Category: আন্তর্জাতিক

  • সময়ই শেষ কথা বলবে: ট্রাম্প

    সময়ই শেষ কথা বলবে: ট্রাম্প

    নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার এক সপ্তাহ পরও সরাসরি পরাজয় স্বীকার করলেন না আমেরিকার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটু হেঁয়ালি করে শুক্রবার শুধু বললেন, “সময়ই শেষ কথা বলবে।”

    দু’দিন আগে আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছিলেন, “জানুয়ারির ২০ তারিখে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে।” ফলাফল যে তিনি মেনে নেননি তা স্পষ্টই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন পম্পেও।

    ফলাফল ঘোষণার এক সপ্তাহ পর নীরবতা ভেঙে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে কোভিড টিকা নিয়ে কথা বলার ফাঁকে সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কিন্তু পম্পওর মতো বলিষ্ঠভাবে কিছু বলেননি। বরং কিছুটা হেঁয়ালি করেই যেন বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন সময় হয়ে এল!
    বলেছেন, “যা-ই হোক ভবিষ্যতে আমি আশাবাদী। কে জানে কার প্রশাসন আসছে, সময়ই শেষ কথা বলবে।”

    গণনায় কারচুপির অভিযোগে ইতিমধ্যেই আমেরিকার বিভিন্ন আদালতে কয়েকটি মামলা দায়ের করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার গতকালের এই মন্তব্যে ইঙ্গিত, এখনও সম্ভবত আদালতের রায় তার পক্ষেই যাবে বলে মনে করছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তবে গতকালই মিশিগানের একটি আদালত ‘ভোট কারচুপি’র অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে।

    এবারের ভোটে তাকে যারা সমর্থন করেছেন এবং পরে যারা তার ‘ভোট কারচুপি’র অভিযোগে সায় দিয়েছেন, গতকাল টুইট করেও ট্রাম্প তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন, শনিবার ওয়াশিংটনে তার সমর্থনে যে সমাবেশ হওয়ার কথা সেখান দিয়ে যাওয়ার পথে তিনি থামবেন কিছুক্ষণের জন্য। তার সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানাবেন।

  • গ্রেফতার হতে পারেন ট্রাম্প

    গ্রেফতার হতে পারেন ট্রাম্প

    ক্ষমতা ছাড়ার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রেফতার হতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মুখপাত্র অ্যাডাম অ্যারলি।

    রোববার (০৮ নভেম্বর) সৌদি নিউজ চ্যানেল আল-আরাবিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

    অ্যাডাম অ্যারলি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে যেসব অপরাধ করেছিলেন আদালতে সেগুলোর ব্যাপারে বহু মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইনি দায়মুক্তি ভোগ করছেন বলে তাকে ওইসব মামলায় গ্রেফতার করা যাচ্ছে না।

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার মতো বহু অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান অ্যারলি।

    এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানের কুদস ফোর্সের তৎকালীন কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেন মার্কিন সেনারা।

    ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ওই হত্যাকাণ্ডের পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে হত্যা মামলার সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। সেই সময় অনেকে বিষয়টিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ট্রাম্প চিরদিন ক্ষমতায় থাকবেন না এবং আইনি দায়মুক্তিও তাকে আজীবন সুরক্ষা দেবে না।

  • নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের যত পরিকল্পনা

    নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের যত পরিকল্পনা

    করোনা মহামারি মোকাবিলার এরই মধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিতে শুরু করেছেন নব-নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এদিকে পরাজয়ের পর প্রথমবার ঘোষণা দিয়েও রেডিও শোতে অংশ নেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টুইট বার্তায় ওই শোতে অংশ নিয়ে নির্বাচনে ভোট কারচুপি নিয়ে কথা বলার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখন ব্যস্ত নতুন নতুন পরিকল্পনা দিয়ে দেশকে ঢেলে সাজাতে। তবে, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন করোনা মোকাবিলায়। যুক্তরাষ্ট্রের সময় সোমবার এই বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলবেন বাইডেন।

    করোনার সংক্রমণ রোধে বাইডেন আমেরিকায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে চান। এতে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নর ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

    এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বর্ণবাদ নির্মূল ও জলবায়ু পরিবর্তনেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।

    এদিকে, বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রিপাবলিকাল পার্টির সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। যুক্তরাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করবেন বাইডেন- অভিনন্দন বার্তায় এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন বুশ। অবশ্য তিনি বলেন, ভোট পুনর্গণনা ও আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে ট্রাম্পের।

    জো বাইডেন যখন দেশকে নিয়ে নানা পরিকল্পনায় ব্যস্ত, তখন ট্রাম্প একটি রেডিও শোতে ভোট কারচুপির অভিযোগ নিয়ে কথা বলার ঘোষণা দেন— টুইটারে। কিন্তু ঘোষণা দিলেও সেই রেডিও শোতে অংশ নেননি ট্রাম্প।

    এর আগে, রবিবার হোয়াইট হাউজে ফেরেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসময় তাকে স্বাগত জানায় সমর্থকরা। এদিকে, স্থানীয় সময় সোমবার থেকে আইনি লড়াই শুরুর ঘোষণা আগে থেকেই দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

  • এগিয়ে বাইডেন তবুও জয়ের সম্ভাবনা ট্রাম্পের

    এগিয়ে বাইডেন তবুও জয়ের সম্ভাবনা ট্রাম্পের

    মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রজেকশন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইলেক্টোরাল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন। তার সম্ভাব্য ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ১৩১টি। বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভোট ৯৮টি। তবে সম্ভাব্য এই ফল থেকে বলা যাচ্ছে না, কে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। কেননা এখনো অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটেনি। যার যেখানে জয় পাওয়ার কথা, তিনি সেখানেই এগিয়ে রয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে একসঙ্গে ভোট হলেও মূলত সবারই নজর থাকে ব্যাটল গ্রাউন্ড খ্যাত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের দিকে। এগুলোকে বলা হয় সুইং স্টেট। নির্বাচনি ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এ অঙ্গরাজ্যগুলো। সুইং স্টেট মিশিগান, জর্জিয়া, টেক্সাস ও উইসকনসিনে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। পেনসিলভানিয়ায়, ওহাইও, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। ফ্লোরিডায় চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

    এ দিকে কানেকটিকাট (৭), ডেলওয়ার (৩), ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়া (৩), ইলিনয় (২০), ম্যারিল্যান্ড (১০), ম্যাসাচুসেটস (১১), নিউ জার্সি (১৪), নিউ ইয়র্ক (২৯), রোডি আইল্যান্ড (৪), ভারমন্ট (৩), ভার্জিনিয়ায় (১৩) সম্ভাব্য বিজয়ী জো বাইডেন।

    অন্য দিকে অ্যালাবামা (৯), আরকানসাস (৬), ইন্ডিয়ানা (১১), কেন্টাটি (৮), লুইজিয়ানা (৮), মিসিসিপি (৬), নর্থ ডাকোটা (৩), ওকলোহোমা (৭), সাউথ ডাকোটা (৩), টেনেসি (১), ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া (৫), ওয়েমিং (৩), কানসাস (৯) জয় পাওয়ার কথা ট্রাম্পের।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি নিশ্চিত করতে হবে। মার্কিন মিডিয়াগুলো জানিয়েছে, ভোটের পরিবেশ ছিল উৎসাহপূর্ণ ও ইতিবাচক। পরিস্থিতি ছিল অনেক শান্ত। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট প্রদান করেন আমেরিকানরা।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে অনেক অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। ব্যাটল গ্রাউন্ড ওহাইয়ো ও নর্থ ক্যারোলাইনাতে সাড়ে সাতটার মধ্যে এবং পরবর্তী পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ হওয়ার কথা বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র। সবশেষে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হয় আলাস্কাতে। সেখানে স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

    মঙ্গলবার ভোটের দিনের আগেই ১০ কোটি ২ লাখ মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন। যা ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মোট ভোটারের ৭৩ শতাংশ। ইলেকশন প্রজেক্টের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার অধ্যাপক মাইকেল পি. ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি হতে পারে ৬৭ শতাংশ। এমনটি হলে এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড হবে।

  • নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে যাব: ট্রাম্প

    নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে যাব: ট্রাম্প

    • নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, এতে করে আমেরিকানদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে যাবো। এখন আমরা সব ভোট গণনা কার্যক্রম বন্ধ চাই। এটা খুবই দুঃখজনক একটি মুহূর্ত।’

    প্রাথমিক ফলাফলে এখন পর্যন্ত জো বাইডেনের সম্ভাব্য ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ২২৫টি। বিপরীতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভোট ২১৩টি।

    এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    বক্তব্যের শুরুতে তিনি তার পরিবার এবং লক্ষ লক্ষ সমর্থক যারা আজ রাতে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন ধন্যবাদ জানান। ভোট প্রদানের জন্য আমেরিকানদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    এ সময় তিনি কোন রকম প্রমাণ উপস্থাপন না করেই দাবি করেন, নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে। এটা আমেরিকান জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।

    নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে লড়াই করতে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলেও জানান।

    ট্রাম্প বলেন, লাখ লাখ লোক আমাদের পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমরা একটি বড় উদযাপনের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমরা সবকিছুতেই জিতেছিলাম। সত্যি কথা বলতে, আমরাই বিজয়ী হয়েছি।

  • ইলেকটোরাল ভোটে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে বাইডেন

    ইলেকটোরাল ভোটে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে বাইডেন

    হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা পাওয়ার লড়াই জমে উঠেছে। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মার্কিন নির্বাচনে লড়ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকে এখন ফলের অপেক্ষায় সময় গুনছেন দুই প্রার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে সারা বিশ্বও। এর মধ্যেই বেশ কিছু ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের ফলাফল হাতে এসেছে। এখন পর্যন্ত ইলেকটোরাল ভোটে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে আছেন বাইডেন।

    নিউইয়র্ক টাইমের দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৩১ ইলেকটোরাল ভোট তুলে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, ম্যারিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ জার্সি, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়া, ইলিনয়, নিউ মেক্সিকো ও কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে এগিয়ে আছেন তিনি।

    অন্যদিকে, ৯৮ ইলেক্টোরাল ভোট পকেটে পুরেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এগিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর মধ্যে আছে- আলাবামা, আরকানসাস, কেন্টাকি, মিসিসিপি, ওকলাহোমা, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেনেসি, ইন্ডিয়ানা, সাউথ ডাকোটা, নর্থ ডাকোটা, ওয়াইয়োমিং, ক্যানসাস, নেব্রাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া।

    গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলেকটোরাল ভোটে পিছিয়ে থাকলেও জনগণের ভোটে এগিয়ে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এখন পর্যন্ত ভোট পেয়েছেন ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭২টি ভোট। এদিকে, বাইডেনকে ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৯ জন ভোটার।

    যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে একসঙ্গে ভোট হলেও মূলত সবার নজর থাকে ব্যাটলগ্রাউন্ড খ্যাত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের দিকে। এগুলোকে বলা হয় সুইং স্টেট। নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এসব অঙ্গরাজ্য। এ বছর আটটি অঙ্গরাজ্যকে সুইং স্টেট বলা হচ্ছে। এগুলো হলো- ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া, ওহাইও, মিশিগান, উইসকনসিন, আইওয়া, অ্যারিজোনা ও নর্থ ক্যারোলাইনা।

    আটটি অঙ্গরাজ্যে কোন প্রার্থীর অবস্থান কেমন তা নিয়ে ‘পোলস ট্র্যাকার’ এর ফলাফল প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান। সেখানে দেখা গেছে, ছয়টিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন এবং দুটিতে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন।

    পেনসিলভানিয়া, উইসকনসিন ও মিশিগানে যথাক্রমে ২০টি, ১০টি ও ১৬টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। এগুলোতে বাইডেন বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। আইওয়া ও ওহাইওতে যথাক্রমে ৬টি ও ১৮টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। এই দুই জায়গায় ট্রাম্প সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।

    ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও অ্যারিজোনায় যথাক্রমে ২৯টি, ১৫টি ও ১১টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। এগুলোতে বাইডেন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে। অর্থাৎ ২৪টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে এমন দুই অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প এগিয়ে এবং ১০১টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে এমন ছয় অঙ্গরাজ্যে বাইডেন এগিয়ে।

    যুক্তরাষ্ট্রে ইলেকটোরাল মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। মাইন ও নেব্রাসকা এই দুটো অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি সবগুলো রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ দিলে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান হলেন পিরোজপুরের আবুল বি. খান

    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান হলেন পিরোজপুরের আবুল বি. খান

    নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ (কংগ্রেসম্যান) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবুল বি. খান। এ নিয়ে টানা চারবার নির্বাচিত হলেন এই রিপাবলিকান নেতা।

    মঙ্গলবারের এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন আবুল, তিন হাজার ৪৪৪। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী প্যাট্রিয়া ও’ কেফ পেয়েছেন দুই হজার ৪৪৮ ভোট।

    নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট রকিংহাম বরাবরই রিপাবলিকানদের দখলে। বাংলাদেশি-আমেরিকান আবুল বি খান এর আগে, টানা তিনবার স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ নির্বাচিত হন।

    আটলান্টিক মহাসাগরের তীরের নিউ হ্যাম্পশায়ারে সিব্রুক সিটির সিলেক্টম্যান হিসেবেও তিনি ১২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।

    আবুল বি খানের জন্ম বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলায় ভান্ডারিয়ায়। ১৯৮১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন।

  • ট্রাম্পের এক সভাতেই করোনা আক্রান্ত ৩০ হাজার

    ট্রাম্পের এক সভাতেই করোনা আক্রান্ত ৩০ হাজার

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এক প্রচার সভা থেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। তার মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭০০ জন। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণাপত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে।

    মার্কিন গবেষকরা গেল ২০ জুন থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্পের মোট ১৮টি প্রচার সভার ওপরে গবেষণা চালান। সেই সভাগুলি থেকে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন তারা।

    যেসব প্রদেশে এসব প্রচার সভা আয়োজন করা হয়েছিল, তার আগে–পরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বিচার করেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তারা। সভাগুলির মধ্যে তিনটি ছিল ইনডোর মিটিং, আর বাকিগুলি খোলা জায়গায়।

    মার্কিন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যখন করোনার সংক্রমণ চরম মাত্রায় পৌঁছেছে, তখন মাস্ক ছাড়াই বিভিন্ন র‌্যালিতে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে ট্রাম্পকে। একইভাবে তিনি নির্বাচনী জনসভাও করেছেন। এমনকি তিনি নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তিনি আক্রান্ত হওয়ার পরেও দমে যাননি। বরং শরীরে করোনা নিয়েই অংশ নিয়েছেন প্রচারণাসভায়। নানা রাজ্যের জনসভা করেছেন নির্দ্বিধায়।

    বেপরোয়া এমন আচরণের জন্য প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্পকে। এই করোনা মহামারি সময়ে তার উপেক্ষা ও উদাসীন মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিনীরা। আর এসব ঘটনাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বিরোধিরা বার বার তাকে আক্রমণও করেছেন।

    স্ট্যান্ডফোর্ডের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক বি ডগলাস জানিয়েছেন, ট্রাম্পের একাধিক প্রচারসভার কারণে মাশুল গুণতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

    ট্রাম্প বিরোধিরা বিবৃতি জারি করে বলেছে, নিজের জেদ মেটাতে এভাবে দিনের পর দিন সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন ট্রাম্প।

  • মার্কিন নির্বাচনে লড়ছেন পাঁচ বাংলাদেশি

    মার্কিন নির্বাচনে লড়ছেন পাঁচ বাংলাদেশি

    দেখতে দেখতে ঘনিয়ে আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন। এ নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচ মার্কিন নাগরিককে নিয়ে চলছে আলোচনা। মার্কিন নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই পাঁচজন হলেন-টেক্সাসের অস্টিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী ডোনা ইমাম, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর শেখ রহমান, নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভ আবুল বি. খান ও পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের অডিটর জেনারেল পদপ্রার্থী ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ। এ ছাড়া ড. এমডি রাব্বি আলম মিশিগান স্টেট থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে ডেমোক্যাটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টির টিকেটে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের চারজনের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। তাদেরকে নিয়ে গর্বিত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। এর আগে, মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিনি হিসেবে মিশিগানের একটি আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন হেনসেন ক্লার্ক। তিনি এক মেয়াদের বেশি টিকতে পারেননি।

    ডোনা ইমাম

    এ যেন হঠাৎ ঝলসে ওঠার মতো ঘটনার জন্ম দিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিনি ডোনা ইমাম। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে ৫৬ শতাংশ (২০ হাজার ৮৮৪) ভোট পেয়ে টেক্সাসের কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-৩১ এর চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। অস্টিনের উইলিয়ামসন কাউন্টি এবং সেনা ছাউনি অধ্যুষিত ফোর্ট হুড নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকার ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষের ৫৯.১৯ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ। এশিয়ানের সংখ্যা মাত্র ৫.২ শতাংশ। হিসপ্যানিক হচ্ছে ২৩.৯৩ শতাংশ এবং কৃষ্ণাঙ্গের সংখ্যা ১১.২৪ শতাংশ।

    এই আসনে কখনোই ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হতে পারেনি। এবারই প্রথম বাঙালির রক্ত প্রবাহিত ডোনা রিপাবলিকানদের একটি ধাক্কা দিতে চাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তিনি অভিবাসী সমাজে আলোড়ন সৃষ্টির পাশাপাশি মধ্যম আয়ের শ্বেতাঙ্গদেরকেও পাশে টানার চেষ্টা করেছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে মন্তব্য করা হয়েছে।

    ডোনা ইমাম প্রাথমিক পর্ব অতিক্রম করেছেন অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে। টেক্সাসে জন্মগ্রহণকারী ও ইলেক্ট্রিক্যাল এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ডোনা নিজেই একটি ফার্ম দিয়েছেন। সেখানে কাজের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

    শেখ রহমান

    জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত শেখ রহমান চন্দন। গত ৯ জুন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের এ নির্বাচনে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ এ তার বিরুদ্ধে কেউ মাঠে নামেননি। এমনকি রিপাবলিকান পার্টি থেকেও কেউ প্রার্থী হননি এ আসনে। এর ফলে আসছে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মূল নির্বাচনে তাকে ভোট চাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

    শুধু ওই দিনটি অতিবাহিত হলেই দ্বিতীয় মেয়াদে সিনেটর হিসেবে শপথ নেবেন কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুরের শরারচর গ্রামের সন্তান শেখ রহমান চন্দন। ১৯৮১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন চন্দন। বাংলাদেশে তার ছোটভাই শেখ মুজিবর রহমান ইকবাল একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হয়েছিলেন কিশোরগঞ্জ থেকে।

    আবুল বি খান

    নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে রিপাবলিকান দলের প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মার্কিনি আবুল বি খান। অর্থাৎ নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান দলের টিকিট পেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দলীয় মনোনয়ন পেতে ভোটারদের সমর্থন প্রয়োজন হয়। এ জন্য মূল নির্বাচনের আগে প্রত্যেক দলের প্রাইমারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করেন।

    নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান দলের প্রাইমারি নির্বাচনে স্টেটের ডিস্ট্রিক্ট রকিংহাম ২০-এ রিপাবলিকান দলের স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রার্থী হিসেবে ভোটে নির্বাচিত হন আবুল বি খান। ডিস্ট্রিক্ট ২০-এ স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভের তিনটি পদে রিপাবলিকান দলে ছয় প্রার্থী ছিলেন। এদের মধ্যে তিনজন নির্বাচনে জয়লাভ করে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা এই পদের জন্য আবুল বি খানকে (তিনজনের মধ্যে) নির্বাচিত করেছেন।

    মার্কিন রাজনীতিতে নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যর ডিস্ট্রিক্ট রকিংহাম বরাবরই রিপাবলিকান পার্টির দখলে। আবুল বি খান টানা তিনবার সেখানকার স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ। দলীয় মনোনয়নে বিজয়ী হওয়ায় রিপাবলিকান সমর্থিত এলাকা হিসেবে এবারের মূল নির্বাচনেও তিনি জয়ী হবেন বলে ধারণা করছেন সবাই।

    আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে নিউ হ্যাম্পশায়ারের অঙ্গরাজ্যের সিব্রুক সিটির সিলেক্টম্যান (মেয়র) হিসেবেও ১২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন আবুল বি খান। আরও তিন বছর তিনি এ পদে দায়িত্বে থাকবেন। এবার নির্বাচিত হলে তিনি চারবার অঙ্গরাজ্যটির আইনপ্রণেতা হিসেবে জয় লাভ করবেন।

    আবুল বি খানের জন্ম বাংলাদেশের পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায়। ১৯৮১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। তার স্ত্রী মর্জিয়া খান একজন গৃহিণী এবং এই দম্পতির এক কন্যা ও এক পুত্র।

    নীনা আহমেদ

    মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মার্কিনিদের উত্থানের ক্ষেত্রে ড. নীনা আহমেদ একটি উজ্জ্বল নাম। এর আগে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ফিলাডেলফিয়ার ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন। এবার পেনসিলভেনিয়া স্টেট অডিটর জেনারেল পদে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী মনোনয়নের নির্বাচনে (প্রাইমারি) নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৮০ হাজার ১৩৭ ভোটের ব্যবধানে ধরাশায়ী করেছেন ড. নীনা। গত ২ জুন অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার তথ্য অনুযায়ী নীনা আহমেদ পেয়েছেন ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫২৬ ভোট। ৬ প্রার্থীর মধ্যে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পিটসবার্গ সিটি কম্পট্রোলার মাইকেল ল্যাম্ব পেয়েছেন ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩৮৯ ভোট।

    ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত পেনসিলভেনিয়া স্টেটে নীনা আহমেদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। তার বিপরীতে রিপাবলিকান দলের একজন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। ড. নীনা জয়ী হলে তিনি হবেন এই স্টেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যে কজন নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম। পেনসিলভেনিয়ার ২৩৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম একজন অশ্বেতাঙ্গ মুসলিম নারী এবং বাদামী রংয়ের বাংলাদেশি-মার্কিনির বিপুল ভোটে প্রাইমারিতে জয়লাভ করলেন।

    উল্লেখ্য, ইউজিন ডিপ্যাস্কুয়ালে দুই টার্মে ৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর আর নির্বাচনের সুযোগ না থাকায় অডিটর জেনারেলের পদটি শূন্য হয়।

    বাংলাদেশের সন্তান ড. নীনা আহমেদ ২১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়া থেকে পিএইচডি করেন রসায়নে এবং মেডিকেল ফেলোশিপ করেছেন থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটি থেকে। সেই থেকেই তিনি পেনসিলভেনিয়া স্টেটের ফিলাডেলফিয়া সিটি সংলগ্ন মাউন্ট এয়ারিতে স্বামী আহসান নসরতউল্লাহ এবং দুই কন্যা প্রিয়া ও জয়াকে নিয়ে বসবাস করছেন। অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে মাঠে রয়েছেন ৩২ বছরেরও অধিক সময়। এর ফলে তৃণমূলে জোরদার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে ড. নীনার।

    এর আগে তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়া আমেরিকান বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ নির্বাচনে এই স্টেটের লে. গভর্নর নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়ে এক লাখ ৮৪ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেই এবার অডিটর জেনারেল পদে দলীয় মনোনয়নের পথ সুগম হলো তার।

    ড. এমডি রাব্বি আলম

    মিশিগান স্টেট থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী ড. এমডি রাব্বি আলম। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সার্জেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির ককাসের প্রাক্তন সভাপতি এবং মিসোরি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এশিয়ান ককাসের প্রতিষ্ঠাতা।

    এমডি রাব্বি আলম ২০০৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্যাটেলাইট ক্যাম্পেইন ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী বার্নী সানডারশের ক্যাম্পেইনের ‘মুসলিম আমেরিকান ফর বার্নী সানডারশ’ উইং এর চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন ।

    শেষমেশ ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির (ডিএনসি) ন্যাশনাল কনভেনশনে যখন হিলারি ক্লিনটন এর প্রেসিডেন্ট পদ প্রার্থীতা চুড়ান্ত ঘোষণা করলো, ঠিক তখন এমডি রাব্বি আলম ‘মুসলিম ডেমোক্র্যাট ফর হিলারি ক্লিনটন’ ক্যাম্পেইনের সভাপতি নিযুক্ত হন। নিউইর্য়ক, মিসোরি, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডি সি, এবং শিকাগো সহ অনেক সফল ‘হিলারি র‌্যালি’র নেতৃত্ব দেন তিনি।

    ২০১৬ এর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের পরাজয়ের পরে যখন রক্ষণশীল, কট্টরপন্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে মুসলমানসহ লাতিনো, হিস্পানিক, কালোসহ সকল সংখ্যালঘুদের ওপর কট্টরপন্থী নিয়মনীতি চালু করেন, তখন থেকে এমডি রাব্বি আলমের লিডারসিশের অগ্রযাত্রা শুরু হয় । ট্রাম্প বিরোধী এই আন্দোলনে সাড়া দেয় লক্ষ লক্ষ জনগণ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ফলে এমডি রাব্বি আলম ট্রাম্পকে হটানোর জন্য তিন লক্ষাধিক স্বাক্ষর সগ্রহ করেন।

    মিশিগানের ৪ নম্বর আসনের নির্বাচনী এলাকাতে হ্যামট্রামিক শহরের ২০ হাজার এবং ডেট্রয়েটে ৮০ হাজার লোকের বসবাস। এদের মধ্যে বাংলাদেশি রেজিস্টার ভোটারের সংখ্যা হবে প্রায় ৫০০০। এমডি আলম উভয় শহরের বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ সাদা, কালো, হিস্পানিক, আরব কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করছেন।

    এমডি আলমের জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম কোনো বাংলাদেশি-মার্কিন মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সংসদে নির্বাচিত হবেন। এমডি আলম হ্যামট্রামিক ও ডেট্রয়েট শহরে বসবাসরত সমগ্র বাংলাদেশি-মার্কিন ভোটারদের কাছে ভোটের আশা করছেন এবং ভোট চেয়েছেন।

  • ৬০ কোটি ডোজ করোনা টিকা উৎপাদন করবে চীন

    ৬০ কোটি ডোজ করোনা টিকা উৎপাদন করবে চীন

    চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৬০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে চীন। উৎপাদিত এসব ডোজ পেতে ইতোমধ্যেই বেইজিংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিভিন্ন দেশ।

    করোনার নিজস্ব ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে কোনো তাড়াহুড়া না করতে ভারত বায়োটেকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া। ভারত বায়োটেক করোনার সম্ভাব্য টিকা কোভ্যাকসিনের তৃতীয় দফার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরুর অনুমতি চাওয়ার পর এ কথা জানাল সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষার ফলাফল জমা দিতে বলা হয়েছে।

    করোনার চিকিৎসায় অ্যান্টিবডি তৈরি ও অতিরিক্ত এক লাখ ডোজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে চুক্তি করেছে মার্কিন সরকার। চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানিটেকে ৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। খুব দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ভ্যাকসিন পাবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    ২০২১ সালের শেষ নাগাদ অন্তত ২০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের কথা জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। গুরুত্ব অনুসারে বিশ্বব্যাপী এসব ডোজ সরবরাহ করার কথাও জানান তিনি। তবে, সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা।

    এদিকে করোনা ভাইরাসের আরও একটি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিচ্ছে রাশিয়া। আগামী ১৫ অক্টোবর ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দেয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক ট্রায়াল শেষ হওয়া ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে সাইবেরিয়ার ভেক্টর রিসার্চ সেন্টার।