Category: আন্তর্জাতিক

  • বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কমেছে: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন

    বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কমেছে: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন

    ২০২০ সালে বাংলাদেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কমেছে, তবে একইসময়ে সন্ত্রাস-সম্পর্কিত তদন্ত ও গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া ২০২০ সালে বাংলাদেশে তিনটি নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলেও তাতে কারও মৃত্যু হয়নি।

    ২০২০ সালে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ‘কান্ট্রি রিপোর্ট অন টেররিজম -২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


    যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা ২০২০ সালে বাংলাদেশে তিনটি সন্ত্রাসী ঘটনার মধ্যে রয়েছে- ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে আইইডি বিস্ফোরণ, ৩১ জুলাই নওগাঁয় হিন্দু মন্দিরে হাতবোমা পুঁতে রাখা এবং ২৪ জুলাই গুলশানে পুলিশের মোরটরসাইকেলে আইইডি রাখার ঘটনা।

    চট্টগ্রাম ও নওগাঁর ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস)। চট্টগ্রামে দুই পুলিশ ও একজন সাধারণ লোক আহত হলেও নওগাঁর ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইএসআইএস বা একিউআইএসসহ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ-ভিত্তিক সন্ত্রাসীদের অর্থপূর্ণ সম্পর্ক নেই বলে আগের বছরগুলোর মতোই জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।


    সম্প্রতি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং সংস্থাটির সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরই বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে এমন ইতিবাচক তথ্য দিলো যুক্তরাষ্ট্র।


    পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলায় বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালে সাত জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার পর এ সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

    হলি আর্টিজানে হামলায় আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য রয়েছে দাবিকারী হামলাকারীরা একজন মার্কিন নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করেছিল।

    বৈশ্বিক করোনাভাইরাস মহামারিকালে আদালত পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা বেড়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশে গুরুতর সন্ত্রাসী হামলা মামলায় বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ১৫ শতাংশ কমেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এতে আরও বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের প্রতি শূন্য-সহিষ্ণুতা নীতি এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার কথা অব্যাহতভাবে বলে আসছে বাংলাদেশ সরকার।

    ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ সরকারের একটি নতুন জাতীয় সন্ত্রাস দমন ইউনিট এক পর্যায়ে দেশের প্রধান সন্ত্রাস দমন সংস্থা হিসেবে কাজ শুরু করে।

  • আফগানিস্তানে আইএসের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলা

    আফগানিস্তানে আইএসের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলা

    আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগাহারে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় একজন আইএস সদস্যের নিহত হয়েছেন, যিনি আইএসের আফগানিস্তান শাখার একজন পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) ছিলেন বলে জানা গেছে।

    বিবিসি ও সিএনএনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সেনা বাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন বিল আরবান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ আইএস-কে (খোরাসান) ঘাঁটিতে হামলা করেছে। আফগানিস্তানের নানগাহার প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে।’

    ‘আইএস-কে’র একজন মাস্টারমাইন্ডকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল। প্রাথমিক ইঙ্গিতসমূহ বলছে, আমরা টার্গেটকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছি। কোনো বেসামরিক মানুষ এই হামলায় হতাহত হয়েছেন- এমন সংবাদ পাওয়া যায়নি।’

    বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় পরপর দু’ টি বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথম বিস্ফোরণটি হয় বিমানবন্দরের অ্যাবেই গেটের কাছে, যেখানে মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী বিমানবন্দরের দায়িত্বে ছিলেন। হামলার পর গোলাগুলিও হয়েছে সেখানে।

    এর কিছুক্ষণ পরেই দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী ব্যারন হোটেলের পাশে, যেখানে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ প্রত্যাশী আফগানদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছিলেন।

    ভয়াবহ সেই হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭০ জন মানুষ মারা গেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি, সিএনএনসহ কয়েকটি প্রথম সারির আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এছড়া আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ’।

    নিহতদের মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য আছেন, বাকিরা সবাই বেসামরিক আফগান নাগরিক।

    হামলার এই ঘটনায় বৃহস্পতিবারই ব্যাপক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমা করবো না, এই হামলার কথা ভুলেও যাবো না। হামলাকারীদের অবশ্যই খুঁজে বের করবো এবং জড়িতদেরকে এর মূল্য দিতে হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা ‍সিএনএনকে জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে হামলার পর সেনা কর্মকর্তারা আফগানিস্তানে আইএস ঘাঁটিতে হামলার অনুমোদন চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তা অনুমোদন করেন। তারপরই নানগাহারে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

    শুক্রবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কাবুলে ফের সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে জানিয়েছেন দেশটির গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

    এর জেরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গেটে অবস্থান করা মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কাবুলের মার্কিন দূতাবাস।

  • টানা ১১ দিন পর যুদ্ধবিরতি, বিজয় উদযাপনে রাস্তায় নেমে আসেন ফিলিস্তিনিরা

    টানা ১১ দিন পর যুদ্ধবিরতি, বিজয় উদযাপনে রাস্তায় নেমে আসেন ফিলিস্তিনিরা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক॥ টানা ১১ দিন যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার (২১ মে) স্থানীয় সময় রাত ২টায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপরই ঘর-বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে বিজয়োল্লাস শুরু করেন ফিলিস্তিনিরা। তারা এই যুদ্ধবিরতিকে ফিলিস্তিনের মানুষের বিজয় বলে উল্লেখ করেন।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর রাতের কিছু আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর দলে দলে রাস্তায় নেমে আসেন ফিলিস্তিনিরা। যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে এসময় উল্লাসে মেতে ওঠেন তারা। এসময় ফাঁকা গুলিবর্ষণ এবং আতশবাজির শব্দের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করেন ফিলিস্তিনিরা।

     

    বিজয় উদযাপনের সময় হামাসের পতাকা হাতে রাস্তায় ফিলিস্তিনিরা
    আলজাজিরার সংবাদদাতা সাফওয়াত আল-কাহলৌত জানিয়েছেন, ইসরায়েলের নিঃশর্তভাবে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়াকে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন দল নিজেদের বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মসজিদের লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছেন তারা।

    তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরপরই বিজয় উদযাপনে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি রাস্তায় নেমে আসেন।

     

    এদিকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলের নিঃশর্তভাবে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বিজয় বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। শুক্রবার ভোরে গাজা শহরে উল্লাসরত মানুষের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জয়লাভের ঘোষণা দেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সিনিয়র নেতা খলিল আল-হায়্যা।

     

    উদযাপনরত মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটা বিজয়ের আনন্দ, বিজয়ের উচ্ছ্বাস। এছাড়া ইসরায়েলের বিমান হামলায় ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও বিভিন্ন ভবন পুনর্নির্মানের ঘোষণাও দেন হামাস নেতা খলিল আল-হায়্যা।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • ইসরায়লি শহরে জরুরি অবস্থা জারি

    ইসরায়লি শহরে জরুরি অবস্থা জারি

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের মধ্য চলমান সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় ইসরায়েলি আরবদের দাঙ্গার জেরে কেন্দ্রীয় শহর লডে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। খবর বিবিসি।

    সংঘর্ষে ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে দেশটিতে, এ অবস্থায় শহরে উত্তেজনা আরো বাড়ার আশঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।    ইসরায়েলের লড শহরের মেয়র এ অবস্থাকে গৃহযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

    গত  কয়েকদিন ধরে চলা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন  সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন শিশু। এছাড়াও সংঘাতে ৫ জন ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়েছে।

    এদিকে, হামাস ইসরায়েলের ভেতরে কয়েক শ রকেট হামলা চালালে এর বিপরীতে গাজায় ভয়ানক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।  ফিলিস্তিনের যোদ্ধারা বলছে, ইসরায়েলের  বিমান হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় একটি টাওয়ার ধ্বংসের প্রতিবাদে তেল আবিব শহরে কয়েক শ মিসাইল হামলা চালিয়েছে তারা। ইসরায়েলি বাহিনী বলছে, জেরুজালেম ও অন্যান্য এলাকায় রকেট হামলার প্রতিবাদে গাজায় ফিলিস্তিনের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালিয়েছে তারা।

    মুসলিম ও ইহুদি উভয়ের পবিত্র স্থান জেরুজালেমে মুসলমানদের ওপর ইসরায়লি পুলিশ এবং ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ এই হামলায় ইন্ধন জুগিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলছে।

    এদিকে, ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিরসনে উভয় পক্ষকে তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিদূত টর ভেনেসল্যান্ড বলেছেন, দেশ দুটি একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

  • আজ আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস

    আজ আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস

    মহান ২১ ফেব্রুয়ারি, ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভাষা শহীদদের স্মরণে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত কয়েক বছর ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

    রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

    করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশের প্রথম প্রহরে সরাসরি পুস্পস্তবক করতে পারেননি। তবে তাদের পক্ষে ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবরা।

    দিবসটি সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, আজিমপুর কবরস্থানসহ একুশের প্রভাতফেরি প্রদক্ষিণের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, প্রণয়ন করা হয়েছে শহীদ মিনারে প্রবেশের রোডম্যাপ।

    দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

     

    পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ হতে সর্বোচ্চ ৫ জন প্রতিনিধি হিসেবে ও ব্যক্তিপর্যায়ে একসাথে সর্বোচ্চ ২ জন শহীদ মিনারে পুষ্পস্পবক অর্পণ করার নিয়ম করা হয়েছে এবার। শহীদ মিনারের সকল প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন ও লিকুইড সাবান রাখা হয়েছে। মাস্ক পরা ব্যতীত কাউকে শহীদ মিনার চত্বরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

    ১৯৫২ সালের এদিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠীর চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে।

    মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

    মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ’৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও শাসকগোষ্ঠীর প্রভূসুলভ মনোভাবের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং ভাষার ভিত্তিতে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ।

    ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি সেদিন ‘মায়ের ভাষার’ মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পায় নব প্রেরণা। এরই পথ বেয়ে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ।পরবর্তী নয় মাস পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে সংযোজিত হয় নতুন এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ- ‘বাংলাদেশ’।

    একুশে ফেব্রুয়ারি শোকাবহ হলেও এর যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তা পৃথিবীর বুকে অনন্য। কারণ বিশ্বে এ যাবতকালে একমাত্র বাঙালি জাতিই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে।

    ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ছুটির দিন। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

    ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।

  • ২ সপ্তাহের রিমান্ডে সু চি

    ২ সপ্তাহের রিমান্ডে সু চি

    একাধিক অভিযোগে ২ সপ্তাহের রিমান্ডে সু চিএকাধিক অভিযোগে ২ সপ্তাহের রিমান্ডে অং সান সু চি
    যোগাযোগের সরঞ্জাম অবৈধভাবে আমদানির অভিযোগে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির পুলিশ। মিয়ানমার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আটক থাকবেন সু চি।

    বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

    শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ৭৫ বছর বয়সী এ নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি আমদানি-রপ্তানির আইন লঙ্ঘন করেছেন এবং রাজধানী নেপিদোতে অবস্থিত সু চির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওয়াকি-টকি রেডিও-সহ অবৈধ যোগাযোগের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

    সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ত, ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি-সহ শাসকদলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা এবং কয়েকশ’ আইনপ্রণেতাকে আটক করে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী।

    প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ— কোভিড মহামারিতে সমাবেশ নিষিদ্ধের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন তিনি। তাকেও দু’ সপ্তাহের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

    মিয়ানমারে গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তবে, এ ফলাফল নিয়ে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার এবং প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর মধ্যে কয়েকদিন ধরে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা চলতে থাকায় এ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে বলে জানায় বিবিসি।

  • সেনা অভিযানে সু চি ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি আটক

    সেনা অভিযানে সু চি ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি আটক

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট, ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিসহ শাসক দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

    সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেনাবাহিনীর অভিযানে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দলের এক মুখপাত্র।

    ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র মায়ো নিউন্ট সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, অং সান সু চি, রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সোমবার ভোরে আটক করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমি জনগণকে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানাই। তারা যেন আইন অনুসারে প্রতিক্রিয়া জানায়।

    বিবিসির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সংবাদদাতা জোনাথন হেড বলেছেন, রাজধানী নেপিটো এবং প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সৈন্যরা নেমে পড়েছে।

    বিবিসির বার্মিজ সার্ভিসের খবরে বলা হয়েছে, নেপিটোয় টেলিফোন ও ইন্টারনেট লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

    সেনা সদস্যরা বেশ কয়েকটি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেছে বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।

    দেশটির সামরিক বাহিনী গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। সেনাবাহিনী নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে সোমবার বসতে যাওয়া সংসদ অধিবেশন বাতিলের দাবি জানায়।

    অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নভেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায়। তবে সেই নির্বাচনে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ভোটারদের ভোট বঞ্চিত করার সমালোচনা করেছিল মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো।

    সেনাবাহিনী সমর্থিত বিরোধী জোট নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি নির্বাচনে ৮.৬ মিলিয়ন ভোট কারচুপি হয়েছে।

    গত সপ্তাহে সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইয়াং যৌক্তিকভাবে নির্বাচনের জালিয়াতিকে চিহ্নিত করেছেন।

  • আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল সৌদি আরব

    আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল সৌদি আরব

    সৌদি আরেব নভেল করোনাভাইরাসের নতুন একটি ধরনের সংক্রমণ এড়াতে দুই সপ্তাহের জন্য বিদেশফেরত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা আজ রোববার থেকে বাতিল হয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে।

    প্রথমে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে এক সপ্তাহ এবং পরে ২৭ ডিসেম্বর থেকে আরেক সপ্তাহের জন্য আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়। সেই সঙ্গে স্থল ও জলপথও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

    আজ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় দুই সপ্তাহের এই নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হয়।

    এখন থেকে সৌদি আরবে ঢুকতে গেলে দুটি কড়া নির্দেশনা মানতে হবে-

    ১. সৌদি নাগরিক নন এমন কেউ যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকা বা করোনার নতুন ধরনটি শনাক্ত হওয়া কোনো দেশ থেকে কাউকে সৌদি আরবে আসতে হলে তাকে কমপক্ষে ১৪ দিন অন্যত্র অবস্থান করে কোভিড-১৯ সংক্রমণ মুক্ত হওয়ার (পিসিআর) পরীক্ষার ফলাফল জমা দিতে হবে।

    ২. করোনাভাইরাসের নতুন ধরনটি ছড়িয়ে পড়া দেশ থেকে সৌদি নাগরিকেরা জরুরি ও মানবিক কোনো কারণে দেশে ফিরতে চাইলে নিজ বাড়িতে কমপক্ষে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন পালন করতে হবে এবং দুটি (পিসিআর) পরীক্ষার ফলাফল জমা দিতে হবে। পরীক্ষার ফলাফল প্রথমটি দেশে পা রাখার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং দ্বিতীয়টি ১৩তম দিনের হতে হবে।

    আর যেসব দেশে করোনার নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়নি সেসব দেশ থেকে সৌদি আরবগামীদের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই চালু থাকবে। নমুনা পরীক্ষার (পিসিআর) ফলাফলসহ তিন থেকে সাত দিনের বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিন পালন করতে হবে।

  • আজ সেই বিরল রাত, ‘ক্রিসমাস স্টার’

    আজ সেই বিরল রাত, ‘ক্রিসমাস স্টার’

    1. চলতি বছরের ১৪ জুলাই কানাডার আলবার্টার ওয়াটারটন লেকস ন্যাশনাল পার্কে তোলা ছবি। মিল্কিওয়ের গ্যালাকটিক মূল অঞ্চলে সবচেয়ে উজ্জ্বল বৃহস্পতি, তার বামে স্লান শনি
      আজ ২১ ডিসেম্বর, পৃথিবীর দীর্ঘতম রাত। এ দিন সন্ধ্যায় কয়েকশ’ বছর পর আবার উজ্জ্বল দুটি গ্রহকে একসঙ্গে মিশে যেতে দেখা যাবে।

    এ মহাজাগতিক ঘটনা ‘দ্য গ্রেট কনজাংশন অব ২০২০’ নামে পরিচিতি। বছরের সবচেয়ে অন্ধকার এ দিনে বৃহস্পতি ও শনি গ্রহ একসঙ্গে মিলে আসবে, আলো দেবে পৃথিবীকে।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একে ‘ক্রিসমাস স্টার’ নামে উল্লেখ করেন, যার ধারণা খ্রিষ্টীয় বাইবেলের স্টার অব বেথলেহেম থেকে নেওয়া। অবশ্য অনেকে বিশ্বাস করেন ২ হাজার আগে বর্ণিত তারকা শুক্র ও বৃহস্পতির যুগলবন্দী ছিল।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসেব বলছে, বৃহস্পতি ও শনিকে এত কাছাকাছি আসতে দেখা গিয়েছিল প্রায় ৮০০ বছর আগে। তার পরে ৪০০ বছর পরে এক বার কাছে এলেও তা পৃথিবী থেকে দেখা যায়নি। সোমবার রাতে ফের ওই দুই গ্রহকে খুব কাছাকাছি দেখতে পাবেন মানুষ।

    আজ সূর্যাস্তের পরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিগন্তে দুই গ্রহকে খুব কাছাকাছি দেখা যাবে। যদিও আকাশে খুব কাছাকাছি থাকলেও দুই গ্রহের দূরত্ব ৭৩ কোটি কিলোমিটার। এ সময় টেলিস্কোপে বৃহস্পতির দু-একটি উপগ্রহও দেখা যেতে পারে।

    সৌরজগতের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রহ বৃহস্পতি সূর্যকে প্রায় ১২ বছরে একবার প্রদক্ষিণ করে। আর শনি যেহেতু সূর্য থেকে অনেক বেশি দূরে থাকে তাই তার কক্ষপথের পরিধি বৃহস্পতির কক্ষপথের পরিধির চেয়ে অনেক বেশি। আর তাই সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে তার লাগে প্রায় সাড়ে ২৯ বছর। অর্থাৎ শনি যখন সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ শেষ করে, বৃহস্পতি তখন সূর্যকে দুবার প্রদক্ষিণ করে ফেলেছে। এর ফলে প্রতি ২০ বছর অন্তর বৃহস্পতি শনিকে অতিক্রম করে এগিয়ে যায়।

    এ বছর ২১ ডিসেম্বর যখন বৃহস্পতি শনিকে অতিক্রম করবে তখন পৃথিবী থেকে দুটি গ্রহের দূরত্ব হবে ন্যূনতম। সুতরাং তাদের ঔজ্জ্বল্য হবে সব থেকে বেশি। ঠিক এই ধরনের ঘটনা এর আগে ঘটেছিল ১৬২৩ সালের ১৬ জুলাই। কিন্তু তখন পৃথিবীর আকাশে দুটি গ্রহের আপাত অবস্থান ছিল সূর্যের খুব কাছে। তাই তা অনেকেই দেখতে পাননি। শনি ও বৃহস্পতির সঙ্গে পৃথিবী যদি পুরোপুরি একই সরলরেখায় অবস্থান না করে তাহলে শনি বৃহস্পতির পেছনে পুরোপুরি ঢাকা পড়ে না। এবারেও তা হবে না। বরং, শনি ও বৃহস্পতিকে ঠিক গায়ে গায়ে লেগে থাকতে দেখা যাবে। এমনটি শেষবার মানুষ দেখেছিল ১২২৬ সালের ৫ মার্চে।

    ২০৪০ সালে বৃহস্পতি আবার শনিকে অতিক্রম করবে কিন্তু রাতের আকাশে এই মিলনকে আবার প্রত্যক্ষ করতে অপেক্ষা করতে হবে ২০৮০ সাল পর্যন্ত

  • বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ

    বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ

    আজ ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ঘুরে দাঁড়াবো আবার, সবার জন্য মানবাধিকার’।

    ১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। ১৯৫০ সালে এই দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালিত হচ্ছে।

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারিভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে মানবাধিকার দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু ও মানবাধিকার’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় একটি ন্যায় ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তার নেতৃত্বে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭২-এর সংবিধানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। আমাদের সংবিধান জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকারের সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।

    তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে মানবিক ও দায়িত্বশীল নীতির অনন্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মাদার অভ হিউম্যানিটি’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় ভূক্তভোগীদের প্রতিকার পাওয়ার পথ সুগম করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিক প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দেশের জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষার অঙ্গীকার বাস্তবায়নকল্পে সরকার ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রণয়ন করে। ইতোমধ্যে কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য জনবল ও বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে কমিশন স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ তিনবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া আমাদের সরকার মানবাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর ও অনুসমর্থন করেছে। আমরা বিশ্ব মানবতার দিকে লক্ষ্য রেখে মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। নিরাপত্তাসহ তাদের জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

    এবারের মানবাধিকার দিবস এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপিত হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। করোনা মোকাবেলার সকল প্রচেষ্টার মূল কেন্দ্রবিন্দু – মানবাধিকার সুরক্ষা এই প্রত্যয় নিয়ে আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।