Category: আন্তর্জাতিক

  • পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গোলায় ২ ভারতীয় সেনা নিহত

    পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গোলায় ২ ভারতীয় সেনা নিহত

    বিরোধপূর্ণ জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ছোড়া গোলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছে। এবং আহত হয়েছে আরও পাঁচজন। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে পাক সামরিক বাহিনীর গোলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রচার করেছে।

    ভারতীয় প্রতিরক্ষাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, বুধবার রাতে উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার নওগাঁ সেক্টরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণে ভারতীয় দুই সৈন্য নিহত এবং ৫জন আহত হয়েছেন। আহতদের সৈন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    এছাড়া পুঞ্চ জেলার মানকোট ও কৃষ্ণ ঘাঁটি সেক্টরের কাছে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে পাক সামরিক বাহিনীর গোলায় আরও এক ভারতীয় সৈন্য নিহত ও এক জওয়ান আহত হয়েছেন।

    ভারতীয় সামরিক বাহিনী বলছে, বিনা উসকানিতে ছোট আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ার মাধ্যমে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের শুরু হলেও শেষে মর্টার থেকে গোলা বর্ষণ করে পাকিস্তান।

    ভারতীয় সামরিক বাহিনী উপযুক্ত জবাব দিয়েছে বলেছে জানিয়েছেন ওই কর্মকতা। তবে পৃথক এ গোলাবর্ষণের ঘটনায় পাকিস্তানি সৈন্য হতাহত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।

    গত পাঁচদিন ধরে পুঞ্চের বিভিন্ন গ্রাম লক্ষ্য করে পাক সামরিক বাহিনী গোলাবর্ষণ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে নয়াদিল্লি। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের গোলায় পুঞ্চের কয়েকটি গ্রামের অনেক প্রাণী আহত হয়। গত মাসে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী সীমান্তে অন্তত ৪৭ বার অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে ভারত।

    গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজৌরি জেলার সুন্দরবানি সেক্টরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ছোড়া ভারী গোলায় ভারতীয় এক সেনা কর্মকর্তা নিহত ও আরও একজন আহত হন। এ ঘটনার দু’দিন আগে গত ২ সেপ্টেম্বর রাজৌরির কেরি সেক্টরে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গোলাবর্ষণ করলে ভারতীয় এক সৈন্য মারা যান।’

  • ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার সব আসামি খালাস

    ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার সব আসামি খালাস

    অযোদ্ধার বহুল আলোচিত বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায়ে অভিযুক্ত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও শীর্ষ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানী, মুরালি মনোহর যোশী ও উমা ভারতীসহ অভিযুক্ত ৩২ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছেন দেশটির আদালত।

    ২৮ বছর আগে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিদের খালাস দিয়ে উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্নেীয়ের বিশেষ আদালত বলেছেন, মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না।

    ভারতের প্রধান রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তৎকালীন নেতা লালকৃষ্ণ আদভানীর নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় দফায় দফায় রথযাত্রা হয়। এই রথযাত্রা থেকে ষোড়শ শতাব্দীর অন্যতম এই মুসলিম স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

    কট্টরপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদী করসেবকরা মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পরপর দেশটিতে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। এতে প্রাণ যায় প্রায় ৩ হাজার মানুষের। উত্তরপ্রদেশের এই মসজিদ ধ্বংস বদলে দেয় ভারতের রাজনীতি। দেশটিতে কট্টর হিন্দুত্ববাদীর উত্থানের নেপথ্যে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে এটি।

    মসজিদ ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও শীর্ষ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানী, মুরালি মনোহর যোশী, সাবেক মন্ত্রী উমা ভারতী ও কল্যাণ সিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়। প্রায় আড়াই যুগ পর বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

    কিন্তু আদালতে উপস্থিত ছিলেন না বিজেপির অভিযুক্ত শীর্ষ এই নেতারা। বিজেপি নেতা আদভানী, মুরালি মনোহর যোশী, উমা ভারতী ও কল্যাণ সেন ভিডিওর মাধ্যমে আদালতে যুক্ত হন। বিজেপি নেতাসহ সব আসামিকে খালাস দিয়ে রায়ে বিচারক বলেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংস পূর্বপরিকল্পিত ছিল না।

    বাবরি মসজিদ : নির্মাণ থেকে ধ্বংস

    ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন তদন্ত শুরু করে। দেশটির সাবেক প্রধান অটল বিহারি বাজপেয়ীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মসজিদ ধ্বংসে উসকানি এবং নির্লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৮ সালে অটল বিহারি বাজপেয়ী মারা যান।

    ১৯৯৩ সালে বিজেপির শীর্ষ নেতা আদভানী, যোশী, উমা ভারতী-সহ ৪৯ জনকে অভিযুক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৭ জন আগেই মারা গেছেন।

    বুধবার ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে লখনৌয়ের বিশেষ আদালত বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে শহরের সব দোকানপাট, রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়। গণমাধ্যম কর্মীদেরও আদালতপ্রাঙ্গনে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের ২০ কোটি প্রান্তিক মুসলিম জনগোষ্ঠী এই মামলার রায়ে সন্তুষ্ট নন। উসকানিদাতারাসহ অভিযুক্ত অন্যরা বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলা থেকে খালাস পাওয়ায় মুসলিমদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হিন্দুদের জয়

    প্রায় তিন দশকের দশকের আইনি লড়াইয়ের পর গত বছর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অযোদ্ধার বিতর্কিত এই স্থানের মালিকানা হিন্দুদের বলে রায় দেন। এছাড়া মসজিদ নির্মাণ করার জন্য শহরের অন্য একটি এলাকায় মুসলিমদের ভূমি দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

    দেশটির প্রধান বিচারপতি রঞ্জণ গগৈয়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের ৫ সদস্যের বেঞ্চ এক সর্বসম্মত রায়ে জানান, দীর্ঘদিন ধরে অযোধ্যার যে ২ দশমিক ৭৭ একর জমি নিয়ে বিতর্ক ছিল; সেখানে রামমন্দিরই হবে। মুসলিমদের মসজিদের জন্য ৫ একর জমি দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয় রায়ে।

    গত ৫ আগস্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অযোদ্ধার রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। মন্দিরের স্থানে রূপার তৈরি ইট স্থাপনের মাধ্যমে এ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

    বিতর্কের আদ্যোপান্ত

    অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের ২ দশমিক ৭৭ একর বিতর্কিত জমির আইনি লড়াইয়ের শুরু হয় ১৯৫০ সালে। রামের ভক্ত গোপাল সিংহ বিশারদ বাবরি মসজিদকেই রামের জন্মভূমি দাবি করে সেখানে পূজার অধিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।

    পরমহংস রামচন্দ্র দাস সেখানে পূজার দাবি জানিয়ে মামলা করেন। ১৯৬১ সালে উত্তরপ্রদেশের সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড জমির অধিকার চেয়ে আদালতে যায়। ‘রামলালা বিরাজমান’ নিজেও মামলার পক্ষ হয়ে ওঠেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি দেবকীনন্দন আগারওয়ালের দাবি, রামের জন্মভূমিই দেবতার চরিত্র পেয়েছে।

    ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সব মামলা এলাহাবাদ হাইকোর্টে চলে আসে। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখাড়া, রামলালার মধ্যে জমি সমান ভাগে করে দেয়া হোক। এর ফলে হিন্দুরা পায় জমির তিন ভাগের দু’ভাগ। মুসলিমরা এক ভাগ।

    এর বিরুদ্ধে সব পক্ষই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। রামলালা বিরাজমানের আইনজীবীরা দাবি করেন, রামের জন্মভূমি দেবতা-স্বরূপ। তার ভাগ হয় না। বিতর্কিত জমি মন্দিরের জন্য দেয়ার রায় ব্যাখ্যা করে গত বছরের ৯ নভেম্বর দেশটির সুপ্রিমকোর্ট বলেন, আর্কিওলজি সার্ভে অব ইন্ডিয়া প্রমাণ পেয়েছে যে, মোঘল সম্রাট বাবরের ১৬ শতকের মসজিদ ফাঁকা জায়গায় নির্মাণ করা হয়নি।

    দেবতা রামচন্দ্রের জম্মভূমির ওপর তৈরি করা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা দেশটির কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের। মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিলেও ষোড়শ শতকের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে আইনের পরপন্থী বলে রায়ে বলেছিলেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

  • শুক্র গ্রহকে’ নিজেদের দাবি করলো রাশিয়া

    শুক্র গ্রহকে’ নিজেদের দাবি করলো রাশিয়া

    পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে ভিনগ্রহের কর্তৃত্বেও নজর পড়েছে কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলোর। তাইতো শুক্র গ্রহের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করে বসেছে রাশিয়া। দেশটি বলছে, শুক্র হলো রাশিয়ার একটি গ্রহ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

    রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমসের প্রধান দিমিত্রি রোগোজিন চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পিত শুক্র অভিযান ‘ভেনেরা-ডি’ ছাড়াও তার দেশ নতুন করে শুক্র গ্রহে নিজেদের আরও একটি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস।

    মস্কোতে আন্তর্জাতিক হেলিকপ্টার শিল্প প্রদর্শনী ‘হেলিরাশিয়া-২০২০’ অনুষ্ঠানে গত মঙ্গলবার তিনি এসব কথা জানান। সেখানেই তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুক্রে পুনরায় অনুসন্ধান আমাদের নির্ধারিত কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত। আমরা মনে করি শুক্র রাশিয়ার একটি গ্রহ, সুতরাং আমাদের পিছিয়ে থাকা উচিত নয়।’

    পৃথিবীর মতো শুক্র গ্রহেও ফসফিন গ্যাসের অস্তিত্ব শনাক্তের পর গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী এটা জানানোর পরই শুক্রকে নিজেদের দাবি করলো রাশিয়া। পৃথিবীর সমান আয়তনের এই গ্রহ পৃথবী থেকে দূরত্ব সবচেয়ে কম হওয়ায় শুক্রকে আমাদের প্রতিবেশী গ্রহ বলা হয়।

    এমনিতেই শুক্র গ্রহের মেঘ ভীষণ রকম অম্লীয় (অ্যাসিডিক)। এই মেঘে ফসফিনের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, এই গ্যাস পৃথিবীতে উৎপন্ন হয় ব্যাকটেরিয়া থেকে। অক্সিজেন রয়েছে—এমন পরিবেশে থাকা ব্যাকটেরিয়া এই গ্যাস নিঃসরণ করে।

    যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেন গ্রিভসের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গত সোমবার এ সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধটি নেচার অ্যাস্ট্রোনমি নামের একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। নিজের পর্যবেক্ষণ ও এর ফলাফল নিয়ে গ্রিভস বলেন, ‘আমি ভীষণ রকম বিস্মিত হয়েছি।’

    ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মতে, শুক্র গ্রহ নিয়ে আলাপ উঠলে স্বীকার করতে হবে যে রাশিয়ানদের এই গ্রহটি নিয়ে বিপুল অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত শুক্র গ্রহ নিয়ে রাশিয়ায় যে গবেষণা হয়েছে তা এই গ্রহে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার শীর্ষ স্থান দখল করে আছে।

  • সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি-বিএসএফ একমত

    সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি-বিএসএফ একমত

    • সীমান্তে উভয় দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যা, আহত ও মারধরের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম ও বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা একমত হয়েছেন।

    শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনে তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।

    বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা বলেন, আমরা বেশ কিছু বিষয়ে একমত হতে পেরেছি। সীমান্তে উভয় দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যা, আহত, মারধরের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করব আমরা। করোনাকালীন সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ টহল পরিচালনা বন্ধ থাকলেও টহল বৃদ্ধি, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা উভয় পক্ষ একমত হয়েছি।

    তিনি বলেন, আমরা মনে করি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের মাঝে আন্তর্জাতিক সীমানা আইনে বিধি-বিধান সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে, সীমান্তে আক্রমণ বা হামলা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।

    বিএসএফ মহাপরিচালক আরও বলেন, সীমান্তে যেসকল অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তার ৭০ শতাংশ ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটির জন্য হয়ে থাকে। আর সবগুলোই প্রায় রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে হয়। বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু দেশ। এ দেশের সীমান্তের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এসব অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে যে সকল পদক্ষেপ নেয়া দরকার সেগুলো আমরা নেব।

    বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম বলেন, আমরা উভয় পক্ষের সীমান্তে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরকদ্রব্য, মাদক, স্বর্ণ এবং জাল মুদ্রা পাচার প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেব। পূর্ব অনুমোদন ছাড়া ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ না করার বিষয়ে পারস্পরিক সম্মতি দেয়া হয়েছে।

    পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ জোরপূর্বক পুশ ইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাই করতে এবং একে অপরের সহযোগিতায় তাদের হস্তান্তর গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত সম্মেলন ১৭ সেপ্টেম্বর বিজিবি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে শুরু হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সম্মেলনের যৌথ আলোচনার দলিল (JRD-Joint Record of Discussions) স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে এ অনুষ্ঠান শেষ হয়।

  • কাশ্মীরিদের হত্যার কথা স্বীকার করল ভারত

    কাশ্মীরিদের হত্যার কথা স্বীকার করল ভারত

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দেশটির অধিকৃত কাশ্মীরের স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এতদিনের অভিযোগেও তারা কখনো এসব অপরাধের স্বীকারোক্তি দেয়নি। তবে করোনা আরোপিত লকডাউনে জুলাইয়ে তিন কাশ্মীরিকে হত্যায় ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে বলে স্বীকার করেছে ভারত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বা বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে নিরীহ কাশ্মীরিদের হত্যার কথা স্বীকারের ঘটনা বেশ বিরল।

    শুক্রবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ১৮ জুলাই সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা শোপিয়ানের আমশিপোরা গ্রামে অজ্ঞাত তিন ‘বিদ্রোহীকে’ হত্যা করেছে। কিন্তু এখন তদন্তে দেখা গেছে, তারা রাজৌরি জেলার বাসিন্দা ছিলেন, যাদের সাজানো বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল তাদের পরিবার।

    এ ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘সেনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে আমশিপোরা অভিযানের বিষয়ে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে যাতে মনে হয়েছে, অভিযানের সময় সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইনের (এএফএসপিএ) অধীনে প্রয়োগ করা ক্ষমতা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।’

    রাজেশ বলেন, ‘তদন্তে সংগৃহীত প্রাথমিক প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, আমশিপোরা অভিযানে নিহত তিন অপ্রমাণিত সন্ত্রাসী হলেন ইমতিয়াজ আহমেদ, আবরার আহমেদ ও মোহাম্মদ ইবরার। তারা রাজৌরি থেকে ফিরছিলেন। তাদের ডিএনএ প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় রয়েছে। সন্ত্রাস বা এ সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডে তাদের যোগসূত্রের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।’

    এর আগে পুলিশের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, ওই অভিযানে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এ ঘটনার কিছুদিন পরে নিহত তিন ব্যক্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখান থেকেই তাদের শনাক্ত করেন স্বজনেরা এবং বেআইনি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ করেন।

    শুক্রবার ভারতীয় সেনাবাহিনী বেআইনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকারের পর নিহত ইবরারের চাচাতো ভাই নসিব খাতানা জানান, নিহতরা সবাই একে অপরের চাচাতো ভাই ছিলেন। তারা কাজের উদ্দেশ্যে রাজৌরি থেকে শোপিয়ান গিয়েছিলেন।

    নসিব বলেন, ‘তারা ১৭ জুলাই শোপিয়ান পৌঁছায় এবং ওই রাতেই শেষবার তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল আমাদের। এটা লকডাউনের সময় ছিল, তাই আমরা ভেবেছিলাম তাদের হয়তো কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছিলাম, তবে কোনও খবর ছিল না। আমরা ছবি দেখার পর স্বজনদের চিহ্নিত করে অভিযোগ দায়ের করি। তাদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছিল সেনাবাহিনী। নিরপরাধ মানুষদের সঙ্গে তারা আর কত অন্যায় করতে পারে!’

    ভুক্তভোগী আরেক পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘আমাদের স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঘুরেও তা এখনও পাওয়া যায়নি। গত ৩ আগস্ট নমুনা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখনও ফলাফল আসেনি। আজ প্রত্যেক পরিবারের একজনকে ডেকে তারা স্বীকার করেছে, তিনজনকে একটি মিথ্যা বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে। আমরা চাই তাদের হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে এনে সাজা দেয়া হোক। আমরা পরিবারের সদস্যদের মরদেহ চাই।’

    জুলাইয়ের ওই মিথ্যা বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন ইবরার। তিনি পড়াশোনার জন্য দিনমজুরের কাজ করে অর্থ জমাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

    মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, কাশ্মীরে ভারতীয় সেনারা আর্থিক সুবিধা ও মেডেলের জন্য বেসামরিক লোকদের হত্যা করে অনেক সময় ‘বিদ্রোহী’ বলে চালিয়ে দেন। আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালের মে মাসে মাচিল এলাকায় নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে ভারতীয় সেনারা সাজানো বন্দুকযুদ্ধে তিন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছেন, কাশ্মীর পুলিশের তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে আসার পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে উপত্যকায়। সেনারা পুরস্কারের লোভে ওই তিন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে ‘সশস্ত্র বিদ্রোহী’র ট্যাগ লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

  • টুইন টাওয়ার হামলার ১৯ বছর পূর্ণ

    টুইন টাওয়ার হামলার ১৯ বছর পূর্ণ

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ার হামলার ১৯ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দার সদস্যরা এ হামলা চালায়। ওই দিন ১৯ জঙ্গি চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে আত্মঘাতী হামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি জায়গায়। দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ারে। তৃতীয় উড়োজাহাজটি আক্রমণ করে পেন্টাগনে। আর চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ায়।

    গোটা বিশ্ব আঁতকে উঠেছিল ভিডিওগুলো দেখে। উড়োজাহাজগুলো সোজা ধাক্কা মারল মার্কিনীদের গর্বের প্রতীকগুলোতে। ভয়াবহ এ হামলায় তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন আরও ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ। যাদের মধ্যে চারশ’র বেশি ছিলেন পুলিশ এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্মী।

    ‘নাইন-ইলেভেন’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও কঠোর হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কী ঘটেছিল সেদিন? চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সকাল। সেদিনের আবহাওয়া ছিল চমৎকার। মানুষ ধীরে ধীরে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন।

    সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৬৭ বিমানটি প্রায় বিশ হাজার গ্যালন জেট ফুয়েল নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত করে। এটি ছিল ১১০ তলা ভবন যার ৮০তম তলায় বিমান আঘাত করে। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ মানুষ মারা যায়।

    এর ১৮ মিনিট পরে দ্বিতীয় বিমানটি হামলা চালানো হয়। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১৭৫-এর আরেকটি বোয়িং-৭৬৭ উড়োজাহাজ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ দিকের টাওয়ারের ৬০তম তলায় আঘাত হানে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টুইন টাওয়ারের উত্তর দিকের ভবনটি ভেঙে পড়ে।

    তৃতীয় হামলাটি হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতর পেন্টাগনে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে পেন্টাগনের পশ্চিম দিকে আঘাত করে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৭৭-এর বোয়িং-৭৫৭ উড়োজাহাজটি। পেন্টাগনে হামলায় ১২৫ জন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। জিম্মি করা বিমানটির ভেতরে থাকা ৬৪ জনও নিহত হন।

    এরপর সকাল ১০টা ১০ মিনিটে চতুর্থ বিমান হামলাটি হয়। নিউজার্সি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করার ৪০ মিনিট পর ইউনাইটেড ফ্লাইট ৯৩ নামের উড়োজাহাজটি ছিনতাই করা হয়। বিমানে থাকা অবস্থাতেই যাত্রীরা নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে হামলার বিষয়ে জেনে যান। পরে পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার শ্যাংকসভিলের কাছে একটি ফাঁকা মাঠে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে বিমানে থাকা ৪৪ জনের সবাই নিহত হন।

    ৯/১১ হামলার জন্য অভিযুক্তদের অনেকেই এখনও জীবিত রয়েছেন। ওই হামলার সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হল, অভিযুক্তদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

    সেদিনের সেই হামলাগুলো মার্কিন জাতীয় জীবনে যে শুধু বিপর্যয়ই ডেকে এনেছিল তা নয়। বরং প্রতিরোধেরও এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল। যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে চতুর্থ বিমানটির নিয়ন্ত্রণ হারায় ছিনতাইকারী আল কায়েদার জঙ্গিরা।

    ধারণা করা হয়, হামলাকারীদের আর্থিক মদদ দিয়েছিল ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল-কায়েদা। এরপর লাদেনকে নির্মূল করতে আফগানিস্তানে হামলা করল যুক্তরাষ্ট্র। জঙ্গি মরল কম, সাধারণ মানুষই হামলার শিকার হল।

    অন্যদিকে, নাইন-ইলেভেনের হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। হামলার পর প্রথম দিনেই নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধস নামে। এক মাসেই চাকরি হারান ১ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ। ধারণা করা হয়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় আনুমানিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্ষতি হয়েছিল।

    যাইহোক, সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ হওয়া আল কায়েদার হামলার পর মার্কিন আইনে যেমন পরিবর্তন আসে তেমনি পাল্টে যায় আমলাতন্ত্রও, গঠিত হয় নতুন বাহিনী।

  • করোনা থেকে সুস্থ দুই কোটি ৩ লাখ

    করোনা থেকে সুস্থ দুই কোটি ৩ লাখ

    চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পরা প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনার প্রকোপ থামছেই না। এখনো তাণ্ডব চালাচ্ছে অদৃশ্য ভাইরাসটি। এরইমধ্যে বিশ্বব্যাপী করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা দুই কোটি ৮৩ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও ছাড়িয়েছে নয় লাখ। তবে সুস্থতার সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখযোগ্যহারে।

    করোনা নিয়ে আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় সংক্রমণ থেকে মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফরে গেছেন দুই কোটি ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ জন।

    এছাড়া মোট সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭০ জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ লাখ ১৩ হাজার ৯১৩ জন।

    করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা ৬৫ লাখ ৮৮ হাজার ১৬৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৮ জন।

    এদিকে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। সেখানে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন ৪৫ লাখ ৫৯ হাজার ৭২৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭৬ হাজার ৩০৪ জনের।

    তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৪২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ২৯ হাজার ৫৭৫ জনের।

    চতুর্থ অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৮ হাজার ২৬৩ জন।

    সংক্রমণে ৫ম অবস্থানে থাকা পেরুতে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা ৭ লাখ ১০ হাজার ৬৭ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩০ হাজার ৩৪৪ জনের।

    প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ বাড়ছে বাংলাদেশেও। ১৫ নম্বর অবস্থানে থাকা বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯৭০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৪ জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৫০ জন।

  • ভ্যাকসিন ডেটা চুরির চেষ্টা: গুপ্তচরের বিরুদ্ধে গুপ্তচর!

    ভ্যাকসিন ডেটা চুরির চেষ্টা: গুপ্তচরের বিরুদ্ধে গুপ্তচর!

    চীনা গোয়েন্দা হ্যাকাররা করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ডেটা চুরির চেষ্টা চালিয়েছিল। কেবল ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোয়ই নয়, তারা নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্য বিদ্যালয়গুলোয়ও গবেষণার ডেটা চুরির চেষ্টা করেছে।

    রাশিয়ার প্রিমিয়ার ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস এসভিআর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রিটেনের ভ্যাকসিন গবেষণা নেটওয়ার্কগুলোতে গুপ্তচরবৃত্তির চেষ্টা চালিয়েছিল। ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইবার অপটিক কেবলস প্রথমবারের মতো এটা শনাক্ত করে। ইরানও ভ্যাকসিন গবেষণাসম্পর্কিত তথ্য চুরির লক্ষ্যে অনেক চেষ্টা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরোধীদের গুপ্তচরবৃত্তি ট্র্যাক করতে নিজস্ব প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে এবং ডেটার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

    অর্থাৎ বিশ্বের প্রতিটি বড় গুপ্তচর সংস্থা সবাই কী কী অনুসন্ধান করছে তা জানার চেষ্টা করছে। বর্তমান ও সাবেক অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, করোনাভাইরাস মহামারী বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মিশন শিফট করেছে। এটা গুপ্তচর বনাম গুপ্তচরদের নতুন এক উত্তেজনাকর লড়াইকে উসকে দিয়েছে।

    গুপ্তচরবৃত্তিবিষয়ক এক পশ্চিমা বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, বিরোধীরা যখন আমেরিকান গবেষণা চুরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ওয়াশিংটন তখন সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও করপোরেশনগুলোকে রক্ষা করছে।

    গত মাসে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা জন সি ডেমার্স চীন সম্পর্কে বলেছিলেন, যদি তারা এখনকার সবচেয়ে মূল্যবান বায়োমেডিকেল গবেষণা চুরির চেষ্টা না করে তবে সেটা অবাক হওয়ার মতো বিষয় হবে।

    দ্য ইকোনমিক টাইমস

  • কোনোদিনই ইসরাইলকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না কুয়েত

    কোনোদিনই ইসরাইলকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না কুয়েত

    সৌদি আরব নিজেদের আকাশপথ ইসরাইলকে ব্যবহার করতে দিলেও এমন কোন অনুমতি দেবে না কুয়েত। এছাড়াও ইসরাইলি বিমান কুয়েতের আকাশ ব্যবহার করবে বলে যে খবর ছড়িয়েছে তা উড়িয়ে দিয়েছে কুয়েত।

    কুয়েতের স্বনামধন্য গণমাধ্যম আলকাবাস জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানোর জন্য কখনই কুয়েতের আকাশপথ ব্যবহার করতে পারবে না। ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার নতুন রুটটি ‘কুয়েত দিয়ে নয়, অন্য কোনো দেশের মধ্য দিয়ে গেছে’, যেটি কুয়েত থেকে অনেক দূরে।

    কুয়েত সরকার বলেছে, তারা কোনো দিনই ইসরাইলের বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। এছাড়া কুয়েত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কও প্রতিষ্ঠা করবে না।

    বুধবার সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি ফর সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরাইলে বিমান চলাচলে নিজেদের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

    মঙ্গলবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতা ও তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জারেড কুশনারের বৈঠকের পরেই সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করে সৌদি আরব।

    উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় আরব আমিরাত। এরপর বিমান চলাচলও শুরু হয়।

    জানা গেছে, প্রথম ফ্লাইটে যাত্রী হিসেবে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জেয়ার্ড কুশনার। এছাড়া তার সঙ্গে ছিলেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিইর বেন শাবাত ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়ান।

    সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

  • মাটি ছাড়িয়ে অন্তরীক্ষেও আগ্রাসী চীন !

    মাটি ছাড়িয়ে অন্তরীক্ষেও আগ্রাসী চীন !

    শুধু বিশ্বের ভূখণ্ডে পা রাখাই নয়, চীন এবার মাটি ছাড়িয়ে অন্তরীক্ষেও আগ্রাসী আস্ফালন দেখাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের যুদ্ধনীতির নতুন ধাঁচ এবার এক নতুন বিদ্যা যোগ হচ্ছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, চীন কোন যুদ্ধবিদ্যায় ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে একাধিক মহাকাশ যান ও মহাকাশ সমরাস্ত্র নিয়ে তোড়জোড় চালিয়েছে চীনের সেনা। ৪০ টির মধ্যে ২২ টি স্পেস ভেহিক্যাল চীন ইতিমধ্যেই উৎক্ষেপণ করেছে।

    জানা গেছে, ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে চীন যে মহাকাশ অভিযানের একাধিক প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র মিশিয়ে দিচ্ছে, তা নিয়ে অনেক তথ্যই বাইরে আসতে দিচ্ছে না। এই তথ্যাদির মধ্যে অন্যতম হল , চীনের মহাকাশ গবেষণা ও মহাকাশ যানের উৎক্ষেপণের নেপথ্য রয়েছে চীনের সেনা। আর সেনার মদতেই এবার অন্তরীক্ষে প্রতিরক্ষার দাপট দেখাতে চাইছে বেইজিং।

    বহু বিশেষজ্ঞের দাবি, চীন মনে করে যে সামরিক পেশীশক্তির হাত ধরেই রাষ্ট্রশক্তি বজায় থাকে। বর্হিবিশ্বেও যাবতীয় নীতিকে অধীনে রাখে সামরিক শক্তি। আর সেই শক্তিতে ভর করে চীনের বেইডুয়ো স্যাটেলাইট মহাকাশে দাপট দেখাচ্ছে। ৩০টি এমন স্যাটেলাইট মহাকাশ থেকে চীনকে বহু গোপন লোকেশন সম্পর্কে যেমন খোঁজ পাঠায় , তেমনই শর্ট মেজেস সিস্টেণ ও ব়্যাপিড পজিশনিং সম্পর্কেও তথ্য দেয়।
    সোজা কথায় বলতে গেলে, শত্রুপক্ষের গোপন লোকেশন, পিএনসি সার্ভিস, সমস্ত কিছুই যুদ্ধের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। আর এই সমস্ত বহু গোপন সার্ভেইলেন্স চালানোর একমাত্র উপায় স্যাটেলাইট। যার জন্য প্রয়োজন স্পেশ মিশন। আর তার হাত ধরে চীন যুদ্ধনীতিতে বিশ্বে বড়সড় ‘তাণ্ডব’ আনতে চাইছে। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার চীনের কেন্দ্রীয় সেনা চাইছে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের হাত ধরে যাবতীয় প্রয়োজনীয় ডেটা নিজের ঘরে তুলতে।

    যার জন্য উন্নত প্রযুক্তির স্পেশ মিশন প্রয়োজন। স্পেস নির্ভর বহু অ্যাসেটকে চীন নিশানায় রাখার মতো ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামীর যুদ্ধে তারা ভুখণ্ডের লড়াই নয়, মহাকাশের লড়াইয়ে দখলদারি জিতে নিয়তে চাইছে।সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া।