Category: আন্তর্জাতিক

  • ট্যাঙ্ক নিয়ে ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে চীনা সৈন্য

    ট্যাঙ্ক নিয়ে ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে চীনা সৈন্য

    লাদাখের গালওয়ানে সেনা সংঘর্ষের পর যুদ্ধের কিনারা থেকে ফিরেছে চীন-ভারত। উচ্চ পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে লাদাখ থেকে সেনা সরাতে রাজি হয়েছে উভয় দেশ। তবে লাদাখ থেকে সেনা সরালেও নতুন করে আকসাই চীন ও তিব্বতে সামরিক অবকাঠামো তৈরি করতে শুরু করেছে ড্রাগন সেনারা। এতে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ভারতের কপালে।

    উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, লাদাখ সংলগ্ন ‘বিতর্কিত ভূখণ্ড’ আকসাই চীনে বিপুল সংখ্যক লাল ফৌজ মোতায়েন করেছে চীন। জবাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আরো শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করেছে ভারত, এছাড়া দৌলত বেগ ওল্ডিতে বিধ্বংসী টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক নামিয়েছে ভারতীয় বাহিনী।

    পূর্ব লাদাখের গালওয়ান নদী উপত্যকা, গোগরা হট স্প্রিং, প্যাংগং লেকের উত্তরে পাহাড়ি ফিঙ্গার এলাকা ও অন্যদিকে দেপসাং সমতলভূমিতে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে চীনের সেনারা। অন্যদিকে আকসাই চীনে তৈরি হচ্ছে সামরিক অবকাঠামো। এই বিতর্কিত ভূখণ্ড সংলগ্ন দৌলত বেগ ওল্ডিতেই টি-৯০ ট্যাঙ্ক মোতায়েন করছে ভারত। আরো চার হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে ওই এলাকায়।

    চীনের বাহিনী যদি কারাকোরাম পাস দিয়ে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে পড়তে চায়, তাহলে জবাব দেবে ভারতের বাহিনী। রাশিয়ার থেকে কেনা টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক পৃথিবীর শক্তিশালী যুদ্ধট্যাঙ্কগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিপক্ষের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই ট্যাঙ্ক।

    মানচিত্র দেখলে বোঝা যাবে, কারাকোরাম পাসের দক্ষিণে চিপ-চাপ নদী উপত্যকা বরাবর রয়েছে দৌলত বেগ ওল্ডি। গালওয়ান উপত্যকার উত্তরে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় এই ভূখণ্ডে ভারতীয় সেনার বিমানঘাঁটি রয়েছে। এই দৌলত বেগ ওল্ডির কাছেই রয়েছে দেপসাং সমতলভূমি যেদিকে এগিয়ে এসেছে চীনের সেনারা। দৌলত বেগ ওল্ডির কাছে চীনা যুদ্ধবিমান নিয়মিত ঘোরাঘুরি করছে।

    ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, দারবুক-শায়ক-ডিবিও ব্রিজ ধরে একেবারে সমস্ত টি-৯০ ট্যাঙ্ক নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই গত মাস থেকেই একটু একটু করে যুদ্ধট্যাঙ্ক নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছিল ভারতের সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গেই এম৭৭৭ ১৫৫ এমএম হাউইৎজার কামান মোতায়েনের কাজও শুরু হয়েছিল। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি স্পর্শকাতর কারাকোরাম পাস দিয়ে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করতে পারে এমন সম্ভাবনা আগেই ছিল। তাই গোটা পরিকল্পনা আগে থেকেই ছকে রেখেছিল ভারতীয় বাহিনী।

    রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি টি-৯০ ট্যাঙ্ক টি৭২বি-এর আপডেটেড ভ্যারিয়ান্ট হল টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক। ৪৮ টন ওজনের এই ট্যাঙ্কে রয়েছে সেমি-অটোমেটিক লেজার বিম-রাইডিং গাইডেন্স। এর পাল্লা ১০০ মিটার থেকে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর টার্গেট পয়েন্টে যদি শত্রুপক্ষের হেলিকপ্টারও চলে আসে, তাহলে তাকেও নির্ভুল নিশানায় আঘাত করতে পারে টি-৯০ ভীষ্ম।

    অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট হেভি মেশিনগানও লাগানো আছে এই ট্যাঙ্কে। এই মেশিনগান অপারেট করতে পারেন কম্যান্ডার। এর পাল্লা কম করেও ২ কিলোমিটার এবং সাইক্লিক অর্ডারে ঘুরিয়ে প্রতি মিনিটে ৭০০-৮০০ রাউন্ড গুলি চালানো যায়। ভারতীয় প্রযুক্তিতে আপডেট করা টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্কে রয়েছে অটোমেটিক লোডার। অর্থাৎ এই ট্যাঙ্ক বেশিটাই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চালানো সম্ভব। দিনে ও রাতে আবহাওয়ার যে কোনো পরিস্থিতিতে এই ট্যাঙ্ক কাজ করতে সক্ষম। যে কোনো পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যায় এই ট্যাঙ্ক থেকে। সূত্র : দ্য ওয়াল।

  • ৮৬ বছর পর আয়া সোফিয়ায় আজ ফের নামাজ

    ৮৬ বছর পর আয়া সোফিয়ায় আজ ফের নামাজ

    তুরস্কের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়ায় ৮৬ বছর পর আজ ফের নামাজ আদায় হচ্ছে। আদালতের রায়ে পুনরায় মসজিদের মর্যাদা পাওয়ায় জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে নিজের আগের অবস্থানে ফিরছে মসজিদটি।

    ১৯৩৪ সালের এক ডিক্রি অবৈধ ঘোষণা করা আয়া সোফিয়াকে এবছর ১১ জুলাই ফের মসজিদে রূপান্তরের পক্ষে রায় দেয় আদালত। প্রশাসনিক আদালত থেকে রায় পাওয়ার এক ঘণ্টা পর নতুন ডিক্রি জারি করেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান।

    বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে ষষ্ঠ শতাব্দীতে আয়া সোফিয়া নির্মিত হয়। ওই সময় এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা।

    এরপর ১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুল ওসমানী খেলাফতের দখলে গেলে একে মসজিদে পরিণত করেন বিজেতা সুলতান মাহমুদ ফাতিহ। ওসমানী খেলাফতের বিলুপ্তি হলে ১৯৩৪ সালে মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক স্বাক্ষরিত এক ডিক্রিতে মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়। এটি এখন ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান।

    এদিকে নামাজের সময় মসজিদটির ভেতরে থাকা খ্রিস্টীয় চিহ্ন বিশেষ একটি লেজারের মাধ্যম ঢেকে দেওয়া হবে বলে ক্ষমতাসীন এ কে পার্টির এক মুখপাত্র জানান।

    ওমর সেলিক বলেন, জাদুঘরের ভিতর বহু জায়গায় ঐতিহাসিক চিহ্ন রয়েছে। সেগুলোকে আপাতত নামাজের সময় ঢেকে রাখা হবে।

    তিনি জানান, নামাজের সময় ছাড়া অন্যান্য সময় দর্শনার্থীদের জন্য হায়া সোফিয়া খোলা থাকবে, ঐতিহাসিক চিহ্নগুলো উন্মুক্ত থাকবে। দর্শনার্থীরা বিনা খরচে এটি পরিদর্শন করতে পারবে।

  • বিদেশ যেতে করোনামুক্তির সনদ বাধ্যতামূলক

    বিদেশ যেতে করোনামুক্তির সনদ বাধ্যতামূলক

    সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৩ জুলাই থেকে বাংলাদেশ থেকে আকাশ পথে বিদেশ গমনকারীদের জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সে কারণে বিদেশ গমনেচ্ছু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যাত্রীদেরকে সরকার ঘোষিত কোভিট-১৯ পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনাবলী প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, যাত্রার ৭২ ঘণ্টার পূর্বে কোন নমুনা সংগ্রহ করা হবে না এবং যাত্রার ২৪ ঘণ্টা পূর্বে রিপোর্ট ডেলিভারি গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে; নমুনা প্রদানের সময় পাসপোর্টসহ যাত্রীদের বিমান টিকেট ও পাসপোর্ট উপস্থাপন এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে; কভিড-১৯ পরীক্ষার নিমিত্তে নির্দিষ্টকৃত পরীক্ষাগার যে জেলায় অবস্থিত সে জেলার সিভিল সার্জন অফিসে স্থাপিত পৃথক বুথে তাদের নমুনা প্রদান করবেন; নমুনা প্রদানের পর থেকে যাত্রার সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আবশ্যিকভাবে আইসোলেশনে থাকবেন; বিদেশ যাত্রীদের কভিড-১৯ পরীক্ষা সনদ প্রাপ্তির জন্য ল্যাবে গিয়ে নমুনা প্রদানের ক্ষেত্রে তিন হাজার ৫০০ টাকা এবং বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহে চার হাজার ৫০০ টাকা ফি প্রদান করতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৬টি সরকারি হাসপাতাল/প্রতিষ্ঠানে কভিড টেস্ট করাতে হবে। এরমধ্যে শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (এসবিএমসি), বরিশাল; বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিডেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম; কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ (কক্সএমসি) (আইইডিসিআর ফিল্ড ল্যাবরেটরি); কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (সিইউএমসি), কুমিল্লা; ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন এন্ড রেফারাল সেন্টটার (এনআইএলএমআরসি), ঢাকা; ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ (এনপিএমএল-আইপিএইচ), ঢাকা; ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ এন্ড সোসাল মেডিসিন (এনআইপিএসওএম), ঢাকা; নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল, নারায়নগঞ্জ; খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (কেএমসি), খুলনা; কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ (কেইউএমসি), কুষ্টিয়া; ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (এমএমসি), ময়মনসিংহ; শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (এসজেডআরএমসি), বগুড়া; রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (আরএমসি), রাজশাহী; এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ, দিনাজপুর; রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (আরপিএমসি), রংপুর ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ (এসওএমসি), সিলেট রয়েছে।

  • যে কারণে চীনের উপর কখনও হামলা করবে না আমেরিকা, জাপান

    যে কারণে চীনের উপর কখনও হামলা করবে না আমেরিকা, জাপান

    করোনায় কুপোকাত সারা বিশ্ব। ভেঙ্গে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। তবে বিশ্বের একমাত্র দেশ চীন যার অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে সমান তালে। বিশ্বের ক্ষমতাসীন দেশগুলো ক্রমেই নির্ভর হয়ে পড়ছে চীনের অর্থনীতির কাছে। আর এ কারণেই করোনায় বিধ্বস্ত দেশগুলো ক্ষমতার দাপটে হলে চীনের সাথে কখনো সম্মুখ সমরে লিপ্ত হতে চাইবে না বলে মনে করছে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

    এই বৈশ্বিক সংকটেও অর্থনীতিতে ক্রমশ এগিয়ে যাওয়া চীন এখন সারা বিশ্বের নির্ভরতার প্রতীক। এই প্রকোপ শুরু হওয়ার পর গোটা বিশ্বে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত এই সংক্রমণে। আমেরিকা, যে কী না বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশ, এই করোনার জেরে নুইয়ে পড়েছে। সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এখন সেটি। সেখানে ৩৩ লক্ষের বেশি আক্রান্ত। শুধু বেকারত্ব নয়, আমেরিকা তাদের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ৯৭ শতাংশ আমদানি করে চীন থেকে।

    ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালির আমদানি করা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ব্লাড থিনার চীন থেকে আসে। প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের জাপান তাদের চাহিদার ৫০ শতাংশ এবং জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্স তাদের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ৪০ শতাংশ চীন থেকে আমদানি করে।

    এই মহামারী আরও চোখে আঙুল দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে চীনের উপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। আর এর ফলেই করোনা আবহেও ৩.২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে চীনের।

    আমেরিকাতে গত কয়েক দিনে চাকরি হারানো ১ কোটি ৬০ লক্ষের বেশি মানুষ বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদন জানিয়েছে। ১৯৪৮ সালের পর এত বাজে অবস্থা কখনও হয়নি আমেরিকাতে। অর্থনীতি প্রায় ধসের মুখে সেখানে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পরিস্তিতে আমেরিকা কিংবা ক্ষমতাধর অন্যান্য দেশগুলো চীনের সাথে পাঙ্গা নিতে যাচ্ছে না। এই সংকট কাটতেও সময় লাগবে বেশ। তাই অদূর ভবিষ্যতেও চীনের সাথে কারও যুদ্ধের সম্ভাবনা নেই।

  • করোনা: বিশ্বে একিদেন সংক্রমণের সর্বোচ্চ রেকর্ড

    করোনা: বিশ্বে একিদেন সংক্রমণের সর্বোচ্চ রেকর্ড

    মহামারি করোনাভাইরাসে বিশ্বে একদিনে আক্রান্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) তথ্যমতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭০ জন আক্রান্ত হয়েছে। যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ।

    এর আগে গত ১০ জুলাই রেকর্ড ২ লাখ ২৮ হাজার ১০২ জন ও ৭ জুলাই রেকর্ড ২ লাখ ১২ হাজার ৩২৬ জন আক্রান্ত হয়েছিল।

    গত ২৪ ঘণ্টায় যে ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭০ জন আক্রান্ত হয়েছে তার মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৫ জনই চারটি দেশের। দেশ চারটি হলো যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৬১ হাজার ৭১৯ জন, ব্রাজিলে ৩৬ হাজার ৪৭৪ জন, ভারতে ২৭ হাজার ৭৫৫ জন ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩ হাজার ৪৯৭ জন।

    বিশ্বের ২১৩টি দেশে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯০১ জন। সেরে উঠেছে ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার ১৮১ জন।

    এদিকে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় সব দেশের সরকারকে আরো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

  • বিশ্বে করোনায় মৃত ৫ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি

    বিশ্বে করোনায় মৃত ৫ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি

    বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। শেষ খবর অনুযায়ী, আজ রোববার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার ২৯১ জনে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার অন্যতম ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার এ তথ্য জানিয়েছে।

    ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের এক কোটি ২৯ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৬ জন। তাদের মধ্যে বর্তমানে ৪৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪২ জন চিকিৎসাধীন এবং ৫৮ হাজার ৮৫৪ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।

    এ ছাড়া, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৫ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে।

    গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

    গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

    এদিকে নভেল করোনাভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুই হাজার ৩৫২ জনের মৃত্যু হলো। এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরো দুই হাজার ৬৬৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত রোগী হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট এক লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

    রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত নিয়মিত বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

    দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার কথা জানানো হয় এবং প্রথম মৃত্যু ঘটে গত ১৮ মার্চ। এরপর গত ১৪ এপ্রিল ৩৮তম দিনে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা এক হাজারে দাঁড়ায়। বর্তমানে দেশে এক লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে।

  • মৃত্যুদণ্ড ঠেকাল করোনা

    মৃত্যুদণ্ড ঠেকাল করোনা

    করোনা ভাইরাসে যখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, তখনই একজনের মৃত্যু আপাতত ঠেকিয়ে দিয়েছে করোনা। করোনার কারণে ড্যানিয়েল লুইস লি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। দেশটিতে গত ১৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম কারও মৃত্যুদ- কার্যকর স্থগিত হলো।

    যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা রাজ্যের ইউকোনের বাসিন্দা ডানিয়েল লি (৪৭)। ১৯৯৬ সালে আরকানসাসে একই পরিবারের তিনজনকে সে খুন করে। এরা হলেন আরকানসাসের অস্ত্র বিক্রেতা উইলিয়াম মুয়েলার, তার স্ত্রী ন্যান্সি ও তাদের একমাত্র মেয়ে অষ্টাদশী সারাহ পাওয়েল।

    এই খুনের দায়ে লির মৃত্যুদ- হয়। আজ সোমবার ইন্ডিয়ানার টেরে হাউতি কারাগারে লির শাস্তি কার্যকরের দিনক্ষণ ঠিক করা ছিল। রায় ছিল, বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে লির মৃত্যুদ- কার্যকর করা হবে।

    এদিকে তার স্বজনরা আদালতকে জানিয়েছেন, করোনা মহামারীর কারণে লিকে শেষবারের মতো দেখতে পারেননি তারা। স্বজনদের আবেদন বিবেচনায় নিয়ে আপাতত মৃত্যুদ- কার্যকর স্থগিত করেছেন ইন্ডিয়ানার চিফ ডিস্ট্রিক্ট জজ জেন মাগুনাস রুলে।

    তবে জেলা জজের এ রুলের পর যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিজ ডিপার্টমেন্ট সপ্তম ইউএস সার্কিট আদালতে আপিল করেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার বলেছেন, খুনির মৃত্যুদ- স্থগিত হয়ে যাক, তা চায় না ভুক্তভোগী পরিবার।

  • মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত

    মঙ্গলে মহাকাশযান পাঠাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত

    মঙ্গল গ্রহে মহাকাশযান পাঠাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এজন্য একটি যানও তৈরি করা হয়েছে। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘আল আমাল’। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দেশ এমন অভিযান চালালেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে আরব আমিরাতই প্রথম এই অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছে।

    প্রায় ৫ বছর ধরে এই মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য মহাকাশযান তৈরি করেছে আরব আমিরাত। মানবহীন এই যানটি জাপানের স্পেস সেন্টার থেকে ছাড়া হবে বলে জানানো হয়। ২১১৭ সালে মধ্যে মঙ্গলে মানব বসতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করলো দেশটি। এমন খবর প্রকাশ করেছে নিউজ এট্টিন।

    সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলগ্রহে পৌঁছতে প্রায় সাত মাস সময় লাগবে এই মহাকাশযানটির। মঙ্গলগ্রহের ৬৮৭ দিনে এক বছর হয়। এই পুরো সময় মহাকাশযানটি মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবে। কক্ষপথ একবার প্রদক্ষিণ করতে যানটির ৫৫ ঘণ্টা সময় লাগবে।

    মহাকাশযানটিতে একটি শক্তিশালী রেজোলিউশনের মাল্টিব্যান্ড ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। যা খুব ছোট বা সূক্ষ্ম বস্তুরও ছবি খুব সহজেই তুলতে পারে। এই অভিযান বিশেষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগ পেলেন সেঁজুতি সাহা

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়োগ পেলেন সেঁজুতি সাহা

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পোলিও ট্রানজিশন ইনডিপেনডেন্ট মনিটরিং বোর্ডে (টিআইএমবি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের অণুজীব বিজ্ঞানী ডা. সেঁজুতি সাহা।

    শুক্রবার চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) ওয়েবসাইটে বিবৃতি দিয়ে সেঁজুতি সাহার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি হিসেবে সেঁজুতি সাহা পোলিও ট্রানজিশন ইনডিপেনডেন্ট মনিটরিং বোর্ডে (টিআইএমবি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেলেন। ডা. সেঁজুতি সাহা বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) পোলিও সংক্রমণ প্রক্রিয়াটির অগ্রগতির বিষয়ে পরামর্শ দেবেন।

    এ বিষয়ে ডা. সেঁজুতি ফেসবুকে লিখেছেন, পোলিও ট্রানজিশন ইনডিপেনডেন্ট মনিটরিং বোর্ডে (টিআইএমবি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় সম্মানিত বোধ করছি। আমার দেশ এবং আমাদের মতো অন্যান্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সমস্যা তুলে ধরার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।

    এ বছর পোলিও ট্রানজিশন ইনডিপেনডেন্ট মনিটরিং বোর্ডে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডা. সেঁজুতি সাহার সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া বাকি দু’জন হলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক শেইলা লেথারম্যান ও নাইজেরিয়ার চিকিৎসক ডা. লোলা ডেয়ার।

    বর্তমানে ডা. সেঁজুতি বাংলাদেশের শিশু বিষয়ক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে (সিএইচআরএফ) কর্মরত।

    তিনি ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ও অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক সমীর সাহার মেয়ে।

    এরআগে, তাদের দু’জনেরই ভূয়সী প্রশংসা করেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। স্বাস্থ্য বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাবা-মেয়ের একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিল গেটস তার ব্লগে (গেটস নোটস ডটকম) লিখেন, বাবা-মেয়ে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যমান উন্নয়নে প্রাণবন্ত টিম হিসেবে কাজ করছেন। উচ্চ শিশুমৃত্যুতে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে যে ব্যবধান ছিল, তা হ্রাসে তারা কাজ করে চলেছেন। এ জন্য তারা সংক্রামক রোগের ভ্যাকসিনের পাশাপাশি তথ্যউপাত্ত ও রোগ নির্ণয়ের অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করছেন। ভ্যাকসিন নিয়ে তাদের গবেষণার সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশও।

  • ফ্লোরিডায় ‘মগজ-খেকো’ অ্যামিবার সংক্রমণ

    ফ্লোরিডায় ‘মগজ-খেকো’ অ্যামিবার সংক্রমণ

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিরল প্রজাতির ‘মগজ-খেকো’ অ্যামিবায় আক্রান্ত হয়েছেন এক ব্যক্তি। এক কোষী এই মুক্তজীবী প্রাণীটি মানবশরীরে ঢুকে মস্তিষ্ক ধ্বংস করে দেয়। সম্প্রতি দেশটির ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হিলসবোরো কাউন্টিতে ‘নাইজেলরিয়া ফ্লাওয়ারি’ নামের অ্যামিবাটির খোঁজ মিলেছে।

    গত ৩ জুলাই, শুক্রবার ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য বিভাগ এক ব্যক্তির বিরল এই অ্যামিবায় আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। সংবাদে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। এ নিয়ে ১৯৬২ সাল থেকে ফ্লোরিডায় এতে আক্রান্ত হওয়ার ৩৭টি ঘটনার কথা জানা গেলো।

    এর আগে ২০১২ সালে পাকিস্তানে ‘নাইজেলরিয়া ফ্লাওয়ারি’ অ্যামিবার সংক্রমণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

    সাধারণত নদী, পুকুর, হ্রদ ও ঝরনার পানি যেখানে উষ্ণ সেখানেই বাস করে এই অ্যামিবাটি। আর মানুষ সেখানে সাঁতার কাটতে গেলে নাক দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়ে। মস্তিষ্কে ঢুকতে পারলে অ্যামিবাটি স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে ফেলে বলে ‘নাইজেলরিয়া ফ্লাওয়ারি‘কে বিজ্ঞানীরা ‘মগজ-খেকো’ অ্যামিবাও বলে থাকেন।

    এছাড়া শিল্পকারখানার উষ্ণ পানি পড়ে এমন মাটি বা সুইমিংপুলেও দেখা যেতে পারে এই ধরনের অ্যামিবার। এরা মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ার পর তেমন গুরুতর কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। প্রাথমিক অবস্থায় হালকা মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা, জ্বর ও পেটব্যথা দেখা দেয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি স্নায়ুকোষের ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম।