Category: আন্তর্জাতিক

  • এবার করোনার নতুন জাত ‘ডি৬১৪জি’ নিয়ে ভয়! সহজেই ঢুকছে শরীরে

    এবার করোনার নতুন জাত ‘ডি৬১৪জি’ নিয়ে ভয়! সহজেই ঢুকছে শরীরে

    চীনের উহান থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে মারণ ভাইরাস করোনা। এখন পর্যন্ত এক কোটিরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ। এই ভাইরাসের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এক গবেষণা বলছে, সম্প্রতি যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তারা এই ভাইরাসের নতুন এক স্ট্রেনে আক্রান্ত হচ্ছেন। ভাইরাসটি আবারো তার নিজের চরিত্র বদল করেছে।

    গবেষকদের দাবি, এই ভাইরাসের নতুন যে স্ট্রেনে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন সেটির নাম ‘ডি৬১৪জি’। এই স্ট্রেনটিই হলো ভাইরাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ। কারণ ভাইরাসের এই রূপটিতেই এখন সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এবং যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই দাবি করছেন। তাদের মতে, ভাইরাসের এই রূপটি অনেক ছোট। তবে ভাইরাসের উপরিভাগের ‘স্পাইক’ প্রোটিনগুলোতে কার্যকর পরিবর্তন করতে পারে। এর ফলে এই ভাইরাস মানুষের কোষগুলোতে প্রবেশ করতে পারে খুব সহজেই।

    গবেষকরা সারা বিশ্বের ভাইরাল তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জিআইএসঅ্যাআইডি ডাটাবেজ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ডাটাবেসটিতে ১০ হাজারেরও বেশি ভাইরাল সিকোয়েন্স ছিল। এগুলো দেখেই গবেষকরা সিদ্ধান্ত নেন সারা বিশ্বে কিভাবে ভাইরাস নিজেকে পরিবর্তন ও মানুষকে সংক্রমিত করে।

    শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল লেকচারার ডা. থুষান ডি সিলভা জানান, মহামারি শুরুর পর থেকেই আমরা শেফিল্ডে করোনার স্ট্রেনগুলো নিয়ে সিকোয়েন্সিং করে যাচ্ছি। আমরা দেখেছি করোনার এই রূপাটি প্রচলিত স্ট্রেনগুলো থেকে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠছে।

    তিনি বলেন, আজ ( ৩ জুলাই) প্রকাশিত পূর্ণ ‘পিয়ার রিভিউ’ সমীক্ষা এটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। করোনার এই নতুন স্ট্রেনটি পরীক্ষাগারের সবেচেয়ে বেশি সংক্রমক; তাও জানা গেছে। শেফিল্ডে আমাদের টিমের দেওয়া ডেটা থেকে জানা গেছে, করোনা রোগীর উপরের শ্বাসযন্ত্রের ট্র্যাকে নতুন স্ট্রেনটি সবচেয়ে বেশি ভাইরাল লোড নিয়ে হানা দেয়। এর মানে মানুষকে সংক্রমিত করায় সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা রয়েছে এই স্ট্রেনের।

    সূত্র: মিরর।

  • লাদাখ সীমান্তে পাকিস্তানের ২০ হাজার সেনা মোতায়েন

    লাদাখ সীমান্তে পাকিস্তানের ২০ হাজার সেনা মোতায়েন

    পূর্ব লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে ভারতের। তারই মধ্যে উত্তর লাদাখ সীমান্তে প্রায় ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করল পাকিস্তান।

    ভারতকে কি ঘিরে ধরছে প্রতিবেশীরা? গত কয়েক দিনে ভারতীয় সেনা বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দাদের একাধিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গটি বার বার উত্থাপিত হয়েছে বলে সূত্র জানাচ্ছে। ভারতীয় গোয়েন্দারা সেনা বাহিনীকে জানিয়েছে, উত্তর লাদাখের গিলগিট বালতিস্তান অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান।

    উত্তরে ভারতকে পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘিরে রেখেছে চীন, পাকিস্তান এবং নেপাল-ভুটান। পুরোটাই দুর্গম হিমালয়ের অংশ। এর মধ্যে লাদাখের এক প্রান্তে চীন, অন্য প্রান্তে পাকিস্তান। এই মুহূর্তে চীনের সঙ্গে ভারতের উত্তেজনা চলছে লাদাখের পূর্ব প্রান্তে। গত ১৫ জুন রাতে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষ এবং ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এরপর বেশ কয়েকটি কোর কম্যান্ডার স্তরের বৈঠক হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। ভারত-চীন সীমান্ত চুসুলে বুধবারও একটি বৈঠক হয় দুই দেশের সেনার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি।

    আলোচনা চলছে। কিন্তু তার মধ্যেই লাদাখে চীন সীমান্তে ক্রমাগত সেনা সমাগম ঘটিয়েছে ভারত। সরকারি ভাবে প্রায় ১০ হাজার সৈন্য সেখানে মজুত করা হয়েছে। যদিও সেনা সূত্র জানাচ্ছে, ১০ হাজারের অনেক বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে সীমান্ত বরাবর। পাঠানো হয়েছে ট্যাঙ্ক এবং অন্যান্য যুদ্ধের সরঞ্জাম। লাদাখের লে বিমানঘাঁটিতে তৈরি রয়েছে বায়ুসেনা। ৬০ দিনের জন্য সেখানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সূত্র জানাচ্ছে, মাত্র ৮ মিনিটে সীমান্তে পৌঁছে অপারেশন চালিয়ে ফের এয়ারবেসে ফিরে আসতে পারে ভারতীয় ফাইটার বিমান।

    চীনও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অন্য দিকে সৈন্য সাজিয়েছে। সেখানেও প্রায় সমপরিমাণ সেনা মজুত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার খুব কাছে তিনটি এয়ারস্ট্রিপে চীন তাদের বায়ুসেনাকে প্রস্তুত রেখেছে বলে জানা গিয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে নেপাল এবং পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখন ভালো। কারাকোরাম হাইওয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তা। বাণিজ্যিক দিক থেকেও দুই দেশের মধ্যে এখন সুসম্পর্ক রয়েছে। ভারতের কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির পরে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে আপত্তি তুলেছিল। একমাত্র চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে পাকিস্তান-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এ দিকে নেপালের মতো ছোট দেশও ভারতের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে। সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে ভাঙন এখন স্পষ্ট। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডের সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দলে এখনও প্রচণ্ডের শক্তি বেশি। কিন্তু ওলি এত শক্তি পাচ্ছেন কোথা থেকে, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছে। অনেকেরই বক্তব্য, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি গোপনে সাহায্য করছে ওলিকে। ফলে ওলিও নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির পরিচিত স্ট্যান্ড উপেক্ষা করে ভারত বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।

    গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, উত্তর লাদাখে গিলগিট বালতিস্তানে সৈন্য মজুত করার পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলেও সীমান্তের কাছে সৈন্য বাড়িয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে কাশ্মীরের ভিতরে কট্টরপন্থীদের সঙ্গেও পাকিস্তান চীনের কথা বলিয়ে দিয়েছে বলে কোনও কোনও মহল দাবি করছে। এই পরিস্থিতিতে যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তা হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত গোটাটাই আক্রান্ত হবে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, সেনা বাহিনীকে এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়ে রাখা হয়েছে।

    সূত্র : ডয়চে ভেলে

  • কাশ্মীরে নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিতে ঝাঁজরা দাদা

    কাশ্মীরে নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিতে ঝাঁজরা দাদা

    ভারতের কাশ্মীরে বুধবার কথিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর গোলাগুলির মধ্যে আটকেপড়া নাতিকে বুক আগলে রক্ষা করলেন ৬৫ বছরের বশির আহমেদ খান।

    নাতি আয়াত প্রাণে বেঁচে গেলেও সেনাদের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে বশির আহমেদের নিথর দেহ পড়েছিল রাস্তায়। ছোট্ট ছেলেটা তার বুকের ওপরে বসে অঝোরে কাঁদছে। খবর ডয়চে ভেলে ও আনন্দবাজার পত্রিকা’র।

    রক্তে মাখামাখি নানার মরদেহ আর নাতির কান্নার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহৃর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এ সংঘর্ষের খবরটা তাই আর পাঁচটা দিনের চেয়ে আলাদা হয়ে ঝাঁকিয়ে দিয়েছে ভারতসহ গোটা বিশ্বকে।

    পুলিশ বলেছে, ৬৫ বছরের বশির আহমেদ খান বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলিবিনিময়ের মধ্যে পড়ে নিহত হয়েছেন। ওই সংঘর্ষেই নিহত হয়েছেন সিআরপির হেড কনস্টেবল দীপচন্দ বর্মাও। বশির ও তার নাতির এ হৃদয়বিদারক ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ তাকে উদ্ধারের খবর জানাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।

    তিনি বলেন, ‘রক্তাক্ত কাশ্মীরের প্রতিটি ঘটনাই আজ প্রচারের হাতিয়ার। তিন বছরের শিশুও। বুধবার বিকালের মধ্যেই ভাইরাল হওয়া সেই ছবি নিয়ে জাতীয় স্তরে বিতর্ক বাধিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র।’ আয়াত ও তার নানার ওই ছবি টুইট করে লেখেন– এটা ‘পুলিৎজ়ার-প্রেমীরা’ করেছেন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে।

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর অবরুদ্ধ কাশ্মীরের ছবি তুলে তিন সাংবাদিক পুলিৎজ়ার পুরস্কার পাওয়ায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তখনও সম্বিতই বিরোধীদের আক্রমণ করেছিলেন। এবার নাম উল্লেখ না করে তিনি রাহুলদের জবাব তলব করেছেন ঠিকই, কিন্তু অসহায়-আতঙ্কগ্রস্ত শিশুটির ছবি সেই কাজে ব্যবহার করে সমামাজিকমাধ্যমে তীব্র নিন্দার মুখেও পড়েছেন। সম্বিতকে বয়কটের ডাক দিয়ে অভিনেত্রী দিয়া মির্জা বিজেপির ওই মুখপাত্রের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়েছেন– ‘আপনার মধ্যে কী একবিন্দু মায়াদয়া নেই?’

    আয়াতের নানা শ্রীনগরের বাসিন্দা বশির ছিলেন নির্মাণ সংস্থার ঠিকাদার। বুধবার সকালে ব্যবসার কাজে গাড়ি চালিয়ে সোপোরে যাচ্ছিলেন। ঘণ্টা দুয়েকের পথ। সঙ্গে নিয়েছিলেন বছর তিনেকের নাতিকে। উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা জেলায় ‘আপেলের শহর’ সোপোর। সেখানেই যে বুধবার সিআরপির সঙ্গে জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধ বাধবে তাকি আর নানা-নাতির জানা ছিল।

  • করোনা: বিশ্বে একদিনে মৃত্যু ৫০৭২, আক্রান্ত ১ লাখ ৭৪ হাজার

    করোনা: বিশ্বে একদিনে মৃত্যু ৫০৭২, আক্রান্ত ১ লাখ ৭৪ হাজার

    মহামারি করোনাভাইরাসে প্রতিনিয়তই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। গত ২৪ ঘণ্টায় এ তালিকায় আরো যোগ হয়েছে পাঁচ হাজার ৭২ জন। আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। একদিনে মোট শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার মানুষের শরীরে।

    আন্তর্জাতিক জরিপকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে করোনায় এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৫ লাখ ১৩ হাজার ৯১৩ জন। আক্রান্ত হয়েছেন এক কোটি পাঁচ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, এরইমধ্যে ৫৭ লাখ ৯৫ হাজার ৯ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন।

    ব্রাজিলে আগের দিনের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মানুষ মারা গেল মঙ্গলবার। গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ২৮০ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলে করোনায় মারা গেছেন ৫৯ হাজার ৫৯৪ জন। এছাড়া দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার।

    করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও সংক্রমণে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ৭৬৪ জনের মৃত্যু দেখলো। সবমিলিয়ে দেশটিতে ভাইরাসজনিত কারণে এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি প্রাণ গেল। হঠাৎ করে কয়েকটি রাজ্যে বেড়েছে শনাক্তের হারও। মোট প্রায় ২৭ লাখ ২৭ হাজারের বেশি সংক্রমিত।

    মেক্সিকোতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৮৭৩ জন। সবমিলিয়ে দেশটিতে ভাইরাসজনিত কারণে ২৭ হাজারের বেশি প্রাণ গেল। গত একদিনে দেশটিতে শনাক্ত চার হাজার ৮০৫ জন। মোট প্রায় ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি সংক্রমিত।

    ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। এই ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।

  • ৯ বছর সংসারের পর জানা গেলো স্ত্রী আসলে পুরুষ

    ৯ বছর সংসারের পর জানা গেলো স্ত্রী আসলে পুরুষ

    দেখতে-শুনতে, আচারে-ব্যবহারে, শারীরিক গঠনে পুরোপুরি একজন নারী হিসাবেই ৩০টি বসন্ত পার করে ফেলেছিলেন। গোল বাঁধলো হঠাৎ করে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হওয়ায়।

    এই লকডাউনের মধ্যেই অনেক ঝক্কি-ঝামেলা সামলে তাকে কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা যা জানালেন তাতে চক্ষু চড়কগাছ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা ওই নারীর।

    চিকিৎসকরা জানালেন, টেস্টিকুলার ক্যান্সারে ভুগছেন তিনি। অর্থাৎ তিনি জিনগতভাবে আসলে পুরুষ। কারণ পুরুষদের যৌনাঙ্গের ক্যান্সারেরই একটি প্রকার হল টেস্টিকুলার ক্যান্সার।

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এ ধরণের ক্যান্সার শারীরিকগঠনের কারণেই কোনো নারীর হওয়া সম্ভব নয়।

    ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ড. অনুপম দত্ত এবং সার্জিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ড. সৌমেন দাস ওই নারীর শরীরের যাবতীয় পরীক্ষার পর জানতে পারেন, আসলে জন্ম থেকেই ‘অ্যান্ড্রোজেন সেনসিটিভিটি সিন্ড্রোম’ নামে একটি বিরল রোগের শিকার তিনি। প্রতি ২২ হাজার মানুষর মধ্যে একজনের শরীরে এমন রোগ থাকে। এর ফলে একটি শিশু জেনেটিকালি পুরুষ হিসেবেই জন্ম নেয় কিন্তু তার মধ্যে একজন নারীর সমস্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকে।

    ৯ বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। চিকিৎসকদের কথায়, তার সাথে কথা বললে বা তাকে দেখলে কারোর মনেই এ সন্দেহ জাগার কথা নয় যে, তিনি জেনেটিক্যালি পুরুষ।

    সংবাদসংস্থা পিটিআইকে ড. অনুপম দত্ত বলেন, ‘ওনাকে দেখলে বা ওনার কণ্ঠস্বর শুনলে আপনার কোনোভাবেই মনে হবে না যে উনি জেনেটিক্যালি পুরুষ। স্তন থেকে শুরু করে জননেন্দ্রিয়, একজন নারীর মতো সব কিছুই রয়েছে তার শরীরে। কিন্তু জন্মের সময় থেকেই তার জরায়ু এবং ডিম্বাশয় কোনোটাই ছিল না। এমনকী জীবনে কখনো ঋতুস্রাবও হয়নি তার।’

    ‘ওর খুব পেটে যন্ত্রণা হওয়ার কারণে আমরা বেশ কিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করে দেখি। কিন্তু তাতে দেখা যায়, ওর শরীরে অণ্ডকোষ রয়েছে। বায়োপসি করানো হয়। তারপরই ধরা পড়ে যে, তিনি আসলে টেস্টিকুলার ক্যানসারে আক্রান্ত’, একথাও বলেন ওই চিকিৎসক।

    বর্তমানে ওই ব্যক্তির শরীরে কেমোথেরাপি চলছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

    কিন্তু যিনি এতদিন নারী হিসাবে নিজেকে জেনে এসেছেন, হঠাৎ করে তার শরীরে পুরুষত্বের প্রমাণ মেলায় কতটা স্বাভাবিক থাকতে পারবেন তিনি ও তার পরিবার- এসম্পর্কে চিকিৎসকদের প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, ‘হ্যাঁ, একজন নারী হিসেবেই বড় হয়েছেন তিনি। প্রায় এক দশক ধরে বিবাহিত জীবনও কাটিয়েছেন তিনি। তাই আমরা এখন তাকে ও তার স্বামীকে পরামর্শ দিয়েছি, যেভাবে এতগুলো বছর তারা দাম্পত্য জীবন কাটিয়ে এসেছেন, ঠিক সেভাবেই বাকি জীবনটা যেন কাটান তারা।’

    জানা গেছে, ওই দম্পতি গত কয়েকবছর ধরে বেশ কয়েকবার গর্ভধারণের চেষ্টা করলেও সফল হচ্ছিলেন না। তবে বর্তমানে জানা গেল তার আসল কারণ।

    সম্ভবত এই রোগটি জিনগত, একথাও বলেন চিকিৎসক অনুপম দত্ত। ‘ওর দুই খালারও একই ধরনের রোগ ছিল। অর্থাৎ তারাও অ্যান্ড্রোজেন ইনসেন্সিটিভিটি রোগাক্রান্ত ছিলেন। সম্ভবত এই রোগটি জিনগতই। এর থেকে বেশি আমরা বিরল এই রোগটির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কিছু জানতে পারিনি’, জানান চিকিৎসক।

    সূত্র : এনডিটিভি

  • যে সিদ্ধান্তের পর থেকেই লাদাখ নিয়ে বিরোধে জড়ায় চীন

    যে সিদ্ধান্তের পর থেকেই লাদাখ নিয়ে বিরোধে জড়ায় চীন

    প্যাংগং টিএসও-তে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করছে চীনা বাহিনী। ফিঙ্গার ৪-এ হেলিপ্যাড বানানোর সঙ্গে সঙ্গে প্যাংগং টিএসও’র দক্ষিণে হঠাৎই সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে চীন। প্যাগংকে কেন্দ্র করে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখকে পৃথক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল বলে ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকেই চীনের নজরে প্যাংগং।

    ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চীনা বাহিনীর আগ্রাসী রূপ প্রকাশ্যে আসে। প্যাংগং হ্রদের উত্তরে ফিঙ্গার ৮-এর দিকে নজরদারির জন্য ভারতীয় বাহিনীকে যেতে বাধা দেয় চীনা বাহিনী। ১১ সেপ্টেম্বর ভোরে পিপলস লিবারেশন আর্মির ৮টি সাজোঁয়া গাড়ি ফিঙ্গার ৪-এ আসে। ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে চীনা বাহিনীর তীব্র কথা আদান-প্রদান হয়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংঘর্ষে জড়ায় দুই দেশের সেনা। কর্মকর্তারা জানান, এই সংঘর্ষে ভারতের ১০ সেনাকর্মী ও আইটিবিপি সদস্য জখম হয়। প্যাংগং লেকে ভারতীয় সেনার তিনটি নৌকা ভেঙে দেয় চীনা বাহিনী। পাল্টা হিসেবে ভারতীয় সেনারাও চীনের দু’টি নৌকা ভাঙে।

    ফিঙ্গার ৪-এ নজরদারির জন্য পাথরের কাঠামো নির্মাণ করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেগুলোকেও গুঁড়িয়ে দেয় চীনা বাহিনী। একই ধাঁচে চীনা সেনারা ফিঙ্গার ৮-এ তাদের শিবিরেরে আরও পশ্চিমে কাঠামো নির্মাণ করে। এরপরই ফিঙ্গার ৮-এর দিকে নজরদারির জন্য ভারতীয় বাহিনীকে যেতে বাধা দেয় তারা। ক্রমশ এই বাধা তীব্র হতে থাকে।
    কিন্তু, দেশের সুরক্ষায় ভারতীয় বাহিনীর কাছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় নজরদারি চালানো ছিল একান্ত জরুরি। ভারতীয় সেনাবাহিনী তাই সেখানে পৌঁছতে বিকল্প রুটের সন্ধান চালায়। ফিঙ্গার ৪-এর পিছন দিক দিয়ে ফিঙ্গার ৮-এর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে এ দশের বাহিনী। যার প্রবল প্রতিবাদ জানায় চীন। ওই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। যার ফলশ্রুতি চলতি বছর মে মাসের ৫-৬ তারিখের সংঘর্ষ। এরপর থেকেই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে ইন্দো-চীন সেনাবাহিনী।

    গত দু’মাসে প্যাংগং টিএসও-তে ভারত-চীনা বাহিনী অন্তত তিনবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, চীনা বাহিনী ফিঙ্গার ৪-এর কাছে হ্রদের দু’ধারে পিলবক্স, বাঙ্কার ও নির্মাণ তৈরি করেছে।এমনকি সেখানে সেনা মোতায়েন বৃদ্ধির সঙ্গেই সমরাস্ত্রও বৃদ্ধি করেছে চীনা বাহিনী।

    দিল্লির দাবি নিয়ন্ত্রণরেখার এপারে, ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিঙ্গার ৮ অবস্থিত। চীনাদের মতে, নিয়ন্ত্রণরেখা আরও কয়েক কিমি পশ্চিমে বিস্তৃত। তবে, প্যাংগং নিয়ে ভারত-চীন বিরোধ অনেক দিনের পুরনো। কর্মকর্তাদের দাবি, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট প্যাংগংয়ে দুই দেশের সেনার মধ্যে হাতাহাতির ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। তারপর থেকে দু’বছর অবশ্য এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

    উল্লেখ্য, প্যাংগং দিয়েই ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৯ সালে চীনা বাহিনী ১৪২ বার ভারতের সীমানায় অনুপ্রবেশ করেছিল। ২০১৮ ও ১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭২ ও ১১২। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

  • পৃথিবীতেই ‘মঙ্গলগ্রহ’ বানাচ্ছে দুবাই!

    পৃথিবীতেই ‘মঙ্গলগ্রহ’ বানাচ্ছে দুবাই!

    স্থাপত্যে দুবাই সারাবিশ্বের সেরা হতে চায় বিষয়টি এখন আর অজানা নেই কারো। দুবাই এবার বিশ্ববাসীকে পৃথিবীতেই মঙ্গলে বসবাসের অনুভূতি দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই ২০১৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত আগামী ১০০ বছরের মধ্যে মঙ্গলগ্রহে কলোনি গড়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঘোষণা করেছিল।

    দুবাইয়ের বাইরে মঙ্গলের শহরের নকশা করেছেন দেশটির স্থপতিরা। এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন।

    মঙ্গলের কল্পিত শহরগুলোয় মানুষের বসবাসের অভিজ্ঞতা কেমন হতো, তা হাতে-কলমে দেখাতে চাইছে দুবাই। এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকবেন আমিরাতের রাষ্ট্রপ্রধান নিজেই। এক লাখ ৭৬ হাজার বর্গমিটার মরুভূমিতে ‘মার্স সায়েন্স সিটি’ প্রায় ৩০টি ফুটবল মাঠের সমান।

    এটি তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ১৩ কোটি ডলার। দুবাইয়ের মোহাম্মদ বিন রশিদ মহাকাশ কেন্দ্র (এমবিআরএসসি) ‘বিজারকে ইঙ্গেল গ্রুপের’ স্থপতিদের মঙ্গলের শহরের নকশা করার অনুমোদন দেয়। তারা থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে শহরের স্থাপনাগুলো তৈরি করেন।

    শহরটি শূন্য থেকে অনেকটা সারি সারি গম্ভুজের মতো দেখতে মনে হবে। ভূগর্ভস্থ ২০ ফুট দৈর্ঘ্যর কক্ষগুলো ক্ষতিকারক বিকিরণ ও উল্কাপিণ্ড থেকে সুরক্ষিত।

    ইঙ্গেল গ্রুপের অংশীদার জ্যাকব ল্যাঙ্গে বলেন, ‘ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে ভূগর্ভস্থ গুহায় স্কাইলাইট থাকবে, যা অ্যাকোরিয়ামের মতো হবে।

    মঙ্গলে খোলা পরিবেশে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার মতো পর্যাপ্ত অক্সিজেন নেই। এ ছাড়া সেখানের তাপমাত্রা মাইনাস ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    বলা বাহুল্য, বর্তমানেই ভবিষ্যতকে দেখার এক মহা আয়োজন এটি।

  • চীন-ভারত দ্বন্দ্ব মেটাতে উদ্যোগী রাশিয়া

    চীন-ভারত দ্বন্দ্ব মেটাতে উদ্যোগী রাশিয়া

    লাদাখ সীমান্ত নিয়ে চীন-ভারতের মধ্যেকার উত্তেজনার নিরসনে কাজ করছে রাশিয়া। গালওয়ান উপত্যকায় ১৫ জুন রক্তপাতের পরেই চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ফোনালাপের পিছনেও মস্কোর হাত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

    গত দু’সপ্তাহ ধরেই চীনের সঙ্গে সংকট সমাধানে রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চলছে ভারত। সম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গত তিন সপ্তাহে রাশিয়ার বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং মস্কোয় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। আজকের চীন-ভারত-রাশিয়ার বৈঠকটির পিছনেও সক্রিয় মস্কো।

    এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সে দেশের বিজয় উৎসবে যোগ দিতে মস্কো পৌঁছেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। এই উৎসবে যোগ দিতে আগামীকাল রাশিয়া পৌঁছবেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। চীনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস রাজনাথের সঙ্গে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। রাজনাথ এ দিন রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী সরঞ্জাম আমদানি করার বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। চলতি বছরের শেষে ওই সরঞ্জাম ভারতে আসার কথা। কিন্তু তা দ্রুত সরবরাহ করা নিয়ে আজ রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ভারতের এই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।

    দীর্ঘ বন্ধু রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আবারো বাড়ানোর ফলে কি কৌশলগত অংশীদার আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য কিছুটা বিঘ্নিত হবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখবে, রাশিয়াই বা কেন চীন-ভারত দ্বন্দ্ব মেটাতে এতো আগ্রহ দেখাচ্ছে- এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    এ বিষয়ে কূটনীতিবিদরা বলেছেন, প্রত্যেকটি দেশ নিজের স্বার্থের জন্য অন্য দেশকে কাজে লাগাচ্ছে। এক একজনের স্বার্থ এক এক রকম। সেই স্বার্থ যেমন এক দিকে বাণিজ্যিক, পাশাপাশি ভূকৌশলের খেলাও তার সঙ্গে জড়িয়ে। গোটা বিষয়টিতে আমেরিকার খুশি হওয়ার কারণ নেই এটা ঠিকই। কিন্তু একে কেন্দ্র করে নতুন করে ভারত-আমেরিকা মত বিরোধ তৈরি হবে — এমনটাও মনে করা হচ্ছে না। দু’দিন আগেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন তিনি ভারত-চীনের এই সঙ্কটে মধ্যস্থতা করতে চান। এটা ঘটনা যে, ‘ডিল মেকিং’ ট্রাম্পের অত্যন্ত প্রিয় অভিষ্ট। এ ক্ষেত্রে তাকে অবজ্ঞা করে ভারতের রাশিয়া-সংযোগ তিনি যে ভাল চোখে দেখবেন না, এটাই স্বাভাবিক।

    তারা আরো জানান, আমেরিকা-রাশিয়ার বর্তমান বৈরিতার আবহ থাকলেও ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতিই চেয়ে এসেছেন। ফলে নয়াদিল্লি যদি কোনো বিষয়ভিত্তিক কারণে মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তা হলে পরে নিজেদের প্রয়োজনে রাশিয়ার কাছে পৌঁছতে ভারতকে কাজে লাগাতেই পারে আমেরিকা।

    এ বিষয়ে অতীতের উদাহরণ টেনে সাবেক কূটনীতিক রণেন সেন বলেন, আফগানিস্তান সমস্যার সমাধানের জন্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীকে অনুরোধ করেছিলেন, তৎকালীন রুশ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচভের সঙ্গে কথা বলতে। তবে কূটনীতিকদের মতে, যা করা হবে, তা আমেরিকাকে অন্ধকারে রেখে না করাটাই শ্রেয়।

    অন্য দিকে নয়াদিল্লির যুক্তি, চীন-ভারত সম্পর্কের মধ্যে আমেরিকাকে টেনে আনলে বর্তমান পরিস্থিতিতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। কারণ ট্রাম্প এবং শি জিংপিং’র সম্পর্ক এখন প্রতিকূল অবস্থানে। এখন যদি বেইজিং কারো কথায় কিছুটা গুরুত্ব দেয়, তা হল মস্কো। দুদেশের বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য স্বার্থ একে অন্যের সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি মস্কোও চায়, তাদের সামরিক পণ্যের বিশাল দুই ক্রেতা, ভারত এবং চীনের মধ্যে অস্থিরতা যেন মাত্রাছাড়া পর্যায়ে না পৌঁছয়। কারণটা যে শুধু বাণিজ্যিক তাই নয়, এর ভূকৌশলগত দিকও রয়েছে।

    এই মুহূর্তে রাশিয়া-চীন-ভারত (রিক), ব্রাজিল, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা (ব্রিকস) এবং সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) চলতি বছরের নেতৃত্ব মস্কোর হাতে। ভারত এবং চীন এই তিনটি জোটেই রয়েছে। সূত্রের মতে, রাশিয়া আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার্থে এই গোষ্ঠীগুলোকে কাজে লাগাতে উন্মুখ। সে ক্ষেত্রে চীন-ভারতের সহাবস্থান মস্কোর জন্যও জরুরি।

  • দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের ফ্লাইট চালু

    দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের ফ্লাইট চালু

    প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক রুটে শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা করল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

    রোববার (২১ জুন) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার এয়ারক্রাফট নিয়ে বিমানের প্রথম ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। ফ্লাইটে ১৮৭ জন যাত্রী ছিল। তাদের মধ্যে ৫ জন শিশু। বিষয়টি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চলতি বছরের ২১ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, চীন, হংকং, থাইল্যান্ড ছাড়া সব দেশের সঙ্গে এবং অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল বেবিচক। এরপর আরেকটি আদেশে চীন বাদে সব দেশের সাথে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যা সরকারি সাধারণ ছুটির সাথে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমে ১৪ ও ৩০ এপ্রিল; ৭, ১৬ ও ৩০ মে এবং ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ফলে ১৬ জুন থেকে ঢাকা-লন্ডন রুটে এবং কাতার রুটে ফ্লাইট চলাচল করার অনুমতি দেয় বেবিচক। তবে ১৬ জুন থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হলেও ৫ দিন সময় নিয়ে আজ ২১ জুন থেকে ফ্লাইট চলাচল শুরু করে।

  • যুদ্ধ সরঞ্জামাদি নিয়ে সীমান্তে এগোচ্ছে চীন

    যুদ্ধ সরঞ্জামাদি নিয়ে সীমান্তে এগোচ্ছে চীন

    লাদাখে চীন-ভারত সীমান্ত যাকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বলা হয়, তার সঠিক কোনো সীমারেখা চিহ্নিত করা যায়নি। কারণ চীনা সেনা যে এলাকাকে নিজের বলে দাবি করে, ভারত তা করে না।

    আবার ভারতীয় বাহিনী যতদূর পর্যন্ত এলাকাকে নিজেদের বলে, চীন সেটা মানে না। ম্যাপ দেখলে বোঝা যাবে, আকসাই চীন পেরিয়ে লাদাখের উপর দিয়ে বয়ে গিয়ে শিয়ক নদীতে মিশেছে গালওয়ান নদী। এই গতিপথের মধ্যেই ধরা হয় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাকে।

    পূর্ব লাদাখের এই গালওয়ান উপত্যকাই চীন-ভারত সংঘাতের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। গত দু’মাস ধরে লাদাখে ভারত-চীন সীমান্তের পরিস্থিতি উত্তেজনার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। ১৫ জুন চীনা সেনাদের হাতে ভারতের ২০ জন সৈন্য নিহত হওয়ার ঘটনায় সে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ক্রমশ যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ধাবমান হচ্ছে প্রতিবেশী পারমাণবিক শক্তিধর দেশ দুটি।

    এরই মধ্যে প্রতিশোধ নিতে সীমান্তে যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে ভারত। চীনও পিছু হটেনি, বরং উত্তেজনা বাড়িয়ে সেনা বৃদ্ধি করে চলেছে।

    এবার উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে আরো ভয়াবহ দৃশ্য, শত শত ট্রাক, বুলডোজার, চার চাকার গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধসাজে সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসছে চীনা বাহিনী।

    গত ৯ জুন সীমান্তের কাছে গালওয়ান উপত্যকার যে ছবি স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছিল, তার থেকে ১৬ জুনের ছবি অনেকটাই আলাদা। উপগ্রহ চিত্র জানান দিচ্ছে, সীমান্তের কাছে বড়সড় সামরিক প্রস্তুতি চলছে।

    এই গালওয়ান উপত্যকায় বহুদিন থেকেই মুখোমুখি চীন ও ভারতীয় সেনা। মাঝেমধ্যেই সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। মে মাসের শুরুতেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা, নাকুলা ও প্যাঙগঙ লেকের উত্তরপ্রান্তে এলএসি পেরিয়ে ভারতীয় এলাকায় কয়েক কিলোমিটার ঢুকে পড়ে চীনা সেনারা। রীতিমতো তাঁবু খাটিয়ে ঘাঁটি তৈরি করে ফেলে।

    মুখোমুখি হাতাহাতিও হয়। দু’পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপরে সেনা কর্মকর্তাস্তরে বৈঠকে ৬ জুনের পরে নাকুলা থেকে দু’পক্ষই কিছুটা পিছিয়ে আসে।

    উপগ্রহ চিত্র দেখাচ্ছে, শতাধিক ট্রাক ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এগিয়ে আসছে চীনা বাহিনী। ৯ জুনের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছিল ওই এলাকা একেবারেই জনশূন্য। ১৬ জুনের স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ট্রাক, বুলডোজার মিলিয়ে অন্তত ৭৯টি গাড়ি এলএসি থেকে ১.৩ কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে আছে।

    পরের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ক্রমশই এই সংখ্যা বাড়ছে। এলএসি বরাবর চীনা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ১২৭টি গাড়ির দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। এই এলাকা এলএসি থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাক, বুলডোজার ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম নিযে যুদ্ধের প্রস্তুতিই নিচ্ছে চীন। অতর্কিতে হামলা হতে পারে যে কোনো সময়েই। এলএসি থেকে ২.৯ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে চীনা বাহিনীর ৫০ টি ক্যাম্প ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। রীতিমতো তাঁবু খাটিয়ে এলএসি বরাবর সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখছে চীন।

    আরও একটা জিনিস ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। সেটা হল, এলএসি বরাবর গালওয়ান নদীর যে গতিপথ সেখানেই নতুন করে কোনো কাঠামো গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ৯ জুনের উপগ্রহ চিত্রে নদী উপত্যকায় তেমন কোনো কাঠামো দেখা যায়নি।

    তবে ১৬ জুনের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, নদী উপত্যকা বরাবর এলএসি থেকে ৬০০ মিটারের মধ্যে নতুন করে কোনো কাঠামো তৈরি হয়েছে।

    সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্প করে সামরিক প্রস্তুতি চালাচ্ছে চীন। ভারত সীমান্ত থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে পুরোদস্তুর বিমানঘাঁটিও গড়ে তুলেছে। লাদাখের প্যাঙগঙ লেকের ২০০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের ‘গাড়ি কুনসা’য় দশ বছর আগেই একটি বিমানবন্দর বানিয়েছিল চীন। বেইজিং তখন জানিয়েছিল, অসামরিক বিমান পরিবহণের জন্যই ওই বিমানবন্দর তৈরি করা হচ্ছে।

    কিন্তু উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে, গত এক মাসে ওই বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজ রাতারাতি বেড়ে গেছে এবং সেখানে রীতিমতো একটি বিমানঘাঁটি তথা এয়ারবেস বানিয়ে ফেলেছে চীন।

    প্রসঙ্গত, ৪৫ বছর পর প্রথম ভারত-চীন সীমান্তে নিহত হলেন ভারতের সেনা সদস্যরা। ১৫ জুন লাদাখে চীনা ও ভারতীয় সেনাদের সংঘর্ষে এক কর্নেল-সহ অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহতের ঘটনায় সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।

    সূত্র- দূরদর্শন নিউজ।