত্থাপন ও ভোটাভুটির সময় ডেমোক্রেট নেতা চক শুমার বিষয়টি তুলে ধরেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক মাস ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। এর আগে পূর্ব ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর নির্দেশের আগে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত দুটি অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। স্থানীয় সময় সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন ইউক্রেনকে রাশিয়ার ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, পূর্ব ইউক্রেন এক সময় রাশিয়ার ভূমি ছিল। পুতিনের এ ঘোষণার পর শুরু হয় ইউক্রেন আগ্রাসন।

    রাশিয়ার হামলা প্রতিরোধ করতে যুদ্ধের মাঠে নামে ইউক্রেনও। এখনো দেশ দুটির সেনাদের মধ্যে লড়াই চলছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। হামলা-পাল্টা হামলার জেরে বহু মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ২০ লাখ ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়েছেন। আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী দেশগুলোতে। এমনকি দেশের অভ্যন্তরেও স্থানান্তর ঘটেছে অনেকের। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশটিতে মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। এমন অবস্থায় কংগ্রেসে এই বিশাল পরিমাণ সহায়তা প্যাকেজ সম্পর্কিত বিল পাস হলো।

    সূত্র: বিবিসি

  • ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা থামছেই না

    ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা থামছেই না

    ইউক্রেনে এখনো হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া, এমন অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত দুই দিনে এক লাখের মতো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু রাশিয়ান সেনারা মারিউপোলে মানবিক করিডোর টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে।

    এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, করিডোরে ট্যাঙ্ক দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, সেখানকার অবরুদ্ধ মানুষের জন্য খাদ্য, পানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

    এদিকে, এখনো রাজধানী কিয়েভের আশপাশে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে বহু মানুষ। রাশিয়ান সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় আটকা পড়েছেন আরও অনেকে।

    ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে বৃহস্পতিবার। এদিকে, যুদ্ধ বন্ধে তুরস্কের আন্তালিয়া শহরে আলোচনার জন্য বসেছিলেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তবে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি সেই বৈঠকে। অস্ত্রবিরতি ও বেসামরিক মানুষকে ইউক্রেন ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও কোনো অগ্রগতি নেই। যদিও আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত দুই পক্ষই।

    তুরস্কে বৈঠক শেষে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা বলেন, মানবিক সংকট সমাধানে কাজ করতে তারা সম্মত হয়েছেন। তিনি বলেন, মানবিক ইস্যুতে ২৪ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতির বিষয়টি তোলা হয়েছিল। তবে এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। দিমিত্রি বলেন, আমি আবারও বলতে চাই যে ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করেনি, আত্মসমর্পণ করছে না এবং আত্মসমর্পণ করবে না।

    বিজ্ঞাপন

    অন্যদিকে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ কোনো ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেননি এবং ইউক্রেনের নিরস্ত্রীকরণসহ নিরপেক্ষ অবস্থানের দাবি পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে আগুনে ঘি ঢালছে পশ্চিমারা।

    এদিকে, ইউক্রেনের পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১২ লাখের মতো মানুষ দেশ ছেড়েছেন। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধে ৪০ লাখ নাগরিক ইউক্রেন ছাড়তে পারে। তবে তাদের আশ্রয় দিতেও ইউরোপ প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। কিয়েভ ছেড়ে এসব নাগরিক ইউরোপের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও মলদোভায় প্রবেশ করছে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশের পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা শুরু করেন রাশিয়ার সেনারা। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক থেকে, এমনকি বেলারুশ থেকেও হামলা চালানো শুরু হয়। ধীরে ধীরে রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হয় রুশ সেনারা।

    সূত্র: এএফপি

  • আট জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন পুতিন!

    আট জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন পুতিন!

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক বিপর্যয়ের দায়ে আট জেনারেলকে বরখাস্ত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের।

    বুধবার ইউক্রেনিয়ান টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিয়েভের প্রতিরক্ষা প্রধান ওলেকসি দানিলোভ এমন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে না পারার অভিযোগে আট জেনারেলকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে শত্রুরা। সেখানে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
     
    ওলেকসি দানিলোভ বলেন, রুশ ফেডারেশনে কী ঘটছে, তা আমরা পুরোপুরি বুঝতে পেরেছি। আরো যা বলতে পারি, তা হচ্ছে, তারা বেপরোয়া হয়ে গেছে। এফএসবি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেছেন পুতিন। 

    এফসিবি বাহিনী থেকেই পুতিন গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে থাকেন। এফসিবি তাকে বলেছিল, ইউক্রেন খুবই দুর্বল, সেখানে নতুন-নাৎসিতে ভরে গেছে। হামলা করলেই তারা আত্মসমর্পণ করবে।

    যুক্তরাজ্যের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফিলিপ ইংরাম বলেন, সত্যিকার অর্থে পুতিন খুবই ক্ষুব্ধ। নিজের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দায়ী করছেন তিনি। সিদ্ধান্ত নির্ধারণের দুর্বলতার কারণে রাশিয়ার সেনাদের অনেক বেশি প্রাণহানি ঘটছে। যা একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল।

    এদিকে গেল ১৫ দিনের যুদ্ধে রাশিয়া অন্তত ১২ হাজার সেনা খুইয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।

    ওলেকসি দানিলোভ আরো বলেন, শত্রুর পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা অনেক ভালোভাবেই জানি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জেনারেলদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জয়ী হতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের পক্ষে তা করা কখনোই সম্ভব ছিল না।

  • ফের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া : ইউক্রেন

    ফের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া : ইউক্রেন

    চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই রুশ সেনারা ফের একটি পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। একইসঙ্গে মস্কো পারমাণবিক সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে দেশটি। শুক্রবার (১১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

    ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক পরিদর্শক সংস্থা জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে অবস্থিত ওই পারমাণবিক স্থাপনায় বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালায় রুশ সামরিক বাহিনী। রুশ সেনাদের কামানের গোলাবর্ষণের কারণে পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রটির বিদুৎ চলে যায় এবং এতে করে সেটি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

    বিবিসি বলছে, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি এবং রাশিয়াও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এই ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করেনি।

    এর আগে গত ৩ মার্চ দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক কেন্দ্র রুশ সামরিক দখল করে নেয়। দখলের আগে রুশ সেনাদের হামলায় পরমাণু কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

    এছাড়াও বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ বলেছে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর দখল করে নেওয়া ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণু কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সুবিধার সাথে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে তাদের জানানো হয়েছে।

    সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১৯৮৬ সালেল ২৬ এপ্রিল ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটে। ওই দিনটি ‘চেরনোবিলের বিপর্যয়’ হিসেবে পরিচিত। সোভিয়েতের পতনের পর চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমান ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্ত হয়। এই পারমাণবিক দুর্ঘটনাকে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও বিপর্যয় হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে।

  • এগিয়ে যাচ্ছে সেনাবহর, কিয়েভ থেকে মাত্র ৯ মাইল দূরে রুশ সেনারা

    এগিয়ে যাচ্ছে সেনাবহর, কিয়েভ থেকে মাত্র ৯ মাইল দূরে রুশ সেনারা

    ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ অভিমুখী রাশিয়ার সামরিক বহর গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন মাইল (৫ কিলোমিটার) অগ্রসর হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে কিয়েভের দিকে অগ্রসরমান রুশ সেনাবহরটি বর্তমানে কিয়েভের কেন্দ্রস্থল থেকে আর মাত্র ৯ দশমিক ৩ মাইল (১৫ কিলোমিটার) দূরে রয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে শুক্রবার (১১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও স্কাই নিউজ।

    ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, কিয়েভের উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আরেকটি রুশ সেনাবহর ইউক্রেনের রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসছে এবং সেটি বর্তমানে কিয়েভের কেন্দ্রস্থল থেকে ২৫ মাইল (৪০ কিলোমিটার) দূরে রয়েছে।

    স্যাটেলাইট থেকে পাঠানো ছবিতেও কিয়েভের কাছে একটি রুশ সেনাবহর দেখা গেছে। সেখানে কিয়েভের আশেপাশের অঞ্চলে রুশ বাহিনীকে পুনরায় মোতায়েন হতে দেখা গেছে। এটি ইউক্রেনের রাজধানীর দিকে রুশ বাহিনীর নতুন করে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ম্যাক্সার টেকনোলজিস-এর মতে, কনভয়গুলোকে শেষবার আন্তোনভ বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এখন সেগুলো আশেপাশের শহরে অবস্থান নিতে সরে গিয়েছে। ম্যাক্সার বলছে, অন্যান্য ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কিছু কনভয় লুবিয়াঙ্কার কাছে অবস্থান নিয়েছে এবং কাছাকাছি আর্টিলারি স্থাপন করেছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার কিয়েভের মেয়র বলেছিলেন, রুশ আক্রমণ মোকাবিলায় রাজধানী শহরটিকে কার্যত একটি দুর্গে পরিণত করা হয়েছে এবং সশস্ত্র বেসামরিক নাগরিকরা এটির সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

    এদিকে ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানে যারা রুশ সেনাদের হামলা করবে, তাদেরকে নির্বিচারে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন।

    বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি ও মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘রুশ সেনাদের লক্ষ্য বেসামরিক স্থাপনা বা লোকজন নয়; কিন্তু (বেসামরিক) কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে হামলা করে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে বা তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করা হবে।’

    সংবাদ সম্মেলনে পেসকভ আরও বলেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বেসামরিক লোকজনকে অস্ত্র না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি তারা অস্ত্র সম্বরণ করে— সেক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।’

    গত সপ্তাহে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, রাশিয়ার ৬৫ কিলোমিটার (৪০ মাইল) লম্বা একটি সামরিক বহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে এগিয়ে আসছে। এরপর এসব গণমাধ্যম জানায়, অজ্ঞাত কারণে সামরিক বহরটি একটি স্থানে থেমে আছে।

    গতকাল এসব গণমাধ্যম জানিয়েছিল, রুশ সেনাবহরের ট্যাংকগুলোকে সচল না রাখলে এগুলো ৪০ টন ওজনের রেফ্রিজারেটরে পরিণত হবে এবং রাশিয়ার সেনারা ঠান্ডায় জমে প্রাণ হারাবে। এরপর শুক্রবার ফের রুশ সেনাবহরের এগিয়ে যাওয়ার খবর সামনে এলো।